আমার উপন্যাসকে অলৌকিক উপন্যাস বলা যায়। নাও বলা যায়। পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি আর চিন্তাশক্তির উপর ছেড়ে দিয়েছি। আদতে উপন্যাসটি এক রাজনৈতিক থ্রিলার। আমার উপন্যাসের গর্ভে দুটি সামান্তরাল গল্পের যমজ। তাদের মধ্যে বয়সের ফারাক বিস্তর। একটির বয়স প্রায় চারশ ছেষট্টি, অন্যটি মাত্র দুই। কিন্তু তাদের মধ্যে মিল বিস্তর। দুটি গল্পের খলনায়ক-ই এক অজেয় ঘাতক - মানুষে মানুষে সেতুবন্ধনের অন্তরায় হিসেবে দাঁড়ান ধর্মীয় সংগঠন। দুটি গল্পের প্রধান চরিত্রই গোয়েন্দা। অমিল শুধু যুগের আর তাদের অনুসন্ধান পদ্ধতির।
একটি গল্পের সময়কাল ২০১৫। স্থান কলকাতা নামের এক কাল্পনিক শহর। পাত্র এক অবসরপ্রাপ্তা মহিলা পুলিস অফিসার। তাঁর ইতিহাসটা রহস্যে মোড়া। আর বর্তমানটা পার্ক প্লাজার এক অপরাধ ঘিরে সরকারের সাথে সংঘাতে ভরা। অবসরের কিছুদিনের মধ্যে শখের গোয়েন্দাগিরির ভূত চাপে মাথায়। আর সেই শখ মেটানোর ফাঁকে হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করেন এক রাজনৈতিক সঙ্কটের মাঝে। কি সেই সঙ্কট? কি হল যে শহর কলকাতায় পঞ্চমীর সন্ধ্যায় নেমে এল মহাবিপদ? তাঁর নতুন অবতারে তিনি কি পারলেন শহরকে উদ্ধার করতে? শেষ পর্যন্ত তিনি কি পারলেন নিজের অন্ধ প্রতিশোধস্পৃহার উর্ধ্বে উঠে নৈতিক পথে চলতে? নাকি তাঁর অতীত অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল? রাজনৈতিক সঙ্কটের মূলে কি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গো-ভক্ষণের দায়ে এক অসহায় মুসলমান যুবকের মৃত্যু? নাকি ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ? নাকি আরো গভীরে ছড়িয়ে থাকা একটা রোগ? বিগত সাহিত্যকদের আত্মা কি সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বহু যুগ পরের পাঠকদের সাথে সত্যিই কথা বলে ওঠে? এই গল্পটি বর্তমান সমাজের প্রতিচ্ছবি। কিছু সত্য ঘটনা, কিছু উপকথা এবং অলৌকিক সম্বন্ধে আমার নিজের ব্যক্তিগত উপলন্ধি সম্বল করে লেখা।
দ্বিতীয় গল্পটি ১৬শ শতাব্দীর প্রাগ শহরের এক কিংবদন্তি ঘিরে। তর্কসাপেক্ষে যে কিংবদন্তি প্রায় দুই শতাব্দী পরে মেরি শেলিকে অনুপ্রাণিত করে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস রচনায়। ১৬শ শতাব্দীর ঐ সময়টায় ফারদিনান্দ ছিলেন পবিত্র রোম্যান সাম্রাজ্যের সম্রাট। তিনি সংখ্যালঘু ইহুদিদের নির্দেশ দেন অবিলম্বে প্রাগ শহরের ঘেত্তো ছেড়ে যেখানে খুশী চলে যেতে। সেই সময় প্রাগ শহরের বেশ কিছু অল্পবয়সী মেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। কি সেই রহস্য? তার সাথে কি ইহুদিদের কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান জড়িত? হঠাৎ এক ইহুদিকে কে বা কারা নৃশংসভাবে খুন করে বাজারে ফেলে রাখল আবর্জনার মধ্যে? সে কি কিছু দেখে ফেলেছিল, যা দেখা উচিত হয়নি? তার দেহের পাশে হারিয়ে যাওয়া মেয়েগুলির একজনের উলঙ্গ মৃতদেহের রহস্যটাই বা কি? চার্চের এক ফাদার কিভাবে জনতাকে ক্ষিপ্ত করল ইহুদিদের গেটো আক্রমণ করতে? উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ইহুদিদের ধর্মগুরু র্যাবাই জুডা লৌ বেন বেজা.লেল পারলেন গেটো বাঁচাতে? কিছু সত্য ঘটনা, সম্রাট হিটলার সহ বহু ইহুদি বিদ্বেষীর এক প্রাচীন সন্দেহ আর ‘সেফের ইৎজি.রা’ নামক ইহুদি ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে লেখা এই দ্বিতীয় গল্প। নাহুম বেকারির গোড়াপত্তনের বছরে কলকাতায় ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা কি দুটি গল্পের পথ মেলাতে চেষ্টা করল? মিলল? নাকি ফাঁক থেকে গেল?
