বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও ঢাবি শিক্ষক আনিসুর রহমানের আত্মজীবনীর দ্বিতীয় পর্ব এটি। এতে স্বাধীনতা থেকে মুজিব হত্যা পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে।
আনিসুর রহমানের অনেকগুলো পরিচয় রয়েছে। অর্থনীতির শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ,অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিদেশে মোটা মাইনেতে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে চাকরী ইত্যাদি।কিন্তু তাঁর সব পরিচয়কে ছাপিয়ে আছে একটি পরিচয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন।
আনিসুর রহমানের আত্মকথার দ্বিতীয় এই খন্ডে তিনি স্মরণ করেছেন দেশস্বাধীন থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা পর্যন্ত সময়কে।
এই বইয়ের চুম্বক অংশ আনিসুর রহমানের পরিকল্পনা কমিশনের কর্মজীবনটুকু। যাঁরা মুজিব শাসন নিয়ে আরো নতুন কিছু জানতে চায়, তাঁরা এ বইটি পড়ে বিশেষ চমকিত হতে পারেন। জনাব আনিসুর রহমান বেশকিছু তর্কিত, চর্চিত বিষয়কে সামনে এনেছেন যা তা্র মতো উচ্চশ্রেণীর লোকের কাছ থেকে আশা করা যায় নি। যেমনঃ ১২.৩.৭৩ এ তিনি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, " নির্বাচন সমাপ্ত। বড়ো আকারের কারচুপি। তাজউদ্দিন বলেন, কারচুপি মুজিবের পূর্ণ সম্মতিতে হয়েছে "
সরাসরি সত্যাসত্য নির্ণয়ে নামছি না। স্রেফ বলছি আনিসুর রহমান বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৎকালীন শাসন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে।
'পথে যা পেয়েছি' সিরিজের দ্বিতীয় খন্ডে ডঃ আনিসুর রহমানের লেখাশৈলী প্রথম খন্ডের মত অতটা সাবলীল ম'নে হ'লো না, গঠনটা বেশ ছন্নছাড়াই ঠেকলো। তবে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রথম কয়েক বছর তথা 'মুজিব আমল' নিয়ে তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য বা বিশ্লেষণ 'বিস্ফোরক' ম'নে হওয়া অস্বাভাবিক না। বিশেষত সেই সময় নিয়ে যখন একটা 'Grand Narrative' সৃষ্টির চেষ্টা চ'লছে, যে সময়ের সব 'কয়লা' ধুয়ে যখন পরিষ্কার ক'রে ফেলার প্রয়াস পাচ্ছে কোন কোন মহল। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্ল্যানিং কমিশানের মেম্বার হিসেবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে তার নানান হতাশা ছড়িয়ে আছে পুরো দ্বিতীয় খন্ডজুড়ে। উল্লেখ্য যে, ওনার লেখায়, বিশেষত 'ডায়েরি' অংশে, তিনি অনেক কানকথা বা রিউমার বা অসমর্থিত ঘটনার উল্লেখ ক'রেছেন, সে গুলো নিয়ে আরেকটু ভাবা উচিৎ ছিলো, আরো পরখ করা উচিৎ ছিলো। তবে আমাদের দেশের শাসকদের সামন্তবাদী চরিত্র, শাসকদের নিয়ে 'hero-worship', মুখেই সমাজতন্ত্রের বুলি কাজে নয়, আর সুবিধাবাদী আমলাতন্ত্র সম্বন্ধ্যে তাঁর মতামতের সাথে একমত হ'তে হয় অনেকাংশেই।