Jump to ratings and reviews
Rate this book

কষ্টিপাথর

Rate this book
কষ্টিপাথর' বইয়ের ভূমিকার প্রথম অংশঃ

প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, যিনি সকল দোষত্রুটি থেকে পবিত্র। আমাদের দুরবস্থার জন্য আমাদের কর্মই দায়ী। আমরাই আমাদের গুনাহ-অবাধ্যতার রাস্তা বেছে নিয়ে অনিবার্য আযাবের উপযুক্ত হয়েছি। উনি বিধান করে দিয়েছেন, আমার রাসূলের ইত্তেবা-অনুসরণ –অনুকরণ করলে সম্মান দিব ; আর রাসূলকে ছেড়ে কুফফারের অনুকরণ করলে অপমান চাপিয়ে দেব। আমরা কুফফারের সাথে কদমে কদম মিলিয়ে গুইসাপের গর্তেও যেতে কবুল । আমরা বাই চয়েস বিধানে পড়ে গেছি। আমরাই জুলুম করেছি নিজেদের সাথে, দ্বীনের সাথে, নবীজীর শিক্ষা ও সুন্নতের সাথে। লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ জ্বোয়ালিমীন।

আল্লাহ তাঁকে পাঠালেন সমগ্র বিশ্বের প্রতি রহমত হিসেবে। কাফির-মুশরিক-মুমিন-যিন্দীক সবার জন্য রহমত হিসেবে। কাফির-মুশরিক-যিন্দীকরা তো ওনার উপর জুলুম করলোই, এমনকি আমরা মুমিনরাও কম করলাম না। ওনার চরিত্র হনন করে ইউরোপ যে পরিমাণ গ্রন্থ রচনা করেছে, এতো বেশি রচনা অন্য টপিকে নেই । আর আমরা সুন্নাহ হনন করে যে পরিমাণ আত্মতৃপ্তি পেয়েছি, এতটা অন্য কিছুতে পাইনি। ওরা সীরাতের উপর জুলুম করেছে, আর আমরা সুন্নতের উপর। সুন্নাহকে আমরা এমনভাবে ছেড়েছি, আজ সুন্নাহ দেখলে ‘প্রেমের বদলে ভয়’, ‘ভক্তির বদলে যুক্তি’ আর ‘গ্রহণের বদলে বর্জনের ফতোয়া’ এর কথা মনে আসে। আহ ... সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

এই বইটা লেখা শুরু করেছিলাম ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’-এরও আগে। আগের মতই এটাতেও সবার জন্যই খোরাক আছে। জাস্ট একটু ভাবাতে চাই, মুসলিম-অমুসলিম-অবিশ্বাসী সবাইকে। কী ভাবলেন তা মুখ্য না, শুধু একটু ভাবাতে পারলেই চলে। যা ইচ্ছা ভাবেন।
বইটি পড়ার আগে কিছু কথা না বললেই নয়।

(ক) অবিশ্বাসীগণ যা ইচ্ছা বলতে পারেন। তবে ‘সুন্নাতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি’ কথাটা কোন বিশ্বাসীর মুখে মানায় না। কথাটা হবে ‘সুন্নাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’ বা ‘মানবজ্ঞানের আলোকে সুন্নাতের ব্যাখ্যা’ বা ‘বিজ্ঞানের সুন্নাহভিত্তিক ব্যাখ্যা’। সুন্নাত হল বৃদ্ধের মত, যার মনন পরিপূর্ণ, সিদ্ধান্ত সুপরিণত, যুক্তি সম্পূর্ণ (কেননা তা স্বয়ং স্রষ্টা আল্লাহ থেকে উৎসারিত, সংযোজনের সুযোগ নেই)। আর বিজ্ঞান হল শিশুর মত, যার এখনও অনেক কিছু দেখা বাকি, যার মনন এখনও গঠন হচ্ছে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনশীল, যুক্তি ইন্দ্রিয়ের সীমায় আবদ্ধ। শিশুকে ভিত্তি করে বৃদ্ধের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা হাস্যকর। বরং বৃদ্ধের সিদ্ধান্তের কতটুকু শিশুর মস্তিষ্কে ধরে সেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। বিজ্ঞানকে দলিল মেনে পবিত্র সুন্নাহকে কাঠগড়ায় তোলা নিঃসন্দেহে ধৃষ্টতা। মানুষ এ পর্যন্ত তার পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা সর্বকল্যাণময় সুন্নাতের যেটুকু কল্যাণ উপলব্ধি করেছে তাই এ বইয়ের আলোচ্য। ‘সুন্নাত গুলো বিজ্ঞানসম্মত কিনা’- এ বিচার কম করা হয়নি। সুন্নাতের বিচার নয়, আজ বিজ্ঞানের বিচার করতে বসেছি আমরা। আর সেকুলার বিজ্ঞানে ঈমান এনেছে যারা, তাদেরও।

168 pages, Paperback

First published February 1, 2018

13 people are currently reading
298 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
113 (63%)
4 stars
52 (29%)
3 stars
13 (7%)
2 stars
1 (<1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 23 of 24 reviews
Profile Image for Nahid Hasan.
132 reviews20 followers
May 27, 2018
প্রশ্নঃ- ভালো বই কি?
স্যার আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদঃ যে বই পাঠককে ভাবায়, তাই ভালো বই।

