The Book "Hira Manik Jole" is written by Bibhutibhushan Bandopadhyay. Bibhutibhushan Bandopadhyay is a popular Indian writer, novelist who is one of leading writer of bengali language. Bibhutibhushan Bandopadhyay born in 12th September, 1894 and died in 1st November, 1950. He is familiar for his autobiography novel "Pather Pachali" which novel is maked film by Satyajit Ray. Pather Pachali, Dompoti, Dui Bari, Chander Pahar, Bipiner Songser etc are his popular books.
Bibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
প্রাচীন হিন্দুসভ্যতার ধ্বংসস্তূপ বুকে নিয়ে পড়ে থাকা এক জনহীন দ্বীপে যাত্রা।সুদূর সমুদ্রপারে ভারতীয় উপনিবেশে চম্পারাজ্যের বিপুল রত্নভাণ্ডার ও হিন্দুসভ্যতার নিদর্শন স্বরুপ দেবদেবীদের মূর্তির আকর্ষণ টেনে বের করে সুশীল এবং সনৎকে। তারপর বিপদসংকুল সমুদ্র অভিযান, সুশীলের বিপুল রত্নভাণ্ডার নিয়ে দেশে ফেরা।পুরো বই জুড়ে বিচিত্র রোমাঞ্চকর অভিযানভিত্তিক ঘটনা।
কল্পনাও করতে পারেনি এত আগে বিভূতিভূষণ এমন সুন্দর অভিযানের লিখেছিলেন। আমরা ভারতীয়রা ও যে একটা সময় সমুদ্র পেরিয়ে ভিনদেশ জয় করেছিলাম তা জানা ছিলোনা।বিভূতিবাবুর কল্পনাশক্তি অপূর্ব।প্রাক-কৈশোরকালেই কেনো এই চমৎকার বইটি পড়তে পারিনি তা নিয়ে একটা আফসোস থাকবেই।
ভারত! কত মিষ্টিনাম, কী প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্ভার! তাদের পূর্বপুরুষ বাহুবলে কম্পাসব্যারোমিটারহীন যুগে সপ্তসমূদ্র পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপময় ভারতে এসে হিন্দুধর্মের নিদর্শন রেখে গেছেন। অথচ পরবর্তী যুগে স্মৃতিশাস্ত্রের বুলি আউড়ে যারা সমুদ্রযাত্রা নিষেধ করেছিল তারা কি আমাদেরই উত্তরসূরি! সে যাই হোক, অ্যাডভেঞ্চার মানেই সবার প্রথমে মনে আসে 'চাঁদের পাহাড়ের' কথা, শঙ্করের কথা। এবারের অ্যাডভেঞ্চার মালয়, সুমাত্রা, বোর্নিওর নিরক্ষীয় বৃষ্টিবনে ।
এ কাহিনীর নায়ক সুশীল। ম্যাট্রিক পাশ দিয়ে দিব্যি পায়ের উপর পা তুলে তার চলছিল। কিন্তু ঐ যে! যার রক্তে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা তাকে পায় কে! পরিচয় হলো জামাতুল্লার সাথে। সুশীল আর তার খুড়তুতো ভাই সনৎ জামাতুল্লার সাথে বেরিয়ে পড়ল গভীর বনে লুকিয়ে থাকা পুরোনো এক সভ্যতার ধন সম্পদের খোঁজে। ধন সম্পদের চেয়েও সুপ্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ধ্বংস্পতূপ খুজে বার করে অজানাকে জানার আগ্রহই তাদের প্রবল। আর তারপর?
