Jump to ratings and reviews
Rate this book

পঞ্চম

Rate this book
খুন হয়ে গেছে ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়। স্থানীয় থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসে ঘটনাস্থলে খুঁজে পেলেন এক কিশোরকে। প্রাথমিক সন্দেহে গ্রেফতার করা হলো তাকে। বর্তমানে কিশোররা অনেক ভয়ংকর। বেশ কিছু কেসে এমনটা দেখা গেছে।

কিন্তু, পরদিন পাশা উল্টে গেলো। খুনের অস্ত্রে পাওয়া গেলো বাসার দারোয়ানের হাতের ছাপ। ছেলেটাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো পুলিশ। ধরলো বাসার দারোয়ানকে। অকাট্য প্রমাণ। খুন করার সুযোগ আর মোটিভ দুটোই ছিল।
কিন্তু, পুরো পরিস্থিতি উল্টেপাল্টে তদন্তে এলো এনএসআই এর দুই ডিটেকটিভ সোহেল আর তার সহকারী সোহান। পাশার দান আবার বদলাতে লাগলো। অভিজ্ঞ অফিসার সোহেল পড়লো মহাধন্ধে। কোন জীবিত মানুষ তাকে কখনো যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি, একটা মৃত মানুষ তাকে সে দেয়ালের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিলো।

আদাজল খেয়ে লাগলো সে। শুরু হলো কখনো ব্যর্থ না হওয়া সোহেলের জীবনের প্রথম অসফল হতে যাওয়া কেসের তদন্ত।

160 pages, Hardcover

Published February 9, 2018

4 people are currently reading
52 people want to read

About the author

Dibakor Das

15 books37 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
12 (13%)
4 stars
28 (31%)
3 stars
42 (46%)
2 stars
8 (8%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 29 of 29 reviews
Profile Image for Shariful Sadaf.
212 reviews107 followers
November 19, 2020
দিবাকর দাসের ভালো একটি বই শেষ করলাম। লেখনী যথেষ্ট সাবলীল ছিলো বিরক্তির ছাপ নেই বললেই চলে।
খাঁটি দেশি থ্রিলার মাফিয়া জগতের কামরুল হাসান নামক একজনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্লট।
গল্পের নামচয়নটা বেশ যুক্তিযুক্ত।
গল্পের একটা জিনিসের ব্যাখ্যা আমি পাইনি একদিনের ভেতর ডজনখানেক স্পাইকে কিভাবে খুঁজে বের করে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাদবাকি গল্পটা টান টান উত্তেজনার ভেতরেই এগিয়েছে।
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,975 followers
January 11, 2023
সাড়ে তিন তারা। বেশ উপভোগ্য একটা রহস্যোপন্যাস। লেখকের লেখার হাত দারুণ। প্লটটা আউট অফ দ্য বক্স না হলেও, সুচিন্তিত ছিল। কিন্তু প্লটের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে লেখক অ্যান্টাগোনিস্ট বা প্রোটাগনিস্ট কারোই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের দিকে নজর দিতে পারেন নি। তাই বই শেষ করার পর দাগ কাটার মত চরিত্র রইলো না একটাও। বিল্ড-আপের তুলনায় ক্লাইম্যাক্স একটু ম্যাড়মেড়ে। এই বইটার পরেও লেখক আরো কয়েকটি রহস্যোপন্যাস লিখেছেন। সেগুলো আগ্রহ নিয়েই পড়বো।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews32 followers
September 1, 2018
বেশ ভালো বই। এই ধরনের ওয়েল অরগানাইজড বাংলাদেশী থ্রিলার ইদানিং তেমন একটা চোখে পড়ে না। লেখক যা বলতে চেয়েছেন, বইতে তা প্রায় পুরোটাই লিখে প্রকাশ করতে পেরেছেন বলে মনে হয়। ভাষা অতি সাবলিল। আর অপ্রয়োজনীয় বিশাল বিশাল বিবরণ না থাকায়, বইয়ের কোন অংশ পড়তেই এতটুকুও বিরক্ত লাগে নাই। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো বই!
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews58 followers
April 10, 2020
3.5 Star.

গল্পটা ভালো ছিল। লেখনীও। মাঝখানে গল্পের Pace হারিয়ে ফেলেছিল। স্লো হয়ে গেছিল অনেকখানি৷

লেখকের "অভিমন্যু" মুগ্ধ করেছিল। "পঞ্চম" ততটা মুগ্ধতা ছড়াতে না পারলেও, খারাপ লাগে নি।
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews218 followers
February 8, 2023
বই: পঞ্চম
লেখক: দিবাকর দাস
জনরা: মিস্ট্রি থ্রিলার
প্রচ্ছদ: রাজিবুর রহমান রোমেল
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০
মুদ্রিত মূল্য: ১৯০/- (বইঘর ই-বুক ৪০/-)

রাজুর গা জ্বলে ওঠে কামরুল সাহেব তাদের গ্রুপের নাম মুছে দিয়েছেন। যদিওবা কামরুল সাহেবের বাসার দেওয়ালে অনুমতি না নিয়েই লিখেছিল তারা ❝RED DEVIL❞। না এবার লিখবে বেডরুমের দেওয়ালে। কিন্তু যাবে কে? রাজুই যাবে সবচেয়ে বেশি যে সেই রেগে আছে, সাহসও তারই বেশি। বল নেওয়ার অজুহাতে রাজু লুকিয়ে পড়ে বাসার মধ্যে। রাত বারোটা বাজলেই দোতলার কামরায় যাবে দারোয়ান ঘুমানোর পর। ঠিক সময়ে উপরে চলে যায় রাজু পা টিপে টিপে। রুমের মধ্যে যা দেখে দুনিয়া কেঁপে ওঠে তার। কামরুল সাহেব গলা কাটা অবস্থায় পড়ে আছেন! চিৎকার দিয়ে বেহুশ হয়ে পড়ে।

একটি খুন কিন্তু তা সমাধানের ভার পড়ে স্পেশাল এজেন্টদের উপর! কামরুল সাহেব যে যেনতেন লোক নন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক নামি-দামি ব্যক্তি! খুনের কেস থেকেও বেশি জরুরি ওনার লুকিয়ে রাখা তথ্যগুলো। এজেন্ট সোহেল- সোহান নেমে পড়েন ফিল্ডে কিন্তু যেখান থেকে শুরু করেছিলেন বারবার সেখানেই চলে আসছেন!

