What do you think?


মনসা
সোয়া’শ বছরেরও আগেকার এক ভয়ানক কিংবদন্তী আর অকুস্থলে আজ পর্যন্ত জেগে থাকা কিংবদন্তীর মনসা। মনসা কে, নাকি মনসা কী? দেবী না শতাব্দি প্রাচীন কোন ধূম্রজাল? কেবল অজপাড়াগাঁয়ের লোকমুখে চলে আসা অর্থহীন গালগল্প, নাকি সত্যিই কোন অস্তিত্ব আছে তার?
সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তরুণী হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তরুণ লেখক রুমী না চাইতেও আটকা পড়ে গেল কিংবদন্তীর অমোঘ ফাঁদে। তার সাথে জোট বাঁধতেই যেন ক্ষণে ক্ষণে ভোল পাল্টাতে লাগলো চারপাশের মানুষগুলো। এগোনো সম্ভব নয়, কিন্তু পিছিয়ে আসারও পথ নেই-কারণ, সোয়া’শ বছরের শক্তিশালী জাল পেতে জেগে আছে যে, তার চোখে একবার পড়ে গেলে পালিয়ে বাঁচা অসম্ভব।
শাহনাজ পান্নার প্রথম মৌলিক থৃলার উপন্যাসে রহস্যের ফাঁক ফোঁকর গলে উঠে এসেছে ধর্মান্ধতার আগ্রাসি আবেগ, ধর্মিয় ভন্ডামি, জ্যোতির্বিজ্ঞান আর লোকসাহিত্যের সুখপাঠ্য এক মারপ্যাঁচ।
সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তরুণী হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তরুণ লেখক রুমী না চাইতেও আটকা পড়ে গেল কিংবদন্তীর অমোঘ ফাঁদে। তার সাথে জোট বাঁধতেই যেন ক্ষণে ক্ষণে ভোল পাল্টাতে লাগলো চারপাশের মানুষগুলো। এগোনো সম্ভব নয়, কিন্তু পিছিয়ে আসারও পথ নেই-কারণ, সোয়া’শ বছরের শক্তিশালী জাল পেতে জেগে আছে যে, তার চোখে একবার পড়ে গেলে পালিয়ে বাঁচা অসম্ভব।
শাহনাজ পান্নার প্রথম মৌলিক থৃলার উপন্যাসে রহস্যের ফাঁক ফোঁকর গলে উঠে এসেছে ধর্মান্ধতার আগ্রাসি আবেগ, ধর্মিয় ভন্ডামি, জ্যোতির্বিজ্ঞান আর লোকসাহিত্যের সুখপাঠ্য এক মারপ্যাঁচ।
- GenresThriller
192 pages, Hardcover
First published February 1, 2018
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 18 of 18 reviews
March 16, 2018
কাহিনী সুন্দর। লেখনীও সুন্দর। তরতর করে এগিয়ে যাওয়া গেছে। ফিনিশিং আরও জোরালো হতে পারত।
September 2, 2018
পুরো বইয়ে ডজন কয়েক সাপ সপাসপ ছোবল মেরেই গেল, কিন্তু একটামাত্র দাঁত ভাঙা গোখরা ছাড়া আর কেউ স্কোরই করতে পারলো না, উল্টো খপাখপ এক অনভিজ্ঞ সাপুড়ে আর উঠতি লেখকের হাতে ধরা পড়লো। এরকম অলস, অকর্মা, অদক্ষ সাপ নিয়ে জাতি কি করবে???
April 4, 2021
এই বইয়ের ন্যারেটিভ ভয়ানক সর্পিল। তার মধ্য থেকে গল্প উদ্ধার করার মতো দক্ষতাসম্পন্ন সাপুড়ে... বা হার্পেটোলজিস্ট আমি নই। তাই শেষ অবধি যা বুঝলাম সেটা সাপ না তার খোলস নাকি পরের সাপের... থুড়ি গল্পের ডিম— সবটাই অনিশ্চিত।
আর হ্যাঁ, অন্য এক রিভিউয়ারের সঙ্গে আমিও একমত যে এত বিষধর সাপেদের স্ট্রাইক রেট এত কম হলে বুঝতে হবে যে বিষের ব্যাপারেও মানুষ অ্যাপেক্স প্রিডেটর হয়ে গেছে।
যাইহোক, সাপ নিয়ে চাপ না থাকলে বইটা পড়তে পারেন। সময়টা মন্দ কাটবে না।
আর হ্যাঁ, অন্য এক রিভিউয়ারের সঙ্গে আমিও একমত যে এত বিষধর সাপেদের স্ট্রাইক রেট এত কম হলে বুঝতে হবে যে বিষের ব্যাপারেও মানুষ অ্যাপেক্স প্রিডেটর হয়ে গেছে।
যাইহোক, সাপ নিয়ে চাপ না থাকলে বইটা পড়তে পারেন। সময়টা মন্দ কাটবে না।
April 18, 2020
"চম্পক নগরে ঘর চাঁদ সদাগর ।
মনসা সহিত বাদ করে নিরন্তর ।।
দেবীর কোপেতে তার ছয় পুত্র মরে ।
তথাচ দেবতা বলি না মানে তাঁহারে ।।
মনস্তাপ পায় তবু না নোয়ায় মাথা ।
বলে চেঙমুড়ী বেটী কিসের দেবতা ।।
হেতাল লইয়া হস্তে দিবানিশি ফেরে ।
মনসার অন্বেষণ করে ঘরে ঘরে ।।
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল
মনসা
-
১৮৮১ সাল, অবিভক্ত ভারতবর্ষের মালদহ জেলার নাচোল। সে অঞ্চলের চন্ডীশ্বর গ্রামের জমিদার হলেন যোগেশ্বর হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর। তার সম্পত্তির গতি করতে বেছে নিলেন এক অবাস্তব পদ্ধতি। যা থেকে সৃষ্টি হয় এক কিংবদন্তীর।
-
অনুরতা লারা, যুক্তরাস্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা’র পি.এইচ.ডি করা একজন হার্পেটোলজিস্ট তথা "সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ"। তিনি আর তার খালাতো ভাই হাসান শাহরিয়ার রুমী সাভারে এক সাপুড়ে পল্লীতে গিয়ে শোনে এক কিংবদন্তীর কথা।
-
এখন শোয়া শত বছর আগের সেই ঘটনা কতটুক মিথ আর কতটুক বাস্তব? অনুরতা লারা কি পারবে এই কিংবদন্তির কুল কিনারা করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখিকা শাহনাজ পান্নার লেখা "মনসা"।
-
"মনসা" মূলত একটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার। গল্পটির মূল ঘটনা বার বার মনসা মঙ্গল কাব্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো যে কাব্যের মূল উপজীব্য চাঁদ সদাগরের উপর দেবী মনসার অত্যাচার, চাঁদের পুত্র লখিন্দরের সর্পাঘাতে মৃত্যু ও পুত্রবধূ বেহুলার আত্মত্যাগ। গল্পের প্লটটা বেশ আকর্ষণীয়, তবে প্লটের এক্সিকিউশন অতটা ভালো হয়নি, বিশেষ করে এর শেষ অর্ধেক একেবারেই সাদামাটা লাগলো। যেভাবে গল্পটি আগাচ্ছিলো বইটি আরো ভালোভাবে শেষ হতে পারতো।
-
"মনসা" বইয়ের মূল প্রেক্ষাপট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার জোড়াদিঘী গ্রাম। গ্রামীণ পটভূমির সাথে ধর্মীয় গোড়ামি থেকে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশের নানা দিক বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে বইতে চরিত্রগুলোর কথোপকথন আরো ভালোভাবে বলা যেতে পারতো।
-
"মনসা" বইয়ের কারিগরি দিক বেশ সন্তোষজনক। প্রচ্ছদ চমৎকার। প্রথম লেখা হিসেবে শেষ অংশ বাদে বেশ ভালোই লেগেছে বইটি। সামনে লেখিকা এ ধারায় আরো কাজ করবেন, এই আশা করি।
মনসা সহিত বাদ করে নিরন্তর ।।
দেবীর কোপেতে তার ছয় পুত্র মরে ।
তথাচ দেবতা বলি না মানে তাঁহারে ।।
মনস্তাপ পায় তবু না নোয়ায় মাথা ।
