Jump to ratings and reviews
Rate this book

নিঃসঙ্গ নক্ষত্র

Rate this book
‘এই ঘটনা সত্য, না মিথ্যা? ‘মিথ্যা’। মিথ্যা ঘটনা লিখেছেন কেন? ‘সরি, এটা আসলে সত্য ঘটনা। ‘সত্য ঘটনা এমন হয়? এমন কেন? এই প্রশ্নে আমি চুপ করে থাকি, আমার কষ্ট হয়। আসলেই কী জীবন এমন? হয়তো এমনই, হয়তো এমন নয়। তবে আমি সবসময়ই বলি, ‘জীবনে যেমন গল্প থাকে, তেমনি গল্পেও থাকে জীবন। সেই সব গল্পের কতটুকুই আমাদের জানা থাকে? আমরা কতজন কত কত নিঃসঙ্গ দিন-রাত্রির গল্প বুকে পুষে কাটিয়ে দেই একাকি জীবন, সেই জীবনের খবর কে রাখে? হয়তো সেই নিঃসঙ্গ মানুষটি ছাড়া আর কেউ-ই না। ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্ৰ’ তেমনি গল্প কিংবা জীবন। এই গল্পটা কী কোথাও শুনেছি আমি? আমার ধারণা আমি শুনেছি। গল্পের মেয়েটার মুখ থেকেই শুনেছি এবং মেয়েটিকে চিনিও আমি। কিন্তু গল্পটা কী একটু অন্য রকম হয়ে গেল? নাকি আরো খানিকটা অন্যরকম হতে পারতো? অনু কী জানতে পারতো না, জীবন কেবল এমন নয়, জীবন হতে পারে আরো অন্যরকমও? কলম অবশ্য বলে গেল, কেউ জানে না জীবন কেমন, জীবনের রকম কী! তা কেবল জীবনই জানে। তাই সে লিখে গেল জীবন। সেই জীবন সত্য না মিথ্যা, তা ধরতে পারে সাধ্য কার! ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ সেই সত্য-মিথ্যার জীবন।

270 pages, Hardcover

First published February 1, 2018

52 people are currently reading
654 people want to read

About the author

Sadat Hossain

39 books378 followers
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
95 (24%)
4 stars
107 (27%)
3 stars
116 (29%)
2 stars
46 (11%)
1 star
30 (7%)
Displaying 1 - 30 of 54 reviews
Profile Image for Maliha Tabassum (back from hiatus) Tisha.
127 reviews406 followers
January 11, 2025
বছরদুয়েক আগে বইটার ডেসক্রিপশন পড়ে মনে হয়েছিল, যে করে হোক এ জিনিস আমার ইহজীবনে পড়তেই হবে। উপন্যাসের নাম ও প্লটের প্রতি ভারি একটা আকর্ষণ ছিল। এদিকে সাদাত হোসাইনের লেখা আগে কখনো না পড়ে থাকলেও তাঁর ~নামডাক~ শুনে এসেছিলাম যথেষ্ট। শুনেছিলাম, আর কিছু না হোক, অন্তত তাঁর প্লট ও চরিত্রগুলো মনোরমই হয়ে থাকে। অতীতে বেশ কিছু বই কেবল এ দুটি বস্তুর কল্যাণেই আমার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং ক্ষীণ একটা বিশ্বাস ছিল বইটি আমার ভালো লেগে যাবে।

শুরুতে কাহিনী ও চরিত্র আশানুরূপই মনে হচ্ছিল। অমন আনাড়ি, বাগবহুল লেখনী সত্ত্বেও পড়া দ্রুত এগুচ্ছিল, প্রথম ৫০ পৃষ্ঠার মধ্যে বারকয়েক চোখের পানিও ঝরেছিল। এক পর্যায়ে যখন ভাবছি পড়া শেষে একে নির্ঘাৎ ৪ তারা দিতে মন চাইবে, তখনই অনুভব করলাম মোহ কেটে গেছে, সবকিছু পানসে লাগতে শুরু করেছে। অচিরেই বুঝতে পারলাম আড়াইশো পৃষ্ঠার এ পুস্তকটি শেষ করতে কঠিন এক ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হবে আমায়।


প্লট: (!!স্পয়েলার!!)
যেহেতু সামাজিক উপন্যাস, তাই অবশ্যই আমাদের অতি পরিচিত কিছু সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইস্যু প্লটে স্থান পেয়েছে। যেমন: অবিবাহিত, একা একটি মেয়ের বাসা ভাড়া না পাওয়া; বিয়ে জিনিসটিকে অতিরঞ্জিত করা; প্রগতিশীল, আধুনিক মুখোশের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীনপন্থী ব্যাক্তিরা; দিনের আলোয় বইয়ের দোকানের আড়ালে মাদকব্যবসা; আইন প্রয়োগকারীদের ঘুষগ্রহণ, প্রভৃতি। তবে একই জিনিস একই কায়দায় ইতিপূর্বে অসংখ্য বই, চলচ্চিত্র, ইত্যাদিতে আমরা দেখে এসেছি, এখানে নতুন কিছু যোগ করা হয়নি। অতএব কারো কারো কাছে স্বাভাবিকভাবেই এসব খানিকটা একঘেয়ে লাগাতে পারে।

উপন্যাসের বিভিন্ন স্থানে নাসারন্ধ্র বিকম্পিত করে (প্রায়) কান্না পেয়েছে। সমাপ্তি দেখে মর্মাহত হয়েছি, যদিও আগে থেকেই ওরকম কিছু একটা আঁচ করেছিলাম। সব কিছু ছাপিয়ে লেখক যে গল্পটি বলতে চেয়েছেন তা সত্যিই কোনো বানোয়াট গল্প নয়, এক নির্মম বাস্তবতা।

চরিত্র:
অনুর চরিত্রাঙ্কনে কিছু inconsistency বা অসামঞ্জস্য দেখা যায়। মেয়েটির বুদ্ধির নমুনা রয়েছে, তবুও কোনো এক বিচিত্র কারণে কখনো সে একেবারে অবুঝ বালিকাদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, আবার কখনো ভারী ভারী কথা বলতে আরম্ভ করে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলে। এছাড়া, ট্রিগার করার মতো রসদ অবশ্যই ছিল বইটিতে কিন্তু তার সদ্ব্যবহার হয়নি। ফলে, যতটা আশা করেছিলাম ততটা সহানুভূতি অনুভব করিনি অনুর প্রতি। চরিত্রটির কি পরিমাণ পটেনশিয়াল যে ছিল তা ভেবে প্রচন্ড হতাশ হচ্ছি! অন্যান্য চরিত্রগুলোর কথা আর নাই বা বললাম, তবে অনুর মা সাল্মা বেগমের জন্য একটু মায়া লেগেছে।

