Jump to ratings and reviews
Rate this book

কুয়াশিয়া: স্পেলমেকারের অনুসন্ধান

Rate this book
খুব ধীরে-ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকা পৃথিবী ভয়ংকর এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই প্রকৃত সত্যটা কারো কাছেই ধরা দিচ্ছে না, শুধুমাত্র একজন ছাড়া—অ্যারন এথ্রেন্ডিল। নিজেকে বদ্ধ উন্মাদ ভাবতে থাকা অ্যারন শীতের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবারো নতুন করে সেই পরিবর্তনটার সম্মুখীন হয়, যেটা তার জীবনকে গত এক বছর ধরে বিভীষিকায় পরিণত করে রেখেছে।

কিন্তু কেন হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলো? আর সেগুলো অন্যরা বুঝতে পারছে না কেন?

প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগেই রহস্যময় এক দানবের আক্রমণে অ্যারনের জীবন ধ্বংসের একদম কাছাকাছি চলে যায়। ওর ভাগ্য তাকে খুবই ভয়ংকর এক অভিযানে নামতে বাধ্য করে। সেই অভিযান, যেটার সফলতার উপর শুধু নির্দিষ্ট কারো জীবনই নয়, নির্ভর করছে আরো অনেক বড় কিছু . . .

এ কাহিনী সেই জগতের, যেখানে জাদুকরদের ক্ষমতাকে আইনের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়। ইচ্ছামতো স্পেল প্রয়োগ করার স্বাধীনতা নেই তাদের, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেলগুলো তাদেরকে বানিয়ে নিতে হয় স্পেলমেকারদের মাধ্যমে। সেই সাথে ওগুলো প্রয়োগ করার জন্য অনুমতি নিতে হয় খুব প্রাচীন এক সংগঠনের কাছ থেকে, যার নাম ‘স্পেনিক’।

কিন্তু শুধুমাত্র উইজার্ডদের জন্যই কেন এই নিয়ম? তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ভয় পাওয়ার প্রকৃত কারণটা কী?

সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এইখানে . . . কুয়াশিয়ায় . . . যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু . . .

432 pages, Hardcover

Published January 9, 2018

5 people are currently reading
101 people want to read

About the author

Asraful Shumon

18 books120 followers
Asraful Shumon is a bangladeshi fantasy author and editor. He is from the port city of Chittagong, currently living in the same city. Developing a story and drawing it in papers through ink and blot has been his passion since 2014. His early career started online, and after writing several novella, novelette and short stories, he decided to take his passion seriously. His debut novel 'Dragomir' was published in January, 2016, which was a high/epic fantasy mixed with metafictional technique.
His second epic fantasy novel 'Kuashia: Spellmaker er onushondhan', the first book of 'Kuashia' pentalogy, was published in 2018. His other two series's are 'Aleya', set in bangladeshi mythological settings and 'mother nature', set in both bangladeshi and world mythological settings.

Besides writing, he likes to spend time reading books, listening to music, humming self-made tunes, watching movies and taking tours.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
17 (27%)
4 stars
36 (58%)
3 stars
8 (12%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for Shariful Sadaf.
213 reviews106 followers
April 14, 2021
বইঃ কুয়াশিয়া
লেখকঃ আশরাফুল সুমন
প্রকাশনীঃ রোদেলা
পৃষ্ঠাঃ ৪৩২
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৫০ টাকা।

কুয়াশিয়া বইতে এমন এক পৃথিবী রয়েছে যেখানে সব জাদুকরী শক্তি সম্পন্ন মানুষদের নিয়ে গঠিত। যে জগত জুড়েই রয়েছে উইজার্ড, নিমোক্যান,স্বপ্নদর্শীর মতো কিছু জাতি।
অ্যারন এথ্রেন্ডিল একজন স্পেলমেকারের সন্তান। খুব ধীরেধীরে পৃথিবী ভয়ংকর এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোন এক অদ্ভুত কারণে এই প্রকৃত সত্যটা কারো কাছেই ধরা দিচ্ছে না শুধুমাত্র অ্যারন এথ্রেন্ডিল ছাড়া। এই পরিবর্তনের ফলে নিজেকে একসময় বড্ড উন্মাদ ভাবতে শুরু করে। কিন্তু পরিবর্তন গুলো কেনো অন্য কেউ বুঝতে পারছে না? এই ব্যাপারটাই গত এক বছর ধরে বিভীষিকায় পরিণত করে রেখেছে তাকে। অনেক গুলো প্রশ্নের উত্তর জানার আগেই রহস্যময় দানবের আক্রমণে অ্যারনের জীবন ধ্বংসের অনেক কাছাকাছি চলে যায়। নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও পিতাকে হারায় কুয়াশিয়ায়। শুরু হয় লড়াই নাম না জানা নতুন যুদ্ধ যার সফলতার উপর শুধু নির্দিষ্ট কারো জীবনই নয় নির্ভর করছে আরো অনেক বড় কিছু।এখানে জাদুকরদের ক্ষমতাকে বেধে রাখা হয় এক প্রাচীন সংস্থা 'স্পেনিক' এর আইনের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট কিছু বানানো স্পেল ব্যবহার করতে পারবে উইজার্ড। যারা আইন ভঙ্গ করে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।
সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে কুয়াশিয়ায় যার রহস্য উন্মোচন নির্ভর করছে অ্যারন এথ্রেন্ডিলের অভিযানের উপর।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ফ্যান্টাসি জনরার ফ্যান আমি না। অল্প সংখ্যক ফ্যান্টাসি আমার দখলে আছে। কিন্তু দেশী লেখকের হাইফ্যান্টাসীর খোজ পাওয়া মাত্রই কিনে ফেলেছিলাম যদিও অনেক দিন পর পড়া হলো। চমৎকার ম্যাজিকাল ইউনিভার্স মেকিং, বৈচিত্র্যময় ক্যারেক্টার, দুর্দান্ত অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, ম্যাজিকাল স্টাফ, কাহিনীর টুইস্ট, স্টোরি লাইন আমাকে মুগ্ধ করেছে। কিছুটা প্রেডিক্টেবল মনে হলেও খেই হারিয়ে ফেলেনি। আশরাফুল সুমন ভাই সত্যি আমাদের জন্য ভিন্নতর কিছু উপহার দিয়েছেন। তার জন্য আমাদের বাংলাদেশি পাঠকদের পক্ষ থেকে একটা ধন্যবাদ অবশ্যই পাওয়া উচিত। বইটি প্রথমে বেশ মন্থর গতিপথ অবলম্বন করলেও ধীরেধীরে গতি পায়। তবে বইটিতে প্রাঞ্জলতার অভাববোধ করেছি লেখনী আর কিছু সহজ হতে পারতো।নতুন নতুন অনেক নাম পেয়েছি যা হয়তো লেখকের সৃষ্টি। ওভারঅল বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য কুয়াশিয়া এক নতুন সূচনা যা আমাকে আশাহত করেনি। জুলিয়ান ভাইয়ের নজরকাড়া প্রচ্ছদ দেখতে পেলাম। রোদেলার প্রোডাকশন বরাবরই আমার কাছে ভালো লাগে।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫০/৫
Profile Image for Nu Jahat Jabin.
149 reviews243 followers
March 2, 2018
বেশির ভাগ কাছের মানুষজনের ধারনা আমার মানসিক পরিপক্কতা খুব বেশি কম, সবাই উদাহরন হিসাবে টেনে আনে আমার ফ্যান্টাসির প্রতি ভালবাসা। বেশির ভাগ মানুষ যখন হাই থটের বই পড়ে তখন আমি পড়ি ফ্যান্টাসি। হ্যারিপটার, পার্সি জ্যাকসন, হবিট, লর্ড অফ দ্যা রিংস এর মত ফ্যান্টাসি গুলা আমার একবার পড়া না বরং বহুবার পড়া। কেউ যখন কল্পনায় শক্তিশালী একটা জগত সৃষ্টি করে সেটা আমাকে মুগ্ধ করে। কুয়াশিয়াও তার ব্যাতিক্রম না। আমি যখন বইটা হাতে নেই ভেবেছিলাম কোন অনুবাদ, পরে বুঝলাম খাঁটি বাংলাদেশী লেখকের লেখা ফ্যান্টাসি। বাঙ্গালীর লেখা ফ্যান্টাসি কতটুকু কি হবে আল্লাহ মালুম বলে শুরু করে দিছে, এবং শেষ পর্যন্ত আমি মুগ্ধ।
শুধু মাত্র বাংলাদেশী লেখকের ফ্যান্টাসি চিন্তা করলে অনায়াসে ৪.৫ পেয়ে যাবে রেটিং, তবে কয়েকটা জায়গায় সমস্যা ছিল। প্রথমত শুরু খুবই ধীর গতির। গেম অফ থ্রন্স পড়ে থাকলে খেয়াল করবেন ম্যাপ দেওইয়া থাকে, এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটা করতে পারলে বেশ হত। এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা লেগেছে কাহিনী বর্ননা, কাহিনী বর্ননা প্রথম দিকে বেশ খানিকটাই দূর্বোধ্য। আরো সহজ-সরল হলেই বেশি মানাত। তবে শেষের দিকে মারদাঙ্গা দৃশ্য গুলো খুবই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
একেবারে নাম না শুনে বইটা হাতে তুলে নেবার প্রধান কারন হল এর প্রচ্ছদ , মন জুড়ানো এক প্রচ্ছদ !!
Profile Image for Saleh Mubin.
Author 3 books16 followers
January 19, 2018
কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান
আশরাফুল সুমন
জনরাঃ হাই/এপিক ফ্যান্টাসি
রোদেলা প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৩২
গায়ের মূল্যঃ ৪৫০
প্রচ্ছদঃ রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান

ফ্যান্টাসি। আমার কাছে এক এপিক শব্দ। এই এক শব্দই বুঝিয়ে দিতে পারে অভাবনীয় স্বপ্নময় এক জগতকে। বলা যায় বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জনরা হচ্ছে এই ফ্যান্টাসি। আর যদি নিজ দেশের লেখকের লেখা কোন ফ্যান্টাসি গল্প পাওয়া যায় তখন উচ্ছ্বাসটা স্বাভাবিকভাবেই হয় খুব বেশি। আশরাফুল সুমনের প্রথম বই ড্রাগোমির তাকে এক ভিন্ন ধারার লেখক হিসেবে পরিচিত করে দিয়েছে। কুয়াশিয়া সিরিজের এই প্রথম বইটাতেও সে ধারা অব্যাহত আছে। এবারও তার হাত থেকে বেরিয়ে এসেছে অসাধারণ স্বপ্নময় এক জগত। যে জগতের সাথে আর কারো পরিচিতি নেই। বইয়ের প্রথম পেজ থেকেই ঢুকে যেতে হবে সেই জগতে। যেখানে রাজত্ব সব জাদুকরের। যারা ইচ্ছামত জাদু করতে পারেনা। কেন? দাঁড়ান কাহিনী সংক্ষেপ দিয়ে দিচ্ছি।

খুব ধীরে-ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকা পৃথিবী ভয়ংকর এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই প্রকৃত সত্যটা কারো কাছেই ধরা দিচ্ছে না, শুধুমাত্র একজন ছাড়া—অ্যারন এথ্রেন্ডিল। নিজেকে বদ্ধ উন্মাদ ভাবতে থাকা অ্যারন শীতের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবারো নতুন করে সেই পরিবর্তনটার সম্মুখীন হয়, যেটা তার জীবনকে গত এক বছর ধরে বিভীষিকায় পরিণত করে রেখেছে।
কিন্তু কেন হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলো? আর সেগুলো অন্যরা বুঝতে পারছে না কেন?
প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগেই রহস্যময় এক দানবের আক্রমণে অ্যারনের জীবন ধ্বংসের একদম কাছাকাছি চলে যায়। ওর ভাগ্য তাকে খুবই ভয়ংকর এক অভিযানে নামতে বাধ্য করে। সেই অভিযান, যেটার সফলতার উপর শুধু নির্দিষ্ট কারো জীবনই নয়, নির্ভর করছে আরো অনেক বড় কিছু . . .
এ কাহিনী সেই জগতের, যেখানে জাদুকরদের ক্ষমতাকে আইনের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়। ইচ্ছামতো স্পেল প্রয়োগ করার স্বাধীনতা নেই তাদের, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেলগুলো তাদেরকে বানিয়ে নিতে হয় স্পেলমেকারদের মাধ্যমে। সেই সাথে ওগুলো প্রয়োগ করার জন্য অনুমতি নিতে হয় খুব প্রাচীন এক সংগঠনের কাছ থেকে, যার নাম ‘স্পেনিক।’
কিন্তু শুধুমাত্র উইজার্ডদের জন্যই কেন এই নিয়ম? তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ভয় পাওয়ার প্রকৃত কারণটা কী?
সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এইখানে . . . কুয়াশিয়ায় . . . যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু . . .

বিটা রিডার হিসেবে বইটা একাধিকবার পড়া হয়েছে। এবং বলা বাহুল্য প্রতিবারই মনে হয়েছে এই প্রথম পড়ছি। সবচেয়ে ভাল ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের দেশে হাই বা এপিক ফ্যান্টাসিকে উৎসাহিত করা হয়নি। সেক্ষেত্রে এই বইটাকে একটা সাহসিকতা হিসেবে দেখা যায়।
প্রথমে গল্পের কথা বলা যায়। গল্পের ধারা প্রথমে খানিক ধীর। কিন্তু যত সামনে এগোতে থাকে, গল্প জমতে থাকে। পরে ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে সেটা। জগত সৃষ্টির যে ব্যাপারটা আমরা দেখি ফ্যান্টাসিতে সেটা নিয়ে আম��� চিন্তিত ছিলাম। যে কেমন যেন হয়! কিন্তু আনন্দের ব্যপার লেখক এবারও উৎরে গেছেন। তার প্রথম বইয়ে খানিকটা কিশোর উপযোগী ভাষা ছিল। কিন্তু এখানে স্টাইল পুরোপুরি পালটে গেছে। হয়েছে আরো পরিণত। কেবল বিশাল এক জগত সৃষ্টিই নয়, প্রত্যেকটা টার্মে লেখককে মনে মনে বাহ্বা দিয়েছি। তিনি প্রায় প্রতিটা টার্মই নিজে সৃষ্টি করেছেন। ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। একটা ছোট উদাহরণ দিই। গল্পে এক জায়গায় কিছু দানবসূলভ ক্রিয়েচার এসেছে। ক্রিয়েচারটার নাম হচ্ছে ঋভিক। ধরতে পারছেন বিষয়টা? সংস্কৃতিতে ঋভু মানে হচ্ছে দানব। মজার ব্যাপার, প্রায় প্রত্যেকটা টার্মই এরকম অর্থপূর্ণ। ব্যাপারটা মন ভরিয়ে দিচ্ছিল। আমার মনে হয় বাংলা ভাষায় এ ধরণের টার্মের প্রয়োজন।
গল্পের বাকে বাকে ছোট ছোট কিছু টুইস্ট আছে। যেগুলো এত বড় কলেবরের বই হলেও একঘেয়ে বোধ করার সুযোগ দেয়নি। আর আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়। হিউমার। খুব সিরিয়াস মোমেন্টে হুট করে একটা হিউমারাস ডায়লগ সেট করে লেখক ভাল হাসিয়েছেন। এই ব্যাপারটা বেশ মজা দিয়েছে। লেখনী ড্রাগোমিরের চাইতে পরিপক্ব বলেছি। তবে আমি আশা করব লেখক আরো উন্নতি করবেন এই জায়গায়। আমি আশাবাদী।
চরিত্রগুলোর কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। চরিত্র চিত্রণে ভাল মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক। নতুন লেখকদের ক্ষেত্রে যা হয়, একটা চরিত্র শুরুতে একরকম দেখা যায়। পরবর্তীতে বইয়ের মাঝামাঝি গিয়ে দেখা যায় সে এমন কাজ করে বসে, যা তার চরিত্রের সাথে বেমানান। কিন্তু কুয়াশিয়ায় ব্যাপারটা একদমই ছিলনা। অ্যারন এথেন্ড্রিল চরিত্রটা দিয়ে একজন দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন এক যুবককে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যে বাবাকে উদ্ধার করতে মরিয়া। কোন কিছুরই পরোয়া করেনা। সামারলান মেডলার, বেস্ট চরিত্র বইয়ের। খুব অদ্ভুত আর হাস্যরসে পূর্ণ তার ডায়লগগুলো। এমনকি সে যেসব পরিস্থিতিতে পড়ে তাকে উদ্ভট না বলে উপায় নেই। ভাল কথা, সামারলান একজন শেইপ শিফটার। লেখক যেটাকে বলেছেন রূপান্তৃক। তিন নম্বর মেইন ক্যারেক্টার হচ্ছে এলিস এলফিয়্যান। খুব মায়াবতী আর একই সাথে ভয়াবহ মেয়েটিকে ভাল না লেগে উপায় নেই। খুব দুর্দান্ত ফাইটিং দেখার জন্য হলেও এলিসের প্রশংসা করতে হবে। এছাড়া মেইন ভিলেন চরিত্রটাও শক্তিশালী ছিল। যদিও পুরোপুরি রিভিল করা হয়নি তাকে। পরবর্তী বইগুলোতে তাকে পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই। ছোট ছোট চরিত্রগুলোও যার যার জায়গায় পারফেক্ট ছিল। আর শেষেরদিকে দুটো চরিত্র ঝড়ো বাতাসের মত এসে কেমন তব্দা খাইয়ে দিয়েছিল। কৌতূহলী পাঠকগণ, যদি আপনারা পুরাণে আগ্রহী হোন তাহলে বুঝতে পারবেন ঘটনা কি। 😉 অন্তত এজন্য হলেও খুব আগ্রহ নিয়ে পরের বইটার জন্য অপেক্ষা করছি। যদিও কুয়াশিয়ার পাঁচটা বইয়ের প্রত্যেকটা বই-ই স্ট্যান্ড এলোন টাইপের হবে।
বইয়ের পুরোটাই বলতে গেলে এ্যাডভেঞ্চার। আর এইসব এ্যাডভেঞ্চারে যেসব কাল্পণিক ব্যাপার স্যাপার ব্যবহার হয়েছে তা পাঠককে তার কল্পণাশক্তির পরীক্ষা নিবে। ইংলিশে যদি লিখা হত বইটা, আমি নিশ্চিত বেস্ট সেলার ট্যাগ পেত। আমার অন্তত তাই মনে হয়।
ও একটা ব্যাপারে কিছু কথা বলা উচিৎ। অনেকেই বইয়ের সেটিং নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে দেশি এক মৌলিক, এখানে কেন দেশি নাম ব্যবহার করা হচ্ছে না? আমার উত্তর খুব সহজ। ঘটনা হচ্ছে, যে জগতে বইয়ের কাহিনীগুলো ঘটছে সেখানে তো বাংলাদেশেরই অস্তিত্ব নেই। তাহলে দেশি নাম আসার চাইতে না আসাই এক্ষেত্রে ভাল বলে আমার মনে হয়েছে। এছাড়া সায়েন্স ফিকশনে যখন উদ্ভট নাম ব্যবহার করা হয় তা আমরা যেমন খুব স্বাভাবিকভাবে দেখি। এখানেও কিন্তু ব্যাপারটা তাই। যেহেতু ব্যাপারটা পুরোপুরি বাস্তব নয়। সর্বোপরি যারা ফ্যান্টাসি পছন্দ করেন তাদের জন্য খুব সুখপাঠ্য বই। দেশে ফ্যান্টাসি প্রচলনের জন্য এরকম বই প্রচুর দরকার। পরবর্তী বইগুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম। আর ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ করবার জন্য লেখককে আবারও সাধুবাদ জানাই। এত বড় কলেবরের এপিক ফ্যান্টাসি সম্ভবত দেশে প্রথম। পড়ে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। পাঠকদেরকেও বলব বইটা পড়ে দেখতে। আশা করা যায় দুর্দান্ত কল্পণাময় এক জগতের মোহে আচ্ছন্ন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
Profile Image for Hosneara Ami.
97 reviews12 followers
January 28, 2018
বিশাল কোন রিভিউ লিখতে পারলাম না বলে দুঃখিত। ছয় বছরের চাকুরিজীবনের সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন পার করে (সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা) আজ তীব্র মাথাব্যথায় কাবু হয়ে আছি। তাই অল্পকথায় কিছু বলে যাই।

ফ্যান্টাসি আমার দ্বিতীয় পছন্দের জনরা। সে হোক বাংলা বা ইংরেজি। গোগ্রাসে গেলাটাই আমার কাজ। আর পাঠক মাত্রই জানেন বাংলা ভাষায় সুবিস্তৃত ও সুপাঠ্য কল্পকাহিনী পাওয়া কতটা দুষ্কর। তরুণ লেখক আশরাফুল সুমন ঠিক সেই দুষ্কর কাজটাই এমন সহজ সাবলিলভাবে করেছেন যে পড়তে পড়তে ভুলেই যাচ্ছিলাম যে বাংলায় কিছু পড়ছি। যারা যারা ভয়ে ছিলেন যে কেমন লেখা হবে তারা নির্দ্বিধায় সংগ্রহ করে নিতে পারেন এই বইটা। আর আমি সাধারন মাপের পাঠক। লেখার মূল রস পেলেই আমি খুশি থাকি। সাহিত্য মানের অলিতে গলিতে আমার পদচারনা থাকে না বললেই চলে। তাই কল্পকাহিনী পড়ে কি শিখব,কি জানব, এই প্রশ্ন আমাকে না করলেই ভাল।

ও আর একটা কথা। বইটাতে ভুলের পরিমান (বানানগত বা ভাবগত) নেই বললেই চলে। দু একটা হয়ত থাকতে পারে, কিন্তু আমার চোখে পরে নাই (বিঃদঃ আমি কানা মানুষ, চোখে না পরাটাই স্বাভাবিক)। সাথে অসম্ভব মনকাড়া প্রচ্ছদ। যার জন্য জুলিয়ান ভাই অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য। আর বইটা আমি নিয়েছিলাম AkaLikha-আঁকালিখা থেকে। প্রি-অর্ডারে বইটার সাথে খুব সুন্দর কিছু ছবি পেয়েছি। ছবিগুলো মিসবা আপুর আঁকা। সেগুলো কতটা সুন্দর সেটা বলে বোঝানো যাবে না। সাধুবাদ তারও প্রাপ্য। আশা করি বইটা আপনারা সবাই পড়বেন।।😁
Profile Image for Riajul Islam Xulian.
7 reviews13 followers
January 26, 2018
---পাঠ প্রতিক্রিয়া ---

কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান
আশরাফুল সুমন
জনরাঃ হাই/এপিক ফ্যান্টাসি
রোদেলা প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৩২
গায়ের মূল্যঃ ৪৫০

-কাহিনী সংক্ষেপ-

খুব ধীরে-ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকা পৃথিবী ভয়ংকর এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই প্রকৃত সত্যটা কারো কাছেই ধরা দিচ্ছে না, শুধুমাত্র একজন ছাড়া—অ্যারন এথ্রেন্ডিল। নিজেকে বদ্ধ উন্মাদ ভাবতে থাকা অ্যারন শীতের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবারো নতুন করে সেই পরিবর্তনটার সম্মুখীন হয়, যেটা তার জীবনকে গত এক বছর ধরে বিভীষিকায় পরিণত করে রেখেছে।

কিন্তু কেন হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলো? আর সেগুলো অন্যরা বুঝতে পারছে না কেন?

প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগেই রহস্যময় এক দানবের আক্রমণে অ্যারনের জীবন ধ্বংসের একদম কাছাকাছি চলে যায়। ওর ভাগ্য তাকে খুবই ভয়ংকর এক অভিযানে নামতে বাধ্য করে। সেই অভিযান, যেটার সফলতার উপর শুধু নির্দিষ্ট কারো জীবনই নয়, নির্ভর করছে আরো অনেক বড় কিছু . . .

এ কাহিনী সেই জগতের, যেখানে জাদুকরদের ক্ষমতাকে আইনের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়। ইচ্ছামতো স্পেল প্রয়োগ করার স্বাধীনতা নেই তাদের, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেলগুলো তাদেরকে বানিয়ে নিতে হয় স্পেলমেকারদের মাধ্যমে। সেই সাথে ওগুলো প্রয়োগ করার জন্য অনুমতি নিতে হয় খুব প্রাচীন এক সংগঠনের কাছ থেকে, যার নাম ‘স্পেন���ক।’

কিন্তু শুধুমাত্র উইজার্ডদের জন্যই কেন এই নিয়ম? তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ভয় পাওয়ার প্রকৃত কারণটা কী?

সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এইখানে . . . কুয়াশিয়ায় . . . যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু . . .

-পাঠ্যান্তে আমার প্রতিক্রিয়া-
ব্যক্তিগতভাবে আমি ফ্যান্টাসি বই এর ফ্যান। এপিক ফ্যান্টাসি হলে তো কথাই নেই। স্টিফেন কিং এর কথায়, ফ্যান্টাসি আর হরর জনরার লেখা বেশিদিন টিকে থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমারও সেটা বিশ্বাস। লর্ড অফ দ্য রিংস, ক্রনিকলস অফ নার্নিয়া, ড্রাকুলা, ফ্রাংকেনস্টাইন....... বহু উদাহরণ দেয়া যায়। কথাগুলো এই কারণে বললাম যে, অনেকে ফ্যান্টাসি কে গোনায় ধরতে চায় না (অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে বলছি), তাই...

যাই হোক, আসল কথায় আসি। কুয়াশিয়া এর কাহিনী শুরু হয় বইয়ের প্রোটাগোনিস্ট এরন এথ্রেন্ডিল কে দিয়ে। এক উইজার্ডিং ডুয়েল লড়তে গিয়ে খানিকটা ভজগট পাকিয়ে ফেলে নিজেরই অজান্তে। গিয়ে পড়বি তো পড় একেবারে স্পেনিকের সামনে। তারপর সেই ঝড় সামলাতে না সামলাতেই একেবারে ওলটপালট হয়ে যায় ওর জীবন। অনিশ্চিত যাত্রায় জড়িয়ে যায় সে....

এরপর দৃশ্যপটে আসে সামারলান মেডলার নামে এক তরুণ। এর সম্পর্কে আর কি বলব। ছেলেটাকে খুব পছন্দ হয়েছে, চরিত্রের গঠনটা দারুন ছিল। একই সাথে একজন ফ্ল্যার্টার, হিউমারাস, কানিং আর সর্বোপরি বোল্ড এন্ড ব্রেভ। ঘটনাচক্রে সে এরন এথ্রেন্ডিলের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

বইয়ের কাহিনীর পরিক্রমায় এতক্ষনে বেশ কিছু টার্ম হাজির করেছে লেখক। আসনির, ক্যান্টাস, ঋভিক, পৃথুর্ভিক, পৃথালিক, কুয়াশিয়া সমতুল.... (নামকরণ এর ক্ষেত্রে অপ্রচলিত বাংলা শব্দকে মডিফাই করে চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে, যা লেখকের ডেডিকেটেড মনোভাব এর পরিচয়).. কয়েকটা ফাইটিং সিনও হয়ে গিয়েছে। বর্ননাটা চমৎকার ছিল। চোখের সামনে ভাসছিল যেন।

এরপর ঘটনাক্রমে কাহিনী তে জড়িয়ে পড়ে এলিস এলফিয়ান নামের এক আউট ল। এই মেয়েটাও বেশ সাহসী আর বুদ্ধিমতী। যে কোন ফ্যান্টাসি কাহিনী তে এডভেঞ্চার মানেই বন্ধুত্বের বাঁধন আর স্যাক্রিফাইসিং মনোভাব। কুয়াশিয়ার পরতে পরতেই উপস্থিত ছিল সেটা বেশ ভালভাবেই। দানবদের সাথে লড়াই, বিবৃ এর সাথে যুদ্ধ, শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ..... পুরো একশন প্যাকড অবস্থা। সেই সাথে স্তরে স্তরে রহস্যের দ্বার উম্মোচন।

লেখকের যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লাগে তা হল, ফিনিশিং। আগের লেখাগুলো যেমন, লুসিয়ানার কার্স, মাদার ন্যাচার, ড্রাগোমির....... প্রতি ক্ষেত্রেই এন্ডিং ছিল স্যাটিসফাইং। কুয়াশিয়াতেও তার বত্যয় ঘটেনি। বইটি পড়লে আমার কথার সত্যতা টের পাবেন।