I am a business innovation consultant by day and a historical thriller novelist by the wee hours of the night, the right time of the day to be so. I am an avid reader by passion and love to create a world of quasi-reality for my readers. I am a researcher in the occult too. I loathe to write about myself but, if you are reading this piece of the text, you know I often land up doing so. I believe I am a simple person born and brought up in a close-knit family with interesting lineage. My grandfather was a Gandhian freedom fighter who fought the British but fell in love with their language. My grandmother was from a Bengali family of advocates that lived in Andhra Pradesh. On my maternal side there were stalwart politicians, and my father was one of the founding members of a party that pioneered socialism. My great grandfather started his own press and poetry magazine in British India when he was in his teens and the poems were not very kind to the colonizers. He eloped with the daughter from a lower caste family as he did not believe in the caste system. My parents instilled in me the love for literature and, despite being a student of engineering and business management, my passion for historical fiction inspired me to eventually take up the pen myself. History is all about swords, so, in a sense, I took up something mightier. My first Bengali novel got published in 2015 by one of the most reputed publication houses in India, the Ananda Publishers which has published more than a dozen Sahitya Akademi Award winning books and the book was launched at the prestigious Kolkata International Book Fair 2016. My books try to bring together history, politics, thrill, pun and supernatural – a genre that is unique to the Bengali literature.
প্রথম গল্পটা চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের। সময়টা ১৫৫৯ সাল। ঘটে গেলো কয়েকটা খুন। এই খুনের জের ধরে প্রতিবেশী ইহুদি ও খ্রিশ্চান সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়লো তিক্ততা। ঘটতে লাগলো একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। ধর্মীয় কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে মানুষের বর্বরতা আর হিংস্রতা সীমা ছাড়ালো। দ্বিতীয় গল্প চিরচেনা কলকাতার। এখানেও ঘটতে লাগলো খুন, যার সাথে যোগসূত্র রয়েছে প্রাগে ঘটে যাওয়া সেসব খুনের। জড়িয়ে গেলেন উলূপী দেবী। এবার মুখোমুখি হিন্দু মুসলমান।ধর্মরক্ষার পেছনে সেই একই ব্যক্তিস্বার্থ, সেই একই নাটক। সৌভিক দাস সূক্ষ্মভাবে আমাদের উপমহাদেশীয় সাম্প্রদায়িক অস্থিরতাকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করতে পেরেছেন।"তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে" নামটা আসলে তীর্যক ইঙ্গিত; আমাদেরই দুর্বলতা আর নীরবে সবকিছু মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে দানব; যে দানবকে ঠেকানোর ক্ষমতা আমাদের নিজেদেরই নেই। থ্রিলার হিসেবে এ বই কতোটুকু উৎকৃষ্ট মানের তা তর্কসাপেক্ষ, তবে সবমিলিয়ে স্মরণীয়।যেতে যেতে শ্রীজাত পড়া যেতে পারে,
"ধর্ম থেকে বেশি সত্যি ধর্মের গুজব... লিখতে লিখতে সন্ধে হল। তুমি শুধু বলো -
সব মাটি দখল করছে কবর আর চিতা কোথায় দাঁড়াবে তবে, সামান্য কবিতা?"
