নাফিস এক হতাশাগ্রস্ত যুবক, সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজকেই হবে তার জীবনের শেষ দিন। ওদিকে শৈশবে নানা অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার গনিউলের চোখে ধ্বংসের নেশা। ইমাদুল হাসান ভাবছে আজ রাতের ডিউটিটা কখন শেষ হবে। আদৌ শেষ হবে তো? দায়িত্ববান সাফওয়াত খুঁজছে মুক্তির পথ। কিন্তু, এদের সবার নিয়তি এক সুতোয় গাঁথা-যেখানে সিকান্দার চায় রক্তের হোলিউৎসব! এমনই কিছু নিশাচর মানুষদের এক রাতের গল্প এটি... সুদীর্ঘ যে রাত শেষ হতেই চায় না !
আজকে বেশি কথা বলবো না। অল্পকথায় কেমন লাগলো বলেই পালাবো। কারন অনেক রাত হয়ে গেছে পড়তে পড়তে। আমার জন্য ১০০+ পেজের একটা নভেলা পড়তে খুব কম সময় লাগে। সেই রেকর্ডও মনে হয় আজকে ভেঙ্গে দিয়েছি। পড়া শুরু করলাম আর মনে হলো শেষ পাতায় চলে আসছি। একবসায় পুরোটা শেষ। একমুহূর্তের জন্যও ছন্দপতন হয়নি বা বিরক্তি আসেনি। মোটকথা লভেলাটা ভালো লেগেছে আমার।।।
বইটা পড়ার এক পর্যায়ে জানতে পেরেছি লেখক মিডিয়া-ফিল্ম এর সাথেও যুক্ত। বোধহয় সেটারই প্রতিফলন ঘটেছে গল্পে। দৃশ্যপট মাপা মাপা। ট্যুইস্ট কিংবা স্টোরি লাইন যেমন হওয়া উচিৎ একটি সার্থক গল্প/ ছোট পরিসরে থ্রিলার হওয়ার জন্য ঠিক তেমনই হয়েছে। স্ক্রিন প্লে-টাও বেশ উন্নত। নাফিসের আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত থেকে কাকতালীয় ভাবে কিছু সন্ত্রাসবাদীর সাথে জড়িয়ে যাওয়াটাও জোর করে তৈরি করা একটা গল্প মনে হয়নি। যেন বাস্তবে হলেও ঘটনাটা এমনটা হতেও পারতো। অবাস্তব কিছু ছিলো না গল্পে।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে উৎসর্গ পৃষ্ঠা। হলি আর্টিসানের ঘটনার স্মরণে এই লেখার মূল বিষয়বস্তুই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের একটি ছোট দল দীর্ঘ পরকল্পনার পর তাদের নাশকীয় কার্যক্রমের ইতি টানার কিছু মুহুর্ত। পহেলা বৈশাখের ভোরে ঘটাতে চায় বিস্ফোরণ। তাদের মিশন সফল কি ব্যার্থ - সেটা নিয়েই সরল প্লটে চলেছে গল্প। অতি-কাকতালীয় কিছু ছিলো না; এটাই ভালো লেগেছে।
দু'একটা জায়গায় অবশ্য মনে হয়েছে এভাবে আগেই এই জায়গাটায় বর্ননা করে বলে দেয়া ঠিক হয়নি। আর বানান ভুল একটু চোখে পড়েছে। শেষ দিকে পুকুরের পরিধি হবে নাকি ব্যাস সেটা নিয়ে একটু কনফিউশন আছে আমার। এ কয়টা ছাড়া আমার কোন পয়েন্ট অড লাগেনি। এ দেশে বোধহয় এটাই লেখকের প্রথম বই। ভালো কাজ হয়েছে।
সুলেখক বাপ্পি খান এর সম্ভবত দ্বিতীয় বই এটা।কাহিনী সাধারণ হলেও লেখনশৈলী ছিল অত্যন্ত চমৎকার। এক বসাতে একদম শেষ করেছি।ঢাকার বুকে এমন কন্সপিরেসি থ্রিলার পড়াটা ভাল লেগেছে।কাহিনী টা আরো ভাল হলে বইটি জমত ভাল।
এটি আমার বাপ্পি খান ভাইয়ের পড়া প্রথম বই॥ বইয়ের গল্পটি খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা হয়েছে এবং গল্প বলার ভঙ্গিটাও খুব সুন্দর লেগেছে॥ গল্পটিতে প্রয়োজনমতো থ্রীল ছিল॥ গুডরিডস্ এ থাকা কমেন্ট থেকে এবং আমার কমেন্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এই গল্পটি সকল পাঠকদেরই পছন্দ হয়েছে॥ আমারও এই বইটি পছন্দ হয়েছে॥ এজন্য আমার পক্ষ থেকে এই বইটিকে 4/2 রেটিং দিলাম॥**Best Of Luck, Bappi Bhai**.😊❤