বাংলাদেশে বিভিন্ন জনরায় লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। থ্রিলার, হরর, সাই-ফাই, সামাজিক ঘরানায় লিখছেন অনেকে। ফ্যান্টাসি নিয়েও ছোট পরিসরে কাজ হয়েছে, হচ্ছে। কুয়াশিয়া এই পথে একটা বড় পদক্ষেপ। লেখককে ধন্যবাদ এরকম একটা কাহিনী আমাদের উপহার দেবার জন্য।

বইটা আসলে একটা সিরিজের প্রথম বই। বাংলাদেশে ফ্যান্টাসি সাহিত্যের যাত্রা শুভ হোক।
Profile Image for Shirin  Ritu.
53 reviews13 followers
April 27, 2020
৫ টা স্টার দেয়ার পর আর কী বলার থাকতে পারে? দেশে ফ্যান্টাসি জনরাকে অনন্য উচ্চতায় দেখবো বলে আশা রাখছি লেখকের কাছে৷ লকডাউনের দিনগুলো সুন্দর করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ❤
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
February 15, 2018
পাশ্চাত্য সাহিত্যে এপিক ফ্যান্টাসি খুবই পপুলার এক সাব জনরা , সেই J.R.R. Tolkien এর " দ্যা লর্ড অফ দ্যা রিংস " থেকে এখনকার সময়ের " এ গেম অফ থ্রোন্স " পুরোটা সময়েই আমরা এই সাব জনরার দারুন কিছু বই পাই। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে ঐভাবে এই জনরার কাজ খুব একটা হয়নি।যেই কয়েকটা হয়েছে যেমন ঠাকুরমার ঝুলি বা পঞ্চতন্ত্রকে hardly এপিক ফ্যান্টাসি বলা যায়। সেদিক থেকে চিন্তা করলে সম্পূর্ণ নতুন ধারার এক বই " কুয়াশিয়া : স্পেলমেকারের অনুসন্ধান " ।
-
কুয়াশিয়া বইটি এমন একটা জগতের কাহিনী যেখানকার দুনিয়া উইজার্ড , রুপান্ত্রিক ,নিকোম্যান ,স্বপ্নদর্শী ইত্যাদি ম্যাজিকাল শক্তি সম্পন্ন মানুষজন দিয়ে গঠিত। বাকিদের নিজেদের ম্যাজিকাল শক্তি প্রদর্শনের কোন বাঁধাধরা নিয়ম না থাকলেও উইজার্ডদের স্পেল প্রয়োগের ক্ষমতা এক আইনের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়। তাদের কমব্যাট স্পেলগুলো বানিয়ে নিতে হয় স্পেনিক নামের এক সংস্থার নিয়োগ দেয়া স্পেলমেকারদের মাধ্যমে।আর সে নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের শাস্তি হয় ভয়াবহ।
-
এ রকম এক স্পেলমেকারের ছেলে হলো অ্যারন এথ্রেন্ডিল।হঠাৎই তার নিজের জগতের এক অন্যরকম পরিবর্তন দেখতে পায় সে। ঘটনার ফেরে অ্যারনকে শুরু করতে হয় আপাত দৃষ্টিতে অসম্ভব এক মিশন যার ফলাফলের উপর নির্ভর করছে পুরো দুনিয়ার ভবিষ্যৎ। এখন তার মিশনের পরিণতি কি হয় তা জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত।
-
ফ্যান্টাসির দুই সাব জনরা এপিক আর হাই ফ্যান্টাসি তাদের বেশির ভাগ এলিমেন্ট শেয়ার করলেও সাধারণত এপিক ফ্যান্টাসি একটু বেশি প্লট ,সাবপ্লট , পয়েন্ট অফ ভিউ নিয়ে হয় ( যেমন George R.R. Martin এর A Game Of Thrones series ) অপরদিকে হাই ফ্যান্টাসি মূলত মূল ২-১ টি চরিত্রের দিকে বেশি ফোকাস করে (যেমন Patrick Rothfuss এর The Kingkiller Chronicles series) . কুয়াশিয়া বলতে গেলে দুই সাব জনরাকেই কম বেশি স্বার্থকভাবে ধরতে পেরেছে,আর প্রচ্ছদটাও বেশ মানানসই।
-
গল্পের মূল প্রধান তিন চরিত্রের ভিতরে সামারলান ম্যাডলারকে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বাকি বিভিন্ন চরিত্র গুলো ও গল্পের সাথে মানিয়ে গিয়েছে , আর শেষ দিকের দুই চরিত্রের ক্যামিও কিছুটা অবাক করেছে ,সামনে আশা করি এদের উপর বিস্তারিত জানতে পারবো । গল্প শুরুতে ধীর গতির হলেও আস্তে আস্তে গতি পায় তাই গল্প কিছুটা প্রেডিক্টেবল মনে হলেও খেই হারিয়ে যাওয়া যায় না।
-
কুয়াশিয়ার মূল যে জিনিষটি মিস করেছি তা হলো কাহিনীর প্রাঞ্জলতা। এমনিতেই এই ধরনের ফ্যান্টাসির কিছু টার্ম দুর্বোধ্য ,তার ভিতরে অনেক সময় লেখনী কিছুটা কঠিন মনে হওয়ায় বেশ কিছু জায়গায় আটকে গিয়েছি।সামনে এ সিরিজের লেখনী আরেকটু সহজ সরল ভাষায় আশা করছি। সাথে বিভিন্ন জায়গার ( কুয়াশিয়া , ইদ্রাক ইত্যাদি ) আরেকটু ডিটেলিং বা ম্যাপ দেয়া থাকলে আরো ভালো হয়।
-
ওভারঅল কুয়াশিয়াকে বাংলাদেশের পাঠকদের এক অন্যরকম ফ্যান্টাসির জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার বেশ ভালো এক উদ্যোগ বলে মনে করছি। আশা করি সামনের বই গুলিতে এ বইয়ের ছোটখাট ফ্লোগুলোকে কাটিয়ে উঠে এ সিরিজের আরো দারুন কিছু লেখা পাব।
Profile Image for কিশোর রবিন সাগর.
2 reviews1 follower
March 4, 2019
"কুয়াশিয়া" বইটি হাতে পেয়েছিলাম অনেকদিন আগে, কিন্ত পড়ার সুযোগ হয়ে উঠেনি ব্যস্ততার কারণে।

আমাদের বাংলা সাহিত্যে ফ্যান্টাসি জনরাকে নিয়ে খুব একটা কাজ হয় বলে আমার মনে হয় না। আর ঠিক এখন যদি বর্তমানে নতুন ধারার বইয়ের কথা বলি, সেটা হলো কুয়াশিয়া সিরিজের প্রথম বই স্পেলমেকারের অনুসন্ধান। ৪৩২ পেজের এই বইটি পড়ে মনে হলো সাব জনরা এপিক ও হাই ফ্যান্টাসি দুটিকেই সঠিকভাবে ধরতে পেরেছে।

কুয়াশিয়া এমন একটি বই যেখানে পুরো পৃথিবী জাদুকরী শক্তি সম্পন্ন মানুষদের নিয়ে গঠিত। যে জগত জুড়ে রয়���ছে স্বপ্নদর্শী, নিমোক্যান, উইজার্ড ইত্যাদি জাতি। কিন্তু বাকিদের জাদুকরী শক্তি দেখানোর ক্ষমতা থাকলেও একমাত্র উইজার্ডদেরকেই স্পেল প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনী বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সেখানকার স্পেলগুলো তৈরি এবং প্রয়োগের অনুমতি দেয় স্পেনিক নামক একটি সংস্থা। আর এখানে যারা আইন ভঙ্গ করে তাদের জন্য রয়েছে বড় ধরনের শাস্তি।

অ্যারন এথ্রেন্ডিল একজন স্পেলমেকার এর সন্তান। সে শীতের ছুটিতে বেড়াতে এসে তার জগতের একটি পরিবর্তন ঘটতে দেখতে পায়। যার কারণে ওকে একটি মিশনে নামতে হয়। অ্যারনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ঐ মিশনের ফলাফলের উপর।

এই ফলাফল ও পরিবর্তনের বাকিটুকু জানতে হলে আপনাকেও পড়তে হবে "কুয়াশিয়া " বইটি।

চরিত্র নিয়ে যদি বলতে চাই, তাহলে আমার কাছে সামারলানের চরিত্র বেশি ভালো লেগেছে। সে এখানে একজন শেইফ শিফটার অর্থাৎ রূপান্তৃক।তার ডায়লগগুলো খুবই ভালো ছিলো। সেই সাথে অনেকগুলো হাসির কথা খুঁজে পেয়েছিলাম যা বিনোদন দিয়েছে আমাকে।

গল্পের মধ্যে অনেকগুলো ভালো টুইস্ট খুঁজে পেয়েছি। আর এই টুইস্টগুলো বইয়ের সামনের প্রতিটা পাতার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিলো। বইটি পড়ার সময় প্রথমে আমি কিছুটা আগোছালো হয়ে গিয়েছিলাম, কিন্ত পরে অবশ্য বুঝতে অসুবিধে হয়নি। আমার কাছে পুরো বইটি কাল্পনিকভাবে ভাবতে অনেক ভালো লেগেছে। আশা করি ফ্যান্টাসিকে আমাদের বাংলা সাহিত্যে অনেকদূর নিয়ে যাবেন তিনি।

বই : কুয়াশিয়া
লেখক : আশরাফুল সুমন
প্রকাশনী : রোদেলা
Profile Image for Sakib A. Jami.
347 reviews41 followers
February 3, 2023
ছোটোবেলায় ফ্যান্টাসি ঘরানার কোনো কিছুর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল হ্যারি পটার সিরিজ। তখন অবশ্য ফ্যান্টাসি শব্দের সাথে পরিচয় হয়নি। তবে হ্যারি পটারের সাথে বেড়ে ওঠেনি এমন কিশোরদের বোধহয় খুব একটা পাওয়া যাবে না। একটি জাদুর দুনিয়া, জাদুকরদের মাহাত্ম্য... সেই সাথে খলনায়কের সাথে প্রতি মুহূর্তে ল ড়া ই। হ্যারি পটার আমাদের বিনোদনের সবচেয়ে বড়ো মাধ্যম ছিল। যেই জাদুর দুনিয়ায় আমরাও হারিয়ে যেতে পারতাম।

মাঝেমাঝে মনে হতো এমন এক দুনিয়া যদি আমাদের হতো। আমাদের দেশীয় কোনো লেখক যদি এমন এক জাদুর দুনিয়া তৈরি করতে পারত! যেই দুনিয়ায় জাদু আছে। যু দ্ধে র সমস্ত উপকরণ আছে। প্রতিটি বাঁকে বাঁকে আছে উত্তেজনা, রহস্য। আমাদেরও আছে এমন এক গল্প। আজ সেই গল্পে প্রবেশ করা যাক!

▪️কাহিনি সংক্ষেপ :

সময়টা ভালো যাচ্ছে না অ্যারন এথেন্ড্রিল। তার চোখে ধরা পড়ছে এমন সব কিছু, যা তাকে পাগল করে দিচ্ছে। শুধু তার চোখেই কেন? এই পরিবর্তনগুলো কেন অন্য কেউ দেখতে পারছে না? তবে কি সে পাগল হয়ে যাচ্ছে? মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে? তার পেছনে গভীর এক রহস্য আছে। কেউ যেন কিছু বুঝতে পারছে। অ্যারনের জীবন থেকে হারিয়ে গেল তার একমাত্র প্রিয় বন্ধুটিও। যেন তার অস্তিত্বটিও ছিল না কোনোদিন। সেই সাথে অ্যারন জানতে পারল নিজের সম্পর্কে। গভীর এক ক্ষমতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে সে। সেই ক্ষমতার নাম পৃথুর্ভিক। কী এই পৃথুর্ভিক? এর ফলাফল ভালো, না খারাপ? কোনো প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

উত্তর মেলার আগেই বি ভী ষি কা নেমে এলো অ্যারনের জীবনে। অদ্ভুত দর্শন এক জীব আ ক্র ম ণ করেছে তাদের এলাকায়। সেই আ ক্র ম ন ঠেকাতে গিয়ে নিখোঁজ হলেন তার বাবা। এমন এক জায়গায় হারিয়ে গেলেন, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভবের নামান্তর। এমনই এক রাতে মাকে হারিয়েছিল অ্যারন। এবার কি তবে বাবা? বাবা ছাড়া যে তার আর আপন কেউ নেই। অ্যারন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে করেই হোক সে এর শেষ দেখে ছাড়বে। কিন্তু কীভাবে? একা একজন মানুষ আর কতটা করতে পারে?

সামারলান মেডলার এমন একজন মানুষ, যে প্রয়োজনে ভিন্ন রূপে আবির্ভাব হতে পারে। কখনো ঈগল, কখনো গরিলা, কখনো বা অন্যকিছু। তার সামনে একটা মিশন। এক রহস্য দানা বেঁধেছে। যেই রহস্য সম্পর্কে জানতেই শত্রুর রাজ্যে প্রবেশ করেছে সামারলান। যেখানে একবার ধরা পড়লেও মৃ ত্যু অবধারিত। তবুও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে শুধুমাত্র বাবার কথাতেই এই মিশনে এসেছে সে। তার অদ্ভুত ক্ষমতা আর অতিমাত্রায় বুদ্ধিমত্তায় সে জানতে পারে এমন কিছু, যার পেছনে অন্য কোনো শক্তি আছে। ওর পেছনে লেগেছে শত্রুপক্ষ। কোনো মতে জীবন বাঁচিয়ে পালানোর চেষ্টা। তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। সামারলান কি নিজেকে বাঁচিয়ে ফিরতে পারবে?

এমন পরিস্থিতিতে সামারলানের সাথে পরিচয় হয় অ্যারনের। অ্যারনকে সাহায্য করার আশায় ছুটে চলে সামারলান। সাথে মিলিত হয় আরেকজন। মিলিত হয় বললে ঠিক ভুল বলা হয়। একপ্রকার জোর করেই নিয়ে আসা হয়। মেয়েটির নাম এলিস এলফিয়্যান। নির্দোষ হয়েই দেশ দ্রোহী সাব্যস্ত হওয়ার যন্ত্রণায় যে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নিজের কাছ থেকে, সবার কাছ থেকে। নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষই এমন এক পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তবুও এলিস লড়ছে। জীবনের সবকিছু হারিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে।

অবশেষে সে-ও শামিল হলো দুই যুবকের সাথে। কেননা অ্যারনকে সাহায্য না করলে ঘোর অনর্থ হয়ে যাবে। পুরনো এক প্রফেসি জেগে উঠেছে। যা বন্ধ করতে হবে। অ্যারনের বাবাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

এর উত্তর জমা আছে কুয়াশিয়াতে। হাজার বছর আগে কী ঘটেছিল? কেনই বা জাদুকরদের হাতে শিকল পরিয়ে রাখা হয়? ইচ্ছেমতো স্পেল প্রয়োগের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে কেন? কুয়াশিয়ার গভীরে কী অপেক্ষা করছে ওদের জন্য?

