Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাজতন্ত্র

Rate this book

Hardcover

First published February 1, 2018

2 people are currently reading
45 people want to read

About the author

Kingkor Ahsan

18 books27 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (19%)
4 stars
7 (14%)
3 stars
16 (34%)
2 stars
4 (8%)
1 star
11 (23%)
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
Profile Image for Shucheta.
193 reviews139 followers
April 5, 2018
লেখকের ভাষায় বলতে গেলে, "খারাপ। খুব খারাপ।"
Profile Image for Ifsad Shadhin.
115 reviews24 followers
September 17, 2018
১৪২ পৃষ্ঠার বই, দুই ঘন্টার ব্যাপার। খুব বেশি হলে আড়াই ঘন্টা। কিন্তু পাক্কা দুই দিন লেগেছে পড়তে। হুমায়ূন হুমায়ূন গন্ধের সাথে সেলিনা হোসেনের মতো ছোট ছোট বাক্যে লেখা উপন্যাসটা পড়ে প্রথম প্রথম ভালোই লাগছিল। পরে শুধুমাত্র বিরক্ত হয়েছি। এতটা আবেগ নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়া একইসাথে বিরক্তিকর এবং কষ্টকর কাজ।

উপন্যাসটা শুরু হয়েছে একটা খুন দিয়ে। আসলে প্রকৃত অর্থে খুন না, তবে খুন নান্ দ্য লেস্। চারজন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে তৃতীয় পুরুষে লেখা উপন্যাসটি, প্রতিনিধিত্ব করে তারা সমাজের তিন শ্রেণীর মানুষকে— উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত।

জামিল সাহেব। দুই সন্তানের পিতা, অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক, কিন্তু মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। অর্থের প্রতি মোহ তার নৈতিকতাকে ‘মদ খাইয়ে দিয়েছে’। 😂

শাফিন। আর্কিটেকচার ইন্জিনিয়ার। বাবা-মা-বোনের সংসারের আশার আলো। গার্লফ্রেন্ড আছে একজন, বাস্তববাদী চরিত্রের গার্লফ্রেন্ড।

যশোধর। বিরক্তিকর স্বভাবের ঢাকবাদক। বাস্তবের থেকে স্বপ্নে দিন কাটাতে পছন্দ করেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সে বিবাহিত এবং এক কন্যার জনক।

আর আমার সবচেয়ে প্রিয় (!) চরিত্র, সামির। বড়লোকের আবেগি ‘ভদ্র’ ছেলে, উপরে যেই জামাল সাহেবের কথা বললাম নাহ? ওই জামাল সাহেবেরই একমাত্র ছেলে। শারীরিকভাবে টিনএজ পার করলেও মানসিকভাবে টিনেজারদের থেকেও খারাপ। নিজের পরিবারের দৌড় সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। পৃথিবীর বাস্তব জ্ঞান তো দূরের কথা, জানেও না ‘উহা’ খায় না শরীরের অন্যত্র দেয়। জীবন যে উপন্যাসের পাতা নয়, সেইটা বেচারা এখনো বুঝতে পারে নি।

আর এতো গুলো চরিত্রকে এক সূত্রে বেঁধে রেখেছে অর্থ-ক্ষমতা। অর্থের দাপট, মানসিক অশান্তি, আশা-ভালোবাসা, বোকামি, সরলতা সব মিলিয়েই এই উপন্যাস।

ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে পারলে অসাধারণ উপন্যাস হতে পারত। কিন্তু লেখক এক্ষেত্রে ভয়ঙ্করভাবে ব্যর্থ। একই অনুচ্ছেদে একই বাক্যের পুনঃ পুনঃ ব্যবহার, অদ্ভুত এবং হাস্যকর সমার্থক-বিপরীতার্থক শব্দের প্রয়োগ, মূর্ছা যাওয়ার মতো লিঙ্গ পরিবর্তন (উদাঃ– মানুষ-মানুষী) আর সকল চরিত্রে সমান গভীরতা আনার ব্যর্থতা উপন্যাসের অন্যতম উইক পয়েন্ট। সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে লেখনীও অসাধারণ হতো, কিন্তু এক্ষেত্রে এতো সুন্দর লেখার ধরন হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এক লাইনে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা সব লেখকের থাকে না। কিঙ্কর আহ্‌সানের আছে। উপন্যাসের শেষ লাইন দ্রষ্টব্য হতে পারে— ‘কান্না। দুঃখ। কান্না। কান্না। দুঃখ। কান্না। কান্না। দুঃখ। কান্না। দুঃখ....।’ এটা আক্ষরিক অর্থেই উপন্যাসের শেষ লাইন। এখন বুঝতে পারছেন স্যাটেলাইট কেন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়? 🐸
1 review5 followers
February 16, 2018
কিচ্ছু বলার নাই, কিঙ্কর আহসানের লেখা একবারে শেষ করার একটা দাবি বা চাহিদা থাকেই। ওনার অন্যান্য বই পড়ার পর ওনার উপরে যে আস্থা ও বিশ্বাস জন্মেছিলো তার কোনো কমতি হয় নি বরঞ্চ আরো বেড়েছে।
Profile Image for Saydoul Tasfin.
10 reviews
March 6, 2021
গল্পের প্লটটা সুন্দর। তবে লেখকের গল্প বলার ধরণ ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছিলো কোনো স্ক্রিপ্ট পড়ছি। লেখার গতিশীলতা ছিল না। কিছু কিছু বাক্য খুবই সংক্ষিপ্ত এবং অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। তবে বইয়ে না লিখে সরাসরি উপস্থাপনা বা বক্তব্যের জন্য বাক্যগুলো সুন্দর।
Profile Image for Ashikur Khan.
Author 4 books7 followers
Read
February 27, 2023
বইয়ের নামঃ রাজতন্ত্র
লেখকঃ কিঙ্কর আহসান
বইয়ের ধরনঃ উপন্যাস
প্রকাশকঃ বর্ষা দুপুর
প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা, ২০১৮ (ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ)
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৭০ টাকা