বেশ ভালো সময় কাটল বাপ্পী খান ভাইয়ার "নিশাচর" সাথে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে বইটির উৎসর্গ পত্র এবং গল্পটির শেষাংশ। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে হলি আর্টিজানে হামলায় নিহত মানুষগুলোর প্রতি। যারা ১০০-১২০ পেজের মধ্যে থ্রিলার গল্প খুঁজছেন, তারা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখবেন।
শেষের দিকে একজায়গায় নবজাতকের খিলখিল হাসির কথা আসছে। 😅 হিহি মঙ্গল শোভাযাত্রা, পহেলা বৈশাখ উদযাপন অসাম্প্রাদায়িকতা! যদিও উৎসবের আগা গোড়া পৌত্তলিক সংস্কৃতি থেকে ধার করা।
কাহিনি সংক্ষেপঃ নাফিস। প্রবল হতাশাগ্রস্ত এক যুবক। পহেলা বৈশাখের আগের রাত্রিতে, যখন পুরো রাজধানী শহর পরদিন প্রভাতে উৎসবে মাতোয়ারা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ঠিক তখনই সে তার জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটা নিলো। ভালোবাসার মানুষটাকে হারানো এই ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলেটা আত্মহত্যা করতে চাইলো। কিন্তু অদ্ভুত কিছু ব্যাপার ঘটনাচক্রে তার সামনে চলে আসায় দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লো সে। না চাইতেও সে জড়িয়ে গেলো অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ এক ঘটনার সাথে যা সমগ্র জাতির অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত।
বিস্ফোরক নিয়ে খেলা করা গনিউলের অভ্যাস। মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়াই তার জীবনের মূল লক্ষ্য। এবার সে অভিনব এক বম্ব আবিস্কার করেছে যার ধ্বংসক্ষমতা ব্যাপক। পুরো ঢাকা শহরে কাঁপন ধরানোর স্বপ্নে বিভোর গনিউল এগিয়ে চলেছে নিজ মিশনের দিকে।
দেড় বছর আগে ঢাকার এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলো কয়েকজন বিদেশী নাগরিক সহ বেশ কিছু মানুষ। সেই ন্যক্কারজনক ঘটনার মূল সূত্রধর সিকান্দার পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আবারো ভয়ানক পৈশাচিক এক পরিকল্পনার রূপদানে রত হয়েছে। যা সফল হলে বৈশাখী উৎসব রাতারাতি পরিণত হবে রক্তের হোলিখেলায়।
ওসি ইমাদুল হাসান ও এসপি সাফওয়াত সাহেবের শান্তি পুরোপুরি বিনষ্ট হওয়ার জন্য নাশকতার পূর্বাভাষ পাওয়াটাই যথেষ্ট ছিলো। মাঝরাতে পুলিশ তো বটেই, দৌড়াদৌড়ির মধ্য দিয়ে সময় যেতে লাগলো নাফিস, আফতাব ও সানজানার মতো সিভিলিয়ানদেরও। ভয়াবহ এক হুমকি থেকে মানুষকে বাঁচাতে ও নিজেরা বাঁচতে মরিয়া হয়ে ওঠা একদল মানুষের গল্পে পরিণত হলো এটা। এমন এক রাতের গল্প এটা, যা শেষ হওয়াটা খুব জরুরি হয়ে পড়লো।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বাপ্পী খানের লেখার সাথে আমার পরিচয় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত 'থৃলার গল্পসঙ্কলন ৪'-এ স্থান পাওয়া তাঁর 'প্রহেলিকা' ও 'বুমেরাং' গল্প দুটো থেকে। তখনই তাঁর সহজ সাবলীল ও বাহুল্যবর্জিত লেখনী ভালো লেগেছিলো। এরপর কলকাতার অরণ্যমন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় লেখকের প্রথম নভেলা 'একা'। যদিও ওটা পড়া হয়নি। এই বছরের অমর একুশে বইমেলায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত 'নিশাচর' অবশেষে পড়তে পারলাম। মাত্র ১১১ পৃষ্ঠার এই নভেলার শুরু থেকেই ছিলো রোমাঞ্চের আনাগোনা।
