একটা কালো রঙের ব্যাগ। তাতে আছে এক কোটি টাকা। টাকার গন্ধে অন্ধের মতো ছুটছে সবাই। স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য, অথবা স্বপ্নকে রক্ষা করার জন্য। কেউ স্বপ্ন দেখছে প্রতিশোধের, কেউ দেখছে ভালবাসার। নতুন জীবন শুরু করার জন্যই হোক, আর নিজের স্বপ্নকে রক্ষা করার জন্য-যে কোনো মূল্যে ব্যাগটা চাই সবার। কিন্তু কে বলতে পারে, সেই মূল্যের সত্যিকার পরিমাণ কত?
মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ যখন উঁকি দেয় আকাশে, কোন নাটক মঞ্চায়িত হয় তখন? কারা হয় তার প্রধান চরিত্র?
The story had quick action. I loved some of the characters. The writing was good. It portrayed the story well in the limited scope. The ending was kind of open ended, but didn't feel rush or anything.
পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। এই উপন্যাসের বেশির ভাগ চরিত্রেরি পাখা গজিয়েছিলো। কারো পাখা ছোট ছোট, কারো আবার বিশাল সাইজের পাখা! সেক্ষেত্রে মরতে তো হবেই!
খুব ই ফাস্ট বই। সামনে কি হবে না জেনে বসে থাকা মুশকিলের কাজ। আমি মনে মনে ললিতা আর শফিকুলের পালিয়ে গিয়ে করা সুখের সংসার দেখতে চেয়েছিলাম। তাও বাস্তবতা গ্রাস করেছে সবখানে। বই হলে কি হবে, কল্পনা হলে কি হবে, ঘটনা বাস্তবতাকে উপজীব্য করে লেখা বলেই বোধ হয় এখানেও নৃশংসতা দেখতে হল!
মোসলেম আলী চরিত্রটার কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে কিছুই পেলাম না। ভেবেছিলাম ইনফর্মার কুদ্দুস আসলে এই মোসলেম আলী ই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে এই ইনফর্মার জানা হল না।
পুলিশ ভায়া যে টাকাটা পুলিশের হাতেই তুলে দেবেন, পান্না কি সেক্ষেত্রে ছেড়ে কথা বলবে! শরীফুলের চাকরী বাঁচলেও এক্ষেত্রে ঘাড়ের ওপর মাথা কি করে বেঁচে থাকবে প্রশ্ন হচ্ছে!
শফিকুলের চরিত্র টা অদ্ভুত লেগেছে। কিছুক্ষণ মনে হয়েছে সে একেবারেই দুর্বল চিত্তের মানুষ, পরে আবার মনে হয়েছে রাগ হলে তার অসুরের শক্তি এসে যায় গায়ে, এক সময় মনে হয়েছে প্যাচ বোঝে না, বড় সরল ছেলে, আবার মোসলেমের সাথে কথপোকথন শুনে মনে হয়েছে যথেষ্ট চালাক সে। এই চরিত্রটা বাদ রাখলে বাকিগুলির বিল্ড আপ দারুণ ছিলো। রেদোয়ান, ললিতা, শরীফুল... সব ক'টা।
সর্বশেষ কথা, বাংলাদেশে এরকম অনেক মৌলিক আসবে, আমরা পড়বো আর সেসব নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় গা ভাসাবো। সবশেষে বলতে তো পারবো 'আমরা আমরাই তো!'