বলে চেঙমুড়ী বেটী কিসের দেবতা ।।
হেতাল লইয়া হস্তে দিবানিশি ফেরে ।
মনসার অন্বেষণ করে ঘরে ঘরে ।।
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল
মনসা
-
১৮৮১ সাল, অবিভক্ত ভারতবর্ষের মালদহ জেলার নাচোল। সে অঞ্চলের চন্ডীশ্বর গ্রামের জমিদার হলেন যোগেশ্বর হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর। তার সম্পত্তির গতি করতে বেছে নিলেন এক অবাস্তব পদ্ধতি। যা থেকে সৃষ্টি হয় এক কিংবদন্তীর।
-
অনুরতা লারা, যুক্তরাস্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা’র পি.এইচ.ডি করা একজন হার্পেটোলজিস্ট তথা "সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ"। তিনি আর তার খালাতো ভাই হাসান শাহরিয়ার রুমী সাভারে এক সাপুড়ে পল্লীতে গিয়ে শোনে এক কিংবদন্তীর কথা।
-
এখন শোয়া শত বছর আগের সেই ঘটনা কতটুক মিথ আর কতটুক বাস্তব? অনুরতা লারা কি পারবে এই কিংবদন্তির কুল কিনারা করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখিকা শাহনাজ পান্নার লেখা "মনসা"।
-
"মনসা" মূলত একটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার। গল্পটির মূল ঘটনা বার বার মনসা মঙ্গল কাব্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো যে কাব্যের মূল উপজীব্য চাঁদ সদাগরের উপর দেবী মনসার অত্যাচার, চাঁদের পুত্র লখিন্দরের সর্পাঘাতে মৃত্যু ও পুত্রবধূ বেহুলার আত্মত্যাগ। গল্পের প্লটটা বেশ আকর্ষণীয়, তবে প্লটের এক্সিকিউশন অতটা ভালো হয়নি, বিশেষ করে এর শেষ অর্ধেক একেবারেই সাদামাটা লাগলো। যেভাবে গল্পটি আগাচ্ছিলো বইটি আরো ভালোভাবে শেষ হতে পারতো।
-
"মনসা" বইয়ের মূল প্রেক্ষাপট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার জোড়াদিঘী গ্রাম। গ্রামীণ পটভূমির সাথে ধর্মীয় গোড়ামি থেকে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশের নানা দিক বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে বইতে চরিত্রগুলোর কথোপকথন আরো ভালোভাবে বলা যেতে পারতো।
-
"মনসা" বইয়ের কারিগরি দিক বেশ সন্তোষজনক। প্রচ্ছদ চমৎকার। প্রথম লেখা হিসেবে শেষ অংশ বাদে বেশ ভালোই লেগেছে বইটি। সামনে লেখিকা এ ধারায় আরো কাজ করবেন, এই আশা করি।
May 25, 2018
বইয়ের নাম- মনসা
লেখক- শাহনাজ পান্না
প্রকাশনী- বাতিঘর
পৃষ্ঠা সংখ্যা-১৯০
মুদ্রিত মূল্য- ২০০ টাকা
হারপেটোলজিস্ট লারা ও তার লেখক ভাই মিলে চন্দ্রবোড়া নিয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছিলেন ঢাকা থেকে অনেক দূরের কোনো এক অঞ্চলে। সেখানে যাবার আগে বিস্তারিত তথ্য জানতে সাভারের সাপুড়ে পল্লীর এক বয়োজ্যেষ্ঠ সাপুড়ের সাথে কথা বলে তারা। চন্দ্রবোড়ার সম্বন্ধে জানতে গিয়ে তারা জানতে পারে সোয়া’শ বছরের প্রাচীন এক ভয়ংকর কিংবদন্তির কথা। ব্যাপারটা আগ্রহী করে তোলে তাদের দুজনকেই। সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জানতে পারে সেখানকার মানুষেরা দেবী মনসাকে নিয়ে ভীত। মনসা মন্দিরের পূজারির কাছ থেকে পাওয়া যায় কিছু বিস্ময়কর তথ্য। আদতে কি ছিল সেই কিংবদন্তি? কেনই বা সে অঞ্চলের মানুষ মনসাকে ভয় পায় এত?
পাঠ পতিক্রিয়া- বইটা ধরার আগে এর বিষয়বস্তু ও প্রিভিউ বেশ আগ্রহী করে তুলেছিল। তবে তেমন একটা ভালো লাগলো না পড়ে। ছোট একটা গল্পকে অহেতুক ১৯০ পৃষ্ঠা করা হয়েছে মনে হল আমার। বিষয়বস্তু খুব আগ্রহী করার মত হলেও প্লট টা বেশ সাদামাটা। মোটামুটি বলা যায়। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা।
লেখক- শাহনাজ পান্না
প্রকাশনী- বাতিঘর
পৃষ্ঠা সংখ্যা-১৯০
মুদ্রিত মূল্য- ২০০ টাকা
হারপেটোলজিস্ট লারা ও তার লেখক ভাই মিলে চন্দ্রবোড়া নিয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছিলেন ঢাকা থেকে অনেক দূরের কোনো এক অঞ্চলে। সেখানে যাবার আগে বিস্তারিত তথ্য জানতে সাভারের সাপুড়ে পল্লীর এক বয়োজ্যেষ্ঠ সাপুড়ের সাথে কথা বলে তারা। চন্দ্রবোড়ার সম্বন্ধে জানতে গিয়ে তারা জানতে পারে সোয়া’শ বছরের প্রাচীন এক ভয়ংকর কিংবদন্তির কথা। ব্যাপারটা আগ্রহী করে তোলে তাদের দুজনকেই। সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জানতে পারে সেখানকার মানুষেরা দেবী মনসাকে নিয়ে ভীত। মনসা মন্দিরের পূজারির কাছ থেকে পাওয়া যায় কিছু বিস্ময়কর তথ্য। আদতে কি ছিল সেই কিংবদন্তি? কেনই বা সে অঞ্চলের মানুষ মনসাকে ভয় পায় এত?
পাঠ পতিক্রিয়া- বইটা ধরার আগে এর বিষয়বস্তু ও প্রিভিউ বেশ আগ্রহী করে তুলেছিল। তবে তেমন একটা ভালো লাগলো না পড়ে। ছোট একটা গল্পকে অহেতুক ১৯০ পৃষ্ঠা করা হয়েছে মনে হল আমার। বিষয়বস্তু খুব আগ্রহী করার মত হলেও প্লট টা বেশ সাদামাটা। মোটামুটি বলা যায়। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা।
March 7, 2018
প্রথম দিকে আধিভৌতিক বা ভয়ানক কাহিনী মনে হলেও পাতায় পাতায় গল্প এগিয়ে গেছে সুবিস্তৃত ছন্দে। কিংবদন্তীর দেবী মনসার নামে উপন্যাসের নাম দেখে মনে করেছিলাম ব্যাপারটা হয়ত রহস্যময় কোন ঘটনাতেই মোড় নেবে। আপাতদৃষ্টিতে জটিল ও রহস্যাবৃত ঘটনাবলীর এমন সুন্দর উপস্থাপনা শেষ পর্যন্ত ভাল লেগেছে। সাথে সাথে লেখিকার প্রকৃতি বা রাতের আকাশের তারারাজির বর্ণনা তার প্রকৃতিপ্রেমের ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও আমার মত আনাড়ির জন্য তা একটু বোধের বাইরেই ছিলো। আর স্থানীয় জনপদের আঞ্চলিক ভাষা মজা লেগেছে। আশ্চর্য ভাবেই আমার তেমন ভাবে কোন অসুবিধা হয়নি বুঝতে। সম্ভবত প্রায় ৭ বছরের মত সময় এর চেয়েও কয়েকগুণ জটিল আঞ্চলিক ভাষার লোকজনের কাছাকাছি থাকার সুফল।😂
হ্যাপি রিডিং।।।
হ্যাপি রিডিং।।।
June 6, 2018
Overall good but the ending was too slow. could be much better. Best wishes for the writer.