কয়েকজন মানুষের এক রাতের গল্প 'নিশা���র'। এমন এক রাত, যে রাত বড় অস্থির। ভয়াবহ একদল মানুষের ততোধিক ভয়াবহ এক পরিকল্পনাকে ঘিরেই মূলত গড়ে উঠেছে এই নভেলার প্লট। লেখক দারুনভাবে প্রত্যেকটা অধ্যায়ে এই কাহিনির চরিত্রগুলোর নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো ব্যাপারটাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অধ্যায়গুলো ছিলো একেবারেই সংক্ষিপ্ত। সেগুলো একটু বর্ধিত করলে বইটা কলেবরে আরো একটু বাড়তো। সেটা অবশ্য আমার মতে একেবারে খারাপ হতোনা।
বইটা পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে বাপ্পী খান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হওয়া সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেশ প্রভাবিত ছিলেন। অবশ্য ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রভাব সেই সময়ে সারা দেশের মানুষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। 'নিশাচর'-কে তিনি উৎসর্গ করেছেন ওই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। যাই হোক, মোটামুটি ভালোই লেগেছে বইটা পড়তে গিয়ে। প্লট ডেভেলপিংও যথেষ্ট উন্নত ছিলো৷ ডিলান সাহেবের করা প্রচ্ছদটাও চমৎকার লেগেছে।
নাফিস,ছোট বেলা থেকেই পরিবার থেকে বঞ্চিত এক যুবক , কিন্তু পরিবারের এক কালো অধ্যায় বড় হবার পরেও তার পিছু ছাড়ে না , তাই নাফিস ঠিক করে সে আত্মহত্যা করবে। - এদিকে কোন এক ভয়ানক চক্র চাইছে ঢাকায় পহেলা বৈশাখের আগের রাতে বড় ধরণের কিছু ঘটাতে। আত্মহত্যা করতে গিয়ে ঘটনাক্রমে সেই চক্রান্তের খবর জেনে ফেলে সে। - অন্যদিকে সেই চক্রেরই একজন,গনিউল ধরা পরে যায় পুলিশের কাছে। আহত গনিউল চার আঙুল দেখিয়ে এক ইঙ্গিত করে। শুরু হয় পুলিশ অফিসার ইমদাদুল ও সাফওয়াত এর সেই ইঙ্গিতের মানে খোঁজা। - এখন নাফিস আত্মহত্যা করতে গিয়ে কি চক্রান্তের কথা জানতে পেরেছিলো ? চার আঙুলের মাধ্যমে কি বুঝাতে চেয়েছে গনিউল ? কে চাইছে উৎসবের দিনে রক্ত নিয়ে হোলি খেলা করতে ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়েই লেখা হয়েছে 'নিশাচর ' . - " নিশাচর " লেখকের দ্বিতীয় নভেলা হলেও আমার পড়া এটিই তার প্রথম নভেলা। পুরো কাহিনী একটি রাতকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। লেখনী বেশ সাবলীল এবং এক বসায় পুরো বই শেষ করে দেয়ার মতো এবং মুল প্লট টি নভেলার প্লট হিসেবে খুবই মানানসই। - ক্যারেক্টার এর বলতে গেলে বইতে খুব বেশি চরিত্র ছিলো না কিন্তু সব চরিত্র গল্পের প্লটের সাথে ভালোভাবে মানিয়ে গেছে।কাহিনীতে কোন ধরণের হাই সাসপেন্স বা টুইস্ট না থাকলেও কাহিনীর বর্ণনা ছিল দুর্দান্ত আর বইয়ের শেষটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে। মূল কাহিনীর স্থান অতি চেনা পরিচিত রাস্তাঘাট হওয়ায় কাহিনীর সাথে আরো ভালো ভাবে মিশে গেছি। - ওভারঅল , এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো এক নভেলা " নিশাচর " . সামনে লেখকের কাছ থেকে বড় সাইজের নভেল আশা করছি।