এ এক অন্যরকম যাত্রা। এ যাত্রায় পথে পথে বাঁধা, নানান পরীক্ষা। সবগুলোতেই সফল হতে হবে। বিফল হয়েছ তো, জীবনের আশা সেখানেই ভুলতে হবে। দিন শেষে আলো আর অন্ধকারের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কে? অপশক্তিরা অনেক বেশি শক্তিশালী। সেখানে তিন যুবক-যুবতী কী পারবে? দেখা যাক, এ লড়াইয়ের পরিণতি কী হয়...

▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :

একটি জাদুর দুনিয়া। জাদুকরদের মিলনমেলা। এখানে আছে ষড়যন্ত্র, আছে যু দ্ধে র সমারোহ। "কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" এমন এক উপাখ্যান, যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক অচেনা দুনিয়ায়। যেই দুনিয়া আপনার কল্পনাশক্তিকে হার মানাতে বাধ্য। সেই দুনিয়ার সবকিছুই যেন খুব আপন। প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ঘটনা যেন চোখের সামনে ঘটছে। সবকিছু উপলব্ধি করার এক মহা আখ্যান। এক অদ্ভুত আবেশে ভেসে গিয়েছিলাম। যেই আবেশে ভাসিয়ে দেওয়ার মুন্সিয়ানা লেখকের। দারুণ বললেও কম বলা হয়।

ফ্যান্টাসি জাতীয় গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং। এমন এক জগৎ লেখককে তৈরি করতে হয়, যেখানে পাঠক থাকবে নিজের মতো করে। নিজেকে সেই জগতের অংশ মনে করবে। একই সাথে সেই গল্পে ভিন্নতা আনতে হবে। নতুন সব চরিত্র, সেই সাথে ভিন্ন প্রাণীর আনাগোনা না থাকলে সব যেন অপূর্ণ থেকে যায়। সেই অপূর্ণতা লেখক আড়াল করেছেন যথেষ্ট মুন্সিয়ানার সাথে। এক্ষেত্রে লেখকের প্রশংসা করতেই হয়।

"কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" মহাকাব্য লেখার জন্য লেখক যে পরিশ্রম করেছেন, তার ছাপ ছিল পুরো বই জুড়ে। এত যত্ন নিয়ে লেখক তার দুনিয়া তৈরি করেছেন সাধুবাদ দিতে হয়। পুরো বই জুড়ে সাসপেন্স, থ্রিল, টুইস্ট যেন খাপে খাপ ছিল। পাঠককে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে যেন কোনো কমতি ছিল না।

শুধু যে যু দ্ধে র গল্প, "কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" তেমনটা নয়। উপন্যাসটি গভীর এক জীবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এক জীবনে মানুষের যতগুলো উপাদান থাকা প্রয়োজন, বইটি যেন তারই পূর্ণ প্রতিফলন। বাবার সাথে সন্তানের যে বন্ধন থাকে তাই দেখানো হয়েছে। একজন মানুষ একা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে না। যার হয়তো অতীতে কোনো বন্ধু ছিল না, নতুন বন্ধুদের সানিধ্য পেয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে। প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব মমতার মতো বিষয় যেমন বইটিতে ছিল; ঠিক তেমনি করে রাগ, অভিমান, ক্ষোভ, হিংসা, দুঃখ বিশ্বাসঘাতকতার মতো মানবিক দিকগুলোও উঠে এসেছে।

কথার মারপ্যাঁচে একজনকে দারুণভাবে আটকে ফেলা যায়। আবার সেন্স অফ হিউমারে সবাইকে বিস্মিত করা যায়। "কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" এখানেই সবচেয়ে ব্যতিক্রম। একটি কঠিন মুহূর্ত, ল ড়া ই চলছে; এমন অবস্থায় পাঠকের উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা ঠিকই সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে স্বাভাবিকই। এমন অবস্থায় এমন কিছু হাস্যরস লেখক তৈরি করেছেন, সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠত। বিষয়গুলো দারুণ লেগেছে। কোনো মেকি ভাব ছিল না। যেন প্রতিটি দৃশ্যই বাস্তবসম্মত।

লেখকের লেখনী দারুণ। যদিও গল্পের শুরুতে কিছুটা আড়ষ্ট ভাব লক্ষ্য করেছি। মনে হচ্ছিল মৌলিক নয়, অনুবাদ পড়ছিলাম। অবশ্য আশি পৃষ্ঠার পর থেকে একেবারে সমাপ্তি পর্���ন্ত একেবারে সাবলীল ছিল। মূল গল্পও এই আশি পৃষ্ঠার পর থেকেই শুরু হয়। এর আগের বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনায় মূল কাহিনি অনুধাবন করতে সমস্যা হচ্ছিল।

"কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" উপন্যাসটির সবচেয়ে যে বিষয় ভালো লেগেছে, তা হলো বর্ণনা। প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি অধ্যায় বর্ণনার উপর নির্ভর করে এগিয়ে গিয়েছে। একটি ফ্যান্টাসি জাতীয় লেখায় লেখক যে দ্বিতীয় স্তরের বিশ্ব কল্পনা করেন, তা পাঠকের সামনে তুলে ধরা অনেক বড়ো চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ লেখক উৎড়ে গিয়েছেন। দারুণ বর্ণনায় লেখক সবকিছু চোখের সামনে তুলে ধরেছেন। পাঠক চাইলেই কোনো কিছু থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে পারবে না।

▪️চরিত্রায়ন :

এ জাতীয় উপন্যাসের ক্ষেত্রে প্রধান চরিত্র থাকে দুই কি তিনজন। একজন প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি দুয়েকজন থাকে তার সাপোর্টিভ রোলে। "কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" বইটির প্রধান চরিত্র অ্যারন। তার পাশে ছিল সামারলান, এলিস।

অ্যারন চরিত্র রুক্ষ, কিন্তু মমতাময়ী। দীর্ঘ সময় বন্ধুহীন একাকীত্ব জীবন পার করলে একটু রুক্ষ স্বভাব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এছাড়া এলিস নিজের জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে এসেছে। তাই যেখানেই বেঁচে থাকার একটুখানি সুযোগ হয়, সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।

বইটিতে আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র সামারলান। বেশ হিউমার সম্পন্ন, হাস্যরসে পরিপূর্ণ চরিত্রটি ছিল গল্পের প্রাণ। যে না থাকলে হয়তো অর্ধেক বইও উপভোগ করা যেত না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মজাদার কথা বা অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে হাসি এসে যেত। দারুণ এই চরিত্রকে বেশ আপন মনে হয়েছে।

এমন গল্পে খলনায়ক থাকবে। যে থাকবে আড়ালে। আর আড়ালে থেকে তার অনুচরেরা কলকাঠি নাড়বে। সর্ষের মধ্যে ভূত হয়ে বাঁধা সৃষ্টি করবে। তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই চলে। যে লড়াই জেতা কঠিন হয়ে যায়।

"কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" উপন্যাসে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী চরিত্র ছিল। বৃবি, ডলোসাস, সিফসি, কুয়াশিন... আরো অনেক ভিন্ন চরিত্রের সাথে লেখক পরিচয় করে দিয়েছেন। তাদের মানুষ ভাবল ভুল হবে। কেউ ভয়ংকর, কেউবা সুবিধাবাদী। কেউ আবার পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভয়ংকর গিয়ে উঠেছে। এছাড়া জাদুকর সকল চরিত্র নিজগুণে আলোকিত ছিল।

▪️বানান ও সম্পাদনা :

একজন সম্পাদক যখন বই লিখেন, তখন সে বই যে নির্ভূল আকারে পাঠকের হাতে পৌঁছে যাবে তা বলাই বাহুল্য। লেখক আশরাফুল সুমন একজন সম্পাদকও। তাই "কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে" বইটিতে খুব একটা সম্পাদনাজনিত ভুল লক্ষ্য করিনি। দুয়েকটা ছাপার ভুল অবশ্য ছিল। বিশাল কলেবরের বইয়ে সেটা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

▪️পরিশেষে, লেখকের ভূমিকা থেকে জানতে পারি সিরিজের সর্বমোট পাঁচটি বই আসবে। যার প্রথমটির পর এখনো দ্বিতীয়টির দেখা নেই। লেখক প্রথম বইয়েই যেভাবে বাজিমাত করেছেন, যেই আগ্রহ জাগিয়ে রেখেছেন; পরের বইয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি। হয়তো নতুন কিছুর দেখা মিলবে। দারুণ অভিজ্ঞতা হবে।

▪️বই : কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের সন্ধানে
▪️লেখক : আশরাফুল সুমন
▪️প্রকাশনী : রোদেলা
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৩২
▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০ টাকা
▪️ ব্যক্তিগত রেটিং : ৫/৫
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
May 2, 2021
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ—

❝বেইমানি এমন একটা জিনিস যেটা বেশিরভাগ সময় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে আসে।❞

বাংলার প্রথম হাই/এপিক ফ্যান্টাসি হিসেবে অত্যাধিক জনপ্রিয় বই ❛কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান❜ শেষ করার পরে মিশ্র সব অনুভূতি গোল ম্যাজিকেল স্পেলের মতো ঘিরে রেখেছিল। আবেশে যেন ভেসে যাচ্ছিলাম প্রতিনিয়ত। অভিভূত হয়েছি শুধু লেখকের মুনশিয়ানা দেখে, কতটা শ্রম উনি এই উপন্যাসের পেছনে ঢেলেছেন যেটা অকল্পনীয়। শুরুতে আড়ষ্টবোধ লক্ষ করা গেলেও কাহিনি বিভিন্ন মোড় নেওয়ার প্রতি পদে-পদে সাসপেন্স, মিস্ট্রি, থ্রিল, টুইস্ট, অ্যাডভেঞ্চার, একশন উপভোগ করা বাঞ্ছনীয় ছিল। ফ্যান্টাসি মানে শুধু রোমাঞ্চিত এক জার্নির মধ্য দিয়ে যাওয়া সেইরকম নয়, এখানে রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি কূটনীতিও বড়ো ভূমিকা রাখে। মূল ফোকাসে থাকে বড়ো কোনো ষড়যন্ত্র অথবা যুদ্ধ। যেটা হয় শুরু হবে না হয় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে।

কথার মারপ্যাঁচ, সেন্স অব হিউমার, রোমান্টিক এই বিষয়গুলো থাকবে আকর্ষণ হিসেবে তবে হাই ফ্যান্টাসি জনরায় যে বিষয়গুলোর জন্য পাঠক তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করে সেটা হচ্ছে ম্যাজিক! ❛কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান❜ উপন্যাসে এই জিনিসের কমতি আপনি পাবেন না৷ বিভিন্ন টাইপের স্পেল, সেগুলো ক্ষমতা, ব্যবহারবিধি ইত্যাদি দারুণ দক্ষতার সাথে লেখক লেখেছেন। এপিক ফ্যান্টাসি হিসেবে বিল্ডাপ করেছেন পুরোপুরি নিজস্ব এক জগৎ! যেখানে স্থান পেয়েছে উইজার্ড, রূপান্তৃক, নিকোম্যান, স্বপ্নদর্শী, ঋভিক, বৃব, সিফিস, ডলোসাস এর মতো বিভিন্ন সব চরিত্র। শ্রেণিভেদে রয়েছে তাদের ক্ষমতা, সে-ই ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ কীভাবে তারা করেছে সেটার বিস্তারিত ও রোমাঞ্চকর যাত্রা বইয়ের কোণায় কোণায় লুকিয়ে রয়েছে।

❝জীবন কখনও মনমতো হয় না, জীবনকে মনমতো বানিয়ে নিতে হয়।❞

লেখক এতেও ক্ষান্ত দেননি। বন্ধুত্ব, পিতৃস্নেহ এই মানবিক দিকগুলোর এত দারুণ প্রতিফলন ঘটিয়েছেন যে কিছুটা সময়ের জন্য আবেগপ্রবণ হতে বাধ্য। রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, দুঃখ, বিশ্বাসঘাতকতা, হিংসা, সহিংসতা, দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ বাকি নেই কোনোকিছু। কাহিনির প্রতিটা স্থানে এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করার জায়গা ছিল, লেখক সে-ই জায়গা করে দিয়েছেন বিনা দ্বিধাদ্বন্দে। একটি উপন্যাস থেকে আর কী আশা করেন? হাই/এপিক ফ্যান্টাসি হিসেবে এই বইটির খুটিনাটি সবকিছুর সাক্ষী বহন করে। আপনার জন্য এই বইটি হবে তৃপ্তিদায়ক।

➲ আখ্যান—

খুব ধীরে-ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকা পৃথিবী ভয়ংকর এক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই প্রকৃত সত্যটা কারো কাছেই ধরা দিচ্ছে না, শুধুমাত্র একজন ছাড়া—অ্যারন এথ্রেন্ডিল। নিজেকে বদ্ধ উন্মাদ ভাবতে থাকা অ্যারন শীতের ছুটিতে বাড়িতে এসে আবারো নতুন করে সেই পরিবর্তনটার সম্মুখীন হয়, যেটা তার জীবনকে গত এক বছর ধরে বিভীষিকায় পরিণত করে রেখেছে।

কিন্তু কেন হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলো? আর সেগুলো অন্যরা বুঝতে পারছে না কেন?

প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগেই রহস্যময় এক দানবের আক্রমণে অ্যারনের জীবন ধ্বংসের একদম কাছাকাছি চলে যায়। ওর ভাগ্য তাকে খুবই ভয়ংকর এক অভিযানে নামতে বাধ্য করে। সেই অভিযান, যেটার সফলতার উপর শুধু নির্দিষ্ট কারো জীবনই নয়, নির্ভর করছে আরো অনেক বড় কিছু . . .