তারপর প্রতি পদে পদে মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে তারা কীভাবে সেখানে পৌঁছোয়, শত শত বছরের লুকানো ধনসম্পত্তি খুঁজে পায় কি না তা আর বলব না। জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে উপন্যাসখানাটি । বোনাস হিসেবে জানা যাবে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নিরক্ষীয় বৃষ্টিবনকে। জানা যাবে ভারতীয় হিন্দু রাজাদের বিস্মৃতপ্রায় এক অতীতকে, বিস্মৃতির আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া এক ভারতীয় ঐতিহ্যকে।
শুধুমাত্র বিভূতিবাবুর ক্ষুরধার লেখনীর জন্য উপন্যাসটি ভালো লেগেছে। কিন্তু মনকে আশানুরূপ তৃপ্তি দিতে পারে নি। আর শেষ নিয়ে? একগুচ্ছ অসন্তোষ।
কত রহস্য, কত রোমাঞ্চ। আস্তে আস্তে গল্প এগোচ্ছিলো আর আমি সুশীল, সনত আর জামাতুল্লাহর সাথে সেই সুলু সী এর এডভেঞ্চারে ডুবে যাচ্ছিলাম। বিভূতিভূষণের লেখনী আর কল্পনাশক্তি কি অসাধারণ। এমন একটা প্লটের রোমাঞ্চকর উপন্যাস পড়লাম। সেরা। শুধু শেষটা আরেকটু বিস্তৃত, আরেকটু অন্যরকম হলে ৫তারাই দিতাম।
চাঁদের পাহাড়-এর চেয়েও আমার প্রিয় হীরা মানিক জ্বলে। এই বই দিয়ে বিভূতিভূষণের কিশোর সাহিত্যের সাথে আমার পরিচয় ও ভালো লাগার শুরু। কতবার পড়েছি মনে নেই, শেষ কবে পড়েছি মনে নেই, আরও কতোবার পড়বো তাও জানা নেই।
চাদেঁর পাহাড় না হীরে মানিক জ্বলে? অবশ্যই হীরে মানিক জ্বলে এডভেঞ্চারের হিসাবে এগিয়ে থাকবে। অবাক হয়ে ভাবলাম, এত ভূগোল, জ্যামিতি সেরেও বিভূতিভূষণ কিভাবে এমন একটা হিস্ট্রিকাল এডভেঞ্চার কাম ট্রেজারহান্ট লিখলেন কিভাবে!
শরৎচন্দ্র বা রবীন্দ্রনাথ যদি দৃশ্যমান বস্তুর সবচেয়ে বড় সাহিত্যশিল্পী হন, বিভূতি নি:সন্দেহে অদেখা বস্তুর সবচেয়ে বড় সাহিত্যশিল্পী৷ কোনদিন দেশের বাইরে না গিয়েও তিনি এমন সব বর্ণণা লিখে গেছেন যে তা যেন চোখে ভাসে!
এংকরভাট বা খামের সভ্যতা তখনো নব্য আবিস্কৃত(১৮৮০ সালের দিকে)। কিন্তু বিভূতি তখনই ঠিক একই এলাকায় একটা হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার ফেঁদে ফেলেছেন! এটা আমি যতবার ভাবি, আমার মাথা চক্কর দেয়। আর তার সেই দেবদুর্লভ প্রকাশক্ষমতা!
একটানে কৈশোরে নিয়ে গেলো বইটা, কি দারুণ অ্যাডভেঞ্চার! চীনা জাহাজে করে সমুদ্র পাড়ি, দুর্ধর্ষ জলদস্যু, গুপ্তঘাতক, অজানা দ্বীপ, প্রাচীন দুর্গ, বাঘ-অজগর-কুমিরের ভয়, গুপ্তধন কি নেই বইটাতে! লেখকের কল্পনাশক্তি আগে অনেকবার মুগ্ধ করেছে, আবারো করলো।
হ্যাগ্যার্ড বাংলায় জন্মে নি, কিন্তু বিভূতি-ভূষণ জন্মেছিলেন। বইটা পড়ার সময় ক্যালচারাল দিক গুলো স্কিপ করে স্টোরি লাইন যখন মনের ভেতর গেথে নিচ্ছিলাম এই একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছিল।
ভাগ্য! ভাগ্য খুবই অদ্ভুতুড়ে। "বাবু মেচেস আছে?মেচেস?" এই একটা ধ্বনি সুশীলের ভাগ্যটাকেই যেন পালটে দিয়েছিল। তার থেকে দু আনা পয়সা চেয়ে নিয়ে নিজের পেটের জোগান দেওয়া জামাতুল্লাহ যে তার ভাগ্য এভাবে পালটে দেবে সে কি কখনো ভেবেছিল!
