প্রফুল্ল রায়ের 'নানা সুতোর নকশা' গল্পটি সুতপা কে নিয়ে। সুতপা একটি পাবলিশিং হাউজ এ কাজ করে, প্রুফ রিডিং আর কম্পোজিং তার কাজ। যদিও বাড়ির অবস্থা একদমই ভালো না, তবুও তার মাইনে দিয়ে তাদের সংসার চলে যাচ্ছিলো। পাঁচজনের সংসারে অভাব অনটন সবসময় লেগেই আছে। বয়স সাতাশের মেয়েটিও একদিন সুন্দর দেখতে ছিল কিন্তু সেও অভাবের চাপে কিভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিলো সেই নিয়ে এই গল্প।
.
বইটি নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের জীবনযাত্রার, আর্থিক অবস্থার এবং মানসিকতার একটা দারুন দৃষ্টান্ত। বাঙালির বাঙালিয়ানা, তার কালচারের অনেক রূপ দেখতে পাওয়া যায়। লেখার ভাষা খুবই সহজ এবং ছোট্ট এর মধ্যে বইটি নেহাত মন্দ ছিল না। একটা সংসারকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ির মেয়ের আত্মাহুতি, জীবনকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাবার সংগ্রাম, কাতর পরিশ্রম লেখার প্রতি লাইনে লাইনে প্রকাশ পেয়েছে। গল্পটা ভালোই যাচ্ছিলো কিন্তু শেষ টা কেমন হঠাৎ করেই চলে এলো। এর সাথে আরও একটি গল্প বইটিতে আছে যার এই গল্পটির সাথে কোনো যোগসূত্র নেই।