বসন্ত এসেছে। পত্র-পল্লব ফিরে পেয়েছে প্রাণ, চারপাশে ফুলের ঘ্রাণ আর পাখির গান। শীতের নিষ্প্রাণতায় কদিন আগেই মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া প্রকৃতি এখন সজীবতায় মুখর। বসন্তের এই প্রাণ আমাদের প্রাণেও কি সঞ্চার হতে পারে?
আল্লাহর রাসূলের ﷺ কাছে 'হৃদয়ের বসন্ত' ছিলো কুরআন। আমাদের চিরচেনা বসন্তের আবহ সামনে রেখে হৃদয়েও বসন্তের আবাহন অনুভব করা যায় কীভাবে? নিসর্গের গল্প শোনাতে শোনাতে কুরআনের বসন্তকে ছোঁয়ার প্রণোদনা দিতে আপনার কাছে এসেছে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের ব্যতিক্রমী গল্পপ্রবন্ধ 'বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর'। বিষণ্ণতার প্রহরগুলোকে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে, জীবনের উঠোনকে জান্নাতের পুষ্পসৌরভে শোভিত করার প্রেরণা যোগানোর জন্যে, বিশ্বাসী তারুণ্যকে সুন্নাহর সবুজতা চিনিয়ে দেয়ার প্রয়াস নিয়েই এই বই।
আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব এর জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সদরে, ১৯৯৭ ইসাব্দের ২২ জানুয়ারি। ড. মাহমুদুল হক ওসমানি ও জাহান আরা হযেসমিন এর প্রথম সন্তান। অধ্যয়ন করছেন স্নাতক সম্মান (৪র্থ বর্ষ), আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা সাত। লেখালেখির পাশাপাশি বিতর্ক অঙ্গনে সরব পদচারণী। ২০১৭ ইসাব্দে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন। ২০১৮ ইসাব্দে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সিভিলাইজেশন কনফারেন্সে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ: এক মুঠো সবুজের স্বপ্ন (কাব্য), শেষরাত্রির গল্পগুলো (প্রবন্ধগল্প), সবুজ নায়ের মাঝি (অণুকাব্য), বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর (প্রবন্ধগল্প), সবুজ রাতের কোলজি (কাব্য), সবুজ চাঁদে নীল জোছনা (কাব্য)।
কবিতায় কবিতায়, গল্প! কেমন লাগে পড়তে?যাদের কবিতা পছন্দ না, তাদের ও ভালো লাগবে। কবিতা কখনোই আমার ভালো লাগতো না। আর এখন ইচ্ছে করে নিজেই কয়েকটা কবিতা লিখে ফেলি। যাদের ইসলামিক বই পড়ার অভ্যাস নেই, আমার মনে হয় তাদের নজীব ভাইয়ের বই পড়া শুরু করা উচিত। তাহলে একসময় ইসলামিক বই পড়া অভ্যাস হয়ে যাবে, ইন শা আল্লাহ! . পুরো বই জুড়ে মুগ্ধতা! লেখক, নিজের কিছু গল্প শুনিয়েছে মাঝেমাঝে, তা আমার কাছে বেশ লেগেছে। কারণ, গল্প শুনতে আমার ভালোই লাগে। আবার কিছুক্ষণ পাখ-পাখালির কতো বর্ণনা, তাদের সুরে হারিয়ে যাওয়ার কথা। বৃষ্টির মাঝে হারিয়ে গিয়ে, সুন্নাহগুলো মনে করিয়ে দেওয়া। এ মেঘ, এ বৃষ্টি, এ বজ্রপাত___অবাধ্যকারীদের পতন। হায়! ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো। লেখক পেরেছেন, বইতে মুগ্ধতা ধরে রাখতে। সুন্দর করেই একেকটা গল্পের ইতি ঘটিয়েছেন। একটু মোটাসোটা বই যদিও, প্রথমে ভেবেছিলাম আরো ছোট হলে ভালো হতো। শেষ করার পর মনে হলো, ইস কেনো যে শেষ হলো।
যাই হোক, অনেকগুলো কাহিনী তোহ জানতে পারলামই। আর সাথে সাথে কতো কবিতা মাথায় পোকার মতো ডুকে গেলো।মাথায় কিলবিল করছে এখন! কবিতা এতো সুন্দর হয়, জানতাম না।
কয়েকটা কথা খুব মনে গেথেছে, তা হলো-
▪একসময় বার্ধক্যের শীতল বাতাসের ঝাপটায় চামড়ার রূপের লাস্যময়ী শিখাটাও নিভে যায়। কিন্তু হৃদয়ের সৌকর্য যে দীপ জ্বালে, সেটা দিনভর সূর্য হয়ে জ্বলে, রাত এলে সপ্তর্ষি তারকার মতো জেগে থেকে রাতভর তার অস্তিত্বের জানান দেয়। সময়ের আবর্তনে সেই আলোর স্বভাব বিবর্তিত হয়। প্রভাব পরিবর্তিত হয় না।
▪বস্তুবাদী দুনিয়া আমাদেরকে চামড়া ফর্সা করার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে বলে। আল্লাহর দীন আমাদেরকে হৃদয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্যে উদ্যমী হতে বলে।