Jump to ratings and reviews
Rate this book

গল্পগুলো বাড়ি গেছে

Rate this book
গল্প লিখতে পারার যন্ত্রণাটুকু কখনো কখনো গল্প না লিখতে পারার কষ্টকে ছাপিয়ে চলে যায়। জীবনের অযাচিত আর অবিরত ভাঙ্গাগড়ায় আন্দোলিত হয় শব্দ। আর তখন তার প্রতিচ্ছবি ঘিরে জমে ওঠা অনুভূতিগুলো চলে যায় অচিনপুর। মধ্যরাতে মন খারাপগুলো যেমন অস্পষ্টতায়ও ধরা দেয় অনায়াসে, তেমনি রোদ জ্বলজ্বলে দুপুরের পিচগলা অনুভূতিও মনে বাসা বাঁধে ঘুণপোকার মত। লিখতে লিখতে শব্দগুলো একসময় বড়ো হয়। মুঠোয় ধরে রাখা আকাশ চিনে। বিস্মৃত স্বপ্ন চেনে, অভিমানী বাস্তবতার সাথে আকাশকুসুম কল্পনার মিশেলে তারা তৈরি করে অগুনতি গল্প। সেই গল্পগুলো বুনোফুলের মতো হঠাৎ হঠাৎ আমাদের কারো জীবনে চলে আসে হুট করেই। আমরা যারা অজানা সময়ের প্রতীক্ষায় জ্যোৎস্না গুনি, আকাশ খুঁজে মেঘের ভেতর ছবি আঁকি, রোদ বাঁচিয়ে হাতের আড়ালে বৃষ্টি জমাই, কোন না কোন গল্প ফিরে আসার অপেক্ষায়, আমরা কি তখন ভাবি, নিয়তির মত গল্পকেও চাইলে বদলে ফেলা যায় না?

বরং, ঘাসফুলের ছোট্ট অভিমানী ফুলের মত গল্পরা ফিরে আসে না, গন্তব্য খুঁজে নিয়ে গল্পগুলো শুধুই বাড়ি যায়।

গল্পগুলো বাড়ি গেছে…

112 pages, Hardcover

First published February 1, 2018

3 people are currently reading
109 people want to read

About the author

Mahrin Ferdous

8 books208 followers
Mahrin Ferdous is the author of eleven books across adult and children’s literature. Her fiction inhabits the border of surrealism and magic realism, where social upheaval collides with psychological dislocation and the hidden architectures of memory. Her stories blur reality and the uncanny, drawing readers into worlds that are unsettling yet deeply human.

In 2019, she was named one of Bangladesh’s five most promising young writers by Banglalink Telecom. She received the BRAC Bank–Samakal Literary Award in 2022 for her contributions to Bangla literature. Beyond her books, she serves as Vice President of the Pencil Foundation, a nonprofit dedicated to youth creativity and social engagement.

She now lives in New York, where she continues to write and work.

Email: mahrinauthor@gmail.com

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
18 (30%)
4 stars
32 (54%)
3 stars
9 (15%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews773 followers
February 20, 2018
বইটা পড়া শেষ করেছি অনেক আগেই। মাথার ভেতর শব্দ গুছিয়ে একটা রিভিউ আর লেখা হয়ে উঠছিল না। সম্ভবত রিডার্স ব্লকের মতো রিভিউ লিখতে গেলেও মাঝে মাঝে ব্লক ব্যাপারটা কাজ করে।

তিন প্রহরে ভাগ করা গল্পগুচ্ছ পড়তে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছিলাম। কিছুটা স্যুররিয়েলিস্টিক বোধ ও কাজ করছিল কি?! আমার কাছে ঔপন্যাসিক মাহরীন ফেরদৌসের চাইতেও ববরাবরই গল্পকার মাহরীন ফেরদৌস বেশী প্রিয়। আরো স্পেসিফিক করে বলতে গেলে ছোট গল্পকার হিসেবে মাহরীন ফেরদৌসের জুড়ি মেলা ভার। কয়েক পেইজের বুননে ভীষণ শক্তিশালী একটা মেসেজ দিতে পারেন অবলীলায়!

প্রথম প্রহরের তিনটি গল্পের মধ্যে "বোকামানুষি" গল্পটা কাগজের পাতায় মুদ্রিত হবার অনেক আগেই আমার মনে আঁচড় কেটেছিল। অক্ষমতা, ক্ষোভ কিংবা অপরাধবোধের অপূর্ব মিশেলে আঁকা মনু নামের উত্তম পুরুষ চরিত্রটি প্রায় বাস্তব বলে বিভ্রাট হয়। ত্রিভুজের চতুষ্কোণ গল্পেও আছে আত্মগ্লানিতে ভোগা একজন তরুণের আত্মকথা। শুধুমাত্র পরিসর ভিন্ন।

সবচেয়ে ভাল লেগেছে তৃতীয় প্রহরের গল্পগুলোর ভেতরে সুপ্ত থাকা মেসেজ। "হিজলবনে জোনাকি" শিরোনামটি খুবই সুন্দর আর এতো স্নিগ্ধ! তীব্র রোদে ফালি ফালি হয়ে থাকা ফসলের মাঠ পেড়িয়ে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা আমগাছের নিচে এসে দাঁড়ালে অদ্ভুত একটা শান্তিভাবের সৃষ্টি হয়। হিজলবনে জোনাকি নামটা সেই শান্তিভাবের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। অথচ গল্পটা পড়লে প্রতিক্রিয়া হয় ঠিক উল্টোটা। ধর্মের দোহাই দিয়ে করা ক্ষমাহীন ঘৃণ্য অপরাধের কোনো সাজা পৃথিবীতে কি অদৌ আছে কিংবা হবে কোনদিন?! বাদ দেই এসব। ভালমানুষের কথা ভাবি। জাহেদ নামের চরিত্রটি সমাজের চোখে ভালমানুষীর যে সংজ্ঞা দাঁড়া করানো আছে তাতে এ প্লাস পেয়ে পাশ করে যাবে অনায়াসে। অথচ শতশত মুনিয়ার কাছে জাহেদের ভালমানুষী চিরকালই বিদ্রূপের প্রতীক চিহ্ন হয়ে থাকবে।