নাফিস। বাবা মার এক মাত্র সন্তান। একমাত্র সন্তান বলেই যে সে বাবা মার চোখের মনি বা সব আনন্দ সুখ তারই কাছে এমন ভাবলে ভুল হবে। হতাশাগ্রস্থ এক যুবক সে। বাবা মা এর ভালবাসা পায়নি, পারিবারিক ঝামেলার কারনে। ভালবাসার মানুষকে আকড়ে ধরে বাচতে চেয়েছিল, সেও তার পারিবারিক সমস্যার কথা জেনে হাত ছেড়ে দেয় নাফিসের। ফলাফল নাফিস সুইসাইড করতে চায়। সুইসাইড করতে গিয়ে এক বহুতল ভবনে উঠেই এক চমকপ্রদ ও সন্দেহজনক ঘটনার দেখা পায়সে। মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করে ফেলে সে। এই একটা ঘটনায় জীবন বদলে যায় তার। জড়িয়ে পড়ে দেশের সবচেয়ে টপ সিক্রেট আর টপ প্রায়রিটি অপারেশনের একটিতে।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ১১২ পেজের একটা বই। তার উপর বড় হরফে ফাকা ফাকা দিয়ে এবং এক পরিচ্ছেদ পর পর অনেক যায়গা বাকি রেখে পরের পাতায় চলে যাওয়া বই। এর চেয়ে বেশী লিখলে চাকুরী থাকবেনা। (বই পড়তে গিয়ে মনে হইছে আগে যেমন আমরা বাংলা রচনা কমন না পড়লে যেভাবে লিখে খাতার ঘনত্ব বাড়াতাম সেভাবে আরকি।) বইটা পড়তে গিয়ে অনেকগুলো সিনেমার ঘটনা মনে পড়ছিল। পরে দেখলাম লেখক মিডিয়ার সাথে জড়িত। সব চেয়ে বড় কথা ভাগ্যের বড়ই বেশী সহায়তার লক্ষনীয় উপস্থিত ঘটেছে বইটাতে।
প্রেমে ব্যর্থ নাফিস। প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত নাফিস আজকে রাতেই আত্মহত্যার জন্য তৈরি হচ্ছে। এক পরিত্যক্ত বাড়ির ছাদে গিয়ে ভাবছে কীভাবে আত্মহত্যা করবে। এমন সময় তার নজরে পরল রহস্যজনক ব্যাপার । আপাতত আত্মহত্যার পরিকল্পনা বাদ। ওদিকে ট্রাফিক পুলিশকে জখম করেও পালাতে পারলো না এক সন্ত্রাসী। ধরা পরল পুলিশের হাতে। তার থেকে বের হয়ে এলো ভয়ংকর কিছু তথ্য। কি অপেক্ষা করছে আজকে রাতে?
পাঠ পতিক্রিয়া- বাপ্পী ভাইয়ের লেখার সাথে এই প্রথম পরিচয় হল। সিনেম্যাটিক স্টাইলে খুব সুন্দর করে লিখেছেন নভেলাটা। প্রথম থেকেই জম্পেশ ছিল। কোথাও ঝুলে যায়নি। স্বাবলীল বর্ণনাভঙ্গি। সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটি বই।
একটি রাতের কাহিনী। একজন নিশাচরের কাহিনী। একটি ভয়ংকর পরিকল্পনার কাহিনী। রাতবিরেতে ঘটতে পারে অনেককিছুই, জানতে চাইলে খুলে বসুন নিশাচর। শেষ করুন এক লহমায়।
নাম: নিশাচর লেখক: বাপ্পী খান জনরা: থ্রিলার প্রকাশনী: বাতিঘর
ঘুমে বেঘোর যখন সবাই নিশাচর জেগে রয়...
একটুখানি সুখ একটুখানি ভালোবাসা সবার ভাগ্যে জোটে না। এমনই একজন নাফিস। শেষ করে দিবে জীবনকে এমনই একটা পরিকল্পনা নিয়ে বের হলেও হঠাৎই পায় বিপদের আভাস! রহস্যময় কিছু একটা হচ্ছে কিন্তু কী? নিস্তব্ধ ঢাকা কিন্তু আড়ালে চলছে বড় ধামাকার আয়োজন। নববর্ষ, খুশির উৎসবকে রক্তাক্ত উৎসবের রূপ দিতে ব্যস্ত একজন। তারপর...
