পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিচে পাওয়া গেল একটা লাশ। আর দশটা লাশের মতই শীতল, নিষ্ঠুর মৃত্যু তাকে ছুঁয়ে গেছে। কিন্তু ব্যতিক্রম, লাশের গোপন পকেট থেকে মিলল অচেনা ভাষায় লেখা দুটো শব্দ। খুন নাকি আত্মহত্যা? জানার চেষ্টা করতেই প্রাণ হারাল এই কেসের সাথে সংশ্লিষ্ট আরো একজন মানুষ, যে মানুষটা মৃত্যুর আগে সাহায্য চেয়েছিল প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো'র চিফ অফ অপারেশন্স মেজর সাইফ হাসানের।
মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ। সঙ্গে জুটে গেল এনএসআই'র লাস্যময়ী এক এজেন্ট। তদন্ত শুরু হতেই রোলার কোস্টার গতিতে ঘটতে লাগল একের পর এক পিলে চমকানো ঘটনা। শিঘ্রই সাইফ বুঝতে পারল, সাম্প্রতিক সময়ের মৃত্যুটার সাথে আশ্চর্য রকমের মিল আজ থেকে সত্তর বছর আগে পৃথিবীর অন্য এক প্রান্তে ঘটে যাওয়া আরেক মৃত্যুর। যে মৃত্যু আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে। এত সব কিছুর সাথে এক কুখ্যাত 'এসাসিন', পর্দার আড়ালে থাকা অসম্ভব ক্ষমতাধর কিছু মানুষ আর পৃথিবীখ্যাত এক কবির অমর কাব্যগ্রন্থের যোগাযোগটা কোথায়? কী পেতে হন্যে হয়ে আছে একদল মানুষ?
রহস্যের জট খুলতে মেজর সাইফ হাসান পাড়ি জমাল, যেখানে সত্তর বছর আগে জন্ম নিয়েছিল এ রহস্য। আসলেই কি তাই? নাকি এর উৎপত্তি হাজার বছর আগে? ইতিহাস, রহস্য আর শিহরণের এ যেন এক অগস্ত্যযাত্রা!
মেজর সাইফ হাসান কেন জানি বারবার আরেকজন মেজরের মনে করিয়ে দিচ্ছিল। সেই ছোট্টবেলা থেকে এতবার তাকে ভালবেসেছি যে তাকে পাশ কাটিয়ে আরেকজন জায়গাই পাচ্ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেও ভুলে গেছি। । এবার মূল থ্রিলার এর প্রসঙ্গে আসি। আবুল ফাতাহ তার অভ্র সিরিজ দিয়েই আমাকে মোটামুটি আটকে দিয়েছেন। যখন জানলাম তার একটি থ্রিলার তাও কিনা হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার আসছে, আমি দিন গুনছিলাম কবে পাবো তাই নিয়ে। বের হওয়া মাত্র আর অপেক্ষা করিনি, নিয়ে নিয়েছি। যদিও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে সময় ধার করে পড়তে একটু দেরিই হয়ে গেল। । এককথায় টানটান উত্তেজনা আর শ্বাসরুদ্ধকর একটা থ্রিলার। এ বলব আশা করেছিলেন তো? নাহ, এভাবে বলা যাবে না। পাতায় পাতায় থ্রিল আর সাসপেন্স নেই। কিন্তু একটু একটু করে গল্পের সূচনা হয়েছে, কাহিনী পূর্ণতা পেয়েছে। আপনাকে হয়ত শিহরিত করবে না একটু পরপর, কিন্তু খুব সাবলিল আর শালীন উপস্থাপনা আপনাকে মুগ্ধ করবে। হাত থেকে নামিয়ে রাখার সুযোগ দিবে না। এতটাই চমৎকার লেখা। মুগ্ধতা ছুয়ে যাবে আপনাকে। আশা করি হতাশ হবেন না। । হ্যাপি রিডিং
“O friend, for the morrow let us not worry This moment we have now, let us not hurry When our time comes, we shall not tarry With seven thousand-year-olds, our burden carry”
― Omar Khayyám, Rubaiyat of Omar Khayyam
- দ্য এন্ড - নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার থানার এসআই। হঠাৎ কক্সবাজারের বীচে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেলে সেটি দেখে বেশ ধাক্কা খান। অদ্ভুত ভংগিতে থাকা এ লাশের পকেটে পাওয়া যায় অদ্ভুত ভাষার দুইটি শব্দ। - মেজর সাইফ হাসান, এক প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "সিক্রেট শ্যাডো" তে যিনি কর্মরত । ডিবির জাহিদ হাসান এই কেস নিয়ে যান তার কাছে। এদিকে এক কুখ্যাত এসাসিন বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে পাড়ি জমান এদেশে। - এখন কক্সবাজার সী বীচের সেই রহস্যময় লাশের রহস্য কি? কি এজেন্ডা নিয়ে ঘুরছে সেই এসাসিন? সাইফ হাসান আর তার দলবল কি পারবে এই রহস্যভেদ করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক আবুল ফাতাহ এর "দ্য এন্ড"। - "দ্য এন্ড" মূলত একটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার, যা কয়েকটি টাইলামলাইন নিয়ে বিস্তৃত।বইয়ের প্লট প্রথম থেকেই আকর্ষনীয়, কাহিনী যত আগাতে থাকে ততই আকর্ষনীয় হতে থাকে। তবে বইটির ফিনিশিং সে হিসেবে আশানুরূপ হয়নি, কিছুটা নাটকীয় মনে হয়েছে। বইয়ের লেখনীও মোটামুটি মানানসই, তবে কিছু কিছু বাক্যে বাংলা-ইংরেজির মিশ্রণ কমাতে পারলে আরো ভালো হতে পারতো। - "দ্য এন্ড" বইয়ের চরিত্রায়ণের ভিতরে সবচেয়ে ভালো লেগেছে মেজর সাইফ হাসান আর পুরো সিক্রেট শ্যাডো এর টিমকে।এসাসিন ক্যারেক্টার হিসেবে গুস্তাভোও দারুন। সে দিক থেকে এনএসআই এর অফিসার আযীনকে একেবারে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে, যেন জাস্ট রাখার জন্য রাখা। হিস্টোরিক্যাল ফিকশন হিসেবে বর্তমান ঘটনাগুলোর সাথে হিস্টোরিক্যাল ঘটনা এবং বিখ্যাত মানুষজনের লিংক আপ গুলো ভালোই। - "দ্য এন্ড" বইয়ের কারিগরি দিকে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এর প্রচ্ছদের কথা।জাস্ট অসাধারণ একটি প্রচ্ছদ, নামলিপিটিও চমৎকার। বইয়ের মেক আপ, বাধাই, কাগজ এগুলোও ভালো। বানান ভুল অবশ্য টুকটাক ছিলো। - এক কথায়, টুকিটাকি জিনিস বাদ দিলে হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার হিসেবে বেশ ভালোই "দ্য এন্ড"। যাদের দেশীয় ঘরানার হিস্ট্রোরিক্যাল থ্রিলার পড়তে পছন্দ তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
যা লিখছি- স্পয়লার ফ্রি। জমলো না বিষয়টা। জমেছে তবে সবার জন্য না। আমার প্রজন্মের যে সমস্ত পাঠক স্কুল কলেজের বই এর ফাঁকে সেই পেপারব্যাক কাভারের কিংবদন্তী স্পাই থ্রিলার সিরিজ টা পড়ে বড় হয়েছে বা থ্রিলারের প্রেমে পড়েছে জন্য জমলো না। সোজাসুজিভাবে আমার ব্যাপারটাকে সেই কিংবদন্তি স্পাই নায়কের ফ্যান ফিকশান বলে মনে হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বেসরকারি স্পাই এজেন্সী সিক্রেট শ্যাডোর বিল্ডাপ দেশের প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক লাগলোনা। যে ক্ষমতাসীন রা এক মেজরকে চাকুরিচ্যুত করে তাঁদের সাগরেদ রা পরবর্তীতে সেই মেজরের প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট ফার্মকে সরকারি স্পাই এজেন্সি এনাউন্স করে দেয়? এডাল্ট মস্তিষ্কে চিন্তা করলে এরকম ঢের অসংগতি বেরুবে। বিল্ডাপ এর অসংগতিগুলো ছাড়া স্টোরি টেলিং ও আমার মনে হয়েছে সেই ধাচের, ফ্যান ফিকশান মনে হয়েছে। হয় আমি বইতে গভীরভাবে ঢুকতে পারিনাই নতুবা আমার কথায় যুক্তি আছে। টুইস্ট দেওয়ার চেষ্টা টা ভালৈ ছিলো। সব মিলায় মিডিওকোর।
স্পাই থ্রিলার যে কেউই লেখুক মাসুদ রানাকে না ছুঁয়ে কেউ যেতে পারবে না। তবে সেটা ভালো দিক। এতে গল্পগুলো অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। বইটার ইতিহাসের দিকটা অনেক পোক্ত তাই দারুণ লেগেছে।
রিভিউ::: বইয়ের নাম : দ্য এন্ড লেখক : আবুল ফাতাহ জনরা : হিস্ট্রিক্যাল থৃলার প্রকাশকাল : একুশে বইমেলা ২০১৮ প্রকাশনা : রোদেলা প্রকাশনী প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ পৃষ্টা সংখ্যা :৩২০ পেজ মূল্য : ৩৮০ টাকা গায়ের দাম।
কাহিনী সংক্ষেপ ::
আচ্ছা আপনি একটি খুন করলে এভিডেন্স লুকানোর জন্য কি কি করবে? সিম্পল, ভিক্টিম এর মোবাইল ওয়ালেট সড়াবো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সড়াবো। কিন্তু আমি একটি খুন করলে ভিক্টিম এর গায়ের জামা থেকে লেভেল অর্থাৎ কোন ব্রান্ডের জামা তাও সরিয়ে ফেলবো।
স্ট্রেঞ্জ!!
১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এর বিচের ধারে পাওয়া গেলো একটি লাশ। সোজা শান্ত দৃষ্টিতে বসে থাকা লাশটিকে প্রথমে দেখলেই মনে হবে যেন কেউ বসে সমুদ্র দেখছে। মানুষটিকে যে হত্যা করা হয়েছে তার কোন আলামত নেই। কোন জবরদস্তির ছাপ নেই গায়ে, ইস্ত্রি করা কাপড় পরে সে বসে আছে। তবে কি এটা সুইসাইড? প্রাথমিক তদন্ত এ ভিক্টিমের কাছ থেকে পাওয়া গেলো কিছু অবাক করার মতো জিনিশ চিড়ুনী, চুইংগাম এর প্যাকেট। আর লাশ এর গায়ের কোন কাপড়েই ছিল না ট্রেড মার্ক। আর হিডেন পকেট থেকে পাওয়া যায় একটি চিরকুট যা তে ফারসি ভাষায় লেখা Tamam Shud যার বাংলা অর্থ দ্বারায় দ্য এন্ড বা সব শেষ। পোস্টমর্টেম এর পর জানা যায় কোন এর সায়নাইট এর মাধ্যমে মৃত্যু। মৃত্যু তিন চার ঘন্টা আগে প্রেস্টি খেয়েছিল ভিক্টিম বাট সেই প্রেস্টিতে পয়জনস ছিল না। তাহলে কিভাবে এটা সুইসাইড? আর কিভাবেই পরিকল্পিত হত্যা?
