What do you think?


শীতপাখিরা
অভিবাসী মানুষ ঠাঁই খুঁজে ফেরে। আক্ষরিক অর্থে যত না, এক ব্যাখ্যাতীত মনােজাগতিক ঠাঁই-এর খোঁজই যেন চলে বিরামহীন। অচেনা, বৈরী পরিবেশ আর বিচিত্র পিছুটানে সে প্রতিনিয়ত নিজেকেই খুঁটিয়ে দেখে। দেখতে গিয়ে নিজেকে যেমন সে মুহুর্মুহু আবিষ্কার করে, তেমনি তার আনন্দ-বেদনা-ক্ষোভ-হতাশ-সাফল্যে ছলকে ওঠে পরিপার্শ্বের জগত ও জীবন। এ কাহিনীর মানুষেরা তাদের নিজ নিজ স্বতন্ত্র সঞ্চালক হয়েও এক বহুস্তর যৌথ জীবনের ভাগিদার। ওয়াসি আহমেদ নিচু, ঠাণ্ডা চোখে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন, শুনিয়েছেন সেই এক ও অনেক জীবনগাথা।
136 pages, Hardcover
First published February 1, 2011
About the author
Wasi Ahmed
27 books24 followersওয়াসি আহমেদের জন্ম ১৯৫৪ সালে, সিলেট শহরের নাইওরপুলে। স্কুলের পাঠ বৃহত্তর সিলেটের নানা জায়গায়। পরবর্তী শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু। ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘শবযাত্রী স্বজন’। কথাসাহিত্যে, বিশেষত গল্পে, মনোনিবেশ আশির দশকে। প্রথম গল্প সংকলন ‘ছায়াদণ্ডি ও অন্যান্য’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। পুস্তকাকারে প্রথম উপন্যাস ‘মেঘপাহাড়’ প্রকাশ পায় ২০০০ সালে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনসহ কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা অঙ্গনে। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সব প্রধান সাহিত্য পুরস্কার।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
November 8, 2022
ইউরোপ আমেরিকার নাম ভেসে উঠলেই বাংলাদেশের মানুষ যা দ্যাখে তা হচ্ছে টাকা। বেশিরভাগ বাংলাদেশির কাছে ওইসব মহাদেশ হচ্ছে স্বপ্ন। কেউ পাশ্চাত্য দেশের ভিসা পেলেই লোকজন তার দিকে ঈর্ষার চোখে তাকায়( লোকটা জীবিত অবস্থাতেই স্বর্গের টিকিট পেয়ে গেছে আর কি!) বাস্তবতা কি তাই বলে? "স্বর্গে" যাওয়া লোকজন আদতেই কি স্বর্গসুখে দিন কাটায় সেখানে? উত্তরটা হচ্ছে, "না।"প্রবাসজীবনের দুঃসহ ও মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছেন ওয়াসি আহমেদ তার "শীতপাখিরা" উপন্যাসে।ঠাণ্ডা ও নিচু গদ্যে লেখা এ উপাখ্যান বুকে কাঁপন ধরিয়ে দ্যায়। ভালো থাকুক শীতপাখিরা!