পরিশেষে প্রচ্ছদের কথা বলি। নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের আঁকা প্রচ্ছদের প্রশংসা না করলে রিভিউ অসমাপ্ত থেকে যায়। এমন চমৎকার একটা প্রচ্ছদের জন্য নির্ঝরকে ধন্যবাদ।

মাহরীন ফেরদৌসের জন্য শুভকামনা। গল্পগুলো সবার বাড়ি যাক!
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
January 19, 2023
ছোটবেলায় কোন অনাকাঙ্ক্ষিত হুটহাট মেহমান বা ছোটো চাচ্চুর হঠাৎ হঠাৎ চকলেট নিয়ে আসার মুহূর্তগুলাতে কি করতাম, জানেন তো? চকলেট গুলো খেতাম ছোট ছোট কামড়ে, স্বাদটা আরও একটুখানি বেশি সময় ধরে রাখতে চাইতাম। এবং এটা ভেবে টেনশান করতাম যে এই বুঝি চকলেট শেষ হয়ে এলো। বইটা পড়ার সময় আমার আমাকে ছোট্টবেলার ওই "আমি" মনে হয়েছে। জীবনটা অনেক ছোট, জানেন তো? আর ছোট ব্যাস্ত এই জীবনে বই পড়ার জন্য কষ্ট করে কিছু সময় বের করে এইসব বই না পড়ে থাকাটাও ব্যাপক অন্যায়। এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই সুন্দর। লেখিকার লেখার ধরণ এতো সাবলীল, এতো সুন্দর। কেমন মায়া মায়া শব্দে বাক্যগুলো বুনেন।গল্পগুলো বাড়ি গেছে'- নামটাও তেমনি সুন্দর। সাথে পুরোনো বাড়ির স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের আঁকা প্রচ্ছদটা আলাদা নজর কাড়ে।

একরাশ বিষন্নতা আর মুগ্ধতায় ডুবে গেলাম বইটা শেষ করে।
৪.৫/৫
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews464 followers
March 8, 2021
'গল্পগুলো বাড়ি গেছে'- কি সুন্দর একটা নাম! একবসায় পড়ে শেষ করলাম।

কিভাবে একটা ঢাউস সাইজের বই না লিখেও, শুধুমাত্র কতগুলো ছোটগল্প দিয়েও যে পাঠকের মন জয় করা যায়, তা এই বইটা পড়লে আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন।

বইয়ের নেগেটিভ রিভিউ বা পজিটিভ রিভিউ লেখার জন্য লেখককে ব্যক্তিগতভাবে চেনা লাগেনা, এই আপুকেও আমি চিনিনা, কিন্তু ওনার গল্পগুলো পড়ে কখন যে আমার চোখের কোণে পানি চলে এসেছে, আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।
গল্পগুলো একরাশ বিষন্নতা দিয়ে বাড়ি চলে গেছে!

এই বইয়েরও প্রচ্ছদটাও গল্পগুলোর মতোই ভীষণ সুন্দর।

লেখকের তিনটা বই কেনা হয়েছে, আশা করছি বাকিগুলোও এটার মতোই ভালো লাগবে।
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews737 followers
February 12, 2018
বাড়িতে ঢুকে গরুর মাংসের ঘ্রাণ পাওয়া, ২০১৩ সালে এসে জন্ম নেওয়া কিংবা দু বছর পর বাড়ি ফিরে আসার কথাগুলো শুনলে কী মনে হয় বলুন দেখি? আমার মনে হয় গল্পের কথা। সাহিত্যের শাখা প্রশাখার মধ্যে প্রিয় জায়গাগুলোর একটা হলো ছোটগল্প। একদম ব্যক্তিগত মতামত হলো বিশ্ব সাহিত্যে বাংলাদেশের লেখক-লেখিকাদের ছোটগল্প আমার কাছে অনেক বেশি সমৃদ্ধ মনে হয় উপন্যাস, কবিতা, গান ইত্যাদির থেকে।

এই সমৃদ্ধ শাখাটিতে হাত পাকানোর দলে একুয়া রেজিয়া বর্তমান সময়ের এক উজ্জ্বল নাম। মাহরীন ফেরদৌসের বইয়ের কথা বলতে এসে একুয়া রেজিয়ার লেখার কথা তুলে আনলাম কারণ দুজনে একই ব্যক্তি। ছদ্মনাম থেকে নিজ নামে আসলেও লেখনীর মান বদলেছে সময়ের সাথে সাথে, ধনাত্মক দিকে। তার প্রমাণ হলো ‘গল্পগুলো বাড়ি গেছে’ নামের ছোটগল্পের সংকলনটি।

বইটিতে জায়গা পেয়েছে দশটি গল্প। সবগুলোই কনটেম্পোরারি ঘরানার কিন্তু তারপরও বাস্তবতাকে ছুঁয়ে যেন জীবননাটককে উপস্থাপন করে। ১০ টি গল্পে নানাদিক ও কাহিনী আছে যেগুলোর একটির থেকে আরেকটি কম কৌতূহলোদ্দীপক নয়। যেমন ‘তাহের ফিরে এসেছিল’ গল্পটি থেকে থেকে পাঠককে শেষটুকু জানার জন্য উদগ্রীব করে তুলবে। ‘শেষ প্রিয়মুখ’ গল্পটি বলে দিবে মানুষের জীবনে সব থেকেও কি যেন নেই। এই বোধটা আমাদের দিনে দুপুরে রাতে হুটহাট উদাস করে দিয়ে অদ্ভুত এক মায়াজালের ঘেরাটোপে আটকে দেবে।

