পরিবার নিয়ে সুখী নিরাপদ জীবন চলছিল পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইন্দ্র দেবের। শখ ছিল শুদুমাত্র কম্পিউটার গেমের। এই গেমের নেশায় তাকে একদিন টেনে নিয়ে গেল ইন্টারনেটের এক অন্ধকার, অচেনা, ভয়ংকর জগতে। যেখানে চলছে মানবজাতি ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত। হঠাৎ-ই নিরুদ্দেশ হলেন ইন্দ্র। পুলিশের সাহায্য না পেয়ে দাদাকে খুঁজতে শুরু করল ভাই অরণ্য এবং তার বান্ধবী দিয়া। সূত্র ধরে তারাও একসময় জানতে পারল ইন্টারনেট জগতের এমন এক গভীর, গোপন অঞ্চলের খবর যেখানে রয়েছে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। স্বয়ং গুগুলও জানে না যার সন্ধান। আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে দাদার নিরুদ্দেশ হওয়ার সূত্র। দাদাকে খুঁজতে গিয়ে নিজেও সেই ভয়ংকর জালে জড়িয়ে পড়ে অরণ্য। শেষ পর্যন্ত কী হল অরণ্য আর দিয়ার? ওরা কি পারল দাদাকে খুঁজে বের করতে? না কি অরণ্য আর দিয়াও ডুবে গেল সেই গভীর জালের চক্রান্তে? বাংলা ক্রাইম ফিকশনে সম্ভবত এই প্রথম ইন্টারনেটের এক অচেনা, ভয়ংকর জগত নিয়ে রোমহর্ষক টানটান অ্যাকশন-থ্রিলার যা পাঠককে এক নতুন রোমাঞ্চের স্বাদ দেবে।
বিনোদ ঘোষাল-এর জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ হুগলি জেলার কোন্নগরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। মফস্সলের মাঠঘাট, পুকুর জঙ্গল আর বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর অভিনয়ের দিকে ঝোঁক। গ্রুপ থিয়েটারের কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কর্মজীবন বিচিত্র। কখনও চায়ের গোডাউনের সুপারভাইজার, শিল্পপতির বাড়ির বাজারসরকার, কেয়ারটেকার বা বড়বাজারের গদিতে বসে হিসাবরক্ষক। কখনও প্রাইভেট টিউটর। বর্তমানে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। নিয়মিত লেখালেখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। ২০০৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম গল্প। বৃহত্তর পাঠকের নজর কেড়েছিল। বাংলা ভাষায় প্রথম সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার প্রাপক। ২০১৪ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার। তাঁর একাধিক ছোটগল্পের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয়েছে।
রহস্য উপন্যাস লেখা কি সহজ কাজ? পেনি ড্রেডফুল থেকে পাল্প ফিকশন, ষাট-সত্তর দশকের কুঞ্চিতনাসা সমালোচকদের রাডারের নিচে ছাপা হলদেটে পত্রিকা থেকে এখনকার ঝকঝকে প্রকাশনা, রহস্য উপন্যাসের এই পথটা কিন্তু কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। হয়তো সেজন্যই, জনপ্রিয়তা ও সৃজনশীলতার তুঙ্গে থাকা এক লেখক যখন প্রথম রহস্য উপন্যাস লেখেন, তখন সেটি নিয়ে পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে কৌতূহল থাকে চরম। সাহিত্যানুরাগীরা মনে করতে পারবেন, ফিলিপ রথ যখন ২০০৪-এ তাঁর প্রথম জঁর ফিকশন “দ্য প্লট এগেইন্সট আমেরিকা” লিখেছিলেন, তখন সেটি তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সাহিত্যজগতে। বিনোদ ঘোষালের প্রথম রহস্য উপন্যাস তথা থ্রিলার “গভীর জালের রহস্য”-ও প্রকাশের আগেই দস্তুরমতো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। বইটির প্রি-অর্ডারের পরিসংখ্যান দেখেও বাংলা বইয়ের এই ঝিমধরা বাজারে