সন্ধ্যেবেলা থেকে ঝড়ের বেগ বাড়তে লাগলো। প্রথম দিকে এটা দমকা হাওয়ার মতো ছিল, আস্তে আস্তে সেটা সত্যিকার ঝড় হয়ে গেল। বাতাসটা পুব দিক থেকে পশ্চিমে বইছে। বিজলী বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে তাকায়। নিশ্চয়ই আজ পূর্ণিমার রাত, আকাশের মেঘ ফুটে চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। চারিদিকে কেমন যেন একটা অপার্থিব আলো। সেই আলোতে সবকিছু কেমন যেন অবাস্তব স্বপ্নের মতো দেখায়। বাতাসের এক ধরণের শব্দ শোনা যায়, শীষ দেওয়ার মতো শব্দ। শব্দটা কোথা থেকে আসে কে জানে। সেই শব্দ ছাপিয়ে মাঝে মাঝে সমুদ্রের গর্জন শোনা যেতে থাকে। বিজলী বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলো বাতাসের প্রচণ্ড আঘাতে গাছগুলো কেমন যেন মাথা কুটছে। বাড়ির সামনে নারকেল গাছের পাতাগুলো ঝাপটে পড়ছে, পুরো গাছটাই মাঝেমাঝে নুইয়ে পড়ছে। বিজলীদের বাড়িটা বাতাসে থরথর করে কেঁপে উঠছে, মনে হয় যেকোনো সময় বুঝি উড়ে যাবে।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
উৎসর্গপত্র দেখে খানিকটা বিষণ্ণতা নিয়ে বইটা শুরু করেছিলাম। বুজতে পেরেছিলাম গল্পটা হবে ভীষণ সাহসী একজন মেয়েকে নিয়ে। সাহসীকতার ডেফিনিশনটা আমার কাছে অন্যরকম। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া কিংবা এভারেস্ট জয় করাটাই কেবল সাহসীকতা নয়। জীবন যখন চোখের সামনে হতাশ হবার কিংবা ভেঙে পড়বার সবগুলো উপকরণ মেলে ধরে তখনো ছোট্ট একটা স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে একটা একটা দিন বেঁচে থাকাটাই সাহসীতা! সাইক্লোন নামের গল্পটা বিজলী নামের অসম্ভব সাহসী একজন মেয়েকে নিয়ে। আর সাহসী মেয়েদের গল্প আমার সবসময়ই ভীষণ পছন্দের। তাই চারতারা।
শুরুটা প্রমিসিং ছিল। তারপর কাহিনী ক্রমশ আদ্যিকালের সস্তা, বাজারি বাংলা ছবি টাইপ লাগতে শুরু করে (সস্তা রোমান্টিক ব্যাপার-স্যাপার ছিল না অবশ্য! :P)। স্যারের কাছ থেকে এমন একটা সাম্প্রতিক লেখা একেবারেই আশা করিনি। শুধুমাত্র ভাই-বোন দুটিকে নিয়ে লেখা কিছু অংশ মনে দাগ কেটে গেছে বলেই ২ তারা দিলাম।
কিছু লেখক একটা গল্পই বার-বার করে লেখেন। প্যাট্রিক মোদিয়ানো নিজের স্বত্বাকে, অতীতকে প্যারিসের পথে ঘাটে-খুঁজে পাবার গল্প বারবার লিখে লিখে নোবেল পর্যন্ত বাগিয়েছেন। জাফর স্যারও লিখেছেন, একা বা একদল সাহসী কিশোর বা কিশোরী কী করে বুদ্ধিমত্তা, প্রতিভা আর উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খারাপ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসে, এই গল্প, বার বার করে। যত ভাবে, যত পটভূমিতে লেখা সম্ভব। এটাও সেই গল্পটাই।
কিন্তু এই উচ্চ রেটিং এর ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। এই বইটাতে বেশ কয়েকটা বিষয় উনি খুব সুন্দর করে, স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বাচ্চাদের উপযোগী করে গেঁথে দিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ধর্মান্ধতা এবং কিছু ধর্মান্ধ প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব। সাইক্লোনে যেভাবে আমিন মোল্লার কথা শুনতে গিয়ে পুরো একটি চরের মানুষ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়, ঠিক একই ভাবে আমাদের ধর্মান্ধ হুজুররা বলেন, সঠিকভাবে নামায-রোজা করা মুমিন মুসলমানদের করোনা হয় না, ইসলামে মহামারী বলে কিছু নেই। এই কথার প্রভাব হয়তো আপনার-আমার উপর একেবারেই শূন্য, কিন্তু গ্রামগঞ্জে মানুষ এতে করে সমাজচ্যুত হবার ভয়ে বলতে পারেন না তার করোনার লক্ষণ রয়েছে, কেউ কেউ করোনা পরীক্ষার ভয়ে পালিয়েও