বস্তুবাদ ও ভাববাদ নিয়ে হেগেল, মার্ক্স, লেলিনের চিন্তাধারা উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাঙালি কমিউনিস্টদের মধ্যে ভ্রান্ত নাস্তিকতাবাদের যে চর্চা যা মার্ক্সের মতবাদের উপর চাপিয়ে দেয়া, তাই নিয়ে স্বল্প পরিসরের আলোচনা ভাল লেগেছে।
কমিউনিজমের মূল লক্ষ্য আসলে কী? একটু ভিতরে গেলে দেখতে পাবো যে, কমিউনিজমের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রেণি বিভাজন দুর করা। যদি তাই হয় তাহলে যেই সংগ্রাম শ্রেণি বিভাজনের বিপরীতে তাকেই কমিউনিজম বলা উচিৎ। অর্থাৎ প্রথম কথাটিকে ঘুরিয়ে বললাম শুধু। এবার যদি ধর্মের কথা ভেবে দেখি তাহলে নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস ঘাটলেও দেখতে পাবো যে, প্রায় সব ধর্মীয় আন্দোলনগুলো শুরু হয়েছিলো মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার দুর করতে। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে, সকল ধর্মীয় আন্দোলনই কমিউনিজম? বা সকল ধর্মের প্রবর্তকগন কমিউনিস্ট? কি ভয়াবহ কথা! ছোটবেলা থেকে জেনে আসলাম যে, কউনিস্টরা নাস্তিক হয়। বড় হওয়ার পরেও দেখছি অনেক মানুষ এখনো বুঝে উঠতে পারে না যে, সমাজের ভালোর জন্য কমিউনিস্ট হবে নাকি পরকাল বাচানোর জন্য ধার্মিক হবে। ধর্ম ও কমিউনিজম যেন সাপ-নেউলে সম্পর্ক। সেখানে আমার মত এই চুনোপুটি দুটোকে এক করে দিচ্ছি। যদি আমার কথাই ঠিক হয় তাহলে এই যে সবাই কমিউনিজম বলতে নাস্তিকতা বুঝছে, এটা কি ভূল? কমিউনিজমের গুরু কার্ল মার্ক্স বা এঙ্গেলস কী বলেন এ ব্যাপারে? সমাজ-পরিবর্তনের সংগ্রাম, বিশেষ করে সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে ধর্ম ও বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে দুনিয়া জুড়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। এই ভূভাগ, তথা ভারতবর্ষেও সেই বিতর্ক অনেককাল থেকে চলমান। এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মানুষ যুক্তি দিয়েছেন, লিখেছেন। এই বইতে সেগুলোর নানা দৃষ্টান্ত ও তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে লেখক তাঁর মত ব্যাখ্যা করেছেন।
ব্যাখ্যায় তিনি ক্লাসিক মার্ক্সবাদী সাহিত্য যেমন ব্যবহার করেছেন, তেমনি আধুনিক সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের মতেরও সংশ্লেষ করেছেন। এর মাধ্যমে লেখক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে ধর্ম ও বিশ্বাস পর্যালোচনার ভ্রান্তিগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এই শনাক্তকরন প্রক্রিয়া সবার কাছে ভালো লাগবে বা গ্রহনযোগ্য হবে তা বলা যায় না, তবে এটা আলোচনার গভীরে প্রবেশ করে ভাবতে সাহায্য করবে সে দাবি করাই যায়।