লেখনী:
লেখকের রচনাশৈলীতে বিস্তর হূমায়ুনীয় প্রভাব প্রতীয়মান; কিন্তু হূমায়ুন আহমেদের লেখনী সচরাচর যতটা সুন্দর ও সপ্রতিভ হতে দেখা যেত, তার ত্রিসীমানা দিয়েও যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাবার্তা অগোছালোভাবে উপস্থাপন করার ফলে গুরুত্ব হারিয়ে মেজাজ খারাপ করে দিয়েছে। অসংখ্য শব্দ(সমষ্টির) অনাবশ্যক পুনরাবৃত্তি এবং বর্ণনায় অপটু শব্দচয়ন ভীষণ চোখে লেগেছে। কিছু উপমা ও রূপক ছিল বিদঘুটে, কিছু হাস্যকর। তাছাড়া, যত্রতত্র কাব্যিক কিংবা দার্শনিক টাইপের বাহুল্য কথা ছিটিয়ে দিলে তা লেখার মান উন্নত করে না, বরং উলটোটাই করে - এটা জেনে রাখা প্রয়োজন।

অস্বীকার করব না, লেখকের মাঝে সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কিছু দৃষ্টিভঙ্গী, সমাজ-সচেতনতা দেখে ভালো লেগেছে। কিছু কিছু অংশ আবার তিনি বেশ গুছিয়ে, সাবলীলভাবে লিখেছেন; যেমন, অয়নের ডায়েরি (বিশেষত শেষ অংশটি), মাহফুজের সঙ্গে অনুর শেষ কথোপকথন, "পরিশিষ্ট", ইত্যাদি। আর গল্পের প্রেক্ষাপট তো ভালোই ছিল, বাকিটা ওভাবেই লেখা হলে এবং প্যাঁচাল কম পেরে অভিনব একটা প্লট নির্মাণ করে থাকলে বইটি নিঃসন্দেহে অনেক পছন্দ হত।
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews737 followers
January 23, 2019
এই যে চমৎকার লেখনী বা ভাল গল্প বুনন হবার সত্ত্বেও সাদাত সাহেবের লেখায় আমি হুমায়ূন হুমায়ূন গন্ধ পাই খানিকটা , এটা কি একা আমার হয় নাকি এটা সবার কাছেই লাগে?
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
October 1, 2020
একটা জীবনের গল্প। কিছু মানুষের গল্প। পৃথিবীতে অনেক মানুষ থাকে যারা হারাতে হারাতে সব হারিয়ে ফেলে এমনই একটা হারানোর গল্প।


অনু নামের এক মেয়ের জীবনকে কেন্দ্র করে এই বইয়ের কাহিনী আবর্তিত। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে অনুকেই তার ছোট ভাই,দুই বোন আর মায়ের দায়িত্ব নিতে হয়।দায়িত্ব পালন করতে থাকা মেয়েটি নিজের দিকে তাকানোর তেমন সুযোগ আর পায় নি। বোন দুটোর বিয়ে হয়ে যায়। একদিকে অসুস্থ ভাই আর মা! আবার অন্যদিকে অফিসের কলিগের আর পাড়ার বদমাশদের লোলুপ দৃষ্টি - সব মিলিয়ে তিক্ত হয়ে ওঠে মেয়েটির জীবন।

আর শেষটা!!! সে আরও ভয়ানক।একটা হুমায়ূন হুমায়ূন ভাব আছে ;)

কাহিনী ভালোই ছিল, মন্দ না। তবে আরও ছোট হলে এক নাগাড়ে পড়ে স্বস্তি পাওয়া যেত।
অবশ্য লেখক নিজেই বলেছেন তিনি দীর্ঘ পরিসরে গল্প বলতে পছন্দ করেন:/
March 3, 2019
মাঝে মাঝে শুনতাম বই পড়ে নাকি অনেকে ধাক্কা খায়,তাদের ভাবনার জগত এলোমেলো হয়ে যায়....আমি ভাবতাম কিভাবে?? আজ এই সময়.... নিঃসঙ্গ নক্ষত্র শেষ করার পর আমি সে অনুভূতিটা পেলাম!!
এভাবে লেখে কেউ?এমন পাতায় পাতায় যত্ন করে দুক্ষ সাজানোর কি খুব দরকার ছিল??বিছানা থেকে বইটা টেবিলে রাখার মত মানষিক শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছি মনে হয়। বুকের ভেতর কেউ একজন মনে হয় ভোতা চাকু ঢুকে দিয়ে মোচড় দিচ্ছে বারবার।
কতটা যন্ত্রনাময় হতে পারে জীবন আর কতটা যন্ত্রনা নিয়ে বাচতে পারে মানুষ হয়তো সেটারই ময়নাতদন্ত করতে বসছিলেন সাদাত হোসেন।
অসাধারণ লেখা.....অনেকদিন দাগ কেটে থাকবে মনে।হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়িয়ে যেতে না পারুক তার কাছাকাছি যাবেন সাদাত হোসেন।
Profile Image for Shammiul Siraji.
28 reviews46 followers
March 16, 2018
আমার রিভিউ লিখার অ ইচ্ছা নাই এতো খারাপ লেগেছে! :S
Profile Image for Ayesha.
117 reviews36 followers
December 20, 2020
খুবই বিরক্তকর লেগেছে পড়তে!
Profile Image for Musharrat Zahin.
404 reviews490 followers
June 13, 2020
বইয়ের প্লট বেশ সাদামাটা, তেমন আকর্ষণীয় কি���ু না। তবুও পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৭০! অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়ে মা, ছোট দুই বোন আর এক ভাইয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় অনু। প্রথমে মনে হচ্ছিল সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে বর্তে যাওয়ায় কখনো নিজেকে নিয়ে ভাবার অবসর পায়নি অনু। নিজের ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও সে অবিবাহিতাই রয়ে যায়। মাঝখানে ছোট ভাই অয়ন ও মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে অনু একটু টলে যায়। ঘটনাক্রমে মেজ বোন তনু ও তার বেকার স্বামী শামীম এসে অনুদের বাসায় আশ্রয় নেয়। এরমধ্যে অফিসের বসের লোলুপ মানসিকতার কথা জানতে পেরে চাকরি ছেড়ে দেয় অনু। শুধু কি অফিসের বস? ওয়াসিম-জায়েদের মতন লোকদের কথা ভেবে পুরো পুরুষজাতি সম্পর্কেই এক নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বসে থাকে অনু। কাউকে বিশ্বাস করতে যে তার খুব কষ্ট। তবুও তার জীবনে হাসান আসে। হাসানের উষ্ণতায় অনুর মনের বরফ একটু একটু করে গলতে থাকে। এতটা বছর সেই দূরাকাশের নক্ষত্রগুলোর মতন নিঃসঙ্গতায় কাটানোর পর কারো হাত ধরতে যে তার বেশ ভয় করে। শেষ পর্যন্ত হাসান কি অনুর সঙ্গে থাকে?