যুগে-যুগে, কালে-কালে পৃথিবীতে চলেছে রাজার শাসন তথা রাজতন্ত্র। একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী এসব শাসকেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধিপত্য ও ক্ষমতার লোভে হয়ে যেতেন অন্ধ। কোনো বিবেকবোধ বা মানবতাবোধ তাদের মধ্যে আর অবশিষ্ট থাকত না। "রাজায় রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত!"-----এটাই ছিল তৎকালীন সময়ের এক চরম সত্য।
এমনই এক সমাজ বাস্তবতার গল্প নিয়ে পাঠক সমাজে হাজির হয়েছেন তরুণ কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান। উপন্যাসের সূচনা হয় নাসরিন আহমেদ নামক এক মহিলার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। আসে প্রেম, আসে বিরহ। নিরীহ মানুষ পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ে। গ্রামের সহজ-সরল মেয়েটির ঠাঁই হয় পতিতালয়ে। শেষ মুহূর্তে গিয়ে উন্মোচিত হয় মূল রহস্য। বাকি সময়ে ঘুণাক্ষরেও এ ব্যাপারে কোনো আঁচ পর্যন্ত পাওয়া যায়না। এভাবে অনেকটা সিনেমার ঢঙে এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প। এ ব্যাপারটি অভিনব লেগেছে আমার কাছে।
উপন্যাসের মূল চরিত্রে রয়েছেন জলিল সাহেব নামে এক ক্ষমতা ও অর্থলোভী ব্যবসায়ী। সমাজের একদম নিম্নস্তর থেকে উঠে আসা এ ব্যক্তি ক্ষমতা ও অর্থের লোভে মানবতা বিবর্জিত হয়ে পড়েন। এ দুইয়ের সমন্বয় তাকে অন্ধ করে দেয়। ক্ষমতা ও অর্থের জন্য এমন কোনো হেন কাজ নেই, যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেন তিনি। এমনকি নিজের একমাত্র ছেলেকে নিজহাতে খুন করতেও দ্বিতীয় বার ভাবেন নি তিনি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নিজের ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে সম্রাট জাহাঙ্গীর তার বিদ্রোহী জ্যেষ্ঠ পুত্রের চোখ অন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। জলিল সাহেব এ সবই করেছেন কেবল নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখবার জন্য।
গল্পে তার ছেলে সামিরকে উপস্থাপন করা হয়েছে এক সহজ, সরল, মাতৃভক্ত প্রাণী হিসেবে। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল যুবক সামির বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। ঘরের ভেতর আবদ্ধ করে নেয় নিজেকে। তার তেমন কোনো বন্ধু থাকে না, যার কাছে প্রাণ খুলে সবকিছু নিঃসঙ্কোচে বলতে পারবে। তার পাশে বন্ধুবেশে যাদেরকে থাকতে দেখা যায়, তারা আসলে দুধের মাছি; নিজেদের স্বার্থোদ্ধার হলেই কেটে পড়বে আস্তে করে। এ জন্য তার বন্ধুত্ব হয় গাছপালা, পশুপাখির সাথে। মানুষ তার সাথে প্রতারণা করলেও এরা কখনওই প্রতারণা করবে না----এটাই তার বিশ্বাস।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে খসরু নামের এক ব্যক্তি। জলিল সাহেবের ডানহাত বলে পরিচিত এ ব্যক্তি তার সকল কুকর্মের সাক্ষী। জলিল সাহেব কোথায় যান, কী করেন, সব ব্যাপারে তার কাছে তথ্য থাকে। তবে দুশ্চরিত্র লোকের সহচর হলেও সে ব্যক্তিগতভাবে ভালো লোক থাকে। জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের নিচে যেমন নিঃশব্দে মোমবাতির গাত্রদাহন চলতে থাকে, তার ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটে। বলা বাহুল্য, ফলশ্রুতিতে তার পরিণাম খুব একটা সুখকর হয়না।
এ তো গেল সমাজের এক দিককার গল্প। এর বাইরেও আরেকটি গল্প রয়েছে। সেটি এক সাধারণ মানুষের গল্প। একজন সাধারণ শিল্পী ও তার পরিবারের গল্প। সময়���র পরিক্রমায় ইহজগতের জটিলতা ও কুটিলতা সম্পর্কে অজ্ঞ শিল্পী যশোরথ ও তার পরিবার এ দ্বন্দ্বের গল্পে জড়িয়ে পড়ে। সবসময় মানুষের উপকার করে যাওয়া শৌখিন এ মানুষটি ফেঁসে যায় আরেক নিরীহ একজন মানুষ শাফিনকে উপকার করতে গিয়ে। শাফিনও তাদের মত পরিস্থিতির শিকার একজন মানুষ। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প।
এগুলো ছাড়াও ঔপন্যাসিক তার উপন্যাসের প্রয়োজনে আরো কিছু গৌণ চরিত্রের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এসব চরিত্র কখনো সমাজের শাসক শ্রেণীর স্থানীয় প্রতিনিধি ও মধ্যস্বত্তভোগী সহযোগীদের প্রতিনিধিত্ব করে, কখনো বা আপামর শোষিত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে।
উপন্যাসের গল্প ও চরিত্র চিত্রণ নিয়ে বস্তাপচা আলাপ তো আর কম হলো না! এবার আসা যাক ভাষাশৈলী ও শব্দচয়নের গল্পে। পুরো উপন্যাসটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে রচিত হলেও তাদের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য মিল রয়েছে। প্রতিটি অংশের সাথে অন্যান্য অংশের সংযুক্তি রয়েছে, বিচ্ছিন্নতা নেই। অনেকটা থ্রিলারের ভঙ্গিমায় এগিয়েছে উপন্যাসের গল্প। এ কাজে ঔপন্যাসিককে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিতে হয়েছে বৈকি! লেখক হিসেবে তার দক্ষতার আড়ালে এ ব্যাপারটি চাপা পড়ে গিয়েছে। দারুণ লিখনশৈলীর কারণে এ ব্যাপারটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি আমার। পুরো উপন্যাসটি বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু বানান জনিত ত্রুটি একজন সচেতন ও অনুদার পাঠক হিসেবে আমার দৃষ্টি এড়ায়নি। এছাড়া কোথাও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কোনো ত্রুটি লক্ষ্যণীয় নয়। সব মিলিয়ে এক কথায় দারুণ লেগেছে বইটি আমার।আশা করি, অন্য বইপ্রেমী পাঠকদেরও বইটি খারাপ লাগবে না তেমন।