ঠিক সেইম ভাবে আজ থেকে সত্তর বছর আগে ১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সমরটন বিচে ঠিক সেইম অবস্থায় একি ঘটনা ঘটেছিল। সত্তর বছর আগের সেই হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে অমিমাংসিত কেস গুলোর মধ্য অন্যতম। তা যেন আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটলো বাংলাদেশে। প্রাথমিক ইনভেস্টিগেশনের জন্য লোকাল থানা তারপর গোয়েন্দা। খুন হয়ে গেলে একজন গোয়েন্দা অ���িসার। অচিরেই কেসটা হাতে তুলে নেয় প্রাইভেট এজেন্ট সিক্রেট স্যাডো এর সিয়িনর সদস্য সাবেক আর্মি মেজর সাইফ হাসান। ঘটনার সূত্র ধরে আগাতেই তাকে পারি দিতে হয় অস্ট্রেলিয়ায়। যে গল্প এখান থেকেই শুরু। বের হয়ে আসে আরো পুরানো ইতিহাস ওমার খৈয়ামের রুবাইয়াৎ। তাহলে তামাম সুদ কেসের রহস্য কি? আর কেন এই কেস অস্ট্রেলিয়া ছড়িয়ে বাংলাদেশে? আর কেনই বা টেনে আনা হলো ওমার খৈয়ামকে?মেজর সাইফকেই দিতে হবে এর উত্তর।। যার শুরু ঐ চিরকুট Tamam Shud দ্য এন্ড।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :: হিস্ট্রিক্যাল থৃলার বরাবরই আমার সবচে প্রিয় একটি সাব-জনরা। তাই প্রায়শ আমি চেষ্টা করি হিস্ট্রিক্যাল থৃলার পড়তে। লেখকের মতে একমুঠো ইতিহাসের সাথে একচিমটি ফিকশন জুরে তৈরি হয় হিস্ট্রিক্যাল ফিকশন আর সেই ফিকশনও থাকতে হবে হিস্ট্রির খুব কাছাকাছি। যাই হোক ২০১৮ সালে আবুল ফাতাহ মুন্না ভাই এর রচিড দ্য এন্ড বইটি বের হলে পাঠক মহলে ব্যাপক সারা পাওয়া যায়। আর তখন থেকেই পড়ার ইচ্ছে জাগেছিলো। বাট বিভিন্ন কারন বশত পড়া হয়ে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত বন্ধু মেহেদি আমাকে বইটা ধার দিল এবং এই থেকে পড়া। গল্পের কথায় আসি। শুধু এই টুকু বলবো জাস্ট অসাধারন হিস্ট্রি একশন থ্রিল সবমিলে এলাকার হয়ে আছে। প্রথমে নিছক খুনের রহস্য ভাবছিলাম বাট পরে যখন ওমার খৈয়াম ইবনে সিনার বিষয় গুলো যতই জানছি বইটা ততই যেন আমাকে টানছে। তাছারা লেখক থৃলিংটা পার্ফেক্ট ভাবে রেখেছে। আবার ইতিহাসের বিষয় গুলোর সাথে লেখক এর কল্পনা সত্যি অসাধারন। তাই আমি যে কাউকে বইটা রিকমাইন্ড করতে পারবো। এই বইটা না ধরলে হয়ত কখনো সমরটন বিচের সেই খুনটা সম্পর্ক এ জানতাম না, তাই পড়ার ফাকে ফাকে ইতিহাস জানার খাতিরে একটু গুগোল ঘাটা।
কিছু বানান ভুল তা তেমন লক্ষনীয় নয়, লেখক এর লেখায় কিছুটা হলেও জড়তা লক্ষ করা যায়। তাছারা প্রথম দিকে বর্ননা বেশি হওয়ায় বইটার গতি কম ছিলো মাঝ খানটায় এসে আলহামদুলিল্লাহ। পেজ বাঁধাই সন্তুষ্টজন। যাই হোক সর্বাপরি বইটা প্রসংশার দাবি রাখে।
আমাদের দেশের থৃলার দিন যাচ্ছে উন্নত হচ্ছে এটা একটি ভালো লক্ষণ। মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন, রবিন জামান খান, নাবিল মুতাসিম,সিদ্দিক আহমেদ, শরীফুল হাসান,কিশোর পাশা ইমন, নাজিমউদ্দৌলা, ফুয়াদ আল ফিদাহ আবুল ফাতাহ এর মতো ভালো ভালো থ্রিলার লেখক জন্মাচ্ছে দেখে সত্যি আজ নিজের দেশের থৃলার সাহিত্যের উপর গর্ববোধ করি অচিরেই হয়ত আমাদের দেশের বইগুলো বিদেশে ট্রান্সলেট হবে।
দ্য এন্ড বইটির প্রচ্ছদ মূল্য ৩৮০ টাকা এবং প্রচ্ছদটি লেখকের নিজেরই করা। সর্বাপরি লেখক আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইকে শুভকামনা।
"দ্য এন্ড" আবুল ফাতাহ পড়া প্রথম বই। পুরো বইটা খুবই অদ্ভূত লেগেছে। দুটি কারণে তিন তারা দিলাম। তার প্রথম কারণ হচ্ছে বইটিতে কিছু কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। হঠাৎ, বাংলা শব্দের মাঝে বাংলা ফন্টে ইংরেজী পড়তে খুবই খটকা লেগেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে সেসব ইংরেজী শব্দের পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করাটা মনে হয় উত্তম ছিল। দ্বিতীয় কারণটি হলো, সমারটন ম্যান/ তামাম শুদ কেসের সাথে যেভাবে বাংলাদেশকে link up করা হয়েছে সেটা একদমই মনপুতো লাগে নি। বিশেষ করে শেষ দুটা অধ্যায় আমার কাছে একদমই ভালো লাগে নি। শুরু থেকে শেষ দুই অধ্যায়ের আগে পর্যন্ত একদম টানটান উত্তেজনা নিয়ে পড়েছি কিন্তু বইয়ের শেষটা একদম হতাশ করেছে। আসলে, শুরু থেকে অনেক বেশি আশা ছিল বইটি নিয়ে তাই মনে হয় এমনটা মনে হয়েছে।
তবে, লেখক "আবুল ফাতাহ"-এর প্রচুর চেষ্টা ছিল পাঠকদের জন্য নতুন আঙ্গিকে কিছু তুলে দেয়া। তার জন্য লেখককে স্যালুট জানাই। সামনে আশা করি লেখকের থেকে এরকম ভিন্ন ধারার আরো অনেক বই পাবো।
তারা মিয়া ভোরে ভোরে বিচ পরিষ্কার করতে গিয়ে হঠাত একটা লাশ আবিস্কার করে। সাথে সাথে সে পুলিশকে খবর দেয়। এসআই নিজাম উদ্দিন লাশ দেখতে যাবার সময় ফোন দেন ডিবির কাছে। আন-অফিসিয়ালি কেসটা দেখছে ডিবি। ডিবি থেকে যায় জাহিদ হাসান। প্রথমে লাশটা দেখে নিজাম উদ্দিন আর জাহিদ হাসান খুব অবাক হয়। প্রথম দেখায় ঠিক লাশ মনে হয়না। যেন লোকটা সাগর দেখছে মুগ্ধ হয়ে এক পা অপর পায়ের উপর ক্রস করে রেখে। কানের পাশে একটা সিগারেট গুজে দেয়া। কাপড় খুব পরিপাটি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখে আরো অবাক হয় ওরা। এখন পর্যন্ত বুঝতে পারেনা ওরা এটা কি খুন নাকি আত্মহত্যা। মৃত লোকটা শেষ খাবার খেয়েছিল কেক। কিন্তু তাতে বিষ মিশানো ছিলনা। আবার এত পরিপাটি করে কে আত্মহত্যা করবে? পরিচয় খুজে পাওয়া যায় এমন কিছু সাথে নেই মৃত লোকটার। না মানিব্যাগ না অন্যকিছু। এমনকি কাপড় থেকে লেবেল পর্যন্ত উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। কেউ যেন লোকটার কোন পরিচয় জানতে না পারে। এমন অদ্ভুত একটা কেস। ডিবির জাহিদ হাসান বুঝে উঠতে পারেনা কি করবে? ঠিক তখনি মৃত লোকটার প্যান্টের একটা পকেট থেকে একটা কাগজ পায় জাহিদ হাসান। আর তাতে লেখা মাত্র দুটি শব্দ। তাও বাংলা বা ইংরেজি না। অন্য কোন ভাষার। পরে এক মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে জানতে পারে এই শব্দ দুটি ফারসি। আর এর অর্থ হলো শেষ হলো। দ্য এন্ড। এখন জাহিদ বুঝেনা কি শেষ হলো? তার শুরুটা কোথায়? এর জন্যে ভিনদেশি একটা ভাষায় লিখতে হবে কেন? আবার পুরনো প্রশ্ন সামনে আসে। এটা কি খুন নাকি আত্মহত্যা? কিন্তু আত্মহত্যা হলে এত আয়োজন করে কেউ কি আত্মহত্যা করে? শেষ পর্যন্ত জাহিদ গিয়ে হাজির হয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "সিক্রেট শ্যাডো"র সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড মেজর সাইফ হাসানের কাছে। কেসটা সাইফ হাসানের কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হলেও কাজটা নিতে চায়না সে। জাহিদ হাসান সাইফ এর সাথে দেখা করে হোটেল থেকে বের হবার সময় খুন হয়ে যায়। আর সাথে করে খুনী নিয়ে যায় সেই কাগজটি যাতে লেখা ছিল দুটি শব্দ। সাইফ হাসান মঞ্চে আবির্ভূত হলেন। কিন্তু দুটি কেসের একটাও বুঝে উঠছেনা সে। কোন কিনারা পাচ্ছেনা কেসের। আবার এদিকে সাইফ হাসানের সাথে কাজ করার জন্যে এনএসআই থেকে পাঠানো হয় আযীন নামে এক নারী এজেন্ট। এরপরে ঘটতে লাগলো একের পর এক ঘটনা। আর সে সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কুখ্যাত এক হিটম্যান। যে ছদ্মবেশ ধরতে খুব পারদর্শী। এই হিটম্যানের সাথে কোন সংযোগ আছে কি এই কেস দুটির? থাকলে কি? ঘটনা আস্তে আস্তে ক্লিয়ার হচ্ছে সাইফ হাসানের কাছে। আর তখনি জানতে পারে সত্তর বছর আগে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ঘটে ঠিক একি ঘটনা। দুটি ঘটনার এত মিল অবাক করে তাকে। যে ঘটনা আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে। ঘটনা পরিক্রমায় যুক্ত হয় এমন কিছু নাম। যারা উন্নতি সাধন করেছিলেন গণিত, চিকিৎসা ও দর্শনশাস্ত্র। কিন্তু এই নামগুলোর ভূমিকা কি এই কেসে? আবার এত কিছুর সাথে এক কুখ্যাত "এসাসিন", পর্দার আড়ালে থাকা অসম্ভব ক্ষমতাধর কিছু মানুষ আর পৃথিবীখ্যাত এক কবির অমর কাব্যগ্রন্থের যোগাযোগটা কোথায়? কী পেতে হন্যে হয়ে আছে একদল মানুষ? রহস্যের জট খুলতে মেজর সাইফ হাসান পাড়ি জমাল, যেখানে সত্তর বছর আগে ঘটেছিল সে ঘটনা। আর জন্ম দিয়েছিল এক রহস্যের। আসলেই কি তাই? নাকি এর উৎপত্তি হাজার বছর আগে? ইতিহাস আর রহস্য এক সাথে মিলে গিয়েছে এই কেসে। ঘটনার বিস্তৃতি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, জুরিখ, জার্মানি।