বই আহামরি ভালো লাগেনি, সাদাত হোসাইনের বই এই প্রথম পড়লাম, তাই লেখার ধরন নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। কিছু কিছু জায়গা পড়ে মনে হচ্ছিল অহেতুক টেনে বড় করা হয়েছে। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ের জীবন নিয়ে পড়া বই এইটাই প্রথম না, বহু পড়েছি। তবে এই ঘরানার বইয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো 'কোথাও কেউ নেই' আর 'বরফ গলা নদী'। বইয়ের ভালোলাগার অংশের কথা বলতে হলে অয়নের ডায়েরির কথা বলবো। একটা মানুষ তার সব কথা সবাইকে বলে যায় না, কিছু ব্যাপার একান্ত নিজেরই। সেগুলো কেউ কেউ ডায়েরিতে লিখে রেখে যায়, যেমন অয়নটা করেছিল।

বইয়ের এক জায়গায় অনু বলে, "এই যে তোমাকে এত পেতে ইচ্ছে করে, এর চেয়ে তীব্র কিছু আর নেই এই জগতে। কিন্তু জানো কি, পেয়ে যাওয়ার পর পেতে চাওয়ার এই তীব্র ইচ্ছাটা আর থাকে না। তোমারও থাকবে না। আজকের এই মুহূর্তটাকে তখন মনে হবে জীবনের সবচেয়ে যুক্তিহীন, সবচেয়ে ভুল মুহূর্ত। এই তীব্র চাওয়ার অনুভূতিগুলো তখন ধীরে ধীরে মরে থাকবে। মরে যেতে যেতে একসময় পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন সবকিছু কেবল অভ্যাস হয়ে থাকে, অনুভূতি না।" মাঝে মাঝে খুব চেষ্টা করি কিছু তারিখ, কিছু মানুষের চেহারা মনে করার জন্য, কিন্তু মনে পড়ে না। মাঝে মাঝে অবাক লাগে, যেসব ব্যাপার আগে ঘটা করে মনে রাখা হতো, যেসব মানুষের কথা সারাটাক্ষণ মনে ছোটাছুটি করতো- এখন সেগুলো মনে পড়লে উলটো আরো বিরক্তিভাব চলে আসে। আপ্রাণ চেষ্টা করি চেহারাগুলো যাতে সামনে না আসে। অথচ সেই সময় এই ভুলে যাবার কথা মনে পড়লে একচোট হেসেই নিতাম! জীবনটা আসলে বেশ অদ্ভুত, তাই না?
Profile Image for Maahi Kaniz.
79 reviews12 followers
February 24, 2024
কিছু বই থাকে না যা নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে এই বইটা তেমন একটা বই। কোন বই যদি আমাকে কান্না করাতে পারে তাহলে ওই বইটার প্রতি আমার একটা আলাদা টান থাকে যেমন জাফর ইকবাল স্যারের আমি তপু। মুভি দেখে কম বেশি আমরা সবাই কান্না করি কিন্তু আমি বই পড়ে তেমন একটা কান্না করি না বা আসে না কিন্তু এই বইটার কিছু কিছু পার্ট আমাকে খুব বেশি ইমোশনাল করে দিয়েছিল। আমি জানি অনেকেই সাদাত হোসাইনের বই নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে যে উনি হুমায়ূন আহমেদকে কপি করে বা এমন কিছু কিন্তু আমার তেমনটা কখনো মনে হয়নি।আমি বেশিরভাগই বইয়ের প্লটের উপর জোর দেই,লেখনীতে জোর দেই।সাদাত হোসাইন এই দুটোতেই পাশ করে যায় প্রত্যেক বইয়েই। অর্ধবৃত্ত,মেঘেদের দিনের পর ওনার এই বইটা আমি সবাইকে রেকমেন্ড করবো।এই বইটা একা একটা নারীর বেচেঁ থাকার গল্প।হয়তো অন্য সব বইয়ের মতো অনুর( অনু হচ্ছে এই বইয়ের প্রধান চরিত্র) জীবনের শেষটা সুন্দর না কিন্তু তাও সে প্রথম থেকে চেষ্টা করেছে। অনুর মতো শক্ত হওয়ার বাসনা আমার আজীবনের।
Profile Image for Muntasir Dhip.
165 reviews3 followers
September 8, 2024
হাইস্কুলে টিনেজার থাকতে পড়েছিলাম বইটি তখন বেশ ভালো লেগেছিলো। বইয়ের কয়েকটা লাইন তখন বালক মনে খুব ভাবাতো " আমি চাইনা তুমি আমার অভ্যাস হয়ে যাও, আমি চাই তুমি আমার অনুভূতি হয়েই থেকো"। এই লেখাটা তখন কেন জানি বেশ ভালো লেগে গিয়েছিলো। যদিও প্রেম নামক কোন কিছুরই জীবনে আগমন ঘটে নি তবে ওইসময় আমি খুব ভাবতাম এসব বিষয় নিয়ে। যাই হোক অনেক কথা বলে ফেললাম। বইটা যুবক বয়সে আরো একবার পড়ে নিলাম, তবে কিছু জায়গায় বেশ খাপছাড়া আর অসঙ্গতি লেগেছিলো যা এখন পড়তে গিয়ে টের পেয়েছিলাম। তবে গল্পের প্লট টা সহজ, সুন্দর।
Profile Image for Fatema-tuz    Shammi.
126 reviews21 followers
October 27, 2020
এই বইটা পড়ে খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম। রাত ১ টা বা ২ টার দিকে পড়া শেষ করছিলাম।আর ঘুম আসছিল না। কেমন যে অদ্ভুত লাগছিল।সত্যি একটা ভয়ংকর স্মৃতি 😑
মানুষের জীবন এর থেকে সুন্দর হওয়া উচিত💜
Profile Image for Mehedi Hasan.
123 reviews30 followers
July 5, 2020
বইঃ নিঃসঙ্গ নক্ষত্র
লেখকঃ সাদাত হোসাইন
প্রকাশনাঃ ভাষাচিত্র