কলেবরে ছোট একটা বই। কাহিনীও সোজাসাপ্টা, টুইস্টও অল্পই। বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লড়াই। খলনায়ক কে শুরুতেই বলে দেওয়া। মূল বিষয় হলো টেরোরিস্ট এট্যাক কী আটকানো যাবে, কীভাবে। বেশ কিছু চরিত্র আছে যারা জড়িয়ে যায় একে অপরের সাথে। শুরু হয় খড়ের গাদায় সুঁইয়ের খোঁজ। অল্পকিছু অ্যাকশন সিনও আছে। এডিং প্রেডিক্টেবল। হালকা ধাঁচের থ্রিলার, উপস্থাপনা বেশ সাবলীল।
ছোট পরিসরে বেশ ভালো একটা বই। এই প্লটে আরও বিস্তারিতভাবে আরও আকর্ষণীয় একটা বই হতে পারতো। আর শেষটা এতো সিনামার মতো না হয়ে আরও ভালো কিছু হতে পারতো। তবে, লেখকের লেখার হাত বেশ ভালো। লেখকের প্রতি শুভকামনা।
এক বসায় পড়ে ফেলার মত উপন্যস। সিনেমাট্যিক ফিল দিবে।
বইটির ভালো দিক হলো অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা নেই, শুধু মূল গল্পই চলেছে। এন্ডিং বেশ ভালোভাবে করেছেন, ভালো লেগেছে। শুধু সিনেমাট্যিক ব্যাপার বলে একটু হতাশ হয়েছে।
বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে হলি আর্টিজান হামলায় নিহত ২২ জন মানুষকে। এটা দেখে ভেবেছিলাম হয়ত হলি আর্টিজান এর ঘটনাটি লেখা হয়েছে। একটু মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পড়ার শুরুর পর বুঝতে পারলাম অন্য কিছুই এই গল্প। এমন গল্পইতো চাই!
কাহিনি সংক্ষেপেঃ- চারতালার একটি অন্ধকার ঘরে বসে আসে সিকান্দার। কিছুদিন আগে তার এক ভয়াবহ পরিকল্পনায় ঢাকা শহরের এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে ঝরে গিয়েছিল ২২ টি তাজা প্রাণ। আজ আবার ধামাকা করতে চলছে, বড় ধামাকা! সে কথা ভাবতেই তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। খুব সুক্ষভাবে তাকালে বোঝা যায়, সে হাসিতে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ পৈশাচিকতা।
রাতের আঁধারে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে হেটে চলছে নাফিস। নীরবতা আর অন্ধকার-যেনো একে অপরের অভিন্ন অংশ, মানব জীবনে উভয়েই আসে দুঃখের প্রতিবিম্ব হয়ে। নাফিস নিজেকে সেরকমই এক নিরব আঁধারের মাঝে হারিয়ে ফেলেছে। অবশ্য তার পুরো জীবনটাই তো এমন চির হতাশার দখলে। ছোট বেলায় বাবা-মা দুজনের সম্পর্কে বিচ্ছেদ। আজ আবার ভালোবাসার মানুষটির বিয়ে হয়ে যাওয়া। কি করবে বেঁচে থেকে। আত্মহত্যা!
চেয়ারে চুপচাপ বসে আছে ধানমন্ডি থানার ওসি ইমদাদুল হাসান। আর কয়েক ঘন্টা পরেই বাংলা নতুন বছর উদযাপনে নানা অাচার অনুষ্ঠানে মাতবে পুরো ঢাকা। সেজন্য পুলিশসহ পুরো দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সতর্ক অবস্থানে আছে। কিছুক্ষণ আগে ডিসি অফিস থেকে ফোন এসেছিল। নিশ্চয়ই কোন গোপন নাশকতামূলক তৎপরতার খবর পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। সেটা নিয়ে ভাবছিল সে। নিজের পুলিশ বাইকে চড়ে সার্ট দিতে দিতে ভাবলো, রাত এখনো বেশ বাকি। সামনে কঠিন সময়!