আন্ডারওয়ার্ল্ডের গভীর জলের মাছ কামরুল সাহেব। কেউই সাহস করে না তার ক্ষতি করতে কিন্তু হঠাৎ হয়ে যান খুন। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তোলপাড় শুরু হয়। তুখোড় এজেন্ট সোহেলের ঘাড়ে পড়ে দ্বায়িত্ব। সহযোগী হিসেবে সোহানও সাথে থাকে। যদিও প্রথমে শুধুই মার্ডার মিস্ট্রি মনে হচ্ছিলো কিন্তু আরও কিছু ❝কিন্তু❞ আছে। মার্ডার, সাসপেন্স, থ্রিল, একশন তো আছেই।

লেখকের আরও কিছু বই পড়া হয়েছে। লেখনশৈলী বেশ ভালো লাগে। থ্রিলের সাথে হিউমার এটা একটা কারণ। তবে প্রথম দিকে কাহিনী ঝুলে পড়েছিল। বর্ণনাও কিছুটা বেশিই মনে হয়েছে। কামরুল সাহেবের মৃত্যু রহস্য ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের পঞ্চম সদস্য হয়ে উঠার টুইস্ট বেশি ভালো লেগেছে। তবে একটা পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে। একজনের কাছে কিছু এতিম বাচ্চারা তার পুরো পৃথিবী। ওদের বাঁচাতে পুরো দেশ রসাতলে যাক, কোনো ব্যাপার না। আবার অপর জনের কাছে তার পরিবারই সব। আর পরিবারের জন্য সে দেশের পরোয়া করে না। প্রথমজন মানবিক আর অপর জন স্বার্থলোভী দেশদ্রোহী! একজনের দু'জনের প্রতি এমন আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি কতোটা যৌক্তিক লাগে? চরম প্রতিভাবান, নিজের আদর্শকে যে সবের উপরে রাখে তার এমন দুমুখো দৃষ্টিভঙ্গি আমার কাছে দৃষ্টিকটু। চরিত্রায়নে আরও ডেভেলপমেন্টের দরকার ছিল। ওভারঅল মোটামুটি ভালোই লেগেছে।
Profile Image for উচ্ছ্বাস তৌসিফ.
Author 8 books70 followers
April 11, 2020
পঞ্চম পড়ে ভাল লেগেছে। খাঁটি দেশি থ্রিলার। বাংলাদেশের মাফিয়া জগতের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গল্প। শুরুতেই যেটা বলা লাগবে, নামকরণের সার্থকতা ষোল আনাই মিলেছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়টা শেষ হওয়ার পরেই মনে হলো, গল্প জমে গেছে। তবে পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, দিবাকর দাসের ক্যালিবার অনুযায়ী এই বই ঠিক ফুলফিলিং না।

প্রথমত, ডায়ালগে কিছু জায়গায় বলার ধরনে সামান্য অসামঞ্জস্যতা আছে। অশুদ্ধ ভাষা বলতে থাকা মানুষ হুট করে শুদ্ধ বলে ফেললে যেমন চোখে লাগে, সেরকম। বইটা পড়া থাকলে এটা বোঝা যাবে।

দ্বিতীয়ত, গল্পের মূল চরিত্রকে দেখানো হয়েছে অসম্ভবকে সম্ভব করা এক মানুষ হিসেবে। যার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এরকম বড় লেভেলের কেস আসেনি। একদিনে সে ডজনখানেক বিদেশি স্পাইকে ঢাকার কোণা কোণা থেকে খুঁজে বের করে, দেশ থেকে বিদায় করে দিতে পারে।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যে থেকেও খবর আসছে তার কাছে। সোর্সও আছে। কিন্তু সেই সোর্সের কর্মপন্থা নিয়ে আলাদা একটা অধ্যায়ও নেই। অথচ সেই সোর্স একরকম ঢাকার রাজা বলা চলে। ব্যাপারগুলো খানিকটা সায়েন্স ফিকশন বইতে অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য 'টাইম ট্রাভেল' ব্যবহার করার মতো লেগেছে।

তবে গল্পের শেষ অঙ্ক সব পুষিয়ে দিয়েছে। অনেকটা মানবিক গল্প একই সঙ্গে তৃপ্তি ও খানিকটা হাহাকার জাগিয়ে তুলবে। টুইস্টটা দারুণ। যেটা বলা দরকার, আমার কাছে টুইস্ট-ই সব না। তবে এদিক থেকে লেখক ভাল কাজ দেখিয়েছেন।

আসল কথা হচ্ছে, লেখকের এই বইটা ছিল কামব্যাক ধরনের। এর পরে লেখা, আরো সমৃদ্ধ বই আমি পড়ে ফেলেছি। ফুলফিলিং না লাগার এটাও সম্ভবত একটা কারণ।

বইটা ভূমি প্রকাশের অফিসিয়াল ফ্রি পিডিএফ থেকে পড়েছি৷ ওদেরকে কৃতজ্ঞতা পছন্দের লেখকের বইটা এরকম খারাপ সময়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। লেখকেও কৃতজ্ঞতা।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews23 followers
January 8, 2024
দিবাকর দাসের লেখনশৈলী আমার দারুণ লাগে। সাবলীল ভাবে পড়ে যাওয়া যায়। দেশীয় পটভূমিতে এরকম মাফিয়া নিয়ে গল্প দারুণ লেগেছে কিন্তু গল্পের মাঝে এক জায়গা একটু ভালো লাগে নি। সেটা গল্পে না আসলেই আরো ভালো হতো। তাছাড়া পঞ্চমের ব্যাখ্যাটা অনেক দারুণ ছিলো। শেষে ছিলো একটা টুইস্ট আর ব্যাখ্যা দিয়ে সব কিছুর যবনিকাপতন। তাছাড়া চরিত্র গঠনে আরো সময় দরকার ছিলো।
Profile Image for Nafisa Nawar.
74 reviews16 followers
October 24, 2022
গল্পের ধারা অসাধারণ কিছু ছিলো না। একটা পর্যায়ে অনুমেয় একটা ছাঁচে গল্প আগাতে শুরু করে। শেষ পরিণতির একটু বেশি আবেগের ছোঁয়া লেগে যাওয়াতে সিনেমার মত লাগতে পারে। কিন্তু এভাবে শেষ করতে ভালোই লাগে। যেটা বেশি ভালো লেগেছে তা হল, লেখার ধরণ, যার কারণে একটা স্টার বেশি দিলাম। অনেক উপমার ছলে গল্প বলে গেছেন লেখক।
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
April 9, 2020
চমৎকার। এক বসায় শেষ করলাম।লেখকের নাম মুখবইয়ে অনেক দেখছি।ওভাররেটেড ভাবছিলাম,কিন্তু আমি ভুল প্রমাণিত হলাম।ভূমিপ্রকাশ এই বইটির ফ্রিতে ছেড়েছে,অনেকে রিভিউ দিয়েছে যে বইটা ভালো। পড়ে দেখলাম যে আসলেই দারুন।
লেখকের অন্য বইগুলোও পড়ে ফেলতে হবে।
Profile Image for Tanzimul Ayaan Tanaf.
17 reviews10 followers
April 18, 2020
সোহানের অধিকাংশ চিন্তা একদম দুর্বল। এতো লো লেভেলের চিন্তা ভাবনা! আর সেটার সাথে সোহেলের তাল মেলানো, ভালোলাগেনি।
Profile Image for Ajwad Bari.
76 reviews32 followers
August 6, 2020
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
এই প্রথম দিবাকর দাসের কোন বই পড়লাম। লেখকের লেখনশৈলী বেশ প্রাঞ্জল মনে হয়েছে । বইয়ের মধ্যে বেশ কিছু দর্শনের উপ্সথিতি ও ছিল যেগুলকে লেখক খুব সুন্দর ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছেন। উপমার ব্যবহারগুলো ও ভালো লেগেছে। কিন্তু কয়েকটা সংলাপ একটু বেখাপ্পা মনে হয়েছে । মনে হয়েছে যে এই চরিত্রের এভাবে কথা বলাটা ঠিক মিলছেনা।