এতো গেলো ভালো বইয়ের সংজ্ঞা। এই বইটা সেরকম একটা বই। এক কথায় অপূর্ব। লেখক “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” দিয়ে আমাদের ঈমান পোক্ত করতে উৎসাহী করেছিলেন। আর “কষ্টিপাথর” দিয়ে, আমাদের ঈমান, ইসলাম এবং দীনের প্রতি আমাদের commitment কতটুকু দৃঢ় আর বিজ্ঞান জ্ঞানীবৃদ্ধ সুন্নাতের কাছে কতখানি শিশুতুল্য আধুনিক তা যাচাই করার জন্য ভাবতে বাধ্য করেছেন।
শুধু ফরজ ইবাদত করে হয়ত জান্নাত পাওয়া সম্ভব, কিন্তু নবীজীর সুন্নাতও ফেলনা নয়। নবীজীর সুন্নাতও স্রষ্টারই আদেশ, তাই সুন্নাত পালনও আমাদের কর্তব্য, নইলে আমরা দাঁড়াবো কার পাশে? আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। এখন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার সময় এসেছে।
এখন বলার সময় এসেছে, “সুন্নাত আমার বিজ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞানটা সুন্নাতভিত্তিক তো?” আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুক। আমরা শিখছি, আরও শিখবো। সত্য পথেই থাকবো।
Profile Image for Sajib.
193 reviews23 followers
February 19, 2023
১৪০০ বছর আগে বাতলে দেয়া স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থার নিয়ম কানুন আজকের দিনে এসে বিজ্ঞান প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আমরা নবীকে ভালোবাসব।এবং তার জীবন ব্যবস্থা অন্ধভাবে অনুসরণ করা যা সুন্নত। রাসুল (সা.) এর জীবন ছিল সূর্যের মতো।যার আলো কাজে লাগিয়ে মনুষ্য জাতির বাঁচা।
কেউ যদি একটা উত্তম জীবন চায় সে যদি রাসুল(সা.) এর জীবন অনুসরণ করে তার জন্য তাই যথেষ্ট। ওনিই তো আমাদের প্রকৃত আইডল।

কষ্টি পাথর বইটে লেখক আলোচনা করেছেন রাসুল(সা.) এর বিভিন্ন সুন্নত নিয়ে। বইটাতে দেখানো হয়েছে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নতের ব্যাখ্য।

বইটি থেকে যা যা শিখলাম এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়নের প্রয়াস থাকবে--

- দাঁড়ি রাখতে হবে।
- ডান হাত দিয়ে সব কিছু শুরু করতে হবে।
- টয়লেটে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
- ঘুমোনোর আগে ওজু করে নিতে হবে।
- ডান কাধ হয়ে ঘুমোতে হবে।
- সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর গরম পানিতে একটা শাওয়ার নিতে হবে।
- ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে।
- সাদা পোশাক এবং দুই স্তরে পোশাক পরিধানে সচেতন হতে হবে।
- মাথা টুপি দিয়া ঢাকতে হবে।
- মিশওয়াক করতে হবে।
- বসে পানাহার করতে হবে। এবং ধীর স্থির ভাবে আহার করতে হবে।
- পরিমিত খেতে হবে। ফ্লোরে বা সমতল জায়গাতে বসে খেতে হবে।
- পরিবারের সকল সদস্য একত্রে আহার করা।
- প্রতিসপ্তাহের সোম, বৃহস্পতিবার রোজা রাখা।
- নবজাতক শিশুর জন্মের পরপরই মুখে মিষ্টি জাতীয় কিছু দেয়া উত্তম।যেমন. খেঁজুর চিবিয়ে দেয়া অথবা মধু।
- কোনো পানীয় তে মাছি পড়লে তখন যেন দ্বিতীয় বার মাছিকে পানীয়তে ডুবিয়ে তারপর পানীয় পান করা হয়।
- সমতল কমোড ব্যবহার করা।
- অসুস্থ থাকাকালিন কোরআন পাঠ করা।
- নেশা দ্রব্য পরিহার করতে হবে।
- রাগ সংযত রাখা।
- সকল সুন্নত মেনে চলার চেষ্টা করা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Jobair Emad.
17 reviews3 followers
January 12, 2025
শুরুতেই বইয়ের মূল টিমটা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুন্নাহকে তুলনা করা হয়েছে সুপরিপক্ক,পরিণত এক বৃদ্ধের সঙ্গে যার সামনে বিজ্ঞান কেবল শিশুমাত্র। এখানে সুন্নাহের কষ্টিপাথর দ্বারা বিজ্ঞানকে ঘষা হবে তাও আবার পশ্চিমা উপকরণের সাহায্যে।

দুর্গের বাইরে পরিখা:
দাঁড়ি নিয়ে বিজ্ঞানের মতামত-
>ক্লিনশেভড লোকজনের মুখমন্ডলে জীবাণু বহনের সম্ভাবনা বেশি থাকে;
>দাঁড়ি নিজেই এমন কিছু উপকারী জীবাণু জন্মায় যারা অন্য ক্ষতিকর জীবাণুকে ধ্বংস করে;
>দাঁড়ি পুরুষের পার্সোনালিটি গঠনে সহায়ক,তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে;
>চেহেরার আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরুষালিভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে;
>দাঁড়িবিশিষ্ট লোকেরা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হন এবং অভিভাবকত্ব ও স্বাস্থ্য নিয়ে অন্যদের চেয়ে বেশি সচেতন থাকেন;
>সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও অধিক তাপ থেকে লসিকাগ্রন্থি ও থাইরয়েড ও থাইমাস গ্রন্থিগুলোর সুরক্ষার্তে দাঁড়ি ভূমিকা রাখে (হাইপোথিসিস)।
এবং এ সম্পর্কিত হাদিস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে,দেখানো হয়েছে কিভাবে বিজ্ঞান ১৪০০ বছর ধরে চলে আসা রীতির সঙ্গে খাপ খায়।