চমৎকার, সৌভিক দাসের এই একটি বইই পড়লাম-তাও অভিযান থেকে আমার বই বেড়িয়েছিলো বলে এই বইয়ের খোঁজ পেলাম। কিন্তু এই সুলিখিত বইয়ের খবর বই পাড়ায় চাউড় হওয়া উচিত ছিল, কেন হল না সে এক রহস্য। লেখকের অন্যান্য বই পড়ার ইচ্ছা রইলো।
বাংলা সাহিত্যে রাজকন্যা কম পড়িলেও রহস্যরোমাঞ্চ কাহিনির অভাব নেই। সেই ধারাতেই সম্প্রতি হাতে এল সৌভিক দাস-এর ‘গথিক থ্রিলার’ “তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে”। কিন্তু গথিক থ্রিলার মানে কী? ১৭৬৪ সালে প্রকাশিত, হোরেস ওয়ালপোল-এর ‘দ্য ক্যাসল অফ ওট্রান্টো’ থেকে শুরু হওয়া ঘরানা ‘গথিক’ সাহিত্যের যে বিশেষত্বগুলো সাহিত্যানুরাগী মাত্রেই জানেন, তারা হল: ১. একটি মধ্যযুগীয় পটভূমি ও পরিবেশ; ২. রহস্য, আতঙ্ক, ও বহুযুগের ওপার হতে ভেসে আসা কোনো পাপ ও তজ্জনিত অভিশাপ; ৩. তারই মধ্যে রোমান্স ও কিছু ইচ্ছাপূরণ। পার্থপ্রতিম দাস-এর প্রচ্ছদ, এবং পাতা ওল্টালেই লেখকের ঘোষণা ‘চার শতাধিক বছরের ফারাকে দুই গোয়েন্দা, এক ঘাতক’ একথা বুঝিয়ে দেয় যে উপরোক্ত বিশেষত্বগুলো আমরা এই উপন্যাসেও সত্যি হতে দেখব। কিন্তু সেটা কি সত্যিই হয়? আগে বরং, ছোট্ট করে, গল্পটা বলা যাক। ১৫৫৯ সালের প্রাহা-য়, ইহুদি-বিদ্বেষ ও ইহুদি-নির্যাতন যখন তুঙ্গে, তখনই এক ভয়ঙ্কর অপরাধ সামনে আসতে শুরু করল, যাকে স্বচ্ছন্দে আজকের ভাষায় সিরিয়াল অ্যাবডাকশন বলা চলে। সেই অপরাধকে কাজে লাগিয়ে চেষ্টা হল আরো বড়ো, আরো প্রাণঘাতী কিছু করার। তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন এক বিবেকবান রহস্যভেদী, আর কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো করে অন্ধকারকে কাজে লাগাতে চাওয়া এক মানুষ। সফল হল কি তাদের প্রয়াস? এরই সমান্তরালে চলছে অন্য এক কাহিনি, আজকের কল্লোলিনীর বুকে। ঘটমান বর্তমান, অজস্র স্বার্থের টানাপোড়েনে দীর্ণ সমাজে অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি, ধর্মের বিভেদকে কাজে লাগাতে চাওয়া রঙবেরঙের নানা দল, আর মুখোশের আড়ালে কয়েকটা মানুষ! এই জটিল কুয়াশার আড়ালে রহস্যভেদ ও বৃহত্তর অপরাধ ঠেকানোর সংকল্প নিয়ে এগোলেন এক বিবেকবান মানুষ। পারলেন কি তিনি সেই অপরাধকে ঠেকাতে? সত্যসন্ধান ও অপরাধের বিপ্রতীপ রথের চাকায় পিষ্ট হল কে-কে? এই দুটো কাহিনির মধ্যে সাদৃশ্য আছে, একথা বুঝতেই পারছেন। দুটি কাহিনিই ইতিহাস, ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, অতীতচারণের কষ্ট এসব সামলে অত্যন্ত গতিময়, ও রীতিমতো রোমাঞ্চকর হয়ে উঠতে পেরেছে। কিন্তু মুশকিল হয়েছে তিনটে জায়গায়: ১] প্রথম কাহিনিতে গল্পের শেষটা অনেক সংশয় রেখে গেছে। ডিউস এক্স মাখিনা হিসেবে যাকে আনা হয়েছিল, তার উৎস যদি অলৌকিক হয়, তাহলে গল্প ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে। তার উৎস যদি বাস্তব হয়, তাহলে বইয়ের প্রথম অধ্যায়টাই বেকার হয়ে যায়। ২] দ্বিতীয় কাহিনিতে গল্পের মাঝে বেশ কিছু অন্য কথা বলা হয়েছে, যারা প্রক্ষিপ্ত, ও সেন্টিমেন্টের উদ্রেককারী হওয়া ছাড়া মূল উপাখ্যানে যাদের কোনো ভূমিকা নেই। এইসব ব্যাকস্টোরির একটা মস্ত বিপদ হল, এমনিতেই অনেক সূত্র জুড়ে তৈরি হওয়া একটা উপন্যাসে তারা রেড হেরিং-এর চেয়েও বড়ো অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৩] দুটো গল্পের মধ্যে যোগসূত্রের জায়গাটা অত্যন্ত কাঁচা হাতে বানানো হয়েছে। অ্যান্টাগনিস্ট যে জিনিসটি পেতে চেয়েছিল, সেই জিনিসের খবর সে পেল কীভাবে? সেই জিনিস নিয়েই বা সে কী করত? তার আগে, বিভিন্ন খুনের জায়গায় সে অমন অদ্ভুত, ও অনাবশ্যক জিনিস রাখতে গেলই বা কেন?
