মানুষখেকোটা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে বাড়ির দরজা ভেঙে পর্যন্ত মানুষ নিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে নিজেকেই টোপ বানালেন শিকারি। হাতিতে চড়ে শিকারে বেরিয়েছিলেন দুই শিকারি। হঠাৎ সামনে হাজির এক বাঘ। গুলি খেয়েও গর্জন করে হাতির পিঠে চড়ে বসল। এখন কী হবে? লোকে বলে বাঘের হাতে নিহত মানুষ নাকি তার হত্যাকারী বাঘটাকে মারতে সাহায্য করে শিকারিকে। আসলেই কি? আচ্ছা বলুন তো, লাঠি দিয়ে বাড়ি দিয়ে কি বাঘ মারা সম্ভব? কিংবা তলোয়ার দিয়ে? চল্লিশ বছরের বেশি রাজস্থানের জঙ্গলে বাঘের পিছনে ছুটেছেন কর্নেল কেশরী সিং। নিজে শিকার করেছেন, আবার শিকারে নিয়ে গিয়েছেন লর্ড মাউণ্টব্যাটেন, বিভিন্ন রাজা-মহারাজা, লর্ড রিডিংসহ অনেক বিখ্যাত মানুষকে। তাঁর ঝুলিতে তাই জমা আছে বাঘ নিয়ে অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা। কোনোটা পড়ে হবেন রোমাঞ্চিত। কোনোটা পড়ে আবার ভাববেন এ-ও কি সম্ভব! শুধু বাঘ নয়, বইটিতে আছে খেপা হাতি আর চিতা বাঘ শিকারেরও চমৎকার সব কাহিনি।
শিকার কাহিনী হিসেবে জমেনি ব্যাপারটা। খুবই রসকষহীন ঘটনা বর্ননা হয়েছে। অনেকটা সংবাদ পত্রে যেভাবে ঘটনা বর্ণনা করা হয় সেরকম মনে হয়েছে পড়তে পড়তে। তবে অনুবাদ ভালো হয়েছে।
যাঁরা জিম করবেট, কেনেথ এন্ডারসন, সাদারল্যান্ড কিংবা পচাব্দী গাজীর দুর্দান্ত সব শিকারকাহিনি পড়ে ফেলেছেন, তাঁদের কাছে এই বই নেহায়েত জল-ভাত মনে হবে।
শিকারি কর্নেল কেশরী সিং মূলত কাজ করেছেন নেটিভ স্টেটের রাজাদের অধীনে। উত্তরপ্রদেশে। তাই তার সব শিকারের ঘটনাই ঐ এলাকাকেন্দ্রিক৷
বইটি ভালো লাগেনি দুইটি কারণে- ১. কর্নেল সাহেব দাবি করেছেন তিনি প্রায় হাজারখানেক শের শিকার করেছেন। এই হাজারশিকারি মোটেও গুছিয়ে লিখতে পারেন নি একটি শিকার কাহিনি৷
২. অনুবাদই বলুন আর রূপান্তরই বলুন যোগ্য লোকের হাতের ছোঁয়ায় অনেক গড়পড়তা বইও সাহিত্যরসমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। আর ঠিক এখানটাতেই অনুবাদকের নিজের দক্ষতা দেখাবার সুযোগ। এই বইয়ের অনুবাদক জনাব ইশতিয়াক হাসান কোনোভাবেই নিজস্ব মুন্সিয়ানার ছাপ রাখতে তো পারেন ই নি। উল্টো শিকার কাহিনির বইকে পানসে বানিয়ে সেই তেতো স্বাদের অনুবাদ গেলাতে চেয়েছেন পাঠককে। কারণ বইটি যে সেবা'র!
ভাবতে অবাক লাগে যে সেবা'র শিকার কাহিনিতে হাত দিতেন খসরু চৌধুরী, রকিব হাসানের মতো সুলেখকরা, সেই সেবা'র শিকার কাহিনি এখন রূপান্তর করছেন ইশতিয়াক হাসানেরা!
এককালে ফেলুদা-শার্লক যেমন আকর্ষণ করতো; সেই ক্লাস নাইন টেনের কথা; তারপর করবেটের শিকারের অনুবাদ পড়ার পর থেকে 'শিকার কাহিনী' গোগ্রাসে গিলি। এই ক্ষেত্রে সেবা প্রকাশনী বেশ ভালো সেবা দেয়। শিকারের কথা আসলে প্রথমেই আসে করবেটের নাম। তারপর কেনেথ এন্ডারসন। কর্নেল কেশরী সিং কে, সে সম্পর্কে কোন ধারনা ছিল না। কিন্তু শিকার যেহেতু, পড়তে হবে।
অনেকগুলো শিকারের গল্প আছে এই বইয়ে। কেশরী সিং, স্মৃতিকথার মত করে শিকারের গল্প করেছেন। গোয়ালিয়রের মহারাজার অধীনে কাজ করা এবং অন্যান্য সুবাদে তিনি প্রচুর বাঘ শিকার করেছেন এবং বন্য পশু সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতাও প্রচুর। সে-সবের মিশ্রণ এই বই।
সুন্দর - সাবলীল অনুবাদ। লেখার কন্টেক্স প্রায় ৮০-৯০ বছর পুরানো, যখন বন জংগল ছিল অন্ধকার-ভয়ের উৎস। তারপরও লেখক এর বেশির ভাগ শিকার কে জাস্টিফাই করার চেষ্টা ভালো লেগেছে। তবে গেম হিসাবে পপশুহত্যা গুলো হজম করতে বেগ পেতে হয়েছে।