সুশীলের গুপ্তধনের প্রতি লোভ ছিল না। সে চাইতো তার পূর্ব পুরুষদের মত না হতে। তাই তো জামাতুল্লাহ এর কথায় বেড়িয়ে পড়লো দেশ থেকে।সাথে নিলো মামাতো ভাই সনদ কে। জীবন হাতে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা গিয়ে পৌছায় সেই গুপ্ত নগরীতে।সুশীল, সনদ,জামাতুল্লাহ, ইয়ার হোসাইন আর তার লোকজন। কিন্তু তারা কোনো রত্নভাণ্ডার এর দেখা পায় না অনেক খুজেও। অনেক দিন কেটে যায়। তারপর একদিন এক অন্ধকার সুরঙ্গ আবিষ্কার করে সুশীল ও সনদ।
সেখানে কয়েকদিনের চেষ্টার পর তারা খুজে পায় একটা কক্ষ যেখানে রত্নভান্ডার ছিল।হোসাইনকে তারা কিছু জানায় না। সকল কাজই তারা লুকিয়ে করে। রত্নভান্ডার থেকে তারা থলে ভরে পাথর আর স্বর্ণ নেয়। কিন্তু ভাগ্যের কি অদ্ভুত পরিহাস। তারা সকল রত্ন তাদের সাথে আনতে পারে নি। আর তার সাথে ফেরাতে পারে নি সনদ কে। হুট করে রত্নভাণ্ডার কক্ষে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। জামাতুল্লাহ সুশীলকে সাথে নিয়ে ফিরতে পারলেও সনদ কে খুজে পায় না।
ফিরে এসে হোসাইন কে জানায় সনদ কোনো কুয়োতে পড়ে মারা গেছে। তারা ফিরে আসে স্বদেশে। সেখানে ৭০ হাজার টাকায় তারা সে রত্ন বিক্রি করে। কিন্তু তারা কাউকে বঞ্চিত করে না। হুসাইনকে ১০হাজার টাকা পাঠায়। ২০ হাজার টাকা পাঠায় ওই বিধবা মহিলাকে যার স্বামীর থেকে এই রত্নভান্ডার এর কথা জামাতুল্লাহ জানতে পেরেছিল। আর বাকী টাকাটা তিন ভাগ করা হয় জামাতুল্লাহ, সুশীল আর সনদের মা এর মধ্যে।
এ উপন্যাস এ সব থেকে রহস্য জনক মৃত্যু ফাদ ছিল রত্নভান্ডার কক্ষটি। কক্ষের মেকানিজম এমন ছিল যে সেখানে দিনে দু বার জোয়ারের সময় পানি ঢোকে এবং পরক্ষণে ভাটায় সে পানি নিচে নেমে যায়। লেখক এখানে আরেকটা রত্নভান্ডার এর ইংগিত দিয়েছে না ঐ কক্ষের নিচেই ছিল। ব্যাপার খানা হলো এই। যিনি এই রত্নভান্ডার বানিয়েছিলেন তিনি ছাড়া যেন আর কেউ এখান থেকে রত্ন বের করতে না পারে সেজন্য এভাবে বানানো। একটা নির্দিষ্ট সময়ে এখানে এসে জোয়ার আসার পূর্বেই তারা কাজ সেরে বেরিয়ে যেত। এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ আসলে বেচে ফিরে যেতে পারতো না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বাংলা ভাষায় এডভেঞ্চার নিয়ে যত লেখা হয়েছে, তার মধ্যে এই উপন্যাসটি তার দুর্দান্ত পটভূমি-নির্মাণ, চরিত্র-চিত্রণ এবং