চাগিয়ে ওঠার মতো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু বইটা হয়েছে কেমন? ইতিমধ্যেই একাধিক রিভিউয়ার, এবং লেখক স্বয়ং বলে দিয়েছেন, এই বই আক্ষরিক অর্থেই সার্থকনামা। অর্থাৎ, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, যাকে আমরা সহজ ভাষায় ইন্টারনেট বলে থাকি, তার উপরিতলের ৫% ট্র্যাফিক ও ডেটার অন্তরালে থাকা ৯৫% জিনিসের আদান-প্রদান হয় যে ডিপ ওয়েবে, সেটা নিয়েই এই উপন্যাস। তবে গভীর জল মানেই হাঙর বা অক্টোপাসের এলাকা নয়। সেইসব শিকারি ওত পেতে থাকে তার একটি ক্ষুদ্র অংশেই। তেমনই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য হল ডিপ ওয়েবের অতি ক্ষুদ্র, কিন্তু মানবমনের সবচেয়ে অন্ধকার দিক নিয়ে নাড়াচাড়া তথা ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গোপন অংশ: ডার্ক নেট। এই জিনিস নিয়ে ইংরেজিতেও থ্রিলার বা রহস্য উপন্যাসের সংখ্যা ভীষণ কম, তাদের মধ্যেও ম্যাথিউ ম্যাথারের “ডার্কনেট” ছাড়া কোনো উপন্যাস উল্লেখযোগ্য বলে পাঠকদের দ্বারা সমাদৃত হয়নি। তাই এই জিনিস নিয়ে একটি উপন্যাস লিখেছেন বলে প্রথমেই বিনোদ ঘোষালের উদ্দেশে খটাস করে একটা স্যালুট ঠুকতে হচ্ছে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ইন্দ্র দেব হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। তাঁর ভাই অরণ্য অনেক দিন পর আলমারি-র নানা জিনিসের পেছনে খুঁজে পেলেন একটা পেন ড্রাইভ, যাতে মাত্র একটা ফাইল আছে। সেই ফাইল খুলে অরণ্য বুঝতে পারল, কোন ভয়ঙ্কর গুহায় ঢুকেছিলেন ইন্দ্র। এও বোঝা গেল যে তাঁর সন্ধান পেতে গেলে অরণ্য, আর তার বান্ধবী সাংবাদিক দিয়া-কেও ঢুকতে হবে সেই গুহায়, যার নাম ডার্ক নেট। তারপর কী হল? অরণ্য আর দিয়া কি ডার্ক নেটে প্রবেশাধিকার পেল? ইন্দ্র দেব-এর কী হয়েছে, তা কি জানা গেল? যে ভয়ঙ্কর খুনি তাদের পিছু নিল, সে কি শেষ অবধি ডার্ক নেট-কে নিষ্কন্টক রাখতে পারল, না কি অরণ্য আর দিয়া শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য নিয়ে করতে পারল অসুরনিধন? এই রহস্য উপন্যাসটি যাতে সর্বজনবোধ্য ও গতিময় হয়, সেজন্য লেখক অনেক জায়গায় সরলীকরণ করেছেন। গল্পের শেষ দিকে তিনি deus ex machina গোছের এমন একটি চরিত্র আমদানি করেছেন, যিনি কার্যত মা দুর্গার ত্রিশূল, সিংহ, খাঁড়া, চক্র সব ভূমিকাই পালন করে ঝটপট অসুরনিধন সম্ভব করেছেন। কিন্তু সেসব দুর্বলতা স্বচ্ছন্দে উপেক্ষা করা যায় দুটো কারণে: ১] অরণ্য আর দিয়া’র চরিত্র এতটাই বিশ্বাসযোগ্য করে গড়া হয়েছে, তাদের মধ্যে হওয়া কথোপকথন, হালকা প্রেম, গভীর বন্ধুত্ব এতটাই বাস্তব হয়ে সামনে ফুটেছে যে ওই চরিত্রদুটির টানে গল্পের সঙ্গে পাঠক এগিয়ে যাবেন শেষ অবধি, আর তারপরেই আবিষ্কার করবেন যে উপন্যাস শেষ হয়ে গেছে। ২] গল্পে শুধু দুই কেন্দ্রীয় প্রটাগনিস্ট নয়, অন্যান্য চরিত্রেও সুস্পষ্ট বিবর্তন দেখা গেছে সময়ের সঙ্গে। তাই কেঠো, দ্বিমাত্রিক চরিত্রদের আড়ষ্ট কীর্তিকলাপ দেখার বদলে আমরা সত্যি-সত্যি ভালো-মন্দ, উত্থান-পতনে ভরা একটা রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার পেয়েছি।
