আমি একদিন নিখোঁজ হবো –বইয়ের ফ্লাপে লেখা কথা এই বইটি কিসের? বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে লেখা বিচ্ছিন্ন কিংবা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবনার-অনুভুতির প্রকাশে বাঙ্ময় হয়ে ওঠা এই বইয়ের পঙক্তিগুলো লেখকের কাছে অকবিতা। কিন্তু পাঠকের কাছে কী? অকবিতা, না কবিতা? “আমাকে হারাতে দিলে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যাবে তোমার শহর…” কিংবা “শোনো, কাজল চোখের মেয়ে, আমার দিবস কাটে, বিবশ হয়ে, তোমার চোখে চেয়ে।” কিংবা “আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে, সড়ক বাতির আবছা আলোয়, খুঁজবে না কেউ এই শহরে। ভাববে না কেউ, কাঁপবে না কেউ, কাঁদবে না কেউ একলা একা, এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা।” প্রিয় পাঠক, সাদত হোসাইন-এর তুমুল জনপ্রিয় এমন সব পঙক্তি নিয়েই এই বই। আমি একদিন নিখোঁজ হবো।
আমি একদিন নিখোঁজ হবো –বইয়ের ভূমিকা এই বইটি কিসের? বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে লেখা বিচ্ছিন্ন কিংবা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবনার-অনুভূতির প্রকাশে বাঙ্ময় হয়ে ওঠা এই বইয়ের পঙক্তিগুলো অনেক পাঠকের কাছেই কবিতা। কিন্তু আমার কাছে কী? আমি এগুলোকে বলি অকবিতা । সাদাত হোসাইন-এর অকবিতা। কারণ, আমার ধারণা, আমি কবিতা বুঝিনা। বুঝি না মানে এই নয় যে কবিতা আমার ভালো লাগে না। কবিতা আমার অসম্ভব ভালো লাগার বিষয়। কবিতা আমার কাছে গভীরতম বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনা, বিমূর্ত অর্থের ঝংকার কিংবা ‘প্রকৃত’ অর্থ খুঁজতে গিয়ে অথৈ জলে থই না পেয়ে দিশেহারা বোধ করবার কোনো বিষয় নয় । কবিতা আমার কাছে প্রবল দহনে টুপ করে পড়া শীতল প্রশান্তির বৃষ্টি ফোটার মতন। কী প্রগাঢ় মমতায়, স্পর্শে সে বুকের ভেতর কেমন তিরতির করে ছুঁয়ে দেয়! আহা জীবন, আহা কবিতা! আমার ধারণা পাঠক হিসেবেও আমি খুবই সাধারণ। আমি পড়তে ভালোবাসি, তবে সেই পড়াটাও আমার জন্য সহজ হতে হয় । সহজ মানুষের মতন, সহজ জীবনের মতন, জলের মতন। যাকে হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেয়া যায়, মন বাড়ালেই কাছে পাওয়া যায়, ডুবে যাওয়া যায়। কিন্তু কবিতার নানান ব্যাকরণ, নিয়ম, প্রকরণ একজন অতি সহজ সাধারণ পাঠক হিসেবে আমাকে কবিতার ওই সহজিয়া,স্পর্শময়তার ভাবটাকে কেমন যেন দূরের করে ফেলে। ফলে আমি কবিতা পেড়তে গেলেও কবিতার দুর্বোধ্য হয়ে উঠাটাকে নিতে পারি না। এ এক সহজ পাঠকের সরল স্বীকারোক্তি। আর লেখার ক্ষেত্রে? লেখার ক্ষেত্রে কবিতা লিখতে গেলে আমার নিজেকে বড় অসহায় লাগে। সংশয় লাগে, মনে, হয় কবিতা লেখা কী এতই সহজ? নিশ্চয়ই নয়। এ বরং এক সাধানার, গভীরতম উপলদ্ধির, নানান নিয়ম-কানুনের ব্যাপার । কিন্তু আমি যা লিখি, তা তো ‘সহজ’! হয়তো অতি সহজই । এ কেবল আমর অনুভূতির ছন্দোবদ্ধ প্রকাশ। আর এই ছন্দোবদ্ধ প্রকাশের বই হয়ে ওঠার পেছনে বিষেশ কৃতজ্ঞতা বন্ধু, প্রিয় মানুষ নিশাত জাহানকে। আচ্ছা, এই সহজ , সাধারণ, ছন্দোবদ্ধ প্রকাশকে কী কবিতা বলা য়ায়? এ নিয়ে আমি বেশ দ্বিধায়ও ছিলাম, হয়তো এখনো আছি। আর তাই, আমি আমর এমন লেখাগুলোকে কবিতা বলতে সাহস পাই না, আমি বলি অকবিতা! তাই এটা হয়তো একটি অকবিতার বই-ই। সাদাত হোসাইন-এর অকবিতা। অকবিতা বলার আগে, এতকিছু বলার কারণ হয়তো পাঠক। আসলে লেখার মূল বিচারক শেষ অবধি ওই পাঠকই। পাঠক যদি বলেন, এ কবিতা, তবে তা কবিতা-ই, আর পাঠক যদি বলেন, এ অকবিতা, তবে অকবিতাই…. অথচ সেই পাঠককে দূরে রেখে আমরা খুঁজে ফিরি কত শত কাছের ভুলকে পাঠক রয়ে যায় দূরেই, বহুদূরে “যার কাছে যাই , ভুল করে যাই, ঠিক পড়ে রয় দূরে, ভাঙা মাস্ত্তলে, ছেঁড়া পাল তুলে, অচেনা সমুদ্দেরে।”
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
#যিনি_লিখেছেন, তাঁর সম্পর্কে তথ্যঃ সাদাত হোসাইন , ১৯৮৪ সালের ২১ মে , মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন । পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । পাঠক মহলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এসেছেন তিনি তাঁর বৃহৎ কলেবরের উপন্যাস আরশিনগর , অন্দরমহল , মানবজনম – ইত্যাদির মাধ্যমে । বানিয়েছেন ‘বোধ’ ও ‘দ্যা শ্যুজ’ বিশ্বসমাদৃত শর্টফিল্ম । আর যে ব্যক্তি ফিল্ম বানায় , সে ব্যক্তি ফিল্ম দেখতেও পছন্দ করে , এটাই স্বাভাবিক । লেখকের সাথে শ্যমলির সিনেমা হলে এক সন্ধ্যায় দেখা হয়েছিল (মানে আমি তাঁকে দেখেছিলাম , তিনি আমাকে দেখেননি :p ) , তাই এই কথাটা বললাম । আর তথ্য হয়তো দরকার নেই সাদাত ভাইয়ার ব্যাপারে , তাইনা ?
#অল্প_অল্প_বইটির_গল্পঃ শুরুতেই জানিয়ে রাখা দরকার , বইয়ের প্রথমে , মানে ভুমিকায় লেখক বলেছেন – বইটি তাঁর অকবিতার বই । শুনতে অদ্ভুত লাগে, না ? তবে লেখক যাই বলুক , তাঁর বন্ধু তালিকায় বা ফলোয়ার তালিকায় যারা আছেন , তারা জানেন , প্রায় সময়ই লেখকের টাইমলাইনে দেখা যায় অনেক পঙক্তিমালা , ছোট ছোট কবিতা ... আর ‘আমি একদিন নিখোঁজ হবো’ বইটি সেই পঙক্তিমালা ও কবিতাগুলোরই সংকলন বলা চলে । ‘নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি’ , ‘তোমাকে’ ও ‘আয়না’ – এই তিন নামের তিনটি অধ্যায়ে আবদ্ধ পুরো বই । ভিতরের একটা কবিতারও শিরোনাম নেই , তবে দুই লাইন , চার লাইন , আট চৌদ্দ বিশ লাইনের কবিতাগুলো পড়ার সময়ে সেই বিষয়টি চোখে পড়বেনা খুব সম্ভবত । কোনও বইয়ের রিভিউ লেখা আসলে অনেক কঠিন কাজ , আমি বুঝতে পারছি ‘এটা আমার ভাল লেগেছে’ , ‘এটা আমার ভালো লাগেনি’ , তবে সেটা রিভিউ আকারে বোঝানো বা লেখা অনেক কঠিন । তাই বইটির ব্যাপারে আর কিছু না বলে পরবর্তী অংশে চলে যাচ্ছি ।