সাসপেন্স সত্বেও বিশিষ্ট হয়ে আছে এর "শেষ হয়ে হইল না শেষ" পরিণতির জন্যে| উপন্যাসটি যখন আমি প্রথম পড়েছিলাম তখন এই কারণেই এটিকে আমি শুধু বিয়োগান্ত নয়, গভীরভাবে অতৃপ্তি-দায়ক একটি লেখা বলেই মনে করেছিলাম| বছর বিশেক এবং হাজার খানেক বই পেরিয়ে আসার পরে, আমার মুল্যায়নটা বদলেছে| এখন আমি মনে করি যে কলমের বিশাল জোর ছিল বলেই বিভূতিভূষণ এমন একটি এডভেঞ্চার লিখতে পেরেছিলেন যা, তার অদ্বিতীয়-রকম পরিসমাপ্তির জন্যে, এখনও আমাদের মাথার ইঞ্জিনকে সচল করে দিতে পারে, যাতে বাস্তবে না পারলেও, অন্তত মনে-মনে আমরাও বেরিয়ে পড়তে পারি ওই বিশেষ দ্বীপটির সন্ধানে, যেখানে এক দুর্লংঘ্য বাধার ওপারে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে সম্রাটের ঐশ্বর্য! এখনো পড়ে না থাকলে শিগগির পড়ুন, এটুকুই আমার নিবেদন|
এর পূর্বে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা "চাঁদের পাহাড়", "সুন্দরবনের সাত বছর" পড়েছি। উনি অ্যাডভেঞ্চার জনরা কে দারুণভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ওনার লেখা উপন্যাস গুলা পড়তে পড়তে, সেই প্রধান চরিত্রের সাথে পাড়ি দিতে হয় সেই রহস্যময় স্থানটিতে। বিভূতিভূষণ তার উপন্যাসে ছোট ছোট ডিটেইলসে অনেক বেশি নজর রাখেন এতে সবটাই চোখে বাদে। এবং পাঠক পুরাপুরি ভাবে উপন্যাসের মাঝেই ঢুকে যায়। সেদিন পড়লাম, হিরে মানিক জ্বলে। উপন্যাসটা পড়তে পড়তে প্রথম আমার মনে হয়েছিল, এই উপন্যাসের গল্পটা অনেকটা ২০১২ সালে রিলিজ হওয়া অস্কার জয়ী, "Life of Pi" এর মতন। উত্তাল সমুদ্রে হারিয়ে গিয়ে একটা দ্বীপের খোঁজ পাওয়া, যেখানে লুকিয়ে আছে অজস্র রহস্য। কিন্তু তেমনটা পুরাপুরি হয় নাই বরং গল্পে বেশ কিছু টুইস্ট এসেছে। এক গোপন দ্বীপ, যার মাঝে রয়েছে অজস্র অর্থ সম্পদ। কিন্তু লোভে পড়ে এই দ্বীপে গেলে খোয়াতে হবে জীবন কারণ এই সম্পদের পাহারাদার স্বয়ং ভারত সাগর। উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে দারুণ গুসবামস টের পাচ্ছিলাম৷ এখন মনে মনে ভাবছি, বিভূতিভূষণের all time Cult classic "আরণ্যক" টা পড়ব। বিভূতিভূষণের লেখার পর কখনোই সন্দেহ করা যায় না, সেজন্যই তো তিনি একজন লেজেন্ডারি রাইটার হিসেবে খ্যাত।
আমি এম্নিতেই বিভূতিভূষণের চরম ভক্ত। কিন্তু আজকে যেটা পড়লাম, এর তুলনা দেই কীসের সঙ্গে? আসলে দেওয়ার দরকারই বা কী?
