গ্রেট ব্রিটেনের সবচেয়ে সুরক্ষিত ল্যাব ডিএসটিএল এ হানা দিল এক চোর। কেন? কেনই বা প্রায় সাতশ বছর ধরে বংশপরম্পরায় একটা মূর্তির সন্ধান করে চলেছে একটা বংশ? এদিকে নিজের ল্যাবে আততায়ীদের দ্বারা আক্রান্ত হল এক প্রডিজি রাজকন্যা। কিন্তু কেন? কি সেই মহাশক্তি যা রাতারাতি বদলে দিতে পারে পৃথিবীর ক্ষমতার ভারসাম্য? আর এসবের মধ্যে ইতিহাসের সেরা জিনিয়াসদের একজন নিকোলা টেসলার ভূমিকাটা আসলে কি? প্রশ্ন অনেক, কিন্তু উত্তরগুলো যেন রহস্যময় এক কুয়াশার চাদরে ঢাকা । সেই কুয়াশা ভেদ করে আলোর ঝলকানির সন্ধানে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর নিরাপত্তাবাহিনী পাঠাল তাদের অন্যতম সেরা এক অফিসারকে-এক বাঙ্গালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল । দেখা যাক সে কতদূর কি করতে পারে ! বাংলা মৌলিক স্পাই কাহিনীর জগতে স্বাগতম।
মাসুদ রানা বা জেমস বন্ডের চিপেস্ট ভার্সন। তবে পার্থক্য শুধু দূর্বল প্লটে না, লেখনী আর চরিত্র চিত্রনেও। সবচেয়ে বিরক্তিকর লেগেছে সংলাপ গঠন। প্রতিটি সংলাপ এত মেকি আর বিরক্তিকর যে সিঙ্গেল একটা পৃষ্ঠাও শান্তিতে পড়া সম্ভব হয়নি। যেখানে পুরো বই এর এই অবস্থা, সেখানে এন্ডিং কতটা নড়বড়ে ভাবে এক্সিকিউটেড তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে পরিচিত অনেকের কাছে ভালো লেগেছে আর সেই রিকমেন্ডেশন এ পড়া। খুব সম্ভবত যারা রিকমেন্ড করেছিলেন তারা থ্রিলার জগৎ এর প্রথম দিকে পড়েছিলেন৷
অন্য ৮ ১০ টা স্পাই থ্রিলারের মত। প্রধান চরিত্রকে মাসুদ রানাই বলা যায় কিন্তু এই চরিত্রকে আরো বিল্ড আপ দরকার ছিল। আর মৌলিক হিসেব দুর্দান্ত কাজ করেছেন। এরকম কন্সপিরেসি থ্রিলার লিখতে অনেক রিসার্চের দরকার পড়ে তা বইয়ে ফুটে উঠেছে। কিছুটা ড্রামাটিক টুইস্ট ছিল যা না দিয়ে আরো ডিটেইলসে তোলা যেত।
ভাল লেগেছে পড়ে। 'দ্য মাস্টারপ্ল্যান' স্পাই থ্রিলার জনরার বই। আর স্পাই থ্রিলার আমার পছন্দের জনরার একটা। ভাল লাগার পিছে সেটা একটা কারণ। আরও অনেক কারণও রয়েছে। বই পড়ে বোঝা যায় লেখক অনেক গবেষণা করেই লিখেছেন। পড়ার সময় কখনো মনে হয়েছে মাসুদ রানা পড়ছি, কখনো 'ন্যাশনাল ট্রেজার' আর 'মিশন ইম্পসিবল' মুভি সিরিজের স্বাদ পেয়েছি। তবে বইয়ের দুর্বলতাও কম নয়! শেষেরটাসহ বেশিরভাগ টুইস্টই আমার প্রেডিক্টেবল মনে হয়েছে। এছাড়াও বইটিতে বেশ কিছু খামতি এবং উন্নতির জায়গা রয়েছে। স্পয়লারের জন্য ভাল লাগার কারণ এবং দুর্বলতা সম্পর্কে বিস্তারিত বলছি না। তবে সব মিলিয়ে আমি উপভোগ করেছি।
