বইটি পড়ে মনে দু'টি অভিযোগ দানা বাঁধল। সেজন্য দু'টি তারা খসাতে বাধ্য হলাম। ১] মূল বইয়ের ১২৮ পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ৯৬ পাতা পদবির ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট এক-চতুর্থাংশ গেছে অন্য নানা কথায়, যার সঙ্গে নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ইতিহাসের সম্পর্ক থাকলেও বাংলা পদবির উৎস সন্ধান নিয়ে কিছুই পাইনি। ২] হিন্দু ও মুসলিম বাঙালির মোট পদবির অতি সীমিত অংশই আলোচিত হয়েছে এই বইয়ে। যেটুকু এসেছে তার কিছু-কিছু অংশের আলোচনা বিস্তৃত ও কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু অন্য, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই আলোচনা সংক্ষিপ্ত হতে-হতে প্রায় উপেক্ষণীয় হয়ে গেছে। তবু বলব, বইটি অত্যন্ত মূল্যবান, এবং সুখপাঠ্য। বাঙালির জাতিগত তথা ভাষাগত ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী হলে এটি অবশ্যই পড়া উচিত।
মানুষের নামের সাথে যে এক টুকরো লেজ জুড়ে দেওয়া হয় তাকে সাধারণত পদবী বলে। বংশসূচক নাম, উপাধি ও উপনামকে সাধারণ ভাবে পদবি বলা হয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মূল নামের শেষে বংশ, পরিবার, পেশা, বসতিস্থান ইত্যাদি পরিচয়বাহী উপনাম বহু কাল আগে থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে।
এই পদবি কিভাবে মানুষের নামের পাশে স্থান করে নিলো এ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য আর বাদবাকি অনুমানের উপর ভিত্তি করে পদবির ব্যাখা দেওয়া হয়।
স্থান এবং পেশার উপর ভিত্তি করে বেশী পদবির নামমকরন হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে তিন ভাই তিনটি আলাদা পেশায় থাকলে তাদের পদবি আলাদা আলাদা হয়, আর তাদের ছেলে মেয়েরা একই বংশের হলের ভিন্ন পদবি নিয়ে পরিচিতি লাভ করে। এক্ষেত্রে পদবি পেশাভিত্তিক।
লেখক সমর পালের " পদবির উৎসসন্ধান" বইটিতে অসংখ্য জানা অজানা পদবি ও তার উৎস নিয়ে ব্যখ্যা। বইটি মৌলিক নয়, বিভিন্ন বইয়ের তথ্য নিয়ে সাজানো। চমৎকার একটা বই। আপনি চাইলে বইটা পড়ে নিজের পদবির উৎসটা খুজে নিতে পারেন।