বইয়ের নামঃ ডারউইন থেকে ডিএনএ এবং চারশো কোটি বছর লেখকঃ নারায়ণ সেন বছরের দ্বিতীয় বই। স্ট্রেইটফরোয়ার্ড একটা রিভিউ দেই। বইটা লাইব্রেরিতে দেখছি জন্মের পর থেকে (!?)। কেনার আগ্রহ জন্মেনি কখনও। পশ্চিমবঙ্গের বই। প্রকাশ করেছে কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স। বাংলাদেশের লাইব্রেরিতে অ্যাভেইলেবল; তার মানে চালু একটা বই। বইয়ের কন্টেন্টস ভালো, উপস্থাপনের ধারাবাহিকতা সুন্দর। কিন্তু বিষয়টা সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকলে বুঝতে সমস্যা হবে। মলেকিউলার বায়োলজি ও ক্রমবিকাশ তত্ত্বে আমার হার্ডকোর টাইপের বই পড়া আছে। তারপরও বইটা খুব একটা এনজয় করেছি বলা যায় না। জানা জিনিস একটু ভিন্ন স্টাইলে জেনেছি এই আরকি। একটি বিষয়ের অনেকগুলো বই পড়ার এটা একটা সুবিধা। বিজ্ঞানের ইতিহাসভিত্তিক বই এটা। লেখক জিওলজি ও জিও-কেমিস্ট্রির উচ্চতর জ্ঞানের মানুষ। জীবাশ্ম বিজ্ঞানের প্রতি আলাদা দুর্বলতার কারণ বুঝতে অসুবিধা হয় না। বইয়ের মূল সমস্যা উপস্থাপন ভঙ্গিমাতে। মোটেও সহজবোধ্য লেখা নয়। সহজ জিনিসকে জটিল করে উপস্থাপন করেছেন। তবে এই বিষয়ে একটি ধারাবাহিক ইতিহাস জানতে বইটা খুবই সহায়ক। বইটা পড়েছি এ বছর। আমি আমার “জেনেটিক্সের গল্প” বইটা লিখেছি গত বছর। কিন্তু মনে হচ্ছিল যেন আমার বইটার দ্বিতীয় কোন ভার্সন পড়ছি। আমি যে কাহিনীগুলো বলেছি বা নারায়ণ সেন যে কাহিনীগুলো বলেছেন সেগুলো তো অভিন্ন, শুধু প্রকাশভঙ্গি ও স্টাইল ভিন্ন। সব মিলিয়ে তথ্য ও তত্ত্বে সমৃদ্ধ একটা বই।