Jump to ratings and reviews
Rate this book

বিংশ শতাব্দীর শিল্প-আন্দোলন: ফভিজম-এক্সপ্রেশনিজম-ফিউচারিজম-কিউবিজম-ডাডাইজম-সুররিয়ালিজম

Rate this book
বিংশ শতাব্দীর শিল্প-আন্দোলন : ফভিজম একসস্প্রেশনিজম ফিউচারিজম কিউবিজম ডাডাইজম সুররিয়ালিজম

সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ এক নতুন রূপে উপস্থাপিত হলেন এই গ্রন্থে। চিত্রকলার আলোচক হিসেবে একসময় তিনি সাময়িকপত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তার একটি বিংশ শতাব্দীর পাশ্চত্য আধুনিক চিত্রকলার কয়েকটি আন্দোলনের এক ধারাবাহী পর্যালোচনা। ফরিজম, একসস্প্রেশনিজম, ফিউচারিজম, কিউবিজম, ডাডাইজম ও সুররিয়ালিজম বিষয়ক এই আলোচনাগুচ্ছের ভিতর দিয়ে চিত্রকলার তো বটেই, অন্যান্য শিল্পকলারও যুক্ততা উদ্ঘাটিত হয়েছে। স্বতন্ত্র কয়েকটি পর্যবেক্ষণও গ্রথিত হয়েছে সালভাদোর ডালি, রেনে ম্যাগ্রিৎ, ম্যাক্স্ এন্স্ট প্রমুখ সম্পর্কে। পিকাসো ও মাতিস প্রসঙ্গ তো ঘুরে-ফিরে এসেছে বারবার। আধুনিক চিত্রকলা সম্পর্কে বাংলা ভাষায় এরকম গ্রন্থ লিখিত হয়নি আর।

আবদুল মান্নান সৈয়দ

আবদুল মান্নান সৈয়দ বাংলাদেশের অগ্রগণ্য লেখকদের একজন। বহুচারী এই লেখক একই সঙ্গে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, অনুবাদক, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, গবেষক, পত্রিকা-ও গ্রন্থ-সম্পাদক। জীবনও তাঁর বিচিত্র। সাত বছর বয়সে নৌকায় জম্মভূমি ছেড়ে পালিয়ে চলে আসেন এদেশে, চিরদিনের জন্য। পাঠ গ্রহণ করেছেন মূলত জীবনের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। বিভিন্ন বিরোধী ক্ষেত্রে অধিকার আছে। বাংলা ছন্দে তাঁর বিস্ময়কর দখল আছে যেমন, তেমনি চিত্রকলার ক্ষেত্রেও সঞ্চরণ করেছেন। বাংলাদেশের কবিতায় ও গদ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। আবদুল মান্নান সৈয়দ সব সময় নতুন নতুন পথে চলেছেন। বর্তমান বইটি তাঁর চিত্রকলা সম্পর্কিত প্রথম গ্রন্থ। এইসব লেখালিখির অধিকাংশ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তিরিশ বছর আগে দু’একটি দৈনিক পত্রিকায়। এখানে একত্রসঞ্চিত হলো। এই গ্রন্থের ভিতর দিয়ে বহুচারী আবদুল মান্নান সৈয়দের জগতের একটি নতুন দেশ উদ্ভাসিত হলো।

120 pages, Hardcover

First published February 1, 2008

6 people are currently reading
53 people want to read

About the author

Abdul Mannan Syed

88 books12 followers
Abdul Mannan Syed (Bengali: আবদুল মান্নান সৈয়দ), (1943–2010) was a renowned Bangladeshi poet, author and researcher. A versatile writer and poet, he was one of the most prolific Bengali literary personalities of the post-Partition Indian subcontinent. Until his death on 5 September 2010, he was regarded an authority on Bengali literature. Popularly regarded as a poet, he is also notable as a literary critic and an editor. Born as Syed Abdul Mannan, he assumed the pen name Ashoke Syed at the debut in literatur in 1960s. He published more than 150 titles to his credit during his lifetime. His works on poet Jibanananda Das and Kazi Nazrul Islam are not only seminal but also monumental in form, content and quality.