কাহিনি সংক্ষেপঃ
একজন প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মেয়ে অনু, সংসারের প্রথম সন্তান যার বাবা ছোট বেলা মারা গিয়েছেন। মা, দুইবোন এবং ছোট ভাই অয়নকে নিয়ে একটা মধ্যবিত্ত পরিবার। পরিবারে বড় হওয়ায় সকলের ভরণপোষণের দায়িত্ব অনুর উপরে পরে তাইতো সংসারের কথা ভেবে নিজের সকল সুখ, ভালোবাসার মানুষকে বিসর্জন দিয়ে নিজের পরিবারকে আগলে রাখে।

চাকরির বাজারে বসের লোলুপ মানসিকতার শিকার, পাড়ার মাস্তানের ঘৃন্য রাজনৈতিক মানসিকতার শিকার হওয়া, পূর্ণবয়স্ক হওয়া সত্বেও এখনো বিয়ে না হওয়া নিয়ে আত্মীয়স্বজনের কটু কথা শোনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

ছোট ভাই অয়ন যার এক ভয়ংকর রোগ হয়েছে। পরিবারের সবাই তার কাছে রোগটার কথা লুকিয়ে রাখলেও সে বুঝতে পারে তার একটা ভয়ংকর রোগ হয়েছে এবং সে খুব শীঘ্রই এই পৃথিবী ত্যাগ করবে। অয়ন নুহাকে ভালোবাসে নুহা কি তা বুঝতে পারে না? নাকি বুঝেও না বোঝার অভিনয় করে?

অনুর জীবনে একবার ভালোবাসা এসেছিলো সে ভালোবাসার মানুষটাকে পরিবারের সুখের কথা ভেবে বিসর্জন দিতে হয়েছে। পরিবারের সবার কথা সে ভাবলেও তাকে নিয়ে ভাবার মতো কেউ নেই, একটা সময় তার জীবনে নেমে আসে একাকীত্ব। তারপরে আবার তার জীবনে আসে ভালোবাসা সে ভালোবাসার মানুষটা অনুর একাকীত্ব জীবনে সামান্য একটু সুখ হলেও আনতে পেরেছিল।

মতামতঃ
পার্সোনালি বইটা আমার ভালো লেগেছে পড়ার শেষে পুরো ঘটনাটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে অয়নের জন্যে খারাপ লেগেছে তার নোট পড়ার সময় কখন যে চোখের কোনায় পানি চলে এসেছে বুঝতেই পারিনি। কিছু কিছু ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছি তনুর জন্যেও খারাপ লেগেছে মেয়েটা সুখ খুজতে গিয়েও সুখের সন্ধান পেলো না। উপন্যাসটা পড়ার শেষে আপনার মনে এক গভীর বেদনায় ভরে উঠবে। যারা বই পড়েন আশা তারা এই বইটা পড়লে হতাশ হবেন না। সত্যি সাদাত ভাইর লে��ায় যাদু আছে।



