যাঁদের হাতে কাহিনী মানেই প্রবল আকর্ষক এক কাহিনী, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তেমনই এক কথাসাহিত্যিক। কৌতূহলকে শেষ পর্যন্ত জীইয়ে রাখতে হয় কীভাবে, সে-কৌশল ছিল তাঁর করায়ত্ত। অথচ তাঁর যে – কোনও কাহিনী জীবনেরই কাহিনী। উদ্ভট, অবাস্তব, বানিয়ে-তোলা গল্প নয়। মধ্যবিত্ত সমাজই তাঁর অধিকাংশ কাহিনীর চালচিত্র, যে-সমাজ আজ নানা দিক থেকে পরিবর্তমান। এমনই দুটি উপন্যাস-প্রতিম কাহিনী নিয়ে হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের এই মরণোত্তর গ্রন্থ। এর একটি কাহিনীর কেন্দ্রে এক দম্পতি, যে-দম্পতির একজন চেয়েছিল ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে, অন্যজন আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিল সনাতন মূল্যবোধের উত্তরাধিকার। ফলে, অনিবার্য হয়ে উঠেছিল সংঘাত। এই সংঘাতই কি শেষ কথা, নাকি সেতুবন্ধন ? এক আশ্চর্য কাহিনীতে তারই উত্তর অন্বেষণ। এ-গ্রন্থের অন্যতর কাহিনীর কেন্দ্রে ঘর-বাঁধার স্বপ্নে উত্তাল এক প্রেমিক ও প্রেমিকা, বহু দায় ও দায়িত্ব যাদের কাঁধে। তাদের স্বপ্ন ও সংকল্পের এক বেদনমধুর আলেখ্য এই কাহিনী।