অ্যাস্টেরিক্স বা অ্যাস্টেরিক্সের অভিযান (ফরাসি: Astérix or Astérix le Gaulois, asteʁikslə ɡolwa) রনে গোসিনি লিখিত এবং আলবেয়ার ইউদেরজো কর্তৃক চিত্রিত (১৯৭৭ সালে গোসিনির মৃত্যুর পর ইউদেরজো লেখার দায়িত্বও গ্রহণ করেন), ফরাসি ভাষায় লিখিত কমিক বই। পিলট নামে এক ফরাসি পত্রিকায় ২৯শে অক্টোবর, ১৯৫৯ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালের শেষাবধি পর্যন্ত এর মোট ৩৪ টি কার্টুন বই বের হয়েছে।
গল্পগুলো রোমান সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে লিপ্ত প্রাচীন এক গল গ্রামকে ঘিরে সম্পাদিত হয়েছে। তারা তাদের ড্রুড বা পুরোহিতের বানানো এক ধরনের জাদুর শরবত পান করে প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতো। গল্পের নায়ক বা প্রধান চরিত্র ‘অ্যাস্টেরিক্স’ ও তার বন্ধু ওবেলিক্স দু’জনে মিলে অনন্য সাধারণ অভিযানে লিপ্ত হতো। প্রতিটি চরিত্রের নামের শেষে যে ‘ক্স’ বিভক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে তা অনেকটা ‘ভারসিঙ্গটরিক্স’ নামে এক ঐতিহাসিক গল প্রধানের নামের উচ্চারণের সাথে মিল রয়েছে। যদিও এ সকল গল্পের ঘটনাগুলো গ্রামের আশেপাশের ব্যাপার ঘিরে গড়ে উঠলেও, অনেকগুলো গল্পই এই দু’জনকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করতে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় (ভলিউম ৪ থেকে ২৯), গল্পের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে একবার গল এবং পরেরবার বিদেশকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। জোড় সংখ্যার বইগুলো বিদেশ এবং বেজোড় সংখ্যার বইগুলো গল, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গ্রামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।
সারা পৃথিবীতে অ্যাস্টেরিক্স-এর কাহিনীগুলো ফ্রাঙ্কো-বেলজিয়ান কমিক বইগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়, এ কাহিনীগুলো মোটামুটি ১০০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, এবং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে। তবে জাপান ও আমেরিকায় এর পরিচিতি অনেক কম।
এই বিশাল জনপ্রিয়তার কারণে কিছু বই ১১ টি সিনেমায় রূপান্তরিত করা হয়েছে; যার মাঝে ৮টি অ্যানিমেটেড (কার্টুন) আর তিনটি সিনেমা। এছাড়া এর চরিত্রের উপর নির্ভর করে বেশ কিছু গেমস ও প্যারিসের কাছে ‘পার্ক অ্যাস্টেরিক্স’ নামক একটি থিম পার্ক তৈরি করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত এই ৩৪ কাহিনী ৩২৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে সারা বিশ্বে। যার ফলশ্রুতিতে লেখকদ্বয় ফ্রান্সের বর্হিবিশ্বের সেরা লেখক হিসেবে স্থান পেয়েছে