This novelistic discourse not only deals with environmental and climatological concerns but also foregrounds the need for incorporating the nonhuman animals in our theoretical spectrum as it still perpetuates the norms of humanist discourse in celebrating the privileged position given to homo sapiens. It is a narrative about the ways the human beings and the nonhuman animals interact, coalesce and grow against the backdrop of nature.
মণীন্দ্র গুপ্তর জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালের গৈলা গ্রামে। কৈশোর কাটিয়েছেন অসমের বরাক উপত্যকায় মামার বাড়িতে। একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী মণীন্দ্রবাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কবিতা লিখেছেন ১৯৪০-এর দশক থেকে। প্রথম কবিতার বই ‘নীল পাথরের আকাশ’ প্রকাশিত হয় অনেক পরে, ১৯৬৯ সালে। লিখতে এসেই পাঠকের নজর কাড়েন তিনি। বাংলা কবিতার তৎকালীন অভিমুখের সম্পূর্ণ বিপরীতেই অবস্থান করছিল তাঁর রচনা। এর পরে প্রকাশিত হয় ‘মৌপোকাদের গ্রাম’, ‘লাল স্কুলবাড়ি’, ‘ছত্রপলাশ চৈত্যে দিনশেষে’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’ অত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। ১৯৯১-এ বের হয় তাঁর আলোড়ন তোলা প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘চাঁদের ওপিঠে’। ১৯৯১-এ প্রকাশিত হয় আত্মজীবনী ‘অক্ষয় মালবেরি’-র প্রথম খণ্ড। তিন খণ্ডে বিন্যস্ত এই লিখন বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সম্পাদনা করেছেন ‘পরমা’ পত্রিকা। ১৯৭০-এর দশকে কবি রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘এক বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র মতো সংকলন। হাজার বছরের বাংলা কবিতা ঘেঁটে সংকলন করেছেন তিন খণ্ডে ‘আবহমান বাংলা কবিতা’। ২০১০ সালে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ২০১১ সালে সাহিত্য আকাদেমি।
নভেলাটি পড়তে পড়তে বারবার অবনীন্দ্রনাথের বুড়ো আংলা মনে পড়েছে, আবার কাহিনীর বুনোটে অত্যন্ত সাররিয়াল, বুনুয়েলীয় উপাখ্যান। অদ্বৈতবাদ থেকে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ, মহাভারত থেকে আদানি হয়ে এসে এই গল্প এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক কারণ পড়তে পড়তে যোশীমঠ সংকটের কথা মনে পড়ে। বাংলা ভাষার অন্যতম সেরা ক্লাইমেট ফিকশন।
"এই দেশের উত্তরে ছিল পর্বতমালা। ছিল কেন? এখনও তো আছে। আজ আছে, কাল থাকবে না - আমার মনে সেই না-থাকার ছায়া পড়েছে।"
মণীন্দ্র গুপ্তের 'নুড়ি বাঁদর' উপন্যাসটির প্রতিটি অক্ষরে মহাজাগতিক বিস্ময়ের নীরব ছায়াপাত। মানুষের মধ্যে অন্তর্লীন ব্রহ্মজ্ঞান থেকে ব্রহ্মাণ্ডের বিবর্তন, সরল যৌনতা থেকে সভ্যতার সংকট, মহাভারত থেকে মনস্তত্ত্ব - এই উপন্যাস আসলে বিরাট মহাসময়ের বিনির্মাণ। মানবমুখী আখ্যানের ভিড়ে লেখক এর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করেছেন এমন এক চরিত্রকে, যে অযোনিসম্ভূত - মানুষও নয়, আবার পশুও নয়, আখ্যানের সুবিধার্থে তার গোত্রচিহ্ন 'বাঁদর'মাত্র। তার জন্ম সঞ্জীবনী ধারায় প্রবাহিত একটি ছোট্ট নুড়ি থেকে। জড় থেকে জীবনের জন্ম - শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আমরা সকলেই তো আসলে জড়েরই জাতক। সূর্যচ্যুত অর্ধতরল গোলকে এতটুকু জীবনের স্পন্দনও কি ছিল! কিন্তু ক্রমশ সেই জড়ের মধ্যেই প্রকাশিত হল চৈতন্য, অভিব্যক্ত হল প্রাণ। এই উপন্যাসে বাঁদরটির জীবনপরিক্রমার সঙ্গে সঙ্গে পাঠককে লেখক এমন কিছু সত্যের মুখোমুখি করিয়ে দেন, যা উপন্যাস লেখার প্রায় এক দশক পরে আজ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। আমরা ইতোমধ্যেই ভয়ঙ্কর এক অতিমারিকে সদ্য অতিক্রম করে এসেছি। তার মারণবীজও চাইলে আখ্যানের মধ্যে খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। মানুষের ক্রমবর্ধমান লোভ, গোষ্ঠীস্বার্থের প্রতি সুতীক্ষ্ণ শ্লেষ ছুঁড়ে দিতে লেখক দ্বিধা করেননি।
কিন্তু আখ্যানের আপাত পরিশেষে একলা সন্ন্যাসীপ্রতিম দার্শনিক বাঁদরটি অনুভব করেছে যে সন্তানসুখ, সেই অপার্থিব অনুভূতিই অনাদি আখ্যানটিকে অন্তহীন প্রবহমানতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা যারা এই পৃথিবীর জলহাওয়াআলোছায়াপশুপাখিগাছনদীকে ভালোবাসি, আখ্যানটির অনন্ত প্রবাহপথকে সুন্দর এবং মধুর করে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।
নিঃসন্দেহে অভিনব উপন্যাস। নুড়ি থেকে হয় এক বাঁদর, সেই বাঁদরকে নিয়েই যত কিছু, এমনকি বাঁদর ও মানুষীর প্রেম পর্যন্ত। পরিবেশ ও প্রকৃতির কথা বিবেচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা। ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে, নাম Pebblemonkey, অনুবাদক অরুণাভ সিংহ। তবে সবমিলিয়ে আমার অতটাও ভালো লাগেনি। হয়তো বাস্তব থেকে গল্পের বেশ কিছুটা দূরত্ব ভালো না লাগার প্রধান কারণ।