বাংলাদেশের সাহিত্যে লেখক হিসেবে হায়াৎ মামুদের বিশিষ্টতা, তাঁর সততা ও আদর্শিকতা সকলেই মানেন। এর ফলে সমাজ-দেশ-সংস্কৃতি এবং এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তার অন্ত নেই। 'তাঁর' এই মনের গড়নের জন্য তিনি লিখে উঠতে পারেন 'অমর একুশে'র মত ইতিহাস---- আমাদের সবচেয়ে গৌরবদীপ্ত সময়ের কাহিনী। তৎকালীন ঘটনা পরম্পরা অনেকেই লিখে গেছেন প্রত্যক্ষদর্শী আন্দোলনকারী বা পরবর্তী কালের পণ্ডিত ও গবেষক। সে সবের পরেও এই বই, 'অমর একুশে', অনন্য।
এই বর্ধিত সংস্করণে যুক্ত হয়েছে পরবর্তী কালে রচিত টুকরো কিছু নাতিদীর্ঘ রচনা। সেগুলোরও প্রসঙ্গ ভাষা আন্দোলন। সেখানে বরং ইতিহাসের চেয়ে ধরা পড়েছে সমকালীন সময়ের ছবি।
হায়াৎ মামুদ (জন্ম : ৩ জুন ১৯৩৯) বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান লেখক। তিনি একজন আধুনিক কবি, প্রবন্ধকার , অনুবাদক ও অধ্যাপক । মৃত্যুচিন্তা রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জটিলতা তার বিখ্যাত গ্রন্থ যা ১৯৬০-এর দশকে প্রকাশিত হয়ে সাড়া জাগিয়েছিল । তিনি শিশুদের জন্য অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন । তার অনূদিত মাক্সিম গোর্কি বিরচিত চড়ুইছানা সকলমহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছে ।
ড. হায়াৎ মামুদের জন্ম ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় । তার ছেলেবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে-ই । ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তারা পশ্চিবঙ্গেই থেকে গিয়েছিলেন । কিন্তু ১৯৫০-এর হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পিতার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন । কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন চাকুরি করেন বাংলা একাডেমিতে । ১৯৭৮ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত দীর্ঘকাল তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যিালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন ।
হাসান আজিজুল হক কে নিয়ে রচিত তার জীবনীগ্রন্থ উন্মোচিত হাসান একটি প্রামাণিক গ্রন্থ । তিনি রুশ ভাষা থেকে বহু গল্প বাংলায় অনুবাদ করেছেন । শিশু-বিশোরদের জন্য জীবনীগ্রন্থ রচনা ছিল তার প্রিয় বিষয় ।