Ashutosh Mukhopadhyay (Bengali: আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, anglicised spelling of surname: Mukherjee ) was one of the most prominent writers of modern Bengali literature.
He was born on September 7, 1920 in Bajrajogini, Dacca (now Dhaka) as the fifth of ten children of a Bengali Brahmin couple, Paresh Chandra Mukhopadhyay and Tarubala Devi. Mukhopadyay graduated in commerce from Hooghly Mohsin College, then affiliated with the University of Calcutta. His first story was Nurse Mitra, published in the newspaper Basumati, which was later made into major movies (Deep Jwele Jai in Bengali and Khamoshi in Hindi). Bollywood films like Safar (1970) and Bemisal were also made from his novels.
কলেজের রচনা প্রতিযোগীতার বিষয়বস্তু ছিলো এইম ইন লাইফ । বেশিরভাগ ই গৎবাঁধা কথাবার্তা দিয়ে রচনা লিখে এনেছিলো । শুধুমাত্র ব্যতিক্রম একজন । তার রচনার শুরুতেই ছিলো I want to be a simple honorable man সত্যিই সবার জীবনের লক্ষ্য কি এরকম হওয়াই উচিৎ ছিলো না ? মানুষ ডাক্তার হতে চায় , ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় , সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়… কিন্তু কয়জন খুব সাধারণ ন্যায়পরায়ণ মানুষ হতে চায় ! কেউ ই চায় না । তবে বাহারী গ্রামের সোমেশ্বর চাটুজ্জের জীবনের উদ্দেশ্য এটিই ছিলো । তার বাবা সিদ্ধেশ্বর চাটুজ্জে তখনকার সময় নামকরা শাস্ত্রবিদ ছিলেন । বাবার চিন্তাভাবনা , ন্যায় নীতি , আদর্শ সবকিছুর দ্বারাই বিপুল প্রভাবিত হয়েছিলেন সোমেশ্বর । বাহারী গ্রামে সবাই সোমেশ্বরকে খুবই মানে । যেকোন সমস্যায় ধর্মীয় যুক্তি ও মানবিক ব্যখ্যা , সাহায্য দিয়ে তিনি প্রায় সকলের কাছেই সমাদৃত । শুধু ধরা খেয়ে গেছেন সন্তানের কাছে । এতো ব্যক্তিত্বপূর্ণ একজন মানুষ অথচ তার সন্তান পিতাকে একজন লোভী আর সুবিধাবাদী ছাড়া কিছুই মনে করে না । আমরা জীবনের বেশ অনেক খানি অংশ আমাদের পিতার আশ্রয়ে কাটাই কিন্তু সেই পিতাকে আমরা কতটুকুই বা চিনতে পারি , বুঝতে পারি? সন্তানদের জীবনে বাবা এমন একটি চরিত্র যেই চরিত্রটি বেঁচে থাকতে সন্তানদের থেকে তাদের প্রাপ্তি শুধুই অভিযোগ । বাবা এটা কেন কিনে দিলে না , বাবা এতো কিপটেমি কেন করে , বাবা কথায় কথায় ঝাড়ি দেয় কেন , আমার বন্ধুদের কত কত বিলাসবহুল জিনিস আছে আমার সেটা নাই কেন ব্লা ব্লা ব্লা । নিঃসন্দেহে এই পৃথিবীর সব থেকে বড় ভুল বুঝাবুঝি গুলো হয় পিতা এবং সন্তানের মধ্যে । সব চাইতে বড় বড় দুর্গ দুর্গ গুলো এরা খুব যত্ন করে এদের মাঝখানে তৈরি করে । সেই দেয়ালে প্রতিটা ইটের ফাঁকে বালি সিমেন্টের বদলে থাকে ভয় , সংকোচ , আত্মসম্মানবোধ , লজ্জা , বিরক্তি , ক্রোধ ইত্যাদি সিত্যাদি । ‘’সবার বাবা মশাই আমার বাবা কসাই ‘’ এই ধারনাটা সন্তানদের কাছে কোন না কোন সময় এতোই গুরত্বপূর্ণ হয়ে যায় যে তারা ভুলেই যায় বাবারা তাদের সাধ্যমতো সবই করে , করছে এবং করতে থাকবে। এভাবেই তাদের ফাংশন করা হয়েছে , কিন্তু সন্তানরা সেটা উপলব্ধি করতে বড় দেরি করে ফেলে । একটা সময় সব অভিযোগ, অনুযোগ, বিরাগ , অভিমান একটা বিশাল ভারী সিন্দুকে জমা হয় । বিবেক মহাশয় সেই সিন্দুক সিলগালা করে উপরে বড় বড় করে লিখে দেয় ‘’অপরাধবোধ’’ । ‘’আহারে এটা হয়তো বলা উচিৎ হয় নাই বাবা অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন ! ‘’ ‘’এই কাজ টা করে আব্বাকে ওভাবে অপমান করার কোন দরকার ই ছিলো না‘’ ‘’খামাখা কেন তর্ক করতে গেলাম ! যা বলছেন শুনলেই হতো’’
এই ইন্টারেস্টিং কিন্তু গুরুগম্ভীর রহস্যময় চরিত্রটি যখন আপনার জীবনে বর্তমান ছিল , যখন চাহিবামাত্র তার ক্ষমা পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিলো তখন আপনার কৃষ্ণবর্ণের আত্মসম্মানটার জন্য ক্ষমা চাওয়া আর হয়ে উঠে নি। যখন চরিত্রটা অতীত হয়ে গেলো , যখন যতই মন চাক কিন্তু যার কাছে ক্ষমা চাইবেন ঐ লোকটার ক্ষমা আদৌ পাইলেন কিনা তা কখনোই নিশ্চিত করা যাবে না তখন আপনি উঠতে বসতে চউক্ষের পানি নাকের পানি সব এক করে ক্ষমা চাইতে চাইতে হেচকি তুলে ফেলবেন । এইটাও একটা নিয়মের মধ্যেই পড়ে । সমস্যা নেই আপনার সন্তান ও এই নিয়মের মধ্যে দিয়েই বড় হবে । এতো অর্থ সম্পদ , এতো লোভী একজন মানুষের মৃত্যুর পর দেখা গেলো তার পাসবইয়ে ব্যালান্স মোট সাতষট্টি টাকা তেষট্টি পয়সা । সোমেশ্বর চাটুজ্জের ছেলে ধ্রুব চ্যাটার্জী অবাক হয়ে বাবার মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে থাকে । জীবিত থাকতে যাকে বুঝতে মোটেও ইচ্ছে করি নি মৃত্যুর পর তাকে বড় জানতে ইচ্ছে করে । তিন পুরুষ পিতা পুত্রের মান অভিমানের গল্প । সন্তানের চোখে বাবাকে আর বাবার চোখে সন্তানকে দেখার গল্প । যেই লোকটাকে আপনি শুরু থেকেই তার বাইরের রূপ দেখে যাচাই করে এসেছেন, আবেগের আদালতে বারবার দন্ড দিয়েছেন ; সেই লোকটা আপনাকে তার হৃদয়ের একদম নিকটে রাখতে রাখতে একদিন হুট করে কিছু না বলে কোথায় যেন চলে গেল… কে জানে ! হয়তো এটাও নিয়মের মধ্যেই পড়ে ।