এই অতৃপ্তির জায়গাক’টা বাদ দিলে কিন্তু এই ২৯৫ পাতার থ্রিলার একেবারে টানটান। এর সবচেয়ে বড়ো সম্পদ অবশ্যই ইতিহাস ও বর্তমান মিশিয়ে তৈরি করা কাহিনি। কিন্তু আমি একে অতিরিক্ত নম্বর দেব এর গদ্যের জন্য। ঝর্ণার মতো চপল ও চটুল, গাছের পাতায় আদর করে যাওয়া হাওয়ার মতো নরম, আর সন্ধ্যার বাজারের মতো হাসি আর আওয়াজে ভরা এক আশ্চর্য রকমের রসবোধে সিক্ত এর গদ্য। সেই ডার্ক হিউমার দেখে যদি আপনি লেখা ও লেখককে আন্ডার-এস্টিমেট করেন, তাহলে কিন্তু সেটাই হবে যা ঘটেছে রাষ্ট্রের সঙ্গে, যুগে-যুগে। আপনার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আপনার চেতনাকে ভাসিয়ে দেবে এক অন্য স্রোত, অন্য ভাবনা। ঘুমোবেন না। বইটা পড়ে ফেলুন।
বইটাকে পাঁচের চেয়েও বেশি দিতে চাই। যখন পড়েছিলাম মনে হয়েছিল দুটো উপন্যাস পড়ছি। একটা অস্ট্রিয়ার আরেকটা কলকাতা শহরের। দুটো গল্প এক সুতোয় বাঁধা। বেশ তরতর টাইপ লেখা। কোথাও কোনো স্লো নাই। দারুণ। সত্যিই দারুণ বই
'গথিক থ্রিলার' বলতেই মনে ভেসে ওঠে মধ্যযুগীয় ইউরোপের মোটা মোটা থামওলা বাড়ি,চার্চের ঘন্টার সুর,ধর্ম নিয়ে অকারণ মাতামাতি করা মানুষজন,বর্ম-শিরোস্ত্রাণ শোভিত সৈন্যদল,আর হ্যাঁ,অবশ্যই ক্রুশবিদ্ধ সেই মহান মনুষ্যমূর্তি।আলোচ্য বইটির প্রথম গল্পে ১৫৫৯ সালের প্রাগ বা প্রাচীন প্রাহা শহরের পটভূমিতে দেখা মেলে উপরোক্ত সবকটি বিষয়ের।খ্রীস্টান আর ইহুদিদের পরস্পর বিদ্বেষ যখন চরমে,ঠিক সেই সময় ইহুদি বসতিসংলগ্ন রাস্তা থেকে হারিয়ে যায় তিনটি কিশোরী।যীশুর শান্তির বাণীর আড়ালে বর্বরতা,রক্তপাত ও হিংস্রতায় মেতে ওঠা তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নেন ইহুদি ধর্মগুরু র্যাবাই লৌ।কি সেই গোপন শক্তি যার সাহায্যে এত কম লোকবল নিয়েও অপ্রতিরোধ্য তিনি?অসহায় মেয়েগুলিরই বা কি পরিণতি হল?বীর মার্শাল ফিলিপ কি পারলেন বিক্ষোভের আগুন নিভিয়ে আরেকটি ধর্ময���দ্ধ এড়াতে? আরেকটি সমান্তরাল গল্পের পটভূমি সাম্প্রতিক অতীতের কলকাতা।বর্ধমান সার্কিট হাউসের কর্মচারী লতিফকে গোমাংস খাবার মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।এর পরপরই একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের তিন প্রভাবশালী নেতা পরপর বিশেষ উপায়ে খুন হতে থাকে।না চাইতেও ঘটনাচক্রে এর তদন্তে জড়িয়ে পড়েন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার উলূপীদেবী।তিনি কি পারলেন পঞ্চমীর সকালে কলকাতার বুকে নেমে আসা বিভীষিকাকে জয় করে দেবীবোধন শুরু করতে? টানটান লেখনী ও মনভরানো গদ্যে লেখা অত্যন্ত সুখপাঠ্য উপন্যাসটির গতির তারিফ করতেই হয়।অসাধারণ বিষয়নির্বাচন,দুটি ভিন্ন সময়ে প্রায় একই পরিমন্ডলে গতিশীল দুটি আপাত আলাদা গল্পের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা মুগ্ধ করে।আন্তর্জাল ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ ঘাতকের সাথে অ্যান্টাগনিস্টের স্নায়ুযুদ্ধ লাজবাব। কিন্তু,ছেড়ে রাখা অনেকগুলি সুতোই শেষে এসে মেলেনি।ইহুদিদের সেই বিশেষ শক্তি(অলৌকিক হলেও) বিশ্বাস উৎপাদন করতে অক্ষম।পরের গল্পটিতে ঘাতক এত যুগ পরে সেই শক্তির আশ্রয় নিতে চেয়েছিল কিনা বা চাইলে কেন চেয়েছিল তাও স্পষ্ট নয়।তার সঙ্গে ইহুদিদের ক্ষীণ যোগসূত্রটুকুও চোখে পড়েনি,যাতে তার কার্যকলাপের একটা যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখা গড়ে তোলা যায়।আর সর্বোপরি,যুগযুগ ধরে চলে আসা এত গোপন একটা রহস্য সে জানলই বা কিকরে? এইসব টুকরোটাকরা ছেঁড়া সুতো বাদ দিলে রঙচঙে বুননে জমজমাট উপন্যাসটি ধর্মীয়, সামাজিক হোক বা রাজনৈতিক,অনেক সমকালীন বিষয় নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।আমার,আপনার ঘুমের সুযোগ নিয়ে কে বা কারা চুপিসাড়ে মরণফাঁদ পেতে চলেছে,তা জানতে অবশ্যই বইটি পড়ে ফেলুন।