ডিওডোরেন্ট:
এখানে লেখক মানবদেহের ঘামগ্রন্থি ও তাদের মেকানিজম নিয়ে বেসিক আলোচনা করেছেন, দেখিয়েছেন কিভাবে রিলেটেড সুন্নাহর সাথে সহজেই মিলে যায়।

সিন্ধুঘোটকনামা:
বড় গোঁফ রাখার পরিণতি অনুমান করতে পারবেন এ পার্টটা পড়ে।বড় গোঁফে নাকের শ্লেষ্মা আটকে থেকে ইনফেকশন হওয়ার বা ছড়ানোর এক অঢেল সম্ভাবনা থাকে।

লেফট-রাইট:
ডান হাত-পা ব্যবহারের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
>বামহাতি ও উভয় হাত ব্যবহারকারীরা ডানহাতিদের তুলনায় ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও অসুখ-বিসুখে পড়ার সম্ভাবনা বেশি রাখে;
>ডানহাতিরা তুলনামূলক বেশি মনযোগী থাকে,বুঝতে পারে,ইতিবাচক মনোভাব দেখায় প্রভৃতি।

বামপন্থা:
ডান হাত-পা ব্যবহার করা যেমন সুন্নাহ তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে বাম হাত-পা ব্যবহার করাও (যেমন-টয়লেটের সময়)।এখানে দেখানো হয়েছে কেন ওসব ক্ষেত্রে বামপন্থা অবলম্বন করা যথোপযুক্ত।

And Miles to Go Before I Sleep:
আমরা সকলেই জানি ঘুমানোর পূর্বের এক অন্যতম সুন্নাহ হলো-ওযু করা।
এর উপকারিতা নিয়েই এখানকার সমগ্র আলোচনা।

স্বপ্ন দেখুন,স্বপ্ন দেখান ; বপু-তনু:
ডান কাত হয়ে শোয়ার ফায়দা ও বাম কাত হয়ে শোয়ার অপকারিতাসমূহ উল্লেখিত হয়েছে।

প্যাকেট ; দুনিয়া ঠান্ডা ; বাড়িয়ে দিন কাপড়ের দাম:
সুন্নাহসম্মত ঢিলেঢালা ও মোটাসোটা পোশাক পড়ার পেছনের হিকমাহটা উপলব্ধি করতে পারবেন।

হেডকোয়ার্টারের জলছাদ:
টুপি পরিধানের সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রাগৈতিহাসিক:
মিশওয়াকের ব্যবহার ও উপকারিতা জানতে পারবেন এতে।

গবাদিকরণ ; সমতলাধিকার ; আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে ; আজ চুলা বন্ধ:
খাওয়া-দাওয়ার যত সুন্নাহ রয়েছে সে সবের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পাবেন এসবে।

কুছ মিঠা হো জায়ে:
জন্মের পরে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চার তাহনীক (নবজাতকের মুখে মিষ্টি কিছু দেওয়া) করার বিষয়টির উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

মাছিমারা কেরানি:
মাছির অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে,যার ইঙ্গিত আমরা ১৪০০ বছর আগের হাদিসেও দেখতে পায়।

ভোগে নয়, ত্যাগেই।তবে ; আবারও বাম ; মুতাতহহিরীন ; যাহ সব মাটি:
শৌচকার্যের সুন্নাহসমূহ বিশ্লেষিত হয়েছে।

হাত ধোয়ার জন্যও দিবস:
এটা পড়ে উযু করার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা বুঝে আসবে।

জীবনের অপর নাম পানি:
এ পার্টটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
হয়ত থ’ বনে যাবেন,অন্তত আমার পক্ষে এমনটাই হলো।
সুন্দর কথা-সুন্দর সুর,প্রার্থনা,মানুষের কর্ম ও আবেগের উপর ভিত্তি করে পানি রিঅ্যাক্ট করে,তার গঠনগত পরিবর্তন হয়।
আর আমাদের দেহের অধিকাংশ জুড়েই যেন পানির রাজত্ব,জানতে পারবেন কিভাবে পানি আমাদের অজান্তেই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া রুকইয়াহ,ঝাঁড়ফুক,নজর লাগার পেছনে বিজ্ঞান কিভাবে কাজ করে তা স্পষ্ট হবে এ প্রবন্ধে।

সুন্নাত: প্রিভেন্টিভ মেডিসিন ; কই মোটা, একটু স্বাস্থ্য ভাল ; মাতাল ধোঁয়া ; বিনাশ্রম দন্ড ; আঁশেই আশা ; রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন:
এখানে দেখবেন কিভাবে সুন্নাহ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ���রতে সক্ষম।

আপনি যখন রোগী:
ইসলামের দৃষ্টিতে রোগীর মর্যাদা ও অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে।

ডাক্তার সাহেব ও রোগীর সেবাদানকারীদের জন্য:
ডাক্তারসহ রোগীর সেবাদানে যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের জন্য সুখবর রয়েছে এতে।