He was born in a village called Jalalpur, on the rivulet Ichamati, in the district of Chabbish Paragana, in West Bengal of undivided India. That was 1943, the year of great famine. In 1946, just before the partition of British Indian, a lethal Hindu-Muslim riot took place and forced many Muslims to leave West Bengal to settle in East Bengal, now Bangladesh. A less discussed but equally fearsome riot took place in 1950 that drove the family of Mannan Syed from West Bengal and to settle in Dhaka of then East Pakistan, now Bangladesh. He lost his motherland for ever and always felt like a refugee. They first lived in Gopibagh of Dhaka town. Shortly his father bought a piece of land on the Green Road, formerly called Kuli Road. Since then 51 Green Road has been his address till his sudden death in September 2010. His father Syed A. M. Badruzzdoza was a public official who served in many places of the then East Pakistan. He was very strict about the formal education of his children. He had six sons and four daughters. Mannan was married to his cousin Syra Syed Ranu. His only child was a daughter named Jinan Syed Shampa. In 1958 Mannan Syed passed the Matriculate examination from the Nawabpur High School. In 1960, he passed the Intermediate from the Dhaka College. He studied Bengali language and literature in the Dhaka University from where he obtained his B. A and M. A. degrees, respectively, in 1963 and 1964. Most of his life he earned his livelihood as a teacher of Bengali language and literature in government colleges. He stated his career as a lecturer in the M. C. College of Sylhet town. He also taught in the Sheikh Borhanuddin College in Faridpur. However he served in the Jagannath College for a long time from where he retired in 1998. He also served as the District Gazetteer for a period of time. Later he was appointed the executive director of the Nazrul Institute (2002–2004).

Abdul Mannan Syed is best known for his research on Bengali poet Jibanananda Das. Although he is most renowned for literary criticism, he is a versatile writer and poet. He taught as a faculty in the department of Bengali in the Jagannath College, Dhaka. Later he served as Director General of the Nazrul Institute. He was the first Scholar-in-residence in Bangladesh at North South University. For a long time he was associated with the Shilpataru, a monthly literary magazine published from Dhaka by poet Abid Azad.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (50%)
4 stars
5 (41%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
1 (8%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Shotabdi.
826 reviews206 followers
June 24, 2023
বৃষ্টি পড়ছে নারীদের কণ্ঠস্বরে যেন তারা সবাই মৃত এমনকি স্মৃতিতেও,
তুমিও বৃষ্টিতে ঝরে পড়ছো আমার জীবনের ছোট ছোট বিন্দুগুলির সঙ্গে অপূর্ব সাক্ষাৎকারে,
আর এই দু'পা তোলা মেঘেরা বিশ্বময় কানসর্বস্ব নগরগুলিতে ছড়াচ্ছে হ্রেষাধ্বনি,
শোনো এই বৃষ্টিপাত যখন অনুতাপ আর তাচ্ছিল্য কাঁদছে পুরোনো সঙ্গীতের মতন,
শোনো তোমার অস্তিত্বের সমস্ত পারপেন্ডিকুলারের পতন!
- গীয়ম আপোলিনেয়ার

এই কবিতার মাধ্যমে আপোলিনেয়ারের সাথে আমার পরিচয়। বেশ আগে, অনুবাদ সুনীলের। ছবির দেশে কবিতার দেশে বইতে চমৎকার এই কবিতাটির উল্লেখ রয়েছে। আর ছবির দেশে কবিতার দেশেই আমার ছবির ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

মিডনাইট ইন প্যারিসের দালি চরিত্রে রূপদানকারী আদ্রিয়েন ব্রডির অভিনয় আমি কখনো ভুলতে পারি না। আশ্চর্য একটা চরিত্রকে খুব অসামান্যভাবেই রূপায়িত করেছিলেন তিনি। মাতিস, ব্রাক, রেঁনে, পিকাসো, দালি- এমনি একেকটি অত্যাশ্চর্য নাম সাক্ষর বহন করে একেকটি যুগের, আন্দোলনের।

ইজম এর এই যে নানান প্রকরণ, ফভিজম থেকে সাররিয়ালিজম পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করে গেছেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। মান্নান সৈয়দের প্রবন্ধ যে কতটা মনোমুগ্ধকর আর পরিপূর্ণ তা শুদ্ধতম কবি পড়ে বুঝেছিলাম। চিত্রকলার আন্দোলন এবং ভাগ- এই জটিল বিষয় নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তিনি সংক্ষেপেই তুলে ধরেছেন আন্দোলনের মূল সুর আর গুরুত্ব।