বইয়ের একদম প্রথম গল্প ‘বোকামানুষি’ পড়ার সময় শুরুতে আমার ততটা ভালো নি। মনে হচ্ছিলো গল্পের প্রধান চরিত্রের ভাবনা, পরিবেশ খুব চেনা চেনা লাগছে কি? এই মধ্যবিত্ত আবহাওয়া, জটিলতা, উপাখ্যান এসব কিছু কি আগেও পড়ে এসেছি? খুব জনপ্রিয় কারও উপন্যাসে? তবে আমাকে খুব দ্রুত ভুল প্রমাণ করেছে গল্পটি। শেষটুকুতে গিয়ে চমকে উঠেছি। আর মনে হয়েছে গল্পের শুরুতেই যে কোন ভাবনা আগে থেকে ঠিক করে নেওয়াই বরং “বোকামানুষি”। আর সম্ভবত এখানেই মুনশিয়ানার এমন প্রকাশ পেয়েছি যে লেখকের পরের কোন গল্পে লেখনী, চরিত্র অংকন বা কাহিনীর মোড়-বর্ণনা কিচ্ছু নিয়ে আর কোনরকম নালিশ করবার সুযোগ পাইনি। তবে পালট, মেয়েটি এসেছিল শরতের শেষে গল্পগুলো হয়ত আরেকটু জমাট বাঁধতে পারত। ‘হিজল বনের জোনাকি’, ‘মুনিয়া ও একজন ভালোমানুষ’ এবং ‘আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়’ এই তিনটি গল্প একদম মন ছুঁয়ে গেছে। কারণ বাঙালি হিসাবে বাস্তবঘেঁষা কাহিনীর প্রতি দুর্বলতাটুকু মজ্জাগত! সেই সাথে সহজ লেখনীর একটা নরম আরাম পুরোপুরি বাড়তি পাওনা মনের জন্য। এছাড়া লেখকের লেখা পড়বার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- আমার কাছে মাহরীন ফেরদৌসের লেখার যেদিকটা সবচেয়ে ভালো লাগে তা হলো পাঠককে নিজের লেখার মধ্যে অজান্তে মনোনিবেশ করাতে পারেন। কেননা লেখার বিষয়গুলো বা গল্পের উপাদানগুলো উঠে আসে একদম চারপাশ থেকে। যা কষ্ট করে খুঁজে নিতে হয় না। ভালো লেগেছে গল্পের পরিবেশ দেশের শহর-গ্রাম ছেড়ে বিদেশে গিয়েও ডালপালা মেলেছে অথচ অচেনা হয়নি।

“নাহি বর্ণনার ছটা নাহি ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ,
অন্তর অতৃপ্ত রবে,সাঙ্গ শেষ করি মনে হবে,
শেষ হইয়া ও হইল ন��� শেষ”

সেই যে রবি ঠাকুর ছোটগল্পের এক সংজ্ঞা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে গেছেন তার থেকে বের হওয়া মুশকিল। অথচ আমার ভালো লেগেছে এই যে গল্পগুলো বাড়ি গেছের প্রায় বেশিরভাগ গল্পেরই নির্দিষ্ট শেষ আছে। দু-একটি বাদে শেষ পর্যন্ত কি হলো? নটে গাছটা আদৌ মুড়লো কি মুড়লোনা এই প্রশ্নটা মাথায় আসে না। এই ব্যাপারটা পাঠক হিসেবে আমাকে বেশ আরাম দিয়েছে। অবশ্য অন্য কারও তেমন নাও লাগতে পারে। তবে, মাঝে মাঝে ঠাকুরের কথার বাইরে গিয়ে অন্তর তৃপ্ত হওয়াটা ভালো। ‘গল্পগুলো বাড়ি গেছে’ এর দশটি গল্প দশ দিগন্তে পাখা মেলে উড়ুক, বাড়ি ফিরে না যাক। কারণ সব গল্পের বাড়ি ফিরতে নেই। ভিন্ন দশটি স্বাদ দশটি গল্পে উঠে আসবার প্রচেষ্টা সফল হয়ে ছড়িয়ে পরুক পাঠকমনে।

** দুষ্টু লোকরা বলবে বইয়ের উৎসর্গপত্রে আমার নাম আছে বলে ভাল ভাল কথা লিখেছি!

Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews159 followers
September 3, 2021
'বিষণ্ণ সুন্দর' বলে একটা কথা আছে। আমি বইটাকে বিষণ্ণ সুন্দর উপমা দিতে চাই। সব গল্পেই হয়তো বিষণ্ণতা, হাহাকার না থাকতে পারে। কিন্তু একটা অদ্ভুত শূন্যতা আছে আমার মনে হয়। আমি শূন্যতা উপভোগ করি, দুঃখ উপভোগ করি। আমার জন্য বইটা বেশ মনঃপূত ছিল বৈকি।
এই ছোটগল্পের বইটার নামে কোনো গল্প ভেতরে নেই। তবে তিন প্রহরে পড়ার সাতটি গল্প আছে। প্রথম প্রহরে- বোকামানুষি, আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়, ত্রিভুজের চতুষ্কোণ; দ্বিতীয় প্রহরে- মেয়েটি এসেছিলো শরতের শেষে, শেষ প্রিয়মুখ, তাহের ফিরে এসেছিল, পালট; তৃতীয় প্রহরে- হিজলবনে জোনাকি, মুনিয়া ও একজন ভালো মানুষ, এইটা তোমার কিংবা আমার গল্প। এই সুন্দর সাতটি শিরোনামে সুন্দর সাতটি গল্প আছে।
লেখিকা যখন 'একুয়া রেজিয়া' ছদ্মনামে লিখতেন, তখন তার একটা উপন্যাস পড়েছিলাম 'এই শহরে মেঘেরা একা'। তখন আমি কলেজে ছিলাম বোধহয়। সেসময় বইমেলা থেকে কেনা। শুধুমাত্র নামের জন্য। খুব ভালো লেগেছিলো তখন। প্রায় ৫-৬বছর পর এই বইটা কেনার সময় জানলাম এই মাহরীন ফেরদৌস-ই তিনি।
লেখিকা খুব সুন্দর করে বাক্য সাজিয়ে সাজিয়ে সম্পর্কের কথা, পারিপার্শ্বিকতার কথা বলতে জানেন। পড়তে ভালো লাগে। এই বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে আসলে। হয়তো খুব গভীর কোনো গল্পের টপিক এই বইতে ছিলোনা। তবে ওইযে, শূন্যতা! ছাপার কয়েকটা অক্ষরে ভেতরে শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারার দায় তো লেখকের উপরই বর্তায়।
বিষণ্ণ সুন্দর এমনি বলিনি!
পড়বেন।।
Profile Image for Nuha.
Author 9 books26 followers
February 4, 2018
একটা বাগধারা আছে না, আগে দর্শনধারী তারপর গুনবিচারী? মাহরীন ফেরদৌস ওরফে একুয়া রেজিয়ার লেখা ‘ গল্প গুলো বাড়ি গেছে’ বইটা দেখার পর আমার ঠিক সেরকম দশা হলো! এতো সুন্দর ঝকঝকে বর্ণিল প্রচ্ছদ! কেবলই ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে! এরকমটা বেশ কয়েকবারই হলো যে, বই পড়তে পড়তে থমকে গিয়ে কিছুক্ষণ প্রচ্ছদের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকলাম তারপর আবার বই পড়তে শুরু করলাম! বইটা পড়তে গিয়ে অবশ্য আমার মনে হচ্ছিলো প্যান্ডোরার বাক্স খুলে বসলাম। এক ঝাঁপি নানা বর্ণের গল্প ছুটে বেরিয়ে পড়ে নানা অনুভূতি দিয়ে বই পড়ার মুহুর্ত গুলো বর্ণিল করে তুললো যেন!

