Jibanananda Das (bn: জীবনানন্দ দাশ) is probably the most popular Bengali poet. He is considered one of the precursors who introduced modernist poetry to Bengali Literature, at a period when it was influenced by Rabindranath Tagore's Romantic poetry. During the later half of the twentieth century, Jibanananda Das emerged as the most popular poet of modern Bengali literature. Popularity apart, Jibanananda Das had distinguished himself as an extraordinary poet presenting a paradigm hitherto unknown. It is a fact that his unfamiliar poetic diction, choice of words and thematic preferences took time to reach the heart of the readers. Towards the later half of the twentieth century the poetry of Jibanananda has become the defining essence of modernism in twentieth century Bengali poetry.
নিশীথ, প্রৌঢ় এক বেসরকারি কলেজ মাস্টারের জাগতিক ও সাংসারিক দুর্দশার গল্প । মফস্বলে অপরিমিত বেতনে দীর্ঘ কুড়ি-বাইশ বছর কাজ করে শেষে ছেড়েছুড়ে শহরে একটা কাজ জোটানোর চেষ্টা করে যথারীতি অকৃতকার্য হন । ফেলে আসা অসুস্থ স্ত্রী, হারিয়ে যাওয়া মেয়ে ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ পালিয়ে বেড়ানো ছেলের খোঁজহীন দিশেহারা ভঙ্গুর মানুষের কথন । আত্মমগ্ন, ধীর এই মানুষটি যেন হেঁটে যাচ্ছেন অনিশ্চয়তার দিকে । যেন জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তিগত বায়োগ্রাফির অংশবিশেষ এই উপন্যাসটি । পড়তে পড়তে মনে করায় রচয়িতার ফুটপাথে নামক কবিতাটাঃ
'অনেক রাত হয়েছে- অনেক গভীর রাত হয়েছে; কলকাতার ফুটপাথ থেকে ফুটপাথে- ফুটপাথ থেকে ফুটপাথে- কয়েকটি আদিম সর্পিণী সহোদরার মতো এই-যে ট্র্যামের লাইন ছড়িয়ে আছে পায়ের তলে, সমস্ত শরীরের রক্তে এদের বিষাক্ত বিস্বাদ স্পর্শ অনুভব ক’রে হাঁটছি আমি। গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে, কেমন যেন ঠাণ্ডা বাতাস; কোন দূর সবুজ ঘাসের দেশ নদী জোনাকির কথা মনে পড়ে আমার,- তারা কোথায়? তারা কি হারিয়ে গেছে? পায়ের তলে লিকলিকে ট্র্যামের লাইন,- মাথার ওপরে অসংখ্য জটিল তারের জাল শাসন করছে আমাকে। গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে, কেমন যেন ঠাণ্ডা বাতাস; এই ঠাণ্ডা বাতাসের মুখে এই কলকাতা শহরে এই গভীর রাতে কোনো নীল শিরার বাসাকে কাঁপতে দেখবে না তুমি; জলপাইয়ের পল্লবে ঘুম ভেঙে গেলো ব’লে কোনো ঘুঘু তার কোমল নীলাভ ভাঙা ঘুমের আস্বাদ তোমাকে জানাতে আসবে না। হলুদ পেঁপের পাতাকে একটা আচমকা পাখি ব’লে ভুল হবে না তোমার, সৃষ্টিকে গহন কুয়াশা ব’লে বুঝতে পেরে চোখ নিবিড় হ’য়ে উঠবে না তোমার! প্যাঁচা তার ধূসর পাখা আমলকীর ডালে ঘষবে না এখানে, আমলকীর শাখা থেকে নীল শিশির ঝ’রে পড়বে না, তার সুর নক্ষত্রকে লঘু জোনাকির মতো খশিয়ে আনবে না এখানে, রাত্রিকে নীলাভতম ক’রে তুলবে না! সবুজ ঘাসের ভিতর অসংখ্য দেয়ালি পোকা ম’রে রয়েছে দেখতে পাবে না তুমি এখানে পৃথিবীকে মৃত সবুজ সুন্দর কোমল একটি দেয়ালি পোকার মতো মনে হবে না তোমার, জীবনকে মৃত সবুজ সুন্দর শীতল একটি দেয়ালি পোকার মতো মনে হবে না; প্যাঁচার সুর নক্ষত্রকে লঘু জোনাকির মতো খসিয়ে আনবে না এখানে, শিশিরের সুর নক্ষত্রকে লঘু জোনাকির মতো খশিয়ে আনবে না, সৃষ্টিকে গহন কুয়াশা ব’লে বুঝতে পেরে চোখ নিবিড় হ’য়ে উঠবে না তোমার।'