এটি মূলত একটি ভ্রমণ বিষয়ক বই। এবং এই বইটি সম্পর্কে শুরুতেই যে কথা বলতে হয় তা হল লেখকের এই ভ্রমণ সফল হলে বাংলাদেশের ইতিহাস নতুন করে লিখা হত। শিক্ষিত ভারতবর্ষীয়দের মধ্যে যারা ইউরোপ ভ্রমণ করে ভ্রমণ-কাহিনী লিখে গেছেন, নদীয়া জেলার পাঁচনুর গ্রামের মির্জা শেখ ইতিসামুদ্দীন তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম। মূলত কাহিনীটি ফার্সী ভাষায় রচিত, যার নাম ছিল ‘শিগার্ফ-নামা-এ-বিলায়েত’।
সময়টা পলাশী যুদ্ধের কিছুদিন পর। ১৭৬৫ সালে, বকসার যুদ্ধের পর লেখক রাজা তৃতীয় জর্জের কাছে সম্রাট শাহ আলম কর্তৃক প্রেরিত দৌতের অন্যতম সদস্য হিসাবে ইংল্যান্ড যান। বক্সারের যুদ্ধে অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা, সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম, এবং মীর কাসিমের সম্মিলিত বাহিনী ইষ্ট ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বাহিনীর কাছে পরাজিত হলে এলাহাবাদে শান্তি চুক্তির জন্য সকল পক্ষকে ডাকা হয়। এই সময় ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর দায়িত্বভার হাতে নিয়ে লর্ড ক্লাইভ দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশে আসেন।
কলকাতায় সেই শান্তি চুক্তি করার সময় সম্রাটের একজন ফার্সী ভাষায় দক্ষ লোকের প্রয়োজন পড়ল। আর ভাগ্যের টানে লেখক ক্যাপ্টেন সুইনটনের সাথে ইংল্যান্ডগামী জাহাজে চড়ে বসেন। কিন্তু চড়ার এক সপ্তাহ পর ক্যাপ্টেন তাকে জানায় যে, লর্ড ক্লাইভ তার কাছ থেকে চিঠিটি নিয়ে গেছেন এবং পরের বছর সম্রাটের কাছে তিনি উপহার সহ চিঠিটি পেশ করবেন। মূলত এটা ছিল একটি প্রতারণা, দেড় বৎসর অপেক্ষা করেও লেখক সেই চিঠির সন্ধান পান নি। সেই সময় বাংলাদেশ দখল এবং আর কয়েকটি কারণ নিয়ে ইংল্যান্ডের রাজা ও কম্পানীর কর্মচারীদের মধ্যে একটি বিবাদ চলছিল। লর্ড ক্লাইভ কম্পানীর শুভাকাক্ষী ছিলেন, সেই জন্য তিনি সম্রাটের চিঠি রাজার কাছে পেশ করেন নি।
লেখক ফার্সী ভাষা জানার কারণে ওনাকে অনেক লোভ দেখিয়ে অনেকে সে দেশে রেখে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু লেখক নিজ মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে সেখানে থাকেন নি। ওনার পুরো ভ্রমণ এর বিভিন্ন ঘটনা, সেই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইতিহাস এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বইটিতে। বইটি পড়লেই আপনার এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।