চরিত্র নিয়ে বললে আসলে বলতে হয় কোন চরিত্রকেই সেভাবে মনে ধরেনি। এনএসআই এর ডিটেকটিভ সোহেল ও সোহান। সোহেলের সহযোগী হিসেবে এই কেসে কাজ করছে সোহান। বইয়ে সোহানের পটেনশিয়াল ও কর্ম দক্ষতার প্রশংসায় বেশ কয়েকবার হয়েছে। এমনকি সোহেল নিজেও তার জুনিওরের কাজে ইম্প্রেসড হয়েছে কয়েকবার – একথাও উল্লিখিত ছিল । কিন্তু পুরো বইজুড়ে সোহানের কর্মদক্ষতার কোন পরিচয় ই পাওয়া যায়নি। কেসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ক্লু সোহেল একাই বের করেছে। বরং সোহানের চিন্তাধারায় বোকা বোকা ভাব ছিল অনেকসময়ই। লেখক সোহানকে প্রথমে যেভাবে (এমনকি শেষেও) যেভাবে দেখিয়েছেন সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। আর সোহেলকে এনএসআই অফিসার হিসেবে হটাৎ করে অনেক ক্ষমতাধারী দেখানো হয়েছে যেটা অতিমাত্রায় বেখাপ্পা লেগেছে। একদিনে সে ঢাকায় ছড়িয়ে থাকা ডজনখানেক বিদেশি বাঘা বাঘা স্পাইকে খুঁজে বের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয় !

১৬৬ টি পেজের বইটি দুই বসায় পড়ে শেষ করেছি। গল্পের পেসিং যথার্থ ছিল। বাংলাদেশের মাফিয়া জগত নিয়ে গড়ে উঠা মার্ডার মিস্ট্রির প্লটটাও ভালো। শেষের দিকের টুইস্টটা ও বেশ ভালোই লেগেছে। মাফিয়া , স্পাই , খুন , তদন্ত এসবের ভীরে শেষের দিকে মানবিক বিষয়বস্ত ও উঠে এসেছে। কিন্তু এক্সিকিউশন, ডিটেইলিং এ বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। কয়েকটা বেশ ভালো রকমের প্লটহোল ধরা পড়েছে যার কারণে এই বইয়ের প্রতি ভালোলাগাটা অনেকখানি কমে গিয়েছে এবং বিরক্তির কারণ ও ছিল এগুলো।



স্পয়লার এলার্টঃ
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

*কামরুল সাহেবের দারোয়ান বাদশা জেলে থাকা অবস্থায় সোহেলকে বলে যে কামরুল সাহেব তার রান্না-বান্না সব নিজেই করতেন। এমনকি রান্নাঘরে তিনি ছাড়া আর কেউ কখনো ঢুকতো পর্যন্ত না । বাদশার দোতলায় অনুমতি ছাড়া উঠাও নিষেধ ছিল । তাহলে রান্নাঘরে থাকা ‘সবজি কাটার’ ছুরিতে বাদশার হাতের ছাপ থাকে কিভাবে???

* কামরুল সাহেব তার জবানবন্দিতে বলেছেন যে যখন রাজুর ঘরে ঢোকার আওয়াজ তিনি পান ততক্ষণে তিনি খুনের অস্ত্রের গ্ৰিপ অলরেডি খুলে সেটাতে রান্নাঘরের সবজী কাটার ছুরির গ্ৰিপ (যেটাতে বাদশার হাতের ছাপ রয়েছে) বসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি যেই ছুরি থেকে গ্ৰিপটা নিয়েছেন সেটা রান্নাঘরেই ফেলে আসেন। আর তিনি এও বলেন রাজুর চিৎকার শুনে লোকজন জড়ো হয়ে যাওয়াও পরবর্তীতেও ছুরিটা সড়ানোর সময় পান না তিনি। কথা হচ্ছে কামরুল সাহেবের মতো এত ইন্টেলিজেন্ট ও ঠান্ডা মাথার মানুষ যিনি সবকিছু কিছু এত সুন্দরভাবে প্ল্যানিং করেছেন, তিনি কেন প্রথমেই যখন ছুরি থেকে গ্ৰিপ খুলে তার অস্ত্রে সেটা লাগাচ্ছিলেন তখনই রান্নাঘর থেকে সেটা সড়ালেন না?

* কামরুল সাহেব তার জবানবন্দিতে বলেন যে তার ছোটবেলার একটা সাদাকালো ছবি ভিকটিমের বেডরুমে রয়ে গিয়েছিল যেটা তিনি খুন করার পর সরানোর সময় পাননি। এবং পরবর্তীতে সেই ছবিটা তিনি ছদ্মবেশে পুলিশদের ফাঁকি দিয়ে ভিকটিমের বেডরুমে ঢুকে সরিয়ে ফেলেন। কামরুল সাহেব এও বলেন যে তার ছোটবেলার ঐ ছবির সাথে তার বর্তমানের 'মাসুদ খান' গেটাপের বেশ ভালো মিল ছিল। তাই তিনি এত রিস্ক নিয়ে ছবিটি নিতে যান। কিন্তু ভিকটিমের বাড়ি এবং বেডরুম তন্ন তন্ন করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খুঁজে ও সোহেল ও সোহান একবার ও ছবিটি দেখে না!!!!!
এমনকি সোহেলও সোহান ভিকটিমের ঘরে তন্ন তন্ন করে খোঁজার পরেও একাধিকবার আসে। কিন্তু কামরুল সাহেবের সেই ছোটবেলার ছবিটা থানায় নেওয়া তো দূরে থাক তাদের কারো নজরে পর্যন্ত পড়ে না ! যেখানে ছবিটি যদি তারা আগে ভালোমতো দেখতো তাহলে নিশ্চয়ই মাসুদ খান গেটাপে থাকা কামরুল সাহেবের চেহারার সাথে সেটার মিল পেত। বিশেষ করে সোহেল এর মতন বিচক্ষণ অফিসারের চোখে তো অবশ্যই ধরা পড়ত‌।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

এই বিষয়গুলি আসলেও বিরক্তিকর ছিলো। পুরা বইয়ের মজাটাই অনেকখানি মাটি হয়ে গিয়েছে এগুলোর কারণে। লেখনী ও বর্ণনাভঙ্গি বেশ সাবলীল ও ভালো লাগলেও এসব উপেক্ষা করে উপভোগ করা সম্ভব ছিলনা। এসব বিষয়ে নজর দেওয়া খুব প্রয়োজন। এই বইটা তেমন ভালো না লাগলেও লেখকের অভিমন্যু বইটা পড়ার ইচ্ছে রয়েছে ভবিষ্যতে।
8 reviews2 followers
April 14, 2020
সানাউল্লাহ,
তোমাকে একটা নতুন বইয়ের গল্প বলছি। বইয়ের নাম—পঞ্চম। লেখক—দিবাকর দাস। মার্ডার মিস্ট্রী। থ্রিলার স্বাদও পাবে খানিকটা। ভূমিপ্রকাশ—নতুন প্রকাশনী হলেও লেখক বাছাইয়ে দারুণ পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। একটা খুন-কে কেন্দ্র করে কাহিনী এত সাবলীল ও স্বচ্ছন্দ গতিতে এগিয়েছে, বিরক্তির উদ্রেক হয় না মোটেও। সাধারণত, পিডিএফ বা হার্ড কপির বাইরে অনলাইনে বসে থেকে বই পড়তে অভ্যস্ত নই আমি। কিন্তু এই বইটা পড়তে হয়েছে অনলাইনে। খুবই বিরক্তিকর প্রক্রিয়া। একটানা অতক্���ণ অনলাইনে বই পড়া কিঞ্চিৎ কষ্টকর বৈকি! কিন্তু আশ্চর্যকর হলেও সত্যি, এই বইয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যে প্রমাণ হয়েছে তা। চুম্বকের মতো পাঠক ধরে রাখার ‘বিরল’ সামর্থ্য আছে লেখকের। আরো মুগ্ধতার ব্যাপার হচ্ছে, কাহিনীটার মাথায় বনবন করে ঘুরতে থাকা। পুরো পাঠ-কাল তো আছেই, শেষের পরও একটা রেশ রেখে যাওয়া—এককথায় অনবদ্য।

একজন মানুষ খুন হয়েছেন, যিনি আন্ডার ওয়ার্ল্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ মানে—সুতোর নাটাই তার হাতে। মাফিয়া জগতের তথ্যের খনি বলা চলে ভদ্রলোককে। সেই মানুষটার খুন হওয়া মানে মাফিয়া জগতে বিরাট গোলমাল সৃষ্টি ���বং তার কাছে থাকা হীরের মতো দামী তথ্যভান্ডার হয়ে পড়া উন্মুক্ত। বাংলাদেশ প্রশাসন স্বাভাবিকভাবেই নড়েচড়ে বসার কথা। এনএসআই বা ন্যাশনাল সিক্যুরিটি ইন্টেলিজেন্স—পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেই দায়িত্ব নেয় হত্যা-রহস্য উদঘাটনের। তারই ধারাবাহিকতায় এনএসআই-এর দু’জন চৌকস তরুণ অফিসার দৃশ্যপটে আবির্ভুত হন। যারা তাদের মেধা-প্রশিক্ষণ-অভিজ্ঞতা-অনুভুতি সমস্ত দিয়ে রহস্যের জাল ছিন্ন করার চেষ্টা শুরু করেন।

লেখকের রসবোধ—আকৃষ্ট করে দারুণ। আর আকৃষ্ট করে—উপমার ব্যবহার। এটা যদি সিনেমা হতো বেশ কিছু সংলাপে হয়তো হাততালিতে ফেটে পড়ত গোটা হল। তোমার রহস্য ও রোমাঞ্চের প্রতি দুর্বলতা আছে। একবার তোমাকে সিডনি শেলডনের কয়েকটা বই দিয়েছিলাম, যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলে সেবার। এই বইয়ের গল্পও তোমার সঙ্গে পেড়েছি সেজন্যেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশী আবহে, আমাদেরই চারপাশের চরিত্র নিয়ে কেমন ধুন্ধুমার গল্প হতে পারে—উপলব্ধি করবে তুমি। একদম প্রথম থেকে পাঠক ধরে রাখা সহজ না, প্রথম লাইন থেকে পাঠকের সঙ্গে বইয়ের বন্ধুত্ব ঘটিয়ে দেয়া চাট্টিখানি কথা না, আমার বলতে দ্বিধা নেই—লেখক বেশ দক্ষতার সঙ্গেই এখানে ব্যাপারটি ঘটিয়েছেন। আবার খুব সাধারণ একটা খুনের রহস্য টেনে নিতে অযথা বাড়াবাড়ি বা শব্দের অপচয়ও করেননি। যার কারণে, বইটা যেখানে শেষ হয়েছে, তোমার মনে হবে একদম বরাবর। ১১৯ মিনিটের সিনেমা ঠিক ১১৯ মিনিটেই যেন শেষ। এক সেকেন্ডও এদিক-ওদিক নয়।

রহস্য-উন্মোচন পর্বটা দুর্দান্ত। আচমকা। কোনো ক্ল্যু নেই, মনে হচ্ছে কোনো গতি নেই, ঘুরে গেছে গল্পের স্বাভাবিক গতিপথও, ঠিক সেই সময় প্রব্লেম সলভড! হয়তো তুমি এক বসায় পড়ছিলে, আচমকা এই জায়গায় এসে একটু হলেও নড়েচড়ে বসবে, একটু হলেও টানটান করবে পা, একটু হলেও কেঁপে উঠবে চোখ। মুন্সিয়ানার মাত্রাটা এখানেই। পাঠককে আচমকা বিহ্বল করে দেয়া, হঠাৎ ঘুরিয়ে দেয়া গল্পের ঢঙ, অথবা চোখে এঁকে দেয়া মোহাবিষ্টতার রঙ। লেখকের সুনিপুণ দক্ষতার জায়গাটা বুঝতে পারছো তো?
রহস্য-উন্মোচন পর্বের আরেকটা ব্যাপার বলি। এই ঢঙ আমাদের খুব পরিচিত। শেষে এসে যেভাবে উন্মোচন হয়েছে, বৈঠকী-আবহে ছেঁড়া হয়েছে একটা একটা জাল, আলাপ-আলোচনার ছুঁতোয় খোলা হয়েছে একটা একটা সুতোর গিঁট। দারুণ ছিল। মানবিকতার একটা ব্যাপারও ছিল। এই মানবিকতার গল্প—গল্পের জমাটি রঙেরই আরেকটি দিক। মূল কাহিনীতে মোটেও প্রভাব ফেলে না তা। এ্যাঁহ, কী দরকার ছিল বাপু, প্যানপ্যানে মনুষত্ব দেখিয়ে গল্পটাকে ডোবানোর—মোটেও মনে হবে না তা। বরং মনে হতে পারে, যাক বাবা—অমন পাথুরে মনও তাহলে গলল!

আশা করি ভালো লাগবে তোমার। দিবাকর দাস—আমাকে তার গুণমুগ্ধ করে নিয়েছেন। অভিমন্যু—বইটা নাকি এটার চেয়েও ভালো। আর আছে—হরবোলা। দুটোই অবশ্য-পাঠ্য তালিকায় করে নিয়েছি। প্রথম সুযোগেই এই দুটোর অন্তত একটা বই হস্তগত করার আশাবাদ। তুমিও লেখকের গুণমুগ্ধ হয়ে পড়বে, সেই আশাবাদ রাখছি।

ইতি—
ইরফান
7 reviews7 followers
February 25, 2020
বাগানের ঘাস ছাটার ছুরি দিয়ে জবাই হয়ে গেলেন কামরুল সাহেব। আপাত দৃষ্টিতে লোকটাকে অভিজাত এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি বলে মনে হলেও কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এল। এনএসআই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ইনি "শার্ক অব আন্ডারওয়ার্ল্ড" নামে খ্যত। কামরুল সাহেব ছিলেন এমন একজন লোক, যার সাথে অপরাধ জগতের সব মাফিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। তাহলে খুনটা করলো কে? ওদিকে মার্ডার ওয়েপনে পাওয়া গেছে তার বাড়ির একমাত্র দারোয়ান বাদশার হাতের ছাপ। তাহলে কি অপরাধ জগতের কোনো শক্তি দারোয়ানকে দিয়ে খুনটা করালো? আন্ডারওয়ার্ল্ড এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোই বা কই লুকানো আছে? ওসি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে এন এস আই এর দুইজন অফিসার সোহেল আহসান ও সোহান ইসলাম কেসটা হ্যান্ডওভার করে নিলো। এরপর কী ঘটলো?


