অজানা অচেনা নাম্বার থেকে একটি ফোন কল পেয়ে চমকে উঠলেন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ি এবং সেরা ধনী ব্যক্তি। জিরক্স নামের সেই ব্যক্তির ফোন কল তাকে মুখোমুখি করলো অতীতের একটি অধ্যায়ের, যা তিনি ধামাচাপা দিয়ে এসেছেন এতদিন ধরে।
সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় দিনানিপাত করছে ইয়াসির হাসান। স্ত্রি সন্তানকে ছেড়ে এখন মদ তার একমাত্র সঙ্গী। রাতের বেলা যে শিশুদের সাথে তার দেখা হয় তাদের সাথে তার সম্পর্কটা কী?
ইউরোপের স্বনামধন্য একটি বিজ্ঞান গবেষণাগারে সময় পরিভ্রমণের যন্ত্র আবিষ্কার করতে গিয়ে বিপর্যয় ডেকে এনেছিলো মশিউর রহমান। অন্য কোন সংস্থায় চাকরি না পেয়ে বেকার অবস্থায় দেশে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। সময় পরিভ্রমণের তার যন্ত্র কি কোন পরিবর্তন নিয়ে আসবে মানুষের জীবনে?
সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মোড়কে একটি থৃলার গল্প, যা পাঠককে নিয়ে যাবে উত্তেজনায় ঠাঁসা সময়ে, যেখানে বিজ্ঞান নয়, গল্পই মুখ্য
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
১৭৫ পাতার এই উপন্যাসটি কার্যত এক সন্ধ্যায় পড়ে ফেলা গেল। এটাই বুঝিয়ে দেয় - কতটা গতিময় ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে এটিকে। মুশকিল হয়েছে অন্য জায়গায়। চরিত্ররা স্টিরিওটিপিক্যাল। ঘটনা হাইলি প্রেডিক্টেবল। শেষের ফলাফল উল্লেখযোগ্য নয়। ট্যুইস্ট বলে কিছু নেই। বহু জট পাকানো হয়েছে, কিন্তু না খুলে সব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমনিই। তাহলে কী আছে এই উপন্যাসে? আছে সময় নিয়ে একটি মনোজ্ঞ আলোচনা। আছে কিছু প্রশ্ন। আছে গতি। আমার বইটা খারাপ লাগেনি। কিন্তু আপনি এই ক'টা জিনিসের জন্য বইটা পড়বেন কি না, ভেবে দেখুন।
“The past is obdurate.” ― Stephen King, 11/22/63 - সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট - মির্জা বোরহান উদ্দিন, স্বাধীনতাপূর্ব ভারতবর্ষের এক রাজনীতিবিদ। বনেদি পরিবারের এই ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং তার পরের জীবন নিয়ে চিন্তামগ্ন। এ সময় তার বিয়ের দিন তার হাতে আসে এক কাগজ। - মির্জা শাকিল, বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের এক প্রভাবশালী ধনী ব্যক্তি। ফোর্বসের তালিকায় আসার গুঞ্জন ও রয়েছে তার। এ সময় "জিরক্স" নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক অদ্ভুত ফোনকল আসে তার। - ইয়াসির হাসান, সেনাবাহিনীর এক অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা, যার আছে জীবন নিয়ে এক অদ্ভুত আক্ষেপ । সে লোকটিই রোজ রাতে দেখতে শুরু করে একই দুঃস্বপ্ন। - বিজ্ঞানী মশিউর রহমান, সময় পরিভ্রমণ নিয়ে যার কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে ঘটে যায় এক দূর্ঘটনা। চাকরি হারিয়ে সে হয়ে যায় বেকার। - এখন মির্জা বোরহান উদ্দিন এর পাওয়া সেই কাগজে কি লেখা আছে? মির্জা শাকিলকে এরকম ফোন দিচ্ছে? ইয়াসির হাসান এর দু;স্বপ্নের কারণ কি? বিজ্ঞানী মশিউর রহমান আসলে কি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক জাবেদ রাসিনের সাই ফাই থ্রিলার "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট"। - "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" মূলত একটি সাই ফাই থ্রিলার। প্লট টি যেভাবে শুরু হয়েছিল তখন যেরকম আশা করছিলাম শেষ করার পরে সে দিক থেকে আমি কিছুটা আশাহত। গল্পের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা তাড়াহুড়ো করেই মনে হলো শেষ করা হলো অনেক কিছু ভালোমতো খোলাসা না করেই। - "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" বইতে