এখানে যেমন আছেন ঘুমকাতুরে পুলিন দারোগা, লুডোর নেশায় বুঁদ গণেশ দারোগা,ঘুষের প্রত্যাশায় বসে থাকা নবকান্ত দারোগা, তেমনই নাম হারিয়ে ফেলা দয়ালু চোর জগা, চোর হারু,আছে পাড়ার নাটকের তুখোড় ডিরেক্টর গন্ধদাদা, আছেন কৃপণ ইতিহাস শিক্ষক হলধর স্যার,খেয়ালি পটুয়া দয়ালজ্যাঠা, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সত্যসাধন আর তার গরু মুগলি। আছে খেলাপাগল ভূত অপদেব। আরও আছে মেধাবী দিতি, হিংসুটে আলো, আছে সরলসাদা ভালোমানুষ ভজহরি।এদের নিয়েই হাসি মজা সুখ-দুঃখের তেরোটি গল্প।
উল্লাস মল্লিকের জন্ম ১৯৭১ হাওড়া জেলায়, গাছগাছালি দিঘি ঘেরা এক শান্ত গ্রামে।বাবা সমরসিংহ মল্লিক, মা গীতা মল্লিক। একটু বড় হয়ে সপরিবারে চলে আসেন হাওড়া জেলারই আর এক চমত্কার গ্রাম কেশবপুরে।বাবা ছিলেন সেখানকার বিশিষ্ট শিক্ষক। স্নাতক হবার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু।চাকরি ছেড়েছেন; পেশা বদলেছেন।দুষ্টুমির বাল্যকৈশোর, অনিশ্চিত কর্মজীবন, চেনা-অচেনা, ভাল-মন্দ বাছবিচার না করেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, অদ্ভুত সব ঘটনা আর স্নিগ্ধ প্রকৃতি তাঁর লেখা জুড়ে।মনে আনন্দ আর রসবোধ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। ২০০০ সালে লেখালিখির শুরু।বিভিন্ন বছরে ‘দেশ’ হাসির গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী।একডজন উপন্যাস, দেড়শোর বেশি গল্প আর রম্যরচনা লিখেছেন।
২০২৪ -এ দমদম বইমেলা থেকে কেনা পত্রভারতীর এই বইটি। খুব সত্যি কথা বলতে প্রথম গল্পটা পড়ার পর নিজের উপর সন্দেহ প্রকাশ করছিলাম যে ভুল বয়সে কি বইটি কিনলাম! কিন্তু বাকী বারোটা গল্প পড়ে বুঝলাম যেকোন বয়সেই এই বইটি পড়া যেতে পারে। এইখানেই বইটির বিশেষত্ব।
মজা থেকে শুরু করে জীবনের বাস্তবতা দিয়ে মোড়া এই গল্পগুলো। ভূতের গল্পে ভূতের সমব্যাথী হতে মন চায়, জীবনে বোকা হতে ইচ্ছে করে, চোরকে মজার চরিত্র বলে মনে হয়, বইটির শেষে চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিক্-চিক্ করে ওঠে। দারুণ একটা বই।