পাঠ প্রতিক্রিয়া

লেখকের বর্ণনাভঙ্গি বেশ চমৎকার। চোখের সামনেই যেন সবটা কাহিনী দেখতে পাচ্ছিলাম। রহস্য উদঘাটনের সময় কিছু কিছু ঘটনাকে লেখক নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। তাতে কখনো জীবনবোধ উঠেছে, কখনো নীতিকথা।

একদম শেষ মুহূর্তে এসে রহস্য উদঘাটন করার ট্রেন্ড ফলো করেননি লেখক দিবাকর দাস। এমন সময়ে এসে খোলাসা করিয়েছেন, যখন মনে হচ্ছিল, সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। সোহেল রহস্য ভেদটা এমন আচমকা হলো যে তার সহকারী সোহানের সাথে সাথে আমিও হা হয়ে গিয়েছি। গতানুগতিক মার্ডার মিস্ট্রির মতো নয় বইটা। সত্যি বলতে মার্ডার মিস্ট্রির প্রতি আমার একরকম বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিল। এই বইটা সেই বিতৃষ্ণা কাটিয়ে দিল।

কিছু খুব সাধারণ ভুল চোখে পড়েছে। যেমন- ছুটিরদিন সকালে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট আসতে দুই ঘন্টা লাগার কথা না। আবার ডিটেকটিভ দুজনের নাম এত কাছাকাছি যে পড়ার সময় মাঝে মধ্যেই মিলিয়ে ফেলছিলাম। এই সমস্যাটা অবশ্য আমার নিজেরই। এটার জন্য লেখককে দোষ দেওয়া যায় না।

সবমিলিয়ে, সময়ের অপচয় হবে না বইটা পড়লে। যারা মার্ডার মিস্ট্রি পছন্দ করেন, তাদের জন্য উপভোগ্য একটা বই।

বই পরিচিতি

বই- পঞ্চম (মার্ডার মিস্ট্রি)
লেখক- দিবাকর দাস
প্রচ্ছদ- রাজিবুর রহমান রোমেল
প্রকাশনা- ভূমি প্রকাশ
মলাট মূল্য- ১৯০
প্রকাশকাল - বইমেলা ২০১৮
Profile Image for Masum Billah.
187 reviews3 followers
November 21, 2020
বই নাম্বার ১২
বই নেমঃ- পঞ্চম
লেখকঃ- দিবাকর দাস
ধরনঃ- মার্ডার মিস্ট্রি
প্রকাশনীঃ- ভূমি প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ১৬৭

নিজের বাসায় গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেলো কামরুল সাহেবকে। মানুষটি ছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ড ফ্রীলান্সার। নিরাপত্তা বাহিনী আর ক্রিমিনাল সবার কাছেই তথ্য বিক্রি করতেন। অথচ তাকে মেরে ফেলার কোন কারণ নেই এই দুদলের। তাহলে খুনটা করলো কে? এনএসএ এর পক্ষ থেকে তদন্তে পাঠানো হলো সোহেল আর সোহান নামের দুই তদন্ত কর্মকর্তা। প্রাইম সাবজেক্ট এক কিশোর আর দারোয়ান। কিন্তু সোহেলের তদন্তে এরা দুজনেই নিরাপরাধ। এদিকে কামরুল সাহের কাছে থাকা গোপন তথ্য পেতে মরিয়া হয়ে উঠলো একাধিক সংগঠন। এর ভিতরে যেমন আছে দেশের নিরাপত্তা সংগঠন আর সন্ত্রাসী চক্র তেমনি মাঠে নেমেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সিক্রেট সার্বিস আর মাফিয়া সংগঠন। সবার চাহিদা একটাই, যেকোনো মুল্যে তথ্যগুলো হাতানো। কে হাসবে শেষ হাসি? ঐদিকে গাজীপুরে এক এতিমখানাকে ঘিরে জমে উঠেছে অন্য রহস্য।

স্পয়লার

বিদেশি সিক্রেট সার্বিসগুলোর প্রসংগ লেখক না টেনেও পারতেন। এই কাহিনীতে তাদের কোন ভুমিকা লেখক একেবারেই তুলে ধরতে পারেননি। তারা নিজেদের ভিতরে মারামারি নিয়েই ব্যস্ত
ছিলো।
বিদেশি মাফিয়া সংগঠনের নাম বার বার উঠে আসলেও তাদের কোন কার্যক্রম নেই। এটা কিভাবে সম্ভব?
পুলিশ বাহিনীকে যতটা উদাসীন আর অকর্মা হিসাবে দেখানো হয়েছে আমার জানামতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী এতটা উদাসীন বা অকর্মা নয়।
যদিও আমি সরকারি চাকরি করিনা তবুও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে লেখকের মন্তব্যগুলো আপত্তিকর মনে হয়েছে।
একজন মাদক সম্রাটের সাথে ( যদিও তাকে পুলিশের সোর্স বলা হয়েছে) সোহেলের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে সেটা বাস্তবে কতটুকু সম্ভব, যেখানে সোহেল একজন পুরোপুরি সৎ নিষ্ঠাবান আদর্শ কর্মকর্তা?

স্পয়লার অংশটুকু বাদ দিলে কাহিনীটা অসাধারণ ছিলো। পারফেক্ট সাইজ, কোন আজাইরা ক্যাচাল নেই, কাহিনী এগিয়েছে সরল গতিতে। কামরুল সাহেবের জীবনী অসাধারণ লেগেছে। চমৎকার একটা কাহিনী।
রেটিং ৩/৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews23 followers
Read
January 3, 2024
❛মৃ ত্যুতেই মুক্তি!❜

ছিচকে চোর, নামহীন বা ক্ষমতাসীন লোক দিনে দুইজন করে খু ন হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এত ঘাম ঝরে না যা যতটা ঝরে উঁচু পাড়ার কোন ব্যক্তির একটু সর্দি কাশি হলে। আর সে ব্যক্তি যদি মাঝরাতে খু ন হয় তাহলে সেরেছে। উপরমহলের ফোন আর হম্বিতম্বি শুনতে শুনতেই সারা।
মাঝরাতে আচমকা চিৎকার শুনে দারোয়ান মালিকের ঘরে গিয়ে দেখে মালিক মৃ ত পড়ে আছেন। একটু বাদে তার সাথেই আবিষ্কার করেন এক ছোকরাকে। ঘটনা কী? সব দেখে ঠিকমত তালা দেয়ার পরেও মালিক কামরুল হাসানের বাসায় এই রাতে মানুষ কী করে ঢুকে আর কামরুল কী করে খু ন হয়? উত্তর নেই।
ছোকরা ঢুকেছিল বালখিল্য কাজে। নিজেদের দলের নাম কালার স্প্রে দিয়ে লিখেছিল কামরুল হাসানের দেয়ালে। ব্যাটা কি না গালাগাল দিয়ে রঙ মুছে দিলো। এবার তার শোয়ার ঘরেই একেবারে ❛Red D e v i l❜ নামটা স্প্রে করে দিতে হবে। পরিকল্পনা করে সে কাজ করতে গিয়েই ঘরে ঢুকে দেখে যার উপর প্রতিশোধ নিবে সে পাখি আগেই প্রাণত্যাগ করেছে। ছোকরা তাই ভয়ে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারায়।

