...চোর ঢুকেছিল বাড়িতে। বাধা দিতে গিয়ে খুন হলেন গৃহকর্তা। সোজাসাপ্টা কেস, অন্তত পুলিশের তেমনই ধারণা। সত্যিই কি তা-ই?
...একের পর এক নেপোলিয়নের আবক্ষ মূর্তি ভাঙছে কেউ। কেন? কাজটা কি কোনও উন্মাদের, নাকি জটিল কোনও রহস্য রয়েছে এর পিছনে?
...স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখলেন এক খেয়ালি কোটিপতি। ক’দিন পর মারা গেলেন ঠিক একই ভাবে। কীভাবে তা সম্ভব?
...ইংল্যাণ্ডের এক গ্রাম্য মেলায় ঘটে গেল অঘটন। খুন হলো একটি মেয়ে; আরেকজন হলো নিখোঁজ। দুটোই কি এক সূত্রে গাঁথা?
এমনই জটিল ছ’টি রহস্যের সমাধান করার জন্য এ-বইয়ে একজোট হচ্ছেন বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ দুই গোয়েন্দা - শার্লক হোমস ও এরকুল পোয়ারো। চলুন পাঠক, তাঁদের সঙ্গে ঘুরে আসি রহস্য-রোমাঞ্চের এক রুদ্ধশ্বাস জগৎ থেকে।
শেষ যাত্রার প্রায় তিন বছর পর আরেকটা দারুণ সঙ্কলন পেলাম ইসমাইল আরমানের কাছ থেকে। যথারীতি শার্লকের ছোটগল্প তিনটে দারুণ উপভোগ্য ছিল। আর মূল আকর্ষণ, পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, এরকুল পোয়ারো সিরিজের অপয়া অপরাহ্ণ-ও [Dead Man's Folly'র রূপান্তর] ছিল দারুণ উপভোগ্য। আগাথা ক্রিস্টি সবসময়ই বুদ্ধিদীপ্ত, এরকুল পোয়ারো সবসময়ই অসাধারণ, এবং অনুবাদক ইসমাইল আরমান সবসময়ের মতোই দুর্দান্ত।
কাহিনি সংক্ষেপঃ রহস্য সাহিত্যের অমর দুই কাণ্ডারী স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টি সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমস ও এরকুল পোয়ারো'র নাম জানেনা এমন রহস্য কাহিনিপ্রেমী পাঠক পাওয়া যাবেনা বোধহয়। স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের শার্লক হোমস বিষয়ক তিনটা গল্প ও আগাথা ক্রিস্টির এরকুল পোয়ারো বিষয়ক দুটো গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটা। 'অপয়া অপরাহ্ন' নামের এরকুল পোয়ারো বিষয়ক একটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসও স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। আর এই নামেই নামকরণ করা হয়েছে বইটার৷
অ্যাবি গ্রেঞ্জে রাতের আঁধারে নৃশংসভাবে খুন হলেন স্যার ইউস্টেস। ঘটনাস্থলেই একটা চেয়ারের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁর স্ত্রীকে। ডাইনিং রুমের বেশ কিছু দামী জিনিসপত্র গায়েব। স্বাভাবিক ডাকাতির কেস বলেই মনে হচ্ছে, তাইনা? হতোও হয়তোবা। যদি না শার্লক হোমস স্বয়ং জড়িয়ে পড়তো এই কেসটার সাথে। 'নরাধম' গল্পটার বিষয়বস্তু মোটামুটি এই।
'আত্মজা' গল্পে দেখা যায় মিস ভায়োলেট হান্টার নামের এক তরুণী হঠাৎ-ই গোয়েন্দা শার্লক হোমসের কাছে চাকরি বিষয়ক একটা পরামর্শ নিতে আসে। কারণ, গভর্নেসের চাকরির জন্য মেয়েটাকে যে শর্তাবলী দেয়া হয়েছে সেগুলো ঠিক স্বাভাবিক না। হোমস নিজেও বেশ কৌতুহলী হয়ে উঠলো ব্যাপারটাতে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো এক অভাবনীয় সত্য।
রাতের আঁধারে রহস্যময় কোন এক ব্যক্তি হানা দিচ্ছে মানুষের দুয়ারে। নেপোলিয়নের মূর্তি ভাঙ্গচুর করাই যার কাজ। একের পর এক মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা নজর কাড়লো শার্লক হোমসের। শুরু হলো তদন্ত। একটার প্রশ্ন - কেন? 'নেপোলিয়নের মূর্তি' এই গল্পের নাম।
বৃদ্ধ কোটিপতি বেনেডিক্ট ফার্লি ইদানীং অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নটা নিজের মৃত্যু বিষয়ক। দুশ্চিন্তায় পড়ে দুঁদে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোর পরামর্শ চাইলেন তিনি। ব্যাপারটা ঘোলাটে হয়ে উঠলো যখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্বপ্নের মতো করেই মৃত্যু ঘটলো বৃদ্ধের। আগাথা ক্রিস্টির 'স্বপ্নবৃত্তান্ত' নামের এই উপাখ্যানে এবার দেখা গেলো এরকুল পোয়ারোর ফার্লি মৃত্যু রহস্য সমাধানের চেষ্টা।