বিকেলের মৃদু ওম মাখানো আবহাওয়ায় ছোট গল্পের একটা বই নিয়ে বসতে আমার বরাবরই খুব ভালো লাগে, আর গল্প গুলো যদি হয় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের তাহলে তো কথাই নেই। সূচিপত্র দেখে প্রথমে একটু থমকে গিয়েছিলাম, এ ধরনের ভিন্নতা আগে চোখে পড়েনি, আমাদের জীবনকে যদি তিন ভাগে ভাগ করা যায় সূচনা, সায়হ্ন আর মধ্যভাগের মতোই জীবনের গল্প গুলো তিনটি বিভাগে ভাগ করা। সমসাময়িক ঘরানার দশটি ভিন্ন স্বাদের গল্প, কখনো মনকে প্রফুল্ল করে দিচ্ছিলো, কখনো জীবনের রুঢ় বাস্তবতা মনে ভীতির সঞ্চার করছিলো। একদম শুরুর গল্প ‘বোকামানুষি’। খুব পরিচিত প্লট। পাতা উল্টানোর সাথে সাথে গল্পের বাঁক এমনভাবে ঘুরে যাবে ভাবাই যায়না একদম! পুরো বইটির মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্পটির নাম ‘আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়’ যার শুরুটা পড়েই একটু থমকে গিয়েছিলাম।
“আমার জন্ম হলো দু হাজার তেরো সালে, তেইশ বছর বয়সে। কুসুম কুসুম হলুদ রঙ্গা এক বিকেলে আমি জানতে পারলাম এতোদিন আমার জন্ম ভুল ছিলো“
একটু কি হোঁচট খেলাম? জীবনের প্রতিটিদিন পার হবার পরিক্রমায় কখনো হুট করে নিজেকে আবিষ্কার করে ফেলার পর এমনই তো হবার কথা অনুভূতি তাই না?
একইভাবে বাজনা, তাহের ফিরে এসেছিলো, মুনিয়া এবং একজন ভালোমানুষের গল্প, আলাদা আলাদা প্রহরের এই গল্প গুলো আমাদের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আস্বাদ দেয়। যত্ন পাওয়া শব্দের ঠাস বুননে লেখা গল্প গুলো আরেকটু করে যেন মানুষের জীবন পড়তে পারার সুযোগ করে দেয়।
মানুষের ভালোবাসা, মানুষের একাকীত্ব, অসহায়ত্ব, মনের অব্যক্তভাব লেখক বড় যত্ন করে ফুটিয়ে তুলেছেন। পড়তে পড়তে কখনো সখনো নিজের মনের খুব গহীন থেকেই দীর্ঘশ্বাস চলে আসছিলো আহারে, আহারে! কখনো আবার ভালো লাগার একটা রেশ মন আবিষ্ট করে রাখছিলো অনেকক্ষণ। মনে হচ্ছিলো গল্পটা শেষ না হোক। গল্পটা বাড়ি না ফিরুক।

আমাদের জীবনের অনেক গুলো গল্প থাকে। অনেক রকম গল্প, অনেক বর্ণের গল্প। কখনো ভীষণ বাস্তবে চলি আমরা, ভালোবাসার ক্ষরায় ভুগি, কখনো জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াই, আবার কখনো এক মুঠো ছোট সুখ এসে আপনাতেই ধরা দেয়। কখনোবা নিজেকে হুট করে আবিষ্কার করি, নতুন রোদ এসে ছুয়ে দিয়ে যায়, নতুন করে ভাবতে শেখায়। দু মলাটের ছোট্ট পরিসরে এতো গল্পকে এত সযত্নে ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়, লেখক চমৎকার সব উপমা ব্যবহার করে বর্ণিল পৃথিবীর গল্প গুলো শুনিয়ে গেছেন আপন মুনশিয়ানায়, তাই তাকে সাধুবাদ।
অলস একটা দুপুর কিংবা একঘেয়ে রাত্রিজাগানিয়া যদি একটু অন্যরকম করতে চান আমি বলবো বইটি হাইলি রিকমেন্ডেড। আমার পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প গুলোর জন্য লেখক এবং বইটিকে ৪টি তারা!
হ্যাপী রিডিং! :D
Profile Image for Tanbeer Ahmed.
35 reviews26 followers
January 31, 2025
মাহরীন ফেরদৌসের লেখার সাথে পরিচয় এই বই দিয়ে৷ এক প্রকার বিষণ্ণতা নিয়েই শেষ করলাম। ভবিষ্যতে আবারও তার লেখনীতে মুগ্ধ হবার আশা রাখছি।
Profile Image for Shahriar  Fahmid.
113 reviews14 followers
April 4, 2023
গল্পগ্রন্থ বেশি পড়া হয় না তবে যতগুলো পড়েছি সেগুলোর মধ্যে ❝গল্পগুলো বাড়ি গেছে❞ কে আমি অবশ্যই প্রথম কাতারে রাখবো।
Profile Image for Shimin Mushsharat.
Author 1 book371 followers
August 9, 2018
Stunning! At first try, I thought this book was far-fetched. Then I started it again yesterday and it didn't feel fabricated at all! Call me naive but I have a hard time letting go of my belief on humanity. There are some gruesome and horrifying acts in the stories along with sad yet hopeful ones. I admire the author for bringing out so many emotions and states of minds so eloquently. Will try her other works.
Profile Image for Aditee.
90 reviews21 followers
February 17, 2023
গুডরিডস-এর প্রতি আজন্ম কৃতজ্ঞ থাকবো ইমতিয়ার শামীম'কে চিনানোর জন্য।
এবং এখন থেকে কৃতজ্ঞ থাকব�� মাহরীন ফেরদৌস'কেও চিনানোর জন্য! এই লেখক, ওই লেখকের লেখা ভালোলাগা এক,
আর হঠাৎ হঠাৎ দু'একজন লেখকের লেখা নিজের পার্সোন্যালিটির সাথে মির‍্যাকুল্যাসলি এমনভাবে ক্লিক করে যাওয়া- অভূতপূর্ব এক ধরণের অভিজ্ঞতা!
Profile Image for Mahjabin Meem.
220 reviews120 followers
March 1, 2018
৪.৫ তার���।
বইটি যেন একরাশ স্নিগ্ধ শিউলি ফুলের ছোয়া। মাহরীন ফেরদৌসের চৌকস ও সাবলীল লেখনীতে প্রতিটি গল্প হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। প্রিয় গল্প ছিল নিঃসন্দেহে "এইটা তোমার কিংবা আমার গল্প"।
যারা বাংলা সাহিত্যের জলে পা ভেজাতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আদর্শ এই ছোটগল্প সমগ্রটি। আধুনিক নগর জীবন ও প্রবাসজীবনের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু সমসাময়িক বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত সুন্দরভাবে। কিছু গল্পে ছিল ম্যাজিকার রিয়েলিজমের ছোয়া। একটু ঘোর লাগা, একটু নেশা লাগানো গল্পগুলো কেবলই ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার ভেতর। হাইলি রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Amanna Nawshin.
191 reviews57 followers
February 17, 2023
রেটিং - ৪.৫/৫