বইয়ের নামকরণ যথাযথ ছিল। দারুণ মিলে যায় বইয়ের কাহিনীর সাথে। তবে আমার কাছে নামটা ইংলিশে না রেখে মনে হয় সে ফারসি দুটি শব্দ রাখলে ভালো হতো। তামাম শুদ।
বইয়ের বাধাই ভালো ছিল। প্রচ্ছদ করেছেন লেখক নিজে। প্রচ্ছদটা দারুণ ছিল। কালারটা ভালো লাগে। উনার আগের বইয়ের প্রচ্ছদ ও উনি করেছেন। অভ্রত্ব বইয়ের।
উনার লেখনীর সাথে পরিচয় অভ্র অমনিবাস দিয়ে। এই বইয়ের পিডিএফ উনি শেয়ার করেন নিজের টাইমলাইনে। পড়ে ভালো লাগার পর কিনে ফেলি বাকি বই দুটি। দারুণ লেগেছিল পুরো সিরিজটি। মুলত অভ্র নাম দেখে আমি পিডিএফ টি নামাই।
সত্তর বছর আগে ঘটে যাওয়া এক কেসের সাথে ইতিহাস কে মিলিয়ে দারুন একটা কাহিনী লিখেছেন লেখক। লেখকের লেখনীর হাত খুব ঝরঝরে। পড়তে বিরক্তি আসেনা। খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন তিনি দৃশ্যগুলো। একশন সিন গুলোর বর্ণনা ছিল চমৎকার। তবে তাতে নাটকীয়তা ছিল অনেক। তবুও ভালো লাগে পড়তে। যেন চোখের সামনে ঘটছে সব। এছাড়া বাইরের দেশের বর্ণনাগুলো দারুণ ছিল। এছাড়া যখন ইতিহাস বর্ণনা করছিলেন তাতে পরিমিতিবোধ ছিল। অযথা বর্ণনা আসেনি তেমন। গল্প বলার স্টাইলটা ভালো লেগেছে আমার কাছে।
সিক্রেট শ্যাডো দারুণ। এর কাজে নিয়োজিত আজহার চৌধুরি, নাদিয়া, সাবের, আবির মাহমুদ দারুণ ছিল। এদের মধ্যে সাবের ক্যারেক্টারটা ভালো লেগেছে বেশি।
বইতে জাহিদ যখন সাইফ হাসানকে বিচে পাওয়া লাশের কথা বলছিল। তখন সে সাইফকে বলে সে দুটি শব্দের কথা কিন্তু কাগজটা সে সাইফকে দেখায়নি। কিন্তু পরে জাহিদ মারা গেলে পুলিশকে বলে কাগজ নাকি দেখিয়েছিল সাইফকে জাহিদ। আর এই কাগজের কথা পুলিশ অফিসার নিজাম উদ্দিনের জানার কথা ছিলনা। কারন কাগজটি জাহিদ পুলিশকে দেখানোর সুযোগ পায়নি। কিন্তু পরে কথা শুনে বুঝা যায় যে নিজাম উদ্দিন ভুলে গিয়েছিল কাগজের কথা। যেটা বইতে একটা প্লট হোল তৈরি করেছে। এটাকে কি প্লট হোল বলা যায়? এছাড়া ক্লাইম্যাক্স আসার সময় বুরহানুদ্দিন,জামশেদ উদ্দিন, নাজিমুদ্দিনের কাহিনীটি পড়ে মনে হয়েছে একটু গোঁজামিল দেয়া। ঠিক মিলাতে পারছিলাম না। কারন জামশেদ উদ্দিন চিনলেও নাজিমুদ্দিনের চিনার কথানা। এছাড়া সেতো জানতো না আসল কাহিনীটি কোথায়। কেন এত কিছু? এই জায়গায় এ প্রশ্নটা আসে মনে।
পজিটিভ দিকঃ- প্রচ্চদ আর বাধাই ভালো ছিল। লেখকের হাতের লেখনীর কথাতো বলেছি। বর্ণনাভঙ্গি ভালো। কাহিনীতে থ্রিল ছিল ভালো মতো। ঝুলে পড়েনি কাহিনী। মুলত কাহিনী দ্রুত গতিতে আগায় বই অর্ধেক শেষ হলে। তখন থেকে ইতিহাস বর্তমান মিলে দারুণভাবে এগিয়ে যায় কাহিনী। তবে প্রথম দিকে কাহিনী সাধারণ মার্ডার মিস্ট্রি ছিল। একটা খুন আর তার সলভের জন্যে প্রচেস্টা। বইতে একটা কবিতা আছে। আর তার অনুবাদ করেছে অসীম পিয়াস। অনুবাদটা ভালো ছিল। সাথে কবিতাটাও। এছাড়া বইয়ের শেষে সত্তর বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যক্তিটির ছবি সহ কেসটির আরো আনুষঙ্গিক ছবি দেয়া ছিল।
নেগেটিভ দিকঃ- বইয়ের নেগেটিভ দিক ছিলনা না বলে আমার কাছে লাগেনি বলা ভালো। বইতে কিছু প্রিন্টিং মিসটেক ছিল। তাও খুব অল্প।
বইয়ের প্রধান ক্যারেক্টার ছিল মেজর সাইফ হাসান। ভালো লাগার মতো ক্যারেক্টার। তার সিক্রেট শ্যাডো বানানোর পিছনের ঘটনা ভালো। এছাড়া সাইফের সহকারী হিসাবে আযীনকে অতটা ভালো লাগেনি। একটু বিরক্ত লাগছিল। মনে হচ্ছিল একটা নায়িকা রাখা দরকার তাই মনে হয় এই ক্যারেক্টার রাখা। তবে তার ক্যারেক্টারটির গুরুত্ব ছিল ভালো পরিমাণে। তবে সাইফ হাসানকে একচেটিয়া না ব্যাবহার করে আযীনকে একটু ব্যাবহার করা উচিত ছিল। একেবারে সাদামাটা ক্যারেক্টার হয়ে গিয়েছে এটি। এছাড়া গুস্তাভো অস্ত্রোভস্কি ক্যারেক্টারটা দারুণ ছিল। হিটম্যান হিসাবে দারুণ। তার কাজকর্ম ভালো লেগেছে। বইয়ের এন্ডিং ঠিক ছিল। সিকুয়েল আসতে পারে। এমন মনে হয়েছে। এত সহজে তারা সাইফ হাসানকে কি ছেড়ে দিবে। আর সাইফ হাসানকে নিয়ে সামনে আরো বই পাবো এই আশা রাখি। তবে একটা কথা বলা যায়, থ্রিলারগুলোতে একটা প্যাটার্ন চলে আসছে। বিশেষ করে এই স্পাই থ্রিলারে। একজন স্পাই, একটা সংঘটন আর একটা মিশন। যে সংঘটন ধর্ম বা ক্ষমতার জন্যে উঠে পড়ে লাগে। তবে এই বইতে একটু ব্যতিক্রম হলেও সে সংঘটন থেকে বের হতে পারেনি। তবে পড়তে ভালো লাগবে এর বর্ণনা, কাহিনী বিন্যাস আর লেখনীর জন্যে।
দারুণ এক থ্রিলার লিখেছেন লেখক। লেখককে ধন্যবাদ এমন কাজের জন্যে।
বইটার কাহিনী এগিয়েছে দারুণ গতিতে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটা, আস্তে আস্তে মেজর সাইফের তদন্তের গভীরে ঢুকে পড়া, রহস্যের জট খুলতে থাকা, সব ই ঘটেছে চমৎকার গতিতে। মেজর সাইফ কে একটু বেশিই বুদ্ধিমান এবং কাবিল মনে হয়েছে, যদিও একটা এস্পিওনাজ থ্রিলারের প্রোটাগোনিস্টের এমনটা হওয়াই যৌক্তিক। লেখক চমৎকার ভাবে ইতিহাসের কথা বলে গেছেন যেটা ছিল খুবই উপভোগ্য, বিরক্তি আসেনি একদমই, একদম কাহিনীর খাতিরে যতটুকু দরকার ততটুকুই। এস্পিওনাজ থ্রিলারের সাথে হিস্টোরির মিক্সচার টা বেশ ভালোই হয়েছে তা বলাই যায়। তামাম শুদ কেস টার ডিটেইল বর্ননাতেও লেখক বেশ ভালো কাজ করেছেন। তবে কেসের সাথে ইবন সিনা আর ওমর খৈয়ামের ডিরেক্ট সম্পৃক্ততা খুজে আনার পার্ট টা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা "অতি নাটকীয়" লেগেছে, উদাহরণস্বরূপ এসাসিন শব্দের ব্যবহার থেকে ডিরেক্ট কনক্লুশনে পৌছে যাওয়াটা। মনে হয়েছে অনেক দূর থেকে টেনে এনে মিলানো হয়েছে। তবে বলতেই হবে, ওভারল এটা একটা গুড রিড ছিল। এছাড়া বইটা বেশ উপভোগ্য ছিল।
কক্সবাজার।পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত।১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতের একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী তাঁরা মিয়া।সূর্য উঠার এক ঘন্টা আগে এসে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাই তার কাজ।কাজ প্রায় শেষ।তখন তাঁরা মিয়া খেয়াল করলো সৈকতের লাগোয়া ঝাউবনে গাছের সাথে হেলান বসে আছে কেউ।এগোতেই নিজের ভুল বুঝতে পারলো সে।কোনো জল-জ্যান্ত মানুষ নয়।একটা লাশ!
সূর্যোদয়কে কি নবজন্ম বলা যেতে পারে?হয়তো অনেক অর্থেই নয় কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো অবশ্যই ভোরের সূর্য এক নতুন সূচনা করে।যেমন আজকের ভোর এক প্রাচীন রহস্যের নব সূচনা করতে যাচ্ছে।কে জানতো শান্ত-স্বাভাবিক একটা ভোরের অপেক্ষায় থাকা কক্সবাজার কিছুসময়ের মধ্যেই নড়েচড়ে বসবে তাঁরা মিয়ার 'আবিষ্কারে'!
নিজাম উদ্দিন হাওলাদার সাহেব কক্সবাজার থানার সেকেন্ড ইনচার্জ।সৈকতে লাশ পাওয়া রোজকার ঘটনা না।একটু এদিক সেদিক হলেই উপরতলার ঝাড়ি খেতে হবে।তাই উনি কোনো ফাঁক ফোকড় রাখতে রাজি নন।নিজে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি খবর দিয়েছেন ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের জাহিদ হাসানকে।
জাহিদ হাসান দু'বছর হলো জয়েন করেছে ফোর্সে।ন��বেদিত প্রাণ পুলিশ অফিসারের উদাহরণ সে।কেনো জানি মনে হচ্ছে তাঁর এই খুনটাকে ঘীরে অনেক বড় কিছু ঘোল পাকাচ্ছে।অবশ্য এটা সুইসাইড নাকি খুন সেটাই জানেনা এখনো সে।তবে অস্বাভাবিক অনেকগুলো ব্যাপার লক্ষ করলো জাহিদ।যেমন লাশের কাপড়চোপড়ের গায়ে কোনো লেবেল লাগানো নেই।পকেটে কোনো পরিচয়পত্র তো নেই-ই আছে কেবল একটা চিরুনী আর চুইংগাম।পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে মুত্যৃর কারণ অজ্ঞাত।তার থেকেও বড় ব্যাপার লাশের প্যান্টের গোপন পকেটে জাহিদ খোঁজে পেলো একটা চিরকুট।যাতে লেখা তামাম শুদ!দ্য এন্ড!