কিউবিজম-এক্সপ্রেশনিজম-সাররিয়ালিজম নিয়ে কিছু ধারণা থাকলেও ফভিজম আর ডাডাইজম ছিল আমার জন্য বেশ নতুন।
সাররিয়ালিজমের সাথে জড়িত রয়েছেন ফ্রয়েড আর আপোলিনেয়ার ওতোপ্রোতোভাবে। এমনকি পরাবাস্তববাদ শব্দটিও তাঁরই সৃষ্টি৷ উপরোল্লিখিত কবিতাটিও সাররিয়ালিস্টিক কবিতার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

এই বইটিতে এইসব ইজম বাদেও রয়েছে বিখ্যাত সব ছবি। পাখির কলকাকলি বা সূর্যের আলোকে যেমন বুঝি না, অর্থও খুঁজতে যাইনা, তেমনি ছবিগুলো দেখেও সব বুঝতে চাইনি, কেবল দেখার আনন্দটুকু নিতে চেয়েছি।

এছাড়াও বইটিতে রয়েছে একগুচ্ছ পরাবাস্তববাদী কবিতা, মান্নান সৈয়দ-অরুণ মিত্র-নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রমুখের অনুবাদে৷ আর রয়েছে কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে নিবন্ধ। নেরুদা আর লোরকার কথোপকথনটা কী অসাধারণ! এই দুই রাজনৈতিক শিল্পীর বন্ধুত্বটাও প্রবাদপ্রতিম।

শিল্পের প্রতিটা শাখাই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। চিত্রকলা এর মধ্যে আবার বিশ্বজনীন। কারণ এর যে ভাষা আছে তা আলাদা করে অনুবাদের প্রয়োজন পড়ে না৷ তাই সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ছবিই মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আবদুল মান্নান সৈয়দের এই বইটি আধুনিক চিত্রকলা সম্পর্কে একটা চমৎকার ধারণা দেয়। একই সাথে শিল্পের সুগভীর মহান জীবনমুখী অথচ রহস্যময় দিকটির দিকেও অঙ্গুলিনির্দেশ করে।
শিল্পের নানা শাখায় আগ্রহী পাঠকের বইটি ভালো না লাগার কোন কারণ নেই।
Profile Image for অ্যালেন সাইফুল.
Author 2 books20 followers
March 11, 2018
বিংশ শতাব্দীর শিল্প-আন্দোলনে পর্যায়ক্রমিক ভাবে এসেছিলো
ফভিজম, এক্সপ্রেশনিজম, ফিউচারিজম, কিউবিজম, ডাডাইজম এবং সুররিয়ালিজম।

ফভরাই প্রথম অবিকল প্রতিচিত্রণের দায় থেকে চিত্রশিল্পকে মুক্তি দিলেন এবং প্রমাণ করলেনঃ
চিত্র বা ভাস্কর্যের বিষয়বস্তুর উপর তার শিল্পসফলতা নির্ভর করে না; করে বরং প্রকরণ বা বর্ণ ব্যবহারের উপরে।
ফভিস্টরা কোনো ইশতেহার বের করেননি। কিংবা তাদের কোনো লিখিত নীতিমালা ছিলো না। ওরা ঢুকে পড়েছিলেন হইচই করে। তুলকালাম রঙ ছুঁড়ে মেরেছিলেন ক্যানভাসে— যা তাদের চারিত্র গড়ে দিয়েছিলো।

এক্সপ্রেশনিস্টরা ছিলো বিষয়বিমুক্তঃ পুরোনো যে ধারণা ছিলো কিছু কিছু বিষয় কবিতার জন্য নির্দিষ্ট, সবকিছু কবিতায় রূপ দেওয়া যায় না— এরা তা ভাঙলেন। বললেন, যে কোনো কিছুকে কবিতা করে তোলা যায়। এদিক থেকে এরা রোমান্টিক, বিরুদ্ধ-প্রতীকী। বাক্যরীতির ব্যবহারে, মুক্ত ছন্দের প্রয়োগে, পরস্পর ইমেজবদ্ধতায়, অনন্য কেন্দ্রিকতায় কবিতাকে এরা দান করলেন এক অভিনবত্ব।