বিভা পাবলিকেশন-এর উপন্যাসে টাইপো প্রায় অলঙ্করণের ভূমিকা নেয়। এই বইয়ে তার উপস্থিতি লক্ষণীয় ভাবে কম, কিন্তু যেক’টি আছে তারা গল্পের গতি হঠাৎ করে কমিয়ে তো দেয়ই, দারুণ সাসপেন্সের মধ্যে অবাঞ্ছিত হাস্যরসের জন্ম দিয়ে থ্রিলারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। পাঠকের আনুকূল্যধন্য এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ অচিরেই প্রয়োজন হবে, তখন এগুলো শুধরে নেওয়া হবে, এমনটা আশা করাই যায়।
সামগ্রিক বিচারে এটাই বলার যে এই উপন্যাসটি নির্ভার, গতিশীল, বাস্তব চরিত্রসমৃদ্ধ, এবং বাংলা সাহিত্যে এযাবৎ সম্পূর্ণ অনালোচিত একটি বিষয় নিয়ে লেখা। আমি নিজে এটিকে আমার পড়া বাংলা রহস্য উপন্যাসদের মধ্যে খুব উঁচু স্তরেই রাখব, এবং সব্বাইকে বইটা পড়ে দেখতে অনুরোধ করব। পাঠ শুভ হোক।
আমি খুব কম বইকেই ১ স্টার দিয়েছি। এটাকে না দিয়ে পারলাম না। কেন নীচে দেখুন
১. কাহিনী জমেনি মোটেও। ব্লু হোয়েলের মতো কি এক গেমের হেনোতেনো। কাহিনীর কোন গাঁথুনিই নেই। অত্যন্ত প্রেডিক্টেবল কাহিনী।
২. চরিত্র চিত্রন খুবই দূর্বল মনে হয়েছে। চরিত্রগুলো সবগুলোই ম্যাড়ম্যাড়া। শক্তিশালী কোন কিছুই চোখে পড়লো না। অরন্য আর দিয়ার চরিত্রও ভালো লাগেনি।
৩. ডায়লগ ডেলিভারও দূর্বল মনে হয়েছে অনেক। সাদাত ভাইয়ের মতো ষাটোর্ধ একজন মানুষের মুখে ইয়ো ব্রো টাইপের ডায়লগ খুবই বেমানান লেগেছে। দিয়া ডার্ক ওয়েব নিয়ে নিজে একটি আর্টিকেল কাভার করলো পত্রিকায় কিন্তু অরণ্য আর সাদাতের সাথে কথা বলার সময় বললো তার এ ব্যাপারে কোন ধারণা নেই। ধারণা ছাড়া দিয়া আর্টিকেল কাভার করলো কেমন করে বুঝলাম না। এ তো দেখি সাংবাদিকতা নয়, সাংঘাতিকত।
৪. অপরাধীরা সাদাতকে খুন করে ফেললো কিন্তু অরণ্য আর দিয়াকে বাঁচিয়ে রাখলো। কিছু দিন পর পর ফোনে হুমকি দিতে থাকলো। অপ্রোয়জনীয় রক্তপাত তারা চায় না। আমার কাছে তো অরণ্য আর দিয়ার রক্তই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। প্রথমেই ২ জনকে সাবাড় করে দিলে এতো ঝক্কিই আর হতো না। অপরাধীরা এদের বাঁচিয়ে রাখলো কেন বুঝলাম না।
৫. ইন্দ্রকে মেরে ফেললো কিন্তু শেরিং কে কেন বাঁচিয়ে রাখলো সেটাও বোধগম্য হলো না। শেরিংকে মেরে ফেললেই অপরাধীদের অবজেক্টিভ সফল হয়ে যেতো।
৬. ট্যুইষ্ট নাই-ই বলতে গেলে। থ্রিলারে থাকবে ট্যুইষ্টের পর ট্যুইষ্ট। কিন্তু এটি ট্যুইষ্ট বিহীন এমন ম্যাড়ম্যাড়া কাহিনী যে পড়তে পড়তে ঘুম পেয়ে যায়।
আজাইরা টাকা নষ্ট, আজাইরা সময় নষ্ট।
This entire review has been hidden because of spoilers.
গভীর জালের রহস্য: বাংলা থ্রিলার সাহিত্যে ডার্ক ওয়েবের এক সাহসী অভিযান
বিনোদ ঘোষালের প্রথম রহস্য উপন্যাস "গভীর জালের রহস্য" পড়ার পর পাঠক এক অদ্ভুত দ্বৈত অনুভবের মুখোমুখি হন। একদিকে বইটি রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারের মতো পাতা ওল্টাতে বাধ্য করে, অন্যদিকে প্রতিটি অধ্যায়ে লুকিয়ে থাকে ইন্টারনেট জগতের অজানা, ভয়ংকর এবং আতঙ্কজাগানো এক জগৎ—ডার্ক ওয়েব। বাংলা সাহিত্যে তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক থ্রিলার এতটা গভীরভাবে আগে খুব কমই দেখা গেছে। এই উপন্যাস নিঃসন্দেহে একটি নিরীক্ষামূলক সাহসী প্রচেষ্টা, যার মধ্যে থ্রিলারপ্রেমী, প্রযুক্তিপ্রেমী এবং সমাজ-সচেতন পাঠকের জন্য রয়েছে প্রচুর উপাদান।
মূল সুর ও কাহিনীপ্রবাহ:
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইন্দ্র দেব হঠাৎ নিখোঁজ হন। ভাই অরণ্য এবং সাংবাদিক বান্ধবী দিয়া মিলে তাঁর খোঁজে নামেন, এবং এক পর্যায়ে আবিষ্কার করেন ইন্দ্র আসলে জড়িয়ে পড়েছিলেন ডার্ক ওয়েবের জালে। সেই জাল ভেদ করেই দাদাকে খুঁজতে বেরোয় অরণ্য ও দিয়া, যেখানে তাদের সামনে আসে একের পর এক টেক-স্যাভি অপরাধ, হ্যাকিং, মানব পাচার, সিরিয়াল কিলিং এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের রুদ্ধশ্বাস পর্ব।
গল্পের গতি এক কথায় প্রশংসনীয়। বিনোদ ঘোষাল নির্মেদ, সাবলীল ভাষায় চরিত্র নির্মাণ ও ঘটনাবলী সাজিয়েছেন। অরণ্য-দিয়া জুটি পরিণত, বাস্তব এবং পাঠকের পছন্দের উপযোগী। চরিত্রদের মধ্যে সংলাপ, হিউমার এবং প্রেমালাপের খুনসুটি গল্পকে ভারমুক্ত রাখে। তবে ক্লাইম্যাক্স অংশটি একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে শেষ হয়েছে বলেই অনেক পাঠক অভিযোগ করেছেন।
বিষয় নির্বাচনের অভিনবত্ব:
ডার্ক ওয়েবকে কেন্দ্র করে একটি বাংলা থ্রিলার—এই ভাবনা নিজেই এক বিপ্লব। ইন্টারনেটের তিন স্তরের মধ্যে ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েব সংক্রান্ত বিশদ ব্যাখ্যা, টর ব্রাউজার, হিডেন সার্ভিস, ব্ল্যাক মার্কেট, রেড রুম ইত্যাদি ধারণাগুলোকে জনপ্রিয় ভাষায় প্রকাশ করেছেন লেখক। এখানে যেমন প্রযুক্তিগত তথ্য রয়েছে, তেমনই আছে মানবিক গল্প—দাদার খোঁজে ভাই, এক সাংবাদিকের কৌতূহল, আন্তর্জাতিক অপরাধীদের থাবা এবং নৈতিকতার দ্বন্দ্ব।
তবে মাঝে মাঝে টেক ব্যাখ্যাগুলো ইনফো ডাম্পিং-এর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলেই মনে হয়েছে। পাঠক যদি একেবারে প্রযুক্তি-অজ্ঞান হন, তবে এই অংশগুলো ক্লান্তিকর লাগতে পারে। অন্যদিকে আই.টি ব্যাকগ্রাউন্ডের পাঠকদের জন্য এই ব্যাখ্যাগুলো চমৎকার ইনসাইট প্রদান করবে।
বাংলা বনাম ইংরেজি সাহিত্যে ডার্ক ওয়েব থ্রিলার:
ডার্ক ওয়েব নিয়ে পশ্চিমা সাহিত্যে যেমন কল্পকাহিনি, তেমনই আছে বাস্তব ঘটনা নির্ভর বিশ্লেষণ। নিক বিলটনের American Kingpin বইটি রস উলব্রিক্টের বাস্তব কাহিনি—একজন যুবক যিনি Silk Road নামে একটি ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছিলেন এবং শেষপর্যন্ত FBI-র হাতে ধরা পড়েন। এই বইটি বাস্তব ঘটনা হলেও তার বর্ণনা, সংলাপ এবং পেজ-টার্নার গতিবিধি একে থ্রিলারের পর্যায়ে নিয়ে যায়।
আবার আইলিন অর্মসবির The Darkest Web এবং Silk Road দুই বই-ই একদিকে তথ্যসমৃদ্ধ, অন্যদিকে রীতিমতো spine-chilling। অন্ধকার জগতের মানব পাচার, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র কেনাবেচা, এমনকি খুনের লাইভ স্ট্রিম—এই সবকিছু নিয়ে লেখকের বিশ্লেষণ পাঠককে এক নৈতিকভাবে অস্বস্তিকর জগতে নিয়ে যায়।
জন ফোরসে-র The Dark Web Dive একটি গাইডবই, যাতে ডার্ক ওয়েবের গঠন, তার প্রযুক্তিগত দিক এবং সতর্কতা সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা আছে। তবে এটি উপন্যাস নয়। অন্যদিকে The Silent Patient, যদিও ডার্ক ওয়েব নিয়ে নয়, তবু তার গা-ছমছমে মানসিক সাসপেন্স, চমকপ্রদ প্লট টুইস্ট—এগুলো গভীর জালের রহস্য-এর কিছু আবহের সঙ্গে তুলনীয়। দুটো বই-ই পাঠককে অজানা, অব্যক্ত ও নিষিদ্ধ অনুভবের মুখোমুখি করায়।
এইসব তুলনায় দেখা যায়, গভীর জালের রহস্য একটি ব্রিজের মতো কাজ করে—বাস্তব এবং কল্পকাহিনির মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। এর চরিত্রেরা সাধারণ, তাদের সমস্যাগুলো মানবিক। একদিকে এটি প্রযুক্তিনির্ভর থ্রিলার, অন্যদিকে পারিবারিক বন্ধন ও আবেগের অন্বেষণ।