June 21, 2018
সাভারের পশ্চিম তীর ঘেঁষে বয়ে চলা বংশী নদী। সেই নদী ধরে কিছুটা এগোলেই বিখ্যাত পোড়াবাড়ি সাপুড়ে পল্লী। বিষাক্ত চন্দ্রবোড়া সাপের খোঁজে সেখানে এলো যুক্তরাস্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমা’র পি.এইচ.ডি গবেষক হার্পেটোলজিস্ট অনুরতা লারা আর তার ভাই হাসান শাহরিয়ার রুমী। প্রবীণ সাপুড়ে হানযাল মিয়ার মুখে অদ্ভুত একটা লোককাহিনী শুনলো ওরা।
“ইংরেজদের থেকে লুকিয়ে জমিদারির সমস্ত ধনরত্ন বিশাল এক কলসের ভেতরে করে সর্পদেবী মনসার মন্দিরে রেখে এসেছিলেন অবিভক্ত ভারতের নাচোল মহকুমার চন্ডীশ্বর গ্রামের জমিদার যোগেশ্বর হরেকৃষ্ণ গঙ্গাধর। সাথে উৎসর্গ করেছিলেন সাত বছর বয়সি এক কন্যাশিশুকে। কিন্তু পাশার দান পাল্টে যেতে সময় লাগেনি। মন্দির থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল শিশুটি। সাথে ভোজবাজির মতো উদয় হয়েছিল প্রায় হাত পাঁচেক লম্বা এক গোখরো সাপ, গোটা কয়েক পাঁকে পেঁচিয়ে ধরেছিল কলসের গলা। কথিত আছে শিশুটির একচোখ নষ্ট থাকায় সন্তুষ্টি নয় বরং মনসা দেবীর রোষানলে পড়েছিলেন গঙ্গাধর। একে একে মারা পড়েছিল তার তিন সন্তান। দেখতে দেখতে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল সাধের জমিদারি। সে রাতে জেগে উঠেছিলেন স্বয়ং সর্পদেবী ‘মা মনসা’। বলা হয়ে থাকে সেই থেকে এত বছর পরেও জেগে আছেন তিনি। পাহারা দিয়ে চলছেন জমিদার গঙ্গাধরের অভিশপ্ত গুপ্তধন।”
বুড়ো সাপুড়ের মুখে শুনে পুরনো সেই রহস্যের পেছনে ছুটলো লারা আর রুমী। জানা গেল সেই চন্ডীশ্বর এখন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিভৃত গ্রাম ‘জোড়াদিঘী’। ওদের চন্দ্রবোড়া সাপ খোঁজার সাথে যুক্ত হয় শতাব্দীপ্রাচীন এক মিথ! শুরু হলো এক কিংবদন্তীর খোঁজ!
লারা আর রুমী না চাইতেও আটকা পরে কিংবদন্তীর অমোঘ ফাঁদে! তার সাথে জোট বাঁধতেই যেন ক্ষনে ক্ষনে ভোল পাল্টাতে লাগলো চারপাশের মানুষগুলো। সোয়া’শ বছর ধরে শক্তিশালী জাল পেতে আছে যে তার হাত থেকে পালিয়ে বাঁচা আদৌ কি সম্ভব? পরে তারা কি পেরেছিল হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন উদ্ধার করতে? সত্যিই কি অস্তিত্ব আছে সাপের দেবী মনসার? প্রাচীন সেই মন্দির থেকে রাতে বের হওয়া সবুজ ধোঁয়া’র রহস্যই বা কি?
শ্রী দেবী’র সাপের আদলে লস্যময়ী নাঁচ কিংবা ‘জাম্পিং জ্যাক’ জিতেন্দ্র’র সাদা কোট প্যান্টে তিড়িং বিড়িং লাফানো অথবা কাঠ ফাঁটা রোদে ইলিয়াস কাঞ্চনের বাঁশি হাতে বাগানে দৌড়ে চলা আর অঞ্জু ঘোষের আয়ত চাহনিতে নাগ হত্যাকারীর ছবি আটকে যাওয়া -
আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় ‘নাগীনা’ থেকে বর্তমানে কালার্স টিভির মেগা শো, ভারত কিংবা বাংলাদেশে সাপের গল্পগুলোর উপস্থিতী আমাদের কাছে অনেকটা এরকমই। তাই Book Street'এ ‘মনসা’র ভীন্নধর্মী গল্প সংক্ষেপ দেখে অর্ডার দিতে দেরি করিনি।
প্রথম মৌলিকেই গল্পের ভিন্নতা দিয়ে লেখিকা জাত চিনিয়েছেন। চমৎকার প্লট। গল্পের গাঁথুনীও বেশ গাঁড়। সাথে প্রাচীন মিথলজি আর জ্যোতির্বিদ্যার মিশেল নিঃসন্দেহে ‘মনসা’র শক্তিশালী দিক। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর ক্যারেক্টারাইজেশন ভালো লেগেছে। লারা’র নামকরনের পেছনের গল্পটা women empowerment’এর ইঙ্গিত বহন করে যা বেশ প্রশংসনীয়। লেখিকা প্রচুর গবেষণা করে, অনেক যত্ন নিয়ে অতীত, মিথ আর বাস্তবের পরত দিয়ে একটি গল্প লিখেছেন, সচেতন ভাবে একটা ভয়ের আবহ তৈরী করতে চেয়েছেন। তার এ প্রচেষ্টা চোখে পড়ে। তাছাড়া, অধ্যায় গুলোর শুরুতে বিভিন্ন পুঁথির অংশবিশেষ ‘মনসা’কে বেশ অলংকৃত করেছে। সাপ নিয়ে, জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে প্রচুর তথ্য আছে বইটিতে। একটু সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে পড়ে গেলে তা আপনার জ্ঞান ভান্ডারকে বেশ সমৃদ্ধ করবে।
প্রায় নতুনদের মধ্যেই ইদানিং যা বেশী চোখে পড়েছে তা হলোঃ ফাটা ফাটি একটা শুরু, সমান তাল দিয়ে চলা প্লট আর তারপরেই তাড়াহুড়ো করে সমাপ্তি। ‘মনসা’র শুরুটা তেমনি হলেও শেষটা তাড়াহুড়ো করে হয়নি বরং অনেক বেশী ধীর মনে হয়েছে। প্রচুর বর্নণা ছিল বইটিতে। প্রথমে আকর্ষনীয় লাগলেও পরে বিরক্ত লেগেছে। মনে হয়েছে, কিছু যায়গায় গল্পটাকে অযথাই টেনে বড় করা হয়েছে, যা ভালো লাগেনি। তাছাড়া পুরো গল্প জুড়েই সংলাপ যথেষ্ঠ দুর্বল ছিল। বেঁদে পাড়ার মেয়ের নিজের নাম বলে সংলাপ শুরু করা, পুঁথিগত শব্দ দিয়ে বাক্যের সমাপ্তি, কিছু জায়গায় আঞ্চলিক শব্দের অপপ্রয়োগ বেশ চোখে লেগেছে। লেখিকার বর্নণা ভঙ্গিতেও কিছুটা গাম্ভীর্য লক্ষ্য করেছি। ব্যাপারটা ব্যাকরণের দৃষ্টিতে প্রশংসিত হলেও পাঠকের টানা পড়ে যাওয়াতে বাধা সৃষ্টি করবে বলে মনে হয়। যে লাইনটা সরল ভাষায় লেখা যেত সেটাই বেশ জটিল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
লেখিকা নতুন, পেশায় আমার মতোই ডেন্টাল সার্জন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী থ্রিলার আর বাতিঘর প্রকাশনীর সংযুক্তি; এ কারণগুলোর জন্যই বইটি কিনতে আগ্রহী হয়েছিলাম। তবে বুকে হাত দিয়ে বললে, মনসা আমার প্রত্যাশা পুরন করতে পারেনি। লেখিকার কাছে আরো পরিণত, আরো গোছানো, কমপ্লিট লেখা আশা করেছিলাম।
তারপরেও বলবো বইটি আপনারা কিনুন। এই জন্য কিনবেন যেন লেখিকা তার অসম্পূর্ণতাগুলো কাটিয়ে আরও পার্ফেক্ট ভাবে ফিরে আসতে পারে। মনে রাখবেন, প্রথম মৌলিকেই বাংলার প্রাচীন মিথ আর জ্যোতির্বিদ্যার সমন্বয়ে থ্রিলার লেখা কিন্তু সহজ নয়। একজন লেখকের বিকাশে আপনার সহায়ক ভূমিকা একান্ত কাম্য। আমি অবশ্যই তার পরবর্তী মৌলিকের অপেক্ষায় থাকবো।
