সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করে যে তরুণ মুক্তচিন্তকেরা সাহিত্য সৃজন শুরু করেছেন, তাঁদের লেখার একটা সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য আছে। সেটা কী বলুন তো? তাঁরা জানেন, বা ভাবেন, যে পাঠকের হাতে তাঁর লেখা পড়ার জন্য ব্যয় করার মতো সময় বড়ো কম। তাই তাঁরা পাঠক নামক দীঘির জলে ডুব না দিয়ে ব্যাংবাজি করেই খেলা থামান। ব্যতিক্রম আছে। অনেক সাহিত্যিক এমন ঘরানাতেই লেখেন যা অমন সংক্ষিপ্ত-অথচ-নির্ভুল স্ক্যাল্পেল সঞ্চালনই দাবি করে। কিন্তু আলোচ্য সংকলনে নবীন লেখকের মধ্যে এই তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারটা প্রকট হয়েছে প্রায় সবক'টি লেখাতেই। বইটিতে মোট ছ'টি লেখা আছে। এদের মধ্যে "স্বপন যখন মধুর (?) এমন!", "বিজয়িনী", এবং "অরেলিয়া তুমিও?" নার্সিসিস্টিক দুঃখবিলাস ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু তিনটি লেখা এই সংকলনকে বিশিষ্ট করে তুলেছে।
"অচেনা জন্মদিন"-এর শেষ মোচড়টা অনুমেয় ঠেকলেও তাতে যে তীব্র বেদনা আর দুঃখ প্রকাশ পেয়েছে, তা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে মিথিলের হাতে লেখা আছে। তবে সেজন্য বাজে সেন্টিমেন্টের বদলে কেন্দ্রীয় চরিত্রটির প্রতি এমপ্যাথি দেখাতে হয়, যা তিনি দেখিয়েছেন এই গল্পে।
"অতীত পিয়াসি" একটি সযত্নলালিত আকাশকুসুম। এতে যুক্তির ফেব্রিকে অজস্র ফাঁক আছে, যারা উদ্দিষ্ট সুপারন্যাচারাল কাহিনি হিসেবে এটিকে হাস্যকর করে তুলেছে। কিন্তু গল্পটিকে যদি একটি সাইকোসেক্সুয়াল ডিলিউসন হিসেবে পড়েন, তাহলে এটির মধ্যে একাধিক স্তর ও অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। আশা করি, লেখক সেই অর্থটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
"প্রতিবিম্ব যখন আমি" এই সংকলনের সবচেয়ে বড়ো, এবং একমাত্র সার্থক গল্প। আপাত অতিলৌকিক এক মাধ্যম ব্যবহার করে এই কাহিনিতে লেখক আমাদের সবার সামনেই একটা কালো আয়না তুলে ধরতে চেয়েছেন, যেটাতে আমাদের সবার মধ্যে লুকিয়ে থাকা মিস্টার হাইড দখল নেয় আমাদের শরীর ও মনের।
এই সংকলন প্রমাণ করছে যে মিথিল ভট্টাচার্য চাইলে অতি চমৎকার গল্প লিখতে পারেন। তাঁর কাছে আমার অনুরোধ, বড়ো স্কেলে লিখতে দ্বিধা বোধ করবেন না। গল্প, বিশেষত মানবমনের আঁধার নিয়ে লেখা গল্প আরেকটু বড়ো ক্যানভাস দাবি করে। বেশি ছোটো করতে গেলে শুধু সস্তা ট্যুইস্ট পড়ে থাকবে, গল্প আর থাকবে না।
পাঠকেরা সুযোগ পেলে এই গল্পগুলো পড়ুন। অন্যরকম গল্প বলার এই সচেতন প্রয়াস নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য।