মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
বাংলা সিনেমা বা সিরিয়াল জগতের পঙ্কিল বাস্তবতাকে উপজীব্য করে গল্প-উপন্যাস লেখা হয় আকছার। সত্যি বলতে, খুব একটা পড়ে আরাম পাই না এসব। এত টক্সিক, এত বিশ্রী কাণ্ডকারখানার দেখা মেলে, যে গল্প পড়ার আনন্দ বিষিয়ে ওঠে দ্রুত। 'অন্তবিহীন'-এও লেখক অভীক দত্ত এই পৃথিবীর শরণাপন্ন হয়েছেন। বাংলা মেগা-সিরিয়াল ইন্ডাস্ট্রির পর্দার পেছনে একটা আস্ত আতশ-কাচ ধরেছেন একেবারে।
গতিময় স্মার্ট লেখনী, রগরগে ট্রিটমেন্ট ও চড়া-দাগের ন্যারেটিভে, গ্রাফিক বর্ণনা ও র-ভাষার প্রয়োগ করেছেন লেখক। বলতে বাধা নেই, উপন্যাসটি অস্বস্তিকর। গা-গুলিয়ে ওঠে, অচিরেই। দিনশেষে, ভদ্রবেশী শয়তানেরা, যেকোনো ভূত কি পিশাচের কল্পিত অস্তিত্বের থেকে শতগুণ ভয় উদ্রেককারী।
এইখানে একটা (সংশয়াতীত) ট্রিগার-ওয়ার্নিং প্রযোজ্য না করলেই নয়!
তাও, উপন্যাসটি আমার একেবারে খারাপ লাগেনি। তাই তিনটে তারা। শুরুতে লেখকের লেখনীর সাথে খাপ খাওয়াতে অসুবিধে হচ্ছিল। পুরো উপন্যাস জুড়েই, অমুক বললো ও তমুক বললো-র ছড়াছড়ি। যা পড়তে গিয়ে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তবে, এটুকু উপেক্ষা করতে পারলে, এক সমুদ্র কর্দমার বুকে পদ্মফুলের হদিস পেলেও পেতে পারেন।
লেখকের ফ্যান হয়ে গেলাম বলবো না। তবে যেভাবে, এতগুলো চরিত্র ও প্লট-পয়েন্ট নিয়ে ক্রমাগত জাগলিংয়ের খেলা দেখালেন, তা প্রশংসনীয়। উপন্যাসটি স্রেফ থ্রিলার, প্রেম বা সামাজিকের আওতায় আনা যায় না। বলা যায়, একটি ক্রস-জর কাহিনী। যা হয়তো বা অবশ্যপাঠ্য নয়। তবে এক কি দুই সিটিংয়ে পড়ে ফেলার মতন, একটি ভীষণ দ্রুতগামী লেখা।
এই যে শেষ পাতা উল্টেও, মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো। এত খারাপ, এত বেঠিকের ভিড়েও, সহানুভূতির সহজাত বীজ বুনলেন লেখক, এখানেই বুঝি সাহিত্যিকের সার্থকতা। মন্দ কি? ভবিষ্যতে ওনার আরও কিছু লেখা পড়ে দেখবো নাহয়!
অভীক দত্তের এই লেখাটিকে ঠিক কোন গোত্রভুক্ত করা উচিত তা বুঝে ফেলার আগেই লেখাটা শেষ হয়ে গেল! সেটা কি ভালো হল? কী জানি! তবে বইটা পড়ে হেব্বি লাগল। এর বিষয়বস্তু হল বাংলা সিরিয়াল জগতের প্রযোজক একটি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে টানাপোড়েন, তার সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রেম, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, ভাঙন, মৃত্যু, সন্দেহ। অসম্ভব স্মার্ট, গতিময় গদ্য আর চরিত্রচিত্রণের মধ্য দিয়ে এই গল্প অনেক আলো আর অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের। কিন্তু তার শেষে কী থেকে যায়? বইটার নামের সঙ্গে গল্পটা মেলাতে গিয়ে প্রথমে একটা বহু পুরোনো গানই মনে পড়ছিল। যেহেতু অভীক দত্তের লেখায় একটা ভারি সুন্দর রোমান্স থাকেই, তাই গানটাও স্বাভাবিকভাবেই এসেছিল~ "অন্তবিহীন, কাটে না যেন আর বিরহেরই দিন!" কিন্তু একটু-একটু করে এই উপন্যাসের অন্ধকারের মধ্যে ডুবে যাওয়া আর সেখান থেকে চরিত্রগুলোকে সর্বাঙ্গে ভাঙা কাচের গুঁড়ো মেখে ক্ষতবিক্ষত হয়েও শেপ নিতে দেখে বুঝলাম, অভীক অনেক কম পুরোনো একটা গানের কথা ভেবে বইয়ের নামটা দিয়েছিলেন। "অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন!" সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন। মনে থাকার, মনে রাখার মতো স্মার্ট লেখা এটা।
নিজের টিভি হাউস দাঁড় করাতে গিয়ে বাণী মিত্র নিজের পরিবারের সঙ্গে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, আর সেখান থেকেই তার ছোট ছেলের জীবনে সমস্যার সূত্রপাত। মাকে না পাওয়ার যন্ত্রনা, অনেক ছোট বয়সে লাইম লাইটে এসে পড়ায় বুবকা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পরে। ঘটনা ক্রমে বুবকা নিজের বয়সের থেকে ১৬ বছরের বড় বৈভবীর প্রেমে পড়ে , যেই বৈভবীর, যার কিনা সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার বাণী মিত্র নষ্ট করে দিয়েছিল। তাদের সম্পর্ক বাণী মিত্র মানতে না পারায় নিজের পরিবারের সঙ্গে টানা পড়ে শুরু হয় বুবকার । আর এর মধ্য সব থেকে কাছের মানুষকে হারায় বুবকা, আর এখন থেকে শুরু হয় বুবকর জীবনের আরেক অধ্যায় ।
অন্য টিভিহাউস গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রেম, ঈর্ষা, বিদ্বেষ, ভাঙন, মৃত্যু, সন্দেহ। অসম্ভব স্মার্ট, গতিময় গদ্য আর চরিত্রচিত্রণের মধ্য দিয়ে এই গল্প অনেক আলো আর অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড় করায় আমাদের।