কাকতালীয়:
দিনশেষে বিজ্ঞান ইসলামের বিধিবিধানের সাথেই খাপ খায়,এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

প্রলাপ ; বিদায়বেলা:
আপনার লাইফস্টাইলে কেন ফরজ-ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নাহকে জায়গা করে দিবেন তার উত্তর পাবেন এখানে।
Profile Image for মুরসালিন নিলয়.
4 reviews11 followers
March 3, 2018
- কী বই পড়তেছিস? নাম দেখি?
- কষ্টিপাথর
- ওহ! (যার নামই এমন তার ভেতরে কী থাকতে পারে তা বোঝা হয়ে গেছে)
বাহ! জনাব/বা! মানুষের বেলায় ঠিকই 'Don't judge a book by its cover' আওড়ানো হয় কিন্তু যে বই নিয়েই প্রবাদটা রচিত সেখানেই হয়ে গেল ডাবল স্ট্যান্ডার্ড! জ্বি, এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড সিরিজ এর লেখক ডা শামসুল আরেফীনেরই এবারের বইমেলার লেখা "কষ্টিপাথর"। আদতে বইটি কষ্টিপাথর হলেও অনেকের জন্যই নাম Touchstone হলে হয়ত বইয়ের বিক্রি বা অন্তত পড়ে দেখার ব্যাপারে তাদের আগ্রহের জায়গাটায় একটু ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। ঐ যে লেখক যেভাবে বলেন, ১৯০ বছরের ইংরেজওয়াশ কি আর সহজে ছাড়ে? যতক্ষণ না সবকিছু ইউরোপিয়ান মানদন্ড ছুঁতে পারছে ততক্ষণ ঠিক জাতে ওঠা যাচ্ছেনা।
বইটি একটি কুঠারাঘাত বটে। অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গ বহুকাল সুন্নাহকে বিজ্ঞান দিয়ে ঘষে গেছেন। আজকে বিজ্ঞানকে একটু সুন্নাহ দিয়ে ঘষার পালা। Why should 'boys' have all the fun? শিশুদের উত্তর তো বয়োঃজ্যেষ্ঠরাই দেবে, তাই না?
বইটি মূলত ২ ভাগে,
১ম ভাগে, ১৪০০ বছর ধরে পালন করে আসা সুন্নাহ অর্থাৎ রাসূলের(সা) করা এবং করতে বলা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কর্মসমূহকে কীভাবে আজ বিজ্ঞান সম্মতি জ্ঞাপন করছে, কীভাবে এই সেকেলে মুসলিমরা এতটা আধুনিক তরিকায় এ যাবৎকাল ধরে এসব করে যাচ্ছে যেখানে এসবের আবিষ্কার এই সেদিনের মাত্র, কীভাবে তৎকালীন কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই আজকের বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান তখন প্রয়োগ করা হয়েছে, কেন একজন রাষ্ট্রনায়ক হয়ে মানুষের এই দৈনন্দিন খুঁটিনাটি বিষয়ে তিনি বলে গেছেন অথচ ইতিহাসে কোন সম্রাট কেউ নেই যে এই সমস্ত ক্ষুদ্র কাজ ( যেমন শৌচাগার থেকে শুরু করে পানি খাওয়া, খাদ্য গ্রহণ, ঘুমানোর নিয়ম, ডান-বামপন্থা, পোশাকের ব্যবহার ইত্যাদি অসংখ্য) নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন এবং হাজার বছর ধরে তাঁর অনুসারীরা সেটা লিপিবদ্ধ রেখেছে ও মেনে চলেছে, আজ এসে ধরা পড়ছে তার সুফল, কীভাবে এই নিরক্ষর মরুচারীর পক্ষে এই আধুনিক বিজ্ঞান জানা সম্ভব হল?
লেখক পাতায় পাতায় অসংখ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের রেফারেন্স টেনে গেছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাইবেলতুল্য জার্নালের সহায়তা নিয়েছেন, ছবির পাশাপাশি লিঙ্ক পর্যন্ত ছেপে দিয়েছেন, এবং যাদের আরবীয় বিজ্ঞান নিয়ে এলার্জি আছে তাদের জন্য ঐসব বাদ দিয়েই অমুসলিমদের বানানো আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করেছেন। নাক সিটকানো যাদের স্বভাব, বইটিকে তাই আর দশটি বিজ্ঞান ও ধর্ম বই এর মত ভেবে থাকলে ভুল হতে পারে। আগে পড়ুন, যেই বিজ্ঞানকে স্রষ্টার আসীনে উন্নীত করেছেন সেই বিজ্ঞানই পড়ুন, বিজ্ঞানের উপর ভরসা থাকলে জানুন, আর নাহলে আমার মতের সাথে এই বিজ্ঞান যায়নাই বলে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড পালন করুন।
বইয়ের ২য় এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্র ভাগটি বিশ্বাসীদের জন্য, সুন্নাহকে অর্থাৎ রাসূল(সা) এর তরিকাকেই মুসলিমরা আজ কীভাবে প্রয়োজনীয় নয় বলে উপেক্ষা করে যাচ্ছে, এবং সেই অপ্রয়োজনীয় সুন্নাহের স্থলে বিজাতীয় সুন্নাহ কীভাবে জায়গা করে নিচ্ছে তার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ লেখন করে যাবার চেষ্টা করেছেন। এবং অত্যন্ত ভালবাসার সাথে অন্তর নিংড়ে কিছু কথা শেষে লিখে গেছেন।
আমার এই লেখনী যদি কেউ পড়ে থাকেন আমি চাই লেখকের সেই দরদ মাখা কথাগুলো আপনার অন্তর পর্যন্তও পৌঁছাক, নাড়া দেবার দায়িত্ব ঐ বরকতময় অক্ষরগুলোর অধীনে। আস্তিক, নাস্তিক, অমুসলিম হোন আর সংশয়বাদী - এই লেখা আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে নয় বরং কেবলই চিন্তার খোরাক যোগাতে, আধুনিক মানুষ, অবশ্যই আধুনিকতাই আপনার কাম্য, ১৪০০ বছর ধরে যদি কিছু অজানা থেকে থাকে জেনে নিতে অসুবিধা কোথায়?
"এগুলো সায়েন্সের জন্মের আগেই সায়েন্সের স্রষ্টার দেয়া 'ভক্তির মোড়কে সায়েন্স'।
১৪০০ বছর উম্মাহ ভক্তির মোড়কে সায়েন্স খেয়েছে।
আজ সায়েন্স কারও একচেটিয়া বাণিজ্য...
এখনো ভক্তির মোড়কেই খান...
যুক্তিটা জানুন...
কিন্তু খান ভক্তিভরে, ভালোবেসে..."
বইঃ কষ্টিপাথর
প্রকাশনাঃ শুদ্ধি
মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০৳
Profile Image for Galib.
276 reviews69 followers
August 11, 2019
আমরা সুন্নত হিসেবে যে আচরনগুলো পালন করে থাকি ওগুলো যে আমাদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দারুন সাহায়ক -সেটাই বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষনার আলোকে মলাটে আবদ্ধ করেছেন লেখক । নিজে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় পড়তে ভালোই লেগেছে ।