এ বইয়ের লেখকের জ্ঞান যে অনেক, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ক্লিশে প্লট নিয়েও আমার সমস্যা নেই। তবু ২ স্টার রেটিং দিতে হলো অত্যধিক কাকতাল দেখে। মানে এসপিওনাজ জগতকে নিয়ে লেখা বই কিন্তু 'ম্যাজিক' এর মত রিয়েলিটি দেখা যাচ্ছে, এটা তো পড়তে ভাল্লাগে না। যত যাই হোক, হিরো আগে থেকেই বুঝে যাবে কে কী করতে চাচ্ছে, তা সে রাশিয়ার স্পাই হোক আর তার নিজের দলের লোক হোক। তাই বলে সবসময়? ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মাঝে আফ্রিকার এক মুসলিম কান্ট্রিতে কোনো প্ল্যান ছাড়াই প্রতিবিপ্লব ঘটায়ে ফেলবে? তাও আবার যেখানে বিপ্লবী সরকার বসিয়েছে খোদ আমেরিকা? তাও আবার সারা পৃথিবীর সকল স্পাইকে নাকানি চুবানি খাওয়ানো আমাদের হিরো বাংলাদেশী? তাও আবার স্পাইয়ের নাম 'নীল রিশাদ'। তাও আবার... থাক।
মরক্কোর রাজকন্যা সুরি ইবনে ফয়সাল। রাজকুমারী হলেও নিজে গুণে গুণান্বিত অসম্ভব সুন্দরী আর অসাধারণ মেধার অধিকারী সুরি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। পদার্থবিজ্ঞানে অসাধারণ দক্ষতা তাকে নিয়ে গিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এক গোপন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখছে সে। মরক্কোর বাদশা পিতা ইরতিজা ফয়সালের কাছ থেকে পাওয়া ৭০০ বছরের পুরনো এক রহস্যের হদিস খুঁজছে সে। চাইলেই কি পাওয়া যায়? আছে কি এমন বস্তু, যা রাতারাতি বদলে দিবে পৃথিবীকে।
এই দুনিয়ায় ভালো মানুষের সংখ্যা সীমিত। আশেপাশে তাকালেই দেখতে পাওয়া যায় একদল স্বার্থান্বেষী মানুষকে। যারা নিজেদের প্রয়োজনে সবচেয়ে কাছের মানুষকেও বলি দিতে কার্পণ্য করে না। সুরি ইবনে ফয়সালের গবেষণার বস্তু ঠিক কী, জানা নেই। তবে এমন এক বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেলে যেমন মানবকল্যাণের কাজে ব্যয় করা সম্ভব, তেমনই অসৎ মানুষের হাতে পড়লে এই পৃথিবীর বুকে বিভীষিকা নেমে আসতে পারে। তাই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেই কাজ করে যেতে হয়।
কিন্তু তাতেও যে শেষ রক্ষা হয় না। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরও একদল মানুষ এর সন্ধান পেয়েই গেল! যাদের প্রধান লক্ষ্য সমাজের উপরে অবস্থান করে পুরো পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। আর তাই তো, হামলা হলো ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে চলল সুরি ইবনে ফয়সাল। যার ভরসায় এভাবে ছুটে চলা, তাকে কি বিশ্বাস করা যায়? মুখোশ পরে আক্রমণ চালালে সহজে শত্রু চেনা যায়, কিন্তু বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে থাকা শত্রুকে তো চেনা যায় না। কী করবে সুরি?
