Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমার জবানবন্দি

Rate this book
প্রথিতযশা সাংবাদিক নির্মল সেনের আত্মজীবনী।

608 pages, Hardcover

Published February 1, 2012

2 people are currently reading
29 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
1 (100%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Shadin Pranto.
1,482 reviews563 followers
October 5, 2019
বামপন্থী রাজনীতিক এবং সাংবাদিক নির্মল সেনের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ছয়শো পাতার বই "আমার জবানবন্দি "

মোটাদাগে এই বইয়ে বর্ণিত ঘটনাবলিকে দুইভাগে ফেলা যায়। ব্রিটিশ শাসনের অবসান থেকে পুরো পাকিস্তান শাসনামল এবং মুক্তিযুদ্ধ থেকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগপর্যন্ত।

ছয়শো পাতার এই বইয়ের ঘটনার বিস্তৃতি ব্যাপক। অবিভক্ত ভারতের গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় জন্ম নেন নির্মল সেন। স্কুলে ছাত্রাবস্থায়ই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে। আমৃত্যু ছিলেন এই দলের সঙ্গে। বামপন্থায় বিশ্বাসী হয়েও যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগে। ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক। পরে ছাত্র ইউনিয়নে যান। ছাত্র ইউনিয়ন থেকে অবশ্য বেরিয়ে আসতে হয়।

লেনিনের মৃত্যুর পর স্টালিন এবং ট্রটস্কির মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় কীভাবে সোভিয়েট ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। স্টালিন চাইছিলেন, আশেপাশে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র থাকলেও সোভিয়েটে সমাজতন্ত্র কায়েম সম্ভব। ট্রটস্কির বিশ্বাস প্রতিবেশী সাম্রাজ্যবাদী হলে নিজদেশে সমাজতন্ত্র কায়েম সম্ভব হবে না। নির্মল সেনের দল বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি) মূলত স্টালিনের তত্ত্বকে ভুল মনে করে।তাহলে কার তত্ত্বকে সঠিকভাবে তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখেনা।
পুরো পাকিস্তান শাসনামলে জুলুম-নির্যাতন নিয়ে রচিত বই সহস্র ছাড়িয়ে গেছে। বাচ্চাকাচ্চারাও বিশেষ জ্ঞান রাখে তা নিয়ে। তাই পাকিস্তান শাসনামল নিয়ে নির্মল সেনের লেখা নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই।

তবে সারাবইতে একটি বিষয়ে খুব পরিষ্কার ধারণা পেলাম কেন বাংলাদেশে বামরাজনীতি কোনোদিন দাঁড়াতে পারেনি। এরা কেউ মস্কোপন্থী, কেউ পিকিংপন্থী। মস্কো আর পিকিংপন্থীরাও নানা উপদল, ছোটদল, পাতিদলে বিভক্ত হয়ে বঙ্গদেশে সমাজতন্ত্র কায়েম করতে সদাউদগ্রীব। পুরো পাকিস্তান শাসনামলে বামপন্থীরা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জেলগুলো পূর্ণ থাকতো কমিউনিস্টে। কেননা তারতো পাকিস্তানকে ধ্বংসের পাঁয়তারায় লিপ্ত। এই বামপন্থীরা কখনো একজোট হতে পারেনি, বরং বারবার একে-অপরকে অমুকের দালাল, তমুকের দালাল ঘোষণা করতে ব্যস্ত থেকেছে। আবার, নির্মল সেন টানা পাঁচবছর ঢাকা জেলে ছিলেন, পরেও ছিলেন জেলে। তাঁর দল আরএসপির ন্যূনতম ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে চটকল শ্রমিকদের একটি বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল নির্মল সেনদের দলের নেতৃত্বে সেইসব কথা বিস্তর লিখেছেন। লিখেছেন নিজেদের শ্রমিক সমাজবাদী দল গঠনের কথা। বারবার লিখেছেন বামদের পল্টিবাজি, নিজ দেশে নিজেদের ভূমিকা কেমন হবে তার জন্য অন্যরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষীতার কথা।

মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা পাঁচছয়বার ভারতে গিয়েছেন, দেশে ফিরেছেন।লক্ষ্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট হয়েগিয়েছে আওয়ামী লীগ। ন্যাপ মোজাফফর ও কমিউনিস্ট পার্টি হালে কিছুটা হাওয়া পেলেও অন্যদলগুলোকে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নয় আওয়ামীলীগ। তাজউদ্দিন বনাম চার ছাত্রনেতার দ্বন্দ্ব নিয়ে মঈদুল হাসান "মূলধারা '৭১" বইতে অনেক লিখেছেন। সেগুলোই নিজের দৃষ্টিতে ব্যাখা করেছেন নির্মল সেন। আবার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন মুজিববাহিনীর গঠন নিয়ে। এই বাহিনীর প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে প্রথম থেকেই ধোঁয়াশা ছিল বলে দাবি করেছেন নির্মল সেন।তিনিও বলেছেন অস্থায়ী সরকারকে তোয়াক্কা না জেনারেল উবানের এই বাহিনী গঠন নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং অনেকেরই বিশ্বাস ছাত্রলীগের অনুগত সদস্যদের নিয়ে এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতাত্তোর দেশে যাতে কোনোপ্রকারেই বামবিস্তার না ঘটে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হল একটি শোষণহীন সমৃদ্ধশালী সমাজের স্বপ্ন নিয়ে। সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে নির্মল সেন অবাক বিস্ময়ে দেখছেন শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তিত হয়েছে কেবল,জনচরিত্রের কোনো উন্নতি হয়নি। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, সবারই কিছু না কিছু চাইই। অবাঙালিদের ফেলে যাওয়া সম্পদের মালিক এখন তাদের বাঙালি কর্মচারীরা।জনচরিত্রের বর্ণনে নির্মল সেন লিখেন,

" একদিন আমার এক ছাত্রের স্ত্রী আমার কাছে এসে হাজির। মেয়েটি অবাঙালি। আমার ছাত্র বাঙালি। সে বলল,মাস্টারমশাই আমি মেনে নিচ্ছি অবাঙালিরা ভালো নয়। তারা অনেক খারাপ কাজ করেছে। খুন করেছে। ভেবেছিলাম মুক্তিযোদ্ধারা ভালো।এখন দেখছি তাদের চরিত্রও তেমন প্রশংসা করার মতো নয়।বন্দুকের জোরে ওরা আমাদের বাড়ি কেড়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছে তরুণীদের।" (পৃষ্ঠা ৩৮৫)

এ নিশ্চয়ই খন্ড চরিত্র। তবুও কেন এমন হল? এর উত্তর অন্বেষণে নির্মল সেন একটি হাইপোথিসিস দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর মতে, জাতি স্বাধীনতার জন্য পুরোদমে হয় প্রস্তুত ছিলনা, নয়তো স্বাধীনতা তথা মুক্তির মর্মার্থ কেউ বোঝেনি।

দেশে সবকিছু জাতীয়করণ করা হচ্ছে। একে দাবি করা হয় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধাপ হিসেবে। এই নিয়ে নির্মল সেন লিখেছেন,

" শুধু পাটকল, বস্ত্রকল নয় , এ সমস্যা দেখা দিলো ব্যাংক ও বীমা নিয়ে এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ পাটকল,বস্ত্রকল এবং ব্যাংক, বীমা রাষ্ট্রায়ত্ত করার ঘোষণা দেয় হলো। বাঙালি ও অবাঙালি মালিকদের চা বাগানও রাষ্ট্রায়ত্ত করা হলো। রাষ্ট্রায়ত্ত করা হলো না বিদেশি মালিকদের ব্যাংক, বীমা ও চা বাগান।
আমাদের আওয়ামী লীগের বন্ধুরা চিৎকার শুরু করল।দেশে সমাজতন্ত্র এসে যাচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যে সমস্ত শিপ্প কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করা হচ্ছে।আমাদের দল অর্থাৎ শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল থেকে বলা হলো এটা পরিত্যক্ত সম্পত্তির সমাজতন্ত্র ( Abandoned Properties Socialism) অর্থাৎ আমরা বলতে চেয়েছি প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ কোনো সমাজতন্ত্রের দল নয়। আবার কোনো দেশে সম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত করলেই দেশটি সমাজতন্ত্রী হয় না।ব্রিটেনের শ্রমিক দল ক্ষমতাশ এসে মূল ও ভারি শিল্প রাষ্ট্রায়ত্ত করে। তার ফলে কোনোদিনই ব্রিটেন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়নি।শ্রমিক দলের পরে রক্ষণশীল দল ক্ষমতায় এসে আবার এই সম্পত্তি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়।ফলে ব্রিটেনের সমাজে কোনে মৌলিক রূপান্তর হয় না।সমাজতন্ত্র একটি আদর্শগত বিশ্বাস। আদর্শেরর ভিত্তিতে গঠিত হয় একটি রাষ্ট্র। ওই আদর্শে বিশ্বাস না থাকলে সমাজতন্ত্রের ভিত রচনা করা যায় না। " ( পৃষ্ঠা ৪২৩)

