পৃথিবীর ১৩ জন বিখ্যাত মানুষ। তাঁরা কেউবা ছিলেন খ্রিস্টান কেউ ইহুদী আর কেউবা হিন্দু। তাঁরা ফিরে এসেছেন চিরশান্তির পথ ইসলামে। তাঁদের এই জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। তাঁদের ইসলামে ফিরে আসার এই জার্নি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্যা রিভার্টস: ফিরে আসার গল্প’ বইটি। আফগান যুদ্ধ কাভার করতে এসে তালেবানদের হাতে ধরা পড়লেন এক নারী সাংবাদিক। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় এসে আটকে গেলেন এক ব্রিটিশ তরুণী। তারপর কী হলো তাদের? একজন খ্রিস্টান পাদ্রী, একজন ধার্মিক বৌদ্ধ, অনুশাসন মানা একজন হিন্দু যুবক আর মামার আমন্ত্রনে ফিলিস্তিনে ঘুরতে আসা পোলান্ডের এক ইহুদী তরুণ। চার ধর্মের চারজন। কেমন করে পাল্টে গেলেন সবাই? বাবরি মসজিদ নিজ হাতে ভেঙেছেন বলবির সিং। এক সময়ে যা নিয়ে অনেক গর্ববোধ করতেন। কিন্তু তার মনে কীসের এত ব্যথা আজ? বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হাত আজ কেন মসজিদ গড়ার কাজে ব্যস্ত? লন্ডনের বুকে বেড়ে ওঠা তিন যুবক। টাকা-পয়সা, অর্থ-বিত্ত, খ্যাতির কোন অভাব নেই। তবুও শান্তি নেই মনে। শান্তির আশায় কত কী করে গেলেন! পেয়েছিলেন কী? আধুনিক আমেরিকার দুজন মানুষ। একজন অবিশ্বাসী নাস্তিক। অন্যজন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর। দুজনের জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন এল। কিন্তু কী করে? MTV চ্যানেলের বিশ্ববিখ্যাত এক উপস্থাপিক। পুরো ইউরোপের ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ। একদিন দেখা হলো, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানের সাথে। তারপর?
প্রখ্যাত কিছু মানুষের ইসলামে ফিরে আসার ঘটনা নিয়ে এই বই। প্রতিটি ঘটনা হৃদয়ে নাড়া দেয়ার মত। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে শেখারও আছে অনেক কিছু। এখানে উল্লেখ করা বেশীরভাগ ঘটনাতেই একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান আর তা হলো এ মানুষগুলো তাঁদের আশেপাশের বা চলতে ফিরতে দেখা কিছু মুসলিমের কর্মকান্ড দেখেই ইসলামের সৌন্দর্য বুঝতে পারেন এবং ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন। আপনি, আমি, আমরা মুখে যতই বলি না কেন, আমরা সঠিক ইসলাম পালন করি না, ইসলাম বুঝতে হলে কোরআন হাদীস পড়তে হবে, আমাদের দিয়ে বিচার করা উচিত না। কিন্তু যারা ইসলাম সম্পর্কে একেবারেই জানে না তাদের কাছে এ কথার তো তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ তাঁরা প্রথমে আমাদের দেখবে, এবং আমাদের দেখেই তাঁরা বিচার করবে ইসলাম কেমন। এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আমরা অন্যদের কাছে আমাদের আচার আচরণ, কাজ কর্ম দিয়ে কোন ইসলামকে উপস্থাপন করছি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সঠিক ইসলাম মেনে চলি, আল্লাহ হয়তো আমাদের মাধ্যমেই এরকম অসংখ্য মানুষকে হেদায়াতের পথে আনবেন। আবার আমরা আমাদের কাজে যদি ভুলভাবে ইসলামকে উপস্থাপন করি তাহলে আমাদের ভুলের জন্য তো জবাবদিহি করতেই হবে, সাথে অন্যদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ম্যাসেজ দেয়ার দায়টাও যোগ হবে। "আমাদের সরল, সঠিক পথ দেখান। তাঁদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁদের পথ নয়, যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।" - (সূরা ফাতেহাঃ ৬-৭)
