এপিলেপটিক হায়দার একটি ছোট উপন্যাস। যার মূল বিষয়ের পাশাপাশি উঠে এসেছিল সুপ্ত ভালবাসা। যার বহি:প্রকাশ ছিল না, ছিল কেবল অনুভূতি। কখনো কখনো এই ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসার অর্থ খুঁজে পেত না হায়দার। শুধু খারাপ লাগা হত। ধীরে ধীরে সেটাও যেন গোপনীয়তা পেল। কিন্তু ডাহুক হয়ে কে এসেছিল হায়দারের স্বপ্নে! কেন-ইবা এল? সবকিছুই তো আড়াল হয়েছিল সেই-কবে।
ছোট্ট পরিসরে লেখা বইটি সত্যিই দারুণ লেগেছে। 'এপিলেপসি' রোগে আক্রান্ত হায়দারের জীবন নিয়ে কাহিনি সত্যিই ভালো লাগার মতো। রোগ নিয়ে কোন বই যদি লেখা হয় তাহলে নিঃসন্দেহে প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই বইটি। ছোট হলেও আশা করছি খারাপ লাগবে না।
লেখকের ছোটগল্পের হাত দারুণ, বহুগল্প উপহার দিয়েছে নানা রকম পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে তার লেখা, সেই সুত্রে এই বইটি ছিল আশাজাগানিয়া। হয়ত অনেকের কাছে ভাল লাগবে, সবার চিন্তা ও বইপড়ার ধাঁরা একই রকম নয়। তারপরেও এই সময়ে এসে লেখক Epilepsy এর মত দারুণ বিষয়নিয়ে লেখা উপহার দেবেন ভেবে ভালই লেগেছিল। Epilepsy বা মৃগীরোগ কেন্দ্রিক বিষয়বস্তু নিয়ে একটা গল্প লিখতে গেলে যে বিষয়টা সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে যে গল্পটা কোনভাবেই যেন মূল বিষয়থেকে সরে না যায়। দুঃখজনকভাবে লেখক সেটা ধরে রাখতে পারেননি অথবা রাখেননি। সমাজ আর পরিবারকে ছাপিয়ে মূল গল্পটা দিশেহারা ভাবে ছোটাছুটি করেছে, এই বিষয়টা ছিল দৃষ্টিকটু।
মূল নামটা বইয়ে ধরে রেখে ভেতরে তিনি রোগের সম্পূরক একটা বর্ণনা দিতে পারতেন যা, বইটির টেস্ট নষ্ট করেছে। সবথেকে বেশি বিভ্রান্ত করেছে এপিলেপটিকের বাংলা নাম আলোচনায় না আনা। দুঃখজনকভাবে প্রচারেও Epileptic বানানটা Apileptic লিখে বিভ্রান্ত করেছেন লেখক। জ্ঞাতসঃরে অথবা অজ্ঞাত যেভাবেই হোক ভুলটা মারাত্বক। আশাকরি সব ঠিক করে লেখকের পরবর্তি সৃষ্টি আমাদের আনন্দ দেবে।