বাতিঘরের প্রচ্ছদ, কাগজ, কম্পোজ আর বাঁধাই নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সব কিছুই আউটস্ট্যান্ডিং। প্রচ্ছদ শিল্পী তানিয়া সুলতানা'র আঁকা আমার বরাবরই ভালো লাগে। পরিচ্ছন্ন প্রচ্ছদের জন্য তাকে অভিনন্দন। সাথে বানান ভুল তেমন চোখে পরেনি, এ জন্য প্রুফ রিডারকেও ধন্যবাদ।
বাতিঘর প্রকাশনীর বাংলাবাজার শোরুম থেকে শুরু করে প্রায় সব গল্পের বইয়ের দোকান ও অনলাইনে সকল বুকস্টোরে আকর্ষণীয় ছাড়ে পাবেন ‘মনসা।’ তাই আর দেরি না করে শুরু করে দিন। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৯০ আর কেনা যাবে ২১০ টাকা মুল্যে (ছাড় ছাড়া)। ধন্যবাদ সবাইকে।
®️ ডাঃ তানভীর, ডেন্টাল মেড, রংপুর।
“ইংরেজদের থেকে লুকিয়ে জমিদারির সমস্ত ধনরত্ন বিশাল এক কলসের ভেতরে করে সর্পদেবী মনসার মন্দিরে রেখে এসেছিলেন অবিভক্ত ভারতের নাচোল মহকুমার চন্ডীশ্বর গ্রামের জমিদার যোগেশ্বর হরেকৃষ্ণ গঙ্গাধর। সাথে উৎসর্গ করেছিলেন সাত বছর বয়সি এক কন্যাশিশুকে। কিন্তু পাশার দান পাল্টে যেতে সময় লাগেনি। মন্দির থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল শিশুটি। সাথে ভোজবাজির মতো উদয় হয়েছিল প্রায় হাত পাঁচেক লম্বা এক গোখরো সাপ, গোটা কয়েক পাঁকে পেঁচিয়ে ধরেছিল কলসের গলা। কথিত আছে শিশুটির একচোখ নষ্ট থাকায় সন্তুষ্টি নয় বরং মনসা দেবীর রোষানলে পড়েছিলেন গঙ্গাধর। একে একে মারা পড়েছিল তার তিন সন্তান। দেখতে দেখতে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল সাধের জমিদারি। সে রাতে জেগে উঠেছিলেন স্বয়ং সর্পদেবী ‘মা মনসা’। বলা হয়ে থাকে সেই থেকে এত বছর পরেও জেগে আছেন তিনি। পাহারা দিয়ে চলছেন জমিদার গঙ্গাধরের অভিশপ্ত গুপ্তধন।”
বুড়ো সাপুড়ের মুখে শুনে পুরনো সেই রহস্যের পেছনে ছুটলো লারা আর রুমী। জানা গেল সেই চন্ডীশ্বর এখন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিভৃত গ্রাম ‘জোড়াদিঘী’। ওদের চন্দ্রবোড়া সাপ খোঁজার সাথে যুক্ত হয় শতাব্দীপ্রাচীন এক মিথ! শুরু হলো এক কিংবদন্তীর খোঁজ!
লারা আর রুমী না চাইতেও আটকা পরে কিংবদন্তীর অমোঘ ফাঁদে! তার সাথে জোট বাঁধতেই যেন ক্ষনে ক্ষনে ভোল পাল্টাতে লাগলো চারপাশের মানুষগুলো। সোয়া’শ বছর ধরে শক্তিশালী জাল পেতে আছে যে তার হাত থেকে পালিয়ে বাঁচা আদৌ কি সম্ভব? পরে তারা কি পেরেছিল হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন উদ্ধার করতে? সত্যিই কি অস্তিত্ব আছে সাপের দেবী মনসার? প্রাচীন সেই মন্দির থেকে রাতে বের হওয়া সবুজ ধোঁয়া’র রহস্যই বা কি?
শ্রী দেবী’র সাপের আদলে লস্যময়ী নাঁচ কিংবা ‘জাম্পিং জ্যাক’ জিতেন্দ্র’র সাদা কোট প্যান্টে তিড়িং বিড়িং লাফানো অথবা কাঠ ফাঁটা রোদে ইলিয়াস কাঞ্চনের বাঁশি হাতে বাগানে দৌড়ে চলা আর অঞ্জু ঘোষের আয়ত চাহনিতে নাগ হত্যাকারীর ছবি আটকে যাওয়া -
আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় ‘নাগীনা’ থেকে বর্তমানে কালার্স টিভির মেগা শো, ভারত কিংবা বাংলাদেশে সাপের গল্পগুলোর উপস্থিতী আমাদের কাছে অনেকটা এরকমই। তাই Book Street'এ ‘মনসা’র ভীন্নধর্মী গল্প সংক্ষেপ দেখে অর্ডার দিতে দেরি করিনি।
প্রথম মৌলিকেই গল্পের ভিন্নতা দিয়ে লেখিকা জাত চিনিয়েছেন। চমৎকার প্লট। গল্পের গাঁথুনীও বেশ গাঁড়। সাথে প্রাচীন মিথলজি আর জ্যোতির্বিদ্যার মিশেল নিঃসন্দেহে ‘মনসা’র শক্তিশালী দিক। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর ক্যারেক্টারাইজেশন ভালো লেগেছে। লারা’র নামকরনের পেছনের গল্পটা women empowerment’এর ইঙ্গিত বহন করে যা বেশ প্রশংসনীয়। লেখিকা প্রচুর গবেষণা করে, অনেক যত্ন নিয়ে অতীত, মিথ আর বাস্তবের পরত দিয়ে একটি গল্প লিখেছেন, সচেতন ভাবে একটা ভয়ের আবহ তৈরী করতে চেয়েছেন। তার এ প্রচেষ্টা চোখে পড়ে। তাছাড়া, অধ্যায় গুলোর শুরুতে বিভিন্ন পুঁথির অংশবিশেষ ‘মনসা’কে বেশ অলংকৃত করেছে। সাপ নিয়ে, জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে প্রচুর তথ্য আছে বইটিতে। একটু সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে পড়ে গেলে তা আপনার জ্ঞান ভান্ডারকে বেশ সমৃদ্ধ করবে।
প্রায় নতুনদের মধ্যেই ইদানিং যা বেশী চোখে পড়েছে তা হলোঃ ফাটা ফাটি একটা শুরু, সমান তাল দিয়ে চলা প্লট আর তারপরেই তাড়াহুড়ো করে সমাপ্তি। ‘মনসা’র শুরুটা তেমনি হলেও শেষটা তাড়াহুড়ো করে হয়নি বরং অনেক বেশী ধীর মনে হয়েছে। প্রচুর বর্নণা ছিল বইটিতে। প্রথমে আকর্ষনীয় লাগলেও পরে বিরক্ত লেগেছে। মনে হয়েছে, কিছু যায়গায় গল্পটাকে অযথাই টেনে বড় করা হয়েছে, যা ভালো লাগেনি। তাছাড়া পুরো গল্প জুড়েই সংলাপ যথেষ্ঠ দুর্বল ছিল। বেঁদে পাড়ার মেয়ের নিজের নাম বলে সংলাপ শুরু করা, পুঁথিগত শব্দ দিয়ে বাক্যের সমাপ্তি, কিছু জায়গায় আঞ্চলিক শব্দের অপপ্রয়োগ বেশ চোখে লেগেছে। লেখিকার বর্নণা ভঙ্গিতেও কিছুটা গাম্ভীর্য লক্ষ্য করেছি। ব্যাপারটা ব্যাকরণের দৃষ্টিতে প্রশংসিত হলেও পাঠকের টানা পড়ে যাওয়াতে বাধা সৃষ্টি করবে বলে মনে হয়। যে লাইনটা সরল ভাষায় লেখা যেত সেটাই বেশ জটিল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
লেখিকা নতুন, পেশায় আমার মতোই ডেন্টাল সার্জন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী থ্রিলার আর বাতিঘর প্রকাশনীর সংযুক্তি; এ কারণগুলোর জন্যই বইটি কিনতে আগ্রহী হয়েছিলাম। তবে বুকে হাত দিয়ে বললে, মনসা আমার প্রত্যাশা পুরন করতে পারেনি। লেখিকার কাছে আরো পরিণত, আরো গোছানো, কমপ্লিট লেখা আশা করেছিলাম।
তারপরেও বলবো বইটি আপনারা কিনুন। এই জন্য কিনবেন যেন লেখিকা তার অসম্পূর্ণতাগুলো কাটিয়ে আরও পার্ফেক্ট ভাবে ফিরে আসতে পারে। মনে রাখবেন, প্রথম মৌলিকেই বাংলার প্রাচীন মিথ আর জ্যোতির্বিদ্যার সমন্বয়ে থ্রিলার লেখা কিন্তু সহজ নয়। একজন লেখকের বিকাশে আপনার সহায়ক ভূমিকা একান্ত কাম্য। আমি অবশ্যই তার পরবর্তী মৌলিকের অপেক্ষায় থাকবো।