অনেক চরিত্র এবং সাব প্লট ছিল যার ভিতরে সবগুলো চরিত্র এবং সাব প্লটকে সমানভাবে ব্যাবহার করা যায়নি মনে হয়েছে। সময় পরিভ্রমণের ব্যাপারস্যাপার আর সময় পরিভ্রমণ যন্ত্রের বিশদ বর্ণনা অবশ্য ভালো লেগেছে। - "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" বইটি কারিগরি দিক থেকে দেখলে বইতে বানান ভুল ছিল কিছু। বাধাই আর কাগজের মান মোটামুটি ভালো লাগলেও প্রচ্ছদ আরো ভালো হতে পারতো। এক কথায়, সময় পরিভ্রমণ তথা টাইম ট্রাভেলিং এর মতো চমৎকার কনসেপ্ট থাকলেও সবমিলিয়ে "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" বইটি এভারেজ মানের লাগলো।
কাহিনী সংক্ষেপ - অজানা অচেনা নাম্বার থেকে একটা ফোনকল পেয়ে চমকে উঠলেন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ি এবং ধনাঢ্য এক ব্যক্তি। জিরক্স নামের সেই পরিচয় দেয়া সেই কলার তাকে অতীতের এমন একটি অধ্যায়ের মুখোমুখি করলো যা তিনি এতদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে এসেছেন। সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছে ইয়াসির হাসান। স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে মদই তার নিত্যসঙ্গি। রাতের বেলায় যে শিশুদের সঙ্গে তার দেখা হয় তাদের সাথে তার সম্পর্কটাই বা কী? ইউরোপের স্বনামধন্য একটি বিজ্ঞান গবেষণাগারে সময়-পরিভ্রমণের যন্ত্র আবিষ্কার করতে গিয়ে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল মশিউর রহমান। অন্য কোন সংস্থায় চাকরি না পেয়ে দেশে ফিরে সে বেকার সে। তার সময়-পরিভ্রমণের যন্ত্রটা কি কোন পরিবর্তন নিয়ে আসবে মানুষের জীবনে? সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট সায়েন্স-ফিকশন থৃলার...পাঠককে নিয়ে যাবে উত্তেজনায় পরিপূর্ণ এক সময়ে, যেখানে বিজ্ঞান নয়, গল্পটাই মুখ্য!
### বরাবরই সায়েন্স ফিকশন আমার এই মোটা মাথার উপর দিয়ে যায়, তাই পারত পক্ষে এই জনরা টা এড়িয়েই চলি :D তবে "সময়ের সিঁড়ি............" এর জন্য প্রথমেই বিশেষ ধন্যবাদ পাবে এর জনক জাবেদ রাসিন ভাইয়া ! কেনো ধন্যবাদ পাবে সেটায় পরে আসছি।
গল্পটা শুরু হয় একটা অস্থির সময়ে। এই অস্থির সময়ে স্বস্তির একটা চিরকুট এসে হাজির হয় এক হবু বরের কাছে। সেই বর, যে কিনা তার হবু বউ নিয়ে খুবই উচ্ছসিত। এমন অবস্থায় অদ্ভুত এই চিরকুট টি ধন্ধে ফেলে দেয় তাকে। তার হবু বউয়ের কোনো প্রাক্তনের কাজ নয়তো ?
গল্পটা দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষমতাবান মির্জা শাকিল এর, যার কাছে কিনা সরকারও বাধা পরে আছে। কিন্তু সামান্য একটা ফোনকল এসে আভাস দিয়ে যায় তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার। একটা ফোনকল, কিংবা একটা পুরনো নাম, বিশেষ একটা নাম টলিয়ে দিতে থাকে মির্জা শাকিলকে !
গল্পটা ইয়াসির হাসান এর বড় চুল রাখতে না পারার আজন্ম আক্ষেপের কিংবা তার জন্মগত প্রতিভার। রোজ রাতে দুঃস্বপ্নে হানা দেয়া বাচ্চাগুলোর যন্ত্রনায় ঘুমোতে না পারা মদ্যপ ইয়াসির সাহেব কি আর কখনো শান্তিতে ঘুমোতে পারবেন আসলেই ?
গল্পটা বেকার বিজ্ঞানী মশিউর এর। আবিষ্কার আর অনাবিস্কার এর ফাকে তলিয়ে যাবার মাঝেও যার মন উতলা হয়ে ওঠে এক বিদেশিনীর জন্য ! প্রেয়সী কে নিয়ে বিছানায় যাবার চাইতে , সুন্দর এক ভবিষ্যতের আশায় বসে থাকা মশিউর কি পারবে আরাধ্য সব পেতে, হোক না সেটা "টাইম-মেশিন" এর হাত ধরেই ?
গল্পটা আরিফ আদনানের, কিংবা ইয়াবা খোর জাহিদের , কোনো এক ফ্রিল্যান্সার হট মডেলের বিছানায় যাবার গল্পও হয়তো , হয়তো জিরক্সের , হয়তো এক গোপন ভল্টের, হয়তো এসটাবলিশমেন্টের, বা রুমডেটে যাবার তাড়নায় উশখুশ করা গোলাম মাওলার গল্প, কিংবা হয়তো এটা নিছকই একটা বুলেটের গল্প !