এ কাহিনী সেই জগতের, যেখানে জাদুকরদের ক্ষমতাকে আইনের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়। ইচ্ছামতো স্পেল প্রয়োগ করার স্বাধীনতা নেই তাদের, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেলগুলো তাদেরকে বানিয়ে নিতে হয় স্পেলমেকারদের মাধ্যমে। সেই সাথে ওগুলো প্রয়োগ করার জন্য অনুমতি নিতে হয় খুব প্রাচীন এক সংগঠনের কাছ থেকে, যার নাম ‘স্পেনিক’।

কিন্তু শুধুমাত্র উইজার্ডদের জন্যই কেন এই নিয়ম? তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ভয় পাওয়ার প্রকৃত কারণটা কী?

সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এইখানে . . . কুয়াশিয়ায় . . . যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু . . .


➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

ফ্যান্টাসি—কাল্পনিক জগৎ—ম্যাজিকেল এইসব কিছু নিয়ে আলোচনা বা ব্যবচ্ছেদ করার কি���্ছু নেই। সবাই জানে ফ্যান্টাসি কী। এপিক ফ্যান্টাসির কথা আসলে প্রথমে আসবে লেখকের মস্তিক প্রসূত কোনো কাল্পনিক জগতের কথা। যেখানে সব সৃষ্টি ওনার আর উনি নিজে সৃষ্টিকর্তা। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবে পরিচালিত করতে পারবেন। বিষয়টা অনেকটা মেটামরফোসিসের দিকে চলে গেলেও বাস্তবতা অনেকটা ভিন্ন। এই ফাঁকে বলে নিচ্ছি, লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘ড্রাগোমির’ ছিল মেটামরফোসিস উপন্যাস। ওই বইটি পড়ে লেখকের প্রতি সমীহ জন্ম নিয়েছে। যে নিজের সৃষ্টি নিয়ে উনি কতটা ভাবেন। আর সে-ই ভাবনার ফলস্বরূপ পেয়েছি ❛কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান❜ উপন্যাস।

● প্রারম্ভ—

শুরুটা অ্যারন এথেন্ড্রিল চরিত্রের সূচনার মাধ্যমে। একইসাথে লেখক যে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং করেছেন সেটার একটা অংশ নীলাচল-এর পারিপার্শ্বিক বর্ণনা দিয়ে কাহিনির চাকা ঘোরাতে শুরু করেছেন। অ্যারন এথেন্ড্রিলের বাবা সার্লিক ব্রেইলিয়াস এথেন্ড্রিল হচ্ছেন নীলাচলের স্পেনিক প্রতিনিধি ও উইজার্ডিং কমিউনিটির সদস্য। তিনি মূলত একজন স্পেলমেকার। অ্যারন স্পেনিক প্রতিনিধির ছেলে হয়েও বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চিত্তের অধিকারী ছিল। পেয়েছে বাবার কাছ থেকে সবরকম পরিবেশে টিকে থাকার সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ।

শুরুতে অ্যারন তার বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে উইজার্ডিং ডুয়েল লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য মনস্থির করে। গল্পের চিত্র পালটে যায় সে-ই ডুয়েল লড়াইয়ের অ্যারিনা থেকে...! কাহিনির শুরুটা কিছুটা দোদুল্যমান হলেও সেটা কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না। তবে পুরোপুরিভাবে কাহিনি গ্রিপ করতে ৮০+ পেজ অপেক্ষা করতে হবে। কারণ লেখকের সৃষ্ট জগৎ তৈরিতে যে টাইমিং দরকার সেটার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে আর এটাই স্বাভাবিক।

● গল্প বুনন—

গল্প বুননের যে পাণ্ডিত্য লেখক দেখিয়েছেন সেটা আমাকে বারংবার অবাক করেছে। কী দারুণ ভাবে প্রতিটা সিকুয়েন্স সাজিয়ে সেগুলো আবার সমবেত করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। অনবদ্য! গল্পের যে ধাপ, আর ঘটনাপ্রবাহ পরিচালনা থেকে বিচ্যুতি তিনি হননি। অযৌক্তিক বা ফ্যাটযুক্ত কিছুই ছিল না। বর্ণনাতে হয়তো অনেকের বেশি মনে হতে পারে বাট বিলিভ অতটুকু যদি লেখক না এক্সপ্লোর করত তাহলে মজা নষ্ট হতো। ফ্যান্টাসিতে বিল্ডাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের একটি। যত বেশি দিবেন তত শক্ত হবে, হালকার ওপর ঝাপসা মারলে সেটা নিয়ে বেশিদূর আগানো কোনোভাবে যাবে না।

গল্পের সাবলীল ধারা বজায় রাখার যে শ্রম লেখক দিয়েছেন তার জন্য ওনাকে হ্যাটস অফ দেওয়া কর্তব্য।

● লেখনশৈলী—

অভিযোগ করার এই একটি জায়গা রয়েছে। প্রথমদিকের জড়তার ছাপ স্পষ্ট। তবে মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ স্মুথ ছিল। আদতে ম্যাজিকাল টার্ম বা ফাইট সিকুয়েন্সগুলো নিয়ে কথা বললে এই দিকটা দুর্বোধ্য শুরুতে লাগবে। সাহিত্যর ধারার আশপাশে দিয়েও তিনি না গিয়ে নিজের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী লেখে গিয়েছেন। এইটা আসলে ওনার সিগনেচার স্ট্যাইল। স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়তো তিনি এইভাবে করেন। কিছু পাঠকের পছন্দ হবে আবার কিছু পাঠকের হবে না। আরও কিছুটা কাজ করার থাকলে এই জায়গায় লেখক করতে পারেন।

সত্য আসলে লুকিয়ে আছে ম্যাজিকের মধ্য। ম্যাজিক তিনি লেখার মাধ্যমে ব্যবহার করেননি ঠিক কিন্তু কাহিনিতে বিভিন্ন টার্ম ব্যবহারের ফলে এমন অনেক শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার করতে হয়েছে যার কারণে লেখনশৈলীতে একটা স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড ভাইব চলে আসে৷ আমি এডজাস্ট করে নিয়েছি, নিতে হবে। না নিলে অনেককিছু থেকে বঞ্চিত হবেন।

● বর্ণনাভঙ্গি—

লেখক যেভাবে ওনার প্লট বিল্ডিং কাহিনির মাধ্যমে দাঁড়া করিয়েছেন, ঠিক ওনার কাহিনি দাঁড়িয়ে আছে সম্পূর্ণ বর্ণনাভঙ্গির ওপরে। ফ্যান্টাসিতে এই জিনিসের ক্ষমতা যদি অসীম না থাকে তাহলে দুঃস্বপ্ন আপনাতে ধরা দিবে৷ এমনিতে যে জগৎ কাল্পনিক সেখানে প্রতিনিয়ত কল্পনার আশ্রয় নিতে হয় পাঠককে এখন সেটা যদি স্বাভাবিকভাবে ভিজুয়ালাইজ করতে না পারা যায় তাহলে মরণ! তবে লেখক এই যাত্রায় কোনোপ্রকার ছাড় দেননি।

প্রতিটা সিকুয়েন্সের বিশদ বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। চরিত্রের কথোপকথন, চালচলন, ক্ষমতার ব্যবহার, ইমোশন একইসাথে পারিপার্শ্বিক ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দারুণভাবে কল্পনায় প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েকটা জায়গায় নিষ্প্রাণ ভাবের উদ্রেক হলেও পরমুহূর্তে সেটা কাটিয়ে ওঠার শক্ত ঢাল সৃষ্টি করেছেন। লেখককে শতভাগ সফল না বললেও তিনি নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সবকিছু ফুটিয়ে পূর্ণতৃপ্তি দিয়েছেন। ব্রাভো!

● চরিত্রায়ন—

কাহিনির আরেকটি অসম দিক। কমবেশ মিলিয়ে ভালোই চরিত্রের মেলা বসেছে। তবে বিশেষ কয়েকটি চরিত্র বাস্তবতার প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে মিশে গিয়েছে। সব চরিত্র নিয়ে আলোচনা করতে গেলে লেখাটি ছোটোখাটো নভেলার রূপ নিবে। রূপের কথা আসাতে একজনের কথা না বললেই নয়! সামারলান মেডলার, অ্যারনের পাশাপাশি এই চরিত্র মন জয় করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। দারুণ হিউমার সেন্স, ভোজবাজির মতো রূপ পালটে নেওয়ার ক্ষমতা, বন্ধু হিসেবে আদর্শ এই চরিত্র ভীষণ প্রিয়৷ সাথে রয়েছে এলিস এলফিয়্যান। মেয়েটির চৌকশ বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা অন্যরকম প্রশান্তি দিয়েছে। ত্যাগ করার বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে।

চমক হিসেবে রয়েছে কয়েকটি চরিত্র। ঘৃণা করার মতো চরিত্রের অভাব নেই। চরিত্রের মধ্য এতসব অনুভূতি ইনক্লুড করার পেছনে লেখকের পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানাই। জীবন্ত কিছু চরিত্র তিনি গড়ে তুলেছেন বাস্তবিক দুনিয়ার মতো করে। গল্পের চরিত্র হলেও রিলেট করার মতো কারণের অভাব নেই৷ এই উপন্যাসের আরেকটি সার্থক দিক নির্দ্বিধচিত্ত বলা যায়।

● সমাপ্তি—

একটি ফ্যান্টাসি উপন্যাসের সমাপ্তি ঠিকভাবে কীভাবে কল্পনা করেন? দুর্ধর্ষ উইজার্ড ব্যাটেল? ম্যাজিকের অগণিত ব্যবহার? চোখ ধাঁধানো ফাইট সিকুয়েন্স? সাহসের সর্বোচ্চ সীমানা অতিক্রম? ভয়াল কিছু? না-কি ক্ষমতাধর কোনোকিছু যাকে হারানো যারপরনাই সম্ভব না? আরও অনেক উদাহরণ টানতাম, টানছি না। রোমাঞ্চ সব আমি বলে দিলে বই পড়ে তাহলে কী মজা পাবেন? শুধু বলব যেভাবে হওয়া দরকার উপন্যাসের সমাপ্তি ঠিক সেইভাবে হয়েছে।

যেহেতু ❛কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান❜ একটি সিরিজ তাই পরবর্তী সিক্যুয়েলে এমন অনেককিছু লুকিয়ে আছে যেটা অকল্পনীয় ও ভয়ংকর। ডার্ক বিষয়টির সদ্য ব্যবহার এই উপন্যাসে রয়েছে। যেটি সর্বদা এক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে আগামীতেও করবে।

● খুচরা আলাপ—

নীলাচল ও নীলগিরি! পারতপক্ষে এই দুইটি চট্টগ্রামের বান্দরবানের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। লেখক এপিক ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ে স্থান বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা আকর্ষিত করেছে। সেইসাথে ইদ্রাকে ‘আসমোনিয়াম’ নামের দুর্লভ পদার্থের রহস্য, সেগুলো রক্ষাকারী ঋভিক প্রধান কৃকলাসের কাহিনিও দুর্দান্ত। তবে লেখক যে ‘ঋভিক’ শব্দটির উৎপত্তি ঘটিয়েছে সেটা এসেছে মূলত ‘ঋভু’ থেকে। ‘ঋভু’ অর্থ দেবতাবিশেষ! কিন্তু এটাকে অনেকে দানবীয় রূপ দিচ্ছে। সঠিক লেখক বলতে পারবেন। যেহেতু কৃকলাস ঋভিক হয়েও ভালো কাজ করে সেক্ষেত্রে পুরোপুরি দানব হলে দেবত্বপ্রাপ্ত কিছু তো রয়েছে। মানুষের মধ্য তো শয়তান থাকে, আর শয়তানের মধ্য শয়তান থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। দিনশেষে মানব-দানব সহ এক ঘাটের মাঝি!

উপন্যাসে কয়েকটি টাস্ক রয়েছে, যেখানে বিবৃ নামের একটি প্রাচীন গাছ রয়েছে যার কাজ হচ্ছে স্মৃতি রক্ষা করা। একইসাথে নষ্টও করা। তবে সেটার উদ্ধার পদ্ধতি আরও রোমাঞ্চকর। এই টাস্কটা যেখানে বিবৃ এমন কারও সাথে মাইন্ডগেম খেলে যেটা বেশি চমকপ্রদ। আলোর বিপরীতে যেমন অন্ধকার রয়েছে, মন্দের বিপক্ষে ভালো এখানেও রয়েছে পৃথুর্ভিকের বিরুদ্ধে পৃথালিক! কারা এই নতুন জাতি? বলছি না, বাকি আলোচনাও করছি না—করলে এই রিভিউ শেষ হবে না। ফ্যান্টাসি দুনিয়াটা হচ্ছে এমন, যে যত বলব কম মনে হবে।

সবমিলিয়ে মাস্টরিড! না পড়লে কয়েক কুয়া সমবেদনা। কারণ লেখক এই এপিক জগতের মধ্য অন্ধকার এক জগতের নির্মাণ করেছেন সেটাই হচ্ছে...! আর সে-ই জগতে ক্রিয়েচার হলো ‘কুয়াশিন’ যাদের আকার-আকৃতি বিভৎস আর কাজ ভয়ানক। এই সবকিছুর শেষে কুয়ার একটা সম্পর্ক আছে তাই কুয়ামূলক সমবেদনা জানালাম।

➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—

আশরাফুল সুমন ভাইয়ের প্রথম বই পড়েছিলাম ‘ড্রাগোমির’। সত্য কথা বলতে লেখনশৈলী যা-ই হোক, প্লটে ওনার ক্রিয়েটিভিটি অসামান্য। ইউনিক কিছু তৈরিতে উনি কার্পণ্য করেন না। ❛কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান❜ উপন্যাস পড়ে সে-ই আশ্বাস কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই আগামীতে যত প্রজেক্ট হাতে নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন সবগুলোর জন্য শুভকামনা৷ ‘মাদার ন্যাচার’ শীঘ্রই পড়ে ফেলব৷ আর কুয়াশিয়ার দ্বিতীয় খণ্ড যত দ্রুত সম্ভব পাবলিশ করা হোক৷