নিজের জীবন হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সুরি জানতে পারল এক নির্মম ঘটনা ঘটে গিয়েছে নিজ দেশ মরক্কোয়। এক অ.ভ্যু.ত্থা.ন ঘটেছে সেখানে। যেখানে মারা গিয়েছেন বাদশাহ ইরতিজা ফয়সালসহ পরিবারের সকলে। নিজ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সুরি হয়তো ভাবছে, এভাবে বেঁচে থেকে লাভ আছে? কিন্তু তাকে যে বাঁচতেই হবে। বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। বিশ্বকে কিছু হায়েনার হাত থেকে বাঁচাতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি, নিজ দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হবে। তার এই লড়াইয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নীল রিশাদ। ইউন্যাকো সংস্থার এই বাংলাদেশী এজেন্ট বুদ্ধি, সাহসে সবাইকে ছাড়িয়ে। নীলকে পেয়ে সুরি যেন লড়াই করার নতুন সাহস পেয়েছে। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার মিশন।
এই গল্পে নিকোলা টেসলার ভূমিকা কী? ইতিহাসের সেরা জিনিয়াসদের একজন এই টেসলা কী এমন আবিষ্কার করেছিল, যার জন্য এতবছর পর আবার পুরো বিশ্ব নড়েচড়ে বসেছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, জার্মান... সব পরাশক্তি হামলে পড়েছে কীসের নেশায়? এতগুলো শক্তিকে থামাতে পারবে বাংলাদেশের একজন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল? যারা আশেপাশে আছে, তাদের কি বিশ্বাস করা যায়? স্পাই জগতের খেলাটাই অন্যরকম। এই খেলায় কে কোন পক্ষ, বোঝা মুশকিল। দিন শেষে সবাই সবাইকে চেকমেট করতে ছুটে চলে। এখানে যে শেষ পর্যায় পর্যন্ত টিকে থাকাও দায়...
▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :
পাঠানুভূতি জানানোর আগে নিজের একটি আক্ষেপের কথা জানাই। এত দুর্দান্ত প্লট, অসাধারণ গল্পের পুরোটাই মাঠে মারা গিয়েছে সম্পাদনাজনিত দুর্বলতার কারণে। এই বইটি যদি ভালো কোনো সম্পাদকের হাতে পড়ত, কিংবা সম্পাদনার পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো হয়তো আরো দারুণ কিছু হতে পারত। শুধু প্লট দিয়ে একটি বইয়ের সেরাটা মূল্যায়ন করা যায় না। এর সাথে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় থাকে। লেখনশৈলী থাকে, বর্ণনাশৈলী থাকে। ভাষার ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব বহন করে। এই বইয়ে যার অনেক কিছুতেই অপূর্ণতা খুঁজে পেয়েছি। তবুও মোটের উপর ভালো, এমন দুর্দান্ত স্পাই থ্রিলার নিয়ে মৌলিকভাবে এদেশে কাজ হয়নি বোধহয়। সেক্ষেত্রে আমার গল্পটা বেশ লেগেছে।
একটি ষড়যন্ত্র পুরো একটি দেশকে অকূল পাথারে ফেলে দিতে পারে। নিজেকে সর্বেসর্বা দেখার লোভ, পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতে পারে। "দ্য মাস্টারপ্ল্যান" বইয়ে যেন তা-ই দেখানো হয়েছে। থ্রিলার জাতীয় উপন্যাস যারা পড়েন, এই ধরনের লেখার সাথে বেশ পরিচিত। এক উন্নতমানের বিদেশি থ্রিলার যেমন হয়, যার অনুবাদ পড়লে আনমনেই বাহবা দিই; তেমনই এক বিস্ময় জাগানিয়া বই "দ্য মাস্টারপ্ল্যান"। লেখকের গল্প বলার ধরন, প্লট সাজানোর ধরন বেশ উপভোগ্য ছিল। যেন কোনো বিদেশি থ্রিলারের অনুবাদ পড়ছি।