এটাকে ‘চাঁদের পাহাড়ে’র সিক্যুয়েল বানানো যেতো। এরকম টান টান উত্তেজনা, ভয়, সংশয় মিশ্রিত লেখা বহুদিন পড়া হয় না। একটা সময় হিন্দু দর্শন ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পরেছিলো মালয় উপদ্বীপগুলোতে। এই তথ্যটুকু আমার জানা ছিলো।
কিন্তু সেটার উপর ভিত্তি করে যে বিভূতি বাবু এরকম একটা মাস্টারপিস কাজ করে রেখে গেছেন, সেটাই যে আমি জানতাম না বা আগে কেন পড়িনি সেটা ভেবে খুব আফসোস হচ্ছে।
এখন একথা বলতেই পারি যে, পশ্চিমে জুল ভার্ন থাকলে বাংলা সাহিত্যের আছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পড়েছিলাম বছর দুই আগে। আমার কাছ থেকে সবচেয়ে কম রেটিং পাওয়া বিভূতিভূষণের বই এটি। পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিল এ যেন বিভূতিভূষণের লেখা নয়। বইটি লেখক মারা যাবার পরে প্রকাশিত হয়, এই তথ্য জানার পর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছিল।
জামাতুল্লা,সনত,সুশীল। একটা পুরনো রাজবাড়ি। একটা সুন্দর রোমাঞ্চ গল্প। দারুণ লেগেছে।
বিভূতি বাবুর লেখা খুব বেশি পড়া হয়নি। তবে চাঁদের পাহাড় পড়েছি। সেই বই খানাও ভীষণ ভালো লেগেছিলো। এখন "হিরে মানিক জ্বলে" পড়লাম। এটাও দারুণ উপভোগ করেছি। তবে এই বইটা আরো আগে পড়া উচিত ছিল।
আমার কাছে মনে হয় কিশোর বয়সে কম-বেশি যাদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয় তাদের বেশিরভাগেরই পড়ার আগ্রহের জায়গার প্রায় পুরোটা জুড়ে থাকে ডিটেকটিভ অথবা অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার গল্প কিংবা উপন্যাস। যারা অ্যাডভেঞ্চার বা গুপ্তধনের খোঁজে অভিযান পছন্দ করেন তাদের জন্যেই এই বই। ছোটবেলায় রাইডার হ্যাগার্ডের 'কিং সলোমন'স মাইন্স' কিংবা রবার্ট লুই স্টিভেনসনস এর 'ট্রেজার আইল্যান্ড' অনেকেই পড়েছেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্য এমন লেখক আছেন যিনি তার অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়' লিখে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে বাঙ্গালীরাও কম যান না। মূলত আমরা বিভূতিভূষণ কে চিনি তার অমর সৃষ্টি 'পথের পাঁচালী' তথা 'উপন্যাস ত্রয়ী' এর মাধ্যমে। কিন্তু তিনি 'চাঁদের পাহাড়' এর অকুতোভয়, নির্ভীক ও অভিযান প্রিয় শংকর কেও সৃষ্টি করেছেন। 'চাঁদের পাহাড়' এর মত 'হীরা মানিক জ্বলে' উপন্যাসটিও একটি ট্রেজার হান্টিং অ্যাডভেঞ্চার, যদিও আমার কাছে মনে হয়েছে এই বইটির কথা অনেকেই জানেন না এবং অবশ্যই একটি আন্ডাররেটেড বই।
গল্পের পটভূমি উপনিবেশ কালীন ভারতবর্ষ। শংকরের মতো এই গল্পের প্রধান চরিত্র সুশীল। শংকর চরিত্রটির মতো সুশীল চরিত্রটি অতটা বিশালতা বা গাঁথুনি না থাকলেও কাহিনির প্রবাহে যেন পুরোপুরি মিশে যেতে পেরেছে। গল্পের আবর্তে সুশীল হয়ে উঠেছে সাহসী ও নির্ভীক। তার দুর্জ্ঞেয় অভিযানে সঙ্গী হয় সণৎ, জামাতুল্লা ও ইয়ারখান নামের চরিত্র গুলো। ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিচের কোন দ্বীপে প্রাচীন হিন্দু রাজার ধ্বংসাবশেষে লুকানো রত্নভান্ডার খূঁজতে যায় তারা। তবে 'চাঁদের পাহাড়' এর মতই এ গল্পটিও যেন 'শেষ হইয়াও হইলো না শেষ'। গল্পের শেষে কৌতূহলী মনে রয়ে যায় অনেক প্রশ্ন অনেক না জানা প্রশ্নের রেশ!