যেখানে ইংরেজি বইগুলোর ফোকাস অধিকাংশই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র, হাই-টেক নজরদারি বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম, সেখানে গভীর জালের রহস্য দেখায় একজন সাধারণ মানুষের কৌতূহল কিভাবে তাকে অচেনা বিপদের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এটি বাংলার নিজস্ব সমাজচিত্র, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মধ্যবিত্ত মনস্তত্ত্বে দাঁড়িয়েই ডার্ক ওয়েবকে ভিন্নভাবে অন্বেষণ করেছে।
কিছু দুর্বলতা:
১. প্রথম অধ্যায়ে ভুটানের ঘটনাটি অনেকটাই সংকুচিত ও অস্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে। পরবর্তী কাহিনীতে তার পুনঃসংযোগ পড়ে কিছুটা জোর করেই বসানো মনে হয়েছে।
২. সাদাত খান ও সিরিয়াল কিলার চরিত্র দুটি যতটা রহস্যের আবহ তৈরি করেছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের নিষ্পত্তি অনেকটাই হালকা। সাদাত খানের মৃত্যু এবং খলনায়কের পরিচয় কিছুটা বেশি নাটকীয় ও Deus Ex Machina-ঘেঁষা হয়েছে।
৩. উপন্যাসের শেষ অংশে গতি এতটাই বেড়ে যায় যে পাঠক অনেকটা ‘হুমড়ি খেয়ে পড়া’র মতো অনুভব করতে বাধ্য হন।
৪. বইয়ের প্রচ্ছদ খুবই সাধারণ এবং বইয়ের গম্ভীরতা ও থিমের সাথে খাপ খায় না। একইসঙ্গে 'বিভা রহস্য থ্রিলার' মার্কিং ও লেখকের নাম বারবার ছাপানো পাঠকের জন্য অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে।
চূড়ান্ত মূল্যায়ন:
বাংলা সাহিত্যে 'ডার্ক ওয়েব' নিয়ে এটিই সম্ভবত প্রথম পূর্ণাঙ্গ থ্রিলার, এবং সেই দিক থেকে এটি যুগান্তকারী কাজ। পাঠ্য হিসেবে এটি তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের প্রযুক্তির অন্ধকার দিক নিয়েও ভাবাতে সক্ষম। লেখকের গবেষণার গভীরতা এবং বিষয় নির্বাচনের সাহস প্রশংসনীয়। এটি নিছক থ্রিলার নয়, এটি একটি ওয়েক আপ কল—নেট দুনিয়ার ‘সব জানে’ ভাবনার বিপরীতে এক তীক্ষ্ণ খোঁচা।
শেষ কথা, গভীর জালের রহস্য পড়া মানে শুধুই একটি থ্রিলার উপভোগ করা নয়—এটি একসাথে প্রযুক্তি, সমাজ, এবং মনুষ্যত্বের এক জটিল অন্বেষণে নামা। এর অসঙ্গতিগুলো সত্ত্বেও এটি এক সাহসী ও যুগোপযোগী লেখা।
পুনশ্চ: বিনোদ বাবু এই বইটি আমায় উপহারস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন।
আই.টি দুনিয়ায় যারা কাজকর্ম করেন বা এর সাথে কোনভাবে যুক্ত আছেন তাদের মুখে একটা প্রবাদবাক্য প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায় - 'জিসকা কোই নেহি উসকা তো গুগল হ্যায় ইয়ারো'। অর্থাৎ নেটদুনিয়াতে যাকে সাহায্য করার কেউ নেই, তার কাছেও গুগল সার্চ-ইঞ্জিন আছে। সবথেকে সস্তায় কোন সাইট আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট বিক্রি করেছে কিংবা আপনার পছন্দের সিনেমাটি কোন প্রেক্ষাগৃহে চলছে তা মুহূর্তের মধ্যে জানতে গুগল সার্চ-ইঞ্জিনের কোন বিকল্প নেই। প্রোজেক্ট এর জন্য সাইট-সার্ফিং হোক কিংবা কোন বিষয়ে ইন-ডেপথ স্টাডি-ওয়ার্ক সবকিছুই গুগলের নখদর্পনে। শুধুমাত্র 'কি চাই' সেটা লিখে সার্চ-বাটন এ ক্লিক করার অপেক্ষা, মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিষয়ে সম্ভাব্য সকল ফলাফল আপনাকে দেখিয়ে দেবে গুগল। ফলে সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা আছে গুগল জানে না এমন জিনিস প্রায় নেই বললেই চলে। আর এখানেই রয়েছে সবথেকে বড় চমক !!!