#অভিব্যাক্তি_তথা_পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ আগেই বলে রাখি , আমি কবিতার বই মোটামুটি পড়িনা বললেই চলে । সেই খানে ৯৫ পাতার পুরো একটা কবিতার বই পড়ে সেটার রিভিউ লিখতে বসেছি , তার পিছে নিশ্চয়ই কারণ আছে । আর প্রথম কারণ হল, জগজিৎ সিং । মানে তিনি পরোক্ষ কারণ । জগজিৎ সিং এর একটা গান আছে , 'তুঝসে মিলনে কি সাজা দেঙ্গে তেরে শেহের কি লোগ' , (তোমার সাথে দেখা করার শাস্তি দেবে তোমার শহরের লোক) গানটা আমার খুবই পছন্দের । সাদাত ভাইয়ার ফলোয়ার লিস্টে থাকার সুবাদে মাঝখানে একদিন একটা লেখা চোখে পড়লো – আমাকে হারাতে দিলে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যাবে তোমার শহর । লাইনটা অসম্ভব ভাল লেগেছিল , মিল মনে হয়েছিল ঐ গানটার সাথে । পরে জানতে পারি এরকম আরও অনেক ছোট ছোট কবিতা নিয়ে একটি বই আসছে । সোজা কথা , আমি কবিতা বুঝিনা , মানে সবাই বলেনা ? ঐ যে , কবিতার মধ্যে অনেক কথা , ভাব অন্তর্নিহিত থাকে ? আমি ঐ অন্তর্নিহিত ভাবটা ঠিক ধরতে পারিনা , তাই কবিতার বই সেরকম পড়া হয়না , তবে ছোট একটা লাইন বলি ,
‘আমার জন্যও খানিকটা কেউ কাঁদুক , জানুক আমি ভীষণ ব্যর্থ মানুষ , তবুও আমায় অমন প্রেমে বাঁধুক’
–এই লাইনটা বুঝতে কিন্তু অনেক বড় বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই , মাত্র তিনটা লাইনেই অন্তত বুঝতে পেরেছি লেখক / কবি এখানে কি বোঝাতে চেয়েছেন । এরকম অনেক গুলো ছোট মাঝারি সাইজের কবিতার সমগ্র বলা চলে । ভাল লেগেছে বেশীরভাগ কবিতাই , তাই মনের মধ্যে নতুন একটা চিন্তার উদ্রেক হচ্ছে যে , কবিতার স্বাদ যদি এরকম হয় , তবে এতোদিন কবিতার বই ধরিনি কেন । আর যদি প্রশ্ন করা হয় কোন কবিতাটা একেবারে মনের ভিতরে গেঁথে গেছে , সেক্ষত্রে হয়তো বলবো , বইটার একবারে শেষের দিকে বাবাকে নিয়ে লেখা একটা কবিতা আছে ,
‘বুক পকেটে লুকিয়ে রেখে হিসেব কষা, কাটাকুটির খাতা জানতো , খাতার নিচেই বুকের ভেতর এই মানুষটা, একটা বাবা আদ্যোপান্ত’
একটু বেশী ভাল লেগেছে কবিতাটা । তাই , যারা পড়েননি , বইটি পড়ে দেখতে পারেন । আর যারা কবিতার বই পড়েননা , তারা অবশ্যই একবার হলেও পড়ে দেখুন ।
#কিছু_কিছু_প্রিয়_লাইনঃ ‘একলা লাগে যখন তুমি রাতের মতন চুপ , যখন তুমি অন্য মানুষ , অচেনা নিশ্চুপ’
লেখক, ঔপন্যাসিক , কবি , যাই বলি না কেন, প্রিয় সাদাত হোসাইন এগিয়ে যাক আরও সামনে , আর ভবিষ্যতে আমাদের উপহার দিক এরকম আরও অনেক সৃষ্টি । শুভকামনা তাঁর জন্য ।