"মা,মা গো, বাবা চায় আমি ক্ষমতাবান হই,রাজা হই। আমি তো রাজা হতে চাই না। মানুষ হতে চাই।"---- সাম্প্রতিক সময়কার মানবতাবোধ বিবর্জনের লড়াইয়ে গোটা বিশ্ব মেতে ওঠবার সময়ে উপন্যাসের শেষভাগে উল্লেখিত সামিরের এ উক্তি হোক আমাদের আজকের দিনের চাওয়া!

পাঠ অনুভূতি সুখের হোক!

প্রথম লেখা হিসেবে খারাপ হয়নি তেমন..... বরং ভালোই হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো--- বইয়ের উপরে সার্বিক আলোচনার চাইতে পাঠ অনুভূতির উপরে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রিভিউ লেখবার ক্ষেত্রে পাঠ অনুভূতি তুলে ধরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে চরিত্র ভিত্তিক কিছু বিশ্লেষণ যুক্ত করা হলে আরেকটু ভালো হতে পারত বলে আমার বিশ্বাস। এ বিষয়টি মাথায় রাখলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস। অগ্রীম শুভ কামনা রইলো। ♥
October 13, 2020
কিঙ্কর আহসানের উচিত লেখালেখি বাদ দিয়ে বইয়ের হকার হয়ে যাওয়া। উনি লেখালেখি কম বই বিক্রি করে খ্যাতি কামাতে বেশি আগ্রহি। একই ধাচের বই সবগুলো। কোন ভ্যারিয়েসান নেই। গদবাঁধা প্লট। শেষের দিকে মনে হয়। খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করে দিচ্ছেন। যেন ছাপানোর জন্যই বই লেখা।
Profile Image for Siam Mehraf.
Author 4 books19 followers
February 18, 2019
বইঃ- রাজতন্ত্র
লেখকঃ- কিঙ্কর আহ্সান
প্রকাশনীঃ- বর্ষাদুপুর
প্রথম প্রকাশঃ- একুশে বইমেলা ২০১৮
পৃষ্ঠাঃ- ১৪২
মুদ্রিত মুল্যঃ- ২৭০
.
ঘটনার শুরু শাফিন নামের একটা চরিত্রের মাধ্যমে। আর একটা লাশ। লাশটা নাসরিন রহমান নামের একজনের। যে কিনা শাফিনের সাথেই কাজ করতো জলিল সাহেবের হয়ে। যার জীবনে সফলতা এসেছিলো অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পরে।
.
ঘটনার প্রথম থেকে শাফিন পালিয়ে বেড়াতে থাকে একুল ওকুল। সে ভেবেছিলো নাসরিন রহমানের খুনের কারণে জালাল সাহেব তাকে ধরে ফেলবে। তাই সে নিজেই সবটা ছেড়ে ছুটে পালাচ্ছিলো এদিক থেকে ওদিক।
.
সামির নামের একটা ছেলে আছে এই গল্পে। যে কিনা তার একটা কুকুর আর দুটো গাছকে প্রচন্ড ভালোবাসতো। তার মনে হতো গাছগুলো তার সাথে কথা বলে।
.
আস্তে আস্তে শাফিন হারিয়ে যায় কোন এক বিয়ে বাড়িতে। সেখান থেকে তাকে সাহায্য করে যশোরথ নামের এক বাদক। যার সাথে বাদ্যযন্ত্রে পাল্লা দেয়ার জন্য সেই গ্রামে কেউ ছিলোনা। সে শাফিনকে সাহায্য করেছিলো যতটা তার সম্ভব। যদিও পরে তার বাদ্যদলের একজন শাফিনের সাথে ধোঁকাবাজি করে শাফিনের সাথে। কিন্তু তাও যশোরথ তার পাশে থাকে। কিন্তু পাশে থাকতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়ে যায় সে।
.
তবুও পালিয়ে যায়। ভাগ্যের পিছনে ছোটে। শাফিনের প্রেমিকার কথা মনে পড়ে। কিন্তু সে যেতে পারেনা তার প্রেমিকার কাছেও। জলিল সাহেবের ক্ষমতার কারণে। সে জানে ঢাকায় গেলেই জলিল সাহেব তাকে ধরবে। আর মেরে ফেলবে।
.
একটা সময় যশোরথ, তার বউ আর যশোরথের এক বন্ধুকে ধরে নিয়ে যায় জলিল সাহেবের এক লোক। কিন্তু অদ্ভুতভাবে জলিল সাহেবের যেই লোক তাদেরকে ধরতে গিয়েছিলো তাদেরকে ধরে ফেলে অন্য একটা দল। বেঁচে যায় শাফিন আর যশোরথের মেয়ে। তারা ভারতে চলে যাওয়ার প্লান কশতে থাকে।
.