আমি সম্ভবত সবার শেষে এই বইটা পড়লাম। বইটার নাম কি সুন্দর! বই এর নাম পড়েই এই বইটা পড়ার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু আর পড়া হয়ে ওঠেনি। বাকিদের পড়া শেষে যখন পড়লাম তখন রিভিউ দেওয়ার আর কিছু নেই। তবে পাঠ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যাই।

বই এর নামকরণ যেমন সুন্দর, তেমনি সুন্দর বই এর প্রচ্ছদ! নাম আর প্রচ্ছদে মিলিয়ে কেমন একটা মায়ামায়া ভাব।

এই বই এ গল্প আছে মোট দশটা। আর প্রতিটা গল্পই সুন্দর। জীবনের কঠিন সব বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে বাস্তব আর অবাস্তব মিশেলে রচিত হয়েছে গল্পগুলো। সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কেটে গিয়েছে 'ত্রিভুজের চতুষ্কোণ' গল্পটা। অনেক সময় এমন হয় যে ছুঁড়ি দিয়ে আঙ্গুলে হয়তো ছোট্ট একটা পোঁচ লেগেছে কিন্তু পরক্ষনেই গলগল করে বেরিয়ে আসে রক্ত। ওই গল্পটা পড়ার পর আমার অনুভূতি ঠিক অমনই।

বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে শেষ তিনটা গল্প। খুব নিষ্ঠুর কিছু সত্যকে লেখিকা এতো সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন যে তাকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারছি না।

'মেয়েটি এসেছিল শরতের শেষে' গল্পটা খুব ভালোলাগার একটা অনুভূতি এনে দেয়। সত্যি কথা বলতে কি কম বেশি সবগুলো গল্পই ভালো লেগেছে। প্রতিটা গল্পের প্লট সুন্দর, পরিনতিও সুন্দর।

লেখিকার লেখনী একটু বেশিই সুন্দর। সহজ সাবলীল উপস্থাপন। এই বইএর গল্পগুলো এক অর্থে খুব দুঃখভরাক্রান্ত কিন্তু লিখনশৈলীর গুনে ইমোশনটা ঠিক বের হয়ে আসে না, বুকের ভেতরের এক ধরণের হাহাকারসম অনুভূতি সৃষ্টি করে ঘুরপাক খেতে থাকে।

আগের দিন হলে এই বই এক বসায় শেষ করতাম, এখন দিন বদলে গেছে। পড়তে ভালো লাগলেও কিছুই টানা পড়া যায় না। গল্পের সুন্দর প্লট আর সহজ সুন্দর লেখা, পাঠক হিসেবে একটা বই এর কাছে এর চেয়ে বেশি কিছুই আমার চাওয়ার নেই। সুন্দর গল্পগুলো বাড়ি গিয়েও যেনো বারবার ফিরে আসে পাঠকের মনে।

পুনশ্চ, জানি না এই বইটা এখনো প্রকাশিত হয় কি না! আমার মতো যদি কেউ এই বইটা মিস করে যান তবে পড়ে ফেলার জন্য অনুরোধ রইল। আমি কিনেছি বইটই অ্যাপ থেকে। রকমারিতেও হয়তো পাওয়া যাবে।

শুভকামনা লেখিকার জন্য। শুভকামনা পাঠকদের জন্য।
Profile Image for Tawheeda Rufah Nilima.
294 reviews58 followers
May 26, 2021
বইটা পড়ে শেষ করেছি বেশিক্ষণ হয়নি। কিছু কথা বলবো ভেবে এসেছি। ঠিকঠাক বলতে পারবো কিনা জানিনা। তাও আমি এখনই লিখে ফেলতে চাই। কারণ এখন না লিখলে আর লিখতে পারবো না। হয়ে উঠবে না।

ফিরে যাই সেখানে যেখান থেকে শুরু করেছিলাম। "গল্পগুলো বাড়ি গেছে"। এতো সুন্দর কেনো এই বইটার নাম? আপনাদের গল্পরা কি বাড়ি যায়? আসলে যাক, গল্পগুলো বাড়ি যাক। যাওয়া দরকার।