Profile Image for Nafees Omar.
158 reviews16 followers
July 20, 2018
লেখক বলেছেন এগুলো সায়েন্সের জন্মের আগেই সায়েন্সের স্রষ্টার দেয়া "ভক্তির মোড়কে সায়েন্স"। বেশ চমৎকৃত হবার মতই কথা। তবে সুন্নাহর পেছনের সায়েন্স নিয়ে অবাক হবার তো কিছু নেই। কেননা আল্লাহ, যিনি সবকিছুর তথা সায়েন্সের স্রষ্টা তিনি তার মনোনিত নাবীর সুন্নাহকে সাজিয়ে দিয়েছেন নিজেই। সায়েন্স তো এই সেদিনকার গবেষণা-টবেষণা। তাই সুন্নাহ যে সায়েন্সের চেয়ে এগিয়ে থাকবে এতে আমাদের মুসলিমদের জন্য অবাক হবার কিছু নেই, আমরা তো ভক্তি ভরেই মেনে আসছি আর সেটাই দরকার আমাদের ইহকাল আর পরকাল দুটোর জন্যেই। সায়েন্সের সাপোর্ট দেখে সুন্নাহ পালন করলে শুধু দুনিয়া উদ্ধার হবে, আখেরাত হবে না। তাই সুন্নাহ মানতে হবে ভক্তিভরে, ভালবেসে। লেখক এই কথাটাই বার বার বুঝাতে চেয়েছেন। বরং সুন্নাহ নিয়ে নাক সিটকানে অলারা এই বই পড়ে তাদের কোঁচকানো নাক সোজা করে নিতে পারবেন বলে আশা করি।

তবে আমার সামর্থ্য থাকলে এই বইটা সবাইকে পড়াতাম এর শেষের দুটো চ্যাপ্টার এর জন্যে। তালাবদ্ধ অন্তরাত্নাকে যারা খুলবেন না বলে মনস্থির করেছেন তারা ভাবতে বাধ্য হবেন এই দুটো চ্যাপ্টার পড়লে। "প্রলাপ" শিরোনামে লেখক যেন আমাদের দুনিয়ার পেছনে ছোটা জীবনটাকেই মস্ত এক প্রলাপ সাব্যস্ত করেছেন যাতে একমত না হয়ে পারি নি আমি, আপনিও পারবেন না।
Profile Image for Maisha Samiha.
76 reviews73 followers
August 11, 2019
এই বইটাকে ৫ তারা দিলেও কম হয়ে যায়। মাশাআল্লাহ্‌
Profile Image for Mehraj Hussain kawsar.
94 reviews33 followers
December 24, 2022
বিজ্ঞানর যুগ হিসেবে খ্যাত বর্তমান যুগে মানুষ সব সঠিক-বেঠিক,সত্য-মিথ্যার খুঁজে বিজ্ঞানের দিকেই ছুটে। বিজ্ঞানের প্রমাণিত সত্য গুলো তো বটেই শুধু থিওরি গুলোকেও অনেক ক্ষেত্রে ওহীর সমতুল্য হিসেবে মূল্যায়ন করতেও দেখি আমরা। এমন সময় এসে ড.শামসুল আরেফিন শক্তি বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ১৪০০ বছর পুরনো সুন্নাহ সমূহকে মানব জাতির একমাত্র মুক্তির পথ হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছেন। দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে এই মহাসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত সফলতার সাথে জোরদার এক বক্তব্য তিনি দাঁড় করিয়েছেন এই বইটিতে।