যান। কোনও একদিন সাঈদী চাঁদে দেখা যাবার খবরে পুরে ছারখার হয় সংখ্যালঘু বসতি, সাঈদীকে যিনি দেখতে পায়নি সেও বলার সাহস পায় না সমাজচ্যুত হবার ভয়েই। এদের উপর অবিশ্বাস স্থাপন এতটাই জরুরী যে এটা সরাসরি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনরক্ষার সাথে জড়িত। কিশোরদের মনকে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে নেবার চেষ্টা জাফর স্যার বার বার করেছেন। এবং উনার পদ্ধতি আসলে কাজ করে। আমরা দুই বোন যখন কিশোর, তখন জোরে জোরে উচ্চারণ করে আমরা জাফর স্যারের বইগুলো পড়তাম। এক চ্যাপ্টার আমি, এক চ্যাপ্টার আমার ছোটবোন, এভাবে। আমার ছোটভাই বসে বসে শুনতো। এই শোনার গুনে, সেভাবে আউটবই পড়তে পারার বয়স হয়নি যখন, সেই ক্লাস টু/থ্রিতে থাকতেই সে খুলে ফেললো এক সদস্য বিশিষ্ট কুদক (কুসংস্কার দমন কমিশন)। কুদকের কাজ ছিল, কেউ কিছু ভুলে বাড়িতে ফেলে গেলে সেটা নিতে আসার পর তাকে জোর করে বসিয়ে রাখা থেকে রক্ষা করা, চিরুনি পড়ে গেলে মেহমান আসবে বললে সাথে প্রতিবাদ করা এবং ইত্যাদি। কুসংস্কার এবং ধর্মান্ধতাকে 'না' বলতে শিখানো লোকটির কাছে আমার কৃতজ্ঞতা এক জীবনের।
যারা অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করেন তাদের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা এই বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এনজিওর গুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ মনিটরিং এর অভাবে কর্তাব্যক্তিদের স্বার্থান্বেষী হয়ে ওঠার প্রতিভূ নাজনীন এবং হ্যাপি চাইল্ড। বিজলী ও খোকনসহ বাকি বাচ্চারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অমানবিক আচরণের শিকার হয় হ্যাপি চাইল্ডে। এছাড়া শিশু-কিশোর উন্নয়ন (বা সংশোধন) কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশার কথাও উঠে এসেছে। সংশোধন কেন্দ্র থেকে একরকম ধর্ষিত হবার ভয়েই বিজলী সুলতানার সাথে পালাতে বাধ্য হয়।
পথের নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তাও বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেখানে ঘরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নেই, সেখানে পথই যাদের ঘর, সেই নারীদের নিরাপত্তার আশা করাটাই দুরাশা। তাই বিজলী এবং সুলতানাকে হতে হয় বজলু এবং সুলতান। বিজলীকে শিখতে হয় হাতের বদলে সারা শরীরের শক্তি ব্যবহার করে ঘুষি মারার কৌশল। ইয়ে, আমি কিন্তু এখনও সারা শরীরের শক্তি ব্যবহার করে ঘুষি মারতে পারি না, হাত দিয়ে দুর্বল ঘুষি মারি। :(
বইটির চতুর্থ মুল বিষয় হলো স্বল্প শিক্ষিত নারীদের জীবনে পোশাক শিল্পের অবদান। দারিদ্র্যের চক্র থেকে রেহাই দিয়ে নিম্নবিত্ত নারীদের এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে পোশাক শিল্প এবং একই সাথে আমাদের দেশের অর্থনীতি এবং নারীমুক্তির সামগ্রিক অবস্থায় উন্নতি ঘটিয়েছে।
শুধু যে পোশাক শিল্প নিম্নবিত্ত নারীদের জীবন বদলে দিয়েছে তা নাও। এই নারীরাও কিন্তু তাদের সবটুকু কর্মোদ্দীপনা দিয়ে পোশাক শিল্পকে একটি শক্ত স্থানে নিয়ে গিয়েছে, পোশাক মালিকদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। কিন্তু তাদেরকে এই আমরা ধন্যবাদ দিই করোনা লক ডাউনের মাঝে মাইলের পর হাঁটিয়ে এনে, ট্রাকে গাদাগাদি করে মাল হিসেবে ভ্রমণ করিয়ে। তাতেও শেষ হয় না, তাদেরকে সপে দিই রানা প্লাজা বা তাজরীন ফ্যাশনের মত ট্রাজেডির কবলে। কর্মস্থলে গার্মেন্টস কর্মীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনের ঝুঁকি এর সর্বশেষ মূল বিষয়বস্তু।