বইটার ফ্ল্যাপের লেখাটুকু-
"গল্প লিখতে পারার যন্ত্রণাটুকু কখনো কখনো গল্প না লিখতে পারার কষ্টকে ছাপিয়ে চলে যায়। জীবনের অযাচিত আর অবিরত ভাঙ্গাগড়ায় আন্দোলিত হয় শব্দ। আর তখন তার প্রতিচ্ছবি ঘিরে জমে ওঠা অনুভূতিগুলো চলে যায় অচিনপুর। মধ্যরাতে মন খারাপগুলো যেমন অস্পষ্টতায়ও ধরা দেয় অনায়াসে, তেমনি রোদ জ্বলজ্বলে দুপুরের পিচগলা অনুভূতিও মনে বাসা বাঁধে ঘুণপোকার মত। লিখতে লিখতে শব্দগুলো একসময় বড়ো হয়। মুঠোয় ধরে রাখা আকাশ চিনে। বিস্মৃত স্বপ্ন চেনে, অভিমানী বাস্তবতার সাথে আকাশকুসুম কল্পনার মিশেলে তারা তৈরি করে অগুনতি গল্প। সেই গল্পগুলো বুনোফুলের মতো হঠাৎ হঠাৎ আমাদের কারো জীবনে চলে আসে হুট করেই। আমরা যারা অজানা সময়ের প্রতীক্ষায় জ্যোৎস্না গুনি, আকাশ খুঁজে মেঘের ভেতর ছবি আঁকি, রোদ বাঁচিয়ে হাতের আড়ালে বৃষ্টি জমাই, কোন না কোন গল্প ফিরে আসার অপেক্ষায়, আমরা কি তখন ভাবি, নিয়তির মত গল্পকেও চাইলে বদলে ফেলা যায় না?
বরং, ঘাসফুলের ছোট্ট অভিমানী ফুলের মত গল্পরা ফিরে আসে না, গন্তব্য খুঁজে নিয়ে গল্পগুলো শুধুই বাড়ি যায়…
গল্পগুলো বাড়ি গেছে…"

কতোগুলো ছোটগল্পের সমাহার। প্রতিটা গল্প ভালো। বিষন্ন। কি বলবো আমি। একটা গল্প পড়েছি, তারপর আমি একটু সময় নিয়েছি। একটু সময় বলতে একটুখানি। কিন্তু ওই একটুখানি বিরতির দরকার ছিলো। বিরতির পর আবার অন্য একটা গল্প পড়েছি। মাহরীন আপুর শব্দ গাঁথার ধরণ এতো অদ্ভুত সুন্দর। মুগ্ধতায় আটকে যাই। হতভম্ব হয়ে থাকি যে কিভাবে কেউ এতো সুন্দর করে শব্দ বুনতে পারে?

উদাহরণ দিচ্ছি কয়েকটা -
"কালো আকাশে বকপাখির মতো বিচ্ছিন্ন কিছু সাদা মেঘ", "একইসঙ্গে মনের কোথায় যেন ছিল এক টুকরো মেঘের বিষন্নতা", "তোমাকে একই সঙ্গে একটি নতুন গল্পের মতো অপরিচিত আর নিজের স্মৃতির মতো আপন লাগছিল। কল্পনা আর বাস্তবতার সূক্ষ্ম সীমারেখার মাঝে দোল খাচ্ছিল সুখ-বাকশো"।

"গল্পগুলো বাড়ি গেছে" একটি ভালো বই। প্রিয় মাহরীন আপু, আমার ভালোবাসা জানবেন।
Profile Image for Mir Mohammad.
13 reviews27 followers
April 29, 2018
লেখিকার আগের লিখাগুলোর সাথে এই বইয়ের ছোটগুল্পগুলির বেশ পার্থক্য আছে। বিদেশে থেকে লেখিকার চিন্তাধারায় হয়তো বেশ পরিবর্তন এসেছে তার ছাপ লিখায় দৃশ্যমান।
তাঁর গল্পের চেয়ে গল্প বর্ণনা আমার কাছে অসাধারণ লাগে।
Profile Image for Mehnaz Fatema.
51 reviews1 follower
February 11, 2021

