বইটির পরিচিতি হিসেবে "গায়ে কাঁটা দেওয়া ৬টি কল্পবিজ্ঞান" বলা হলেও এর গল্পগুলো ঠিক...
একে-একে লিখি।
১. বারে বারে আসে: সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতায় ভিনগ্রহী (হস্তক্ষেপ), পাহাড়ি এলাকায় দুর্গম গ্লেসিয়ারে ট্রেকিং, এই দু'টি বিষয় নিয়েই লেখক আগেও একক কাহিনি লিখেছেন। "দোর্দোবুরুর বাক্স" ও "ইচ্ছেপলাশ" নামক সেই দুই দুর্ধর্ষ কাহিনির পাশে এই গল্পটি ফিকে মনে হয়। এই বিশেষ গল্পটি 'জয়ঢাক'-এ প্রকাশের সময়েই পড়েছিলাম। এখনও পড়তে গিয়ে মনে হল, লেখাটা ভালো হলেও এই ট্রোপগুলোর পুনরাবৃত্তি কিঞ্চিৎ ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
২. সবুজ মানুষ: প্রাচীন ভারত আর তাতে ভিনগ্রহী উপস্থিতি নিয়ে গড়া লেখকের নিজস্ব মিথলজির একটি সুখপাঠ্য আখ্যান এটি। 'মায়াকানন' বার্ষিকীতে প্রথম প্রকাশের সময় এটি উপভোগ করেছিলাম। কিন্তু এবার পড়তে গিয়ে মনে হল, এই মিথলজিটা "পঙখীলালের গুহা" বা "নিবাত কবচ অভিযান"-এ এর তুলনায় বেশি আকর্ষক ছিল।
৩. নরসের: 'জয়ঢাক'-এ প্রকাশিত এই কাহিনিটি আদতে 'সন্দেশ'-এ প্রকাশিত "থাবার ছাপ"-এর সিকুয়েল। ভয়াল রসের ওই অতুলনীয় গল্পটি না দিয়ে এই সিকুয়েলটিকে গ্রন্থবদ্ধ করাটা আমার মোটেই ভালো লাগল না। তাছাড়া ওই গল্পটার তুলনায় এটা অনেক বেশি সেন্টিমেন্ট-প্লাবিত। বরং "থাবার ছাপ" পড়তে পেলে মন ভরে যেত।
৪. টুই: এটা "জুপিটার রাইজিং"-এর বাংলা সংস্করণ। পড়তে গিয়ে বিরক্তই লাগল।
৫. দানো: কল্পবিজ্ঞান তো দূরের কথা, ফ্যান্টাসিও নয় এটা। কিন্তু ভয় আর রোমাঞ্চ মিশিয়ে গড়া এই গল্পটা দারুণ লাগল।
৬. রাজলক্ষণ: এই বইয়ের সেরা কাহিনি এটি। ভয়, কিংবদন্তি এবং ট্র্যাজেডি মিশিয়ে গড়া এই গল্প পড়ে বুকের ভেতরে কাঁপুনি জাগে। মনে হয়, আমাদের কার কোষে লুকিয়ে আছে কোন দুর্জ্ঞেয় রহস্য, আর তার পরিণাম কীভাবে আমাদের চেনাজানা পৃথিবীটা ওলট-পালট করে দিতে পারে, তার খবর কে রাখে?
কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং কিছুটা 'নরসের', কিছুটা 'দানো' এবং অবশ্যই 'রাজলক্ষণ', এই তিনটি ভয়ের গল্পের টানেই বইটা পড়া যায়।
বইটির ছাপা ও বাঁধাই চমৎকার। রঞ্জন দত্তের অলংকরণ ফর্মুলাইক, তবে ছিমছাম। লেখক গল্পগুলো কালানুক্রমে সাজাননি এবং তাদের প্রথম প্রকাশ নিয়ে কিছু লেখেননি দেখে হতাশ হলাম।
অলমিতি।