Profile Image for ULFA Nufaisa.
10 reviews3 followers
May 19, 2025
প্রথম কিছু বই পড়ে এই লেখক এর বই ভাল লেগেছিল। কিন্ত আজকাল উনার যা ই পড়ি চরম বিরক্তি নিয়ে শেষ করি। এটাও তাই হয়েছে। একই কথা বারবার এবং নরমাল কনভাসেশনে খুব বেশি কাব্যিকতা বিরক্তির উদ্রেক করে। বাস্তবতা সম্পন্ন গল্প হলেও জীবনের উত্থান-পতনে অনু চরিত্রের প্রতি পাঠকের যে মায়া ভেতর থেকে খারাপ লাগা অনুভব করা উচিৎ ছিল সেটা লেখক আনতে পেরেছে বলে আমার মনে হয়নি।
Profile Image for Luna Latif.
36 reviews1 follower
Read
May 7, 2020
আমি এমনিতে খুব বলি আমি এঙ্গস্টি মেলানকলিক কিছু পড়তে পছন্দ করিনা কিন্তু ঘুরেফিরে তাই পড়ি, এই বই পড়ে খুব ই মনখারাপ হলো। আমার সত্যিই বইটা শেষ করে মনে হচ্ছিলো কেন? কেন এমন হয়?
Profile Image for Siam Mehraf.
Author 4 books19 followers
February 18, 2019
বইঃ- নিঃসঙ্গ নক্ষত্র
লেখকঃ- সাদাত হোসাইন
প্রকাশঃ- বইমেলা ২০১৮
প্রকাশনীঃ- ভাষাচিত্র
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ২৭০
মুদ্রিত মুল্যঃ- ৪৭০
.
একটা জীবনের গল্প। কিছু মানুষের গল্প। পৃথিবীতে অনেক মানুষ থাকে যারা হারাতে হারাতে সব হারিয়ে ফেলে এমনই একটা হারানোর গল্প।
.
পরিবারের বড় মেয়ে অনু। এনজিওতে কাজ করে নিজের পরিবার চালায় মেয়েটা। তার ছোটভাইয়ের নাম অয়ন। প্রথম দিক থেকেই অয়নকে ঘিরে তাদের সবার কিছু আচরণ আলাদা হয়ে যায়। পরে জানা যায় অয়নের হাতে বেশিদিন সময় নেই। ও একটা অসুখে আক্রান্ত। কিন্তু তাও অনু শক্ত থাকে। মা ভেঙে পড়ে কাঁদতে থাকলেও অনু শক্ত থাকে।
.
হুট করে একটা পৃষ্ঠায় এসে অয়নের মৃত্যুর হয়ে যায়। বেশ বড় একটা ধাক্কা অনুভব করবে পাঠক এই লাইনে এসে।
.
অয়নের পরে মা হারিয়ে যায় অনুর। আস্তে আস্তে দু বোনের একটা বোন যে মায়ের বাসাতেই থাকতো তার স্বামীর ব্যবসা ভালো চলতে শুরু হবার কারণে সেও সিদ্ধান্ত নেয় তারা অন্য কোথাও চলে যাবে। কিন্তু সেই স্বামীর ব্যবসার সাফল্যের পিছনেও রয়েছে একটা অদ্ভুত রহস্য। প্রথমত, অনু বা কেউ সেটাকে মাথায় না নিলেও পরে যখন অনু সেই অদ্ভুত কারণ জানতে পারে তখন একেবারে প্রায় চুপসে গিয়েছিলো।
.
একলা একটা মেয়েকে বাড়িওয়ালা তাদের বাসায় রাখবেনা। তাই চলে যেতে হবে অনুকে। একটা সময় দেয়া হলো। যদিও তখন অনুর কাছে পুলিশের আগমন হয় আর কেস শেষ না হয়া পর্যন্ত অনুকে এই বাড়িতেই রাখতে তাদের বাড়িওয়ালাকে বলে পুলিশ কর্মকর্তা। তবুও একটা সময় ছাড়তেই হতো। ছাড়তেই হলো। এরপরে এক হোটেলে উঠতে হয় তাকে।
.
এর আগে তার চাকরীটা চলে যায়। চলে যায় না ঠিক, সে ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দেয়ার কারণ ছিলো অফিসে তাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া একটা মানুষ। রাতারাতি যার নিজের চরিত্র সম্পর্কে ধারণা পায় অনু। আর পরবর্তীতে জানা যায়, সে শুধু অনু না আরো অনেক মেয়ের জীবনের জন্যই একটা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
.
নতুন চাকরী জোটাতে গিয়ে যাবেনা বলেও যেতে হয় তার বান্ধবীর স্বামীর কাছে। আর সে বিষয়ে জানার পরে বান্ধবী আর তার মধ্যেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। যা সে মেনে না নিয়ে সেই চাকরীটাও ছেড়ে দেয়।
.
পরবর্তীতে, তার বোনের স্বামীর ব্যবসা আর অনুর পুরাতন কিছু শত্রুর আগমন তার জীবনটাকে আবার থমকিয়ে দেয়। তার বোনের স্বামী শামীম, তার বউকে পাঠিয়ে দেয় দূরে কোথাও আর যোগাযোগ করতে বারণ করে কারো সঙ্গেই। তখন তার স্ত্রীর গর্বে তাদের দ্বিতীয় সন্তান ছিলো। শামীম কথা দিয়েছিলো সন্তান প্রসবের আগেই সে ফিরবে। কিন্তু শামীম ফেরেনি। কেন ফেরেনি সেটা গল্পে জানা যাবে।
.
অনু বোনকে ফোনে পায়না। চিন্তিত হয়ে যায় তার জীবনে আগমন ঘটে একটা নতুন অধ্যায়ের। যে অধ্যায়টা কিনা তাকে সুখে রাখছিলো দিন দিন। হাসান! হাসান কে? হাসান কেন তার জন্য সুখের অধ্যায় ছিলো সেটা গল্পে বেশ স্পষ্টত জানা যাবে। কিন্তু সেই সুখের অধ্যায়ের মাঝেও তার বোনের জন্য তার চিন্তা বাড়ে আর সে থমকে যায়। তবুও সাধারণ জীবনে ফিরে আসার যথেষ্ট চেষ্টা সে করে।
.
শামীমকে ফোন দিয়ে পায়না। পুলিশ কর্মকর্তাও দেশের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। তাই সে জানায় শামীমের ব্যাপারে সে জানেনা। আর হতে পারে শামীম মারা গেছে বা সেফ প্লেসে চলে গেছে। কিন্তু অনু জানেনা শামীম কোথায়।
.
হাসান নামক সুখকর অধ্যায়টাও শেষ হয়ে যায়। সেই পুরানো শত্রুতার জন্য। নরকীয় জীবন থেকে সুখের জীবনে ফিরে এসেও আবার সেটাকে হারিয়ে ফেলতে হয় অনুর। এভাবে হয়ে যায় সে নিঃসঙ্গ। নিঃসঙ্গ একটা নক্ষত্র। আসলে আমরা পৃথিবী থেকে দেখি তারাগুলো একেকটা পাশাপাশি। আসলেই কি তাই? সত্যিটা হলো তাদের একেকটা তারার মাঝে অনেক দুরত্ব। অনেক বেশি দূরত্ব। তাই যদি পৃথিবী থেকে তাদের একত্রে দেখাও যায় তবুও তারা নিঃসঙ্গ!
.