গুগল সার্চ-ইঞ্জিন আমাদের যে তথ্য দেখায় সেটা ইন্টারনেটের মোট তথ্যের মাত্র চার্ কি পাঁচ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ তথ্য আমাদের নাগালের বাইরেই থেকে যায় আজীবন। এখানে সাধারণ নেট ইউজারদের সহজে প্রবেশ করার উপায় প্রায় নেই বললেই চলে। এই দুনিয়ার সন্ধান গুগল কেন বিশ্বের কোন সার্চ ইঞ্জিনই দিতে পারে না। এ হোল ইন্টারনেট জগতের এমন গভীর গোপন অঞ্চল যেখানকার খবর জানতে FBI, CIA এর মতন দুঁদে সংস্থারাও হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে, তো সাধারণ মানুষ কোন ছাড়।
বিনোদ ঘোষালের সদ্য প্রকাশিত থ্র���লারটি লেখা হয়েছে ইন্টারনেট জগতের এই নিষিদ্ধ অঞ্চলটির কার্যকলাপ নিয়ে। লেখক বিষয়বস্তু বাছাইয়ে দুর্দান্ত চমক দিয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি খুব সহজবোধ্য ভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছেন। গুগল সহ বিশ্বের কোন সার্চ ইঞ্জিনই কেন ইন্টারনেটের এই জগতের সন্ধান পায় না, কিভাবে এই সকল সাইট কাজ করে, কিভাবে মানুষ এই জগতের প্রতি আকৃষ্ট হয় এই সবকিছুই এই কাহিনীতে বলা হয়েছে। তার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে এই জগতের হাড়হিম করা নানান ঘটনার বিবরণ - যা পাঠকদের কল্পনারও অতীত। মানুষের কার্যকলাপ যে কি সাংঘাতিক হতে পারে তা এই কাহিনী না পড়লে বিশ্বাস করাই শক্ত। মূল কাহিনীর পাশাপাশি এই ধরণের সাইট সার্ফ করার বা লিংক ক্লিক করার ভয়াবহ দিকটিও দেখিয়েছেন এবং পাঠকদের কঠোর ভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা যেন ইন্টারনেটের এই অঞ্চল সার্ফ করা করা থেকে বিরত থাকেন। বাংলা ক্রাইম ফিকশনে এই প্রথম ইন্টারনেট জগতের এক অচেনা, ভয়ংকর জগৎ নিয়ে টানটান অ্যাকশন-থ্রিলার উপহার দিলেন লেখক বিনোদ ঘোষাল।
ঝরঝরে ভাষায় লেখা টানটান থ্রিলারটি একেবারে আনপুট-ডাউনেবেল এবং কাহিনীর বিষয়বস্তু থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের যে আকৃষ্ট করবে একথা বলাই বাহুল্য। তাই আর দেরি না করে আজই সংগ্রহ করে ফেলুন বিনোদ ঘোষালের থ্রিলারকাহিনী "গভীর জালের রহস্য" (Deep Web Mystery)
***** বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ ***** এই বইটি কোন কিশোরপাঠ্য থ্রিলার নয় এবং কাহিনীতে বর্ণিত বিষয়বস্তু কোন কাল্পনিক বিষয় নয়। পাঠকরা যেন ইন্টারনেট জগতের এই নিষিদ্ধ অঞ্চল সার্ফ করা করা থেকে বিরত থাকেন।
এবার আসি বইয়ের গুণমান/অন্যান্য বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে -
১) বইয়ের কভার প্রচ্ছদ একেবারেই বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে যায়নি, এমনকি বইটি যে কিশোরপাঠ্য থ্রিলার নয় এটিও কভার দেখে পাঠকরা বুঝতে পারবেন না।
২) বইয়ের পাতার কোয়ালিটি ভাল, বইয়ের অক্ষর বা ফন্ট সাইজ সহজে পাঠযোগ্য, তবে প্রতি পাতার নিচের বাম দিকে 'বিভা রহস্য থ্রিলার' এবং ডান দিকে বিনোদ ঘোষাল লেখার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ খুঁজে পেলাম না। পাঠকরা তো জানেই এটা থ্রিলার বুক এবং বিনোদ ঘোষালের লেখা। এটা বার বার মনে করানোর ঠিক কি প্রয়োজন বুঝলাম না।
৩) বইতে ছাপার ভুল প্রায় নেই বললেই চলে তবে দু-একটা যা আছে তা বেশ মজাদার। টাইপোর হেরফেরে লেখার মানেই বেশ পাল্টে গেছে। উদাহরণ পেজ 107 এর মাঝামাঝি - "বলেই আলী আন্ত্রিকভাবে ওয়াংমোর কাঁধে হাত রেখে ওদের ভুটানিজ ভাষায় কথা বলতে শুরু করল।" হওয়া উচিত ছিল - "বলেই আলী আন্তরিক ভাবে ওয়াংমোর কাঁধে হাত রেখে।..... এরকম আর ২টো পাতাতে টাইপো আছে.