এই যে কাঠখোট্টাভাবে, প্রায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার খাতার মত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললাম, বইটা কিন্তু মোটেও তেমন নয়, বরং একদম উল্টো। একটা মায়া-মায়া, সাহসী গল্পের মধ্যে এই বিষয়গুলো খুবই চমৎকারভাবে বলা হয়েছে। তবুও কিছুটা অতিনাটকীয়তার জন্য একটা তারা আমার পকেটেই থাক।
বইএর শুরুতেই উৎসর্গপত্র পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু না এটা কোন মন খারাপ করা গল্প না। "সাইক্লোন" একটা সাহসী মেয়ের গল্প, যে তার সর্বস্ব হারিয়েও দেখিয়ে দিয়েছে জীবনকে কি করে চালিয়ে নিতে হয়! স্যারের লেখা আজকাল বড় বিস্বাদ লাগে, অথচ উনার হাতেগোনা কিছু বই বাদে সবই আমার পড়া! কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্যি যে এই বইটি ভালো লেগেছে। বিজলী নামের মেয়েটি সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে ফিরে পেয়েছিলো তার ভাইকে, কঠিন সময়গুলোকে পার করেছিলো ধৈর্য সহকারে, অন্যায়ের সাথে কোন আপস করেনি, বিনয়ের বাড়াবাড়িতেও যায়নি! ভাইকে খোঁজার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছে নিয়তির সাথে এবং জয়ী হয়েছে! ভাগ্য সবসময়ই সাহসীদের পক্ষেই তো থাকে! কিশোর উপন্যাস হিসেবে পারফেক্ট!
জাফর ইকবাল স্যার এর কিশোর উপন্যাস গুলো পড়ার মধ্যে একটা আনন্দের ব্যাপার আছে। বেশিরভাগ সময় বই গুলো তে 'দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন' টাইপ একটা ব্যাপার ঘটে। আমরা যারা স্যারের বই পড়ে বড় হয়েছি আমাদের অনেকের কাছেই ব্যাপারটা একটু একঘেয়ে মনে হতে পারে। কিন্তু 'সাইক্লোন' বইটি পড়তে গিয়ে আমি আসলে হুট করে আবিষ্কার করলাম এই একঘেয়ে ব্যাপারটার আসলে একটা গল্প আছে। আর সেই গল্পের আছে একটা মেসেজ! যে কোন বই পড়তে গেলে আমি খুব আগ্রহ নিয়ে এর উৎসর্গ পাতাটি পড়ি। অচেনা সেই মানুষ গুলো কতটা ভালো, কতটা চমৎকার, কতটা ভাগ্যবান সেটা পড়ে আমার একই সাথে এক চিমটি পরিমাণ মন ভালো আর এক বালতি পরিমাণ হিংসে লাগতে থাকে! 'সাইক্লোন' বইটির উৎসর্গ পাতাটি পড়ার পর শুধুই মন বিষণ্ণ হলো। পৃথিবিটা যে খুব ফেয়ার কোন জায়গা না এটা আমি খুব বেশিই বিশ্বাস করি। এখানে কোন কিছু প্ল্যানমাফিক হয় না, যা চাইবো তার উল্টোটা হবে, যাদের বেঁচে থাকাটা নিমফিলের মত তিতে মনে হয় তারা দিব্যি চষে বেড়াবে, আর যাদের কাছে বেঁচে থাকাটা খুব সুন্দর , তারা দুম করে একদিন মরে যাবে এই ব্যাপারটা আমি অনেকবার দেখেছি। এই বইটা পড়তে পড়তে আমার হঠাত মনে হলো, পৃথিবিটা আসলে কারো জন্যই তো ফেয়ার না। আমরা সবাই নিজেদের ব্যক্তিগত যুদ্ধে বাঁচি। আমরা হেরে যাই, অজানা আক্রোশে ফুঁসি, দুঃখ পাই, কাঁদি, আমাদের সবার গল্প গুলো আলাদা অথচ কি ভীষণ এক রকম। পৃথিবীতে আমরা সম্ভবত আসলে ততোদিনই ঘুরে বেড়াই যতোদিন পৃথিবীকে আমাদের দেয়ার কিছু থাকে। হয়তো আমাদের চোখে খুব ছোট্ট কোন ভালো কাজ, যেটা অন্য কারো জন্য বিশাল পাওয়া। ভালো কাজের বাটারফ্লাই ইফেক্ট আর কি! আর তাই জন্য আমাদের আসলে উচিত প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে খুব করে বাঁচা! নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য, পৃথিবীর জন্য! সাইক্লোন বইটি (স্যার এর সব গুলো কিশোর উপন্যাসই) এই বেঁচে থাকার গল্পই শোনায়, খুব বাঁচার সাহস যোগায়, আমাদের কে মেসেজ দেয়; courgae, dear heart! :) happy reading! ^_^