এরকম আরো অনেক মানুষই আজ রাতের আঁধারে নিশাচরের মতো ঘুড়ে বেড়াচ্ছে ঢাকার রাস্তায়। সবারই গল্প দিন শেষে শুতোতে গাথা!
নাফিস মৃত্যুর আগে জীবনের শেষ ছবি তুলতে গিয়ে লক্ষ করলো তার ছবির এক কোণে রহস্যজনক কিছু ধরা পরেছে!
মারাত্বক কিছু বোমা নিয়ে শিকারে বের হয়েছে গনিউল। চোখে তার ধ্বংসের নেশা।
কি হতে চলেছে নতুন বছরের এই দিনে। তবে কি হলি আর্টিজান হামলার চেয়ে ভয়াবহ কোন ট্রাজেডির দেখা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
আমি বলছিঃ- দূর্দান্ত গতির থ্রিলার বই। পড়া শুরু করলে উঠতে হবে শেষ করে। সবাই এই কথাটা বলে কিন্তু পরে দেখা যায় তেমন কিছুই না। তবে এই বইটা তেমনই বই,যা পড়ে শেষ করে উঠতে হবে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো বইটির অধ্যায় গুলো ২-৩ পৃষ্ঠার বেশি না। লেখক চাইলে আরো বড় করতে পারতো। কিন্তু বড় করতে গেলেই বোরিং হয়ে যেত। আমি বইতে অতিরিক্ত বকবকানি পছন্দ করিনা। এই বইতে বকবাকি নেই।শুধু মূল গল্পই চলেছে। বেশ ভালো লেগেছে বইটা। আমি সবসময় এমন বইই খুজে বেড়াই। যেখানে শিক্ষামূলক জিনস কম কিন্তু চমৎকার গল্প থাকবে। যা পড়তে শুরু করে উত্তেজনা বেড়ে যাবে বহুগুণ। যাইহোক বইটি বেশ ভালো লেগেছে। যদি রেটিং এর কথায় আসি তবে ৫ এ ৩ দিব। কারণ, এই গল্পরের মতো হাজার হাজার মুভি খুজে পাওয়া যাবে হলিউডে। বইতে নতুন কিছুই ছিল না। আর একটু বেশিই কাকতালীয় ভাবে মিলে যাওয়া ব্যাপার ছিল। যা আমার ভালো লাগেনি।
বেশ কয়েকদিন ধরে মোটা এক বই ধরে পরে আছি, কিন্তু শেষ হচ্ছে না বিভিন্ন কারণে। ভাবলাম ছোট সাইজের কোনো বই নিই, যাতে এক বসায় শেষ করতে পারি। সেই ভাবনাতেই নিলাম “নিশাচর” বইটি। এবং অনেক তাড়াতাড়িই বইটি পড়ে শেষ করলাম।
শুরুতেই যেই কথাটি বলতে চাই, সেটি হচ্ছে লেখকের প্রথম বই “একা”-এর চাইতে অনেক ভালো করেছেন এই বইটি, সেটি প্লটের দিক থেকেও, উপস্থাপনের দিক থেকেও। মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত প্লট না এনে অনেক সাধারণ প্লট নিয়ে কাজ করেছেন। কাহিনীর মধ্যে বড় ধরণের কোনো সাসপেন্স বা টুইস্ট ছিল না ঠিকই, তবে বর্ণনাভঙ্গির জন্য ভালো লেগেছে, জটিল বা কঠিন না করে অনেক সহজ-সাবলীল ছিল। লেখকের প্রথম বইতেও এই সহজ, সরল ও সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি লক্ষণীয়।
শব্দচয়ন মোটামুটি ভালো লেগেছে। মোটামুটি বলছি, কারণ হচ্ছে এমন অনেক শব্দ ব্যববার করা হয়েছে, যেগুলোর পরিবর্তে হয়তো আরো মানানসই অন্যান্য শব্দ ব্যবহার করা যেতো, তাহলে হয়তো পড়তে আরো আরাম পাওয়া যেত।