December 11, 2025
ছোটবেলায় বইতে অতিথি পাখির কথা পড়েছিলাম। ওরা নাকি সাইবেরিয়া থেকে এদেশে আসে। সাইবেরিয়া যে কোথায় তা তখনো জানতাম না, শুধু ধারণা করতাম বহুদূরের কোনো শীতল কোনো অঞ্চল হবে। পরবর্তীতে সাইবেরিয়া সম্পর্কে জানা হলো, এটাও জানলাম সাইবেরিয়া ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের পাখিরাও পরিযায়ী হয়। ওদের দীর্ঘ যাত্রাপথ সম্পর্কে জেনে আরো খারাপ লেগে গেল। পথেই মারা পড়ে অনেকে, এদিকে এসেও তো নিস্তার নেই। মাঝেমধ্যেই শিকারে পরিণত হতে হয়। তবু এতোকিছুর পর ওরা আসে, প্রতিবছরই আসে।
ওয়াসি আহমেদ অভিবাসীদের তুলনা করেছেন শীতপাখিদের সাথে। যারা একটু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য পাড়ি জমায় বিলেতে। তিনি বৃহত্তর সিলেটের মানুষ। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানের তুলনায় ওখানে যুবকদের মাঝে বিলেত বিশেষ করে লন্ডনে পাড়ি জমাবার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। লন্ডনের ভিসা যেন এক রূপকথার চাবি যার স্পর্শে বদলে যাবে পুরো জীবন। এ ভিসা পেতে মরিয়া যুবকদের ঘটনা দেখা যায় বইতে। শুধু ভিসা পেলেই তো হলো না, এরপরই মূলত শুরু হয় আসল সংগ্রাম। ভিনদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সেসব গল্পও আছে। তবে এসব গল্পকে আরো বিস্তৃত করার বদলে কয়েকটি আলাদা চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
ওয়াসি আহমেদের চিরাচরিত গদ্যশৈলীই বইতে পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে তার লেখার এই ধাচটা আমার পছন্দের। বাস্তবতা, দর্শনের এক চমৎকার মিশেল তৈরি করতে পারেন তিনি। এই বইয়ের ঘটনাগুলো পরিসরে আরেকটু বড় হলে মন্দ হত না। বিশেষ করে অনেকগুলো ঘটনার গভীরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও লেখক সেদিকে আর পা বাড়াননি। উপন্যাস হিসেবে সবগুলো চরিত্রের মাঝে সংযোগের অভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে।
ওয়াসি আহমেদ অভিবাসীদের তুলনা করেছেন শীতপাখিদের সাথে। যারা একটু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য পাড়ি জমায় বিলেতে। তিনি বৃহত্তর সিলেটের মানুষ। বাংলাদেশের যেকোনো স্থানের তুলনায় ওখানে যুবকদের মাঝে বিলেত বিশেষ করে লন্ডনে পাড়ি জমাবার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। লন্ডনের ভিসা যেন এক রূপকথার চাবি যার স্পর্শে বদলে যাবে পুরো জীবন। এ ভিসা পেতে মরিয়া যুবকদের ঘটনা দেখা যায় বইতে। শুধু ভিসা পেলেই তো হলো না, এরপরই মূলত শুরু হয় আসল সংগ্রাম। ভিনদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সেসব গল্পও আছে। তবে এসব গল্পকে আরো বিস্তৃত করার বদলে কয়েকটি আলাদা চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
ওয়াসি আহমেদের চিরাচরিত গদ্যশৈলীই বইতে পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে তার লেখার এই ধাচটা আমার পছন্দের। বাস্তবতা, দর্শনের এক চমৎকার মিশেল তৈরি করতে পারেন তিনি। এই বইয়ের ঘটনাগুলো পরিসরে আরেকটু বড় হলে মন্দ হত না। বিশেষ করে অনেকগুলো ঘটনার গভীরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও লেখক সেদিকে আর পা বাড়াননি। উপন্যাস হিসেবে সবগুলো চরিত্রের মাঝে সংযোগের অভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে।
November 19, 2025