❛ঘুমাও তুমি ঘুমাও গো জান ঘুমাও আমার কোলে, দারুণ এক থ্রিলার লিখেছি তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে।❜ গথিক থ্রিলার মানে কী? এটি কল্পসাহিত্যের এমন একটি শাখা যেখানে কল্পনা, ভয় এবং রোমান্টিসিজমের মিলন ঘটে। মধ্যযুগীয় ঘটনা বা পটভূমির সাথে রহস্য এবং আতঙ্কের মেলবন্ধন থাকে। গথিক সাহিত্যের সূচনা ধরা হয় ১৭৬৪ ইংরেজ লেখক হোরাস ওয়ালপোলকে, তার উপন্যাস ❛দ্য ক্যাসল অফ অটরান্টো❜ কে। ❝তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে❞ তেমন ধারার ই একটি গথিক থ্রিলার। যার পটভূমি মধ্যযুগের চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী। উপন্যাসের ঘটনা এগিয়েছে দুটি সমান্তরাল সময়ে। গল্পের দুটি দিক আছে। এক দিকে বর্তমানের কলকাতা শহর এবং অপরদিকে আছে ১৫৫৯ সালের প্রাহা। বর্তমানের (২০১৫) সালের কলকাতার ঘটনায় আছে অবসর নিতে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা উলূপী দেবী। পঞ্চমীর রাতে রাজনৈতিক বড়ো কয়েকজন নেতা খু ন হয়ে যায়। ঘটনায় জড়িয়ে যায় উলূপীও। তদন্তে নামে সে। খু নের কারণ কি অতীতে এক মুসলিম কর্মচারীর গো-মাংস ভক্ষণের জন্য তাকে পিটিয়ে মে রে ফেলা? তদন্তে নেমে উলূপী খোঁজ করতে থাকে সত্যের। এরমধ্যেই গাড়িতে করে বোলপুর যাওয়ার পথে এক এক্সিডেন্ট ঘটে। সেখানেই কি ঘটনার মোড় বদলে যায়? উলূপীর চিন্তার জগতে কি কোন দৈবিক ঘটনা ঘটে? অতীত আর বর্তমানের এই দোটানায় উলূপী আসল সত্য উদঘাটন করতে পারবে? ধর্ম আর সাম্প্রদায়িকতাই কি মূল না এর পেছনের উৎস সুদূর কোন অতীত? মধ্যযুগের প্রাহায় এক ই হু দী হ ত্যার জের ধরে ঘটনা এগিয়ে যায়। কেন প্রাণ দিতে হলো তাকে? সে কি কোন অযাচিত কিছুর সাক্ষী হয়ে গেছিল? অন্ধকারের মাঝে কে করছে নৃশংস খু ন গুলো? সাম্প্রদায়িকতা, রাজনীতি, ক্ষমতার খেলার মাঝে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার তো যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। একে রুখার কোন উপায় আজও আবিষ্কার হয়নি। সেই যুগের সংঘাত এবং এক রহস্যের উদঘাটন বর্তমানকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে। সমাধান করতে পারবে কি উলূপী দেবী? নিজের মনের সাথে যু দ্ধ করে সত্যের মুখোমুখী হতে হবে তাকে। পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❝তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে❞ নামটা শুনলেই কেমন চোখ বাঁকা করে তাকানোর একটা ব্যাপার লাগে না? নামটা শুনেই অনেকে ভেবে বসবেন ❛এমা কেমনধারা বই এ! অশ্লীল!❜ তবে বলে রাখছি আপনার চিন্তার সম্পূর্ণ উল্টোটাই এ বইটি। গথিক থ্রিলার ধরনের বই এবং এক কথায় অনবদ্য। রাজনীতি, ধর্মের এবং ক্ষমতার সংঘাত নিয়ে লেখা দারুণ এক থ্রিলার। ২৯৫ পাতার বইতে লেখক ভালোলাগার সকল উপাদান-ই যোগ করেছেন। আপনার কাছে একে অতিপ্রাকৃত ধরনের মনে হবে কখনো আবার কখনো সত্য-মিথ্যের বেড়াজালে আটকে যাবার মতো মনে হবে। বর্তমান এবং অতীতের সমান্তরাল ধারা একটা আরেকটার পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। গল্পের মূল চরিত্র পুলিশ অফিসার উলূপী দেবী। চরিত্রটাকে ভালো মন্দ এর মিশেল মনে হয়েছে আমার কাছে। প্রথমে পড়ার সময় তার এক ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী মনোভাব পড়ে খুব বিরক্ত লাগছিল। তবে, বই যত এগিয়েছে তার মনোভাবের কারণ ধারনা করতে পেরেছিলাম। লেখক এই জায়গায় সফল। রাজনীতি আর ধর্মের জোরে চলমান এই সংঘাত যে কত