মোটামুটি এই হলো ঘটনা। তবে ঘটনা আরো ঘনীভূত হয় যখন একটা খু নের তদন্ত পুলিশ, ডিবি ছাড়িয়ে চলে যায় এনএসআইয়ের হাতে। কামরুল হাসান তবে শুধু বড়ো ব্যক্তি নয় শুধু, ছিলেন ঘাঘু জিনিস। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ফ্রিল্যান্সার এবং বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম। যে পঞ্চম হিসেবে খ্যাত। তিনি এভাবে মা রা পড়াতে জাতীয় নিরাপত্তায় যে ঝামেলা দেখা দিবে সেটা আঁচ করা যায়। তাইতো অভিজ্ঞ সোহেল আর তরুণ নবীশ সোহানকে পাঠানো হলো তদন্তে। এমন ক্ষেত্রে যা হয় কখনো অমীমাংসিত কেস না থাকা লোকের কাছে দায়িত্ব সঁপে দেয়া এবং এক পর্যায়ে গিয়ে তারা দেখে এই বুঝি কেস সমাধান করতে না পারার তকমাটা ক্যারিয়ারে যোগ হলো বলে। খু নী কে সেটা বের করা থেকেও বেশি জরুরি কামরুলের কাছে থাকা তথ্যগুলোকে বেহাত হওয়া থেকে রক্ষা করা। অভিজ্ঞ সোহেল সৎ, নিষ্ঠাবান, নির্লোভ অফিসার তাই নিজের সবটা দিয়ে নামলেন কাজে।

দেখা গেল মাঠে তারা একাই খেলছে না। আরো খেলোয়াড় আছে। কামরুলের কাছে থাকা তথ্য যার হাতে পরবে সে পুরা লটারি জিতে যাবে। এই তথ্যের মূল্য থেকেও এর ক্ষমতা অনেক বেশি। তাইতো দেশী বিদেশী ফেউ আনাগোনা করতে লাগলো বাংলাদেশের মাটিতে।
তাদের সামলে সোহেল আর সোহান যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে কীসের একটা সুরাহা করতে। তবে সবকিছুই কানাগলিতে গিয়ে ঠেকেছে। না অপরাধী ধরতে পারছে, না তথ্য পাচ্ছে। নিজের সোর্স কাজে লাগিয়েও আলোর দেখা নেই।
এভাবেই কি প্রথম অমীমাংসিত কেস হিসেবে যোগ হবে সোহেল-সোহানের ঝোলায়? না শেষ বাজিতে খেলা পাল্টে যাবে?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

বাংলাদেশী মা ফি য়া এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে লেখা খুব একটা পড়েছি কি না খেয়াল নেই। কয়েক বছর আগে লতিফুল ইসলাম শিবলী এর লেখা ❛দখল❜ পড়েছিলাম। সেখানেও মা ফিয়া এবং নিচের জগতকে ভিত্তি করে লেখা সুন্দর একটা উপন্যাস ছিল।

❝পঞ্চম❞ দিবাকর দাসের লেখা বাংলাদেশী মা ফি য়া এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডকে উপজীব্য করে লেখা চমকদার একটা থ্রিলার।
শুরু থেকেই বেশ একটা থ্রিল ভাব কী হয় কী হয় অবস্থা ছিল। নিখুঁত খু ন এবং কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ না রেখে অপরাধীর পালিয়ে যাওয়া ব্যাপারটা পড়ার সময় বেশ ভাবিয়েছে। উপন্যাস যত এগিয়েছে, ভালো লাগার পরিমাণ বেড়েছে।
সোহেলের উপস্থিত বুদ্ধি, বিচার ক্ষমতা এবং বিচক্ষণতা দারুণ ছিল। সাথে কিছু বিনোদন দেয়ার মতো সংলাপের উপস্থিতি পাঠকে আনন্দ দিয়েছে। লেখকের লেখা ঈশান রায় সিরিজের প্রথম বই পড়েছিলাম। আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনি। তবে এই বইটা নিয়ে ভালো মন্দ মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম তাই নিজেই একবার পড়ে দেখার ইচ্ছা জেগেছিল।
টানটান থ্রিলার না হলেও লেখকের লেখার সাবলীল ভঙ্গি এবং দ্রুত গল্প বলার ফলে বইটা পড়তে আমার একদিনও লাগেনি। বিকেলে ধরে রাতে ফিনিশ করে ফেলেছি।
আমার কাছে উপন্যাসটা মোটামুটি থেকে একটু ভালো লেগেছে। বইয়ের প্লট খুব দারুণ ছিল। আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশে এর অন্যতম নেটওয়ার্ককে ঘিরে লেখাটা দারুণ আবহ সৃষ্টি করেছিল। ফলে আশার পারদ একটু উপরে উঠে গেছিল। মেদযুক্ত বলা যায় না, লেখক যেখানে যেটুক বর্ণনা আনা দরকার সেটুকুই এনেছেন। কোনো বর্ণনায় বিরক্তির উদ্রেক একেবারেই হয়নি। তবে কিছু বিষয় একটু কাকতালীয় বা অসম্ভব লেগেছে।
প্রথমেই বলতে হবে বাইরের দেশের এজেন্টদের ব্যাপারটা। বিশ্বের তাবৎ তাবৎ এজেন্ট দেশে আসলো সোহেল এবং তার বাহিনীর কাছে এমনেই ধরা পড়ে গেলো আর লক্ষ্মী বাবুটার মতো বিমানবন্দরে গিয়ে প্লেনে উঠে চলে গেল, ব্যাপারটা ঠিক হজম হলো না। তাও এত কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ধরে ফেলাটা একটু বেশিই অসাধারণ পর্যায়ের ছিল।
চরিত্র গঠনের দিকেও মনে হয় কিছুটা দুর্বল ছিল। সোহানকে লবিং করে এনএসআইতে দিয়ে দিলো কিন্তু বান্দার বুদ্ধিশুদ্ধি এক্কেরেই কম। সাধারণ জিনিস সে ধরতে পারে না। অযথা সেন্টি খেয়ে যায়।
আবার, সোহেলকে খুব বুদ্ধিমান, সফল দেখানো হলো, কাউকে তেল দেয় না, নিজ কাজে থাকে, সেরা ফিল্ড এজেন্ট। অথচ তার ক্যারিয়ারে চোখে পড়ার মতো কোনো কেস নেই। তাহলে কোন ভিত্তিতে সে সেরা এজেন্ট?
ছোকরা ছেলেটা মানে রাজু যে রাতে স্প্রে দিয়ে লিখতে গিয়ে লা শ দেখে চিৎকার দিয়ে মূর্ছা গেলো নানা কাহিনি ঘটলো, তাকে পুলিশের জীপে করে থানায় নেয়া হলো এসবের কিছুই তার বাবা জানতে পারলো না, ধামাচাপা দেয়া গেল? এটার ব্যাখ্যা দেয়া যায়, তবে আমার কাছে বেমাক্কা মনে হলো।