ফিউচারিজম উদ্দীপিত আর অলংকৃত উচ্চারণে ঘোষণা দিলেনঃ
অতীতের সব শিল্পকলার দিন ফুরিয়ে গেছে; এখন জন্ম নেবে এক ভবিষ্যতের আর্ট। যে আর্ট সমকালীন জীবনযাত্রার কেন্দ্রছন্দকে ধরে ভবিষ্যতের কথা বলবে।
আন্দোলন হিসেবে ফিউচারিজম ছিলো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আধুনিকতায় এর প্রত্যক্ষ ও দুর্ধর্ষ অবদান আছে।

কিউবিজম এসে বললোঃ ছুঁড়ে ফ্যালো বাস্তবতা; বস্তুর প্রতিকল্প কিংবা অনুকল্প হবার দরকার নেই— ধরো বস্তুর আত্মাকে; দৃষ্টিকোণ তো তোমার একটামাত্র নয়— তাবৎ দৃষ্টির কোণ-রেখা-বিন্দু একসঙ্গে যুক্ত করো।
কিউবিজম এক হিসেবে ছিলো ফভিজমের প্রতিবাদী, স্বেচ্ছাচারী, এলোমোলির বিরুদ্ধে। ধ্রুপদী ঐতিহ্যের মননময় ও সাজানো-গোছানো পৃথিবীর দিকেই ঝোঁক যেন তার— যার সঙ্গে অনেকটা মেলে প্রকৃতিবিজ্ঞানী আর গনিতবিদের।

ডাডাইজম ছিলো মূলত শিল্পবিরোধী শিল্প-আন্দোলন। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো শিল্পের ধ্বংসসাধন। তাদের মতবাদ ছিলোঃ কবিতা দিয়ে কবিতাকে হত্যা করতে হবে। চিত্রকলা হত্যা করবে চিত্রকলাকে।
ব্যাপারটা একদিকে বিরাট ঠাট্টার যে, ডাডাবাদীরাই ডাডার বিরুদ্ধে ছিলেন।

সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য সুরিয়ালিজম হয়েছিলো প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যিখানে। সুরিয়ালিজম দুটো কাজ সম্পন্ন করেছিলোঃ
এক.
কিউবিজমের অতি কড়াকড়ি বিধিনিষেধের প্রতিবাদ করেছিলো এবং পরিণামে দিয়েছিলো তা থেকে মুক্তি।
দুই.
আধুনিক শিল্পকলায় সুরিয়ালিজম যোগ করেছিলো এক নতুন বিষয়বস্তু— অযুক্তি ও অবচেতন। সুরিয়ালিস্টরাই প্রথম শিল্পের জন্য ফ্রয়েডীয় মতবাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন।

১২০ পৃষ্ঠার বইটার প্রতিটা লাইন তথ্যবহুল। উপরিউক্ত আলোচনা ছিলো কেবল প্রত্যেকটা আন্দোলনের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবার সামান্য চেষ্টা। বইটা হাতে নেবার পর আপনি একটা সমুদ্রে ডুববেন। যে সমুদ্রের তল খুঁজে পাবেন না। যেমনটা আমি পাইনি। কত গভীরতর এইসব আন্দোলন ! কতকিছু আমাদের অজানা !

শিল্প আন্দোলন সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে সব্যসাচী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের এই বই হতে পারে রত্নসম।

বি দ্রঃ শিল্প-আন্দোলন নিয়ে অন্য কোনো তথ্যবহুল বই আপনার পড়া থাকলে আমাকে সাজেস্ট করবেন। ধন্যবাদ।
Profile Image for Pajor .
20 reviews
January 31, 2024
প্রাচীন গুহাবাসী মানুষের মাঝেও একদিন জন্ম নিয়েছল শিল্পের ক্ষুধা। সেই থেকে শিল্পের প্রবাহ ছুটেছে অবাধ্য গতিতে; এমনকি মহাযুদ্ধের বারুদ-আগুনের মাঝেও বয়েছে অকৃত্রিম জলাধারার মতন। মান্নান সৈয়দ গেল শতাব্দীর এইসব শিল্প-মুহূর্তগুলোই জড়ো করেছেন, এবং তাঁর শব্দের নৈপুণ্য উপভোগ করেছি পুরোটা।
(একগুচ্ছ সুররিয়েলিস্ট কবিতা বোনাস হিসেবে একদম শেষে।)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.