মানুষের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে সেটা শুধু ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। বর্তমানের কলকাতার ঘটনা যেমন নিষ্ঠুর ছিল তেমনি অতীতের প্রাহার ঘটনা ছিল নৃশংস এবং ভয়াবহ। দুটো সময়ের পাশবিকতা লেখক তার লেখায় জীবন্ত করে তুলেছেন। আপনার ঘুমের সুযোগ নিয়ে কখন যে রহস্য অর আতঙ্কের ঘটনা ঘটে যাবে আপনি টেরও পাবেন না! দারুণ এবং টানটান থ্রিলার হিসেবে ❝তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে❞ অন্যতম একটা উপন্যাস হিসেবে থাকবে।
প্রায় ৩০০ পাতার এক লম্বা উপন্যাস যাতে জড়িয়ে আছে দুই ভিন্ন শতকের গোয়েন্দা গল্প। বিভৎসতা দু-এক পাতায় দেখতে পেলেও ভয় দেখানোর জন্য তা অনেক। গোটা বইই মূলত ধর্মান্ধতা ভিত্তিক অপরাধের রক্তবর্ণ বিবরণী।
লেখকের লেখায় ক্রমাগত pun ব্যবহার করে খুব গম্ভীর স্থিতিকেও স্বাভাবিক করে তুলেছেন। এতে মাথা ঠান্ডা করে ভাবতে বেশ সুবিধা হয়। 🤣🤣
Practical heroism কি জিনিষ, পুলিশ কেও কত কাজ করতে হয় তা বেশ সুন্দর তুলে ধরেছেন। সিনেমা কম বাস্তব বেশি।
বইটি খুব জমিয়ে লেখা। যদি আপনি একদিন বই পড়ে, বিছানায় অসমাপ্ত বই নিয়ে শুয়ে, পরের দিন উঠে আবার সেই পড়া দিয়ে দিন শুরুতে বিশ্বাসী হন তাহলে এই আদর্শ। গল্পে অনেক টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন আছে কিন্তু সেগুলির একটিও প্রেডিক্টবল নয়। খুব গুছিয়ে প্রত্যেকটি গুটিতে দান দিয়েছেন লেখক।
মোটের ওপর বইটি বেশ উপভোগ্য। সময় দিয়ে পড়ুন ভালো লাগবেই। 😍
📝 গল্প-সংক্ষেপ : প্রথম গল্পের স্থান শহর প্রাগ, বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী । সময়টা ১৫৫৯ খ্রিষ্টাব্দ । গথিক স্থাপত্য, সবুজের প্রাচুর্য্য, ইয়্যান ব্লাহস্লাভের সংগীত... ওপরের এই ভালোমানুষ চেহারার নীচে চাপা একটা বর্বরতা, হিংস্রতা আর অনেকটা রক্ত । রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যেতে থাকল কিছু কিশোরী । ঘটনাগুলি ঘটল সংখ্যালঘু ইহুদি বস্তি-সংলগ্ন ইয়াকুবস্কা উলিচস্কার রাস্তায় । খ্রিশ্চান ও ইহুদি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ফাটলটা হিংস্র চেহারা নিল । ইহুদি ধর্মাধ্যক্ষ র্যাবাই লৌ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি রুখে দাঁড়াবেন । কী এমন সৃষ্টি করলেন যে প্রাগ শহরে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ? তিন কিশোরীর অন্তর্ধান রহস্য সমাধান হল কিভাবে ?
সাম্প্রতিক অতীতের কলকাতা । শহরে পর পর খুন হলেন চারজন । সর্বত্র দৃশ্যমান আনন্দ এবং সম্প্রীতির ছবিটার নীচে কি একটা অবিশ্বাসের লাভা বয়ে চলেছে সমানে ? অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর উলূপী দেবী কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন এই হত্যালীলার সঙ্গে ? বোলপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার সময় কী এমন হল যে প্রকৃতির এক গোপন ডাইমেনশনের দরজা খুলে গেল উলূপীর জীবনে ? পঞ্চমীর সন্ধেবেলায় হঠাৎ কলকাতা হয়ে উঠল গবেষণাগারের গিনিপিগ । উলূপী কি পারলেন কলকাতাকে সেই গবেষণাগার থেকে মুক্ত করতে ? এইসব ঘটনাবলীর সঙ্গে ১৫৫৯ প্রাগ শহরের কী সম্পর্ক ?
📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : ২৯৫ পাতার এই সুবৃহৎ থ্রিলার উপন্যাসটি পড়ে জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গেছি । কি পড়লাম এটা !
▪️আচ্ছা... ‘ধর্ম’ বড়ো, নাকি মানবতা ? যদি ধর্ম’ই বড় হয়ে থাকে তবে তা কেন হিংস্রতার জন্ম দেয় ? মানবকল্যাণ যদি ধর্মের মূল সুর হয়ে থাকে, তবে কেন সৃষ্টি হয় এই রক্তপিপাসু ‘সাম্প্রদায়িক বিভেদ’ ?