লেখক তারা যারা একটা মানুষের আবেগ কন্ট্রোল করে, মস্তিষ্ক কন্ট্রোল করে। পুরো বইয়ের ক্ষেত্রে সাদাত ভাই সেই কাজটা করেছে। আমার মনে হয়েছে আমার আবেগ তার বইয়ের লাইনে ছিলো। অয়নের মৃত্যুর সেই লাইনে এসে বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসবে। কিংবা পুরো গল্পটা পড়ে ইচ্ছে করবে নিঃসঙ্গ হয়ে একা খানিকক্ষন চিৎকার করে কাঁদতে। হুটহাট বুকের ভেতর মোছর দিয়ে উঠবে। হুটহাট কাঁদতে ইচ্ছে হবে। আবার হুটহাট করেই ইচ্ছে করবে রোমান্টিক হয়ে দু লাইন কবিতা গাইতে। বইটাতে সব ছিল। সব মিলিয়ে কম্পিলিট প্যাকেজ।
.
আমি বই রেটিং-এ বিশ্বাসী না। একটা লেখক একটা বই অনেক কষ্ট আর চিন্তার পরে লিখেন। তাই তাদের কষ্টের দাম মাত্র ৫ পয়েন্টের ভিতর দিতে চাইনা। লেখকদের সেই চিন্তাধারণা বা কষ্টের দাম পয়েন্ট দিয়ে নয়, বরং বই ভাল খারাপ না ভেবে বই কিনে তাকে উৎসাহিত করা আর সুধরে দেয়ার মাঝেই বিদ্যমান। তবে সব ধরনের স্বাদ পেতে চাইলে এই গল্পটা পড়বেন অবশ্যই! আর রেটিং চাইলে বলবোঃ বেষ্ট একটা বই। এর বেশি কিছু না।
.
ধন্যবাদ সাদাত ভাইকে এত সুন্দর একটা বই আমাদেরকে উপহার দেয়ার জন্য।
Profile Image for Monisha Zoarder.
16 reviews
January 13, 2021
সাদাত হোসেনের অনেক নাম শুনেছি ফেবুতে। কিন্তু কখনো পড়া হয়নি তার লেখা। ভাবছিলাম তার কোনো বই পড়বো। তারপর একদিন আমার এক বান্ধবী আমাকে তার এই বইটা দিলো। পড়লাম, আর ঠিক করলাম আমি ভবিষ্যতে আর কখনও তার লেখা কোনো বই পড়ে সময় নষ্ট করবো না। বইটাকে শুধু শুধু এতোটা লম্বা করা হয়েছে। দুটি কাহিনী সমান্তরালে এগিয়ে গেছে বইটি জুড়ে। লেখক চাইলেই এই দুটি কাহিনীকে আলাদা করে দুটি বই লিখতে পারতেন এবং আমার মতে সেটাই ভালো হতো। আর কাহিনীতে বেশ সুন্দর কিছু মুহুর্ত ছিলো যেখানে গল্প শেষ করে দেওয়া যায়। কিন্তু লেখক এতো এতো লিখেও শেষ অব্দি আর গল্পটায় পূর্ণতা দিতে পারেনি। তাই শেষ না করেই ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি হয়তো হুমায়ুন আহমেদের মতোই অনিন্দ্য অসমাপ্ত কাহিনী বলতে চেষ্টা করেছিলেন এই বইটিতে। তবে তা তেমন হয়নি, বরং খিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছেন। শেষ করার সুযোগ্য মুহূর্ত গুলো ছেড়ে এসে, অকারণে গল্প বাড়িয়ে সে আসলে পাঠকের মেজাজ এবং বইয়ের কাহিনি দুটোই খারাপ করে দিয়েছে। এই বইয়ের কাহিনিটাকে আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। মানুষের জীবনের সাথে খুব বেশী সম্পর্ক রাখতে গিয়ে লেখক উপন্যাসের ছন্দ হারিয়েছেন। লেখক চেষ্টা করেছেন জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের লেখার আঙ্গিকে লিখতে। কিন্তু গল্পটা আমার শুধু মেজাজই খারাপ করে দিয়েছে। আর কারও এই বইটি পড়ে কেমন লেগেছে আমি জানিনা। তবে আমার পড়া সবচেয়ে বাজে বই এটি। বইটি যথেষ্ট ভালো হতে পারতো যদি লেখক অয়নের মৃত্যুতেই শেষ করে দিতেন। অথবা শামীমের ওই ড্রাগ ডিলারের কাহিনীটা না থেকে অণু আর হাসানের বিয়েতেও শেষ হতে পারতো। আমি আর কখনও সাদাত হাসানের বই পড়বো না। লেখকের লেখার ওপর থেকে মন উঠে গেছে।
93 reviews18 followers
February 11, 2018
নিঃসঙ্গ নক্ষত্র সাদাত হোসাইনঃ বুক মিভিউ-
শুয়েই শুয়েই পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে হঠাত উঠে বসতে হল। চোখের পানিটা গড়িয়ে পড়া দরকার। সাদাত হোসাইন এমনিই। গতবছর তাকে ইমোশনাল, অযথা প্যানপ্যানানির অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু দিনশেষে ঠিকই-প্রি অর্ডার দিয়ে বইটি কিনেছি। হয়তো নিজেকে ইমোশনাল করতে, নিজেকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে। সাথে রকমারিতে অর্ডার দিয়ে সামনে লেখকের স্বাক্ষরে পাওয়া ভালোবাসা মন্দ নয়।
পুরো বই জুড়ে যেন বিস্বাদের মেঘ। তারটা সেই শুরুতেই ছিড়ে গিয়েছে। অন্ধকার ধেয়ে আসে সবসময়, সেই মেঘে ভেসেছে চাদের আলো-একটু বের হলেই তা ঢেকে গিয়েছে। হয়তো মাঝে মাঝে হিমুর মত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি-এবার বোধ হয় কিছু হবে-সাথে সাথে চোখের জলে বইয়ের পাতাগুলি ঝাপসা হয়ে এসেছে। আচ্ছা তখন কি করতে হয়-হ্যা দুই এক বার চোখের পাতা ফেললেই হবে। পানি গড়িয়ে যাবে।
“এখনো খুব ইচ্ছে করে, মাকে যদি বলতে পারতাম, মা আমার মরে যেতে খুব ভয় হয়, তোমাদের একা ছেড়ে একা একা আমি থাকতে পারব না মা। আমার প্রচন্ড ভয় হয়। আমাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া পড়ে একটা ফু দিয়ে দাও মা। আমার খুব নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাতে ইচ্ছে করে। ঠিক ছোটবেলার দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে কেদে কেটে জড়সড় হয়ে যাওয়া সেই ছেলেটার মত আমাকে একটু ফু দিয়ে ঘুম পারিয়ে দাও। প্লিজ মা, আমার ভয়টা একটু দূর করে দাও”
আমার কিছু বলার নেই।
Profile Image for Ashikur Khan.
Author 4 books7 followers
February 28, 2023
বইয়ের নামঃ নিঃসঙ্গ নক্ষত্র
লেখকঃ সাদাত হোসেন
ঘরানাঃ সমকালীন উপন্যাস
প্রচ্ছদঃ খন্দকার সোহেল
প্রকাশনীঃ ভাষাচিত্র
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৭০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৭০ টাকা
প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা, ২০১৮