● সম্পাদনা ও বানান—

কয়েকটা জায়গায় বাক্যে অসামঞ্জস্য লেগেছে। তবে সেগুলো কেয়ার করছি না কারণ এই বই অলরেডি ১২ বার এডিট লেখক দিয়ে ফেলেছেন তাই আসলেই আর বেশিকিছু দেওয়া সম্ভব না। তবে বানান ভুল অনেক ছিল সাথে কিছু টাইপো। তৃতীয় মুদ্রণ বা দ্বিতীয় সংস্করণে সেগুলো ঠিকঠাক করে নিলে ভালো হয়।

কাইমিরা নামক যে মিথলজিক্যাল দানবের নাম বারবার এসেছে সেটি মূলত গ্রিক উপকথার ‘কাইমেরা’ যেটা টাইফুন নামের দানবাকার সাপ ও তার অর্ধ-মানবী স্ত্রীর সন্তান। লেখক ইচ্ছে করে কাইমেরা-কে কাইমিরা বলছেন কি-না বোধগম্য হচ্ছে না।

● প্রচ্ছদ, অলংকরণ—

প্রচ্ছদ করেছেন সময়ের সেরা শৈল্পিক প্রচ্ছদ শিল্পী জুলিয়ান ভাই৷ এখনকার কাজের সাথে ২০১৮ সালের কাজের তুলনা দিয়ে লাভ নেই৷ তবে যতটুকু দিয়েছেন তারচেয়ে আরও বেটার কিছু তিনি দিতে পারতেন। ‘মাদার ন্যাচার’ একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ।

● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—

বইয়ের প্রোডাকশন ভালো। বাঁধাই, মলাট সবকিছু। সাদা কাগজ হিসেবে ঠিকঠাক। বইটা আরাম করে পড়তে পেরেছি এইটা শান্তি।

➠ বই : কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান | আশরাফুল সুমন
➠ জনরা : হাই/এপিক ফ্যান্টাসি
➠ প্রথম প্রকাশ : একুশে বইমেলা ২০১৮
➠ দ্বিতীয় মুদ্রণ : সেপ্টেম্বর ২০১৯
➠ প্রচ্ছদ : রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
➠ প্রকাশনা : রোদেলা
➠ মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০ টাকা মাত্র
➠ পৃষ্ঠা : ৪৩২
Profile Image for Eva Mojumder.
73 reviews1 follower
December 14, 2023
আচ্ছা, যদি একদিন ঘুম থেকে জেগে দেখেন আপনার প্রিয় কদমফুল গাছটা আর আগের জায়গায় নেই। আগের জায়গায় নেই কি বলছি? কোত্থাও নেই! সেই স্থান দেখে মনেই হচ্ছে না কখনো এখানে কোনো গাছ ছিল। এর কয়েকদিন পর দেখলেন আপনার প্রিয় সেই আড্ডাখানাটাও আর নেই। সেই জায়গায় এসে স্থান করে নিয়েছে একটি বড়সড় জলাশয়। এরও কিছুদিন পর দেখলেন আপনার খুবই প্রিয় একটা মানুষ উধাও। উধাও মানে উধাও! এই পৃথিবীর কোথাও তার কোনো অস্তিত্বই নেই। আর এই যে সব পরিবর্তন, এ পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র আপনার কাছেই ধরা দিচ্ছে। বাকি কেউই এর অভাববোধ করছে না। আরো সহজ করে বলতে গেলে ওদের অস্তিত্ব সকলের কাছ থেকে বিলীন হয়ে গেছে। এই সত্যিটা জানতে পেরে কেমন লাগবে তখন আপনার? নিজেকে কি উন্মাদ মনে হবে? নিজের অতিরিক্ত ভারী মাথাটাকে বয়ে কি অ্যাসাইলামে ছুটবেন? নাকি এসকল কিছুর পিছনে ঘটা রহস্যের সমাধানে উন্মত্ত হবেন? আর তেমনই এক ঘটনা এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এক পৃথিবী ও তার রহস্যকে নিয়েই লিখা হয়েছে আশরাফুল সুমনের ‘কুয়াশিয়া’।

◾কাহিনিসংক্ষেপ—
ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে পৃথিবী। পৃথিবীর থেকে খুবই ধীরগতিতে মুছে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণের অস্বিত্ব। স্রেফ মুছে যাওয়া যাকে বলে! অন্যকেউ তাদের অস্বস্তিকে এতোটুকুও অনুভব করতে পারছে না। শুধুমাত্র একজন বাদে। অ্যারন! তার পরিচিত পৃথিবীটা চোখের সামনে পরিবর্তিত হচ্ছে দিনকে দিন। চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না সে। প্রতিনিয়ত নিজেকে পাগল ভাবতে শুরু করেছে। তবুও সে জানে, এই পরিবর্তন পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ শুধু আশংকা নয়, বরং তার বিশ্বাস।

এরইমাঝে পৃথিবী এক ভয়ানক ও অপরিচিত জন্তুর আক্রমনের শিকার হয়েছে। অদ্ভুত এই জন্তুটি কোনো এক অজানা কারনে অ্যারনের বাবা ব্রেইলিয়াসের উপরই বারবার তার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাবার এই শোচনীয় সময়ে বাবার নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ঘরের বাহিরে পা রাখলো অ্যারন। তাকে যে করেই হোক বাবাকে বাঁচাতেই হবে। কিন্তু বাবার সংগঠনের এতোগুলো মানুষ থাকার পরেও তারা কেন বাবাকে এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করছে না, সে জানে না। এমনকি অ্যারনকে সামনে এগুতে দিতেও নারাজ সংগঠনটির সদস্যরা। সকল বারণ উপেক্ষা করে অ্যারন এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। ভয়ানক যুদ্ধের পর সে জন্তুটিকে হত্যা করতে সক্ষম হলেও অবাক হয়ে খেয়াল করলো জন্তুটি ধীরে ধীরে কুয়াশায় পরিণত হচ্ছে। আর কোনো এক দৈব বলে কুয়াশার এ উড়ন্ত পিন্ডটি ওর বাবাকেও চুম্বকের মতো নিজের মধ্যে টেনে নিচ্ছে। একসময় তার বাবাকেই নিয়েই অদৃশ্য হয়ে গেলো এই ভয়াবহ জন্তুটি।

বইটিতে দুটো ঘটনা সমানতালে এগিয়েছে। একদিকে সামারলান ও অন্যদিকে অ্যারন। চলতে চলতে দুজনের পরিচয় আর এরপর একইসাথে নিজেদের পথচলা শুরু। সামারলান হলো অ্যারনের বাবার বন্ধুর ছেলে। পরিচয়ের প্রারম্ভে এ ব্যাপারটা জানতে পারে উভয়েই। অ্যারনের পৃথিবী বদলে যাওয়া, ওর বাবার বিলীন হয়ে যাওয়ার ঘটনার সমান্তরালে সামারলানের জীবনেও অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছিল। সে নীলাচলে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসেছে হুমকির মুখ থেকে নীলগিরিকে বাঁচাতে। আর এতোসব ঘটনায় ওকে সর্ব সময় সাহায্য করছে ওর বাবা আইসেলিয়ান ও চাচা মিরাজ। যারা নীলগিরির উর্ধ্বতন কর্মকতা ও অ্যারনের বাবার বন্ধুও বটে। তাদেরকে জাদুকরও বলা চলে অবশ্য। আর এই জাদুর বলে ও স্পেলের সাহায্যেই এতোদূর থেকেও তারা সামারলানকে সাহায্য করতে পারছে।

সামারলান একজন রূপান্তৃক; যে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে। কখনো গরিলা, কখনো ঘোড়া, কখনো মেন্টিকোর বা যেকোনো কিছু। এই রূপান্তরের ব্যাপারটা ওর নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু সে নিজের ইচ্ছে মতো রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যদিকে, জন্মগতভাবেই অ্যারন তার ভেতরে এক অদ্ভুত ক্ষমতা বয়ে বেড়াচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে ক্ষমতাটিকে জাদুকর বলা হলেও সে একজন পৃথুর্ভিক। যে নিজের ইচ্ছায় সবরকম ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারে না। বরং এরজন্য তাকে উপরমহল থেকে অনুমতি ও স্পেলমেকারদের দিয়ে স্পেল তৈরি করে নিতে হয়। কিন্তু কেন এই সীমাবদ্ধতা? রূপান্তৃক, নিকোম্যান, স্বপ্নদর্শী, ঋভিক, বিবৃ এদের কাউকে তো নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে কারো অনুমতি নিতে হয় না। তাহলে উইজার্ডদের জন্যই কেন এতো আইন? এ কি কোনো ভুলের শাস্তি? নাকি অপরাধের?

সামারলান ও অ্যারনের লক্ষ্য এক, তবে কিছুটা ভিন্নতা আছে। অ্যারন চায় তার বাবাকে উদ্ধারের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে এক কালো ছায়া কুয়াশিয়ার হাত থে���ে রক্ষা করতে। অ���্তত বাবাকে ফিরে পাওয়ার জন্য হলেও তাকে সফল হতে হবে, এটাই তার প্রতিজ্ঞা। অন্যদিকে, সামারলান কুয়াশিয়া ও পৃথিবীর সমতা রক্ষা করে চিরদিনের জন্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়। যার জন্য তার অ্যারনের সফলতা ও সাহায্যের প্রয়োজন। আর তবেই এতো বছর পর ফিরে আসবে প্রাচীন এক রহস্য। ওই প্রফেসিটা তো সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। যদিও সামারলানের কাছে সবার উপর তার বন্ধুত্বই স্থান পায়। যার ফলে তাদের চিন্তাধারার ভিন্নতা হলেও কর্ম ও ফলাফল একই। ভ্রমণে বের হওয়ার পূর্বমুহুর্তে নতুন এক সঙ্গীর সাথে আলাপ হয় অ্যারনের। মেয়েটির নাম এলিস। যে নিজেও একজন বিতাড়িত স্পেলমেকার ও সামারলানের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সামারলানের জোরাজুরিতে সেও যোগ দিয়েছে এই জীবন-মরণ এডভেঞ্চারে। তবে এই পুরো ঘটনায় এলিসের ভূমিকা একদমই কম নয়। বরং সমানে সমানে।

কিন্তু এতো যুদ্ধ, র-ক্ত, রহস্যময়তা, প্রাণ এসবের মূল্যে কি অবশেষে মিলবে শান্তি? সিত ও অসিতের অসমতা দূর হয়ে কি পৃথিবী ও কুয়াশিয়ার মধ্যকার যু-দ্ধ বন্ধ হবে? কিন্তু সিত ও অসিত তো পয়সার এপিঠ-ওপিঠ। কোনোটাকেই সম্পূর্ণ বিলীন করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমতা প্রদান তো সম্ভব! আর সেটা করতে পারে একমাত্র প্রাচীন সেই রহস্য, শৃঙ্খলার প্রতীক। কিন্তু হিতে বিপরীত হবে না তো? কোনোভাবে সামারলান, অ্যারন ও বাকি সবাই ভুল পথে পা বাড়ায়নি তো? প্রফেসিটার অন্য কোনো মানে নেই তল? তবে কি পৃথিবীতে ঘটতে চলেছে পরবর্তী মহাযু-দ্ধ?

◾পাঠপ্রতিক্রিয়া—
প্রতিনিয়ত যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, রাজনীতি করে টিকে থাকা দুনিয়া এটি। যেখানে আছে জাদুর মেলা ও জাদুকরেরা। স্পেল দিয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে। তবে তা অনুমতি সাপেক্ষে। নয়তো আছে শাস্তির বিধান। আর তাই পৃথুর্ভিকরা নিজেদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ কখনই পায় না। কেননা এতে ধ্বংস ছাড়া নতুন কিছুই হবে না। ‘কুয়াশিয়া- স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’ নামটা থেকেই খানিকটা রহস্যের গন্ধ টের পাওয়া যায়। সাথে এ-ও অনুমান করা যায় যে, স্পেল ও উইজার্ডরাই এ বইয়ের মূল উপজীব্য বিষয়।

বইটি আপনাকে মুহূর্তের মধ্যে নতুন এক পরিবেশ, নতুন এক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে। যদি ঘটনাগুলো ঠিক মন থেকে উপলব্ধি করতে পারেন আর আপনার কল্পনাশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন তবেই। প্রতিটি মুহূর্তে যেন এক উত্তেজনা কাজ করবে তখন। এরপর কি হবে, এরপর কি হবে এ ভাবনা থেকে বেরুতে পারবেন না। একের পর এক টুইস্ট আর নতুন রহস্য এসে ভিড়বে সামনে। তবে অতিরিক্ত যু-দ্ধ ও একশন সীনগুলো নিতে পারছিলাম না আমি। বলতে গেলে ঠিক হজম হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল হৃৎপিন্ডটা লাফাতে লাফাতে গলায় এসে আটকে যাবে।

এসব ঘরানার বইতে সাধারণত মূল চরিত্রে দুই থেকে তিনজনকে দেখা যায়। তবে এরমধ্যেও একজন থাকে প্রধান আর বাকিরা সাপোর্টিভ। এখানে সামারলান ও এলিসকে সাপোর্টিভ চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে আমি এদের দুইজনকে কোনো অংশেই প্রধান চরিত্র থেকে কম দেখতে পাইনি। বইটিতে শুধু যে যুদ্ধ-বিগ্রহ আর হানাহানি দেখানো হয়েছে ব্যাপারটা তেমন নয়, বরং আমি বেশ কিছু বন্ধন দেখতে পেয়েছি বইটিতে। বাবা-ছেলের বন্ধন, একাকী এক ছেলের হঠাৎই নতুন বন্ধু হওয়া এবং নতুন বন্ধুদের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া। বইটিতে আছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা, স্নেহ, মমতার এক অফুরন্ত ভান্ডার। কোথাও কোনো ত্রুটি পাইনি আমি। আমার মনে হয়েছে যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, লেখক তার ভান্ডার থেকে ঠিক ততটুকুই ঢেলে দিয়েছেন। ওহ্! এতোগুলো চরিত্র সৃষ্টির পেছনের কারিগরিকে নিয়েই তো এখনো কিছু বললাম না...

ঠিক কিভাবে বললে আমার মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারবো জানি না। তবুও কিছু বলা উচিত, নয়তো অবিচার হবে। সত্যি বলতে লেখকের প্রতিভা, তার পরিশ্রমের কথা যেন কুয়াশিয়া বইটি নিজে থেকে জানান দিচ্ছিল। লেখকের লিখনশৈলী, প্রতিটা চরিত্রের বিল্ডআপ, ঘটনার সামঞ্জস্যতা ও প্রবাহমানতা, শব্দের প্রয়োগ সবটাই আমার কাছে অন্তত জটিল মনে হইনি। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে যেরকম উত্তেজনা নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত লেখক সেটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বরং মাঝে মাঝে এক্সাইটমেন্ট তার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। কারন, একশন সীনগুলো খুব দ্রুতই একের পর এক আসছিল।

আরেকটা ব্যাপার যেটা হলো, ইউনিক প্লট। বইটিতে লেখক যে তার কল্পনার সর্বাংশ ঢেলে দিয়েছেন তা বলতে দ্বিধা নেই। জাদুকর, রূপান্তৃক, কুয়াশিয়া, কুয়াশিন, পৃথুর্ভিক, পৃথালিক, নিকেম্যান, স্বপ্নদর্শী, বিবৃ, ডলোসাস, ঋভিক মিলিয়ে বড়সড় ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডটিকে লেখক একটু একটু করে তৈরি করেছেন। প্রতিটা লাইন লিখতে যে লেখকের অসীম পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে তা তার লেখনীতেই স্পষ্ট এবং প্রত্যেকটা ঘটনার বর্ণনা ভঙ্গি ছিল অসাধারণ। বইটিতে চরিত্রের ছড়াছড়ি। আর আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজ নিজ জায়গায় সেরা। যাকে বলে মেদহীন লেখা আরকি!

◾আমার বিশ্লেষন—
এতো বড় বইটা আর ঘটনাগুলো যেভাবে একটার সাথে অন্যটা সম্পর্কযুক্ত, তাই পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে মনে রাখাটা একটু কঠিনই বটে। তবুও যেটুকু মনে আছে তা থেকেই কিছু বিশ্লেষণ করতে চাই।

১.যেহেতু বইটা একটা সিরিজের অন্তর্ভুক্ত এবং সামনে এর আরো চারটি বই আসবে, তাই এটায় সব রহস্যের সমাধান পাবো তা ভাবাও বোকামি। তবুও বইয়ের এন্ডিংটা আমাকে হতাশ করেছে। এমন জায়গায় এসে শেষ হলো যেন মাত্র গল্পের মাঝে আছি আমরা। অথচ অনেকগুলো পথ বাঁচিয়ে আমরা এ পর্যন্ত এসেছিলাম। আমার ধারণা সর্বশেষ সভাটিতেই যেকোনোভাবে এন্ডিং দেওয়া যেতো বা সভাটার পূর্বেই একটা সুন্দর এন্ডিং দেওয়ার মতো সময় ছিল।

২. অ্যারন বস্তুগুলোর গায়েব হওয়া অনুভব করতে পারতো, অন্যকেউ পারতো না সেটা মেনে নিলাম৷ কিন্তু কেউ কিভাবে ওগুলোর অস্তিত্বই সম্পূর্ণ ভুলে যেতে পারে? এমনকি নিজের ছেলেকেও? আমরা ধরে নিতে পারি সেটা জাদুর প্রভাবে। কিন্তু বইয়ে এ ব্যাপারটা ক্লিয়ার করা হয়নি। আশা রাখি, পরবর্তী বইয়ে এর উত্তর পাবো।

৩. কিছু কিছু শব্দে জটিলতার ছোঁয়া পেয়েছি। যার কারনে আমার নিজেরও বুঝতে খানিকটা অসুবিধা হচ্ছিল। আর এতো এতো ঘটনা প্রবাহে বারবার আগের পৃষ্ঠাগুলো উল্টিয়ে শব্দগুলোর মিল খুঁজে বের করতে হয়েছে। আমি জানি না এটা আমার অক্ষমতা নাকি লেখকের খানিক দুর্বলতা!

৪. তবে একটা ক্রেডিট লেখককে দিতেই হয়। বইটিতে কিছু কিছু শিক্ষনীয় বিষয় পেয়েছি আমি। অ্যারনকে বলা তার বাবার উপদেশ বা সামারলানকে বলা তার বাবার উপদেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৫. আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম লেখক কিভাবে নতুন নতুন ম্যাজিকের অবতারণা করেন আর সেগুলো প্রয়োগ ও উদ্ভাবনের নতুন পদ্ধতিও তৈরি করেন। বিশেষ করে এলিসের তিনটি পরীক্ষার কথা মাথায় আসছে। কিভাবে তিনি বাস্তব তিনটি সত্যকে উপজীব্য করে ফ্যান্টাসি আকারে প্রকাশ করেছেন, সত্যিই ব্রিলিয়ান্ট।

৬. বইটির সবচেয়ে ভালো দিক ছিল কাহিনির নিজ গতিতে ছুটে চলা। কখনো এক জায়গায় থম মে-রে থাকেনি। তবে একটা খারাপ দিকও আছে। চরিত্রদের ডেলিভারি করা সংলাপগুলো। কখনো কখনো মনে হয়েছে সংলাপগুলো আরেকটু বুদ্ধিদীপ্ত হওয়া উচিত ছিল। তবে একেবারেই যে কৃত্রিম মনে হয়েছে তা নয়! কাহিনির ভেতর ঢুকে যেতে পারলে এটা ইটস্ ওকে টাইপ ব্যাপার হয়ে যাবে।

৭. আরেকটা হলো অন্ধকার জীবনের দানবরা বা কুয়াশিয়ায় বাস করা জীবেরা যখন ওহ গড, ইটস্ ফাইন টাইপের ইংরেজিগুলো বলছিল তখন খুবই অদ্ভুত লাগছিল। পৃথিবীর জীবেরা বললে সেটা মানা যায়, কিন্তু কুয়াশিয়ার জীবেরা কি করে ইংরেজি শিখলো? যদিও জানি আমি অভিযোগটা অম��লক, তবুও এই ব্যাপারটা আমার মনে খচখচ করছিল।

৮. আমি সবচেয়ে বেশি চমকেছিলাম প্রফেসিটার আসল মানে জেনে। তবে আসল কালপ্রিটকে জানার পর চমকাইনি আমি। কারন, আমার অবচেতন মন বিষয়টাকে ধরে ফেলেছিল। পৃথালিক তৈরি হওয়ার আসল উপায় ও পদ্ধতি জানার পরই আমার সন্দেহ ওটার দিকে ঘুরে গেছিল। তবে সামারলানের বাবা ও চাচাকেও সন্দেহ হতে ছাড়েনি আমার মন। বরং মনে হচ্ছে পরবর্তী বইয়ে এরচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছে...

◾চরিত্রায়ন—
অ্যারন চরিত্রটাকে বাহির থেকে শামুকের মতো শক্ত মনে হলেও ভেতর থেকে মোলায়েম। আর সামারলানের সিরিয়াস মুহূর্তে মজা করার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। যা সময়ের সাথে সাথে অ্যারনের মাঝেও স্থানান্তরিত হয়েছে। ইহাকে সামারলান ‘মেডলার ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করেছে। কারণ, তার নাম সামারলান মেডলার। এছাড়াও এলিস একটু গম্ভীর প্রকৃতির হলেও একটা মনকাড়া চরিত্র সে। যে কিনা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের ভীষণ ঘৃণা করে। যদিও তার যথেষ্ট কারণ আছে।

আমার প্রিয় চরিত্রটি হলে সামারলান। হাস্যরসে পরিপূর্ণ এই চরিত্রটির টানেই আমি মূলত শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এতো দ্রুত এসে পৌঁছেছি। বাঘের মুখে বসেও সে বাঘের হুংকারের মিমিক্রি করে তাকে রাগিয়ে দেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে। পুরো বইয়ের মাঝে এলিস, সামারলান ও অ্যারনের বন্ডিংটা দারুন ছিল। পাশাপাশি অ্যারন ও ব্রেইলিয়াসের বন্ডিংও..

◾ভালোলাগার কিছু উক্তি—
১. বেঈমানী এমন একটা জিনিস যেটা বেশিরভাগ সময় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে।
২. নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতাটা লুকিয়ে রাখার সুবিধা হলো, লোকে যখন তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তখন তারা তোমার ক্ষমতা সম্পর্কে না জেনেই করবে। আর যখন তারা আক্রমণ করবে, তারা বিফল হবে।
৩. একজন প্রকৃত বীর সে-ই, যে জানে যে তাকে কখন থামতে হবে।
৪. জীবন কখনো মনমতো হয় না, জীবনকে মনমতো বানিয়ে নিতে হয়।
৫. ইতিহাস লিখা হয় জয়ীদের হাতে, পরাজিতদের হাতে নয়।
৬. প্রকৃত ক্ষমতাবান সে নয় যে তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়াটা ব্যবহার করে ধ্বংস ডেকে আনে, বরং সে, যে নিজের অসীম ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

◾প্রচ্ছদ প্রোডাকশন ও সম্পাদনা—
প্রচ্ছদটা দারুণ। প্রথম দেখায়ই ভীতিকর এক অনুভূতির উদ্রেক করছিল। কিন্তু বইটা পড়া শেষে মনে হচ্ছে এটি সত্যিই ভীতিকর আর এই প্রচ্ছদটাই বইটার জন্য যুতসই।
তবে বইটার বাইন্ডিং ভালো হইনি। হাতে নিয়ে পড়তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি পেজ খুলে হাতে চলে আসবে। ভীষণ নড়বড়ে অবস্থা।
সম্পাদনার ভুল একদমই নেই। দুই একটা ভুল চোখে পড়েছে কিনা তাও খেয়াল নেই। এমন কোনো ভুল থেকে থাকলেও তা নির্দ্বিধায় ছাপার ভুল হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। লেখক সাহেব যেহেতু সম্পাদকও বটে, তাই এলিসের মতো সে নিজেও তার পরীক্ষায় পাশ করেছে।

পরিশেষে, যাদের কল্পনাশক্তি যত বেশি তারা এ বইটি পড়ে তত বেশি মজা পাবে বলেই আমার ধারণা। বইটা পড়ার মনে হচ্ছে আমার কল্পনাশক্তি দারুণ!

বই: কুয়াশিয়া - স্পেলমেকারের অনুসন্ধান
লেখক: আশরাফুল সুমন
জনরা: ফ্যান্টাসি
প্রকাশনী: রোদেলা
প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা
Profile Image for Aadrita.
278 reviews229 followers
September 10, 2021
দেশী লেখকের বাংলায় লেখা হাইফ্যান্টাসীর খোঁজ পাওয়ামাত্র কিনে ফেলেছিলাম বইটা। ফ্যান্টাসীপ্রেমী হিসেবে খুবই এক্সাইটেড ছিলাম এবং কুয়াশিয়া আমাকে হতাশ করেনি।

চমৎকার ম্যাজিকাল ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং, বিচিত্র ক্যারেক্টার, ম্যাজিকাল জীবজন্তু, কাহিনীর টুইষ্ট, দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়েন্স বর্ণনা সবই আছে বইতে।

ফ্যান্টাসী পাঠকরা বইটা কিনুন, পড়ুন এবং লেখকে পরের পার্টগুলো লিখতে উৎসাহিত করুন!
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books285 followers
February 20, 2018
অন্যান্য দেশে ফ্যান্টাসী জনরাটা সাহিত্য জগত + মুভি ইন্ডাস্ট্রির একটা বিরাট জায়গা দখল করে থাকলেও দুঃখজনক ভাবে বাংলাদেশে এই জনরার তেমন একটা প্রচলন নেই। বরং কেউ যদি টুকটাক কিছু লিখার চেষ্টা করেন সেখানে “জ্ঞানী-গুনীরা” এসে বলেন, ছ্যাঃ ও আবার কোন সাহিত্য নাকি? কি আছে ওতে? যাই হোক কি আছে না আছে সে তর্কে আমি যাবো না, শুধু এটুকুই বলবো, কেউ ডিফারেন্ট কিছু করতে চাইলে সেটা ভালো হোক বা মন্দ হোক তাকে টেনে নামিয়ে ফেলা আমাদের নতুন অভ্যাস নয়।

এরকম বাধা সত্ত্বেও আশরাফুল সুমন ভাই যে ফ্যান্টাসী লিখার সাহসটা করেছেন, সেজন্যে তাকে সবার আগে সাধুবাদ জানাই।
এবার আসি উপন্যাস ‘কুয়াশিয়া’ প্রসংগে।

উপন্যাসের প্রথম অংশটাই শুরু হয় একটা রহস্যের মধ্যে দিয়ে, যেখানে রাতারাতি কিছু আশ্চর্ষ ঘটনা ঘটে যেটা উপন্যাসের প্রটাগনিষ্ট অ্যারন এথ্রেন্ডিল ছাড়া কারো চোখে দৃশ্যমান হয় না। উল্টো সে কাউকে বলতে গেলে সবাই তাকে পাগল ঠাউরায়। এমনকি নীলগিরি কেন্দ্রের প্রধান স্পেলমেকার ব্রেইলিয়াস এথেন্ড্রিল অ্যারনের বাবা, তিনিও অ্যারনের মস্তিষ্ক বিকৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু অ্যারন ঠিকই বুঝতে পারে সে মোটেও ভুল কিছু দেখছে না। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে সাবধান করে দেয় যে কিছুদিনের মাঝেই ‘কিছু একটা’ হতে যাচ্ছে। শেষ মেষ অ্যারনের ধারণাটাই সত্যি প্রমাণ হয়। একদিন একটা অদ্ভূত জন্তু এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে নীলাচলের শান্তি প্রিয় বাসিন্দাদের বুকে, ঠিক যেন ভোজবাজির মত। প্রধান স্পেলমেকার হিসেবে সবাইকে বাঁচাবার লড়াইয়ে এগিয়ে যায় অ্যারনের বাবা। আর তখনই অ্যারনের বাবাকে নিয়ে গায়েব হয়ে যায় কিম্ভূতকিমাকার সেই জন্তুটি। ছোটবেলায় এমনি এক ঘটনায় মাকে হারায় অ্যারন। তখন ছোট ছিলো বলে মাকে বাঁচাতে পারেনি অ্যারন, কিন্তু এবার আর অ্যারন হাল ছাড়তে রাজি নয়। একমাত্র আপনজন বাবাকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠলে, অ্যারন জানতে পারে অদ্ভুত এক সত্য। জানতে পারে এই পৃথিবীর সাথে আছে এক ভয়ানক পৃথিবী, যা কুয়াশিয়া নামে পরিচিত। আর সেই কুয়াশিয়াতে বসবাসরত প্রানীই ধরে নিয়ে গেছে তার বাবাকে। সেখানে সাধারণ কোন কিছু চলে না, ওখানে গিয়ে টিকে থাকলে হলে জানতে হয় উচ্চ পর্যায়ের ম্যাজিক। তা সত্ত্বেও অ্যারন সিদ্ধান্ত নেয়, বাবাকে বাঁচাতে যে কুয়াশিয়াতেই যাবে, তাতে যত ঝুঁকিই থাকুক। আর এভাবেই শুরু হয় বাবাকে বাঁচানোর জন্য অ্যারনের যাত্রা। যেখানে নীলগিরি কেন্দ্রের প্রধান স্পেলমেকার ব্রেইলিয়াস আটকা পড়েছেন কুয়াশিয়ার ফাঁদে সেখানে সাধারণ অ্যারন কি পারবে ম্যাজিকের জাল থেকে তার বাবাকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে? সেটা জানতে হলে পড়তে হবে ‘কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’।