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি সহ বিভিন্ন ধর্মের ১৩ জন ভিন্নধর্মাবলম্বী মানুষের ইসলাম ধর্ম কবুল করার কাহিনী নিয়ে এই দ্যা রিভার্টসঃ ফিরে আসার গল্প বইটা। যাদের কাহিনী দেয়া আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলোঃ ইভন রিডলিঃ "ইন দ্যা হ্যান্ড অব তালেবান" বইয়ের লেখিকা,ইউসুফ স্টেস, আব্দুর রহিম গ্রিন, ইউসুফ চেম্বারস, লরেন বুথ ( সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এর স্ত্রীর সৎবোন, একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, লেখিকা), মুহাম্মদ আমির ( বাবরি মসজিদে ভেঙে ফেলার সময় প্রথম কুঠার আঘাতকারী বলবীর সিং। পরবর্তীতে অনুশোচনায় ভোগে ইসলাম ধর্ম কবুল করেন এবং নতুন নতুন অন্যান্য মসজিদ তৈরি ও সংস্কার করেন।), ক্রিস্টিন বেকার ( পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অনুপ্রেরণায় ইনি ইসলাম কবুল করেছিলেন।) বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে
বইটার গল্পগুলো নতুন নয়। তারপরও একটা বিষয় নাড়া দিয়েছে ভীষণভাবে। আমরা জন্মগতভাবে মুসলিম। অথচ কুরআনের যে মাধুর্যে বিধর্মীরা বিমোহিত হয়ে ইসলাম কবুল করে আমরা তা উপলব্ধি করি কতোটুকু? যে নামায নব- মুসলিমের মনকে প্রশান্ত করে দেয় আমরা তাতে প্রশান্তি খুঁজি কী! মুসলিম পরিবারে জন্মেছি বলে আল্লাহ শুকরিয়া করছি। সেই সাথে প্রকৃত মুসলিমের অনুভূতি লাভের মাধ্যমে আল্লাহ কাছে প্রশান্তি কামনা করছি। আমীন।
★এই বইতে ১৩ টি গল্পে ১৩ জন ভিন্নধর্মের,ভিন্নপেশার মানুষদের ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার হৃদয়স্পর্শী কাহিনি তাদের মুখ থেকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই বইয়ের কাহিনিগুলো বেশিরভাগই ইউটিউব থেকে সংগ্রহ করা।"MTV থেকে মক্কা" ও "মক্কার পথে" কাহিনি দুটো তাদের লেখা বই থেকে নির্বাচিত অংশের রুপান্তর। মুহাম্মাদ আমীরের কাহিনি লেখা হয়েছে কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল অবলম্বনে।
★কাহিনি সংক্ষেপঃ ১.বন্দী থেকে মুসলিমঃ ইভন রিডলি নামক এক খ্রিস্টান নারী,যিনি লন্ডনের "সানডে এক্সপ্রেস" নামক পত্রিকায় কর্মরত একজন সাংবাদিক তার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে এই গল্পটিতে। টুইন টাওয়ারে হামলার পর রিডলিকে সংবাদ সংগ্রহের জেরে আফগানিস্থান যেতে হয়,কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করার পরও সে ভিসা পায়নি। শেষমেষ কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করে। এভাবে সে পালিয়ে থাকতে না পেরে একসময় তালেবানদের হাতে ধরা পড়ে যায়। ধরা পরার পর তার ধারনা ছিলো সে তালেবানদের হাতে নির্যাতিত,নিষ্পেষিত হবে। কারণ সে জেনে এসেছে তালেবানরা খুবই বর্বর,পুরুষশাসিত সমাজ বলে নারীদের সম্মানহানী করে,নির্যাতন করে। অথচ তার ধারনা ভুল প্রমান করে দেয় তালেবানরা। সে তাদের খোদাভীরুতা,তার চরম বেয়াদবির পরিবর্তে মার্জিত ব্যবহার,চারিত্রিক পবিত্রতা এসব দেখে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়,ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন পড়তে অনুপ্রানিত হয়। সে বন্দি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ইসলাম নিয়ে অনেক গবেষনা,জ্ঞানার্জন করে।ধীরে ধীরে তার মনে ইসলামের সুশীতল হেদায়েতের অনুপ্রবেশ ঘটে। আলিঙ্গন করে নেয় সে চিরশান্তির ধর্ম ইসলামকে।