'অর্ণবে অঘটন' গল্পটা জাহাজ কেন্দ্রিক। একটা জাহাজে চেপে মিশরে যাত্রা করেছেন এরকুল পোয়ারো। হাওয়া বদল আর কি। সবই ঠিক ছিলো, যতোক্ষণ না জাহাজের এক যাত্রী খুন হলেন। অপরাধ একটা, কিন্তু সন্দেহভাজন অনেক। এদিকে পোয়ারোও উপস্থিত। জমে উঠলো রহস্য।
এই বইয়ের নাম রাখা হয়েছে যে 'অপয়া অপরাহ্ন'-এর নামে, সেটা একটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। এর কাহিনিতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী ন্যাস হাউজের বর্তমান কর্ণধার স্যার জর্জ স্টাবস ও তাঁর অল্পবয়সী সুন্দরী স্ত্রী হ্যাটি স্টাবস তাঁদের এস্টেটের মাঝেই একটা গ্রাম্য মেলার আয়োজন করেন। তাঁদের এই কাজে সাহায্য পান বেশ কয়েকজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে। মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকে মার্ডার হান্ট নামের একটা খেলা। যার পরিকল্পনা করার জন্য ডাকা হয়েছে বিখ্যাত রহস্য-রোমাঞ্চ কাহিনি লেখিকা মিসেস অলিভারকে। ঘটনাক্রমে ন্যাস হাউজে তখন দুঁদে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোও অবস্থান করছেন। হঠাৎ করেই সেই গ্রাম্য মেলায় একটা অল্পবয়সী মেয়ে খুন হয়। সেই সাথে নিখোঁজ আরো একজন। স্বয়ং এরকুল পোয়ারোর উপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় সত্যিই সবাই অবাক হয়। শুরু হয় রহস্যের জট খোলার আরেক খেলা। কিন্তু সেখানেও একের পর এক কানাগলি। গলদঘর্ম হতে হয় এরকুল পোয়ারোকেও!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই বলে নিই, পাঁচটা গোয়েন্দা গল্প ও একটা পূর্ণাঙ্গ একটা রহস্য উপন্যাস নিয়ে হাজির হওয়া 'অপয়া অপরাহ্ন' আমার দারুন লেগেছে। রহস্য সাহিত্যের দুই দিকপাল স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টির অন্যতম সেরা কাজগুলোকে মলাটবন্দি করার জন্য ইসমাইল আরমানকে ধন্যবাদ। যদিও শার্লক হোমস বিষয়ক তিনটা গল্পই আমার পূর্বে পড়া ছিলো। কিন্তু আবারো অন্যতম পছন্দের অনুবাদ ইসমাইল আরমানের রূপান্তরে নতুন করে পড়তে মোটেও খারাপ লাগেনি। সেই সাথে আগাথা ক্রিস্টির এরকুল পোয়ারো বিষয়ক গল্প দুটোও ভালো লেগেছে।
এবার আসি উপন্যাস 'অপয়া অপরাহ্ন'-এর কথায়। বইয়ের অর্ধেকের বেশি জায়গা জুড়ে স্থান পাওয়া আগাথা ক্রিস্টির এই রহস্য উপন্যাসটা মূলত 'ডেড ম্যান'স ফলি'-এর সহজ সরল বাংলা রূপান্তর। যেহেতু এটা এরকুল পোয়ারো'র কাহিনি, স্বাভাবিকভাবেই দারুন উপভোগ্য ছিলো একেবারে শুরু থেকেই। এই কাহিনিতে লেখিকা বেশ অনেকগুলো চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। আর তাতেই যেন সন্দেহভাজন বেড়ে গেছে। গ্রাম্য একটা মেলায় হওয়া অস্বাভাবিক খুন ও একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়াটা এমনকি দুঁদে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোকেও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো। উনি নিজেও কোন তল খুঁজে পাচ্ছিলেননা এই কেসের। নিঃসন্দেহে একটা চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন ছিলো। আর এই ব্যাপারটা 'অপয়া অপরাহ্ন' উপভোগে আলাদা একটা মাত্রা যোগ করেছে।
ইসমাইল আরমানের রূপান্তর বরাবরের মতোই সুখপাঠ্য লেগেছে। সহজ-সাবলীল রূপান্তরের কারণে খুব দ্রুত পড়তে পেরেছি এই বইয়ের কাহিনিগুলো। যদিও অনেকদিন পর তাঁর কোন রূপান্তরকর্ম পড়ার সুযোগ হলো। 'অপয়া অপরাহ্ন'-এর প্রচ্ছদটাও চমৎকার লেগেছে। আমার মতে, ২০১৭ সালে সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদ এটারই।