কেন যশোরথকে জলিল সাহেবের যে লোক ধরতে গিয়েছিলো তাকে উল্টো ধরা হয়েছিলো সেটা জানতে হলে রাজতন্ত্র বইটা হাতে নিতে হবে।
.
শাফিন পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিলো কিনা। যশোরথের মেয়ের কি হয়েছিলো। আর কেন জলিল সাহেবের লোককে আরেকদল ধরে নিয়ে যায় সব প্রশ্নের উত্তর জানতে বইটাকে ১৪২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে ফেলতে হবে।
.
একটা গল্পকে সাধারণ কিছু বোধগম্য শব্দের মাধ্যমে এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে হয়ত এই মানুষটাকে প্রথম দেখলাম। এত সাবলীল শব্দগুলো। সবকিছু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। কিন্তু গল্পের শেষে গিয়ে হুট করেই একটা ধাক্কা খেতে হবে। আসলে গল্পটা প্রথম থেকে যেটা মনে করাবে সেটা হয়ত শেষে গিয়ে নাও একই রকম থাকতে পারে। পুরো ব্যাপারটা ঘুরে যাবে হুট করে। পাঠকেরা প্রথম দিকে যেই সুত্র ধরে এগোতে থাকবে শেষে এসে তার বিপরীত কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাবে। আসলে তারা নিজেরাও বুঝবেনা যে হুট করেই কিভাবে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। মাথাটা বেশ ভালোভাবেই ঘুরে যাবে। এত সুন্দর করে আসল টুইস্ট বের হয়ে আসবে বইটার, যা পড়ে পাঠকেরা বেশ মুগ্ধ হবে।
.
কিঙ্কর ভাই বেশ ভালোভাবে গল্পটা ফুটিয়ে তুলেছেন। কোন জায়গাতে খাপছাড়া লাগেনি। মনে হলো সহজ ভাষায় একটা গল্প পড়েছি। কিঙ্কর ভাইয়ের পড়া এটা আমার প্রথম বই, তবে এই বইটা পড়ার পর তার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বেড়ে গেছে। আর বছরে যদি উনি ১২ টা বইও বের করে তাও পড়তে বোরিং লাগবেনা। উনি আসলেই একটা ভালো মানের লেখক। তাই উনার কাছে ডিমান্ড প্রচুর পরিমানে বেড়ে গেছে। ভালোবাসা কিঙ্কর ভাই। অনেক ভালোবাসা।
.
আমি বই রেটিং-এ বিশ্বাসী না। একটা লেখক একটা বই অনেক কষ্ট আর চিন্তার পরে লিখেন। তাই তাদের কষ্টের দাম মাত্র ৫ পয়েন্টের ভিতর দিতে চাইনা। লেখকদের সেই চিন্তাধারণা বা কষ্টের দাম পয়েন্ট দিয়ে নয়, বরং বই ভাল খারাপ না ভেবে বই কিনে তাকে উৎসাহিত করা আর সুধরে দেয়ার মাঝেই বিদ্যমান। শুধু এতটুকু এই বইটার ক্ষেত্রে বলব, এই বইটা পড়ে কোন পাঠক হতাশ হবেনা। তৃপ্তির পুরোটা পাবে পাঠক বইটার ভিতরে। সাবলীল ভাষায় একটা কম্পিলিট প্যাকেজ। এটা পড়ে লেখকের সবগুলো বই পড়ে ফেলতে চাইবে পাঠকগন।
.
কিঙ্কর ভাইকে ধন্যবাদ এই বইটা আমাদেরকে উপহার দেয়ার জন্য। অনেক অনেক ভালোবাসা রইলো তার প্রতি। আরো অনেক সুন্দর বই বছরের পরে বছর আমাদেরকে উপহার দিক সেটাই কামনা উনার প্রতি।
.
শেষে একটা কথা বলতে চাই, কিঙ্কর ভাইয়ের উপর একদিন বেশ রেগে ছিলাম, যেদিন সে বলেছিলো সে আর লিখবেনা। বইটা পড়ার পরেও যদি দেখতাম সে তার ওই সিদ্ধান্তে অটল আছে, যে সে আর বই লিখবেনা তাহলে তার উপর রাগটা স্কোয়ার হয়ে বেশ বেড়ে যেতো। ভাগ্যিস সে তার সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করেছে। অনুরোধ থাকবে তার প্রতি সে যেন লিখে যায়। সারাজীবন। একজীবন। আমাদের জন্য। সবার জন্য। ভালোবাসার মানুষগুলোর জন্য।
Profile Image for রি য়ে ন.
170 reviews23 followers
March 3, 2018
"কঠিন প্রেমের হবে মরণ,
বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ,
ইকটু ইকটু করে‌ -
রইবে না আর ঘরে রে মন
রইবে না আর ঘরে।"