কিছু অসঙ্গতির মাঝেও লেখক শেষটায় একটু আগুন জ্বা লিয়ে দিতে পেরেছেন (আক্ষরিক অর্থেই!)। শেষটায় লেখক পুরো আবেগ এনে দিয়েছেন। শেষটা বেশ ভালো লেগেছে। মাঝের ছন্দপতনকে পুষিয়ে দিতে শেষটা লেখক পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।

প্রতিটি কাজের পিছেই কোনো কার্যকারণ থাকে। সেগুলোকে জাস্টিফাই করার অনেক পয়েন্ট থাকলেও অন্যায় অন্যায়-ই। তবুও কি শেষ কিছু কথা রয়ে যায়? কে জানে হয়তো যায়। এই উপন্যাসেও হয়তো ছিল!
Profile Image for Shahriar.
48 reviews1 follower
October 9, 2022
লেখকের প্রাঞ্জল লিখনশৈলীর পরিচয় আগেই পেয়েছি। সাবলীল ভঙ্গীতে বর্ণনার একটা ক্ষমতা আছে দিবাকর দাসের।
বইয়ের কাহিনীটাও দারুণ। একজন প্রভাবশালীর খুন। তবে সাধারণ কোনো প্রভাবশালী নয় সে। আন্ডারওয়ার্ল্ড এর একজন বিশেষ মানুষ। আর খুনের তদন্ত নিয়েই কাহিনি। তদন্ত অফিসার দুজন হলেন সোহেল এবং সোহান।
লেখক হয়তো ইচ্ছা করেই দুজনের নাম মিলিয়ে রেখেছেন। তেমন বড় সমস্যা না হলেও বেশ কয়েক বার বিভ্রান্ত হয়েছিলাম প্রথম দিকে। কাহিনি খুব দ্রুত গতিতেই এগিয়েছে। মোবাইলে বই পড়ার অভ্যাস অনেক দিন আগেই খুইয়েছি, সেটা মনে হচ্ছে ফিরে পেলাম। ৩০ অধ্যায়ের এই বই ২ দিনেই শেষ করেছি। শেষে বেশ ভালো টুইস্ট ছিল। তবে যুক্তহীন একটা বিষয় বেশ প্রকট ছিল। মাত্র এক দিনে অতগুলো বিদেশি এজেন্ট দের ব্যবস্থা কিভাবে সম্ভব তার কোনো ব্যাখ্যাই দেন নি লেখক। এছাড়া বাকিটা ভালোই উপভোগ করেছি।
Profile Image for Masum Hamim.
6 reviews1 follower
January 4, 2024
চব্বিলে পড়া প্রথম বই পঞ্চম। যদিও বইটার ৮০ শতাংশ পড়ে শেষ করবার পরে বুঝেছি– পঞ্চম মানে কী আসলে! অথচ এর আলোচনা আগেও করা হয়েছে। যাকগে, অন্যান্য থ্রিলার বইগুলো সাধারণত যে ধাচের হয়ে থাকে এটাও তেমনই। তবে প্রত্যেকেরই তো কিছু নিজস্বতা থাকে, সেই ছাঁপও এই বইতে আছে। বইটার কাহিনিটা একদম ভিন্ন। প্রত্যেকটা পৃষ্ঠা পড়া শেষেই মনে হয়েছে– পরের পৃষ্ঠা কখন পড়বো! পাঠক মনকে আটকে রাখতে পারে। সবমিলিয়ে ভালো একটা জার্নি কেটেছে পঞ্চমের সাথে।
Profile Image for Sakkhar  Banerjee.
109 reviews6 followers
October 27, 2024
থ্রিলার নয়, বরং রহ��্য উপন্যাস।
শুরু বেশ ভাল ছিলো, মাঝে গতি কিঞ্চিৎ শ্লথ, গল্পের গোয়েন্দা চরিত্রের সাথে পাঠকেরও মনে হবে এই রহস্যের বুঝি মীমাংসা নেই। তবে শেষে রহস্যের সমাধান অবশ্যই হয়েছে, এবং তা বেশ চমৎকার!
নেগেটিভ দিক - অযথা চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার (সিগারেটের গোঁড়া) , মুখ্য চরিত্রের (এবং আদতে গল্পের) নামকরণের সার্থকতার ব্যখ্যা।
এ-বাদে একবার পড়ার মতো ভালো রহস্য গল্প।
Profile Image for K.M. Ettahad.
79 reviews
June 13, 2020
এই লেখক অনেক দূর যাবেন। এতটা প্রফেশনালি কিভাবে কাহিনী এগিয়ে নিলো ভাবতেই অবাক হচ্ছি। নতুন লেখক হিসেবে যে খেল দেখিয়েছেন সত্যিই অবাক হয়েছি তাতে। এরকম আরো বই লেখকের থেকে আশা করি। এঞ্জয় করলাম খুব!
Profile Image for Maliha Tabassum Arna.
186 reviews49 followers
December 25, 2020
চিকন বইটা শেষ করতে এমনিই নানা কারনে অনেক সময় লাগিয়ে দিয়েছি......
বাট, বইটা যথেষ্ট ভালো ছিলো ।
Profile Image for Badhon Sarkar.
59 reviews2 followers
March 9, 2021
মাঝেমধ্যে খুব স্লো হয়েছে বলে মনে হচ্ছিলো। তার ফলে গল্পের তাল বারবার কাটছিলো৷
23 reviews
January 19, 2022
কিশোর পাশা ইমন এর রিভিউ দেখে বইঘর থেকে কিনলাম। ভালো লাগল।
Profile Image for Isma Ekram.
24 reviews8 followers
February 27, 2025
উপন্যাসে আয়নাঘর আনতে কলিজা লাগে । Hats off .
This entire review has been hidden because of spoilers.
5 reviews
April 9, 2024
good book but not great

The good aspects: This book has a very good initial hook. Also, loved how the story explored the philosophical sides of human nature. But it doesn't hit you the way it should have due to lack of character development.

The bad: The final twist was okay yet not perfectly justified.


My take: If you are looking for a murder mystery with slow and steady pace you can give it a try. But if you are here a for fast paced story with jaw-dropping twist and great character development this might not be for you.
Profile Image for Sanjid Parvez.
11 reviews
March 21, 2018
নিজ বাড়িতেই নৃশংস ভাবে খুন হয়ে গেলেন কামরুল সাহেব। ঘটনাস্থলে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেল এলাকার এক কিশোরকে। রহস্য ক্রমেই জট পাকাতে শুরু করল যখন পরদিনই পুলিশের কাছ থেকে তদন্ত বুঝে নিল NSI, খুনের অস্ত্রে পাওয়া গেল বাসার দারোয়ানের হাতের ছাপ কিন্তু মোটিভ তো তার সেরকম জোরালো কিছু না। কে ছিল আসলে এই কামরুল সাহেব? যার হত্যারহস্য সমাধানে পুলিশ, ডিবি বাদ দিয়ে খোদ NSI কেন এত উঠে পড়ে লাগল? তদন্তে নামল NSI-এর চৌকোষ গোয়েন্দা সোহেল আহসান আর তার নবিস সহযোগী সোহান ইসলাম। একেকটা দিন পেরিয়ে যায়, অথচ কোন ক্লু ধরেও মেলে না রহস্যের কোন কুলকিনারা...তবে কি NSI-এর ঝানু ডিটেকটিভকে সত্যিই হার মানতে হবে?!

