এক বিদেশি বাংলাদেশে রিসার্চ করতে আসেন। তার নাম ফেন্টন মাইকস। এদেশে তার সাথে পরিচয় হয় একজন নিহিলিস্ট লোকের, যে তার সহকর্মী। পরিচয় হয় একজন মধ্যবয়ষ্ক লোকের যিনি একসময় আন্ডারগ্রাউন্ড উগ্রবাম রাজনীতি করতেন এবং পরিচয় হয় একজন অতি ফেমিনিস্টের। এবং আরো দেখা হয় একজন মুখোশধারী খুনির, যে অন্ধকারে খুন করে বেড়ায়। কে এই খুনি, এই চিন্তা ফিনের মাথায় আসতে থাকে। এবং সে আরো ঝামেলায় পড়ে যায় যখন সে একরাতে দেখতে পায় খুনিটিকে খুন করতে। এই মুখোশধারী খুনি কে?
এই উপন্যাসে খুন আছে,শেষে খুব চমৎকার টুইস্ট আছে।তবে টুইস্ট দেওয়াটা সম্ভবত লেখকের প্রধান উদ্দেশ্য না।কবিতার স্তবক দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিটা অধ্যায়,দার্শনিক কথোপকথন,জীবনকে কৌতুক হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাসটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।চরিত্রগুলো খুব শক্তিশালী। প্রত্যেকেরই আলাদা জীবনদর্শন আছে।উপন্যাসে একটা নিরুত্তাপ ভাব আছে,সেটা ভালো কি মন্দ তা নিয়ে আমি এখনো সন্দিহান। আর হ্যাঁ,শেষের টুইস্ট আসলেও খুব ভালো ছিলো।
ভালো লেগেছে। ভালো লাগার কারণ বিষয়ে আলাপ করতে গেলে প্রথমত আসে চরিত্রগুলোর কথা। প্রত্যেকটা চরিত্রই আলাদা আলাদাভাবে ইন্টারেস্টিং, শক্তিশালী, স্বতন্ত্র দর্শনভঙ্গি সম্বলিত এবং ভিন্ন ধাঁচের। নিহিলিস্ট যুবক অপুকে প্রায়শই দেখা যায়, মাতাল অথবা স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ অথবা চিরাচরিত প্রথাগত অর্থহীন 'অনাসৃষ্টির' প্রতি কটাক্ষপাত করতে (তার জীবনদর্শন অবশ্য সেটাই সাপোর্ট করে আরকি)! মাতাল অবস্থায় ফেন্টন মাইকসের সাথে কথোপকথের একটা অংশ খুব ভালো লেগেছিল, উল্লেখ করে দিচ্ছি -
'পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কৌতুক কি জানো? ওল্ড জোক? মানুষ। মানুষই হলো কৌতুক।" ------ ------ "মানুষেরা ভেসে যাচ্ছে। মানুষেরা ভেসে যাচ্ছে। তুচ্ছ মানুষ। আমার প্রগাঢ় প্রসাবের ফেনায় যাচ্ছে ভেসে।"
কীটস্বরুপ মানবজাতির প্রতি তাচ্ছিল্যের মনোভাব পুষে রাখা অপুর ভাষায় সে নিজে একজন 'উবারমেনশ।' উবারমেনশ (সুপারম্যান/ অতিমানব/ বিয়ন্ড হিউম্যান) এর ধারণাটা এসেছে জার্মান দার্শনিক নিৎসের কাছ থেকে। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ প্রাণশক্তি আর নৈতিকশক্তির চূড়ান্ত বিকাশ সাধনের মাধ্যমে অতিমানবে পরিণত হতে পারে। এই অতিমানব হওয়ার সাধনায় আত্মশক্তি বৃদ্ধি আর অগ্রগতি তাকে শক্তি জোগায়। অনেকের মতে, এই মতবাদকে ভিত্তি করেই ইতালিতে মুসোলিনি অথবা জার্মানিতে হিটলারের মতো পরাক্রমশালী একনায়কদের অভ্যুত্থান ঘটে।
শখের ভাস্কর্যশিল্পী অপুর মা অথবা অধ্যাপক হরিশংকর বল এর চরিত্রের আবছায়ায় ঘুরেফিরে প্রতিশোধ, কামনা অথবা বিষাদ এর মনস্তত্ব বর্ণিত হয়েছে। পুরোনো অথচ প্রাচীন এই অনুভূতিগুলোর কাছে মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই বন্দি।
ফেমিনিস্ট মনীষা যেন একদম চোখের সামনে দেখা এক অতি ফেমিনিস্ট। আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে এরা, কাছে-দূরে সবখানে...
