অঘোর ব্যাপারী নেমে ফটকের একটা ঝুল দড়ি ধরে টান দিল, সাথে সাথে ভেতরে হুটোপুটি শুরু হলো। শব্দটা বাড়তে বাড়তে ফটকের দিকে গুড়ি মেরে আসছে। ঠিক তখনই গা গুলিয়ে পেটের ভেতর কেন যেন পাক দিয়ে উঠল, অঘোর ব্যাপারীর মুখটাও শুকিয়ে কাঠ, আমার চোখে চোখ পড়াতে অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে বলল, ‘ভয় কী! শুধু ভাজা মাছের উল্টো পিঠটা খাবেন না, তাহলেই হলো!’
মাশুদুল হকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে লিখছেন থ্রিলার, সায়েন্সফিকশন ও শিশু-কিশোর সাহিত্য, প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে।
সাহিত্য-পুরস্কার : এইচএসবিসি-কালিওকলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার ২০১৩।
Masudul Haque is a contemporary writer from Bangladesh known for his works on thrillers, Sci-Fi, and children's literature. His works have been published in Bangladesh and India regularly for the last 12 years. He was awarded the Kali O Kalam Young Writer Award in 2013.
শুক্রবারের সকালটা শুরু হলো দারুণ এক বই দিয়ে। দাদুর হার্টের অসুখ সারানোর জন্য ঔষধের খোঁজে কোঞ্চাপুর পাড়ি জমায় গল্পকথক। সেখানে কবিরাজ ইদরিম খাঁ'র ডেরা। আর এটা নিয়েই কাহিনি।
বইটা সাইজে খুবই ছোট। এত ছোট যে শুরু হয়ে কোনদিক দিয়ে ফুড়ুৎ করে শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। চোখ ধাঁধানো, চোখ ঝলসানো সব ইলাস্ট্রেশনে ভরপুর । দেখে ইচ্ছে হয় দু'একটা খুলে ওয়ালে ঝুলিয়ে রাখি। আঁকিয়ে আসিফুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। গল্পকার মাশুদ ভাইয়ের প্রতি স্যালুট। যে ধরণের ভাষার কেরামতি তিনি গল্পে দেখিয়েছেন, স্ফটিকস্বচ্ছ যে উইট তার বাক্যের পরতে পরতে বুনে দিয়েছেন তা সত্যিই অভাবনীয়। খুবই আয়েসী ভাষাভঙ্গি, পড়তে দারুণ আরাম।
একটাই আক্ষেপ। ঐ যে বললাম, সাইজ। ভাজা মাছের উল্টো পিঠ নিয়ে রহস্য আরো ঘনীভূত হওয়ার আগেই ঝপ করে পর্দা নেমে গেল। স্বপ্নের আবেশটাও কেটে গেল চট করে।
গল্পটা বেশ মজার, তার চেয়েও ইন্টারেস্টিং গল্পের দূর্দান্ত লেখনী। ঝকঝকে ছাপায় চমৎকার প্রচ্ছদ আর রঙবেরঙের ইলাস্ট্রেশনসহ বই, হাতে নিয়ে তাকিয়ে থাকার মতো। বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুব ভালো- ছাপা, বাঁধাই, কাগজের মান সবমিলিয়ে। লেখক, আঁকিয়ে, প্রকাশক - প্রত্যেকেরই ধন্যবাদ প্রাপ্য।
"ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না" এই প্রবাদ শুনেছেন আশা করি। ওখানে এর অর্থ আলাভোলা ব্যাক্তি সেজে থাকা হলেও এখানে কিন্তু তা নয়। এখানে উল্টো পিঠে অদ্ভুত এক রহস্য। এই এক রহস্যের সন্ধানেই সুড়সুড় করে হাজির হবেন শেষ দৃশ্যে। অতিলৌকিক গল্পটি আমাকে হতাশ করেনি তবে অভিভূতও হইনি। চাইলে আপনিও উল্টে দেখতে পারেন কী আছে ভাজামাছের উল্টো পিঠে!
ইকরিমিকরি প্রকাশনার ম্যাজিক্যাল বইয়ের কথা এতোদিন কেবল সিমিনের কাছে শুনে এসেছি। কখনও হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখার সুযোগ হয়নি। ভাজা মাছের উল্টো পিঠের রহস্য পড়ে সেই আক্ষেপটা মিটলো।
এতো চমৎকার ঝকঝকে একটা বই! ছোট্ট মজার একটা গল্প! দূর্দান্ত লেখনী, পাতায় পাতায় মনকাড়া রঙীন আঁকিবুঁকি, মখমলের মতো কাগজ - ইচ্ছে করে কেবল ছুঁয়ে দেখি! আর গল্পের শেষের টুইস্টটা! বাংলাদেশ এতো চমৎকার শিশুসাহিত্য প্রকাশিত হচ্ছে জেনে আনন্দ লাগছে!
এমন ম্যাজিক্যাল বইটির জন্য মাশুদুল হককে অসংখ্য ধন্যবাদ!
বড়শিতে লুচি গেঁথে ধরা লাগে এই মাছ। তার নাম? 'ভাজামাছ'! তার দুই পিঠের দুই রঙ। এই পিঠ খেতে পারেন, তবে উলটো পিঠ খেলেই... সে যা হয় হোক। দূরদেশের হেকিমের কাছে যেতে হবে বুকে ব্যাথার ওষুধ আনতে। না না, জলপথে যাত্রা নাস্তি! সে পথে কুমির আর জলদস্যুর ভয়! রেলপথেই যাবো। তারজন্য রেলের গায়ে 'সালসা' মেখে অকেজো ইঞ্জিনকে চাঙ্গা করতে হবে। হেকিম ভিলায় পৌঁছুলে, পাহাড়ি গরুর গোলাপী শিঙয়ের মজ্জা বের করে ওষুধ বানাবেন হেকিম। গরুকে শিং হারাতে হবে না কিন্তু! মাথায় বসিয়ে পট্টি বেঁধে দিলেই দিব্যি জুড়ে যাবে।
মজাদার শিশুতোষ বই। ছোট্ট একটা গল্প, চমৎকার ইলাস্ট্রেশন! এতো ঝকঝকে যে কেবলই ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে। লেখকের জন্য শুভ কামনা। আর বইটির জন্য একদম ঝকঝকে ৪টি তারা! হ্যাপী রিডিং!