ধুর, কবিতা পড়তে ভাল্লাগে না, কিছু বুঝি না! কিসব অদ্ভুত ভাষা ! মাথায় এতকিছু ঘুরলেও বইটা কিন্তু পরা হয়েছে। খুব সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় লেখা কবিতা। উদ্ভট গম্ভীর ভাষার লেশমাত্র নাই।সহজেই বোধগম্য হওয়ায় পাঠক খুব তাড়াতাড়িই কবিতার সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারবে। কিছু মাস্টারপিছ পঙক্তি , "তোমার চোখ পড়তে জানি, শোনো, কাজল চোখের জল ছলছল, কন্যা অভিমানী" "তোমার ছায়ার তলে হেটে যাব ভেবে, জীবনের কত বট ফেলেছি কেটে, অথচ নিদাঘ রোদ ভীষণ দহণে, তুমিহীন মরুপথ একা গেছি হেটে" "তোমাকে চাওয়ার অজস্র তেষ্টার দিন শেষে তোমাকে পেয়ে যেতেই মনে হলো, আমি তোমার চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলাম, তোমাকে পেতে চাওয়ার ওই তেষ্টাটুকুকেই" "তোমার চোখ পড়তে জানি, শোনো, কাজল চোখের জল ছলছল, কন্যা অভিমানী"
লেখক তার ফেসবুকে কবিতার কিছু অংশ পোস্ট করতেন। সহজ ভাষায় কিন্তু মন ছুয়ে যাওয়ার মত। প্রি-অর্ডার করি অটোগ্রাফসহ বইটি পাওয়ার জন্য। কিন্তু বইয়ের অন্যান্য কবিতাগুলো পড়ে হতাশ হয়েছি৷ ৩ স্টার দিলাম কারণ কয়েকটি কবিতা বেশ ভাল ছিল আর বইটি প্রিয় একজনকে উপহার হিসেবে দেব বলে কিনেছিলাম।
এটাকে ঠিক রিভিউ বলা যায় না। আসলে কবিতার বইয়ের রিভিউ কীভাবে লিখতে হয় সেটা আমি ঠিক জানি না। তাই এটাকে রিভিউ মনে না করে আমার ভাললাগা বা মন্দলাগা ভাবলেই খুশী হব। আমি একদিন নিখোঁজ হব একটা কবিতার বই( লেখকের ভাষায় অকবিতা)। কবিতা তেমন একটা পড়ি না। সত্যি বলতে কবিতা আসলে বুঝি না আমি। তবে মাঝে মাঝে যে একদম পড়া হয় না তা না। গদ্য কবিতার থেকে ছন্দবদ্ধ কবিতা বা ছড়াই আমার বেশী ভালো লাগে। এখনো মনে আছে ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের কবিতাগুলো পড়ে বেশ মজা পেতাম আর হাসতাম। আমি একদিন নিখোঁজ হবো বইটার প্রায় সকল কবিতাই ছন্দবদ্ধ। এবং পড়ার সময় বেশ ভাল�� লাগা কাজ করেছে। বিশেষ করে দুতিন লাইনের কবিতাগুলো বেশ দারুণ ছিল। শোনো কাজল চোখের মেয়ে বা ওহে জল ছলছল কাজল চোখের কন্যা সর্বনাশী ,আমি তোমায় ভালোবাসি । কবিতাগুলো যখন পড়েছি তখন ভেতরে বেশ ধাক্কা লেগেছে। অবশ্য কবিতাগুলো এত ভালো লাগার একটা কারণও আছে। সেটা উহ্য থাক।
আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে, সড়কবাতির আবছা আলোয়, খুঁজবে না কেউ এই শহরে। ভাববে না কেউ, কাঁপবে না কেউ, কাঁদবে না কেউ একলা একা, এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা।
~ সাদাত হোসাইন
ফেসবুকে সাদাত হোসাইনের ছোট ছোট কবিতা পড়তাম, এর মাধ্যমেই আমি তার নাম চিনি। পরে দেখি উনি উপন্যাসও লেখেন। এই কবিতার বইটাও ভাল হয়েছে, ছোট ছোট সহজ ভাষায় লেখা কবিতা পড়তে আমার বেশ ভাল লাগে।