নতুন অধ্যায়ের শুরুতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কর চক্রবর্তী আর জীবনানন্দ দাশের কবিতা ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গেও জোরদার ধন্যবাদ দিতে হয় লেখককে।
পুরোনো কৌতুককে নিছক মার্ডার মিস্ট্রি অথবা শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারের আওতায় ফেলে বিচার করা ভুল হবে (ব্যক্তিগত মতামত)। নিহিলিস্ট, ফেমিনিস্ট, মার্ডারার অথবা সেক্সুয়াল পার্ভার্শনে মেতে ওঠা চরিত্রগুলোই স্বতন্ত্র করে তুলেছে বইটাকে। লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির শক্তিশালী প্রয়োগ ঘটেছে চরিত্রায়ন আর গল্প বর্ণ্নার ভঙ্গিতে। মাত্র ১০৪ পৃষ্ঠার হয়েও তাই 'পুরোনো কৌতুক' পাঠকের মনে আঁচড় কেটে যায়, জন্ম দেয় অনেকগুলো প্রশ্নের, যার উত্তর হয়তো আমরা কখনোই জানি না অথবা জানার উপায় নেই কিংবা জানতেও চাই না!
মুরাদুল ইসলামের লেখা পড়ার ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরেই। অবশেষে পড়া হলো। বেশ ভালো লেগেছে। এক বসাতেই শেষ করে ফেলার মতো বই। যারা গতানুগতিক থ্রিলারের চেয়ে একটু ভিন্নধর্মী লেখা পড়তে চান, তাদের ভালো লাগবে আশা করি।
“পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো কৌতুক কি জানো? ওল্ড জোক? মানুষ। মানুষই হলো কৌতুক।”
কাহিনী সংক্ষেপ বাংলাদেশের লোকসঙ্গীত নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট এর কাজে বাংলাদেশে এসেছেন ফেইন্ট মাইকস। ফিন নামেই পরিচিতরা তাকে ডাকে। বাংলাটা ভালোই বলতে পারেন, লিখতে গেলেই যা একটু বাধে আর কি! বাংলাদেশে ফিন এর চেনাজানা বলতে গুটিকয়েক মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে তার সহকর্মী এবং ভালো বন্ধু ‘অপু’, একজন নিহিলিস্ট, যে প্রতিরাতেই মদ খেয়ে টালমাটাল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। এরপরে মইনুদ্দিন আরিফের প্রসঙ্গে আসা যাক। ইনি ফিন এর পাশের এপার্টমেন্টে থাকেন। উগ্র কমিউনিস্ট, জেল খেটেছেন লম্বা সময়, বর্তমানে চুপিসারে কী কী যেন করে বেড়ান! আরও একজন আছেন, ইনি বিদেশিনী। ফিন এর রিসার্চ টিম এর প্রধান, সুন্দরী এবং বন্ধুসুলভ।
ঢাকার পথেঘাটে খুন রাহাজানি ঢাকাবাসীদের কাছে পুরোনো হলেও ফিনের কাছে একদমই নতুন। চোখের সামনে একজনকে খুন হতে দেখে সে। খুনিকে সরাসরি দেখতে না পেলেও সে যে কালো পোশাক এবং মাস্ক পরিহিত ছিলো এটুকু বলা যাচ্ছে নির্দ্বিধায়। ভিক্টিম এর খোঁজ করতে গিয়ে সে নিজের হাতেই পুলিশের হাতকড়া পরিয়ে বসে, প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পরে খুনের তদন্তে। অবশ্য কিছুদিন পর পুলিশ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে। কিন্তু এরই মধ্যে খুনিকে খুঁজে বার করার নেশা পেয়ে বসে ফিন কে। খুনের ধরণ মোটেও পুরোনো নয়, একইভাবে বছরখানেক ধরে খুন হয়ে আসছে। তাই পুলিশেরও মাথাব্যাথার কারণ এই খুনি। খুনের ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ায় মিডিয়ার নজরে আসে ফিন। সেই সূত্রে মনীষা নামের একজন উগ্র নারীবাদীর সাথে পরিচয় হয় তার।
খুনের তদন্তে যতই সে ডুবতে থাকে ততই ঘোলা হতে থাকে জল, কে আসলে খুনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না। উল্লেখিত সব চরিত্রকেই খুনি মনে হতে থাকে তার। এরই মাঝে কালো পোশাকে ঢাকা সেই ব্যক্তি তাকে খুন করার চেষ্টা করেছে। কে সেই ব্যক্তি? কেনইবা খুনগুলো করছে সে?