বাতিঘরের প্রচ্ছদ, কাগজ, কম্পোজ আর বাঁধাই নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সব কিছুই আউটস্ট্যান্ডিং। প্রচ্ছদ শিল্পী তানিয়া সুলতানা'র আঁকা আমার বরাবরই ভালো লাগে। পরিচ্ছন্ন প্রচ্ছদের জন্য তাকে অভিনন্দন। সাথে বানান ভুল তেমন চোখে পরেনি, এ জন্য প্রুফ রিডারকেও ধন্যবাদ।
বাতিঘর প্রকাশনীর বাংলাবাজার শোরুম থেকে শুরু করে প্রায় সব গল্পের বইয়ের দোকান ও অনলাইনে সকল বুকস্টোরে আকর্ষণীয় ছাড়ে পাবেন ‘মনসা।’ তাই আর দেরি না করে শুরু করে দিন। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৯০ আর কেনা যাবে ২১০ টাকা মুল্যে (ছাড় ছাড়া)। ধন্যবাদ সবাইকে।
®️ ডাঃ তানভীর, ডেন্টাল মেড, রংপুর।
March 9, 2018
শাহনাজ পান্নার ব্যাপারে যে কথাটা গোড়াতে বলতে চাইছি, তার লেখনী ভীষণ ভাল। গল্প ছড়িয়ে নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। তার ব্যাপারে আশাবাদী হবার মতো উপাদান তিনি দিয়েছেন এই প্রথম বইতেই। এলেমের প্রমাণ রেখেছেন। তার বাক্য গঠন পড়তে আরাম। সস্তা/কমজোরী না আবার ভারী শব্দের ভারে কুঁজোও না। শিল্পসম্মত বাক্যগঠন, লেখাকে ওজন দিয়েছে; যেটা হাল আমলের প্রায় সব ডেব্যুট্যান্টের থৃলার লেখিয়ের চেয়ে আলাদা করেছে তাকে। দুঃখ কেবল সংলাপে।
বড় বুকিশ সংলাপ হয়ে গেল। বলতে পারেন, বইয়ের সংলাপ তো বুকিশ হবেই! না, অন্ততঃ সংলাপটা বুকিশ হলে চলেনা আমি ভাবি। একদম হতে হয় মুখের কথা। এ জায়গায় তার সুবিশেষ নজর আশা করছি, তার নিয়মিত পাঠক হবার লোভে। আঞ্চলিক সংলাপগুলো পুরোপুরি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক হয়েছিল কি না, সেটা দেখার বিষয়। হওয়াটা জরুরী। মূল চরিত্রদুটোর সংলাপ বুকিশ না হলে, লেখনী নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা থাকতোনা। হয় কি, চরিত্র যখন এই বুকিশ সংলাপ দেয়; তখন তাদের আর আপন মনে হয়না। জীবন্ত হয়ে উঠতে পারেনা তারা আর। কাগজের, হরফের চরিত্র হয়ে থাকে, চেনা-জানা, কাছের মানুষ হয়না। আপনার-আমার চেনা-জানা কোন লোকটা বুকিশ কথা কয়?
গল্প নিয়ে সুবিশেষ বলার নাই, এক কায়দার ভালই হয়েছে। এইটুক আশাবাদী, ডেব্যুট্যান্ট এই লেখক যে এলেমের প্রমাণ দিয়েছেন, দিনে দিনে আরও শাণিত হবার ক্ষমতা তার আছে। গল্পের উচ্চতার সমান এক্সিকিউশান তিনি দেখাবেন সামনে। সংলাপ আর গল্পবলায় তিনি যদি হতে পারেন মুন্সী; নিশ্চিতভাবেই শাহনাজ পান্না আমার পছন্দের লেখকের তালিকায় উঠে আসবেন শীঘ্র। তার লেখা পড়তে আরাম, এলেম আছে ঘঁটে।
বিঃদ্রঃ একরকম বুকিশ ঢং এ লেখা ওপরের সবটুকু।
হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তার ভাই রুমী ঘটনাক্রমে জড়িয়ে যায় সোয়া’শ বছর আগের এক কিংবদন্তীর সঙ্গে। ১৮ শতকের শেষ দিককার কথা। আষাঢ় মাসের শেষার্ধে অশ্লেষা নক্ষত্রে জন্ম নেয়া সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যুর কারণ হয় জমিদার যোগেশ্বর হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর। শংকর গোয়ালা আর সুভদ্রা গোয়ালিনীর এক চোখবিহীন এই মেয়ে, পদ্মার সাথে ঘটনাক্রমে/মিথক্রমে জড়িয়ে যায় ভয়ালদর্শন গোখরো। বার্ষিক গতির অলংঘণীয় নিয়মে বর্তমান সময়ে এসে পদ্মা-গোখরোর মিথ ফুলে ওঠে মনসা দেবীর কলেবরে।
যেখানে মিথ কিংবা অন্ধবিশ্বাস, সেখানে ধর্মভীরু মানুষের আনা-গোণা অবশ্যম্ভাবী। আবার যেখানে ধর্মভীরুদের পূজা-অর্চনা, সেখানেই বসে ধর্ম-ব্যাপারীর হাট। এই হাটে নিতান্তই অনাহুতের মতো হাজির হয় লারা আর রুমী। যাদের চোখে মনসা দেবীর মিথ কিংবা সংশ্লিষ্ট আর সবকিছুর লৌকিক ব্যাখ্যা থাকতে বাধ্য। কিন্তু ধর্ম ব্যাবসার হাটে বেচে যাওয়া মানুষরা কখনো, কোথাও প্রস্তুত থাকেনা তাদের বিশ্বাসের লৌকিক রূপের সামনে দাঁড়াতে। ব্যাপারীরাও কেন চাইবে তাদের হাট ভেঙে দিক কেউ?
লারা ঠিক এই ট্যাবুসমগ্রই ভাংতে চায়; নিতান্ত জেদের বশে বা অভ্যাসে। গল্পের এই সাবটেক্সট ভাল লেগেছে, সাম্প্রতিক সময়ের সাথে (বা আগেও তো এমনই ছিল) যায় খুব। এরপর সাংঘর্ষিক ঘটনাপ্রবাহ অনুমেয় হলেও, লেখার গুণে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরানো সম্ভব হয়না। ঘটনাপ্রবাহ মোটাদাগে অনুমান করা গেলেও, অধ্যায় শেষের হুক আর আগে-পিছে করে গল্পের বয়ান, বইয়ের সহযাত্রী হবার সময়টা উপভোগ্য করেছে।
কয়েকটি শক্তিশালী চরিত্র, গল্পের বুনিয়াদ করেছে মজবুত। স্বল্পভাষী রাজেশ, দ্রোণাচার্য, সেই আনপ্রেডিক্টেবল মেম্বার মনে রাখার মতো চরিত্র। জামালও শেষ পর্যন্ত বুঝিয়েছে তাকে মনে রাখতে হবে। গল্প, গল্প বয়ান, লেখনী এই বইয়ের শক্তিশালী দিক। দূর্বল রয়ে গেছে সংলাপ কেবল। জনাব, মশাই ধরণের সম্বোধন চোখে লাগে খুব ২০১৮ তে।
তবে শেষ পর্যন্ত লেখকের এলেমের কাছে এই একটা দূর্বলতা হার মানে। তার পরবর্তী বইটাও আগ্রহ নিয়েই হাতে তুলবো।
বড় বুকিশ সংলাপ হয়ে গেল। বলতে পারেন, বইয়ের সংলাপ তো বুকিশ হবেই! না, অন্ততঃ সংলাপটা বুকিশ হলে চলেনা আমি ভাবি। একদম হতে হয় মুখের কথা। এ জায়গায় তার সুবিশেষ নজর আশা করছি, তার নিয়মিত পাঠক হবার লোভে। আঞ্চলিক সংলাপগুলো পুরোপুরি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক হয়েছিল কি না, সেটা দেখার বিষয়। হওয়াটা জরুরী। মূল চরিত্রদুটোর সংলাপ বুকিশ না হলে, লেখনী নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা থাকতোনা। হয় কি, চরিত্র যখন এই বুকিশ সংলাপ দেয়; তখন তাদের আর আপন মনে হয়না। জীবন্ত হয়ে উঠতে পারেনা তারা আর। কাগজের, হরফের চরিত্র হয়ে থাকে, চেনা-জানা, কাছের মানুষ হয়না। আপনার-আমার চেনা-জানা কোন লোকটা বুকিশ কথা কয়?