কিঙ্কর আহ্সান এর রাজতন্ত্র পড়ার পর,
আমার মন ভালো নেই। একটুও মন ভালো নেই। একি পড়লাম আমি! কেন পড়লাম! এই বইটিই কেন পড়তে হলো আমাকে‌! ভালো লাগছে না কিছু।কিছুই না। এই দুনিয়া ভালো লাগছে না। ভালো লাগছেনা মানুষ গুলোকে। এত ভয়ংকর কি করে হয় মানুষ! কেন এমন হয় মানুষ!কেন মানুষ এত ক্ষমতা চায়! কি হবে এই গুলো দিয়ে! বইটি পড়ে দুঃখ হচ্ছে খুব। কান্না পাচ্ছে। কান্না। কান্না। কান্না। দুঃখ। কান্না। কান্না। দুঃখ। কান্না.........

সাদাত হোসাইন এর মানবজনম বইতে লেখা গানটা মনে পড়ছে বারবার-
"তোর জন্য কষ্ট হচ্ছে খুব,
তোর জন্য কষ্ট চেপে রাখা।
তোর জন্য কান্না পাচ্ছে খুব,
তোর জন্য কান্না চেপে রাখা।"

আর হেলাল হাফিজের কবিতাটি,
কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট !
Profile Image for Rizal Kabir.
Author 2 books45 followers
May 19, 2018
লেখার ধরণ খুব সুন্দর। লেখকের অনুভূতির গভীরতা প্রশংসার যোগ্য। এবং গল্প বলার ধরণ সুন্দর। একটানা পড়ে যেতে ইচ্ছা করে।
1 review
February 12, 2019
দিতে চাইছিলাম ২.৫ সেটা দেয়া যায় না বলে দিলাম ৩। এখন দেখি দুঃখ।কান্না।দুঃখ।কান্না।কান্না।দুংখ। relly Kinkar, really!! pls bye a bangla grammar book and then start again.
Profile Image for Sanjida Alam.
26 reviews26 followers
April 11, 2018
খারাপ না। গল্প বলার স্টাইল ভালো। বাদ বাকি পুরান রেসিপি...
Displaying 1 - 11 of 11 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.