মতামত ছোট, তবে উপভোগ্য একটা থ্রিলার। খুব আহামরি রকমের থ্রিলার মনে হয় নি, যেমনটা হয়ে থাকে থ্রিলারের ক্ষেত্রে আবার মন্দ-ও বলা চলে না। বছরখানেক আগে এই থ্রিলারের ভালো কিছু ফিডব্যাক পাওয়ায় পড়ে দেখার সাধ ছিলো, বাতিঘরের বাইরে থ্রিলার তেমন পড়া হয় না আমার তাই আগ্রহটা ছিলো তীব্র। বেশ কিছু চরিত্র স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। এত চরিত্রের মধ্যে আসল খুনিকে বের করতে গেলে গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। বইয়ের শেষ অংশ পর্যন্ত জানতে চাওয়ার আগ্রহটা ধরে রেখেছিলো। মেদহীন, মেপে মেপে লেখা হওয়ায় বিরক্তি ছাড়াই এক বসায় পড়ে ফেলেছিলাম। মুরাদুল ইসলামকে আমি মূলত চিনি তার ব্লগের কারণে। তার ব্লগ আমার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অনেক আগেই। তাই তার ভিন্ন রকম চিন্তাধারা নিয়ে লেখার সাথে তাই পরিচয় আছে। 'পুরোনো কৌতুক' যতটা না থ্রিলার তার থেকেও বেশি সেইসব চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিটা অধ্যায় শুরু করেছেন কবিতার লাইন দিয়ে, প্রতিটা চরিত্রেই ভিন্ন রকম দর্শনবোধ এর উদাহরণ উপস্থিত। ~ February 19, 2020
পুরো উপন্যাসে কোন জায়গার নাম নেই, এ ব্যাপারটা অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে, কানেক্ট করতে অসুবিধে হয়েছে। কানেক্ট করতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও। শেষে টুইস্ট থাকলেও টুইস্টটা এই উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ নয়, মুরাদুল ইসলামের অন্যান্য লেখাগুলোর মতনই গুরুগম্ভীর কিছু বিশেষ টপিকে আলোকপাত করা হয়েছে, সেগুলোই মূল উপজীব্য মনে হয়েছে। নিছক কোন থৃলার নয়, এটুকু বলতে পারি।
আমি জন্মাবার আগের মুহূর্তে আমি জানতে পারিনি আমি জন্মাচ্ছি আমি এক পরিত্রাণহীন নিয়তিলিপ্ত মানুষ আমি এক নিয়তিহীন সন্ত্রাসলিপ্ত মানুষ আমি দেখেছি আমার ভিতর এক কুকুর কেঁদে চলে অবিরাম –ফালগুনী রায় .
মুরাদুল ইসলামের বইগুলোকে আমি ফিলোসফিকাল থ্রিলার হিসেবে ধরি এখন।
সিরিয়াল কিলিং নিয়ে কাহিনি৷ অনেকটা 'হু ডান ইট' গোছের। লেখকের পড়াশোনা জাহির করার নেশা আছে। তাই অনেক পণ্ডিতি কথা অবান্তরভাবে লিখেছেন। অসাধারণ কিছু না। না পড়লেও চলে। তব হ্যাঁ, শেষ মুহূর্তে খুনির পরিচয় জানতে পেরে অবাক হয়েছিলাম।
ফেন্টন মাইকস বাংলাদেশে আসেন বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিসার্চ করতে। সেখানে তিনি অপু নামের এক ব্যক্তিকে পান তার সহকর্মী হিসেবে। দুজনের বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। একদিন রাতের বেলা রাস্তা দিয়ে যাবার সময় খুন হতে দেখেন মাইকস। ঘটনাস্থলে যাবার আগেই খুনি চলে যায়। খুনির অবয়বটা শুধু দেখতে পায় সে। কিন্তু হঠাৎ পুলিস চলে আসলে সন্দেহের তীর ছুটে আসে মাইকসের দিকে। ওদিকে এই কেস নিয়ে কাজ করছেন এক ফেমিনিস্ট। এর আগেও নাকি একই প্যাটার্নে বেশ কয়েকটি খুন হয়েছে। ওদিকে মাইকসের প্রতিবেশী বেশ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ। আসলে কি হচ্ছে? নিজেকে কিছুতেই এসবের থেকে মুক্ত করতে পারছে না এই বিদেশি।
পাঠ পতিক্রিয়া- এভারেজ লেগেছে। খুব মার মার কাট কাট গতির থ্রিলার নয়। তবে পড়ে বোরিং লাগবেনা। মোটামুটি ভালোই। তবে লেখক আগে এর থেকে ভালো কাজ দেখিয়েছেন।