Shamsur Rahman (Bengali: শামসুর রাহমান) was a Bangladeshi poet, columnist and journalist. Rahman, who emerged in the latter half of the 20th century, wrote more than sixty books of poetry and is considered a key figure in Bengali literature. He was regarded the unofficial poet laureate of Bangladesh. Major themes in his poetry and writings include liberal humanism, human relations, romanticised rebellion of youth, the emergence of and consequent events in Bangladesh, and opposition to religious fundamentalism.
শামসুর রহমান কবি হিসেবে আমার অত্যন্ত পছন্দের।উনি লিখেছেন ও অনেক।উনার সবগুলো বইয়ের সাথে দুষ্প্রাপ্যতার কারনে এখনো আমার পরিচয় হয়নি।উনার প্রবন্ধ স্মৃতি-কথা পড়া হয়েছে।তবে উনি যে উপন্যাস ও লিখেছেন তা এতদিন জানতাম না।আজ হঠাৎ করেই পাবলিক লাইব্রেরি তে আবিষ্কার করি এক কোণে প্রায় অবহেলিত-উপেক্ষিত এই চমৎকার বইটি।নাম দেখে কৌতুহল হয়ে হাতে নিলাম।উনি ৬৬ টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন।এটা ও হয়তো সেগুলোর মধ্যে একটি হবে, ভেবেছিলাম উনার ঘোরলাগা আরো কিছু নতুন কবিতায় ডুবকি লাগাবো।বিস্তর ধুলোর আস্তরণ পরিষ্কার করে হাতে নিয়ে দেখি যে এটি একটি উপন্যাস!পরে নেটে দেখলাম উনি চারটা উপন্যাসের জনক।'অক্টোপাস ' প্রকাশিত হয়েছে ১৯৮৩ তে আর দ্বিতীয় মুদ্রণ হয় সম্ভবত (উত্তেজনায় এটা এখন মনে করতে পারছিনা সম্ভবত ১৯৯৭ তেই হবে)।আমার হাতের টা দ্বিতীয় মুদ্রণের ছিলো। এক দশকের ও বেশি সময়ের ব্যবধানে মাত্র দ্বিতীয় মুদ্রণ!? যাইহোক পৃষ্ঠা উঠিয়ে পড়তে শুরু করলাম।
উপন্যাসের শুরু হয় অত্যন্ত অভিনবত্বের সাথে।গল্পের নায়ক একজন উপন্যাস লেখক। তিনি মাত্রই একটা উপন্যাস লিখে শেষ করেছেন মাঝরাতে।কিন্তু শেষ করার পরই উনি অনুভব করলেন যে তিনি তার শেষ করা উপন্যাসের নায়িকার প্রেমে পড়ে গেছেন।যাকে তিনি কল্পনায় এতদিন একটু একটু করে গড়েছেন, যার সমস্ত কিছু তিনি জানেন এবং অনুভব করতে পারেন। সে কিভাবে শাড়ি পড়তে পছন্দ করে, বাথরুমে আনমনা হয়ে কোন সুরটি গুনগুন করে, বিকেলে বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হলে তার মুখের মায়াবী রুপ কেমন হয় এমনকি তার শরীরের কোথায় লুকোনো ঐশ্বর্যের মতো তিল রয়েছে তা ও তিনি জানেন।কল্পনার মানবী তার সামনে মূর্ত্য হয়ে দাঁড়ায়।যেমন গ্রীক পুরাণের সেই নারীবিদ্বেষী ভাস্করের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো যে নিজেরই তৈরী নারী মূর্তির( যা অলৌকিক ভাবে জীবন্ত হয়ে গিয়েছিলো) প্রেমে পড়ে যান।