"দ্য মাস্টারপ্ল্যান" উপন্যাসকে একই সাথে ইতিহাস, মিথ, বিজ্ঞান, থ্রিল, অ্যাকশন সবকিছুর পরিপূর্ণ প্যাকেজ বলা যায়। স্পাই জাতীয় লেখায় একজন সর্বেসর্বা থাকেন, যিনি সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সব জয় করেন। যাকে ভারিক্কি ভাষায় বলা যায়, "ওয়ান ম্যান আর্মি"। এই গল্পেও তেমন একজন ছিল। সেই সাথে বুদ্ধিদীপ্ত শত্রুপক্ষ না থাকলে ঠিক যেন জমে না। সমানে সমানে লড়াই হলে তবেই না খেলা জমে ক্ষীর। এই দিক দিয়ে দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল "দ্য মাস্টারপ্ল্যান"। কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই পরবর্তীতে কী ঘটতে চলেছে। কে কোন পক্ষ, কে মিত্র বা শত্রু তাও বুঝতে শেষ পর্যন্ত পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যেতে হয়। দারুণ গতিশীল বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা বইয়ের আকর্ষণ ধরে রাখতে পেরেছিল। কোনো এক ঘটনা শেষে আয়েশ করে বসার মুহূর্তে আবারও চমক, সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
কোথায় যেন দেখেছিলাম, মাসুদ রানার কোনো এক বইয়ের সাথে বইটির মিল পাওয়া যায়। আমি সেসব আমলে নিই না। পৃথিবী জুড়ে এত এত বই প্রকাশ পেয়েছে, থিম বা প্লট মিল থাকতেই পারে। তবে বইয়ের পুরোটা জুড়ে সিগমা ফোর্স সিরিজের ছাপ ছিল। এছাড়া আক্রমণের দৃশ্যগুলো জনপ্রিয় কিছু সিনেমার সাথে মিল থাকলেও অসম্ভবের কিছু নয়। এই দিক থেকে লেখক তার নিজস্বতা প্রকাশ করতে পারেননি। যারা সিগমা ফোর্স সিরিজ পড়েছেন, খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন বিষয়গুলো। যদিও সিগমা ফোর্স সিরিজের মতো মাথা নষ্ট করে দেওয়ার বিষয় ছিল না। তবে যা ছিল, যথেষ্ট ছিল।
কিছু ভালোর উল্টোদিকে খারাপ থাকে। লেখকের লেখনশৈলী, বর্ণনাশৈলী মুগ্ধ করতে পারেনি। শুরু থেকেই এর তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। যদিও পৃষ্ঠা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা হলেও লেখনশৈলী পরিণত হয়েছিল। লেখকের ভাষার দখলেও দুর্বলতা লক্ষ্য করেছি। সাহিত্য মানে যে শব্দের খেলা, বইয়ে তা অনুপস্থিত ছিল। যে কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য মনের মধ্যে আলোড়ন তুলতে পারেনি। সংলাপ গঠনেও অনেকখানি দুর্বলতা ছিল লেখকের। আরেকটু পরিণত সংলাপ হলে ভালো লাগত। বন্ধুর সাথে কথোপকথনে আমরা অশালীন শব্দ ব্যবহার করি ঠিকই, কিন্তু সাহিত্যে কেন এমনভাবে কথা বলতে হবে? যথাযথ শব্দচয়নের মাধ্যমেও অনেক কিছুই বুঝিয়ে দেওয়া যায়। এগুলো সাহিত্যের মান কমিয়ে দেয় বলেই আমার মনে হয়।
▪️চরিত্রায়ন :
একটি থ্রিলার, বিশেষ করে যেই অংশ নিয়ে পরবর্তীতে সিরিজের পরিকল্পনা আছে; এমন বইয়ে চরিত্র গঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা বুঝছি মূল চরিত্র আসলে কে, তাকে আলাদা করার জন্য অতীতের ব্যাক স্টোরি এখানে প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। "দ্য মাস্টারপ্ল্যান" বইয়ে সেই বিষয়টি খুঁজে পাইনি। ফলে কোনো চরিত্র মনে দাগ কাটতে পারিনি। এমন কোনো চরিত্র লেখক তৈরি করতে পারেননি, যায় জন্য সিরিজের পরের বইটি আগ্রহ নিয়ে পড়ব। এমনকি নীল রিশাদকেও লেখক তেমনভাবে তুলে ধরতে পারেননি।
যে সুরি ইবনে ফয়সালকে নিয়ে এত আলোড়ন, তাকেও পাঠক মনে জায়গা করে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন লেখক। আমার মনে হয়েছে, লেখক চরিত্র গঠন নিয়ে খুব একটা কাজ করতে চাননি। তার মূল আকর্ষণ ছিল প্লট গঠন ও গল্প বলাতেই।