স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার কাছ থেকে প্রেরিত জীবন বিধানের তুলনায় বিজ্ঞান তো ছোট্ট শিশু। সে তো সবে মাত্র সৃষ্টির উপর নানান পরিক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেছে, আবিস্কার করছে নানান আজানা তথ্য। এখনো অনেক পথ বাকি। আর সীমাবদ্ধতা প্রচুর। তাই আল্লাহর কোনো বিধান বা নবীজীর কোনো সুন্নাহকে পালন করা বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তা কতোটুকু বিজ্ঞানসম্মত বা মানবজাতির জন্য কতোটুকু কল্যাণেকর তা নিয়ে মাথা ঘামানো নিরেট বোকামি।

সুন্নাহর বিশাল ভান্ডার থেকে মাত্র ত্রিশটার মতো সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে।কারণ সম্ভবত বিজ্ঞান মাত্র এতোটুকুই পৌঁছাতে পেরেছে এখন পর্যন্ত। এখানে দেখানো হয়েছে বিজ্ঞান এই সুন্নাহ গুলো পালন করার ব্যাপারে কি মন্তব্য রাখে। জীবনে এগুলোর কি কি ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপন করার ফলে আমরা কতোই না উপকার লাভ করতে পারি এই দুনিয়াতেই। আর অবশ্যই আসল প্রতিদান তো আখিরাতে রয়েছেই।

আর আমাদের নিয়ত অবশ্যই সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি হতে হবে নয়তো আমরা কেবল এই দুনিয়ার ফায়দাটুকুই পাবো আর আখিরাতের খাতা থাকবে শূণ্য, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতের প্রতি মুহব্বত, তা যথাসাধ্য পালন করার মাধ্যমেই আমরা আলাহর সাহায্য,সন্তুষ্টি আর ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবো দুনিয়া আখিরাত উভয় জাহানে। অসম্ভব সুন্দর এই বই উপহার দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন,আমিন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।
Profile Image for Muhammad.
14 reviews1 follower
July 26, 2018
শামসুল আরেফীন ভাই এর আরেকটা মাস্টারপিস পড়ে ফেললাম। আল্লাহ আপনার লেখনীতে আরো বারাকাহ দান করুক। 'জীবনের অপর নাম পানি' আর্টিকেলটা বেশি মুগ্ধ করেছে।
Profile Image for Muhi Uddin.
103 reviews3 followers
December 20, 2023
কী বই পড়লাম ভাই! আশ্চর্য লেভেলের লজিক্যাল সুন্দর বই এটা। আমি এই লেখকের বইগুলো আগে থেকে পড়িনি শুধু "জাতে" ছিলাম বলে।

মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিরক্তিহীন এক আশ্চর্য ভালো লাগায় শেষ করলাম বইটি। এই বই সমাজের বেশিরভাগ লোকের জন্য এক আশ্চর্য থেরাপি। এই থেরাপিতে তার জাতে ওঠার বিষয়ে ভাটা পড়লেও নিজের পরিচয়ের ওপর এক আশ্চর্য সুন্দর লেভেল দেখতে পাবে। যে লেভেলের সামনে "জাতে" ওঠাটা তখন তুচ্ছ মনে হবে। নিজের পরিচয়ে চলাকে মনে হবে অনেক বেশী গৌরবের।

বইটি সব ক্যাটাগরির মানুষের জন্য সমান উপকারী। যারা বিজ্ঞানের কাঁধে হাত রেখে ধর্মকে নাক সিঁটকান তাদের জন্য এটা এক 'মুখথোড়' জবাব। আর যারা ধর্মকে মানেন তবে সুবিধামতো আবার কাটছাট করেন তাদের জন্য এক উজ্জ্বল মশাল হবে এই বইটি।

যেসব লোক ধর্মের কারণে কোনঠাসা থাকেন। বিব্রতবোধ করেন। তাদের জন্য এটা আশার আলো হবে।

যারা পশ্চিমা সভ্যতায় জাতে ওঠতে বিজ্ঞানের কোলে আশ্রয় নেন তাদের জন্য একবুক আক্ষেপ। এই বইতে প্রমাণিত হয়েছে যারা বিজ্ঞানের কোলে ওঠে লম্ফঝম্প করে ধর্মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান সেই বিজ্ঞান এক অপরিপক্ক সিস্টেম। তাকে পরিপক্ক হতে আর দূর গবেষণা করতে হবে। সে যতটুকু পরিপক্ব হয়েছে, তার থেকে হাজার বছর এগিয়ে আছে ইসলাম ধর্ম।