গল্প নিয়ে সুবিশেষ বলার নাই, এক কায়দার ভালই হয়েছে। এইটুক আশাবাদী, ডেব্যুট্যান্ট এই লেখক যে এলেমের প্রমাণ দিয়েছেন, দিনে দিনে আরও শাণিত হবার ক্ষমতা তার আছে। গল্পের উচ্চতার সমান এক্সিকিউশান তিনি দেখাবেন সামনে। সংলাপ আর গল্পবলায় তিনি যদি হতে পারেন মুন্সী; নিশ্চিতভাবেই শাহনাজ পান্না আমার পছন্দের লেখকের তালিকায় উঠে আসবেন শীঘ্র। তার লেখা পড়তে আরাম, এলেম আছে ঘঁটে।
বিঃদ্রঃ একরকম বুকিশ ঢং এ লেখা ওপরের সবটুকু।
হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তার ভাই রুমী ঘটনাক্রমে জড়িয়ে যায় সোয়া’শ বছর আগের এক কিংবদন্তীর সঙ্গে। ১৮ শতকের শেষ দিককার কথা। আষাঢ় মাসের শেষার্ধে অশ্লেষা নক্ষত্রে জন্ম নেয়া সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যুর কারণ হয় জমিদার যোগেশ্বর হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর। শংকর গোয়ালা আর সুভদ্রা গোয়ালিনীর এক চোখবিহীন এই মেয়ে, পদ্মার সাথে ঘটনাক্রমে/মিথক্রমে জড়িয়ে যায় ভয়ালদর্শন গোখরো। বার্ষিক গতির অলংঘণীয় নিয়মে বর্তমান সময়ে এসে পদ্মা-গোখরোর মিথ ফুলে ওঠে মনসা দেবীর কলেবরে।
যেখানে মিথ কিংবা অন্ধবিশ্বাস, সেখানে ধর্মভীরু মানুষের আনা-গোণা অবশ্যম্ভাবী। আবার যেখানে ধর্মভীরুদের পূজা-অর্চনা, সেখানেই বসে ধর্ম-ব্যাপারীর হাট। এই হাটে নিতান্তই অনাহুতের মতো হাজির হয় লারা আর রুমী। যাদের চোখে মনসা দেবীর মিথ কিংবা সংশ্লিষ্ট আর সবকিছুর লৌকিক ব্যাখ্যা থাকতে বাধ্য। কিন্তু ধর্ম ব্যাবসার হাটে বেচে যাওয়া মানুষরা কখনো, কোথাও প্রস্তুত থাকেনা তাদের বিশ্বাসের লৌকিক রূপের সামনে দাঁড়াতে। ব্যাপারীরাও কেন চাইবে তাদের হাট ভেঙে দিক কেউ?
লারা ঠিক এই ট্যাবুসমগ্রই ভাংতে চায়; নিতান্ত জেদের বশে বা অভ্যাসে। গল্পের এই সাবটেক্সট ভাল লেগেছে, সাম্প্রতিক সময়ের সাথে (বা আগেও তো এমনই ছিল) যায় খুব। এরপর সাংঘর্ষিক ঘটনাপ্রবাহ অনুমেয় হলেও, লেখার গুণে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরানো সম্ভব হয়না। ঘটনাপ্রবাহ মোটাদাগে অনুমান করা গেলেও, অধ্যায় শেষের হুক আর আগে-পিছে করে গল্পের বয়ান, বইয়ের সহযাত্রী হবার সময়টা উপভোগ্য করেছে।
কয়েকটি শক্তিশালী চরিত্র, গল্পের বুনিয়াদ করেছে মজবুত। স্বল্পভাষী রাজেশ, দ্রোণাচার্য, সেই আনপ্রেডিক্টেবল মেম্বার মনে রাখার মতো চরিত্র। জামালও শেষ পর্যন্ত বুঝিয়েছে তাকে মনে রাখতে হবে। গল্প, গল্প বয়ান, লেখনী এই বইয়ের শক্তিশালী দিক। দূর্বল রয়ে গেছে সংলাপ কেবল। জনাব, মশাই ধরণের সম্বোধন চোখে লাগে খুব ২০১৮ তে।
তবে শেষ পর্যন্ত লেখকের এলেমের কাছে এই একটা দূর্বলতা হার মানে। তার পরবর্তী বইটাও আগ্রহ নিয়েই হাতে তুলবো।
August 28, 2018
ঈদের ছুটিতে শেষ করলাম বাতিঘর থেকে প্রকাশিত শাহ্নাজ পান্নার "মনসা"। কাহিনীটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল কিন্তু বর্ননা বেশি মনে হয়েছে। আরো কম পেজে শেষে করলে পারফেক্ট হতো। শুরু টা বেশ ছিল কিন্তু শেষ টা দুর্বল লেগেছে। তবে লেখীকার একটি পজিটিভ সাইট হলো খুব সহজ ভাবে প্রকাশ করতে পারে। আশা করি সমনে আরো ভালো ভালো বই পাবো লেখীকার কাছ থেকে। যারা সাপ নিয়ে জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য উপযুক্ত বই।
হ্যাপি রিডিং :)
হ্যাপি রিডিং :)
February 27, 2018
বইয়ের প্লট আর আইডিয়া শুরুর দিকে যথেষ্ট ভালো থাকলেও শেষে একদম চিউইংগামের মতো ঝুলে গেসে....
March 26, 2018
It wasn't a ground breaking plot, but it was intriguing enough to push me forward to reach the finishing line. The plot circulates around religious superstitions and the advantages people take of them in the form of religion. I have enjoyed reading the book from the GO to the FINISH point, as the writing style of the writer has something of her own, notably the utmost tendency to use Bangla whenever and wherever possible.
Another thing caught my eyes during the reading journey, which is, giving enough attention to even the smallest detail to redraw a given scenario in the reader's mind. Also, the continuous and fast changes of climax truly depict the picture of religious sentiment and how it confuses our judgement in our day to day life.
The protagonist is a lady character who appears more as human rather than a superlady, as many other lady-centric novels try to portray a woman. In this sense, I believe the writer herself is a realist, not a dreamer.
Just one thing I like to mention, this book is quite short of humor which at times results in exhaustion. But it's just my point of view, which may differ from person to person in this criterion.
Given this is the first book of the writer, I look forward to reading more of her works.
Another thing caught my eyes during the reading journey, which is, giving enough attention to even the smallest detail to redraw a given scenario in the reader's mind. Also, the continuous and fast changes of climax truly depict the picture of religious sentiment and how it confuses our judgement in our day to day life.
The protagonist is a lady character who appears more as human rather than a superlady, as many other lady-centric novels try to portray a woman. In this sense, I believe the writer herself is a realist, not a dreamer.
Just one thing I like to mention, this book is quite short of humor which at times results in exhaustion. But it's just my point of view, which may differ from person to person in this criterion.
Given this is the first book of the writer, I look forward to reading more of her works.
April 1, 2018
The book was good till the 100-120 pages. Then it lost its pace and never gained it back. The story arch finished there. Writing style is very mature considering it is writer's first book. Best wishes for her.
December 25, 2018
অনেক ভালো লেগেছে।
March 13, 2018
মনসার কথা শুনেছেন নিশ্চয়? অথবা চাঁদ সওদাগর আর তার ছেলেদের কথা? আচ্ছা বাদ দিন, বেহুলা আর লক্ষ্মীন্দরের কথা তো অবশ্যই শুনেছেন। মনসার ছোবল থেকে যারা রক্ষা পায়নি। আচ্ছা ধরুন, যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে শুনে আসা সেই লোককাহিনী যদি সত্যি হয়ে থাকে? যদি আদপেই মনসার অস্তিত্ব প্রমাণ হয়? তাও যদি আমাদের এই বাংলাদেশেই? কেমন হবে ব্যাপারটা?