অনেক দিন পর জাফর ইকবাল স্যারের কোনো বই পড়লাম। শুরুতে উৎসর্গটা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো দুঃখের বই কিন্তু গল্পটা মোটেও মন খারাপ করার গল্প না এটা একটা সাহসী মেয়ের জীবনের গল্প। যে সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে নিজের জীবনের লক্ষ্য পূরণ করেছে, যে বার বার প্রমাণ করেছে মানুষ সুতীব্রভাবে কিছু চাইলে সেটা সে অবশ্যই পাবে, পেতেই হবে। প্রবল ইচ্ছা শক্তিই পারে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে।
অনুভূতি : এত সুন্দর বই অনেকদিন পড়িনি। এত সুন্দর একটা ম্যাসেজ পেয়েছি বইটা থেকে যেটা সত্যিই অভাবনীয় ছিল। জাফর ইকবাল স্যারের বই বলতে আমরা আসলে যা বুঝি বা আমি যা বুঝতাম এইটা পড়ে আমার মনেভাব সম্পূর্ণ বলদে গেছে। আমার মনে হয় যারা জীবন নিয়ে প্রচণ্ড হতাশ তাদের একবার হলেও বইটা পড়া উচিত। যদিও জীবনটা একটা বই না,বইয়ের কাহিনি আর জীবনের কাহিনি,বাস্তবতা এক না কিন্তু তবুও জীবন তো কোনো না কোনো একটা বইয়ের অংশ নিশ্চয়ই,কোনো আলেখ্য বইয়ের অংশ।
❝ জীবনের বিপদাপন্ন মুহুর্তে দরকার সাহস, ধৈর্য,আত্মবিশ্বাস আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি।কেবল তখনই নিজের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ❞
গল্পটা ভালোবাসার গল্প। ভাইবোনের ভালোবাসার গল্প। গল্পটা দুঃসাহসী এক কিশোরীর গল্প । বইটা প্রথমেই হাতে নিয়ে উৎসর্গ পত্র পড়ছিলাম। মন খারাপ হয়ে গেছিলো। সেই হিসেবে প্রত্যাশা বেশি ছিলো......পুরণ হয় নি।
পড়ে বুঝা যায়- যত্ন করে লেখা গল্প। 'কম বয়েসীদেরকে জীবনের কদর্যতা ও সংগ্রামের দিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই' প্রকল্পের অংশ হিশেবেই গল্পটি লেখা হয়েছে বলে আমার ধারণা। লেখক সফল।
জাফর ইকবালের সবচেয়ে সেরা বই কোনটা? সম্ভবত আমি তপু। কিন্তু তারপর কোনটা? আমি বলবো, সাইক্লোন। ২০১৮ সালে বের হওয়া ওনার এই বইটা এতটা আন্ডাররেটেট কিভাবে আমি জানি না। সম্ভবত সবাই ভেবেছে এটা ওনার গতানুগতিক একটা কিশোর উপন্যাস হবে এবং অন্য আর সব গল্পের মতোই শিশু পাচারকারী দিয়ে শেষ হবে। কিন্তু আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে এটা সেরকম কিছু না,এটা আমি তপুর মতো সেরা না হলেও,ওনার আরো অনেক কিশোর উপন্যাসের চেয়ে সুন্দর।
গল্পের শুরুটা কক্সবাজারের একটি চর থেকে। বিজলি ও খোকন দুই ভাইবোন স্কুলে পড়ে। একদিন ভয়াবহ সাইক্লোন আসার সম্ভাবনা দেখা দিলে মাইংকিয়ে তাদের সবাইকে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু চরের কেউ সেখানে যায় না।ভয়াবহ সাইক্লোনে বিজলি আর খোকন ছাড়া চরের কেউ বেঁচে থাকে না। সেখান থেকে নানান দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর তারা পৌঁছায় একটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। এত বড় সাইক্লোনের,চোখের সামনে এত মৃত্যু দেখার পর খোকন মেন্টাল ট্রমার ভেতর দিয়ে যেতে থাকে। একমাত্র বোনকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায় কিন্তু তার বোনকেও তার থেকে আলাদা করে এডাপশনে দিয়ে দেয়া হয়। ভাইয়ের শোকে কাতর বিজলি অনেক জায়গায় ঠোকর খেয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করার পরেও বেঁচে থাকে শুধুমাত্র ভাইকে খুঁজে বের করার জন্য।
এই বইয়ে সাইক্লোনের বর্ননা লেখক অসাধারণভাবে দিয়েছেন, পড়লে চোখে পানি এসে যায়। কিভাবে দুইটা বাচ্চার চোখের সামনে দিয়ে লাশ ভেসে চলে যাচ্ছে,তারা বাঁচার আকুতি করছে কিন্তু কিছুই করতে পারছে না। নিঃসন্দেহে একটা সেরা কাজের জন্ম দিয়েছেন জাফর ইকবাল।❤️
Amazing book, What can I say about the most brilliant writer of the Bangladesh! I can blindly chose his book .. Mostly every book of his is stunning ....