প্রধানমন্ত্রী আসছেন কক্সবাজারে।অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেয়া স্বাভাবিক প্রটোকল।প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো' এর চিফ অফ অপারেশন্স মেজর সাইফ হাসানকে বলা হয়েছে সৈকতে পাওয়া লাশটার ব্যাপারে একটু খোঁজ-খবর নিতে।বেড়াতে আসা সাইফের কোনো ইচ্ছা নেই ব্যাপারটাতে নিজেকে জড়ানোর।নিজের হোটেলে ওর সাথে দেখা করে ফেরার পথেই খুন হলো পুলিশ প্রশাসনের এক তরুণ অফিসার।জেদ চেপে গেলো সাইফের।এনএসআইয়ের লাস্যসয়ী এজেন্ট আযীনকে নিয়ে এবা��� মাঠে সাইফ হাসান।তবে সাদামাটা একটা কেস কতদূর নিয়ে যাবে ওদেরকে তা এ মুহূর্তে ধারণাও করতে পারছেনা ওরা।
অপরদিকে দেশের মাটিতে পা রেখেছে দুর্ধর্ষ হিটম্যান গুস্তাভো অস্ত্রোভস্কি।কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে চলেছে সে।নিজেকে কিংবদন্তীর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এ কন্ট্রাক্ট কিলারের কি কাজ বাংলাদেশে?ওর পিছনে কলকাঠি নেড়ে যাওয়া অসম্ভব ক্ষমতাধর কিছু মানুষ আর ওমর খৈয়ামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের সাথে কক্সবাজারে ঘটে যাওয়া মামুলি এক হত্যাকান্ডের যোগাযোগ কোথায়?
ওয়াও!তুলনামূলক সমালোচনার আগে বলে নিই এ বইটা অসম্ভবভাবে থ্রিলিং।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাসপেন্স টেনে নিয়ে যাবে।বাংলায় লেখা হাতেগোণা যে কয়টি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার আছে তার মধ্যে উপরের দিকেই থাকবে আবুল ফাতাহ'র 'দ্য এন্ড'।
লেখক সাইফ হাসানের চরিত্র গঠনে বেশ সময় নিয়েছেন।তবে আমার কেনো জানি মনে হয়েছে মেজর সাইফ হাসানকে একটু বেশীই হিরো টাইপ বানানো হয়েছে।মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো সাইফ হাসান আসলে মুখোশ পরা মাসুদ রানা যে একটু কম একশনে যাচ্ছে বেড়াতে এসেছে বলে।হিটম্যান গুস্তাভো বেশ ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার।আমার কাছে সাইফ হাসানের থেকে গুস্তাভো অস্ত্রোভস্কিকে বেশী ভালো লেগেছে।এই প্রফেশনাল হিটম্যানকে নিয়ে একটা প্রিকুয়েল করলে মন্দ হবেনা।
হিস্টোরিক্যাল থ্রিলারে ইতিহাসের কচকচানি থাকবেই।তবে ইতিহাস একদমই বোরিং লাগেনি লেখকের বর্ণনায়।বেশ সাবলীল।যদিও দু'একটা রিভিউয়ে দেখেছি লেখকের লেখনীতে জড়তা আছে বলতে তবে আমার তেমন মনে হয়নি।বেশ উপভোগ্য।থ্রিলার পছন্দ করেন যারা তাদের খারাপ লাগার কোনো কারণ দেখছিনা।হাতের কাছে থাকলে বসে পড়ুন একটা অসাধারণ জার্নির অভিজ্ঞতা নিতে।
লেখক আবুত ফাতাহ'র জন্ম ১৯৯১ সালে।অদ্ভুত ব্যাপার লেখকের আর আমার জন্ম একই দিনে!'দ্য এন্ড' এর একটা প্রিক্যুয়েল বের হয়েছে আদী প্রকাশনী থেকে 'ফেরাউনের গুপ্তধন' নামে।
প্রচ্ছদ করেছেন লেখক নিজে।এভারেজ লেগেছে প্রচ্ছদখানা।বাঁধাইয়ের মান ভালো।কাগজও ভালো।প্রিন্টিং মিসটেক তেমন নেই।দু'একটা থাকলেও কোন অসুবিধা হবেনা পড়ায়।তবে বইয়ের নাম 'দ্য এন্ড' না হয়ে 'তামাম শুদ' হলে বেশী মানাতো মনে হচ্ছে।ব্যক্তিগত মতামত আরকি।
হিস্টোরি + ফিকশনের ককটেলটা বরাবরই আমার পছন্দের জনরা। মূলত সে কারণেই আবুল ফাহাত মুন্না ভাইয়ের 'দ্য এন্ড' এর প্রতি আকর্ষণ। তবে আকর্ষণের আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে 'দ্য এন্ড' এর প্রচ্ছদ। আমি আমার ভালো লাগা বা খারাপ লাগাল খুব ডিটেইলিং এ বলতে পারি না। তাই প্রচ্ছদ সম্পর্কে এক লাইনে বলি? এটা আমার দেখা ২০১৮ একুশে বইমেলার সেরা প্রচ্ছদ (এখন পর্যন্ত)।
এবার আসি মূল বিষয়ে। একটা রহস্য ময় মৃত্যু, যেটাকে আপাতদৃষ্টিতে খুন এবং সুইসাইড দুটোই মনে হতে পারে। আর সেই রহস্যময় মৃত্যুর পেছনে লাগতে গিয়ে আচমকা খুন হন ডিবির তরুণ অফিসার জাহিদ। খুন হবার অল্প কিছুক্ষণ আগে এসেছিলেন দেশীয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি 'সিক্রেট শ্যাডো'র চিফ অফ অপারেশন্সের মেজর সাইফের হাসানের সাথে ঐ রহস্যময় মৃত্যু বিষয়ে একটা সেনসিটিভ তথ্য শেয়ার করতে। তথ্যটা শেয়ার করে সাইফ হাসানের হোটেল থেকে বের হতেই হোটেলের সামনে খুন হন। জলজ্যান্ত একটা মানুষ তার সাথে দেখা করতে এসে খুন হয়েছে, এটা মাথায় গেঁথে যাওয়ায় সাইফ হাসান দাঁতে দাঁত চেপে লেগে পড়েন জাহিদের খুনের রহস্য উদঘাটন করতে। সাইফ হাসানের মত ঘাঘু লোক লেগেছে জাহিদের খুনের রহস্য ভেদ করতে, এটা জেনে খুনি ভয় পাওয়ার বদলে হাসে জিতে যাবার হাসি। তাহলে তার বা 'তাদের' উদ্দেশ্য কি?
এরকম আরো ডজন খানেক প্রশ্ন জমবে পৃষ্ঠা পঞ্চাশেক পড়লেই। আর প্রশ্নগুলো জমলে দেখবেন আপনি আর বইটা রেখে উঠতে পারছেন না। আর এখানেই লেখকের সবচাইতে বড় সাফল্য। পাঠককে ধরে রাখা। মুন্না ভাই এটাতে বেশ ভালোভাবেই সফলতা অর্জন করেছেন।
আর প্লট? মার্ডার, কোড ব্রেকিং, ইতিহাস সব মিলিয়ে এক শব্দে 'দুর্দান্ত' বলা চলে। তবে তা সত্ত্বেও দুটা পয়েন্ট নিচে বলছি যেগুলো আমার কাছে খানিকটা দূর্বল বলে মনে হয়েছে-
১. বইয়ের এক জায়গায় লেখা আছে "তামাম শুদ কি কোন কোড নাকি পরিভাষা? প্রতিটা ভাষায় প্রচুর পরিভাষা থাকে যেটা সাদা চোখে অন্য অর্থ বহন করে। যেমন ইংরেজীতে 'মুভ ইউর অ্যাস' এর অর্থ 'তোমার গাধাটা সরাও' কখনোই নয়!" এখানে ইংরেজী 'অ্যাস' শব্দটার বাংলা অর্থ 'গাধা' না হয়ে 'নিতম্ব' হবে বলে আমার ধারণা। কারণ 'মুভ ইওর অ্যাস' দ্বারা প্রকৃতপক্ষে 'এখান থেকে ভাগো'/'নাক গলানো বন্ধ করো' বোঝায়। সে হিসেবে, গাধা হবার প্রশ্নই আসে না।
২. এন এস আই এজেন্ট আযীনের ক্যারেক্টারাইজেশন। বেশ খানিকটা দূর্বল মনে হয়েছে। খাম-খেয়ালী পূর্ণ ইমম্যাচিউর একটা মেয়ে মনে হয়েছে, কোন এন এস আই এজেন্ট মনে না হয়ে।
উপরের দুটো নেগেটিভ পয়েন্ট বললাম কারণ আমি 'বইয়ে অনেক বানান ভুল', 'অমুক লেখকের তমুক বইয়ের তমুক ক্যারেক্টাররের সাথে হালকা মিল আছে। সো কপি' টাইপের মন্তব্যের চাইতে গঠনমূলক সমালোচনা করতেই পছন্দ করি, তাতে লেখক কিছু মনে করলেও সমস্যা নেই।
আবুল ফাতাহ মুন্না ভাইয়ের কাছে একটা অনুরোধ, আপনি অবশ্যই নিয়মিত থৃলার লিখবেন। তবে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী না, আপনার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী। 'দ্য এন্ড' এর মত সময় নিয়ে লিখবেন, যাতে করে আপনার কাছ থেকে আরো কিছু চমৎকার থৃলার উপহার পাই। আপনার পরবর্তী থৃলারের অপেক্ষায় রইলাম। আর পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনি যদি থৃলার উপন্যাসের ফ্যান হয়ে থাকেন, নির্দ্বিধায় 'দ্য এন্ড' কিনতে পারেন।
আমি বলছিঃ- মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল যখন দেখলাম বইটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার। হিস্টোরি প্রতি আমার তেমন আগ্রহ নেই। কিনেছি যখন তখন পড়তে হবে তাই বাধ্য হয়েই হাতে নিয়েছিলাম। ভূমিকা পড়ে যখন জানতে পারলাম তিন বছর সময় নিয়ে লেখক বইটি লিখেছেন তখন লেখকের প্রতি করুণা করেই শুরু করি বইটি। তারপর হারিয়ে যাই এই বইটির মধ্যে। গোগ্রাসে গিলতে থাকি হিস্টোরি গুলো। জানতে পারি সেই ৭০ বছর আগের অমীমাংসিত এক ঘটনা। যা পৃথিবীর ইতিহাসে আজও রহস্য। জানতে পারি ওমর খৈয়াম আর ইবনে সিনার কথা। আমি এমন করে বলতেছি যে কেউ ভাববে এটা একটা ইতিহাস মূলক বই। কিন্তু আসলে তা নয়। এটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। একমুঠো ইতিহাস সাথে এক চিমটি ফিকশন জুড়ে তৈরী হয় হিস্টোরিক্যাল ফিকশন। লেখক ফিকশন এক চিমটির বেশিই ব্যাবহার করে ফেলেছেন। তবে লেখকের ফিকশন থেকে সত্যটাই(হিস্টোরি) বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে।আর লাগবেই তো, কারণ 'ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দেন ফিকশন'।
এই বইতে সবচেয়ে ভালো লেগেছে যাকে তিনি হলেন গল্পের ভিলেন গুস্তাভো অস্তোভস্কি। কুরিয়ার বয় থেকে এসাসিন হওয়ার গল্প খুবই ভালো লেগেছে আমার। লাগার কথাই এসাসিন গেম গুলো যখন খেলতাম তখন আমিও তাদের মতো এসাসিন হতে চাইতাম। গুস্তাভো অস্তোভস্কিকে আমার হিংসা হয়েছে বলা যেতেই পারে।
গল্পের আরেকটি জিনিস পড়ে খুব কষ্ট পেয়েছি। যখন পড়ার মস্তানরা ভাই বোনকে রিক্সা থেকে টেনে নামিয়ে ভাইকে মারছিল আর বলছিল তার সামনেই বোনকে ধর্ষণ করা হবে। আমার কোন বোন নেই তাই বোনের ভালোবাসা কেমন তা ঠিক মতো জানতে পারিনি। আমি নিজেকে ওই ভাইয়��র জায়গায় যখন কল্পনা করলাম তখন বুকটা হু হু করে উঠেছিল। খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম।তবে সান্ত্বনা ছিল এটা গল্প সত্য নয়। কিন্তু এই সব কি সত্য হয় না? মনটাই খারাপ হয়ে যায়।
গল্পের যেটা ভালো লাগেনি সেটা হলো মারামারি সময় গুলো। এগুলো সিনেমাতেও আমার ভালো লাগেনা। বইতে তো আরো না। যাইহোক রেটিং যদি দিতে হয় তবে ৫ এ ৪.৯৫ দিব।....... 😒
বই শুরু হয় টানটান উত্তেজনায়, মাঝের দিকে কিছুটা ধীরগতির হয়ে গেলেও তা চোখে লাগেনি বরং বলবো কাহিনীর স্বার্থে দরকারই ছিল...