সত্য সন্ধানকারী হলে এই বইটি আপনার চোখ খুলবে। করজোড়ে আবেদন থাকবে বইটি পড়ুন। জ্ঞানী হোন।
আল্লাহ সত্যকে এভাবেই প্রকাশ করবেন সময়ে সময়ে। আপনি আল্লাহর দলে থাকলে লাভবান হলেন, না থাকলে নিজের দূর্গতির জন্য নিজেই দায়ী।
28 reviews
July 21, 2021
পাশ্চিমাদের দলিল দিয়ে যখন সুন্নাহকে প্রমাণ করা হয় না তখন পশ্চিমা দালালদের গা একটু জ্বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা মুসলিমরা সুন্নাহকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করার আগে থেকেই বিশ্বাস করতাম সুন্নত বিজ্ঞানসম্মত নয় বরং বিজ্ঞান সুন্নাহসম্মত,কারণ বিজ্ঞান যখন ছিল না তখন সুন্নাহ ছিল।
আল্লাহ লেখকের খেদমতকে কবুল করুন।
Profile Image for Md. Rakibul Hasan.
33 reviews
October 13, 2020
শুনতে শ্রুতিকটু লাগলেও এই বইতে নবিজির (সাঃ) সুন্নাহর কষ্টিপাথরে বিজ্ঞানকে যাচাই করা হয়েছে। মূলত তাঁর স্বাস্থ্যবিষয়ক জীবনাচারের দিকগুলো এসেছে এই বইতে। যে সুন্নাহ মুসলিমরা ১৪০০ বছর ধ'রে ভক্তির মোড়কে পালন ক'রে আসছে, বিজ্ঞান সম্প্রতি সেগুলোকে শুধু যৌক্তিক নয়, একেবারে বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত করছে। জানি অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন জমা আছে। আছে সন্দেহ৷ প্রমাণসহ উত্তর পেতে আর সন্দেহ দূর করতে এটি হতে পারে একটি আদর্শ বই।

বিজ্ঞান যখন এগুলো সম্প্রতি প্রমাণ করার সক্ষমতা অর্জন করলো, এর আগে কী এসব অবৈজ্ঞানিক ছিলো? হ্যাঁ, বিজ্ঞানবাদীদের মতে তা-ই৷ তবে বুঝতে ভুল করলে চলবে না যে সেটা ছিলো বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা৷ সেসময় বিজ্ঞান ছিলো শিশু। তখন সেসব সুন্নাহকে কুসংস্কার হিসেবে দেখতো বিজ্ঞানমহল; যদিও তারা জানতো না তাদের দেখার চোখ তখনো গ'ড়ে ওঠেনি। আজ যখন বিজ্ঞান কিছুটা পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছে, তার বাইরের জগৎকে চিনতে শুরু করেছে, সত্য স্বীকার করছে সে সানন্দে।

বইটির মূল ফোকাস হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাপিত জীবনের স্বাস্থ্যবিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কল্যাণকামী পথনির্দেশনার বাণী মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের কাছে পৌঁছে দেয়া। লেখক যদিও বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে ইসলামের বিধান মানাকে যৌক্তিকতার মানদণ্ডে পিছিয়ে রেখেছেন, তবুও তার প্রতিটি লেখায় গবেষণাপত্রের প্রাচুর্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। তিনি যতোটুকু সম্ভব ইসলামি গবেষকদের গবেষণা এড়িয়ে গেছেন, যাতে অমুসলিমদের মধ্যে দোদুল্যমানতা কাজ না করে। ইহুদি-খৃষ্টান-অজ্ঞেয়বাদী-নাস্তিকদের গবেষণার প্রতিবেদন; বিবিসি, এবিসি নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস-সহ পাশ্চাত্যের বাঘা-বাঘা প্রতিষ্ঠানের আর্টিকেল রেফারেন্সসহ আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে৷

যারা নিজেদের স্মার্ট দাবি ক'রে ইসলামকে সব ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলে বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণলব্ধ আনাড়ি লিটারেচার প'ড়ে প'ড়ে অভ্যস্ত, তারা এবার একটু আধুনিক বিজ্ঞান পড়তে চলে আসুন। গবেষণাপত্র যাচাই করুন। আপনার স্মার্টনেস বাড়বে বই কমবে না। যারা সত্য জানতে আগ্রহী, তারা তো পড়তে ভয় পায় না৷
Profile Image for Rumad Hussen.
43 reviews1 follower
May 21, 2021
আলহামদুলিল্লাহ, বইটি মোটাদাগে একটা গবেষণার বই। সুন্নাহ মেনে আমরা যেই নিত্যকার কাজ করি, আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য। সেই কাজেই মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য কতরক�� উপকার রেখেছেন সেটা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
আমি ৫/৫ রেটিং দিলাম (যদি আমি কাঁচা মগজের মানুষ, বইটি আমার জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুন।)
Profile Image for Al-Amin Ahmed.
7 reviews2 followers
February 20, 2020
কঠিন শব্দ সাধারন পাঠক যারা বই পড়তে আগ্রহী না তারা পরবে না আগ্রহ হারাবে।
Profile Image for Marjana Chowdhury.
19 reviews
July 19, 2020
বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী ; সবারই পড়ে দেখা উচিৎ। একদম রেফারেন্স টেফারেন্স দিয়ে একাকার অবস্থা( যেমন চাই আমরা😁)
Profile Image for Farhan Ishrak.
26 reviews1 follower
April 25, 2021
অনেক কিছু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখাল। ইসলামিক বৈজ্ঞানিক বই
Profile Image for Shamsuddin  Ahmmad Shimul.
58 reviews7 followers
November 8, 2022
সত্যিই এক অনন্য কষ্টিপাথর এই বই! ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবারই পড়া উচিত বইটি। শামসুল আরেফীন মানেই অন্যরকম এক ভাষাশৈলি কাজ করে।
Profile Image for Abdul Ahad.
59 reviews
October 13, 2023
ভালো বই। দৈনন্দিন জীবনে সুন্নাহর প্র্যাকটিস করানোর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
Profile Image for Anas Tonmoy.
17 reviews23 followers
April 15, 2018
বইয়ের নাম কষ্টিপাথর। বাংলা এই শব্দের মানে বলতে আমরা জানি স্বর্ণ পরীক্ষা করার কাজে যে পাথর ব্যবহার করা হয়। এখানে বিজ্ঞানকে পরীক্ষা করা হয়েছে ইসলাম দিয়ে। কারণ আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা করে কিছুদিন আগে যা পেয়েছে তা মুসলমানরা প্রায় ১৪০০ বছর ধরেই মেনে চলছে। তাহলে শুরু করা যাক।