স্যারের লেখা সবসময় ভালো লাগে, ছোটবেলা থেকেই বইমেলা গুলো অপূর্ন মনে হতো জাফর ইকবাল স্যারের বই না কিনলে, আজ সময় গড়িয়েছে বেড়েছে বয়স,কিন্তু কিছু কিছু জিনিষ সময় এর সাথে সাথে পরিবর্তন হয় না, থেকে যায় আগের মতনই, বইমেলায় স্যারের বই কেনা তেমনই একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার জন্য,এবারের বইমেলাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি ।
নাম দেখে মনে হয় নাই এটা কিশোর গল্প,কিন্তু পড়া শুরু করে বুঝলাম বইটা কোন ক্যাটাগরির। সুখপাঠ্য এই বইটা একজন ফাইভ-সিক্স পড়ুয়া বাচ্চা পড়ে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকবে নিসঃন্দেহে। গল্পের সবথেকে সুন্দর এবং দুঃখময় অংশ এর উৎসর্গ, নভেরার জন্য অনেক অনেক দোয়া থাকলো।
নেক্সটে স্যারের কাছ থেকে একটু অদ্ভুতুড়ে পরিণত গল্পের আশা করছি।
"কেউ যখন মৃত্যুভয়ে খোদাকে ডাকাডাকি করে তার চাইতে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না।"
সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়। প্রকৃতির তাপমাত্রা ঠিক রাখার স্বাভাবিক নিয়ম। সমুদ্রে প্রায়শই সাইক্লোন হয়। তবে সাইক্লোন ভয়াবহ হয় যখন তা উপকূলে আঘাত হানে। উপকূলের সাধারণ জীবনযাত্রা তছনছ করে দেয় এক মুহুর্তে। সাইক্লোনের সময়টা যদি আবার সমুদ্রের জোয়ারের সময় হয় তাহলে তো জলোচ্ছ্বাস আরো বেশী ভয়াল রূপ ধারণ করে। এক মুহুর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু। কেউ কেউ আবার এই ভয়াবহতাকে অতিক্রম করেও বেঁচে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকাটা তাদের কাছে অর্থহীন, শূন্যতা আর বিষণ্ণতায় পর্যবসিত হয়।
"সমুদ্রটা মনে হয় জীবন্ত। সে জন্য এটা কখনো থেমে যায় না। একটার পর একটা ঢেউ পাঠাতেই থাকে। শুধু যে ঢেউ পাঠায় তা নয়, দিনে দুইবার জোয়ারের সময় পানি ফুলে ফেঁপে উঠে আবার ভাটার সময় পানি নেমে যায়। কখনো ভুল হয় না।"
সাইক্লোন বইটি মূলত একটি কিশোর উপন্যাস। লিখেছেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং প্রকাশনী তাম্রলিপি। প্রচ্ছদ করেছেন আরাফাত করিম। তবে প্রকাশককে একান্ত ধন্যবাদ কেননা বইটা গাউন পেইজে করা। বাইন্ডিং, পেইজ, প্রচ্ছদ বলতে গেলে পুরো বইটার আউটলুক দেখার মতো। গাউনে পেইজে হওয়াতে পড়েও চোখে আরাম পাওয়া যায়। বিশেষত আমি গাউনে পেইজে পড়ে আরাম পাই।
"ইমোশনাল মেলোড্রামা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নাটকে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আসল জীবনে টিকে থাকা কঠিন।"
কাহিনীপ্রসঙ্গ : সাগরের আরো দক্ষিণে কাজলডাঙা চর। নদীভাঙ্গা মানুষগুলো এসে এখানে বসতি গড়েছে। বিজলী তখন ছোট যখন তাদের বাড়িঘর সব নদীর বুকে চলে যাওয়ার পর তারা এই চরে এসেছিলো। তারপর থেকেই তার বাবা কেমন যেন বিমর্ষতা আর বিষণ্ণতায় ভোগে। কোন কথা বলে না, কোন উত্তর দেয় না, শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আর বিজলীর মা'র হয়েছে যত সমস্যা। লোকটা কাজকাম কিছুই করে না বলতে গেলে এরমধ্যে রান্নাবান্না খাওয়াদাওয়া কি করে চলে..? তাই বিজলীর মা'র মাথাটা সবসময় থাকে গরম। চর থেকে হাটাপথে দুই ঘন্টার রাস্তা পার হয়ে বিজলী আর খোকন সদরের স্কুলে আসে পড়ালেখার জন্য। হাটার রাস্তাটা জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে যায় তাই বিজলীর জোয়ারভাটা হিসেব করে আসা যাওয়া করা লাগে। মাঝে মাঝে আসা যাওয়ার পথে বিজলীর দেখা হয় গ্রামের মাতব্বর আমীন মোল্লার সাথে। লোকটার গালটা কাটা তাই দেখে বিজলীর মনে হয় আগে ডাকাত ছিলো, সেই অতীত ঢাকার জন্য দাড়ি দিয়ে কাটা দাগ ডাকতে চায় আর ধর্মের লেবাস গায়ে জড়িয়ে বাঁচতে চায়।