২.আমি ইউসুফ এস্টেস বলছিঃ আমেরিকার টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী ইউসুফ এস্টেস ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক। ব্যবসায়িক সুত্রে একজন মিশরীয় মুসলিমের সংস্পর্শে এসে তার মনের মধ্যে তাদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের ত্রিত্ববাদ ও অন্যান্য মতবাদের প্রতি সন্দেহ জাগে এবং ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের বানীগুলো তার কাছে সত্য ও যৌক্তিক বলে মনে হয়। একসময় সে সহ তার স্ত্রী ও তার বাবা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে চলে আসেন।বাইবেলের ত্রিত��ববাদকে ত্যাগ করে তাদের আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়ার ঘটনাই এ গল্পটিতে বিবৃত হয়েছে।
৩.আসুন,বলি আলহামদুলিল্লাহঃ লরেন বুথ পেশায় একজন সাংবাদিক। পেশাগত কারণে তাকে বেশ কয়েকবার ফিলিস্তিন যেতে হয়।সেখানে গিয়ে তিনি ইসরায়েলী কর্তৃক গাজার নিপীড়িত,নিষ্পেষিত, অভুক্ত মুসলিমদের চরম আন্তরিকতা ও এই করুন অবস্থায়ও আল্লাহর প্রশংসা করা ও কথায় কথায় আলহামদুলিল্লাহ উচ্চারণ করা দেখে তার হৃদয়ে নাড়া দিয়ে উঠে। পরবর্তীতে সে আল্লাহর হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। এই কাহিনিটি মালয়েশিয়ান এক টিভিতে দেয়া লরেন বুথের সাক্ষাৎকারের রুপান্তর।
৪.জীবনের মানে খুঁজতে গিয়েঃ এই গল্পটি ব্রিটিশ নাগরিক আব্দুর রহিম গ্রীনের ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার। সে ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ছিলেন একজন চরম অবিশ্বাসী,মাদকাসক্ত,হারামে ডুবন্ত। একটা সময় তার মনে জীবন নিয়ে কৌতুহল জাগে। সেই কৌতুহলবশত সে ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন পড়াশোনা,কুরআন,ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন,সমাধান পান তার সকল প্রশ্নের। সন্ধান পান চিরশান্তির আলোকদীপ্ত ধর্ম ইসলামের। শেষমেশ শাহাদাহ পাঠ করে হয়ে যান মুসলিম। কিন্ত এতে তার পরিবার তাকে ত্যাগ করে,অনেক একা হয়ে পড়তে হয় তাকে। তবুও তিনি হাল ছেড়ে দেননি।ইসলামকে আকড়ে ধরে আজও জীবনযাপন করছেন তিনি।
৫.রহস্যময় কুরআনঃ শুধুমাত্র কুরআন পড়েই একটা মানুষ এতোটা বদলে যেতে পারেন,ড. ল্যাং তার উৎকৃষ্ট উদাহরন। তিনি ছিলেন আমেরিকার কানসাস ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক । ক্যাথলিক স্কুলে পড়া ল্যাং ধীরে ধীরে তার ধর্মের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং অবশেষে হয়ে যান একজন নাস্তিক। সান ফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময় তার এক পরিচিত মুসলিমের মাধ্যমে কুরআনের একটি অনুবাদের কপি তার হাতে আসে। পড়তে পড়তে সে তার মনের অজানা সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান এবং ইসলামের প্রতি মুগ্ধতা অনুভব করতে থাকেন। অবশেষে ইসলাম গ্রহণ করেন।
৬.বৌদ্ধ থেকে আলোর পথেঃ চায়নিজ বংশোদ্ভূত হুসাইন ইয়ি একটি বৌদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন অনুশাসনে নিরুৎসাহিত হয়ে তিনি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহন করে। কিন্তু সেখানেও ত্রিত্ববাদের ধর্ম তার কাছে যৌক্তিক ঠেকেনি। অবশেষে মুসলমানদের কুরআন পড়ার পর সে তাওহিদের(একত্ববাদের) প্রতি মুগ্ধ হয় ও তার সব অজানা বিষয়াদির ব্যাখ্যার যৌক্তিকতা খুঁজে পান। এতে সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মুসলিম হয়ে যান।