ট্রেনে গত রাতে এই বইটা পড়তে পড়তে ঢাকায় পৌঁছেছি। গতকালকের ক্যারি অন বুক হিসেবে এই বইটাকে বেছে নেওয়া বোধহয় সেরা একটা সিদ্ধান্ত ছিল। চাঁদের পাহাড় এর ফ্যানদের জন্য বইটা মাস্ট রিড! তবে চাঁদের পাহাড় আর এই বইয়ের তুলনায় চাঁদের পাহাড় ই এগিয়ে থাকবে মূলত এই বইটার দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে। অন্য কোনো একদিন বিশদভাবে লিখার আছে এই বই নিয়ে। আপাতত আমি মুগ্ধ!গতকালের সেই মুগ্ধতার রেশ এখনো কাটছে না।
ছোটোবেলায় এই বইগুলো না পড়তে পারার আক্ষেপ আর রাখতে চাই না। এটা পড়ে আমার ইচ্ছা করছে, আমার চেনা সব ছোটোদের এই বইটা একটা করে উপহার দিই। যাতে কারো এটা অপাঠ্য না থাকে, কারো এটা অপাঠ্য থাকা উচিত না। আমি এক ঘরকুনো বাঙালি, কিন্তু এইরকম কিছু বই পড়লে আর বাড়িতে আরামে থাকতে ইচ্ছা হয়না। মনে হয় জাহাজে চরবো, কোনো এক নাম না জানা দ্বীপে হারিয়ে যাবো, অজানা অচেনা একজন আমাকে সঙ্গী করে নিয়ে যাবে দূর পাহাড়ের দেশে। চেনা জগৎ ফেলে রেখে হারিয়ে যাবো অলৌকিক প্রকৃতির মাঝে।
সুশীল, সনৎ ও জামাতুল্লা - তিন বাঙালি যুবকের রোমাঞ্চকর সমুদ্রযাত্রা, দুর্ধর্ষ জলদস্যুদের কবলে পড়া, গুপ্তঘাতক, রহস্যে ঘেরা রেইন ফরেস্ট, ভয়ংকর জীবজন্তু সরিসৃপে ঘেরা প্রাচীন দুর্গ আর সবশেষে ভারতীয় সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ থেকে গুপ্তধন খুজে বের করা। স্থবির, নিস্তরঙ্গ জীবনের বিপরীতে এ এক রোমাঞ্চ আর এডভেঞ্চারের দর্শন, যা এখানে পাবো সুশীলের বর্ননায়। চারপাশকে দেখার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি আর নিখুত বর্ননায় বিভূতিভূষণ এর তুলনা নেই। এ বইয়ে তুলে ধরা বিশেষ আরেকটা দিক হল, প্রাচীন হারিয়ে যাওয়া এক ভারতীয় সাম্রাজ্য, তার শৌর্য ও বীরত্বের ইতিহাস। এবং সবশেষে যেন সুশীলের মানসপটে কাঠগড়ায় তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন বিদেশি পদানত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতকে। সর্বোপরি সুশীল ঠিক ' চাঁদের পাহাড়ে' এর শংকর হয়ে উঠতে পারে নি, সে চারিত্রিক দৃঢ়তা তার নেই। এ বইয়ে ব্যাক্তিচরিত্রকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং সফলতার সাথে ঘটনাপ্রবাহের রোমাঞ্চে বজায় রাখা হয়েছে। ১২৬ পৃষ্ঠার বইটিতে যৌবনের যে সাহসিকতা, যে উদ্যম তাকে বিকেলের ফুলের মতো ঝরে পড়তে না দিয়ে বরং সঠিকভাবে ব্যাবহারের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে -
"পৃথিবীর কত পর্বতে, কন্দরে, মেরুতে, অরণ্যে অজানা স্বর্ণরাশি মানুষের চোখের আড়ালে আত্মগোপন করে আছে— বেরিয়ে পড়তে হবে সেই লুকোনো রত্নভাণ্ডারের সন্ধানে— যদি পুরুষ হও! নয়তো আপিসের দোরে দোরে মেরুদণ্ডহীন প্রাণীদের মতো ঘুরে ঘুরে সেলাম বাজিয়ে চাকুরির সন্ধান করে বেড়ানোই যার একমাত্র লক্ষ্য ,তার ভাগ্যে নৈব চঃ নৈব চঃ!"