ঐতিহাসিক ব্যাপারগুলি এসেছে সময়মত এবং মাপমতো, একঘেয়ে লাগেনি প্লটের সাথে মিলে গেছে; কিন্তু ঐ কাহিনীগুলির সাথে বাংলাদেশ আর সাইফের সম্পর্কটা বলতে গেলে দূর্বলই ছিল...
মেজর সাইফ হাসানের সাথে বহুল পরিচিত আরেক চরিত্রের সাথে কিছু মিল পেলাম, তবে সেটা মিলের চেয়ে বেশি অনুপ্রেরণাই বলা যায় মোটামুটি ভালোই লেগেছে, কিন্তু এই মিস্টার পারফেক্ট চরিত্রগুলি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় ;) আর বিরক্তিকর একটা ব্যাপার ছিল আযীনের চরিত্রটি, তাকে কোনভাবেই এনএসআই এজেন্ট মনে হয় না,কেমন জানি খাপছাড়া লাগে; তাকে ছাড়া কাহিনীর এমনকিছু যায় আসে না :/
হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার আমার প্রিয় জনরা তা,না কিন্তু একটা থ্রিলার পড়তে পড়তে ইতিহাসের নতুন জিনিসে "নজর" পড়াটা বোনাস,এইজন্যই পড়া... এইবইটা একধরণের মিশ্র অভিজ্ঞতা, খুব ভালো লাগেনি আর খারাপ কোনোভাবেই বলতে পারবো না; এটা এই লেখকের প্রথম বই পড়লাম, লেখার ধরণ ভালো লেগেছে; তো, অবশ্যই আরো পড়া হবে :)
অস্ট্রেলিয়ার রহস্যময় সমারটন ম্যানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা দ্য এন্ড। কাহিনীর শুরুতে খুব উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও মাঝখানে এসে ধপাস করে এই উত্তেজনা একেবারে কমে আসে। হিস্টরিকাল থ্রিলার হিসেবে বইটা মন্দ না। কিন্তু কাহিনী তে সাইফ হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ভিলেনের চেষ্টাগুলোকে মাত্রাতিরিক্ত নাটকীয় মনে হয়েছে। আবার আযীনের রোলটা কি সেটায় স্পষ্ট হলো না। কাহিনীর মাঝখানে এক্কেবারে জোর করে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো অবস্থা! হয়তো লেখক চাইলে চরিত্রটার আরো ভালো ডেভেলপ করতে পারতো। আর এই চরিত্রের লাস্যময়ী বিশেষণটি একেবারে ই অপ্রয়োজনীয় ছিলো। এই বিশেষণটির সাথে পুরো কাহিনীর কোনো ঘটনা বা পার্শ্ব ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক-ই নেই। রূপ বর্ণনা করতে চাইলে আরো ভালো বিশেষণ ব্যবহার করা যেতো। আর ডার্ক ওয়েব নিয়ে যে ধারণাটা প্রকাশ পেয়েছে তাতে অনেকটা গোঁজামিল থেকে গেছে। লেখকের আরো ভালো করে স্টাডি করা উচিত ছিলো এটা নিয়ে। উপরের প্যারার বিষয় তিনটা হিসাবে না নিলে বইটা অনেক ভালো হয়েছে। তাই বাংলাদেশী বই হিসেবে ৩★ দেয়া যেতেই পারে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইটার প্রথমদিকে কৌতূহল ধরে রেখেছিল ভালোভাবেই। এরপরে মাঝপথে অনেকটা টম এন্ড জেরির মত ধরো পাকড়াও এমন অবস্থা। এখানে এসে কাহিনীটা একটু ঝিমিয়ে যায় যদিও কিছু কিছু সূত্র হাতে আসতে থাকে । আর কিছু কিছু চরিত্রের বর্ণনা দেয়া ছিল যা পরবর্তীতে কাজে না লাগলে 'সিক্রেট শ্যাডো ' র গুরুত্বটা বহন করেছে ভালোভাবেই। বইয়ের শেষ দিকে এসে আবার গতি ফেরে। এবার চলে যায় একদম ইতিহাসের কিছু অধ্যায়ে যা সুন্দর ভাবে বর্ণনা করা আছে আর সাথে অল্পকিছু ফিকশন। মেজর সাইফের চরিত্রটা বেশ ভালো লেগেছে, আগাগোড়া ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি কিন্তু আযীনের চরিত্রটা তেমন একটা টানে নি। খুব ইমমেচিউর লেগেছে আযীনকে ওর পোস্ট অনুযায়ী।
আনপুটডাউনেবল একটা বই। শুরু থেকে প্রচণ্ড গতিতে এগিয়েছে পুরো গল্প। রহস্য জমাট বাঁধানো ছিল পারফেক্ট। একশনের মাত্রা কিছুটা কম ছিল, কিন্তু এক্সেকিউশন চমৎকার ছিল। এছাড়া শেষের দিকের একশন সিনগুলো খুবই সুন্দরভাবে বর্ণিত ছিল, যার কারণে একদম চোখের সামনে কল্পনা করতে পেরেছি। মেজর সাইফ হাসান সিরিজের প্রথম বই এটা, কিন্তু স্ট্যান্ড এলোন হিসেবেই পড়া গেছে। এর সিকুয়েল "ইশতেহার" আগে পড়ে ফেললেও বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয়নি। হিস্ট্রিকাল থ্রিলারের সাথে এস্পিওনাজের চমৎকার মিশ্রণ হয়েছে এই বইয়ে। হিস্ট্রির মাত্রাও ছিল পরিমিত, যাতে বিরক্তির উদ্রেক না হয়। সমরটন ম্যানের কেস স্টাডিটা বেশ প্রাঞ্জল ছিল। সেখানে একটা কবিতা ফুয়াদ ভাইকে দিয়ে অনুবাদ করিয়েছেন লেখক, যেটা বিস্ময়করভাবে অরিজিনাল ইংলিশের চেয়ে বেটার মনে হয়েছে। চরিত্রায়ণের দিক দিয়ে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। আযীনকে বড় একটা রোলে রাখা হলেও তার প্রভাব বইয়ে ছিলনা বললেই চলে। এটা বেশ হতাশাজনক। আবার ফ্ল্যাপে তার লাস্যময়িতাকে ফোকাস করতে দেখে ভেবেছিলাম সিডাক্ট্রেস হিসেবে কিছু একটা ভূমিকা রাখবে। সেখানেও আশাভঙ্গ। এই ওয়ার্ডটা ফ্ল্যাপে রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়নি। এছাড়া এসআই নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের নাম যতবার এসেছে, ততবার পুরো নামটাই এসেছে। সংক্ষেপে এসআই নিজাম বলা হয়নি একবারও। এটা কেন করা হলো, ঠিক বুঝিনি। হয়ত এসআই নিজাম শুনলে স্মার্ট মডার্ন কাউকে মনে হয়, তাই "উদ্দিন হাওলাদার" লাগিয়ে সেটাকে একটু সেকেলে মানুষ ভাব দেয়া হয়েছে? কি জানি। বর্ণনাভঙ্গি খুবই আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু কিছু জায়গায় মাইনর ডিটেল বাদ পড়ে গেছে। যেমন জাহিদ কাগজটা সাইফকে দেখিয়েছিল, এটা সরাসরি লেখা হয়নি, বুঝে নিতে হয়েছে পাঠক হিসেবে। ক্লাইম্যাক্সটা ওভার-দ্য-টপ হয়নি, এটা ভালো ছিল। তবে বাংলাদেশের কানেকশনটা আরেকটু স্ট্রং আর গুছানো হলে ভালো হত। এখানে এসে টুইস্টটা একটু কেঁচে গিয়েছে। সব মিলিয়ে বিবেচনা করলে, মৌলিক থ্রিলার যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্যে ওমর খৈয়াম নামে পরিচিত বিখ্যাত পারসিক কবি আবুল ফাতাহর "রুবাইয়াত"কে নিয়ে বাংলাদেশি থ্রিলার লেখক আবুল ফাতাহর "দ্য এন্ড" একটা মাস্ট রিড বই।
This entire review has been hidden because of spoilers.