শাহেদ ভাইয়ের প্রথম মৌলিক থ্রিলার বলেই হয়ত প্রথমেই বিশাল একটা আশা করে বসে ছিলাম। পুরোপুরি হতাশও হইনি, আবার ঠিকঠাক আশা পূরণও হয়নি। পরের বার কিন্তু এত সহজে আশা ছাড়বো না এই হুমকি দিয়ে রাখলাম।।।😂
এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। টানটান উত্তেজনা আর ঘটনার ঘনঘটায় কখন গল্পটা শেষ হয়ে গেল টেরই পেলাম না। এত তাড়াতাড়ি এত কিছু ঘটে গেছে যে তাল সামলানোর আগেই দেখি বইয়ের পৃষ্ঠা সব শেষ। কিন্তু শেষটায় বড় একটা আক্ষেপ রয়ে গেল। এমন তো হবার কথা ছিল না, এমন কেন হয়? আর এতগুলো মৃত্যু - গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, সত্যি সত্যিই যেন চাঁদটা মৃত্যু দিয়ে ভরে গেছে।।।
সবশেষে ভাষা নিয়ে একটু বলি- থ্রিলার বা সামাজিক যাই হোক না কেন আঞ্চলিক ভাষা কেন জানি আমার খুব ভাল লাগে। কেমন একটা আপন আপন অনুভূতি হয়, আর মনে হয় গল্পটা ঠিক মাটির বুক থেকে উঠে এসেছে। তাই যশোরের ভাষা অনেকাংশে রাখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।।।
বাপস্! এই গল্পে কিছু গতি ছিল বটে। আর কী ছিল? প্রেম? হিংসা? প্রতিহিংসা? ষড়রিপুর হাতছানিতে মানুষে-মানুষে, মানুষে-অস্ত্রে, অস্ত্রে-টাকায় আর মানুষে-টাকায় বহ্নি আর পতঙ্গের খেলা? মাথা-খারাপ করে দেওয়া ভায়োলেন্স? অত্যন্ত আকর্ষণীয় কিছু রক্তমাংসের চরিত্র? সব ছিল। শুধু গল্প ছিল না। বা থাকলেও রক্ত, মাথার ঘিলু আর চোখের জলে সব ভেসে গেছিল। একটা উপকার করবেন? আমার হয়ে লেখককে একটু দম নিয়ে, আরেকটু বেশি সময় নিয়ে একটা গল্প বলতে বলবেন পরেরবার? হয়তো সেক্ষেত্রে এমন চমৎকার চরিত্র আর পটভূমির যথাযথ ব্যবহার হবে। হয়তো আমরা সত্যিই একটা উপন্যাস পাব। নইলে, "তার আর পর নেই, নেই কোনো ঠিকানা"— এটাই হবে শাহেদ জামানের পরবর্তী বইপত্র নিয়ে আমার ভাবনা।
কাহিনি সংক্ষেপঃ যশোর শহর জুড়ে অকস্মাৎ নেমে এসেছে আতঙ্ক। শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের দিদার গ্রুপ ও পান্না গ্রুপের মধ্যে শুরু হলো গ্যাং ওয়ার। একের পর এক লাশ পড়তে থাকলো। ঢাকায় বসে পুরো ব্যাপারটা অপারেট করার জন্য পান্না দায়িত্ব দিলো তার একান্ত আস্থাভাজন রেদোয়ানকে। সে-ও নেমে পড়লো মিশনে৷ প্রতিদ্বন্দ্বী দিদার গ্রুপের নাম ও নিশানা মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার কাজে সে মাঠে নেমে পড়লো।
শফিকুল। সামান্য এক দোকানদার। ভীতু স্বভাবের এই ছেলেটা প্রেমে পড়েছে এমন এক মেয়ের, যার স্থান নিষিদ্ধপল্লীতে। কিন্তু এই দুর্বার প্রেম তাকে মোটেও দমিয়ে রাখতে পারেনি৷ ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যেতে চায় সে। বাঁধতে চায় সুখের ঘর। কিন্তু সেই পথ মোটেও মসৃণ না।
মোসলেম আলি। যশোর শহরের এক মেসবাড়িই আপাতত তার ঠিকানা৷ কেউ-ই ঠিকঠাকভাবে জানেনা লোকটা আসলে কি করে। রহস্যময় স্বভাবের মোসলেম আলি যেন শান্ত পদক্ষেপে নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে চলেছে। আদৌ তার লক্ষ্য পূরণ হবে কিনা, জানেনা সে।
ললিতা। অপরূপা সুন্দরী এই রমণী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। মুক্ত হতে চায় গ্যাংস্টার রেদোয়ানের শেকল থেকে। সেই সুযোগ হঠাৎ করে এসেও গেলো। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে গিয়েই বাধলো ভয়াবহ বিপত্তি। পাগলা কুকুরের মতো পেছনে লাগলো ভয়ঙ্কর কিছু মানুষ। এদিকে সাহায্যকারী হিসেবে যে মানুষটা তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাকেও পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় কিনা বুঝতে পারছেনা সে। এক চোখে রঙ্গীন স্বপ্ন আর অন্য চোখে মৃত্যুভয় তার।
রেদোয়ান। ললিতার প্রেমে পাগল হয়ে পুরো যশোর শহর উল্টেপাল্টে ফেলছে সে। এমনকি লাশ ফেলতেও বাধছেনা তার। এটা কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি অক্ষম জেদ! বুঝেও যেন বুঝে উঠতে পারছেনা লোকটা।