সমুদ্র যাত্রা, ঘন জঙ্গলাবৃত দ্বীপ আর সাথে প্রাচীন রহস্য এসব একসাথে থাকলে নিয়ে যায় তুখোড় এডভেঞ্চারের দিকে। সুন্দরপুর গ্রামের বনেদি পরিবারের ছেলে সুশীল, কলকাতায় গিয়ে অদ্ভুত ভাবে তার পরিচয় হয় জামাতুল্লাহ নামের এক জাহাজের খালাসির সাথে। সেই সাথে জানতে পারে এক অদ্ভুত রত্নভান্ডারময় দ্বীপের কথা। সুশীল কথা শুনে অনেক রোমাঞ্চিত হয়। বেশ কিছুদিন পরে জামাতুল্লাহ আর এক ছোট ভাই সনদকে নিয়ে সুশীল বেড়িয়ে পড়ে; মাঝপথে সঙ্গী হয় ধূর্ত ইয়ার হোসেন। তারপরই শুরু হয় এক রোমাঞ্চকর যাত্রা, উদ্দেশ্য সেই মায়াপুরী দ্বীপ।
গ্রামের অকর্মণ্য জমিদার ছেলে সুশীল পড়াশোনা শেষ করে পায়ের উপর পা তুলে খাচ্ছে,এতে সে রীতিমতো ঠাট্টা তামাশার জোগাড় হচ্ছে তার শহুরে আত্মীয়-স্বজন দ্বারা।সুশীল সব ভেবে একদিন বেড়িয়ে পড়ল কলকাতায় ডাক্তারী পড়তে।কিন্তু ডাক্তারী ভর্তি আরো দুমাস,এখন কি করা যায়?
এমন সময় কলিকাতা গরের মাঠে সুশীলের সাথে কিছুটা নাটকীয় ভাবেই পরিচয় হলো জামাতুল্লা নামে এক জাহাজী খালাসির সাথে।জামাতুল্লা তার সুদীর্ঘ জীবনের সাগর ভ্রমণের কাহিনী থেকে সুশীল জানতে পারলো এক রহস্য ও ঐতিহ্যে ঘেরা এক অজানা দ্বীপের কথা। সুশীল তার খুড়তুতো ভাই সনৎ কে সাথে নিয়ে পাড়ি জমালো অতল সাগরের বুকে।।উদ্দেশ্য, যতটা না ধন ভান্ডারের খোঁজ তার থেকে বেশি অজানাকে জানা!
কি ছিল সুশীল ,সনৎ ও জামাতুল্লার নিয়তি?তারা কি সাগর পাড়ি দিয়ে সেই দ্বীপের গভীর বনের মধ্যে ধন ভান্ডার সমৃদ্ধ প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার নগরকে খুঁজে পেয়েছিল?প্রতি পদে পদে মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে তারা কি ফিরে আসতে পেরেছিল মাতৃভূমিতে?এই সরল প্রশ্নটির উত্তর খুঁতজে বইটি পড়ে ফেলুন।
চাঁদের পাহাড় পড়েনি এমন বাঙালি হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল।সেখানে বাঙালিরা শংকরের সাথে যেভাবে হারিয়েছেন বন জঙ্গলের রোমাঞ্চে, " হীরা মানিক জ্বলে " পড়ে পাঠক এবার হারাবেন গল্পের নায়ক সুশীলের সাথে ভাসবেন রোমাঞ্চ সাগরে লুকানো প্রাচীন কোন সভ্যতার রোমাঞ্চে।
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখার ভক্ত হয়ে আপনাকে তার লেখার কোন কোন দিক ভালো লাগে, সব উপাদানটিই হয়েছে "হীরে মানিক জ্বলে" উপন্যাসে।উপন্যাসটি খুব ছোট হওয়ায় গল্পের খুব চঞ্চল বর্ণণার ধরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।