এমনই ভাবে তিনি ও নিজের সৃষ্ট চরিত্র কে এত জান্তব ভাবে অনুভব করেন যে যখন লেখক এবং স্ত্রীর মাঝখানে সে এসে শুয়ে পড়ে লেখককে অস্বস্তি তে ফেলে দেয়।লেখকের সাথে এরকম আরেকটি ঘটনা হয় যা অদ্ভুত, তিনি একটি অষ্টভুজা লিকলিক করা ভয়াল অক্টোপাস দেখতে শুরু করেন! লেখকের পূর্ব স্মৃতি বারবার তাকে হানা দিতে শুরু করে।লেখকের ডায়েরি থেকে আমরা চলে যাওয়া মানবীর বৃত্তান্ত জানতে পারি।
আমি সবটা বই পড়তে পারিনি।লাইব্রেরি বন্ধ হবার সময় হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু যতটুকু পড়েছি তাতেই আমি এই শেষ রাত পর্যন্ত বিহ্বল হয়ে আছি।সৃষ্টিশীল মানুষদের মধ্যে যে ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা কাজ করে তার স্বরুপ, বইটি পড়ে একটু আধটু অনুভব করতে পেরেছি। যদিও আমি সৃষ্টিশীল কেউ নই।আর্টিস্টদের মাঝে এক ব্যখ্যাতীত যন্ত্রণা কাজ করে।কিসের এক ক্ষত যেন তারা বুকে বয়ে বেড়ায়।পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের মত নির্লিপ্ততা নিয়ে কোন কিছুকে আকড়ে ধরে জীবনটা কে পার করে দিতে পারেনা।মহাজাগতিক এক বোধ তাদের তাড়া করে বেড়ায় নিরন্তর। কিসের খোঁজে যেন মত্ত থাকে,অজানা কিছু একটার অভাব তাদের হতবিহ্বল করে রাখে।জীবনের যত দুর্বোধ্যতা, রহস্যময়তা আর অর্থহীনতা, তাদের সামনে প্রকটিত হয়ে উদ্ভ্রান্ত করে তুলে।প্রেম ও চিরাচরিত রুপে না এসে বিচিত্রভাবে তাদের ক্ষতবিক্ষত করে বেড়ায়।খাড়ার উপর মড়ার ঘা'র মতো সৃষ্টিশীলতা অভিশাপ হয়েই দাঁড়ায়।প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের প্রকৃত খলিফা হচ্ছে এই সৃষ্টিশীল মানুষেরা।ঈশ্বরের মতই অসীম একাকীত্ব আর নিজের সৃষ্টির মাঝে অসহায় বন্দী তারা।ঈশ্বরের এই বিশাল মহাজগতের সৃষ্টি কিন্তু নিজেকে প্রকাশ করারই চেষ্টা থেকেই। ঈশ্বর মহান সব সৃষ্টির মাঝে নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।আমার মনে হয় বিশাল বিশ্বের এত যাগযজ্ঞের পরেও তিনি কিন্তু অগোচরেই রইলেন।আমরা কতটুকু উনাকে বুঝতে পেরেছি? ঈশ্বর আর আমাদের মাঝের দুরত্ব কিন্তু আদৌ ঘুচেনি।এক্ষেত্রে উনাকে আমি কিছুটা অক্ষম বলেই ধরে নিবো।আশা করি আমার এই ক্ষুদ্র অনুভবের ধৃষ্টতা উনি ক্ষমার নজরে দেখবেন।সৃষ্টিশীলরা ও এমনই- গান, কবিতা, চিত্রকর্ম, সুর কত মাধ্যমেই না নিজেদের প্রকাশ করার চেষ্টা তারা করেন।অন্তর্গত বোধের তাগিদে সৃষ্টি করে যান অনবরত।মহান যত শিল্পী ছিলেন তারা কেউই নিজের সৃষ্টিকর্মে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন, সেই তৃপ্তির স্বাদ পাননি।অনেকেই নিজের অমরত্ব লাভের নিশ্চয়তার স্বাদ অনুভব করতে পেরেছিলেন কিন্তু তাতেও তো তারা সম্পূর্ণ বিজয়ী হতে পারেনি।বিশ্বের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।আর এই যে শিল্পের মাঝে বেঁচে থাকা, তার ও তো চিরন্তন কোন অর্থ নেই।জীবন অবশ্যই মহান কিন্ত তারও তো সার্বজনীন কোনো মানে নেই।ব্যক্তিগত কল্পনা বা বিশ্বাসের মাধ্যমে একটি অর্থ ধরে নিয়ে তাতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
শামসুর রহমান তার উপন্যাসের লেখক চরিত্রের মধ্য দিয়ে এই সব অনুভব আর মর্ম-যাতনার বিবরণ দিতে চেষ্টা করেছেন। হয়তো তিনি শুধু একজন লেখকের(উনার নিজেরও যে নয় কে জানে!) সাধারণ একটা গল্পই বলতে চেয়েছেন।অন্তত আমার তা মনে হলো আর কি।আমি যেহেতু পুরো উপন্যাস পড়িনি, জানিনা উপন্যাস হিসেবে এটি সার্থক কিনা।আমার এই লেখা মোটেও সাহিত্য সমালোচনা নয়।যথার্থ রিভিউ ও একে বলা যাবেনা।বড়জোড় একজন আবেগে আচ্ছন্ন ব্যক্তির লাগামহীন উচ্ছাস। আমি শুধু আমার মতামত নিজের অনুভূতির আঙ্গিকে ব্যক্ত করলাম।অন্য কারো কাছে হয়তো এত কিছু ভুলেও মনে হবেনা।এমনকি ভালো গল্প হিসেবেও হয়তো উৎরাবে না।
কবি শামসুর রহমান যে জন্মগত কবি তার পরিচয় গদ্যে ও মিলে।তিনি স্বাভাবিক সহজ গদ্যেই লিখেছেন(যা একটানা পড়ে যাওয়া যায় এবং পড়তে বাধ্য করে),গদ্যের শরীরে কাব্যের ভারী অলংকার পড়িয়ে ন্যুজ করে দেননি।তবু্ও তার এই উপন্যাসের বর্ণনা গুলো চমৎকার কবিতার মতো।গল্পে একটানা কিছু পরাবাস্তব স্বপ্নদৃশ্যের বর্ণনা আছে।কবির ঐন্দ্রজালিক লেখার গুনে ভোজবাজীর মত পরাবাস্তব দৃশ্যগুলোও জান্তব হয়ে উঠেছিলো।কবিরা যখন গদ্য লিখেন, গদ্যকারদেরও পেড়িয়ে যান তারা।উদাহরণ হিসেবে- বুদ্ধদেব,সুনীল, রবীন্দ্রনাথ( তো কবি ই প্রথমে) ইদানীং আবিষ্কৃত জীবনানন্দের কথাশিল্প কিন্তু তা ই বলে!
(রিভিউটা জানুয়ারি তে লেখা..আর বইটা শেষ করিনি ইচ্ছে করেই 😐)
"দিবাস্বপ্ন দ্যাখে যারা তাদের বিপদ এই যে, বাস্তবের ঘরটা তাদের ফাঁকাই পড়ে থাকে। স্বপ্নের সঙ্গে, ঈস্পিতের সঙ্গে না মেলাতে পারলে কাজটা তারা ফেলে রাখে । দেখিই না, থাক না আরো কিছুদিন তারপর একদিন বোধ করি মনের মতো করেই কাজটা সমাধা করা যাবে। কিন্তু সময় ভারী পাথরের মতো ঢালু পাহাড় বেয়ে কেবলি গড়িয়ে পড়তে থাকে, এক কাজের জায়গায় একশো কাজ এসে হাজির হয়। এবং দিবা স্বপ্নের পরিধি অনন্ত অবধি বাড়িয়ে দেয়ার পক্ষে যদিও কোনো বাধা নেই, কিন্তু অনেক অকৃত কর্মের মগ্ন চাপে মানসিক কল ক্রমশ বিকল হতে থাকে।"