জীবন মানে শুধু গল্পকারের অনুভূতির মিশেলে সাজানো সুখ বা দুঃখের কোনো গল্প নয়.......চিত্রশিল্পীর সুনিপুণ কল্পনার মানসলোকে অঙ্কিত কোনো ছবি নয়। বরং সুখ-দুঃখের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ছোট ছোট অজস্র গল্প বা চিত্রের এক সমন্বিত রূপের নাম হচ্ছে জীবন। প্রতিটি মানুষের-ই তার চেনা জগতের বাইরে এক নিজস্ব জগত থাকে। সে জগতের সাথে কেবল ওই মানুষটি বাদে আর কারো পরিচয় থাকেনা। এ নিজস্ব জগতে মানুষ অনেক নিঃসঙ্গ থাকে। তার চারপাশে এত মানুষ, তবুও সে নিঃসঙ্গ।
এমনই এক অদ্ভুত নিঃসঙ্গতার গল্পকে উপন্যাসে রূপ দিয়েছেন হালের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক সাদাত হোসাইন। অন্দরমহল, আরশিনগর, মানবজনম----- এ তিনটি উপন্যাস লিখে লেখক হিসেবে বিগত তিন বছর ধারাবাহিক সাফল্য লাভের পরে এটি তার লেখা চতুর্থ প্রকাশিত উপন্যাস। একজন মানুষের নিরন্তর জীবন সংগ্রাম ও নিঃসঙ্গতার গল্প এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। একদম ছোটবেলা থেকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে আসা এ মানুষটিকে লেখক নিঃসঙ্গ নক্ষত্র নামে আখ্যা দিয়েছেন।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্রে রয়েছেন অনু নামক এক সংগ্রামী নারী। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অনুকে সদা সংগ্রাম করতে হয় জীবনের পথে পথে। বাবা কিংবা বড় কোনো ভাই না থাকায় তাকে এ সংগ্রামে সাহায্য করবার মত কেউ নেই এ জগতে। নিজের সংগ্রাম তাকে একাই লড়তে হয়। সাহায্য করবার মত তার পাশে কেউ না থাকলেও, বিপদের মুহূর্তে তাকে ধাক্কা দিয়ে খাদের আরো গভীরে পাঠিয়ে দেবার মত ছদ্মবেশী লোকের অভাব নেই তার আশেপাশে। ঘটনাক্রমে অনু একসময় একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। গল্প হঠাৎ করে এক নতুন মোড়ে বাঁক নিতে থাকে। ঔপন্যাসিক তার সর্বোচ্চ চেষ্টাশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির চিত্রায়নে বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। শুরুতে এটিকে সমকালীন উপন্যাস বলে মনে হলেও এ পরিস্থিতিতে এটিকে পলিটিকাল থ্রিলার বলে পাঠকের ভ্রম হলেও তা খুব বেশি দোষের কিছু নয় বলে আমার অভিমত।
উপন্যাসের গল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে শামীম নামের এক চরিত্র। স্বভাবে ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ শামীম বাইরে খুব সাধুভাব দেখালেও বাস্তবে সে একজন অসাধু ব্যবসায়ী। বইয়ের ব্যবসার আড়ালে সে তারুণ্য-শক্তি বিনাশকারী মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে তনু, অয়ন, নুহা ও ওয়াসিম। এসব চরিত্র চিত্রায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প। কখনো তাতে প্রস্ফুটিত হয় সমকালীন মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প। আবার কখনো বা গল্পের প্রয়োজনে ফুটে ওঠে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠা রোমাঞ্চকর থ্রিলারের গল্প।
এবার আসা যাক উপন্যাসের লিখনশৈলীর ব্যাপারে। বিগত বছরগুলোতে লেখক হিসেবে ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা লাভ করে এলেও ছোট গল্প অহেতুক দীর্ঘায়ত করবার এক অভিযোগ সাদাত হোসাইনের বিরুদ্ধে বরাবরই ছিল। এ অভিযোগের সত্যতাও অবশ্য মিলেছে বহুবার। অর্থাৎ এটি কোনো অহেতুক অভিযোগ ছিল না। যাহোক, এ উপন্যাস পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, এ উপন্যাসে উক্ত অভিযোগ করবার আগে দ্বিতীয় বার ভাববার সময় এসেছে। গল্প যাতে অহেতুক দীর্ঘ না হয়ে পড়ে কিংবা পাঠকের মনে বিরক্তির উদ্রেক না করে, সে জন্য লেখক বরাবর-ই সচেষ্ট ছিলেন পুরো উপন্যাস জুড়ে। ভাষাশৈলী বরাবর মতই বেশ সহজ-সাবলীল ও প্রাঞ্জল ছিল। বেশ সহজ ভাষায় লেখক উপন্যাসের গল্প বিবৃত করে গিয়েছেন উপন্যাস জুড়ে। এ দিকটি একজন পাঠক হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে আমার।
বিগত উপন্যাসগুলো প্রকাশের পর লেখক হিসেবে তার লেখার মধ্যে অনেকে হুমায়ূন, অনেকে সমরেশের ছায়া খুঁজে বেরিয়েছেন। লিখনশৈলীতে এ দুইজন লেখকের লিখনভঙ্গির মিল যে একেবারে নেই,তা কিন্তু নয়। কিছুটা মিল থাকলেও লেখক হিসেবে তারা আলাদা এক ভঙ্গিমা রয়েছে, যা তাকে আলাদা করেছে অন্য লেখকের তুলনায়। সর্বোপরি, বেশ ভালো লেগেছে আমার বইটি। প্রতিনিয়ত পাঠকের আকর্ষণ ধরে রাখা এ উপন্যাসের গল্প একজন পাঠককে পুরোটা সময় বইতে ধরে রাখবে, এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই আর।
আগামীর পৃথিবী বইয়ের হোক, এটাই হয়ে উঠুক সকল বইপ্রেমী পাঠকের প্রাণের আহবান।