সুখ ক্ষণস্থায়ী তাই বিপদের ঘন্টা বেজে উঠে। সমুদ্রে তখন সাত নম্বর মহা বিপদ সংকেত। সাইক্লোন রাতের ভিতর আঘাত হানবে উপকূলের দিকে। সেদিন স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দেয় ওদের। সাথে এও জানানো হয় রাতের আগে আগে পরিবারের সবাইকে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়ার জন্য কেননা জোয়ারের সময় সাইক্লোনটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। আর তা হলে স্টর্ম সার্জ বা জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। কিছু বুঝার আগেই পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সবকিছু। বিজলী আর খোকন যত তাড়াতাড়ি পারে বাসায় ফিরে আসে। তার বাবা তখন আমীন মোল্লার বাসায়। আমীন মোল্লা চরের লোকগুলাকে বলে সে পানিবন্দী দোয়া পড়েছে কিচ্ছু হবে না। তার বাবা একইরকম নির্বিকার থাকে। সন্ধ্যাবেলা থেকে ঝড়ের বেগ বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে তা সত্যিকার ঝড়ে রূপে নেয়। বিজলীদের বাড়িটা বাতাসে থরথর করে কেঁপে উঠছে মনে হয় যে কোন সময় বুঝি ঝড়ের তান্ডবে উড়ে যাবে। গাভীটা আর বাছুরটা খুব ডাকছে। বিজলী দাঁ নিয়ে গোয়ালঘরে এসে গাভীর আর বাছুরটার দড়ি কেটে দেয়। গোয়ালঘরের ছাদটা বাতাসে উড়ে যায়। গোয়ালঘর সহ মাটি থরথর করে কাঁপছে। বিজলী বুঝতে পারে সমুদ্রের পানি ছুটে আসছে। সবাইকে নিয়ে বাড়ির পেছনের গাছটাতে উঠে বিজলী। খোকনকে উঠিয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে বাবা মা কেউ নেই। দুই ভাইবোন বাবা মা কে হারিয়ে গাছের ডালটায় বেঁচে থাকে মৃত সত্ত্বায়।
উদ্ধারকর্মীদের দ্বারা উদ্ধার হয় দুই ভাইবোন। হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করা হয় ওদের। বিজলী বড় হওয়াতে অনেক কিছুই বুঝতে পারে কিন্তু খোকনটা অবুঝ। রাতে ঘুমের ভেতর কেঁদে উঠে ভয় পেয়ে তখন বিজলী আদর করে ওকে আবার ঘুম পাড়ায়। বিভিন্ন এনজিও থেকে লোকজন আসে বিজলীদের শেল্টার দিতে। বিজলীকে সে সম্পর্কে বলে টি.এন.ও সেলিনা আপা কিন্তু বিজলী সাফ জানিয়ে দেয় ওর ভাইকে ওর সাথেই থাকতে দিতে হবে। শেষে অনেক নামকরা এক এনজিও এসে খোকন আর বিজলীকে নিয়ে যায় শেল্টারে। সেখানকার ডিরেক্টর নাজনীন দুই ভাইবোনকে আলাদা করে আলাদা আলাদা থাকতে দেয়। খোকনের সাথে দেখা করতে দেয় না বিজলীকে। মিলি আর রায়হান খোকনকে নিয়ে যায় তাদের নিজের সন্তান মেনে। ডিরেক্টর নাজনীনকে বারবার জিজ্ঞেস করে মিলি ছেলেটার কেউ আছে কিনা। ডিরেক্টর নাজনীন মানা করে দেয় আর খোকনকে বলে বিজলীর কথা ওদেরকে বললে বিজলীকে ওরা মেলে ফেলবে। খোকন ভয় পেয়ে যায়। খোকনকে না পেয়ে পাগল হয়ে ডিরেক্টর নাজনীনকে মেরে বসে বিজলী। পুলিশে খবর দেয় ওরা। পুলিশ এসে বিজলীকে নিয়ে যায় সংশোধনাগারে।
খোকনের কি হয়েছিলো..? নতুন মা মিলি আর নতুন বাবা রায়হানকে পেয়ে কি ভুলে যাবে ওর বিজলীবুর কথা..? সাইক্লোনের রাতে দুই ভাইবোন গাছের ডালে বসে বেঁচে ছিলো ভুলে যাবে খোকন সে কথা..? বিজলীর কি হয়েছিলো..? সংশোধনাগারেই ছিলো আজীবন..? নাকি দেখা পেয়েছিলো খোকনের..? কিন্তু খোকন যদি বিজলীর কথা নতুন বাবা মা কে বলে তাহলে তো বিজলীকে ওরা মেরে ফেলবে..? কি হয় শেষমেশ..? সাইক্লোনটা কি তবে বিজলীর সবকিছু কেড়ে নেয় নাকি শেষমেশ ভালো একটা সুখের জীবন দেয়..? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে মাত্র ১৬০ পৃষ্ঠার বইটি।