অনুওরতা লারা। হার্পেটোলজিস্ট, বাংলায় বলতে গেলে সরীসৃপবিদ। খালাত ভাই রুমিকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর ভেতরদিকের এক গ্রামে যাচ্ছে। গ্রামের নাম নাচোল। এই নাচোল জায়গাটা ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই বিখ্যাত ছিল তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী মুভমেন্টের জন্য। লারা আর রুমি যাচ্ছে প্রাচীন এক কিংবদন্তী কাহিনীর সত্যতা যাচাই করতে। এখানকার এক পোড়োঢিবিতেই আছে মনসার অস্তিত্ব। আসলে রাসেল'স ভাইপার খুঁজতে বেরিয়ে এই কাহিনীর সাথে জড়িয়ে পড়ে লারা। মনসার অস্তিত্ব আছে কী নেই তা আর মাত্র কয়েক হাত দূরে।
জমিদার হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর তার বিপুল ঐশ্বর্য লুকানোর জন্য এক সাধুর দ্বারস্থ হন। সেই সাধুর বুদ্ধিমতে তার সকল ধনসম্পদ একটা বিশাল কাঁসার কলসির ভেতর রেখে সেই কলসি সমেত একটা সাত বছর বয়সি মেয়েকে বন্দি করে রাখেন এক পোড়োবাড়িতে। দিন দুয়েক পর সেই মেয়ে মরে গেলেই তার শুদ্ধ আত্মা পাহাড়া দেবে এই ধনসম্পদের। কিন্তু হিসেবে খানিকটা গন্ডগোল হয়ে যায়। সাত বছর বয়সি এক চোখ কানা সেই পদ্মাই জন্ম নেয় মনসারূপে। পরদিন আবার সেই পোড়োবাড়িতে গিয়ে দেখেন মেয়েটার কোনো চিহ্নই নেই, তার বদলে কলসির ঘাড়ে পেঁচিয়ে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক রাজগোখরা।
দেশভাগের পর সেই জমিদার পোড়োবাড়ি পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নাচোল এ। যাবেন নাকি লারা আর রুমির সাথে? দেখাই যাক না কী হয়, যাবেন?
এটা একটা থ্রিলার বই, এবং এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। প্রথম থেকেই ভাষা এবং উপমার ব্যবহার একটু কঠিন লেগেছে আমার কাছে। মোটকথা, সুখপাঠ্য বলতে যা বোঝায়, তা নয় এই বই। মূল গল্পটা অনেক ছোট, সেটা বড়জোর একটা বড় গল্প হতে পারে। কিন্তু সেই গল্পটাকে টেনে বড় করা হয়েছে বলে পুরো বইটাই একটু স্লো লেগেছে। থ্রিলার বইয়ে যদি প্রথম থেকে থ্রিল কাজ না করে তবে পড়ে তেমন মজা পাইনা আমি। আবার তাই বলে এড়িয়েও যেতে পারবেন না, গল্পটা এমনভাবে এগিয়েছে, না চাইলেও পড়ে যেতেই হবে। তাছাড়া যে বিষয়ের ওপর এই বই লেখা হয়েছে তা আগ্রহ জাগানিয়া। এর আগে ফুয়াদ ভাইয়ের চন্দ্রাহত পড়া ধরেই এই বইটার খোঁজ পেয়েছিলাম বাতিঘরে।
লেখিকা জ্যোতির্বিদ্যা নিয়েও বেশ ভালো জ্ঞান রাখেন বোঝা গেল। বইয়ের কয়েক জায়গায় জ্যোতির্বিদ্যার কিছু ব্যাপার একদম সহজভাবে ভেঙ্গে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার মত লোক যখন বুঝতে পেরেছে, কারুরই বুঝতে অসুবিদা হওয়ার কথা না। তবে, লেখিকার কাছে অনুরোধ থাকবে লেখনীর প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য। আমি তার লেখনীর সমালোচনা করছিনা, বরং নিজের সমালোচনা করছি। তার লেখনী আমি সহজভাবে বুঝতে পারিনি, কিছুটা দুর্বোধ্যই লেগেছে। এবং সিংহভাগ পাঠকই হয়তো আমার মত, তারা সহজভাবে লেখা বই চাইবেন, তাদের কথা ভেবে লেখা উচিৎ। মূল যে গল্পটা, সেটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে লারাকেও। তানিয়া আপুর প্রচ্ছদগুলো বেশ ভালো হচ্ছে, এটাও এর ব্যতিক্রম নয়।
অনুওরতা লারা। হার্পেটোলজিস্ট, বাংলায় বলতে গেলে সরীসৃপবিদ। খালাত ভাই রুমিকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর ভেতরদিকের এক গ্রামে যাচ্ছে। গ্রামের নাম নাচোল। এই নাচোল জায়গাটা ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই বিখ্যাত ছিল তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী মুভমেন্টের জন্য। লারা আর রুমি যাচ্ছে প্রাচীন এক কিংবদন্তী কাহিনীর সত্যতা যাচাই করতে। এখানকার এক পোড়োঢিবিতেই আছে মনসার অস্তিত্ব। আসলে রাসেল'স ভাইপার খুঁজতে বেরিয়ে এই কাহিনীর সাথে জড়িয়ে পড়ে লারা। মনসার অস্তিত্ব আছে কী নেই তা আর মাত্র কয়েক হাত দূরে।
জমিদার হরকৃষ্ণ গঙ্গাধর তার বিপুল ঐশ্বর্য লুকানোর জন্য এক সাধুর দ্বারস্থ হন। সেই সাধুর বুদ্ধিমতে তার সকল ধনসম্পদ একটা বিশাল কাঁসার কলসির ভেতর রেখে সেই কলসি সমেত একটা সাত বছর বয়সি মেয়েকে বন্দি করে রাখেন এক পোড়োবাড়িতে। দিন দুয়েক পর সেই মেয়ে মরে গেলেই তার শুদ্ধ আত্মা পাহাড়া দেবে এই ধনসম্পদের। কিন্তু হিসেবে খানিকটা গন্ডগোল হয়ে যায়। সাত বছর বয়সি এক চোখ কানা সেই পদ্মাই জন্ম নেয় মনসারূপে। পরদিন আবার সেই পোড়োবাড়িতে গিয়ে দেখেন মেয়েটার কোনো চিহ্নই নেই, তার বদলে কলসির ঘাড়ে পেঁচিয়ে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক রাজগোখরা।
দেশভাগের পর সেই জমিদার পোড়োবাড়ি পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নাচোল এ। যাবেন নাকি লারা আর রুমির সাথে? দেখাই যাক না কী হয়, যাবেন?
এটা একটা থ্রিলার বই, এবং এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। প্রথম থেকেই ভাষা এবং উপমার ব্যবহার একটু কঠিন লেগেছে আমার কাছে। মোটকথা, সুখপাঠ্য বলতে যা বোঝায়, তা নয় এই বই। মূল গল্পটা অনেক ছোট, সেটা বড়জোর একটা বড় গল্প হতে পারে। কিন্তু সেই গল্পটাকে টেনে বড় করা হয়েছে বলে পুরো বইটাই একটু স্লো লেগেছে। থ্রিলার বইয়ে যদি প্রথম থেকে থ্রিল কাজ না করে তবে পড়ে তেমন মজা পাইনা আমি। আবার তাই বলে এড়িয়েও যেতে পারবেন না, গল্পটা এমনভাবে এগিয়েছে, না চাইলেও পড়ে যেতেই হবে। তাছাড়া যে বিষয়ের ওপর এই বই লেখা হয়েছে তা আগ্রহ জাগানিয়া। এর আগে ফুয়াদ ভাইয়ের চন্দ্রাহত পড়া ধরেই এই বইটার খোঁজ পেয়েছিলাম বাতিঘরে।
লেখিকা জ্যোতির্বিদ্যা নিয়েও বেশ ভালো জ্ঞান রাখেন বোঝা গেল। বইয়ের কয়েক জায়গায় জ্যোতির্বিদ্যার কিছু ব্যাপার একদম সহজভাবে ভেঙ্গে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার মত লোক যখন বুঝতে পেরেছে, কারুরই বুঝতে অসুবিদা হওয়ার কথা না। তবে, লেখিকার কাছে অনুরোধ থাকবে লেখনীর প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য। আমি তার লেখনীর সমালোচনা করছিনা, বরং নিজের সমালোচনা করছি। তার লেখনী আমি সহজভাবে বুঝতে পারিনি, কিছুটা দুর্বোধ্যই লেগেছে। এবং সিংহভাগ পাঠকই হয়তো আমার মত, তারা সহজভাবে লেখা বই চাইবেন, তাদের কথা ভেবে লেখা উচিৎ। মূল যে গল্পটা, সেটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে লারাকেও। তানিয়া আপুর প্রচ্ছদগুলো বেশ ভালো হচ্ছে, এটাও এর ব্যতিক্রম নয়।
March 6, 2018
নেতা বলে বিষহরি
হেথা রহিয়া কিবা করি
মর্ত্যভূমে চল যাই।
মর্ত্যভুবনে যাইয়া
ছাগ মহিষ খাইয়া
সেবকেরে বর দিতে চাই।।
নেতারে সঙ্গতি করি
মধ্যেন নামে বিষহরি
হাসে পদ্মা রচনা দেখিয়া।
হেটে ধান্যের শরা
উপরে বিচিত্র ঝরা
সোনার ঘটে চন্দন দিয়া।।
(মনসার জন্ম পালা)
বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল
মনসা দেবীর নাম আগে শুনলেও কখনো ব্যাপারটা নিয়ে জানতে ইচ্ছা হইনি। তবে গতমাসে ফুয়াদ ভাইয়ের “চন্দ্রাহত” পড়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই মনসার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই আগ্রহ থেকেই বইটা পড়া।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক সুপ্রাচীন কিংবদন্তী নিয়ে। প্রায় ১৩০ বছরেরও আগে এক জমিদার তার সম্পদ রক্ষার জন্য বলি দেন এক নিষ্পাপ শিশু কন্যাকে। তারপরেই শুরু হয় অভিশাপ। সেই শিশু কন্যাই কি সাপে রূপান্তরিত হয়েছিলো?