ছাত্রলীগের সবচেয়ে ত্যাগী নেতৃত্ব গড়ে তোলে জাসদ। কিন্তু কেন? নির্মল সেন মনে করেন, জাসদ আসলে সমাজতন্ত্রের নামে অন্যকিছু। তরুণরা যাতে সত্যিকার অর্থেই বামপন্থায় দিকে ঝুঁকে না পড়ে তাই হয়তো জাসদের মতো হঠকারী দল গঠন- বলে ধারণা নির্মল সেনের।

স্বাধীনতার আগের চে' স্বাধীন বাংলাদেশে সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতা হিসেবে নির্মল সেন বেশি কাজ করেছেন। দৈনিক বাংলায় ''অনিকেত" নামে কলাম লিখছেন। তুমুল সমালোচনা করছেন।সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।বঙ্গবন্ধুর কাছে সরাসরি ছুটে গিয়েছেন সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানে। বঙ্গবন্ধুর আমলে সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক কথা আছে। বাকশালের আগের একটি ঘটনা -

" আমি বললাম, বর্তমান রাষ্ট্রপতি। পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শেখ সাহেব বললেন, রাষ্ট্রপতির অনুরোধ - আপনি তিন মাসের জন্য লিখবেন না। আপনি চাকরি করবেন - বেতন নিবেন।এ কথা আপনার সম্পাদকও জানবে না। আমি বললাম, এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি ইউনিয়নের সভাপতি।
অবস্থা এমন হলে আমি দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করব।শেখ সাহেব বললেন, ঠিক আছে পদত্যাগ করুন - And join my Government. আমি বললাম, You have chosen a wrong person. I will not join your Government.
শেখ সাহেব চুপ করে বসলেন। আমি বললাম, আমি আসি।" (পৃষ্ঠা ৫৯২)

আজ দেশের সংবাদমাধ্যম দেখে ভাবি সেই বঙ্গবন্ধুও নেই, সাংবাদিকতায় নির্মল সেনেরাও নেই। বঙ্গবন্ধুর আমলের সাংবাদিকতা নিয়েই লিখেছেন,

" আমার জীবনে ওই একটি মানুষের কালেই একটি ভরসা অন্তত ছিল যে কোনো কিছু লিখলে তা তাঁর চোখে পড়বে।তিনি পড়বেন এবং এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত দিবেন।" ( পৃষ্ঠা ৪১৩)

নির্মল সেন এরপর বাকশাল হতে দেখেছেন, দেখেছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা, দেখেছেন মওলানা ভাসানীর রহস্যময় ভূমিকা।

নির্মল সেন বারবার অন্যান্য রাজনৈতিক বামদলগুলোর ভ্রান্ত নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু নিজ দলের কিংবা নিজের মতাদর্শীক আত্মসমালোচনা করেছেন বলে সারা বইতে আভাস তত পাইনে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখতে গিয়ে বারবার আওয়ামী লীগ অন্যদের যুদ্ধ করতে দিচ্ছে না এসব বলেছেন। বারবার ঢাকা টু কলকাতা যাওয়ার স্মৃতি স্মরণ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর হামলা নিয়ে বিশেষ কিছু নেই, নেই মুক্তিসেনাদের সংগ্রামী ভূমিকা কথা খুব একটা। দেশ স্বাধীন হবার পরের ঘটনা লিখতে গিয়ে রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা, গণবাহিনী, সর্বহারাদের সেইসময়কার কর্মকান্ড অনেক এড়িয়ে গিয়েছেন। অথচ গণবাহিনী, রক্ষীবাহিনী, সর্বহারা - এই তিনটি উপাদান স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের ইতিহাসকে বদলে দিয়েছিল। কিন্তু ভূয়োদর্শী নির্মল সেন কেন এসব আস্তে করে এড়িয়ে গেলেন? তিনি কী সত্যকে অস্বীকার করতে চাইলেন?
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.