লেখকপ্রসঙ্গ : মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং বেল কমিউনিকেশান্স রিসার্চে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে সুদীর্ঘ আঠারো বছর পর দেশে ফিরে এসে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। কিশোর সাহিত্যে বেশ জনপ্রিয় কিছু বই উপহার দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে আমার বন্ধু রাশেদ, টুকুনজিল, প্রেত, রাশা, আমার নাম তপু, ত্রাতিনী, দুষ্ট ছেলের দল এবং হাতকাটা রবিন সহ আরো জনপ্রিয় অনেকগুলা বই।
"স্যারদের যদি কখনো প্রশ্ন করা যার উত্তর স্যাররা জানেন না তখন স্যারেরা রেগেমেগে ধমক দিয়ে তাদের বসিয়ে দেন।"
কিশোর উপন্যাস পড়লাম প্রায় আট বছর পরে। আর মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই পড়লাম প্রায় দশ বছর পরে। কিশোর বয়স ছাড়া কি কিশোর উপন্যাস পড়ার মজা পাওয়া যায়..? তবে গল্পের শুরুটা ভালো লেগেছে। একটানে গিয়েছে। ঘটনার পর ঘটনা, গল্পের ভাজে গল্প। ভালো লেগেছে। তবে গল্পের মাঝামাঝিতে আসার পর থেকে কেমন এনজিও এর কেস স্টাডি মনে হয়েছে। মনে হয়েছে এনজিও এর কেস স্টাডিই তবে কিছুটা ভিন্নভাবে লেখা। সাথে কিছুটা বাংলা সিনেমার গল্পের মতোও মনে হয়েছে। যদিও আগেই বলে নেই কিশোর উপন্যাসগুলা আমার জানামতে এমনই হয় যদি আপনি কিশোর বয়সে না পড়েন। কিশোর বয়সের জন্য কিশোর উপন্যাস হিসেবে যথেষ্ট ভালো বই এটা সেটাই বলতে চাচ্ছি। তবে হ্যা ভাই-বোনের ভালোবাসাটা ভালো লেগেছে। আমার আপন কোন বোন নাই তাই হয়তো ভালো লেগেছে। বোন থাকলে এতটাও ভালো লাগতো না এইটাই স্বাভাবিক। লেখনশৈলী অনেক সমৃদ্ধ। ছোটদের যাতে ভালো লাগে সেজন্য গল্পের মাঝে কিছু হাস্যকর ব্যাপারেও লক্ষ্য রেখেছে লেখক। সবদিক মিলিয়ে কিশোর উপন্যাস হিসেবে সাইক্লোন বেশ ভালো একটি বই। আর হ্যা একটা কথা অনেকেই এসে এখন বলবেন আপনি স্যারের পায়ের নখের যোগ্য না, তাইলে আপনে কেমনে স্যারের লেখা খারাপ কন (যদিও আমি খারাপ বলি নাই)। এই টাইপ লোকদের উদ্দেশ্যে আগেই বলে রাখি, উনি আমারও স্যারই হয়। তাই উনার প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা সবই আছে। কিন্তু তাই বলে পাঠক হয়ে লেখকের লেখা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবো না এই নীতিতে আমি বিশ্বাসী না। ব্যক্তি মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে টানি নি আমি কিংবা তার সমগ্র লেখাকেও টানিনি শুধু সাইক্লোনের লেখা টেনেছি তাই অফটপিকে কথা বলতে আসবেন না দয়া করে। অনটপিক হলে সাদরে আমন্ত্���ণ। হ্যাপি রিডিং বিশেষ করে কিশোর বয়সীরা।
অনেক সুন্দর একটি কিশোর উপন্যাস♥️! এখানে ফুটে উঠেছে ভাই বোনের মধ্যকার মধুর সম্পর্ক যা অতি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও টিকে থাকে।
সমুদ্র পাড়ে বাস করে বিজলী নামের এক মেয়ে। তার ছোট ভাই খোকন, তার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ। একজন আরেকজন কে ছাড়া এক মহূর্ত থাকতে পারতো না। সাইক্লোন এবং জলোচ্ছ্বাস এ সব কিছু লন্ড ভন্ড হয়ে যায়। সবাইকে হারিয়ে সে শুধু তার ছোট ভাই খোকন কে নিয়ে বেঁচে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়ার পর তাদের একটি শেল্টার এ রাখা হয়। কী হয় এরপর? তারা কি সেরকম সুযোগ সুবিধা পায়? এই সাইক্লোন এর কারণে তাদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়। তাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন নেমে আসে। বিশেষ করে বিজলী কে খুব সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হচ্ছিলো। তার ভাই কে পাওয়ার জন্য আশা নিয়ে সে সব মোকাবেলা করে। সাইক্লোনের শেষ আঘাত পর্যন্ত ও বিজলী তার ভাই খোকন কে আগলে রেখেছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয়?