পঞ্চম-এর গল্প গড়াতেই ধীরে ধীরে পরিস্কার হয়ে আসে মৃত কামরুল সাহেবের ব্যাকগ্রাউন্ড। আপাত দৃষ্টিতে কামরুল সাহেবের নিরিবিলি ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাপনে আড়ালে ছিল এক অদ্ভুত, চাঞ্চল্যকর পেশা! মজার ব্যাপার হল তার সেই কাজের ক্ষেত্রের পরিধি এতটাই আসলে ব্যাপাক ছিল যে সেটাকে নানা দিক দিয়ে এক্সপ্লয়েট করার সুযোগ ছিল লেখকের আর তা করেননি বলেই "পঞ্চম"কে আসলে সমসাময়িক অন্যান্য আর পাঁচটা থ্রিলার বইয়ের কাতারে আমার মনে হয় না ফেলা যাবে। দিবাকর দাসের পঞ্চমকে মূলত একটি গোয়েন্দা বা রহস্যপোন্যাস বলা চলে; যার ভিতর মাঝে মধ্যে এখানে সেখানে ঘাপটি মেরে ছিল একশন বা স্পাই থ্রিলার ঘরোনার উপাদান, কিন্তু ইন্টেরেস্টিং লেগেছে এটা দেখে যে কিভাবে এই তরুণ লেখক খুবই সন্তর্পণে ঐ দিকটা 'সুকৌশলে' এড়িয়ে গিয়ে কাহিনীটিতে ঢেলে দিয়েছেন একটি ভিন্টেজ গোয়েন্দা বা রহস্যপোন্যাসের স্বাদ। তবে সমালোচনাও বলতে গেলে প্রথমে এটাই বলব যে উপন্যাসের প্রথম ভাগটা কিছুটা শ্লথ লেগেছে আমার কাছে, কাহিনী এগিয়েছে কিছুটা ধীর লয়ে স্রেফ NSI-এর ঐ দুই গোয়েন্দার তদন্ত 'তৎপরতার' মধ্যে দিয়ে যা কিনা কামরুল সাহেবের হত্যা ও একে ঘিরে জমে ওঠা রহস্যকে যদি কিছু ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো যেত তবে মনে হয় তা এড়ানোরও সুযোগ ছিল। অবশ্য ২য় ভাগের শেষ থেকে শুরু করে কাহিনীর তৃতীয় অংকে গিয়ে দিবাকর সাহেব অবশ্য তা পুষিয়ে দিয়েছেন একজন পেশাদার রহস্য বা থ্রিলার উপন্যাসিকেরই দক্ষতায়। ভাল লেগেছে এটাও দেখে যে একদম শেষ ভাগে গিয়ে Morality-এর একটি পর্বও মঞ্চস্থ করে তার পর্দা টেনেছেন বেশ মুন্সিয়ানার সাথে, যা কিনা সাধারণত অনেক ক্ষেত্রেই বেশ নাটুকে, সিনেমেটিক বা গতানুগতিকও হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে আর পঞ্চমের শেষে তেমনটা হয়নি। হাতে গোনা কয়েকটা ক্যারেক্টার দিয়ে একটি সরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় পেশাগত কনফ্লিক্ট আর ইন্টারেস্টের মত বিষয়াদি সংযোজন ছাড়াও কামরুল সাহেবের আল্টিমেট ব্যাকস্টোরিটাও ছিল বেশ উপভোগ্য।
এই ফাকে আরেকটা ছোট্ট সমালোচনাও জুড়ে দিতে চাই আর তা হল, কামরুল সাহেবের বাসার দারোয়ান বাদশার (দু-এক জায়গায় যাকে বশির নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) সেলে দেয়া বক্তব্যে ভাষার তারতম্যের ব্যাপারটা, সহজাত আঞ্চলিক টোন থেকে যখন বেশ শুদ্ধ ভাষাতেও বাদশার জবানীতে ঘটনার বিবরণ শোনা যায় তখন তা আসলেও খানিকটা কানে লাগে।
বিভিন্ন তথ্য উপাক্ত সংগ্রহ আর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম ভাগটা কিছুটা কম ঘটনাবহুল বা রোমাঞ্চকর হলেও "পঞ্চম"-এর যে ব্যাপারটা পাঠককে ধরে রেখে নিয়ে যাবে এর উপভোগ্য ২য় ভাগ ও ক্লাইমেক্সে তা হল দিবাকর দাসের লেখনীর সাবলীলতা আর পরিমিত রসবোধ। লেখকের এই গুণটাই আগামীতে তাকে সামাজিক, পারিবারিক, রোমান্টিক-এর মত অন্যান্য জনরার গল্প উপন্যাসও যে স্বাচ্ছন্দে লিখতে সাহায্য করবে বা উৎসাহ জোগাবে তেমনটাই আমার বিশ্বাস। বিশেষ করে উপন্যাসটির একদম শেষ ভাগে গিয়ে যেভাবে সামলেছেন মানবিক বা ইমোশনাল কন্টেন্টের মত কিছু বিষয়গুলো তাতে করে মনে হয় না সেই আশাবাদ রাখাটা মোটেও ভুল কিছু হবে।
অস্বীকার করব না পঞ্চম-এর তৃপ্তিই এখন আমাকে উৎসাহ জোগাচ্ছে এই লেখকেরই সাইকো-থ্রিলার "ছায়াবাজি"টাও পড়ে দেখার জন্য। তবে তার আগে আপাতত আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেলের নেমন্তন্নটাই রক্ষা করতে চললাম, ভাল থাকবেন সবাই।
Profile Image for Sheikh Ahmmed Nazirul Bashir.
50 reviews11 followers
March 28, 2018
দারুণ লিখেছেন দিবাকর দা। একটিমাত্র খুনের ঘটনা থেকে পুরো প্লট সাজানো আসলেই ভালো হয়েছে। একটানে পড়ার মত বই। পড়েওছি তাই। বোরিং লাগেনি কোথাও, সবসময় রানিং ছিল। পুলিশের পরপরই এনএসআই-য়ের দৃশ্যপটে আসা, ঢাকা-গাজীপুর যাওয়া-আসা, ক্লু খুঁজে না পাওয়া, বাইট্ট্যা রমিজের সাক্ষাৎ ইত্যাদি সবই ছিল মজার।

তবে আমার মতে আসল খুনী কে সেটার চাইতে বেশি চমক ছিল এনএসআই-য়ের ভেতরেই। আর রসুন দিয়ে মরিচ ভর্তা…দিবাকর দা পারেন নাকি বানাতে? একদিন চেখে দেখতে হবে।

#হ্যাপি_রিডিং
Displaying 1 - 29 of 29 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.