সত্যি বলতে কি উপন্যাসের প্লটটা বিশাল বড়, আমি খুব হিসেব করে এমনভাবে লিখেছি যাতে করে স্পয়লার হয়ে না যায়। কারণ আমি চাই, কোন রকম কি-ওয়ার্ড ছাড়া পাঠক উপন্যাসটি পড়ুক। ফ্যান্টাসী জগতে আমি যেভাবে হারিয়ে গেছি আমি চাই পাঠকও সেভাবে হারিয়ে যাক। শুধু একটা কথাই বলতে পারি, যারা ‘লর্ড অফ দ্যা রিংস’, ‘হ্যারি পটার’, ‘পার্সি জ্যাকসন’ এর ভক্ত তাদের জন্য ধারণাতীত হবে এক উপন্যাসটি। আর যারা থৃলার পড়েন, তারাও পড়ে দেখুন। নিশ্চিতভাবে ফ্যান্টাসীর প্রেমে পড়ে যাবেন। আর তাছাড়া আশরাফুল সুমন ভাইয়ের লেখনী, মেদহীন ফাস্ট পেস ফরোয়ার্ডিং, অ্যাডভেঞ��চার, ম্যাজিকাল স্টাফ সবমিলিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে রাখবে পাঠককে। এরকম উপন্যাস আরো আসুক, এমনটা দাবী রইলো আশরাফুল সুমন ভাই সহ, এই বই থেকে অনুপ্রাণিত সকল নতুন লেখকের প্রতি।
Profile Image for Linking Saßßir.
33 reviews3 followers
July 28, 2020
"কুয়াশিয়া- স্পেলমেকারের অনুসন্ধান"
আর কত বিদেশি লেখকের ফ্যান্টাসি পড়বো? তাই ভাবলাম এবার না হয় দেশীয় লেখকের ফ্যান্টাসি পড়ে দেখি। তাই দেরি না করেই বইটি অর্ডার করলাম।
যথারীতি বইটি মুগ্ধ করেছে। আশরাফুল সুমন ভাই তার অসাধারণ লেখনি দিয়ে নিয়ে গেলেন এক অনন্য জাদুকরী দুনিয়াতে। যেখানে যাদু আছে যাদুকর আছে কিন্তু ইচ্ছেমতো যাদু করার ক্ষমতা নেই। এখানে স্পেলমেকাররা স্পেল তৈরী করে দেয় জাদুকরদের জন্য।
অসাধারণ কল্পশক্তির ব্যবহার ও শব্দ চয়নের পারদর্শীতা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
একবার মনে হচ্ছে বইটি আগে পড়ি নি কেনো। আবার মনে হচ্ছে বইটি শেষ করলাম কেনো। দ্বিতীয় পর্বের জন্য আর তর সইছে নাহ।  
Profile Image for Tauhid Itul.
47 reviews29 followers
December 23, 2019
৩.৫

ফ্যান্টাসি উপন্যাসের জন্য খুবই ভালো একটা প্লট। চরিত্র আর যাদুর জগতের গঠন প্রণালী যথেষ্ট ভালো লেগেছে। পর্যাপ্ত পরিমানে একশন ছিল, শেষ অংশে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও জানা গিয়েছে।

কিন্তু সবকিছুর বর্নণাই কেমন যেন আড়ষ্ট লেগেছে। শুরু করে কয়েবারে ভেংগে ভেংগে পড়তে হয়েছে।
বিভিন্ন চরিত্রগুলোকে এবং যাদু-বিদ্যার শব্দগুলোকে বই এর শেষে অল্প কথায় আলাদা ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেত আর একটা ম্যাপ দরকার ছিল।

কাহিনী যেখানে শেষ হয়েছে - বুঝাই যাচ্ছে সামনে আরো খন্ড আসবে। বাকি খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Opu Tanvir.
113 reviews3 followers
July 2, 2019
লম্বা সময়ের রিডার্স ব্লক কাটিয়ে একটা বই পড়ে শেষ করতে পারলাম । মনে হচ্ছে রিডার্স ব্লকটা কেটে গিয়েছে । কাল রাতে বইটা শেষ করতে পেরেছি । বইটার নাম “কুয়াশিয়া” । লেখক আশরাফুল সুমন । আধুনিক রূপকথার গল্প অর্থ্যাৎ বইটার ধরন ফ্যান্টাসি । বাংলা ভাষায় বাংলাদেশী লেখকদের লেখা ফ্যান্টাসি গল্প আমি এর আগে পড়েছি বলে মনে পড়ে না । ছোট খাটো গল্প পড়া হয়েছে কিন্তু বিশাল সাইজের ফ্যান্টাসি উপন্যাস আমার এই প্রথম । সেই হিসাবে লেখক সাহেবকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ ।
উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ টা শুরু অ্যারেন কে নিয়ে । অ্যারেন আস্তে আস্তে বুঝতে পারে তার আশে পাশে সব কিছু ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন টা সে ছাড়া আর কেউ বুঝতেও পারছে না । নিজেকে এক সময় পাগল ভাবতে শুরু করে সে । ভাবে হয়তো তার মাথা হয়তো খারাপ হতে চলেছে । কেন তার সাথে এমন হচ্ছে এমন জানার আগেই তার জীবনে নেমে আসে অন্য এক বিপদ । তার সব থেকে কাছের মানুষটা তারই ভুলের জন্য হারিয়ে যায় কুয়াশিয়ায় । কুয়াশিয়া জগতটাকে একটা নদীর সাথে তুলনা করা যায় যেটা পৃথিবীর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে । এই জগতে ভয়ংকর সব প্রাণীদের বসবাস । সেখান বিশৃঙ্খলা বেড়ে গেলেই সেটা পৃথিবীর শৃঙ্খলাকে বিনষ্ট করে ।
অ্যারেন সেই কুয়াশিয়ার দিকেই রওয়ানা দিলো তার বাবাকে ফেরৎ নিয়ে আসার জন্য । সঙ্গী হল দুজন এলিস এবং সামারলান । তিন জনের মিলিত চেষ্টায় তার এগিয়ে চলল কুয়াশিয়ার দিকে । এক শক্তিশালী অস্ত্রের খোজে যেটার সাহায্য আবারও তার বাবাকে ফেরৎ আনা যাবে । কিন্তু তারা নিজেও জানতে পারলো না যে এই সবই আগে থেকেই ঠিক করা ছিল । তের বছর আগের করা এক প্রোফেসীকে সত্য করার জন্য এগিয়ে চলেছে তারা । সেই প্রোফেসীটা সত্য হলে, এক প্রাচীন শক্তি আবারও ফিরে আসবে । আবারও পৃথিবীতে আরেকটা মহা যুদ্ধ শুরু হবে । তিন হাজার বছর পূর্বে এক মহাযুদ্ধের ফলে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই রকম আরেকটা মহা যুদ্ধ হতে চলেছে । এখন অ্যারেন এবং তার বন্ধুরা মিলে কি পারবে সেই শক্তিকে ঠেকাতে?
সেটা জানতে হলে বই পড়তে হবে !
বইয়ের ভাল দিক হচ্ছে কাহিনীর এগিয়ে চলা । কাহিনী কখনই ঘুমিয়ে পড়ে নি কিংবা মনে হয় নি আটকে গেছে । লেখকের লেখার হাতও বেশ । যেহেতু সম্পূর্ন ভাবে এটা একটা ফ্যান্টাসি তাই পাঠক যখন বইটা পড়তে যাবে তখন তার কল্পনা শক্তিটা অনেক ভাল হওয়া চাই । তাহলে লেখকের লেখটা মনে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবে এবং তখন বইটা তার কাছে আরও বেশি আকর্ষনীয় মনে হবে । তবে একটা খারাপ দিক হচ্ছে বইয়ের সংলাপ । আমার কাছে বইয়ের সংলাপ বেশ দূর্বল মনে হয়েছে । এতো বড় বইয়ের চরিত্রদের সংলাপ গুলো আরও বেশি স্বাভাবিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত হওয়ার দরকার ছিল কিন্তু সেখানে লেখককে আমার খানিকটা ব্যর্থ মনে হয়েছে । কিছু কিছু জায়গাতে সংলাপ গুলো এতোটাই কৃত্রিম মনে হয়েছে সে সেটা লেখার উপর থেকে মনযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গেছে । তবুও কাহিনীটা আকর্ষনীয় ছিল বলেই আবারও সেই মনযোগ ফিরে এসেছে । এই একটা ব্যাপার বাদ দিলে কুয়াশিয়া চমৎকার একটা বই ।
কি নেই আসলে বইটাতে ! একশান, খানিক রোমান্স, বন্ধুত্ব জাদু ড্রাগন আরও কত কিছু । যারা ফ্যান্টাসি বই পড়তে পছন্দ করেন তারা এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন । আমাদের দেশে এই রকম লেখা খুবই কম । আরও লেখা উচিৎ ।

বইয়ের নাম কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান
লেখকঃ আশরাফুল সুমন
প্রকাশিত হয়েছে রোদেলা প্রকাশনী থেকে । মোট পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪৩২ ।
হ্যাপি রিডিং ।
Profile Image for Sarah Haque.
433 reviews103 followers
April 13, 2019
অ্যারন এথেন্ড্রিল নিজের আশেপাশের কিছু অদ্ভুত ব্যাপার বুঝতে পারে যা আর কেউ দেখে না। অ্যারন তার বাবাকে বলার চেষ্টা করলেও তিনি বিশেষ পাত্তা দেন না। পাত্তা দেন না নাকি বলতে চান না সেটা সে বুঝে উঠতে পারে না, এর মাঝেই ঘটে এমন এক ঘটনা যেটার জন্যে তাকে বের হতে হয় অজানার উদ্দেশ্যে...


পড়ার পরেও কিছুদিন পর রিভিউটা লেখা কারণ, বইটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। বাংলায় হাই ফ্যান্টাসি, সুন্দর একটা জগৎ এবং ধুন্ধুমার একশন থাকার পরেও বইটা কেন শুধু ভাল বলছি? খুব ভাল বলতে পারছি না?

ফ্যান্টাসি আমার প্রচন্ড পছন্দের জনরা...বাংলায় ফ্যান্টাসি খুব বেশি পাই না....বেশ বড় একটা বই, দেখে কৌতুহলী হয়েই বইটা নিয়েছি

এরপর লেখকের আরেকটা ছোট বই পড়লাম তার লেখার সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যে...তখনই ধাক্কাটা খেলাম কারণ ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত ছিল! যাক, ওইখান থেকে ফেরত আসি


এরপরেও এটা আগের চেয়ে ভালোই ছিল, কাহিনীর ভিতরে ঢুকতে একটু দেরি হলেও এরপর বেশ ভালোই আগাতে থাকে...

ফ্যান্টাসিটা বেশ ভালোভাবেই সাজানো, জগৎটা অনেক ভালো লেগেছে, বেশ জটিল ধরণের...! পরিচিত একটা ফ্যান্টাসি সিরিজের সাথে কিছু মিল আছে কিন্তু সেইটা শুধু অনুপ্রেরণা বলে চালিয়ে দেয়া যায়।


আমার মূল সমস্যা লেখা নিয়ে....ভাষাটা মিশ্রধরনের, একেবারে শুদ্ধ বাংলা আর প্রচলিত মুখের ভাষা মিলেমিশে একাকার। একই বাক্যে তদ্ভব শব্দ এবং ইংরেজি শব্দ দুটোই ��ছে। কথা বলতে হয়তো ওইটা খুব বেশি গায়ে লাগে না কিন্তু বইয়ে পড়ার জন্যে খুব একটা ভালো হয়নি আমার জন্যে, আর এটার জন্যেই অনুবাদের মত লাগে। অনুবাদের মত লাগার আরেকটা কারণ নামগুলি- অ্যারন, সামারলান, এলিস - এটা যে মৌলিক, অনুবাদ না সেইটা আগে কাউকে বলে দিতে হয়

হয়তো এটা আমার সমস্যা আমি অভ্যস্ত না

কাহিনীর কিছু ফাঁকফোকরও চোখে পড়েছে, এসবের পরও মনে হয়েছে যে এই সিরিজের বই আসলে পড়বো, কুয়াশিয়া দেখার মত একটা জায়গা, না পড়লে বুঝবেন না।

কাহিনীর মালমশলা আছে কিন্তু শেষপর্যন্ত কাজে দেয় কিনা এটা দেখার বিষয়।
Profile Image for Shayed Shakib.
33 reviews20 followers
February 6, 2018
ফ্যান্টাসি পছন্দ করলে তুলে নিতে ভুলবেন না। অ্যারন, এলিস আর সামারলান এর সাথে অসাধারণ এ অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পরতে বাধ্য হবেন, কিছু কিছু যায়গায় হাসতেও বাধ্য হবেন।

আশা করি, অ্যারন বেচারার খাওয়া ঘুসিগুলোর সঠিক প্রাপ্যই পাবে 😂।
পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায়.......
Profile Image for Nahian Rahman.
5 reviews2 followers
April 26, 2018
ভালো লাগলো। কিন্তু আরেকটু কমে শেষ করা যেত বোধহয়। চরিত্রায়নে নজর দেয়া দরকার লেখকের। ওয়ার্ল্ডটা দারুণ লেগেছে।
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.