ভাইবোন কে নিয়ে এই অসাধারণ উপন্যাস টা আমার খুব ভালো লেগেছে🥺♥️! বরাবর ই মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর লেখা কিশোর উপন্যাস আমাকে মুগ্ধ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি!
শুরুটা দারুণ ছিল!উপকূল অঞ্চলের কুসংস্কারাচ্ছন্ন এক গ্রামের লোকজনদের নিয়ে গল্প শুরু হয়।সাইক্লোনে বিশাল ক্ষতি হতে পারে;সেটা জেনেও তারা অলৌকিক শক্তির উপর বিশ্বাস করতে শুরু করে।এবং এর ফল পায় হাতে নাতে।বিশাল এক সাইক্লোন এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় পুরো গ্রাম।তবে গাছের উপর আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যায় দুটি শিশু(বিজলী আর খোকন)।
সেখান থেকেই তাদের নতুন পথচলা শুরু হয়।সাইক্লোন পীড়িত মানুষদের আশ্রয়ণের অংশ হিসেবে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া একটি শিশু রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে।সেখানে গিয়ে জীবনের মোড় ঘুরে যায় দুই ভাইবোনের।শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই!
গল্পের শুরুটা দারুণ হলেও পরবর্তী অংশ খুবই বিরক্তিকর ছিল।পুরো বাংলা ছায়াছবি'র মতো কাহিনী।খুব একটা ভালো লাগে নাই বইটা।ছোট বই হিসেবে সময় কাটানোর জন্য পড়া যায়!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Spoiler Alert: not in Bengali. Such a refreshing change from his other books published last year. Heart wrenching and yet so empowering. Poor বিজলী, but at least she met a happy resolution. Such a simple story written for children and YA, yet such powerful messages conveyed. Never underestimate Mother Nature's destructive powers. She can do more damage than you can imagine. Don't be blinded by religion. Religion is there for guidance. NOT BLINDNESS. SEND YOUR CHILDREN TO SCHOOL REGARDLESS OF GENDER. PTSD is real.
This entire review has been hidden because of spoilers.
চরের দুখী ভাইবোন- লেখাপড়ায় ভালো-সাকইক্লোন-অশিক্ষিত মানুষের অসচেতনায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি- গোটা চরের মাঝে কেবল দু'ভাইবোনের বেঁচে যাওয়া - বাচ্চা নিয়ে এনজিওর বিজনেস- ভাইবোনের বিচ্ছিন্নতা --নানা ঘাত প্রতিঘাতে আবার মিলন। একেবারে ক্লিশে কাহিনী। দুটো স্টার দিয়ে সাইক্লোন নিয়ে কিছু তথ্য জেনেছিলাম বলে। যেমনঃ
"সাইক্লোনের ঠিক মাঝখানে কোনো বাতাস থাকে না, অনেক সময় উপরে মেঘও থাকে না। সেটাকে বলে সাইক্লোনের আই। আমি শুনেছি যে সাইক্লোনের আইয়ের ভেতর দিয়ে যাবার সময় সবকিছু একেবারে সুনসান নীরব হয়ে যায়। কোনো ঝড়বৃষ্টি কিছু নেই। আইটা পার হওয়ার পর আবার ঝড় শুরু হয়, বাতাস তখন উল্টোদিকে বইতে থাকে…"
This entire review has been hidden because of spoilers.