তবে, উপন্যাসে অবস্থিত প্রতিটি চরিত্র ছিল স্বমহিমায় উজ্জ্বল। নিজেদের কাজে পারদর্শী। খলনায়ক, নায়ক, শত্রু, মিত্র.... সবাই যার যার জায়গা থেকে সেরাটা দিয়েই বইটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছে।
▪️বানান, সম্পদনা ও অন্যান্য :
আগেই বলেছি, সম্পাদনার ঘাটতি আমাকে বেশ হতাশ করেছে। সেই সাথে ছিল বানান ভুলের ছড়াছড়ি। মৌখিক ভাষা আর লেখার ভাষার মধ্যে যে পার্থক্য থাকে তা হয়তো লেখক জানেন না। তাই লেখা, ঢোকা-এর পরিবর্তে লেখক লিখেছেন লিখা, ঢুকা। একজন লেখকের বই লেখার ক্ষেত্রে প্রমিত রীতি অনুসরণ করা দায়িত্ব বলেই মনে করি।
এছাড়া সবচেয়ে দৃষ্টিকটু ছিল, কোনো শব্দের সাথে না শব্দটি একসাথে জুড়ে দেওয়া। যেমন করবেননা, খাবেননা। বইয়ের যতগুলো অংশে এমন সব শব্দ এসেছে, সব জায়গায় লেখক এই ভুল করেছেন। 'না' একটি স্বতন্ত্র শব্দ, যা আলাদাভাবে বসে। আর 'নি' কোনো শব্দ নয় বলেই শব্দের সাথে বসে। যেমন, খাবেন না, যাননি, করবেন না, ঘুমাননি ইত্যাদি।
তাছাড়া বর্তমান সময়ের লেখকদের মধ্যে কি/কী এর পার্থক্য ভুল করতে দেখি। এছাড়া কর/করো, হত/হতো ইত্যাদি বানানগুলোর ভুল প্রয়োগ অর্থ বিভ্রাটের সুযোগ করে দেয়। লেখকদের এসকল বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
প্রচ্ছদ মোটামুটি লেগেছে। গল্পের সাথে মানানসই। বাঁধাই টিপিকাল রোদেলা প্রকাশনীর মতোই। শক্ত রাউন্ড বাইন্ডিং। মাঝে দুয়েকটা পৃষ্ঠা খুলে আসছিল। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা ছিল না।
▪️পরিশেষে, দেশীয় প্রেক্ষাপটে "দ্য মাস্টারপ্ল্যান" দারুণ এক স্পাই থ্রিলার। আমি আরও খুশি হতাম যদি এই জাতীয় থ্রিলার দেশের বিচারে লেখা হয়। তবুও লেখকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ দিতে হয়। ভুলত্রুটিগুলো একপাশে সরিয়ে রাখলে অনবদ্য এক কাহিনি রচনা করেছেন লেখক।
▪️বই : দ্য মাস্টারপ্ল্যান ▪️লেখক : মাহমুদুস সোবহান খান ▪️প্রকাশনী : রোদেলা ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২২৪ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা ▪️ ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
গোয়েন্দা গল্পের কথা বলতে গেলেই শুরুতে মনে হয় মাসুদ রানার কথা। আমাদের দেশের বেশি এস্পানিয়জ (ভুল হতে পারে) থ্রিলারের নায়কের মাঝে মাসুদ রানার কিছু গুণ দেখতে পাওয়া যাই। অবশ্য সেটা স্বাভাবিক ই বটে। শৈশবের নায়কের কিছু বৈশিষ্ট্য নিজের লেখনীর নায়কের মধ্যে প্রতিস্থাপিত হবেই,এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কত সাবলীলভাবে সেটা করা গিয়েছে সেটা হল মূখ্য বিষয়। এই ক্ষেত্রে লেখক কে কিছুটা ব্যর্থ বলাই যাই। বেশি চার্মিং দেখাতে গিয়ে অবাস্তবিক করে ফেলেছেন গোয়েন্দা কে। এটা বোধয় উনার প্রথম থ্রিলার ছিল তাই লেখনী তে অপরিপক্কতা বোধয় বেশ ভাল ভাবে চোখে পড়ছিলো। এই বই এর সিক্যুয়েল 'পাপেটমাস্টার' আগেই পড়ে ফেলেছি এবং সেটা বেশ ভাল লেগেছিলো বিধায় এইটা কিনেছিলাম।। কিন্তু আশাহত হলাম কিছুটা। উনার আর ও একটা থ্রিলার আসার কথা এসেছে কিনা জানিনা। কেও জানলে জানাবেন।পড়ে দেখবো।।
গল্প নিয়ে বলতে গেলে গল্পের মেইন যে ট্যুইস্ট সেটাই বড় বেখাপ্পা হয়ে গেছে।। নীলের প্রথম স্বন্দেহ টা বাস্তবিক হলেও , পরের গুলো অবাস্তবিক। একজন অস্ত্র ব্যবসায়ীর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের গোয়েন্দা রা ত চিনবেই!!