#Happy_reading!
Profile Image for Snigdha.
12 reviews
February 23, 2024
"বড়পুকে মাঝে মাঝে আমার বড় কোনো নদীর মতো মনে হয়। না, ঠিক নদী না, হিমালয়ের মতন। সত্যি সত্যি হিমালয়ের মতন। অত বড় একটা মানুষ আর ঠিক অমন ঠান্ডা। অমন শান্ত, শীতল, স্থির। এই জন্যই বড়পু ক্ষয়ে গেলেও বোঝা যায় না। অত বড় হিমালয় ক্ষয়ে গিয়ে যদি আস্ত একটা সমুদ্রও নেমে আসে, তারপরও কি তাকে দেখে বোঝা যায়? যায় না। এই জন্য বড়পুর কান্নাও বাইরে থেকে বোঝা যায় না।"

How do you rate a book that made you cry, twice! T.T

আচ্ছা, ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে কিছু মানুষ কি নিতান্তই দুঃখ কুড়াতে আসে? অশ্রুগুলো জমিয়ে রেখে নিরবে ক্ষয়ে যেতেই কি জন্মায় তারা? উজ্জ্বল ওই নক্ষত্রগুলো এত কাছে মনে হলেও এত দূরে কেনো রয়ে যায়? সারা জীবন নিরবে ক্ষয়ে যাওয়া মানুষ টার কি শেষ সুখ টুকু প্রাপ্য ছিল না?
হয়তো এটাই অনুদের অদৃষ্ট। হয়তো নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের মতোই ক্ষয়ে ক্ষয়ে মরে যেতেই তারা পৃথিবীতে আসে। বই টা পড়ে দুই দুই বার আশাতীত হয়েছিলাম।এই বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ বইটা শেষ করে মনে হচ্ছে ঐযে ক্ষণিকের যে আশা টা,ঐটাই হয়তো বাঁচিয়ে রাখে সব অনুদের। বই এর পাতায় লেখক জীবনের নির্মম সত্যকেই তুলে ধর���ছেন। তাই হয়তো একটু বেশীই কষ্ট লাগল।

তবে সেই আশা টাই থাকুক না! কিছু অনুর জীবনে হাসান আবার ফিরে আসুক।কিছু গল্পে,কিছু নক্ষত্রের একটা ঘর থাকুক।ভালো থাকুক অনুরা।
Profile Image for Al- Mubin.
62 reviews1 follower
August 18, 2022
বই- নিঃসঙ্গ নক্ষত্র
লেখক- সাদাত হোসাইন
প্রকা��নী- ভাষাচিত্র
রেটিং- ৩/৫

সাদাত হোসাইনের বই নিয়ে সচরাচর মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকেই, এই বইটি নিয়েও আমি কিছু খারাপ রিভিউ দেখেছি, তবুও পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শুরু থেকেই বেশ ভালোই লেগেছিল বইটি, সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা। তবে কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে অতিরিক্ত বর্নণা দিয়ে কাহিনীকে টেনে লম্বা করা হয়েছে, এসব না থাকলেও খুব একটা খারাপ হত না।

বাবা হারানো এক পরিবার এই লেখনীর মুল উপজীব্য। সেই পরিবারের বিভিন্ন চরিত্রকে নিয়েই গল্প এগিয়েছে, সাথে ছিল আরো কিছু চরিত্র। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান অয়নের ক্যান্সার, অবিবাহিত বড়বোন অনুর জীবন যুদ্ধ, তার জীবনে চড়াই উতরাই, শেষ মুহুর্তে এসে প্রেম এবং জায়েদের খুন নিয়ে কিছুটা থ্রিলার এই নিয়েই নিঃসঙ্গ নক্ষত্র এগিয়েছে শেষ অবধি।
Profile Image for Nusaiba.
13 reviews1 follower
May 24, 2025
বইটা বিষণ্ন সুন্দর। তবে কোনো কোনো জায়গায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত বর্ণনা খানিকটা বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়। কিছু অংশ আবার বড়ই মুগ্ধ করেছে। বড়বোনকে নিয়ে অয়নের ডায়েরিতে লেখা অংশটুকু পড়ে আমার চোখ ভিজে গেছে। শেষটাও হৃদয়কে স্পর্শ করবে।
লেখকের লেখায় দরদ আছে। তবে তাঁকে আরো খাটতে হবে, সহজ করে লেখা শিখতে হবে। quotes, কবিতা হুটহাট বাস্তবে আমরা প্রয়োগ করিনা তেমন, বা করলেও আবহ তৈরি করতে হয়। এই ব্যাপারটা নিয়ে আরো কাজ করলে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব!
Profile Image for Habib.
43 reviews1 follower
February 8, 2025
মাঝেমধ্যে মনে হতো আমার নিজের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে বইটা লিখা। একাকিত্ব, সংগ্রাম প্রতিটা জীবনেরই অংশ।

যাইহোক, সবমিলিয়ে ভালো লিখেছেন। যদিও অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় কিছু ব্যাপারকে অযথা লম্বা করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে মনোযোগ ধরে রাখাটা অসম্ভব ছিলো। তবুও ভালো লেগেছে। লেখকের এই বইটাই আমার প্রথম পড়া।

শুভকামনা লেখকের প্রতি।
9 reviews2 followers
October 9, 2021
অনেক সময় আমরা মনের অজান্তে সবকিছু থেকে দূরে, একা একা থাকতে চাই। কিন্তু এই জগৎ সংসারে একা থাকাটা যে কি পরিমাণের দুর্বিষহ তা এই বইটা না পরলে বুঝা সম্ভব নয়!
একাকিত্ব একটা সময় পর গ্রাস করে ফেলবে আপনাকে। তখন আপনি একটা চাতক পাখির মতন মানুষের আশায়, একটা সঙ্গীর আশায় দিন পার করবেন।
28 reviews
November 15, 2022
মধ্যবিত্ত সংসারের টানাপোড়েন, অবিবাহিত মেয়েদের ওপর নানা ধরনের সামাজিক চাপ, রোগ, দারিদ্র্য, মৃত্যু — এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে বইটির দৈর্ঘ্য এর তিনভাগের একভাগ হতে পারত। অনেক জায়গার ডিটেইল বেশ কাঁচা ছিল। তবু মোটের ওপর খারাপ লাগেনি।
Profile Image for Nafisa Anjum.
226 reviews13 followers
November 28, 2024
There's nothing new in this book, but lots of unnecessary details like other books of the author. Though I liked some of the quotes from the book, there were actually deep and Ayon's diary would be my only favorite thing from the book. The ending could be better as it felt hurried.
Displaying 1 - 30 of 54 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.