রহস্য ও গোয়েন্দা কাহিনির ভক্তরা, যারা এখনো বইটা পড়েননি চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন
দুদার্ন্ত অনুবাদ। ক্রিস্টির কাছে কোনান ডয়েল একটু মার খেয়ে গেল মনে হচ্ছে । ক্রিস্টির ছোট গল্পগুলো দুর্দান্ত । এতগুলো গল্পের মাঝে একটা উপন্যাস - "অপয়া অপরাহ্ণ" । উপন্যাসের স্টার্টিং ভালো হলেও এন্ডিং পছন্দ হয়নি। সম্ভবত এইরকম টুইস্ট দেখ��ে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি বলেই। অনুবাদ দুর্দান্ত । আরমান ভাই রকস এগেইন। "অপয়া অপরাহ্ণ" আমার কাছে পাবে ৩ । কিন্তু বাকি অন্যান্ যগল্পগুলো দারুন ছিল বিধায় সব মিলিয়ে ৪ তারা । আশা করি আরমান ভাই আমাদের শীঘ্রই এইরকম দারুণ কিছু অনুবাদ উপহার দিবে।
শার্লক হোমসের ব্যপ্তি আরেকটু হলে ভালো হতো, পোয়ারোর কাছে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছেন হোমস সাহেব, এই ব্যালান্সটা ঠিকঠাক হলে আরো জমতো। বইটা বেশ ভালো। পড়ে মজা পাওয়া যাবে। অনুবাদ তুলনাহীন। ইসমাইল আরমান ভাইয়ের আরো ভালো ভালো বই আশা করছি ভবিষ্যতে।
ছোটগল্প বরাবরই অামার অস্বস্তির কারণ। তাই ছোটগল্প থেকে ১২ হাত দূরে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। তবে এ বইয়ের ছোটগল্পগুলো আসলেই ভালো ছিল। সবগুলোই মার্ডার মিস্ট্রি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, নেপোলিয়নের মূর্তি আর অর্ণবে অঘটন।
এবার উপন্যাস- অপয়া অপরাহ্নের পালা। কাহিনি হল, নব্য কোটিপতি ইংল্যান্ডের গ্রাম্য এলাকায় বিশাল এস্টেট কিনেছেন। সেখানে আবার তিনি এক মেলার আয়োজন করেছেন। সেই মেলার পরিকল্পনা করেছেন বিখ্যাত লেখিকা মিসেস অলিভার। তিনিই মসিয়ো পোয়ারোকে ডেকে পাঠিয়েছেন, এখানে ভবিতব্য কোনো অপরাধের গন্ধ পাচ্ছেন বলে। মসিয়ো এলেন, দেখতে দেখতে মেলার দিনও এল। এবং মেলার দিনই খুন, তাও মসিয়ো এরকুল পোয়ারোর উপস্থিতিতে। বড্ড জটিল কেস। খোদ মসিয়োই তিন সপ্তাহ যাবত হাবুডুবু খাচ্ছেন। তবুও সমাধা করতে পারছেন না। সময় লাগল বটে, কিন্তু ঠিকই সেই প্যাচোলো রহস্যের গিঁঠ খুললেন তিনি।
কাহিনিটার সবই ভালো। কিন্তু আগাথা ক্রিস্টি চাইলে কাহিনিটা আরো ছোট করতে পারতেন। পুলিশের তদন্ত টেনে কাহিনির ব্যপ্তি লম্বা করেছেন। যেখানে মসিয়ো এরকুল পোয়ারাই উপস্থিত সেখানে পুলিশ আবার কে! Remember, he is probably the best dictective in the world!
অনুবাদ খুবই সুখপাঠ্য। অনুবাদ নিয়ে টেনশন না করাই ভাল। আর প্রচ্ছদটা ছিল ঝাকানাকা!
শার্লকের তিনটা গল্প, আগাথার দুইটা গল্প আর একটা উপন্যাসের সংকলন। উপন্যাসের নামেই বইয়ের নাম, 'অপয়া অপরাহ্ণ'। বিখ্যাত রহস্য গল্প লেখিকা মিসেস অলিভারকে ডেকে নেওয়া হয় এক গ্রামে। তাকে সেখানকার মেলায় একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে বলা যায়। একটা সাজানো খুন হবে এবং প্রতিযোগীরা সূত্র ধরে সেই খুনের সমাধানের চেষ্টা করবে। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন মিসেস অলিভার। তাই ডেকে আনেন পোয়ারোকে। তারপর সত্যিই খুনের ঘটনা ঘটে, একটা নয়, তিনটা।
স্বীকার করতেই হবে মূল গল্প "অপয়া অপরান্হ" টা বেশ জটিল ছিল। একদম শেষে পোয়ারো রহস্য বর্ননার পূর্ব পর্যন্ত জট খোলা একদম অসম্ভব ছিল। পোয়ারোর বেশ চমৎকার একটা রহস্যভেদের গল্প অপয়া অপরাহ্ন (মূল গল্প'র নাম Dead Man's Folly)।
আগাথা ক্রিস্টির আরেকটি মাস্টারপিস, বইটার অরিজিনাল নাম কেঊ বলতে পারবেন ? সেবার অনুবাদ্গুলার প্রায়ই মূল নাম থেকে ভিন্ন নাম দেয়া হয়, ব্যাপারটা একদমই ভালো লাগে না