বইয়ের দশটা গল্পের মাঝে সাত কী আটটা গল্প পড়েই মনে পাহাড় সমান বড় বড় কালো মেঘ জমাট বাধতে শুরু করে। আর বাকি গল্প? ঠোঁটের কোণায় একটা বক্ররেখার ছাপ ফেলে যায়।
এমনিতেই আমি সেই মানুষগুলোর দলে যারা আজও, হোক গল্প পড়ে, হোক সিনেমা দেখে কিছু আবেগ প্রাণেপ্রণে চোখের কোণেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করে, আবার একটু হাসির খোরাক পেলেই একগাল হেসে নেয়। মানুষের জীবনে আসলেও এমন অনেক হাসি কান্নার গল্প আসে একইসাথে। কিছু কিছু গল্প হঠাৎ করেই আপন লাগে, তখন আবেগটাও পরিচিত মনে হয়। কিছু কষ্ট মেঘ হয়ে জমা থেকেই যায়, যে মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে না। আর কিছু আনন্দ রোদ হয়ে রয়ে যায়, যে রোদ কখনো মেঘের আড়ালে যায় না। এই মেঘ আর রোদ যখন একি মানুষের আকাশে পাশাপাশি অবস্থান করে হয়ত তখনই অভিমানী বাস্তবতার সাথে আকাশ কুসুম কল্পনারা মিলেমিশে সৃষ্টি করে গন্তব্য খুঁজে পাওয়া এক একটি গল্পের! যারা নিজ নিজ ঠিকানায় ফিরে যায়!
এক একটা চরিত্র অনুভব করার চেষ্টায় নিজেকে স��ই চরিত্রে বসাতে যখনই চেষ্টা করি তখনই যেন বায়স্কোপে দেখার মতো জীবন্ত কিছু ঘটনা চোখের সামনে দেখা হয়ে যায়। যেমনটা আমি দেখতে পাই শান্তার অসহায়ত্ব, শুনতে পাই ভাইয়ের কাছে শান্তার না বলা কাকুতি মিনতি, মামার পঁচে যাওয়া হাত থেকে ছুটে আসার ব্যর্থ চেষ্টা, বুঝতে পারি শান্তার চাপা রাগ, যখন আপনজনেরাই "বাজারে মেয়ে"র ট্যাগ ঝুলিয়ে দেয় গলায়! "বোকামানুষি" গল্পের আত্নহত্যা করা বোকা মেয়েটি ��রে গিয়েই বেঁচে গিয়েছিল, হয়ত বেছে নিয়েছিল সব'চে চালাকির পথটা। তাই তো যখন শান্তা কুকুরের মতো নিজের হাত পা টেনে খাটের নিচে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি ওর মুখের সেই বোবা হাসিটাও শুনতে পেয়েছিলাম যা কিনা এতটাই তীব্র যে ওর মামা আর ভাইয়ের মতো মানুষকেও "ভীত" করেছিল!
"আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়", মনের ভেতর সম্পূর্ন ভিন্ন জগৎ সৃষ্টি করা এই গল্পটার একদম শুরুর "আমার জন্ম হলো দুহাজার তের সালে। তেইশ বছর বয়সে" বাক্যটা পড়েই ঠোঁটের কোণায় সেই বক্ররেখা অনুভব করি আমি। কারণ টিন এইজে পছন্দ, ভালো লাগা, মোহ আর ভালোবাসার পার্থ্যক ক'জনই বা করতে পারে! প্রকৃত বুঝ টা আসে কারো তেইশ কারো পঁচিশে! তবে হাসিটা আমার মলিন হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। কারণ শেষ বাক্যে লেখক বলেছেন দুহাজার তের সালেই মৃত্যু! হতে পারে এই মৃত্যু আত্নহত্যা, হতে পারে প্রতিনিয়ত নতুন করে জেগে উঠা স্বপ্নগুলোকে মেরে ফেলা, পুরানোকে আগলে রাখার চেষ্টায়! তবে আমি ভাবতে এই মৃত্যু পুরানো স্মৃতির, নতুনের আশায়, নতুনের জন্য, কারণ মানুষ একবারই জন্মায়। আর সেটা যে বয়সেই হোক না কেন, বেঁচে থাকার মতো বেঁচে থাকাটাই জরুরী!
"ত্রিভুজের চতুষ্কোণ" হতে পারে পাঠকের জন্য ডার্ক একটা গল্প। একটা কোল্ড মার্ডারারের গল্প , একজন কদাকার দানবের গল্প কেনই বা ডার্ক হবে না! কিন্তু যদি একটু ভিন্নভাবে ভাবা যায়?! এইটা একটা রক্ত মাংসে গড়া মানুষেরও তো গল্প, যখন রাতের পর রাত সে ঘুমাতে পারে না, কিছু বাচ্চার কান্নার শব্দ তাকে তাড়া করে বেড়ায়! কিছু অনুশোচনা কিছু কষ্ট যা কিনা তার জীবনের একান্ত সত্য, যেখানে কোন মিথ্যার প্রলেপ নেই! এমন একটা মানুষের জীবন নিয়ে যদিও আমাদের ভাবনার সময় হয়ে উঠে না, তারপরও যদি কেউ এম্পাথিক হয়ে ভাবতে চায়, গল্পটা তাদের জন্যই!
এই তিনটা ভিন্ন জগতের গল্প স্থান পেয়েছে সূচিপত্রের "প্রথম প্রহরে"। "গল্পগুলো বাড়ি গেছে" বইতে আছে আরও দুইটা প্রহর যেখানে লুকোচুরি খেলছে আমাদের বয়সী কিছু ছেলের কিংবা মেয়ের গল্প; কথা বলছে ধর্মের নামে ঘটে যাওয়া কুৎসিত কিছু মুহূর্ত; ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে একাকিত্ব, বয়স আর দায়িত্ববোধের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার অসংখ্য ছোট ছোট স্বপ্ন, যারা আজও মাঝে মাঝে নতুন করে বাঁচতে চায়! যে গল্পগুলো আসলেই ঘাসফুলের অভমানী ছোট ছোট ফুলের মতো অবহেলায় বেঁচে থাকে, যাদের দেখার, জানার বা শোনার সময় হয় না কারো। যে গল্পগুলো কে শুধু এক মাহরীন ফেরদৌসই পারেন ভাষা দিতে।এক মাহরীন ফেরদৌস যার লেখা পড়লে আমার অষাঢ় লাগে। আমার মাঝে অনেক ধরণের অনুভূতি একসাথে কাজ করে। মন ভারি হয়ে আসতে চায়। ইচ্ছা হয় কিছু অলৌকিক শক্তি সঞ্চয় করে সবার দুঃখ মুছে ফেলতে। কিন্তু শুধুই একজন সাধারণ মানুষের মতো রিভিউ লিখে মুখবইতে পোস্ট করে পাঁচ ছয়েক লাইক আর একটা দুটা কমেন্ট পাওয়া ছাড়া কিছুই করবার যোগ্যতা বা সামর্থ্য আমার থাকে না!