জানা যায়নি।
তবে সেই কিংবদন্তি থেমে থাকেনি। সেই স্থানে এখনো জেগে আছে মহা শক্তিধর মনসা। হঠাৎ করেই যেন তার ভক্তকুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। তা যদি নাই হবে তবে কেন হঠাৎ এই অঞ্চলে এত সাপের উৎপাত? কেন সাপের অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষ? দলে দলে লোকে দেবীকে তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও দেবী তুষ্ট হচ্ছেন না।
সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তরুণী হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তরুণ লেখক রুমী আটকা পড়লো কিংবদন্তীর ফাদে? সত্যিই কি সেখানে ওৎ পেতে আছে অতিপ্রাকৃতিক কিছু? রহস্য উদঘাটন করতে গিয়েও পারছে না। এর সাথে মিশে আছে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি। তারা কেন চাইবে দেবীর শান্তি নষ্ট করতে? কিন্তু সোয়া’শ বছরের জাল ভেদ করে চলে আশা কি এত সহজ?
বেশ কিছুদিন দর্শনের মত কাটখোট্টা বিষয় পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে ছিলো। সেই জট ছাড়াতেই ফিকশানাল কিছু পড়ছি। পরপর দুইটা বই পড়া হলেও মন ভরছিলো না। “মনসা” পড়ার পরে সেই আক্ষেপ কেটে গেলো। লেখিকার প্রথম মৌলিক উপন্যাস হলেও কোথাও একবারের জন্যও তা মনে হয়নি। এটা এমনই একটা প্লট যে, লেখা আনাড়ি হলে গল্পের আমেজটা থাকত না। পুরো গল্পে একটা গা ছমছমে ভাব ছিলো। এই ছমছমে ভাবটাই বইটা ছেড়ে উঠতে দিচ্ছিলো না। প্রছদটা সুন্দর ও গল্পের সাথে মানানসই। তবে আরো আকর্ষনীয় করা যেত মনে হয়।
বিভিন্ন পরিচ্ছেদের শুরুতে ছোট ছোট কাব্যাংশ বইয়ে বাড়তি অলংকার যোগ করেছে। আর টুইস্ট?
থাক আপনারা পড়ে নিবেন।
হেথা রহিয়া কিবা করি
মর্ত্যভূমে চল যাই।
মর্ত্যভুবনে যাইয়া
ছাগ মহিষ খাইয়া
সেবকেরে বর দিতে চাই।।
নেতারে সঙ্গতি করি
মধ্যেন নামে বিষহরি
হাসে পদ্মা রচনা দেখিয়া।
হেটে ধান্যের শরা
উপরে বিচিত্র ঝরা
সোনার ঘটে চন্দন দিয়া।।
(মনসার জন্ম পালা)
বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল
মনসা দেবীর নাম আগে শুনলেও কখনো ব্যাপারটা নিয়ে জানতে ইচ্ছা হইনি। তবে গতমাসে ফুয়াদ ভাইয়ের “চন্দ্রাহত” পড়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই মনসার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই আগ্রহ থেকেই বইটা পড়া।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এক সুপ্রাচীন কিংবদন্তী নিয়ে। প্রায় ১৩০ বছরেরও আগে এক জমিদার তার সম্পদ রক্ষার জন্য বলি দেন এক নিষ্পাপ শিশু কন্যাকে। তারপরেই শুরু হয় অভিশাপ। সেই শিশু কন্যাই কি সাপে রূপান্তরিত হয়েছিলো?
জানা যায়নি।
তবে সেই কিংবদন্তি থেমে থাকেনি। সেই স্থানে এখনো জেগে আছে মহা শক্তিধর মনসা। হঠাৎ করেই যেন তার ভক্তকুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। তা যদি নাই হবে তবে কেন হঠাৎ এই অঞ্চলে এত সাপের উৎপাত? কেন সাপের অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষ? দলে দলে লোকে দেবীকে তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও দেবী তুষ্ট হচ্ছেন না।
সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে যাত্রা করা তরুণী হার্পেটোলজিস্ট লারা আর তরুণ লেখক রুমী আটকা পড়লো কিংবদন্তীর ফাদে? সত্যিই কি সেখানে ওৎ পেতে আছে অতিপ্রাকৃতিক কিছু? রহস্য উদঘাটন করতে গিয়েও পারছে না। এর সাথে মিশে আছে স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি। তারা কেন চাইবে দেবীর শান্তি নষ্ট করতে? কিন্তু সোয়া’শ বছরের জাল ভেদ করে চলে আশা কি এত সহজ?
বেশ কিছুদিন দর্শনের মত কাটখোট্টা বিষয় পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে ছিলো। সেই জট ছাড়াতেই ফিকশানাল কিছু পড়ছি। পরপর দুইটা বই পড়া হলেও মন ভরছিলো না। “মনসা” পড়ার পরে সেই আক্ষেপ কেটে গেলো। লেখিকার প্রথম মৌলিক উপন্যাস হলেও কোথাও একবারের জন্যও তা মনে হয়নি। এটা এমনই একটা প্লট যে, লেখা আনাড়ি হলে গল্পের আমেজটা থাকত না। পুরো গল্পে একটা গা ছমছমে ভাব ছিলো। এই ছমছমে ভাবটাই বইটা ছেড়ে উঠতে দিচ্ছিলো না। প্রছদটা সুন্দর ও গল্পের সাথে মানানসই। তবে আরো আকর্ষনীয় করা যেত মনে হয়।
বিভিন্ন পরিচ্ছেদের শুরুতে ছোট ছোট কাব্যাংশ বইয়ে বাড়তি অলংকার যোগ করেছে। আর টুইস্ট?
থাক আপনারা পড়ে নিবেন।
February 21, 2018
ধর্ম,বিজ্ঞান,ধর্মান্ধতা,কুসংস্কার সব কিছুর বাইরেও অপার্থিব অজানা অনেক কিছুই থেকে যায় এই পার্থিব পৃথিবীতে ,হয়ত আপনি সেগুলোকে বেছে নিবেন কোন গল্প বিশ্বাস অথবা বাস্তব হিসেবে। ঠিক সেরকমই একটি কাহিনি নিয়ে শাহানাজ পান্না তার মৌলিক থ্রিলার মনসা নিয়ে হাজির হয়েছে আপনাদের সামনে। তাই আপনারাই ঠিক করে নিন কি হিসেবে নিবেন এটিকে।
March 25, 2018
চমৎকার দেশীয় প্লটের উপর ভিত্তি করে লিখা মৌলিক থ্রিলার “মনসা”। লেখনী ভালো তাই বেশ এগোচ্ছিলো। মাঝরাস্তা পার হতেই মোটামুটি ক্লিয়ার হওয়ায় ভেবেছিলাম সামনে মনে হয় আরও চমক আছে। তবে আশাহত হলাম। সাদামাটা ফিনিশিং না দিয়ে আরও কিছু খোরাক যোগ করতে পারলে ভালো হত। কিন্তু তাই বলে উপভোগ্য ছিল মোটেই। বেশ থ্রিল ছিল। সাথে বোনাস ছিল ফলের রাজার দেশ চাঁপাইয়ের ইতিহাস...
সময়টা উপভোগ্য হবে আপনাদেরও...
সময়টা উপভোগ্য হবে আপনাদেরও...
Displaying 1 - 18 of 18 reviews



















