— ওগো শুনছো……অ্যাই ওঠো তো।
— ধুর, কী হইছে?
— তুমি নাকি গত রাতে নজরুল ইসলামের 'অস্পৃশ্যতা' শেষ করছো?
— হ্যা, তো?
— বইটা শুনেছিলাম কিয়াগো হিগাশিনো'র 'জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান' এর এডাপটেশন। আসলেই?
— হু।
— কী হু-হ্যা করছো? কাহিনী কী বইয়ের?
— দাড়াও, আগে উঠে বসি…… হ্যা, এইবার শুরু করি। এক বিল্ডিংয়ের সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলো জামাল নামের জনৈক ভদ্দরনোকের লাশ। সবাই এটাকে আত্মহত্যা মনে করলেও সাব-ইন্সপেক্টর ফাইয়াজের চোখ এড়াতে পারলো না ঠান্ডা মাথার খুনটা। একটু তদন্ত করতেই খুনের সাথে সংযোগ পেলো আট বছর আগের এক অমীমাংসিত চাঞ্চল্যকর খুনের। অতঃপর ফাইয়াজ শরণাপন্ন হলো আট বছর আগের সেই কেসের ইনভেস্টিগেটর ফারুক আবদুল্লাহর, যিনি ওই কেসের দায়িত্বে থাকাকালীন গ্লানির বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে গিয়েছিলেন। তার হাত ধরে আবার শুরু হলো অতীত আর বর্তমানের নেক্সাস ইনভেস্টিগেশন।
— জোশ তো। কেমন লাগলো তোমার?
— দারুণ দারুণ। বইটা পড়ার পর রসায়নে লা-শাতেলিয়ার নীতির একটা লাইন মনে পড়ে যাচ্ছে খুব, 'প্রতিটা বিক্রিয়ার পেছনেই প্রভাবকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে'। বইয়ে প্রচুর চরিত্র —আবির, লাবণী, ফারজানা, রিয়ান, রাফিউল, উর্মি, জাহিদ……। আর উপরের দুই চরিত্র তো আছেই। সব গুলো চরিত্রই যতটা সম্ভব ততটুকুই ফোকাসড হয়েছে। প্রেম আছে, নৃশংসতা আছে আছে অপরাধের বৈপরীত্যে আবেগের ছায়া। আসলে এটা সাসপেন্সধর্মী থ্রিলার। ধুম ধারাক্কা টুইস্ট না থাকলেও পেজ টার্নার। কোনো চরিত্র কিংবা ঘটানাবাহের উপর তুমি বিশ্বাস রাখতে পারবে না, ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাবে পরিস্থিতি। নিজের অবস্থান ঠিক করতে হলে যেতে হবে বইয়ের শেষ অব্ধি, যেটা আমি করেছি। আর ফিনিশিংয়ের কথা না বললেই নয়, কিছুটা বিষণ্নতা, কিছুটা অযাচিত আর সব রহস্যের মূলোৎপাটন হয়েছে ইমোশনাল ভাবে। এর বেশী কিছু বললাম না। আর নজরুল ইসলাম সাহেব বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছে লেখনীতে। হিগাশিনো স্পিরিটটা পুরোপুরি তুলে ধরতে পেরেছেন উনি, আর এজন্য ওনাকে সাধুবাদ।
— তো এত্ত ভালো এত্ত ভালো, তাইলে গুডরিডসে ৪ তারা দিছো ক্যান? এক তারা গেলো কই?
— এর জন্য প্রথমেই বলবো প্যাচানোর কথা। ওই যে তুমি স্টার প্লাস আর জলসাতে দেখোনা, ওরকম লেভেলে নিয়ে গিয়েছিলো মাঝ দিয়ে। আর কিছু জায়গায় ইম্ম্যাচিউর সংলাপ। ও হ্যা, বাতিঘরের জন্মগত অভ্যাস, বানান ভূল তো আছেই।
— ওহ, দুঃখজনক বটে। তবে প্যাচানোটা আমার কাছে তেমন গুরুতর কিছু ঠেকে না, কাহিনির জন্য পেচানোটা বেশ উপভোগই করি। আচ্ছা যাই তাহলে।
— আরে দাড়াও না-
— আরে কী হইছে, ব্রেকফাস্ট করতে হবে তো নাকি?
— শোনো না, বইয়ের প্রচ্ছদের চোখ দুটো না ঠিক তোমার দুটোর মত।
— যাহ, দুষ্টু কোথাকার। তুমি না যা-তা। গেলাম আমি।
;)