#রিভিউঃ কক্সবাজারের বিচে পাওয়া গেল একটা লাশ। আর দশটা লাশের মতোই দেখতে কেবল ব্যাতিক্রম,লাশের পকেট থেকে মিলল অচেনা ভাষার দুটি শব্দ। খুন নাকি আত্নহত্যা? জানার চেষ্টা করতেই প্রান হারালো কেসের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ইনভেস্টিগেটর, যে মানুষটা মৃত্যুর আগে সাহায্য চেয়েছিল প্রাইভেট এজেন্সির চিফ অফ অপারেশন্সের কাছে। তদন্ত শুরু করতেই সে জানতে পারল, সাম্প্রতিক সময়ের মৃত্যুটার সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে ৭০বছর আগেকার কোনো এক মৃত্যুর। যে মৃত্যু আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অমীমাংসিত হত্যা রহস্য হয়ে আছে। এতো কিছুর সাথে এক কুখ্যাত 'এসাসিন', পর্দার আড়ালে থাকা অসম্ভব ক্ষমতাধর কিছু মানুষ আর পৃথিবীক্ষাত এক কবির অমর কাব্যগ্রন্থের যোগাযোগটা কোথায়? রহস্যের জট খুলতে চিফ অফ অপারেশন্স হাজির হলো যেখানে ৭০বছর আগে জন্ম নিয়েছিল রহস্যটি। আসলেই কি তাই? নাকি এর উৎপত্তি হাজার বছর আগে?? ইতিহাস,রহস্য আর শিহরনের এ যেন এক অগস্ত্যযাত্রা!
#পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ইতিহাস, অপার রহস্যের এক অপূর্ব মিশেল এই বই। প্রথম দিকে আর পাঁচটা সাধারণ হত্যারহস্যের তদন্ত কাহিনী মনে হলেও ধীরে ধীরে ইতিহাসের এক অধ্যায় থেকে জন্ম নেয়া এক রহস্যের মাঝে হারিয়ে ফেলা সম্ভব নিজেকে। ইতিহাস,ক্রাইম, অ্যা��শনের সমন্বয় বইটিকে করেছে অতুলনীয়। বইটাকে আমি মাস্টরিড বলব। বইটাকে অনেক আন্ডারেটডও মনে হয়েছে আমার। লেখকের প্রশংসা না করে পারছি না। লেখনী ছিল চমৎকার। এতো প্রাচীন ও বিরাট এক ইতিহাসের বর্ননায় কখনো মনে হয়নি কোনো ইতিহাসের বই পড়ছি। ইতিহাসের বর্ননাগুলো গল্পে গল্পে করে গেছেন লেখক।
প্রতিক্রিয়া- মেজর সাইফ হাসান সিরিজের প্রথম আর আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় বই ছিল এটা। এই বইটা পড়ে আমার মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। কিছু বিষয় খুব ভালো লেগেছে আর কিছু বিষয় বিরক্তিকর লেগেছে।
ভাল লাগার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে গল্পের প্লট। এ বইয়ের সবচেয়ে পজেটিভ দিক ছিল এটা। দুর্দান্ত একটা প্লট নির্বাচন করেছেন লেখক। একটা বাস্তব ঘটনার আলোকে লেখা হয়েছে গল্পটা। ইতিহাসের সাথে লেখকের কল্পনার মিশ্রনটা ভালো লেগেছে। লেখনশৈলী ভালো লেগেছে। শুরু থেকেই বেশ গতিময় ছিল বইটা। বোর হওয়ার চান্স নেই। একটা পয়েন্ট পর্যন্ত টানা পড়ে গেছি। ক্ল্যাইম্যাক্সে লেখক বেশী ওভার দ্য টপ কিছু রাখেন নি এ ব্যাপারটাও ভালো লেগেছে।
ভালো না লাগার ক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে চরিত্রায়ন। যেহেতু সিরিজের ১ম বই এটা, তাই মেজর সাইফের চরিত্রায়ন আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম। পুরো গল্পের কোন চরিত্রের সাথেই সেভাবে কানেক্টে করতে পারিনি। 'আযীন' কে একজন এনএসআই এজেন্ট হিসেবে বেশ আনকোরা মনে হয়েছে। "এজেন্ট" বলা হলেও তার মধ্যে এজেন্ট সুলভ কোন আচরণ দেখিনি। নায়ক কেন্দ্রিক সিনেমাতে নায়িকারা শো পিস হিসেবে যে ভূমিকা রাখে এ গল্পে তার ভূমিকাও সেরকম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পে তার তেমন কোন ইম্প্যাক্ট নেই। আর হেড কোয়ার্টার এর অনুমতি না নিয়ে সে কিভাবে অস্ট্রেলিয়া গেল সেটা বুঝলাম না। এ ছাড়াও আরও দু একটা জায়গায় খটকা লেগেছিল। তবে সেগুলো বড় কিছু নয় ।
ওভার অল, বইটা ভালো। তবে আরও ভালো হতে পারতো। এই সিরিজের দুটো বই পড়লাম। বই গুলো উপভোগ্য ছিল। দুটোরই প্লট সিলেকশন খুব ভালো ছিল। সামনে মেজর সাইফ এর নতুন কোন কেসের অপেক্ষায় রইলাম।
হতে পারত ৪.৫, কিন্তু এন্ডিংয়ে তাড়াহুড়ার জন্য হলো না। দারুণ কনসেপ্ট ছিল। যে ভিলেনকে এত শক্তিশালী দেখানো হয়েছে, শেষে...
থাক, স্পয়লার না দেই। বইটা সময় কাটানোর জন্য পড়তে পারেন।
গল্পের গাঁথুনি সুন্দর, ক্যারেক্টার বিল্ডাপে মেইল প্রোটাগনিস্টকে এত হাইলাইট করা হয়েছে যে নায়িকাকে নিয়ে কিছুই বলা হয়নি তেমন, সে যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হবে তাকে নিয়ে আলাদা কয়েকটা চ্যাপ্টার রাখা যেত। ব্যাকস্টোরি দেখানো যেত।
এই বইটা হয়তো পুরোপুরি আশা পূরণ করতে পারেনি, তবে আমি আবুল ফাতাহর আরও বই পড়ব। লেখার হাত ভালো ওনার, এই সময়ে এমন আগ্রহ ধরে রেখে খুব কম লেখকই লিখতে পারেন।
হ্যাপি রিডিং। ইউ ক্যান সাজেস্ট ইউর বেস্ট রিড ইন দ্য কমেন্টস, I'll love to read that...
কিছু বই থাকে, যেগুলো পড়া শুরু করার সাথে সাথেই বোঝা যায় যে "ভালো একটা বই পড়তে যাচ্ছি"। আমার কাছে তেমনই একটা বই ছিলো "দ্য এন্ড"। শুরু করা পরেই বুঝে গিয়েছিলাম লেখক হতাশ করবেন না। গল্পের প্লট খুবই ভালো লেগেছে। কক্সবাজার বিচে পাওয়া অজ্ঞাত লাশের পকেটে থাকা একটা চিরকুট, "তামাম শুদ" । সে থেকেই যার শুরু।
লেখক বইতে শুরুতেই বলেছিলেন, ইতিহাস জানানোর দ্বায় তার না। তাই ইতিহাস আশ্রিত হলেও ইতিহাসের কোন বোরিং লেকচার নাই বইটাতে। লেখনশৈলী মুগ্ধ করেছে আমাকে। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে শতভাগ সফল। গল্প এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক একটা গতি বজায় ছিলো।
মেজর সাইফ সিরিজের প্রথম বই এটা। সে হিসাবে মূল চরিত্র নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত লিখলে অবশ্য ভালো হতো। সিরিজের মূল চরিত্রগুলোর বিল্ডআপ মজবুত হলে পাঠকের সাথে চরিত্রগুলোর একটা বন্ডিং সৃষ্টি হয়, যেটা পাঠককে পরবর্তী বইয়ের জন্য সহজে আগ্রহী করে তুলতে পারে। এটার একটু অভাব বোধ করেছি। NSI এর নারী এজেন্টের যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলাই যায়। সেটাও ভালো লাগেনি।
লেখকের চার বছরের পরিশ্রমে বইটির সৃষ্টি। বইটা পড়ে বলতে পারি, তিনি তার সৃষ্টিতে সফল হয়েছেন। "দ্য এন্ড" পেজ টার্নার বই নিঃসন্দেহে।
পৃথিবীর ইতিহাসে মাঝে মধ্যে এমন এমন কিছু অদ্ভুত, রহস্যজনক ঘটনার কথা শোনা যায় যার কোন পরিপূর্ণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আজও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রহস্যের অবগুণ্ঠিতা সরিয়ে মানুষ আজও যার সত্যের বিচিত্র রূপটি পুরোপুরি বের করে আনতে পারেনি আর তাই কিছু কিছু রহস্য চিরকাল রহস্যই থেকে গেছে। আপাত দৃষ্টিতে সামান্য কোন ঘটনা ধীরে ধীরে তার রহস্যের ডালপালা মেলতে শুরু করে দিয়ে দেখা যায় এমন এক বিস্ময়কর মহিরুহের আকার নিয়ে ফেলে যার ছায়াতলে সময়ের পরিক্রমায় জন্ম নেয় তর্কবিতর্ক আর জল্পনাকল্পনা থেকে শুরু করে নানান সব ইন্টেরেস্টিং থিওরি ও মিথ। লেখক থেকে পরিচালক, বিভিন্ন ধরণের আর্টিস্টরাও তখন পেয়ে যান যেন তাদের নতুন কোন সৃষ্টির খোঁড়াক। আবুল ফাতাহ’র “দ্যা এন্ড” তেমনি এক বিচিত্র, অমীমাংসিত রহস্যকে উপজীব্য করেই লেখা একটি উপভোগ্য হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার; যেখানে যেমন পাবেন ইতিহাসের রোমাঞ্চকর কিছু অলিতেগলিতে হারিয়ে যাবার স্বাদ, তেমনি থেকে থেকে আছে স্পাই বা অ্যাকশন থ্রিলার ঘরোনারও আমেজ। এখানে বলে রাখা ভাল আমি ইচ্ছাকৃত ভাবেই দুটো দিক আমার এই পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় এড়িয়ে যাচ্ছিঃ প্রথমটি হল, কাহিনীর সার-সংক্ষেপ (জানার ইচ্ছা থাকলে বইটির ব্যাক কভার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বই বিক্রির পেজ বা সাইটগুলোতে একটু ঢুঁ মেরেই জেনে নিতে পারবেন, আমি আর তা জোড়া দিয়ে এই লেখা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না) আর দ্বিতীয়টি হল, সেই চাঞ্চল্যকর, রহস্যজনক সত্য ঘটনা যার উপর ভিক্তি করেই এই বইটি লেখা। কেননা আমার মতে যেই Unsolved mystery-কে কেন্দ্র করে গল্পটা সাজানো হয়েছে সেটাই মূলত ‘দ্যা এন্ড’-এর এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালুর একটা বড় অংশ দখল করে আছে। লেখক এখানে পাঠকের হয়ে যতটা যত্নের সাথে গুছিয়ে গোটা বিষয়টা তুলে ধরেছেন তাতে মনে হয় না পরে আর অন্য সোর্স মারফত এর থেকে বেশি কিছু জানার প্রয়োজন বা অবকাশ আছে। আর তাই সেই মূল ঘটনা সম্পর্কে আমার মত কোন ধারণা না নিয়েই পড়তে বসলে মনে হয় উপভোগের মাত্রাটা অনেক বেশি হবে। তবে তাই বলে যাদের জানা আছে বা পড়ার সময় আবিষ্কার করবেন “ও...সেই ঘটনা!” তাদের জন্যও কিন্তু পড়ার মজাটা কোন অংশে কম হবে না এই কারণে যে, তাদের জন্য তখন ইন্টেরেস্টিং বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এটা দেখা যে, এই তরুণ লেখক এখানে কতটা মুন্সিয়ানা বা ইন্টেরেস্টিংলি সেই ঘটনা বা কন্সেপ্টটাকে ঘিরে একটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার দাড় করিয়েছেন বা তার সদ্ব্যবহারটুকু আদৌ ঠিকমত করতে পেরেছেন কিনা। সবমিলিয়ে আবুল ফাতাহ’র “দ্যা এন্ড” কেমন হল সেই প্রসঙ্গে যাবার আগে ব্যক্তিগতভাবে আমি লেখককে একটা বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই আমার মত অলস পাঠকের নলেজে এমন একটা চমকপ্রদ, সত্যিকারের অমীমাংসিত রহস্যকে এই বইয়ের মধ্য দিয়ে তুলে ধরবার জন্য। Real life mysterious incident or Unsolved mystery-গুলো নিয়ে বা তার অনুপ্রেরণায় গল্পের প্লট দাড় করাবার ইন্টেরেস্টিং ব্যাপারটা হচ্ছে একজন রাইটারের সেই ইভেন্ট বা মিস্ট্রিকে ঘিরে নিজস্ব ইন্টারপ্রেটেশন; সে কতটা ক্রিয়েটিভলি সেই কনসেপ্টটাকে নিয়ে কল্পনার রং মিশিয়ে খেলতে পারে আর তার পাঠকদের উপহার দিতে পারে একটি উপভোগ্য, জমজমাট গল্প। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখানে অরিজিনাল অমীমাংসিত রহস্যটা আসলে এতটাই চমকপ্রদ আর ব্যাপক যে, সেটাকে extraterrestrial, treasure hunt, occult, Lovecraftian কিংবা স্রেফ রোমান্টিক মিস্ট্রিসহ নানা ধরণের ট্রিটমেন্টে সাজাবার সুযোগ ছিল বা আছে (এবং আগামীতেও থাকবে); আর দেশিবিদেশি অনেক লেখকের ক্ষেত্রে যেখানে দেখা যায় মূল ঘটনাকে স্রেফ অনুপ্রেরণায় রেখে বা অনেক কাটছাঁট করে নিজের মত করে এই ধরণের কনসেপ্টকে তাদের লেখায় ব্যবহার করতে, সেখানে আমার মনে হয়েছে আবুল ফাতাহ সাহেব চেষ্টা করেছেন মূল ঘটনাকে যতটা সম্ভব অবিকৃত রেখেই তার সাথে আধুনিক স্পাই থ্রিলারের আমেজ দিয়ে নিজের মত করে রহস্যটার একটা পরিপূর্ণ ব্যপ্তি ঘটাতে আর যার ফলাফলঃ বেশ গুছানো ও উপভোগ্য একটি থ্রিলার। হিস্টোরিক্যাল রেফারেন্সগুলো দিয়ে রহস্যের জটগুলো খুলেছেন সুন্দর করে; তবে হ্যাঁ, এই তুমুল রহস্যের মূল তালাটি খুলতে গিয়ে তিনি যেই এলিমেন্টটিকে ব্যবহার করেছেন শেষে গিয়ে, আর কি যার কারণে এত হাউকাউ, সেটা কনসেপচুয়ালি মানতে কোন সমস্যা না হলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে পড়ার সময় আরও ইন্টেরেস্টিং, ইউনিক বা ভিন্ন কিছু আশা করেছিলাম। কেননা সেই এলিমেন্টটা কিছুটা ক্লিসেড বলেই মনে হয় ইদানিং আমার কাছে, তবে তাই বলে এর থেকে ভাল কিছু আর কিইবা হতে পারত তাও যেমন আমার জানা নেই, আবার অন্য তাক লাগানো কিছু দেখাতে গেলে হয়ত গোটা গল্পের ধরণই অনেকটা পরিবর্তন করতে হত বলেই মনে হল। ফিনিশিংটা যতটা ঘটনাবহুল বা টুইস্টেড হবে বলে আশা করেছিলাম ততটা না হলেও এটলিস্ট খারাপ যে হয়নি সেটা হলফ করেই বলা যায়; টুইস্ট একটা ছিল অবশ্য শেষে তবে সেটা কিছুটা কাকতলীয় আর নাটকীয় লেগেছে। সম্ভবত বেশি বেশি বিদেশী মুভি দেখার কারণেই হয়তবা, ফিনিসিং-এ শেষ হইয়াও হইল না শেষ টাইপ কিছু কেন জানি আশা করেছিলাম, ভেবেছিলাম আবারো হয়ত কাউকে পাওয়া যাবে কোন সাগর তীরে... :D নিয়তির পরিহাসে হোটেলে আগুন লাগার বিষয়টা যতটা না আমাকে অবাক করেছে তার থেকেও বেশি হতাশ হয়েছি সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মূল চরিত্রগুলোর দায়সারা প্রতিক্রিয়া দেখে, যদিও তার কারণ স্পষ্ট করেই উল্লেখ ছিল তারপরও কেন জানি মনে হচ্ছিল তারা যেন অনেকটা মুক্তি পেয়েছে বিশাল একটা দায়িত্ববোধ থেকে যা কিনা অন্তত গল্পের নায়কের শুরু থেকে দেখানো ক্যারেকটারের দৃড়তার সাথে তেমন একটা মানানসই ছিল না। লেখক হিসেবে আবুল ফাতাহ’র হাত বেশ প্রাঞ্জল আর সাবলীল, বিশেষ করে স্পাই থ্রিলার ঘরোনায় কাহিনীর গতিবিধির কারণেই কিনা জানি না তবে সেবা’র একটা ছাপ যেন তার এবারের লেখাতে বা অনুপ্রেরণায় ছায়ার মত কাজ করেছে বলেই মনে হল। সবমিলিয়ে যাই বলি না কেন, পৃথিবীর অন্যতম সেরা একটি অমীমাংসিত রহস্যকে নিয়ে লেখা আবুল ফাতাহ’র দ্যা এন্ড যে থ্রিলার ভক্তদের জন্য একটা পড়ার মত বই সেকথা আসলে অস্বীকার করার উপায় নেই। তরুণ লেখক হিসেবে বইটা লেখার পিছনে লেখকের শ্রম আর সাধনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ভবিষতে এই ধরণের আরও প্রয়াস লেখকের কাছ থেকে আশা করছি।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পাওয়া গেল অদ্ভুত এক লাশ। লাশের পরিধেয় পোষাক, পরে থাকার ভঙ্গি আর চোরা পকেটে পাওয়া অচেনা ভাষায় লেখা একটুকরো কাগজ- অদ্ভুত এক ধন্দে ফেলে দিল কক্সবাজার থানার এসআই নিজাম উদ্দিন হাওলাদারকে।
ডিবি থেকে কেসটা হ্যান্ডেল করছে জাহিদ নামের নতুন এক রিক্রুট। ছেলেটা বেশ উদ্যমী। সিক্রেট শ্যাডোর চিফ অফ অপারেশন্স সাইফ হাসান এই মুহুর্তে কক্সবাজারে আছে শুনে নিজের তদন্তলব্ধ ক্লুগুলো নিয়ে তার সাথে দেখা করতে গেল ছেলেটা। সাক্ষাৎ শেষে হোটেল ছেড়ে বেরুনোর সময় গেটের সামনেই মৃত্যু হলো জাহিদের। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ শট।
কেসটার ব্যাপারে পূর্বে আগ্রহ না থাকলেও জাহিদের খুনীকে খুজে বের করার তাগিদে কেসটা হাতে নিল সাইফ। সাথে এসে জুটল এনএসআই এর আরেক নব্য এজেন্ট- আযীন। কেসটার ব্যাপারে সে আরো বেশি নিবেদিতপ্রাণ!
সামনেই প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর। দৃশ্যপটে ভয়ানক এক এসাসিনের আবির্ভাবে কেসটার গুরুত্ব বেড়ে গেল হঠাৎ করেই। ঘাটাঘাটি করে জানা গেল- ৭০ বছর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি মৃত্যুর সাথে আশ্চর্যজনক মিল আছে এবারেরটার। পূর্ববতী ঘটনাটা আজো বিশ্বের অন্যতম এক অমিমাংসিত রহস্য হিসেবে স্বীকৃত।
গল্পের মোড় নিল এবার বিদেশ বিভুই এর দিকে। তড়িঘড়ি করে অস্ট্রোলিয়ায় পাড়ি জমাতে হলো সাইফ-আযীনের। পিছনে এক অশুভ শক্তির জোড়াল উপস্থিতি টের পাচ্ছে। সত্য উদঘাটনের জন্য তবুও দৃড়প্রতিজ্ঞ ওরা।
আস্তে আস্তে জট পাকাতে লাগল রহস্য। ৭০ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই রহস্যের সাথে জড়িয়ে পড়ল জগদ্বিখ্যাত এক কবির অমরগ্রন্থ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এবং ইতিহাসের গলিঘুপচি থেকে বেড়িয়ে আসা আরো কিছু অমিংসিত রহস্য।
মনের ভিতরে জেগে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব পেতে ঘুড়ে আসুন বর্তমান আর ইতিহাসের মিশেলে সৃস্ট "দ্য এন্ড" এর জগৎ থেকে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
দারুন একটা রাইড ছিল ৩০৯ পৃষ্ঠার এই থ্রিলারটি। প্রচ্ছদে জনরা হিসেবে হিস্টোরিক্যাল থ্রিলারের উল্লেখ থাকলেও এস্পিওনাজেরও স্বাদ প���বেন পাঠক।
গল্পের শুরুটা বেশ সাদামাঠা ভাবে। অনেকটা সামাজিক উপন্যাসের ঠঙে। সময়ের সাথে সাথে তাতে থ্রিলের উপকরণ যোগ হওয়ায় ভাষাটাও থ্রিলারসুলভ হয়ে উঠেছে। লেখার গতিটাও প্রথমে শ্লথ ছিল। মূল গল্পে পৌঁছানোর পর সেটাও বেগবান হয়ে উঠেছে।
গল্পে ওরকম মাত্রার ট্যুইস্ট না থাকলেও বড়সড় কয়েকটা হুক ছিল। সেগুলো বেশ ভালো ভাবেই চমকে দিয়েছে আমাকে।
এ গল্পে রোমান্স নেই। তবে দারুন একটা রোমান্টিক আবহ আছে। প্রধান নারী চরিত্রটিও বেশ আকর্ষণীয়। নারী-পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারে লেখক আশ্চর্য রকমের সংযমী। এস্পিওনাজ থ্রিলারে যেরকম খুল্লামখুল্লাম ভাব থাকে- এখানে সেটা অনুপস্থিত।
সাইফ হাসান অনেক ক্ষেত্রেই মাসুদ রানার মত অনুভূতি জাগিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলোতে। বিদেশের পটভূমিকায় দারুন মানিয়ে নিয়েছে ও। ভবিশ্যৎে ওর কপালে যে দেশের বাইরেও অপারেশন জুটতে যাচ্ছে সেটা সহজেই অনুমেয়।
এসাসিন ক্যারেক্টারটা বেশ ভালো লেগেছে আমার। ওর ডিটেইলড ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরির বেলায় দারুন মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। এবইয়ে অন্য কোন ক্যারেক্টারের এতটা নিখুঁত ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।