লেখকঃ মাহরীন ফেরদৌস
রেটিংঃ ৫/৫
93 reviews18 followers
February 27, 2019
ছোট ছোট কথায়, বাক্যে সুন্দর গল্পগুলো। যেহেতু মহিলা লেখক, তাই মেয়েদের দিক থেকে লেখা। একটু অন্যরকম লাগবেই। কিন্তু নারীদের অনুভুতিই ত দেখতে হবে। সব ত আর তামিল সিনেমা না। "দোলনায় বসে আমি দু পা নাচাচ্ছি। এই আগাচ্ছি, এই পিছাচ্ছি,এই ত আবার শুন্যে ভাসছি"
মেয়েটি এসেছিল শরতের শেষে। ভালো লেগেছে ব্যচেলর বলে কিনা। পরি পরি ই ই। পরীর স্বপ্ন সবার থাকে। কিন্তু পরীর ও ত স্বপ্ন আছে। সেই আক্ষেপে অদিকে তাকাই না। "দীর্ঘ দিনের অভ্যাস, জড়তা, দুর থেকেই তাকিয়ে থাকা কিংবা অনড় হয়ে যাওয়া বোধগুলো থামিয়ে দেয়"
পালট গল্পটাও সুন্দর। আলেয়ার মনেও যে সিনেমার রুপালি পর্দার মত বিশাল এক পর্দা আছে। সেই পর্দায় আলেয়ার কত আবেগ, কত স্বপ্ন, কত সুর কত গান। সে বুঝার কারো সময় নেই।
নারী পাঠিকদের অবশ্যই ভালো লাগবে
Profile Image for Satyajit Roy.
4 reviews2 followers
February 21, 2018
প্রিয় পাংখা আপু,
সেদিন বইমেলায় দীর্ঘদিন বাদে দেখা হওয়ার পর তোমার অনেক কেন এর উত্তর দিতে পারি নাই। তখন মনে হচ্ছিল আবার কেন শোনার আগেই পালাই! তারপর ঘরে ফিরে তোমার বইয়ের ফ্ল্যাপ এর লেখার পড়ে মনে হলো যাক, কেন এর একটা ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর খুঁজে পাওয়া গেলো। উত্তর হচ্ছে, অভিমানী বাস্তবতার সাথে আকাশ কুসুম কল্পনার মিশেলে তৈরি একটা গল্প বুনো ফুলের মতো আমার জীবনে চলে এসেছিল হুট করেই। তাই একদম ডুব দেওয়া! হারানো!
'গল্পগুলো বাড়ি গেছে' বইটি হাতে নিয়ে প্রথম যে ব্যাপারটা ভাল লেগেছে তা হলো, তুমি লেখিকা মাহরীন ফেরদৌস হয়ে এসেছো। সুচিপত্র দেখে পাঠক হিসেবে বেশ অন্যরকম মনে হয়েছে শুরুতে, ভেবেছিলাম সময় কিংবা গল্পের প্লট অথবা গল্পের ধরন নিয়ে সাজানো পুরা বই। তবে গল্প পড়া শেষ করে মনে হলো এই রহস্য তোমার কাছ থেকেই কোন এক আড্ডায় জেনে নিতে হবে।
তিন প্রহরের মধ্যে শেষ প্রহর আমার কাছে খুব চমৎকার লেগেছে। 'বোকামানুষি' গল্পটা আগেই পড়া ছিল। মনু নামের চরিত্রটিকে আরও বেশি বর্ণনামূলক করতে পারলে হয়তো গল্পের ইমোশনের সাথে পাঠক কে আরও সম্পর্কিত করা যেতো।
'আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়' গল্পটি ছিমছাম সুন্দর। অনেকটা বুড়ো অঞ্জন দত্তের মতো সহজ গানের সুরে কঠিন কোন ফিলসফি কপচানোর মতো! ♪ আমি জানি তুমি কোথায় যাও রোজ রাত্তিরে, ঘুমের ভেতর মনের ঘোরে। আমি দেখে ফেলেছি তোমার মনের ভেতরটাও, আমি জানি তুমি কে!♪
'ত্রিভুজের চতুষ্কোণ' গল্পটি সবচেয়ে বড় গল্প এবং অনেক ঘটনাবহুল। এই গল্পে লেখিকা হিসেবে তোমার ক্রেডিট হলো, যখনই বর্ণনা পড়তে পড়তে পাঠকের মনযোগ একটু হালকা হবার সুযোগ তৈরি হবে তখনি তুমি ঘটনার মোড় ঘুরিয়েছো।
'মেয়েটি এসেছিল শরতের শেষে' এবং 'শেষ প্রিয়মুখ' গল্পদুটো মোটামুটি লেগেছে। এই গল্পদুটি বইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রেখে লেখিকা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছো।
'তাহের ফিরে এসেছিল' গল্পটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। একটা রহস্যময় চরিত্র, অনেকগুলো ঘটনা, সবগুলোকেই আবার এক সুতোই গাঁথার চেস্টা, তারপর আবার রহস্য! অনেক জটিল কিছু আবার অনেক সহজ।
'পালট' গল্পটা সাধারণ কিন্তু সুন্দর! প্রতিটা বইতেই একটা/দুইটা করে বাক্য থাকে, যেটা পড়লে মনে হয় এই বাক্য ই আপাতত শ্রেষ্ঠ! এই ধরণের বাক্যকে আমি প্যানডোরা'স বাক্য বলি। পালট গল্পের শেষ লাইনটুকুর অনুভুতি অনেকটাই এমন। আসলেই 'ফিরে যাওয়ার চেয়ে বুঝি চলে যাওয়া অনেক সহজ...'
'হিজলবনে জোনাকি' এই বইয়ের সেরা গল্প। একদম মুগ্ধপাঠ! খুব আটসাঁট একটা গল্প। চমৎকার বিবরণ। এক স্মৃতি থেকে আরেক স্মৃতির বর্ণনায় প্রবেশ খুব মার্জিত আর আগেরটার সাথে সম্পর্কিত। তাই পাঠক হিসেবে পড়তে খুবই আরাম লাগে। স্মৃতির অলিগলি ঘুরে হুট করে একটা টুইস্ট দিয়ে খুব শক্তিশালী একটা মেসেজ দিয়ে শেষ করা। সব, সব পারফেক্ট।
'মুনিয়া এবং একজন ভাল মানুষ' গল্পটির থিম একদম অন্যরকম। দশ থেকে এক গোনার সময় ফ্ল্যাশব্যাক আর তার সাথে ঘটনার সংযোগ ঘটানোর ভাবনাটা বেশ দারুণ!
'এইটা তোমার কিংবা আমার গল্প' নিয়ে বরং পাঠকীয় কোন মন্তব্যে না যাই। শুধু শেয়ার করি, এই গল্পটা পড়া শেষ করে বাতি নিভিয়ে অঞ্জন দত্তের 'একদিন বৃষ্টিতে' গানটা শুনতে শুনতে.....

এর আগেও হয়তো শেয়ার করসি পার্সোনালি কিংবা কোন আড্ডায়, তোমার উপন্যাস এর চেয়ে ছোট গল্পগুলো আমার বেশি ভাল লাগে। তাই হয়তো এতো বিশাল করে লেখা! আ��া করি আরও বিশাল করে রিভিউ লেখার মতো অনেক গল্প তুমি লিখবে। ভাল থাইকো, সবুজ থাইকো :) :) :)
Profile Image for Fahmida.
10 reviews3 followers
February 24, 2019
A collection of short stories. Few give me the feeling ' শেষ হইয়াও হয়লো না শেষ ' few made me so emotional. Though I used to read her blogs and published short stories in Facebook groups. And always loved her writing style, I didn't expect the emotions I'm feeling right now after reading this book. Looking forward to reading her more.. Best wishes..
Displaying 1 - 19 of 19 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.