Loka is a beautiful young woman. A Christian, she falls in love with Tinu, marries him and gets a child. After seven years of the marriage, their conjugal existence faces serious crisis. They were absolutely unaware of that change. This apparently simple plot is transformed into a magical tale of relationship and destiny.
মণীন্দ্র গুপ্তর জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালের গৈলা গ্রামে। কৈশোর কাটিয়েছেন অসমের বরাক উপত্যকায় মামার বাড়িতে। একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী মণীন্দ্রবাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কবিতা লিখেছেন ১৯৪০-এর দশক থেকে। প্রথম কবিতার বই ‘নীল পাথরের আকাশ’ প্রকাশিত হয় অনেক পরে, ১৯৬৯ সালে। লিখতে এসেই পাঠকের নজর কাড়েন তিনি। বাংলা কবিতার তৎকালীন অভিমুখের সম্পূর্ণ বিপরীতেই অবস্থান করছিল তাঁর রচনা। এর পরে প্রকাশিত হয় ‘মৌপোকাদের গ্রাম’, ‘লাল স্কুলবাড়ি’, ‘ছত্রপলাশ চৈত্যে দিনশেষে’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’ অত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। ১৯৯১-এ বের হয় তাঁর আলোড়ন তোলা প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘চাঁদের ওপিঠে’। ১৯৯১-এ প্রকাশিত হয় আত্মজীবনী ‘অক্ষয় মালবেরি’-র প্রথম খণ্ড। তিন খণ্ডে বিন্যস্ত এই লিখন বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সম্পাদনা করেছেন ‘পরমা’ পত্রিকা। ১৯৭০-এর দশকে কবি রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘এক বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র মতো সংকলন। হাজার বছরের বাংলা কবিতা ঘেঁটে সংকলন করেছেন তিন খণ্ডে ‘আবহমান বাংলা কবিতা’। ২০১০ সালে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ২০১১ সালে সাহিত্য আকাদেমি।
অসুখী দাম্পত্য ও যৌনঈর্ষা নিয়ে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একটা আলেখ্য হওয়ার কথা ছিলো ;উপন্যাসের তিন চতুর্থাংশ সেই সাক্ষ্যই দেয় অন্তত। কিন্তু লেখক শেষদিকে কোনোকিছুর কারণ উন্মোচন বা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ না করে হয়ে গেলেন নিয়তিবাদী। বাস্তবে এমনটা ঘটতেই পারে কিন্তু পাঠক হিসেবে অতৃপ্তি রয়ে গেলো।
দাম্পত্যের জটিল ও গভীর সংকট নিয়ে নাতিদীর্ঘ এই উপন্যাসটি। বিপুল উৎসাহ, প্রেম আর ভালোবাসা নিয়ে যে সম্পর্কের শুরু, সেটি যখন ভাঙনের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তখন কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয় প্রধান দুই চরিত্র তিনু অথবা লোকাকে। আপাতদৃষ্টিতে স্বামী, সন্তান আর সংসারের প্রতি উদাসীন লোকাকে দায়ী মনে হলেও আসলেই কি এ দায়ভার তার একার? সম্পর্কের ভিত যখন নড়বড়ে হচ্ছিল তখন সেটাকে মেরামতের দায়িত্ব তো তিনুও নেয়নি। তিনু ছিল বে-মনা, নিস্ক্রিয়। ফলে যদিও তিনুর মনে পড়ে কবিতার এই পঙক্তিটি—‘প্রেম, মৃত্যু কি নক্ষত্র কিছুই লাগে না তাকে পেতে—দয়া অশ্রু অলৌকিক বেদনার আগে যে মেয়ের (ফুল নয়) পেট্রলের গন্ধ ভালো লাগে’—তবু সম্পর্ক ভাঙনের দায়ভার অনেকখানি বর্তায় তিনুর নিজের ওপর। আবার দুজনের কাউকের দোষী সাব্যস্ত না করে বলা যায় সম্পূর্ণভাবে দায়ী হচ্ছে সময় বা নিয়তি।