ক্যারেক্টার অত বেশি ছিল না। নাফিসের ক্যারেক্টাকে কিছুটা ডেভেলপ করেছেন লেখক, নভেলাতে যতটুকু করা যায় আরকি। লেখক বড় কাজে—উপন্যাসে হাত দিলে ওনার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের কাজ ভালোভাবে দেখতে পাবো হয়তো। তবে আফতাবের ক্যারেক্টারটার জন্য খারাপ লেগেছে, বেচারাকে অনেক অবহেলা করেছেন লেখক সাহেব। সানজানার ক্যারেক্টারেরও আরেকটু ব্যাপ্তি দেয়া যেত হয়তো। পুরোপুরি সফল না হলেও, লেখক বইতে পৈশাচিকতা, হিংস্রতাকে এবং পাশাপাশি দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসাকেও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন ভালোভাবে। এন্ডিং বেশ ভালোভাবে করেছেন, ভালো লেগেছে।
বেশকিছু বানান ভুল ছিল, যদিও সেগুলো কাহিনীর বর্ণনায় এড়িয়ে যাওয়া যায়। সর্বোপরি এক বসায় শেষ করার মত বই। সবাইকে আমন্ত্রণ বইটি পড়ার। আর লেখকের জন্য শুভকামনা তার পরবর্তি বইয়ের জন্য।
রাত বাড়ছে, হাজার বছরের... নাহ্, হাজার বছর নয়। বরং পহেলা বৈশাখের পূর্বের রাত। যে রাতটাকে বাছাই করেছে সন্ত্রাসী এক দল। কিছু একটা করতে চায় তারা, ভয়ঙ্কর কিছু। নাফিস আর আফতাব, দুজন সাংবাদিক পেয়ে গেছে একটা ক্লু, শরণাপন্ন হয়েছে এসপি সাফওয়াতের। কী মনে হয়, পারবে কি তারা সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি থামাতে? তাহলে ঘুরে আসুন কিছু "নিশাচরের" সাথে।
ছোট ছোট অধ্যায়ে একদম মাপা দৃশ্যপটে এগিয়ে গিয়েছে গল্প। বাহুল্যবর্জিত আর রিয়েলেস্টিক বর্ণনা পড়তে খুব আরাম হয়েছে। শেষের সামান্য টুইস্টটুকুও সুন্দর, কাকতালীয় কিছু মনে হয়নি। লেখক খুব সাজিয়ে গুছিয়েই নিয়েছেন প্লট। তবে আফসোস একটুখানি, সাসপেন্সটা মনে হয় একটু কম পেয়েছি। তবে ওভারঅল খুব ভালো একটা গল্প।
কয়েকজন নিশাচর মানুষের গল্প, যাদের মূল লক্ষ্য ঢাকা শহরকে বিশাল এক হুমকির হাত থেকে বাঁচানো। এভাবেই গল্প এগিয়েছে। নাফিস আফতাব চরিত্রটি দুর্দান্ত ছিল। বিশেষ করে নাফিসের অপ্রত্যাশিত ভাবে ক্রাইমের ক্লু খুঁজে বের করা এবং সাহসিকতা। ছোট কোনো উপন্যাস সহজে মন ভরাতে পারেনা আমার। কিন্তু এই লেখাটাই সুন্দরভাবে মিলিয়ে এন্ডিং করা হয়েছে। আশা করি লেখক তার পরের কোনো লেখায় নাফিস চরিত্রটি টেনে নিবে। ৩.৮ স্টার।
সমস্যা সৃষ্টি.. সমস্যা সমাধান... এইটুকুই । তবে এর মাঝে কিছু মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের গল্প দেখানো হয়েছে... সেম কন্সেপ্টের সাথে আরো কিছু যোগ করে ২০০-২২০ পেজের মধ্যে লেখক আরো সুন্দর কাহিনী উপস্থাপন করতে পারতেন।
এই রকম অসাধারণ সাবলীল লেখনির কাছে থেকে এই রকম সাধারণ লেখা আশা করি না কিন্তু আমরা বাপ্পী ভাই... ভালোবাসা নিবেন 🖤💝
লেখকের বয়স যাই হোক লেখার ধাঁচে পুরোপুরিই নবীন লেখক। গল্প বুনন, বর্ণনা কিংবা নাটকীয়তা সবকিছুতেই উন্নতি করতে হবে। লেখার ভাষা খুব সাধারণ। খুব আকর্ষণীয় নয় যে ধরলে ছেড়ে ওঠা যাবে না; খুব খারাপও নয় যে একবসায় শেষ করা যাবে না।