Jump to ratings and reviews
Rate this book

অলোকপুরীর ডাক

Rate this book
জীবনের নঁকশী কাঁথায় থাকে হরেক রকম গল্প, হরেক রঙের বুনন। সেই হরেক রঙকে নিজের লেখায় বর্ণে বর্ণে ধারণ করতে লেখকের প্রচেষ্টা ছিল অবিরত। মানব সম্পর্কের নিঁখুত আঁকিয়ে হতে লেখকের চেষ্টা ছিল প্রাণান্তকর। আর এরসাথে প্রকৃতির সৌন্দর্যের আভা ঠিকঠাক অক্ষরে আনতে বদ্ধপরিকর। তাই এই বইয়ের গল্পগুলির অক্ষরে অক্ষরে লেখকের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, চিরায়ত মানব সম্পর্কের রূপের সাথে প্রকৃতির রূপের বিভিন্নতা এসেছে একসাথে। গল্পগুচ্ছের কোন গল্পের বিষয় হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ আবার কখনো একাকী বীরাঙ্গনার জীবন। কোন গল্পে জীবনে একান্ত নিজের চাওয়ার প্রাধান্যে ধূসর রঙের ছলছাপ আবার অটিজমকে জয় করতে এক যোদ্ধা মায়ের গল্প। আবার কোনোটা নিমফুলের শুভ্রতা আর শুভ্রাংশুর রূপালী মায়া জীবনে জড়াতে আকুল এক মেয়ের গল্প। আর প্রতিটা গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে আটপৌরে জীবন ছাপিয়ে অন্য এক আলোকিত ভুবনের প্রতি এগিয়ে যাবার অনড় সংকল্প। সেই অলোকপুরীর ডাক, যা চরিত্রগুলোকে যুগিয়ে গেছে জীবন জয়ের মন্ত্র, শিখিয়ে গেছে মুহূর্তই জীবন আর জীবন মুহূর্তের এক অসম্পাদিত রূপ।

Hardcover

First published February 2, 2018

8 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (33%)
4 stars
1 (33%)
3 stars
1 (33%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Nuha.
Author 9 books26 followers
February 12, 2018
ছুটির দিন বিকেলটা খুব সুন্দর, তাই না? মায়ের আদরের মত ওম জড়ানো রোদে এক কাপ চায়ের সাথে একটা পড়ন্ত বিকেল আর জীবনানন্দের কবিতার মত সুন্দর একটা বই। এর থেকে সুন্দর কিছু আপাতত মাথায় আসছেনা। অলোকপুরীর ডাক পড়ার অভিজ্ঞতাটা আমার জন্য সেরকম সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা ছিলো। একটু ভেঙ্গে বলি ব্যাপারটা কেমন?

প্রতিটি মানুষের লেখার ধাঁচ আলাদা হয়। এরকমটাই হবার কথা। কিন্তু আমাদের একজন হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন, তার লেখার যাদুর প্রভাবে একটা বিস্ময়কর ব্যাপার আমাদের দেশের নবীন লেখকদের মধ্যে চলে এলো, যা-ই পড়তে যাই, ভদ্রলোকের প্রভাব সেখানে ঘাপটি মেরে বসে থাকেন। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত এই জায়গাটা থেকে বের হয়ে এসে নিজের একটা ইমেজ দাঁড় করানো বর্তমান সময়ের লেখকদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। স্মৃতি ভদ্র এই ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল হয়েছেন।

অলোকপুরীর ডাক গল্প সঙ্কলনটি স্থান পেয়েছে দশটি গল্প। গল্প গুলোর নাম করণে চমৎকার কাব্যিকতা ছিলো, একই শৈল্পিক ছোঁয়া পাই গল্প গুলো পড়তে গেলে। তৃতীয় পুরুষে লেখা গল্প গুলোর কিছু ছিলো কন্টেম্পোরারি ঘরানার শহুরে গল্প, কোথাও গ্রামীন পটভূমি, কোথাও মফস্বলের মৃদু সুবাস ছড়ানো আর কিছু গল্প মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের। লেখকের যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হলো অলংকরণ। গল্প পড়তে পড়তে চোখের সামনে এই চবি ভেসে উঠলে বলতে হবে লেখক স্বার্থক হয়েছেন। জল জ্যোৎস্না গল্পটা পড়ার শুরু দিকে আমার মনে হলো আমার দাদীর গল্প পড়ছি, তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন এভাবেই সারাবছর আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেন, তার দিনলিপি এমনটাই ছিলো। তার নিজের গল্পটা হয়তো এমনই ছিলো। শেষের দিকে গল্পের বাঁক এভাবে মোড় ঘুরবে আমি ভাবতেই পারিনি! জলরং ছবি পড়তে যেয়ে ছোট্ট বুবুনের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেলাম, গল্প আরেকটু এগুতেই বুঝলাম, বুবুন আর আমার গল্পটা আসলে কোনভাবেই এক নয়! পুরো সঙ্কলনে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে বেহাগ গল্পটি। এতো সুন্দর! এতো নান্দনিক! ঝুম বৃষ্টির আগে একটা সোঁদা গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকে না? ইংরেজিতে একে বলে Petrichor, এই সঙ্কলনের নিমফুল গল্পটা পড়ে আমি সেই সোঁদা ঘ্রাণের ভালো লাগাটুকু পেলাম। একইভাবে শ্যাওলা জীবন, মাটির মায়া, সুর্যসন্তান গল্প গুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিটা গল্পই দূর্দান্ত! লেখকের শব্দ চয়ন, বিন্যাস, বাক্য সাজানো সবকিছুতেই তার সুরূচির ছাপ স্পষ্ট, এই বইটি আসলে মুগ্ধতার আরেক নাম বলতেঈ হবে! লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা! হ্যাপি রিডিং! ^_^
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.