যাইহোক , একটু বেশি হিরোয়িক গল্প হয়ে গেছে আর কি :3
মাঝে বেশ ভাল লাগছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষ করে শেষ দিকে মরোক্কোয় কিছুটা একশন সিন রাখতে পারতো নীল রিশাদের :))
নতুন লেখক মাহমুদুস সোবহান খানের প্রথম প্রকাশিত বই ‘দ্য মাস্টারপ্ল্যান’। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৌলিক থ্রিলার হিসেবে গল্পের প্লট ভালো ছিল বলা চলে। লেখনী বেশ ভালো। নীল রিশাদকে অনেকটা মাসুদ রানা সাজানো হয়েছে গল্পে - অনেকটা সুপার হিরো টাইপ - যারা অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে।
তবে যে বিষয়গুলো খারাপ লেগেছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথম বিষয়টি হলো চরিত্রায়ন - যা একদমই হতাশ করেছে আমাকে। কোন চরিত্রই ঠিক মতো ফুটিয়ে তোলা হয়নি। সাধারণত বই পড়তে গেলে চরিত্রগুলো চোখে ভাসে। কিন্তু এই বইয়ের কোন চরিত্রই আমি আমার মনের ক্যানভাসে তুলে আনতে পারিনি। অন্তত নীল রিশাদ এর চরিত্রটি ভালো মতো চিত্রায়ন করা প্রয়োজন ছিল।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো - কিছু অপ্রয়োজনীয় ডায়লগ ছিল। যা রীতিমতো অসস্থিকর এবং বিরক্তিকর। খুব ক্রিটিকাল সিচ্যুয়েশনে নীল বা তার বন্ধুর যে আলাপ দেখানো হয়েছে - কোন কর্নেলের পক্ষে তা সম্ভব নয়। এমনিতেও সামরিক বাহিনীতে যারা অফিসার পদে থাকেন, তারা এ ধরনের বাক্য কাজের সময় একদমই ব্যবহার করেন না। সেখানে এই গল্পে প্রয়োজনীয় মূহুর্তে এইসব হাবিজাবি ডায়লগ গুলো গল্পের মান নষ্ট করেছে বলেই আমার মনে হয়েছে। এই বিষয়গুলো খুবই অপ্রয়োজনীয় ছিল।
তৃতীয় বিষয়- বাক্য বিন্যাস। একি বাক্যে কোন কোন শব্দ দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে। পুরো বইয়ে এই বিষয়টি খুব বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে। অথচ ভালো মতো একবার রিভিউ দিলেই এই ভুলগুলো খুবই সহজে কাটিয়ে ওঠা যেতো। সম্পাদকের এই বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ ছিল।
এছাড়া মাঝে মাঝে গল্প খুব স্লো হয়ে যাচ্ছিল। আর বইয়ের কভারটা একদমই ভালো লাগেনি। পরবর্তীতে আবারো মুদ্রণ করা হয়ে কভারটা নিয়ে একটু ভেবে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
এছাড়া সামগ্রিকভাবে বললে ভালো লেগেছে। আশা করছি লেখক পরবর্তীতে আরো গুছিয়ে লিখবেন। নতুন গল্প হিসেবে বেশ ভালো হয়েছে। লেখকের জন্য শুভ কামনা রইলো।
মাসুদ রানা, আরও ১০ টা স্পাই থ্রিলারের মতোই। তবে মৌলিক হিসেবে প্রশংসনীয়। লেখক বইটা লেখার সময় প্রচুর রিসার্চ করেছে। কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসেবে একবার পড়াই যায়
দুর্দান্ত একটি স্পাই থ্রিলার লিখেছেন লেখক। যদিও বেশ কিছু সিনারিও মিশন ইম্পসিবলের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তবে টুইস্ট তেমন একটা যুতসই লাগেনি। সবশেষে বইটা আপনাকে আনন্দ দিবে