ভুঁড়িওয়ালা ওসি শরীফুদ্দীনের চাকরি এই যায় সেই যায় অবস্থা। চাকরি বাঁচানোর জন্য তাকে এবার সত্যিই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে। তাই তারও বিরামহীন ছোটাছুটি শুরু হলো।
একটা কালো ব্যাগ। সেটা ভর্তি টাকায়। পুরো এক কোটি টাকা। এই টাকার পেছনেই ছুটে চলেছে সবাই। আর এই টাকার ব্যাগটাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ'-এর গল্প। যে গল্প শুধু মৃত্যু দিয়েই না, বরং অনিশ্চয়তাতেও ভরা।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অনেকদিন পর এমন একটা দেশীয় পটভূমিতে লিখিত থ্রিলার পড়লাম, যার কাহিনি ঢাকা কেন্দ্রিক না। 'মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ' উপন্যাসের ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে সীমান্তবর্তী শহর যশোরে। উপন্যাসের শুরুতেই ছিলো টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ছোটখাটো একটা গ্যাং ওয়ার। সেই সাথে অবধারিতভাবে রক্তপাতও ছিলো। এই ধরণের একটা কাহিনিতে পাঠককে শুরুতেই আকৃষ্ট করার জন্য এমন দৃশ্যকল্প সত্যিই দারুন সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এখানেও করেছে।
এই উপন্যাসের প্রত্যেকটা চরিত্রের ভূমিকাই ছিলো শক্তিশালী ও বাহুল্যবর্জিত। কাহিনির বুননে ছিলো যত্ন ও মুনশিয়ানার ছাপ। মাত্র ১৬০ পৃষ্ঠার এই বইটা আমার শেষ করতে খুব অল্প সময় লেগেছে শুধুমাত্র সাবলীল লেখনীর কারণে।
বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্য জগতের পরিচিত মুখ শাহেদ জামানের প্রথম মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস 'মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ'। তাঁর লেখনী এতোটাই পরিণত যে একবারো এটাকে তাঁর প্রথম মৌলিক উপন্যাস হিসেবে মনে হয়নি। তবে শেষ দিকে এসে মনে হচ্ছিলো কাহিনিটার ইতি টানার জন্য লেখক সামান্য তাড়াহুড়া করেছেন।
অনুবাদে শাহেদ জামান মেধার পরিচয় আগেই দিয়েছেন। এবার মৌলিক কাজে নিজের জাত চেনালেন তিনি। ভবিষ্যতে তাঁর কিবোর্ড থেকে আরো দারুন কিছু কাজ উঠে আসবে, আমি প্রায় নিশ্চিত। লেখকের পরবর্তী প্রজেক্টগুলোর জন্য রইলো শুভকামনা।
'মৃত্যু দিয়ে ভরা চাঁদ'-এ করা ডিলান সাহেবের প্রচ্ছদটা চমৎকার লেগেছে। এবারের বইমেলায় বাতিঘর প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত বইগুলোর প্রচ্ছদে নীল রঙের আধিক্য বেশি। ব্যাপারটা কেউ খেয়াল করেছেন? যাই হোক, যারা পড়েননি চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন দ্রুতগতির এই থ্রিলারটা। সময় কিভাবে চলে যাবে, টেরও পাবেননা।
আচ্ছা ভাবুনতো এক কোটি টাকা সমেত একখানা ব্যাগ পেলে আপনি কি করবেন? এত গুলোর টাকার লোভ সামলানো তো সহজ কথা নয়। এই গল্পটা এক কোটি টাকা সমেত একখানা ব্যাগের। সীমান্তবর্তী শহর যশোর। চোরাকারবারিদের স্বর্গ ও আঁতুড়ঘর। এ অঞ্চলের দুটি গ্যাং যাদের দলনেতা দিদার ও পান্না। পান্না ঢাকায় থাকায় তার গ্যাং চালায় রেদোয়ান। গল্পটা রেদোয়ানের। গল্পটা দিদারের। গল্পটা পতিতালয়ের ললিতা নামের মেয়েটির। যার বাঁধা বাবু রেদোয়ান। গল্পটা সেই ছেলেটির যে ললিতাকে প্রথম দিন দেখেই প্রেমে পরেছিল কিন্তু রেদোয়ানের ভয়ে বলতে পারেনি। গল্পটা ওসি সাহেবের যাকে যে কোনো মূল্যে রেদোয়ানকে গ্রেফতার করতে হবে। গল্পটা আসলে এক কোটি টাকা ভর্তি একটা ব্যাগের।
পাঠ পতিক্রিয়া- শাহেদ জামানের প্রথম মৌলিক। অনুবাদে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে এবার তিনি মৌলিক নিয়ে হাজির হয়েছেন। আমার কাছে ভালোই লেগেছে। সেবার রহস্য উপন্যাসগুলোর ফ্লেভার পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু আশা করছি।
শাহেদ জামান ভাইয়ার অনুবাদের ভক্ত ছিলাম আমি। প্রথম মৌলিক হিসাবে সেই ২০১৮ সালেই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। কিন্তু নানা তালবাহানায় আর পড়া হয়নি। তারপরে এক টানা বসে শেষ করে ফেললাম। আর একটু ধৈর্য্য এবং সময় নিলে বোধহয় আরেকটু সুন্দর হতো।