৪) উৎসর্গের পাতাতে 'শ্রীস্বপনকুমার' শ্রীহীন হয়ে 'স্বপনকুমার' হয়ে গেছেন। এটি পরের সংস্করণে যেন শুধরে নেওয়া হয়।
উপন্যাসের নাম - গভীর জালের রহস্য লেখক - বিনোদ ঘোষাল প্রকাশক - বিভা
পরিবার নিয়ে সুখী , নিরাপদ জীবন চলছিল পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইন্দ্র দেবের । শখ ছিল শুধুমাত্র কম্পিউটার গেমের । এই গেমের নেশা তাকে একদিন টেনে নিয়ে গেল ইন্টারনেটের এক অন্ধকার , অচেনা , ভয়ংকর জগতে । যেখানে চলছে মানবজাতি ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত । হঠাৎ - ই নিরুদ্দেশ হলেন ইন্দ্র । পুলিশের সাহায্য না পেয়ে দাদাকে খুঁজতে শুরু করল ভাই অরণ্য এবং তার বান্ধবী দিয়া । সূত্র ধরে তারাও একসময় জানতে পারল ইন্টারনেট জগতের এমন এক গভীর গোপন অঞ্চলের খবর যেখানে রয়েছে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য । সয়ং গুগুলও জানে না যার সন্ধান । আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে দাদার নিরুদ্দেশ হওয়ার সূত্র । দাদাকে খুঁজতে গিয়ে নিজেও হাই ভয়ঙ্কর জালে জড়িয়ে পড়ে অরণ্য । শেষ পর্যন্ত কী হল অরণ্য আর দিয়ার ? ওরা কি পারল দাদাকে খুঁজে বের করতে ? না কি অবর্ণ আর দিয়াও জশ গেল সেই গভীর জালের চক্রান্তে ? বাংলা ক্রাইম ফিকশনে এই প্রথম ইন্টারনেটের ডার্কওয়ের নিয়ে রোমহর্ষক টানটান অ্যাকশন থ্রিলার যা পাঠককে এক নতুন রোমাঞ্চের স্বাদ দেবে ।
গল্পকে করে তুলেছে রুদ্ধশ্বাসী । প্রতিটি ভাঁজ চরম বিপজ্জনক ও অপূর্ব । প্রতিটি চরিত্র মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুণ সম্পন্ন ।
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান কাহিনিতে নৃশংসতা বনাম মানব হিতৈষণার এক অপূর্ব আখ্যান এই বইটি বাংলা রহস্য সাহিত্যের পাঠকদের কাছে অবশ্যপাঠ্য ।
উপন্যাসটি নির্ভার , গতিশীল , ৰাস্তব চরিত্রসমৃদ্ধ এবং বাংলা সাহিত্যে এযাবৎ সম্পূর্ণ অনালোচিত একটি বিষয় নিয়ে লেখা ।
পড়তে পড়তে শিউরে উঠেছি মাঝে মাঝেই। Deepweb নিয়ে ধারণা ছিলই, কিন্তু Darkweb নিয়ে একটা অস্পষ্ট ধারণা ছিল। সেগুলো যে এত ভয়ানক তা জানতাম না। লেখনী চমৎকার। বেঁধে রেখেছেন লেখক শেষ পর্যন্ত। খুব ভালো লেখা। লেখকের পরবর্তী বই পড়ার আশায় রইলাম।
ডিপওয়েব বা ডার্কওয়েব সম্পর্কিত কোনো লেখা প্রথম বার পড়লাম। এই বিষয়ে অনেক নতুন তথ্য জানলাম ও। কিন্তু যদি থ্রিলাম মেটেরিয়াল এর কথা বলি, তাহলে বলব -আমি নিরাশ। রহস্য সঠিকভাবে ঘনীভূত হওয়ার আগেই, যবনিকা পতন!
জনপ্রিয় এই লেখকের লেখা আমার আগে পড়া ছিল না। "ডানাওয়ালা মানুষ" বইয়ের সাহিত্য অ্যাকাডেমি যুব পুরস্কার পাওয়া দেখে ওটাকেই টার্গেট করেছিলাম। তবে কলেজ স্ট্রীটে এই বইটা না পেয়ে কিনে ফেললাম লেখকের প্রথম রহস্য উপন্যাস "গভীর জালের রহস্য"। নামটাও এখন অনেকের জানা, কারণ হইচই তে " ডার্কওয়েব" নামে ওয়েব সিরিজ আসছে এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে৷ তাই লোভ সামলাতে পারলাম না।
বিভা পাবলিকেশনের বই প্রথমবার হাতে নিলাম। ছোটখাটো সাইজের পেপারব্যাক। ফন্ট বেশ বড়, পাতার কোয়ালিটিও সুন্দর। সহজে ক্যারি করতে পারবেন, ওজন বেশ হালকা। কভার ডিজাইন করেছেন নচিকেতা মাহাতো ও সুমন্ত মল্লিক। প্রথম সংস্করণের কভার মোটামুটি লাগল, তবে নতুন যেটা বেরিয়েছে এখন, তার কভার বেশ আকর্ষণীয়। দুর্দান্ত প্রুফ রিডিং, পুরো বইতে "বির বির" বানান ছাড়া আর কোনও ভুল বা প্রিন্টিং মিসটেক চোখে পড়ল না।