সমসাময়িক অন্যতম প্রধান একজন সাহিত্যিকের দুর্লভ একখানা বই নাগালে পেয়ে পড়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। লেখকের সরল গল্প বলার ধরন পড়তে আরাম লাগে। পাশাপাশি চিন্তা করার মতো গভীরতাও লেখার মধ্যে উপস্থিত।
প্রবাসীদের জীবনের নানা স্তর নিয়ে লেখক গল্পটা সাজিয়েছেন। গল্পটা আরও ডেভেলপ করলে ভালো লাগতো। বিদেশ যেতে চাওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সেখানে গিয়ে প্রজন্মান্তরে টিকে থাকা মানুষের কাহিনী এই শীতপাখিরা। উপন্যাস না হয়ে কয়েকটি ছোটগল্পের সংকলন হলে বইটা বেশি শক্তিশালী হতো আমার মনে হলো।
প্রবাসীদের জীবনের নানা স্তর নিয়ে লেখক গল্পটা সাজিয়েছেন। গল্পটা আরও ডেভেলপ করলে ভালো লাগতো। বিদেশ যেতে চাওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সেখানে গিয়ে প্রজন্মান্তরে টিকে থাকা মানুষের কাহিনী এই শীতপাখিরা। উপন্যাস না হয়ে কয়েকটি ছোটগল্পের সংকলন হলে বইটা বেশি শক্তিশালী হতো আমার মনে হলো।
October 29, 2022
বিষয়বৈচিত্র্যে ‘শীতপাখিরা’ ওয়াসি আহমেদের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই স্বতন্ত্র। শীতকালে সাইবেরিয়া থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের হাকালুকি হাওরে আগমনের সঙ্গে ইংল্যান্ড প্রবাসীদের শীত মৌসুমে দেশে ফেরার সাদৃশ্য দেখিয়ে উপন্যাসের শুরুয়াত। সূচনার দেড় পৃষ্ঠার এই চমৎকার বর্ণনাই একজন পাঠককে উপন্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। জানাশোনা থাকায় বুঝতে পেরেছি ওয়াসি আহমেদ কতটা বাস্তবিকভাবে তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসীদের স্ট্রাগল। নানান বয়সী, নানা মানসিকতার এবং ভিন্ন পরিস্থিতির শিকার কিছু চরিত্রকে দারুণ দক্ষতায় প্রাণ দিয়েছেন তিনি এ উপন্যাসে। বইটি পাঠ শেষে আরও একবার নিঃসন্দেহ হলাম যত উন্নত আর সভ্য দেশই হোক না কেন, অভিবাসী হওয়া সুখকর কিছু নয় কোনো হালতেই। আমাদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা দিনকে দিন যে হারে বাড়ছে তা বিবেচনায় নিলে ‘শীতপাখিরা’ পাঠের গুরুত্ব বেড়ে যাবে বহুলাংশে।
September 26, 2024
লিখনশৈলীর পাশাপাশি ওয়াসি আহমেদের গল্প নির্বাচনে স্বকীয় আছে যা আমাকে খুব আকৃষ্ট করে।
কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর জীবনধারা নিয়ে টুকরো টুকরো কিছু গল্প জোড়া লাগিয়ে ছোট পরিসরে প্রবাসজীবনের হতাশার দিকটাও দেখানো হয়েছে।
কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীর জীবনধারা নিয়ে টুকরো টুকরো কিছু গল্প জোড়া লাগিয়ে ছোট পরিসরে প্রবাসজীবনের হতাশার দিকটাও দেখানো হয়েছে।
February 8, 2018
হেটে যেতে যেতে হঠাৎ কোন একটা মানুষ এর মুখ দেখে যেমন ক্ষণিকের কৌতুহল জাগে, ঐ ব্যক্তির জীবনের গল্পটা কি হতে পারে, এই বইটা যেন লন্ডনের রাস্তায় এক ঝলক দেখা কতগুলো দেশি মুখের পিছনের গল্প। তার শুরুও নেই শেষও নেই। চোখে পড়া মাত্র যেন গল্প হুট করে শুরু হয়, চলতে চলতে মুখ গুলো চোখের আড়াল হলেই যেই না চেহারাটা মন থেকে মুছে যায়, গল্পগুলোও যেন তখনি ফুরিয়ে যায়। যেন এর বেশি তো এদের জীবনের খাতায় উঁকি দেয়ার না ছিল কোন অধিকার, না ছিলো কোন প্রয়োজন। ঐ এক মূহুর্তের কৌতুহল মেটানো কেবলই। তারপর যে যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews







