প্রেমেন্দ্র মিত্র ( জন্ম: ১৯০৪ - মৃত্যু: ৩ মে, ১৯৮৮) একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাঙালি কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক। তাঁর সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র ঘনাদা। প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট জনপ্রিয়তম চরিত্র ঘনাদা, গল্পবাগীশ সর্বজ্ঞানী মেসবাড়ির ঘনশ্যাম দাস আজো সব বয়েসের পাঠকদের কাছে প্রিয়। তাঁর এই অমর চরিত্র ৭২ নং বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির বাসিন্দা ঘনাদা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। এছাড়াও তিনি অনেকগুলি ছোট গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন যার মুখ্য চরিত্র পরাশর বর্মা, যে পেশায় গোয়েন্দা হলেও নেশায় কবি। তার সৃষ্ট চরিত্র মামাবাবু কে তিনি বহু এডভেঞ্চার উপন্যাস ও ছোটগল্পে এনেছেন যেগুলি কিশোরদের ভেতর জনপ্রিয় ছিল।
Premendra Mitra (Bangla: প্রেমেন্দ্র মিত্র) was a renowned Bengali poet, novelist, short story writer and film director. He was also an author of Bengali science fiction and thrillers.
His short stories were well-structured and innovative, and encompassed the diverse to the divergent in urban Indian society. The themes of poverty, degradation, caste, the intermittent conflict between religion and rationality and themes of the rural-urban divide are a thematically occurring refrain in much of his work. He experimented with the stylistic nuances of Bengali prose and tried to offer alternative linguistic parameters to the high-class elite prosaic Bengali language. It was basically an effort to make the Bengali literature free from softness, excessive romance and use of old style of writing which were prevalent in older writings.
বাংলা গোয়েন্দা কাহিনীগুলোর শতকরা আশি ভাগ যেখানে কিশোরদের জন্য লেখা, সেখানে পরাশরের সবচেয়ে ভালো দিকটা হলো এই গল্পগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী। প্রেমেনবাবুর গদ্য নিয়ে কথা বলা বাতুলতা, কিন্তু ওনার ছোটগল্প বা ঘনাদা পড়ার মতো সন্তুষ্টি বা তৃপ্তি পরাশর পড়ে পেলাম না।
গোয়েন্দা কাহিনী পড়ার সময় রহস্য এবং রহস্য-সমাধানে গোয়েন্দার সাথে পাঠককে যদি কানেকশন তৈরি করতে দেওয়া না হয় বা পাঠক যদি নিজেকে গোয়েন্দার আসনে বসিয়ে চরিত্র ধরে ধরে 'সাসপেক্ট লিস্ট' বানিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যেতে না পারেন — আমার মনে হয় ঐ গোয়েন্দা গল্প তখন আকর্ষণ হারায়। পরাশরের কাহিনীগুলোতে পাঠককে রহস্য সমাধানের পথ জানতে দেওয়া তো দূর, অধিকাংশ গল্পে শেষ পৃষ্ঠার আগে রহস্যটাই জানতে দেওয়া হয় নি। খুবই বিরক্ত করেছে এই ব্যাপারটা। শুধু পরাশর বলেছে বলে কৃত্তিবাস ভদ্রের সাথে ট্রেনে চড়ে দূর মুলুকে যাচ্ছি,ঘুরছি,এর ওর সাথে আলাপ করছি,কারোর উপর নজরদারি করছি – কিন্তু কেন করছি শেষ অনুচ্ছেদের আগে তা জানার উপায় নেই! আবার পরাশর কিভাবে অপরাধীকে জালে তুলল তার বিবরণ সবসময়ই অপ্রতুল এবং সমাধানের যুক্তিগুলোও বেশিরভাগ শোনায় ঠুনকো। তাই, অল্প কিছু গল্প বাদে রহস্য কাহিনী হিসেবে পরাশরনামা খুব তৃপ্তিদায়ক কিছু লাগল না।
একজন প্রেমেন্দ্র মিত্র ভক্ত বলেই প্রত্যাশার পারদ উঁচু ছিল। হয়ত পরাশরে তৃপ্ত না হওয়ার পেছনে এই অতিপ্রত্যাশাও একটা কারণ, কে জানে !
পরাশর বর্মা মূলত একজন কবি। তিনি বলেন, "গোয়েন্দাগিরি আমার সখ আর কবিতা আমার সাধনা"। তাই বেশিরভাগ সময়ই তাকে দেখা যায় কবিতা নিয়ে ছোটাছুটি করতে। যদিও বেশিরভাগ সময়ই সেসব কবিতার স্থান হয় ওয়েস্টবিনে। বেশ ভালোই লেগেছে। তবে কেন কে জানে কিছু কিছু ব্যাপার আগেই বুঝে ফেলছিলাম :p
বাংলা ভাষার সব গোয়েন্দা চরিত্র পড়ার মিশনে পরাশরও যোগ করেছিলাম। পড়লাম কিন্তু তেমন আনন্দ পাইনি। আসলে প্রেমেন্দ্র মিত্র পড়তে গেলেই সব লেখা নিজের অজান্তেই তার ছোটগল্পের সাথে তুলনা করে ফেলি।