এবার আসি কন্টেন্টে। এই থ্রিলার উপন্যাসের মূল ভিত্তি হল ইন্টারেনেটের এক অচেনা ভয়ঙ্কর জগৎ নিয়ে৷ আমরা সচরাচর যে সমস্ত ওয়েবসাইট দেখে থাকি গুগুল সার্চের মাধ্যমে, তাদের বলে সারফেস ওয়েব। কিন্তু ওয়েব দুনিয়ায় এর ব্যাপ্তি মাত্র পাঁচ শতাংশ। যা আমরা গুগুল সার্চে খুঁজে পাই না, বা গুপ্তভাবে যা সংরক্ষণ করা থাকে, তা হল ডিপওয়েব। যেমন ধরুন, আপনার মেলবক্স, গুগুল ড্রাইভ হল এই ডিপওয়েবের খুব বেসিক উদাহরণ। তবে এই ডিপওয়েবেরই একটা নির্দিষ্ট ভাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই অ্যাকশন থ্রিলার, যার না�� "ডার্কওয়েব"। সত্যিকারের ওয়েবদুনিয়ার উপাদান নিয়ে লেখক রহস্যের জাল বুনেছেন। চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইন্দ্র দেব নিখোঁজ। ওনার প্রধান হবি ছিল কম্পিউটার গেমস। আর ডার্কওয়েবের এমনই এক গেমের ফাঁদে পা দিয়ে গায়েব হয়ে গেলেন তিনি। ভাই অরণ্য তার বান্ধবী দিয়ার সাথে মিলে দাদার খোঁজ করতে শুরু করতেই একে একে তাদের সামনে আসতে লাগল অন্ধকার জগতের বিভিন্ন সূত্র। সেই নৃশংসতার কিছু নিদর্শন কি তাদের জন্যও অপেক্ষা করে আছে? তারা কি খুঁজে পেল ইন্দ্রকে? এর উত্তর আমি পেয়ে গেছি ঠিকই, তবে এখানে তা লেখা সমীচীন নয়।
প্রথম থ্রিলার হিসেবে তারিফের যোগ্য। কিন্তু শেষ দুবছরের মধ্যে প্রকাশিত বেশ কিছু জনপ্রিয় থ্রিলারের তুলনায় পিছিয়ে রইল এই বই। লেখা খুবই সাবলীল, পাঠককে টেনে ধরে রাখার ক্ষমতা আছে লেখকের। তবে মূলধারার পাঠক, যারা তথ্যপ্রযুক্তি সম্বন্ধে অতটা ওয়াকিবহাল নয়, তাদের হয়তো এই উপন্যাস ভালো নাও লাগতে পারে, যদিও লেখক খুব সহজভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন বিভিন্ন শব্দ বা কনসেপ্টের। আই টি তে থাকার দরুণ আমার মনোগ্রাহী লেগেছে সমস্ত বিশ্লেষণ। এর জন্য বেশ ভালোই রিসার্চ করেছেন বুঝতে পারলাম। যদিও ৩৫ নম্বর পাতায় ইন্টারনেটের বিভিন্ন স্তর নিয়ে যে আলোচনা করেছেন একজন চরিত্রের মুখ দিয়ে, তার সাথে ইউটিউবের " Technical Guruji" চ্যানেলের "Hidden Internet - Deep web and Dark web explained" ভিডিওর প্রচুর সামঞ্জস্য চোখে লাগল। বোঝানোর সময় উদাহরণগুলো পরিবর্তন করে দিতে পারতেন লেখক। ক্লাইম্যাক্স বেশ অ্যাকশন প্যাকড হলেও মনে হল হঠাৎ করে যেন প্লটে দাঁড়ি টেনে দেওয়া হল, আর একটু যুতসইভাবে ফিনিশ করলে এই উপন্যাস বেস্টসেলার হতে পারত বলে আমার ধারনা।
যেহেতু লেখকের আর কোনও বই পড়া নেই, তাই হয়তো একটু আনবায়াসড রিভিউ দিয়ে ফেললাম। তবে ইচ্ছা রইল বিনোদ বাবুর আরও কিছু বই পড়ে দেখার।
সত্যি বলতে কি এই বইটি সম্পর্কে কিছু লিখতে সাহস পাচ্ছি না । তার কারন, বইটির মূল্যায়ন ঠিকঠাক করতে পারবো তো? এই বইটি শুধুমাত্র একটি বই আর একটি সুন্দর গল্প নয়, এখান থেকে অনেক কিছু শেখার ও জানার আছে। যা এই ইন্টারনেট বিপ্লবের যুগে সকল বয়সের মানুষের পড়া উচিত বলে আমার মনে হয়।
গভীর জালের রহস্য বইটির লেখক বিনোদ ঘোষাল মহাশয়'কে কুর্নিশ জানাই!
I was intrigued by the dark web, and the subject matter hooked me. So, I picked up this book. But unfortunately, it's a weak thriller. The characters don't have any depth either. The only good thing about this book was the knowledge about the dark web. The book's cover is also deceptive, giving the impression of a young adult novel when it is strictly for adults.