সবকিছু ছাপিয়ে "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" আসলে একদল মানুষের অপ্রাপ্তির গল্প, লোভের এবং বিপ্লবের গল্প ! নামে সায়েন্স ফিকশন হলেও, বিজ্ঞানের কারনে এখানে গল্প আসেনি, গল্পের কারনেই বিজ্ঞান এসেছে। আমাদের এ গল্পের মূল চরিত্রই হচ্ছে এর "গল্পটা" "সময়ের সিঁড়ি বেয়ে একটি বুলেট" এর চরম সার্থকতা টা এখানেই !!!
খুব খুব খুব সহজ কথায় সায়েন্সের টার্ম গুলো বুঝিয়ে দিয়ে, আমার মতো মাথামোটা অ-বিজ্ঞানের মানুষকেও গল্পের জালে জড়িয়ে ফেলার জন্যই বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য জাবেদ ভাইয়া । দেয়ার ইজ অলঅয়েজ আ রুম ফর বেটারমেন্ট--- এই কথাটা কে প্রমান করার জন্যই ভাইয়া ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। "অসূয়া" কিংবা "ডগমা" এর চাইতেও অনেক পরিণত লেখা । সেই সাথে এমন ভিন্নধর্মী একটা কাজ করার গাটস এর জন্য ও তিনি অন্তত আমার এপ্রিসিয়েশন পাবেন !!!
ঝরঝরে লেখা কাকে বলে বুঝি না আমি, তবে যেই বইটা হাতে নেবার পরে আর শেষ না করে রাখতে ইচ্ছে করে না , সেটা কে কি বলা যায় ভেবে পাচ্ছি না । অনেকদিন পরে একটা থৃলার পড়ে মনে হলো " এ ক্যামন থৃলার ? আউলায়া দিলো তো"
ধন্যবাদ দেয়া টা কেমন যেন ফর্মাল মনে হয়, অথবা গুডরিডস এ স্টার দিয়ে দেয়াটাও। তাই এতোগুলো লেখা ট্রিবিউট হিসেবে দিলাম লিখে বইটার জন্য, লেখকের এবং তার শ্র���ের জন্য !!!
দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির গোপন তথ্য চলে গেছে জিরক্স নামের কারো কাছে। এসব তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে বিপদে পরবেন তিনি। এখন কি করবেন? সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে বের হয়ে এসেছেন ইয়াসির হাসান। স্ত্রী-সন্তান আলাদা হয়ে যাবার পড় মদই তার সঙ্গী। জীবনটা কি এভাবেই চলে যাবে তার? মশিউর রহমান কাজ করছিলেন সময় পরিভ্রমণের যন্ত্র নিয়ে, কিন্তু কিছুটা ভুলে ধ্বংস হয়ে গেল সব। চাকরি চলে গেল তার তারপর?
পাঠ পতিক্রিয়া- সময় পরিভ্রমণ নিয়ে যে কয়টা সাই ফাই পড়েছি সবগুলো মোটামুটি একি ধাঁচের ছিল। একটু উনিশ-বিশ করে লেখা। তবে এই বইটা নিখাদ সাইফাই নয়। বিশুদ্ধ থ্রিলারের বেশ কিছু উপাদান এর ভেতর বিদ্যমান। সাইফাই আর থ্রিলার ব্লেন্ড করায় বইটা উপভোগ্য হয়েছে। লেখকের প্রচেষ্টা খুবই ভালো। এতে কোনো সংশয় নেই। তবে বইটি যে খুব ভালো লেগেছে তা না। প্রথমদিকে কাহিনী দারুণ আগাচ্ছিল। দারুণ ধামাকা পাওয়া যাবে এমন কিছু মনে হচ্ছিল। কিন্তু ক্লাইম্যাক্স এ গিয়ে আশাহত হলাম। এন্ডিংটা আরও আকর্ষণীয় করা যেত। কেন যেন মনে হচ্ছিল মেলার জন্য বইটি তাড়াতাড়ি শেষ করা হয়েছে। জাবেদ ভাইয়ের আগের কাজগুলোর সাথে পরিচয় থাকায় এটা নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম। ভিন্ন ঘরানা দুর্দান্ত ট্রেইলার এবং প্রিভিউ তে দারুণ কিছু আশা ছিল। আমি কিছুটা আশাহত। জাবেদ ভাই এর আগে অনেক দারুণ কাজ দেখিয়েছেন। ভাইয়ার কাছ থেকে আমাদের আশা আরও অনেক বেশী। তবে প্রচেষ্টা দারুণ। মোটামুটি উপভোগ্য। কিন্তু ১৪৮ পেজের পর “সে” এর ব্যবহার অনেক বেশী ছিল। এক দুইটা লাইন পরপরই প্রতি লাইনের শেষে সে শব্দটা আসছিল। ব্যাপারটা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। কিছু প্লট হোল ক্রিয়েট হয়েছে। কিছু কিছু সাব প্লট তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু সেগুলার কোনো মীমাংসা বা শেষ অব্দি কি হল তা বলা হয়নি। তবে পড়ে মজা পাওয়া যাবে।