বই কষ্টিপাথর।
লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন

বিষয়বস্তু: মুসলমানদের জন্য ইসলাম হচ্ছে দ্বীন যার অর্থ পরিপূর্ণ জীবন-ব্যবস্থা। যেখানে জীবনের সব কাজের ইসলাম-সম্মত পদ্ধতি এবং কিভাবে করতে হবে তার সবটাই বলে দেয়া আছে। ১৪০০ বছর আগেই আমাদের নবী সুন্নাহার মাধ্যমে এসব বলে গিয়েছেন শুধু তাই নয় উনার সুন্নাহ হিসাবে পালন করলে আমাদের জন্য রয়েছে পরকালের সুখ এবং এই জীবনে আল্লাহর নেয়ামত। কিন্তু আধুনিক যুগে স্বল্প জানা বিজ্ঞান, ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ইসলামের বিরোধিতা এবং লোকলজ্জার ভয়ে আমরা এসব থেকে সরে এসেছি এবং ভাবতে শুরু করেছি যে আধুনিক বিজ্ঞান এদের চেয়ে ভালো কিছু দিয়েছে। এই বইতে এমনসব বিষয়কেই তুলে ধরা হয়েছে যেখানে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে ১৪০০ বছর আগে বাতলে দেয়া পদ্ধতি পালনেই বেশী উপকার দুনিয়ায় আর আখিরাতের কথা তো আল্লাহ নিজেই বলেছেন। বইটিতে অবাক করে দিয়েই যুক্ত করা হয়েছে অসংখ্য রেফারেন্স। কি ভেবেছেন হাদিসের? জি তা রয়েছে কিন্তু যুক্ত হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানের দেয়া ভুঁড়ি ভুঁড়ি রেফারেন্স। বিখ্যাত জার্নাল, বিজ্ঞানীদের আর্টিকেল যা পুরো লেখাকেই বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে।

বইয়ের শেষে "প্রলাপ" নামে একটি অংশ যুক্ত করেছেন লেখক। যেখানে মুসলিমদের বলেছেন কেনও শুধু জায়েজ কাজের মধ্যে থেমে না থেকে আরও বেশী আমল করে নিজেদের স্থান দুনিয়া এবং আখিরাতে আরও সন্মানীত করবেন।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:
পাঠক হিসাবে আমাকে অনেক নতুনই বলতে পারেন। খুব বেশী বই পড়া হয়নি এখনও তবে অনেক বেশী পড়তে চাই।
বইয়ের শুরুতেই যখন লেখন ঘোষণা দিলেন তিনি যোগ করেছেন বিদেশী সব রেফারেন্স এবং তিনি নিজেই দেখলাম একজন ডাক্তার যেহেতু বইটি স্বাস্থ্য নিয়েই তাই আরও আগ্রহী হয়ে উঠলাম। টানা ৫০ পেজ পড়ে ফেললাম। খুবই সহজ পাঠ বইটি। লেখা পড়ে বুঝলাম উনি আসলেই অনেক রেফারেন্স দিয়েছেন। চেয়েছিলাম কিছু যাচাই করি। অপেক্ষা করলাম শেষ করার। রাতে বসলাম বই নিয়ে। আরও বেশী মনোযোগ কেড়ে নিলো। অবাক করা সব তথ্য যোগ হতে থাকলো। বলেছিলাম পরীক্ষার কথা। পানি নিয়ে লেখার একটা পার্ট গুগল করলাম। দেখলাম যা যা বলেছেন সবটাই ঠিক। নিজেই অবাক হয়ে গেলাম কেনও আরও আগেই জানলাম না। আমি এখানে নিরপেক্ষভাবে লিখছি কিন্তু পড়বার সময় আরও অনেক আবেগী হয়ে গিয়েছিলাম।
লেখাটি সবার জন্য। বইটি সবাই পড়তে পারেন। যারা যুক্তি,রেফারেন্স,বিজ্ঞান দিয়ে বিচার করেন এবং মুক্তভাবে যেকোনো যুক্তি বুঝতে চান আপনারা সবাই পড়তে পারবেন বইটি। হ্যাঁ,যারা মুসলমান আছেন তাদের জন্য অবশ্যই পড়া উচিত। লেখক শেষদিকে আমাদের জন্য খুবই নমনীয় ভাবেই উপদেশ দিয়েছেন। লেখক বলেছিলেন বাধ্য করবেন না,চিন্তার খোরাক দিবেন। সত্যি তিনি পেরেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের একটা দোষ বলি। আমি ইসলামিক বই পড়ার আগ্রহ হারাই সঠিক উপস্থাপনার অভাবে, তবে বলছি আরিফ আজাদ সাহেব এবং ডা. শামসুল আরেফীন সাহেবের লেখা পড়ার পর আমি অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছি। আমি তাদের বলবো আপনাদের খুবই দরকার ছিলও এই সময়ে। আপনারা আরও বই লিখবেন তবে খেয়াল রাখবেন যাতে মানটাও ঠিক এমনই থাকে।
Displaying 1 - 23 of 24 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.