▪️এই উপন্যাসে রহস্যের জট খুলতে খুলতে পাঠক পৌঁছে যায় এক চরম সত্যের দরজায় । যেখানে ধর্ম মোহাচ্ছন্ন করে রাখে সাধারণ মানুষকে, আর সেই সুযোগে সেখানে থাবা বসায় রাজনীতির কুটিল নখ, ছিন্ন-ভিন্ন করে দিতে থাকে মানবতা এবং মূল্যবোধ ।
📜 এই উপন্যাসে দুটি সময়ের দুটি ভিন্ন গল্প এগিয়েছে সমান্তরাল ভাবে ।
▪️একটি গল্পের পটভূমি ষোড়শ শতকের পূর্ব ইউরোপের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট... যা সুন্দর ভাবে ‘গথিক’ আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে । সেখানে আছে ইহুদি এবং খৃষ্টানদের ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ, লড়াই, চক্রান্ত এবং একাধিক খুন । একের পর এক কিশোরী কেন নিখোঁজ হচ্ছে, এর পিছনে কোন্ গূঢ় রহস্য, কেন দুই ধর্মের মধ্যে গণ্ডগোল বাধানোর চেষ্টা চালাচ্ছে একদল মানুষ... আছে এই সব প্রশ্নের উত্তর । আর আছে প্রায় মিথ্ হয়ে যাওয়া চরিত্র ‘র্যাবাই লো’ । প্রাগের তৎকালীন ইহুদিদের ‘ঘেত্তো’র দৈনন্দিন জীবন ও তাঁদের সংগ্রামের কথা লেখকের বর্ণনায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে ।
▪️অন্য গল্পে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অতীতের কলকাতা, তথা পশ্চিমবঙ্গের চিত্র । ধর্ম আর জাতপাতের লড়াই যে আমাদের দেশে এখনো চলছে তা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কাহিনীর মাধ্যমে লেখক দারুনভাবে তুলে ধরেছেন । সেই বিদ্বেষ, সেই হানাহানি, সেই ধর্ম নিয়ে উন্মত্ততা । ঠিক কিভাবে এবং কোথায় রোপণ করা হয় সাম্প্রদায়িকতার সেই বিষ ? স্থান কাল এবং পাত্র ভিন্ন হলেও, পাঠক অনুভব করতে পারবেন এই কাহিনী বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কতটা প্রাসঙ্গিক ।
📜 লেখক সৌভিক দাসের লেখনীর সাথে এই প্রথম পরিচয় হল । আদ্যোপান্ত রহস্য-রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ এই থ্রিলারের অন্যতম মূল ভিত্তি হল ‘স্যাটায়ার’, আরও বিষদে বললে ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’। গুরুগম্ভীর ঘটনাপ্রবাহের মাঝে লেখক যেভাবে সুকৌশলে ‘ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ’ মিশিয়েছেন তা এককথায় অনবদ্য । ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলারের মধ্যে এত সুন্দর ‘রসিকতা’র মিশ্রণ আমি আগে পড়েছি বলে মনে হয় না ।
▪️ষোড়শ শতকের পটভূমিতে প্রাগ শহরের ইহুদি এবং খ্রীষ্টান নামগুলি মনে রাখতে একটু সমস্যা হয় ঠিকই, কিন্তু তবুও বলবো বাংলা মৌলিক থ্রিলারের জগতে এই উপন্যাস ভীষণ রকম স্বতন্ত্র এবং সাহসিকতার উদাহরণ । অবশ্যই পড়ুন ।
বই - তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে লেখক - সৌভিক দাস পাবলিশার্স - অভিযান পাবলিশার্স মুদ্রিত মূল্য - ৩৭৫ টাকা ______________________________________________ "তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে" তেমন ধারার ই একটি গথিক থ্রিলার। যার পটভূমি মধ্যযুগের চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী। উপন্যাসের ঘটনা এগিয়েছে দুটি সমান্তরাল সময়ে। গল্পের দুটি দিক আছে। এক দিকে বর্তমানের কলকাতা শহর এবং অপরদিকে আছে ১৫৫৯ সালের প্রাহা। বর্তমানের (২০১৫) সালের কলকাতার ঘটনায় আছে অবসর নিতে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা উলূপী দেবী। পঞ্চমীর রাতে রাজনৈতিক বড়ো কয়েকজন নেতা খু ন হয়ে যায়। ঘটনায় জড়িয়ে যায় উলূপীও। তদন্তে নামে সে। খু নের কারণ কি অতীতে এক মুসলিম কর্মচারীর গো-মাংস ভক্ষণের জন্য তাকে পিটিয়ে মে রে ফেলা? তদন্তে নেমে উলূপী খোঁজ করতে থাকে সত্যের। এরমধ্যেই গাড়িতে করে বোলপুর যাওয়ার পথে এক এক্সিডেন্ট ঘটে। সেখানেই কি ঘটনার মোড় বদলে যায়? উলূপীর চিন্তার জগতে কি কোন দৈবিক ঘটনা ঘটে? অতীত আর বর্তমানের এই দোটানায় উলূপী আসল সত্য উদঘাটন করতে পারবে? ধর্ম আর সাম্প্রদায়িকতাই কি মূল না এর পেছনের উৎস সুদূর কোন অতীত? মধ্যযুগের প্রাহায় এক ই হু দী হ ত্যার জের ধরে ঘটনা এগিয়ে যায়। কেন প্রাণ দিতে হলো তাকে? সে কি কোন অযাচিত কিছুর সাক্ষী হয়ে গেছিল? অন্ধকারের মাঝে কে করছে নৃশংস খু ন গুলো? সাম্প্রদায়িকতা, রাজনীতি, ক্ষমতার খেলার মাঝে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার তো যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। একে রুখার কোন উপায় আজও আবিষ্কার হয়নি। সেই যুগের সংঘাত এবং এক রহস্যের উদঘাটন বর্তমানকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে। সমাধান করতে পারবে কি উলূপী দেবী? নিজের মনের সাথে যু দ্ধ করে সত্যের মুখোমুখী হতে হবে তাকে।
🥂পাঠ প্রতিক্রিয়া - পাঠ-প্রতিক্রিয়া : ২৯৫ পাতার এই সুবৃহৎ থ্রিলার উপন্যাসটি পড়ে জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গেছি । কি পড়লাম এটা !