এখন অব্দি পড়া সব মৌলিক স্পাই থ্রিলারগুলোর মধ্যে এটাকে অবশ্যই উপরের কাতারে রাখবো। এস্পিওনাজ আর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের চমৎকার এক্সেকিউশন হয়েছে এখানে। প্লট বেশ ভালো, তবে টেসলা বা মরক্কোর রাজবংশকে নিয়ে হিস্টোরিকাল কন্সপিরেসির কিছু অংশ থাকলে বা ফ্ল্যাশব্যাক যুক্ত করলে আরো ভালো লাগতো। ফ্ল্যাপের লেখা পড়ে এ আশাটা করছিলাম, বইটা খুবই পেসড, শুরু থেকেই অনেক দ্রুত দৌড়েছে। কোথাও একঘেয়েমি আসে নি। সুরি আর নীলের সংলাপগুলো বেশ মজার আর পরিবেশ উপযোগী মনে হয়েছে (একজন শোকসন্তপ্ত মানুষকে চাঙা করার জন্যে হিউমারের ব্যবহারটা উপযুক্ত মনে হয়েছে)। চরিত্রায়ণ আমার কাছে এ বইয়ের স্ট্রঙ্গেস্ট পয়েন্ট লেগেছে। নীলকে ওয়ান ম্যান আর্মি না করে তার পার্টনারদেরকে ইন্ট্রোডিউস করাটাই রিয়ালিস্টিক। এছাড়াও এক পর্যায়ে ইউরি-রাসেল-নীল তিনজনের ত্রৈরথ খুবই উপভোগ করেছি। অনেকটা L -Kira বা Holmes-Moriarty র কথা মনে পড়ে গেছিল। তবে তাদেরকে নিয়ে সিকুয়েলের আভাস না থাকায় হতাশ হয়েছি খানিকটা।
মরক্কোর রাজকন্যা সুরী ক্যামব্রিজের প্রফেসর। ডার্ক ম্যাটার নিয়ে গবেষণা করছে সে। সাফল্যের খুব কাছাকাছিও চলে গেছে। তাদের রাজ পরিবার যুগের পর যুগ ধরে একটা মূর্তি সংরক্ষণ করছে যার ভেতর আধখানা ম্যাপ রয়েছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাপের বাকি অর্ধেক রয়েছে একই রকম আর একটি মূর্তিতে। কিন্তু সেটার খোঁজ কেউ জানে না। ওদিকে নিকোলা টেসলা এক জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণা করে সাফল্যের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সে নথিগুলো ঠিক মত ব্যবহার করতে পারলে বিশ্ব দখল করা যাবে। কিন্তু সেগুলো কোথায় সুরক্ষিত আছে? হঠাৎ করে মরক্কোর রাজপরিবারের সকলকে হত্যা করে ক্ষমতায় বসল এক কর্নেল। ওদিকে প্রিন্সেস সুরীকে অপহরণ করতে তার গবেষণাগারে গেল এক গোষ্ঠী কারা তারা? প্রিন্সেসকে বাচাল নীল রিশাদ নামে ইউন্যাকোর এক বাংলাদেশী এজেন্ট। কিন্তু রাজকন্যার সহকারী বিজ্ঞানী ম্যাক্সবার্নকে কিডন্যাপড করে নিয়ে গেল তারা। সুরীকে নিয়ে কি করবে নীল? কি অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতে? পাঠ প্রতিক্রিয়া- ২০২৮ সালের প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে গল্পটা রচিত। বেশ ভালো ছিল গল্প। শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার মত। তবে একটু বেশী মনোযোগ নিয়ে পড়তে হতে পারে। বেশ কয়েকটি দেশকে ব্যবহার করা হয়েছে বইটিতে। প্রথমদিকে আর শেষের দিকে টুইস্টে ভরপুর ছিল। তবে মাঝে একটু স্লো হয়ে যায়। সব মিলিয়ে বেশ ভালো। নতুন লেখককে শুভকামনা।