রানা এজেন্সির মত একটা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির সৃষ্টি করেছেন লেখক এই সিরিজে। নাম সিক্রেট শ্যাডো। গোটা প্রতিষ্ঠান এবং এর বিভিন্ন উইং এর বর্ননা বারবারই উঠে এসেছে লেখায়। চিফ এবং অন্যান্য অপারেটরের বর্ননাও এসেছে অনেকবার। স্মৃতিচারণার ঘটনাও আছে বেশ কয়েকটা। সিক্রেট শ্যাডোয় বিসিআইয়ের মত একটা প্রতিষ্ঠানিক অনুভূতি দেওয়ার চেস্টা করেছেন লেখক। প্রচেস্টাটা ভালো লেগেছে। সিক্রেট শ্যাডোকে ঢেলে সাজানোর মত আরো অনেক উপকরণই রয়ে গেছে। মাসুদ রানা বা জেমস বন্ড সিরিজের মত এখানেও আরো কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টিং ক্যারেক্টার তৈরি করা যেতে পারে।
ঐতিহাসিক বর্ননাগুলো প্রায় সময়ই কোন না কোন চরিত্রের জবানিতে বর্নিত হয়েছে। জবানির দৈর্ঘ্য আসলে খুব একটা বড় ছিল না। আমার মতে ওই অংশগুলো তৃতীয় পুরুষে এবং আরো একটু বড় কলেবরে লেখলে আরো বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠত গল্পটা। যেক'টা প্রশ্নকে নাকের ডগায় মূলার মত ঝুলিয়ে রেখে পুরো বইটা পড়িয়ে নিয়েছেন, শেষে জবাবগুলো এত দ্রুত পেয়ে যাওয়ায় কেমন এক অতৃপ্ত ভাব কাজ করে। ঐ অংশটা আরো বিস্তারিত হবার দাবী রাখে।
লেখক মূল গল্পটা ফেঁদেছেন বর্তমান এবং অতীতের কয়েকটি রহস্যকে একসূত্রে গেথে। এদের ভিতর সমরটন ম্যান রহস্য-টা সাধারণ জনমানুষের কাছে সবচাইতে বেশি পরিচিত। এ গল্পে অন্যান্য আর যে কয়জন ঐতিহাসিক চরিত্র স্থান পেয়েছে তাদের জীবনও কম ঘটনাবহুল নয়। তাদের প্রত্যেকের জীবন ঘিরে রয়েছে রহস্যের ঘনঘটা।
সমরটন ম্যান কেসটা তুলনামূলক অদুর অতীত বলে এ নিয়ে এখনো মানুষের অনেক জল্পনা কল্পনা। এই কেস নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই এখনো কাজ করছেন। পুলিশের খাতায় সবচাইতে বেশি সময় ধরে খোলা থাকা কেসগুলোর অন্যতম একটা কেস এটা । অনেক গোয়েন্দা, গবেষকই নিজ নিজ মতবাদ দিয়েছেন সমরটন ম্যানকে নিয়ে। তবে প্রায় কোনটাই পূর্নাঙ্গ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাখ্যাগুলোও পরস্পরবিরোধী।
আমার জানামতে সমরটন ম্যানকে উপজীব্য করে এর আগে কেউ কখনো লেখেননি। শুধুমাত্র স্টিফেন কিং এর "কলোরাডো কিড" বইয়ে এবং "দ্য ডক্টর ব্লেক মিস্ট্রিজ" টিভি সিরিজের একটি এপিসোডে সমরটন ম্যানের মত একটা মৃত্যুর ঘটনা ব্যাবহার করা হয়েছে। অবশ্যই নাম, ঠিকানা, পটভুমি পালটে। এবং মৃত্যুর বর্ননা ছাড়া সমরটন ম্যানের সাথে আর কোন সম্পর্ক নেই গল্প দুটোর। সেহিসেবে লেখক অবশ্যই সাধুবাদের দাবীদার। সমরটন ম্যানকে নিয়ে জমে থাকা প্রশ্ন গুলোর বেশিরভাগেরই বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখা দিয়েছেন তিনি। সেটাও আমার মনঃপুত হয়ছে।
বাংলায় মৌলিক হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার খুব বেশি লেখা হয়নি। মৌলিক স্পাই ক্যারেক্টারও খুব কম। আগ্রহ উদ্রেক করলে পড়ে দেখতে পারেন....
কাহিনী সংক্ষেপঃ সকাল সকাল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পাওয়া গেল একটা লাশ! ঝাউগাছে গেলান দিয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা আড়াআড়ি ভাবে রেখে যেন সমুদ্র দেখছে! প্রাথমিক অবস্থায় লাশের পকেটে পাওয়া গেল অসামঞ্জস্যপূর্ণ সাধারণ কিছু জিনিষ কিন্তু মোবাইল,মানিব্যাগ বা পরিচয় বের করা যায় এখন কিছুই পাওয়া গেলো না! ডিবির তরুণ অফিসার জাহিদ আরেকটু মনোযোগ দিয়ে এভিডেন্স গুলা চেক করতে গিয়ে বুঝতে পারলো লাশের ব্যবহৃত পোশাকের লেবেল কেউ একজন সযত্নে তুলে ফেলেছে! সাথে আরো খুজে পেলো প্যান্টের গোপন পকেটে থাকা এক টুকরো কাগজ! তাতে ভিনদেশি ভাষায় একটাই শব্দ লেখা! "তামাম শুদ" পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে জানা গেলো না মৃত্যুর কারণ!
কে এই রহস্যময় ব্যক্তি! কেন মারা গেলেন তিনি? কিভাবে মারা গেলেন তিনি! এই "তামাম শুদ" এর অর্থই বা কি !? আর এতকিছু ঘটছে তার পিছনের কারণটাই বা কি! প্রশ্ন অনেক উত্তর জানা নেই একটারও !
এই সবকিছু নিয়ে আগ্রহের কারণে প্রান হারাতে হল জাহিদকে।
সরকারের অনুরোধে কেসটা হাতে নিলো প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি "সিক্রেট শ্যাডো'র সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর "সাইফ হাসান" সাথে থাকলো এনএসআই এর গোয়েন্দা তরুনী "আযীন"।
রহস্যের জট খুলতে গিয়ে আরো নতুন রহস্য জড়িয়ে গেলো মেজর সাইফ! জানতে পারলো সত্তর বছরের আগের কেস সম্পর্কে যার সমাধান এখনো হয় নি এবং কেসটা এখনো ওপেন! কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বিচ্ছু নয় একেএকে বেড়িয়ে আসতে লাগলো ডাইনোসর!
এই রহস্য সমাধানের জন্য মেজর সাইফকে দৌড়াতে হবে কক্সবাজার থেকে সুদূর অস্ট্রেলিয়া,যেতে হবে জার্মানি । জানতে হবে সত্তর বছর আগের ইতিহাস থেকে শুরু করে হাজার বছর আগের ইতিহাস,যেখান থেকে জন্ম হয়েছিল এই রহস্যের ;)
পাঠ্য প্রতিক্রিয়াঃ ফেসবুকের কল্যাণে বই প্রকাশের আগে থেকেই বইটা সম্পর্কে জেনেছি এবং পড়ার আগ্রহ জেগেছে :) জানুয়ারির ২৯ তারিখে অর্ডার করা বই হাতে পেলাম ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ ! যখন হাতে পাই হাল্কা জ্বরজ্বর ছিল শরীরের অবস্থা কিন্তু বই হাতে পাবার পর জ্বরজ্বর গায়েব =D ২০ তারিখ সারাদিন এবং রাতে অফিসের কাজের ফাঁকেফাঁকে এন্ড করে ফেছি "দ্য এন্ড"
বইটার প্লট ও কাহিনী বর্ননা অসাধরন লেগেছে। লেখকের চুম্বকীয় বর্ননা বই শুরু করার পর শেষ না করে উঠতে দিচ্ছিলো না। মেজর সাইফ হাসানের মাঝে মাসুদ রানার প্রভাব চোখে পড়েছে । জানি না আমার চোখের সমস্যা :p নাকি আসলেও প্রভাব আছে । তবে একথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই মেজর সাইফকে পছন্দ হয়েছে,আশা করি সবারই হবে। আযীন চরিত্রটাকে দুর্বল লেগেছে ব্যক্তিগত ভাবে :(
বেশী আশা থাকার কারণে নাকি লেখকের সাবলীল & বিস্তৃত কাহিনী বর্ননার কারণে ঠিক জানি না তবে বইয়ের শেষাংশ হতাশ করেছে! মনে হয়েছে সারাদিন সারারাত দৌড়ানোর পরে হঠাত করেই এবং খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গেলো! সমাধান হয়ে গেলো রহস্য! শেষাংশে আরেকটু মনোযোগ প্রত্যাশী ছিল মেবি!
বর্তমান সময়ের তুলনায় বইয়ে বানান ভুল খুবই কম! লেখকের নিজের হাতে বানানো প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে <3
সর্বোপরি দেশে এই ধরনের প্রোজেক্ট প্রথম সেই হিসাবে লেখককে শতভাগ সফল বলা চলে। সবাই পড়ে দেখতে পারেন আশা করি সময়টুকু উপভোগ করবেন।
ভাল লেগেছে। বেশ ভাল। লেখকের আগের বইগুলো পড়িনি তবে দ্যা এন্ড পড়ে অন্যগুলো পড়ার আগ্রহ তৈরী হলো।
গল্পের গাথুনি বেশ ভাল। একবারও ঝুলে পড়েছে মনে হয় নি। টানটান আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন লেখক।
ছোটখাট কিছু জিনিষ অবশ্য একটু চোখে লেগেছে। যেমন, আযীন চরিত্রটা তেমন ভাল হয়নি। একটা বিরক্তিকর টিপিক্যাল বাংলা নাটকের নারী চরিত্রের মত হয়েছে। এন এস আই এর এজেন্ট যেহেতু, অন্তত কিছু এজেন্টসুলভ গুণাবলী তারমধ্যে থাকা উচৎ ছিল। শুধু চেহারা দেখে তো আর এন এস আই এজেন্ট নিয়োগ হয় না।
কিছু জায়গায় ইংরেজি শব্দ দৃষ্টিকটু লেগেছে। যেসব শব্দের প্রচলিত বাংলা রয়েছে সেখানে ইংরেজি ব্যাবহারের মনে হয় না।
কিছু ক্ষেত্রে, যেমন, মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল এর অফিসে অনেক বই দেখে ডিবি এজেন্ট জাহিদ মনে মনে ভাবছে "গ্রন্থ"। "বই"টাই প্রচলিত শব্দ, মনে মনে চিন্তা করার সময় কেউ "গ্রন্থ" ভাববে না।
গোয়েন্দা সংস্থা আর তার বিভিন্ন বিভাগের নামগুলো একটু "কর্নি" হয়ে গেছে। একটা আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন নাম হওয়ার কথা না। তবে ফিকশনের জন্য এটুকু মার্জনীয়।
সর্বোপরি ভাল একটা থ্রিলার। প্রচ্ছদটা সুন্দর হয়েছে। ফ্ল্যাপ থেকে জানলাম সেটাও লেখকের করা। আর বানান বা ছাপার ভুল খুব কম। আজকাল যেমন কোন ধরনের প্রুফরিড ছাড়াই বই ছাপা হয় সে তুলনায় এটা একটা মিরাকেল!
লেখকের জন্য শুভকামনা। সাইফ হাসানের পরবর্তী এডভেঞ্চারের অপেক্ষায় থাকবো।