▪️আচ্ছা... ‘ধর্ম’ বড়ো, নাকি মানবতা ? যদি ধর্ম’ই বড় হয়ে থাকে তবে তা কেন হিংস্রতার জন্ম দেয় ? মানবকল্যাণ যদি ধর্মের মূল সুর হয়ে থাকে, তবে কেন সৃষ্টি হয় এই রক্তপিপাসু ‘সাম্প্রদায়িক বিভেদ’ ?
▪️এই উপন্যাসে রহস্যের জট খুলতে খুলতে পাঠক পৌঁছে যায় এক চরম সত্যের দরজায় । যেখানে ধর্ম মোহাচ্ছন্ন করে রাখে সাধারণ মানুষকে, আর সেই সুযোগে সেখানে থাবা বসায় রাজনীতির কুটিল নখ, ছিন্ন-ভিন্ন করে দিতে থাকে মানবতা এবং মূল্যবোধ ।
📜 এই উপন্যাসে দুটি সময়ের দুটি ভিন্ন গল্প এগিয়েছে সমান্তরাল ভাবে ।
▪️একটি গল্পের পটভূমি ষোড়শ শতকের পূর্ব ইউরোপের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট... যা সুন্দর ভাবে ‘গথিক’ আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে । সেখানে আছে ইহুদি এবং খৃষ্টানদের ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ, লড়াই, চক্রান্ত এবং একাধিক খুন । একের পর এক কিশোরী কেন নিখোঁজ হচ্ছে, এর পিছনে কোন্ গূঢ় রহস্য, কেন দুই ধর্মের মধ্যে গণ্ডগোল বাধানোর চেষ্টা চালাচ্ছে একদল মানুষ... আছে এই সব প্রশ্নের উত্তর । আর আছে প্রায় মিথ্ হয়ে যাওয়া চরিত্র ‘র্যাবাই লো’ । প্রাগের তৎকালীন ইহুদিদের ‘ঘেত্তো’র দৈনন্দিন জীবন ও তাঁদের সংগ্রামের কথা লেখকের বর্ণনায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে ।
▪️অন্য গল্পে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অতীতের কলকাতা, তথা পশ্চিমবঙ্গের চিত্র । ধর্ম আর জাতপাতের লড়াই যে আমাদের দেশে এখনো চলছে তা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কাহিনীর মাধ্যমে লেখক দারুনভাবে তুলে ধরেছেন । সেই বিদ্বেষ, সেই হানাহানি, সেই ধর্ম নিয়ে উন্মত্ততা । ঠিক কিভাবে এবং কোথায় রোপণ করা হয় সাম্প্রদায়িকতার সেই বিষ ? স্থান কাল এবং পাত্র ভিন্ন হলেও, পাঠক অনুভব করতে পারবেন এই কাহিনী বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কতটা প্রাসঙ্গিক ।
📜 লেখক সৌভিক দাসের লেখনীর সাথে এই প্রথম পরিচয় হল । আদ্যোপান্ত রহস্য-রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ এই থ্রিলারের অন্যতম মূল ভিত্তি হল ‘স্যাটায়ার’, আরও বিষদে বললে ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’। গুরুগম্ভীর ঘটনাপ্রবাহের মাঝে লেখক যেভাবে সুকৌশলে ‘ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ’ মিশিয়েছেন তা এককথায় অনবদ্য । ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলারের মধ্যে এত সুন্দর ‘রসিকতা’র মিশ্রণ আমি আগে পড়েছি বলে মনে হয় না ।
▪️ষোড়শ শতকের পটভূমিতে প্রাগ শহরের ইহুদি এবং খ্রীষ্টান নামগুলি মনে রাখতে একটু সমস্যা হয় ঠিকই, কিন্তু তবুও বলবো বাংলা মৌলিক থ্রিলারের জগতে এই উপন্যাস ভীষণ রকম স্বতন্ত্র এবং সাহসিকতার উদাহরণ । অবশ্যই পড়ুন ।