৭.মসজিদ ভাঙ্গা হাত আজ মসজিদ গড়ার কারিগরঃ বালবীর সিং, যার জন্ম হরিয়ানার পানিপথ গ্রামে,এই গল্পটিতে তারই ইসলাম গ্রহণের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে । বালবীর সিং তার বন্ধু যোগেন্দ্রসহ আরো অনেকে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিলেন।বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর বালবীর সিং খুব গর্বিত বোধ করে তার পরিবারের কাছে ফিরে যেয়ে সব ঘটনা খুলে বলেন। এতে তার বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে যান কারণ সে হিন্দুধর্মের হলেও ইসলামের প্রতি তার সম্মান,শ্রদ্ধা ছিলো প্রবল। তার পুত্রের এই ঘৃন্য কাজকে সে মেনে নিতে পারেননি।ফলস্বরূপ বালবীরকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়।এই ঘটনার পর ভারতে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গুরতর আকার ধারণ করায় প্রাননাশের ভয়ে বালবীরকে পলায়নরত জীবনযাপন করতে হয়।অপরদিকে তার বন্ধু যোগেন্দ্র বাবরি মসজিদের দুটি ইট এনে সেসহ আরো অনেকে তার উপর প্রস্রাব নিক্ষেপ করেন।এহেন ঘৃন্য ক্রিয়াকলাপের শাস্তিস্বরুপ আল্লাহ তাকে বদ্ধ পাগল করে দেন।ফলে সে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় ঘোরাঘুরি থেকে শুরু করে নিজ জন্মদাত্রী মায়েরও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন।এসব থেকে তাকে মুক্ত করতে যোগেন্দ্রের বাবা অনেকের দ্বারস্থ হন কিন্তু তার ছেলেকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন। শেষমেষ একজন মাওলানার পরামর্শে যোগেন্দ্রসহ তার পুরো পরিবার ইসলাম গ্রহন করে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এর পর থেকেই যোগেন্দ্র আগের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করা শুরু করেন। তার ছেলের বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার কারণে বালবীরের বাবা প্রচন্ড মর্মাহত হয়ে মারা যান। এসব ঘটনার সাক্ষী হয়ে,অনুতপ্ত হয়ে,পরকালের ভয়ে বালবীরও অবশেষে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রিত হন। পরবর্তীতে সে ও যোগেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেন, যে হাতে তারা মসজিদ ভেঙ্গেছে সে হাতে তারা ১০০ টির মতো মসজিদ নির্মাণ করবেন। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির জীবন যে আল্লাহ তায়ালা এভাবে বদলে দেবেন তা কি কেও কখনো কল্পনায়ও ভেবেছিলো?
৮.শৈলেশের গল্পঃ গল্পটি শৈলেশ প্যাটেল নামক এক হিন্দুধর্মীর সালাহউদ্দিন প্যাটেল নামক মুসলিমে পরিবর্তিত হওয়ার। তার বাবা ভারতীয় এবং মা আফ্রিকান।তার বেড়ে উঠা ইংল্যান্ডে। হিন্দুধর্মের হওয়ার পরেও হিন্দুধর্মের সব মতাদর্শ, নিয়মকানুন, বিশ্বাস লন্ডনের মাটিতে বসে সে যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতো। অগণিত ঈশ্বরের ধারণা, ঈশ্বরের মানুষ হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসা,প্রতিটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা দেবতার নিকট প্রার্থনা করা,এই যুক্তিগুলো তার ঠিক বুঝে আসতো না। সে ভাবতো এই যে প্রতিমা.....সব তো মানুষেরই গড়া। এ প্রতিমাগুলো নিজেদেরই রক্ষা করতে পারেনা,তবে কি করে তারা আমাদের উপকারে আসবে? স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে সে যখন ইউনিভার্সিটিতে তখন তারই এক মুসলিম বন্ধুর বদৌলতে সে কুরআনের কিছু সূরা পড়ে আল্লাহর একত্ববাদের পরিচয় পান এবং উপলব্ধি করেন ইসলামের সত্যাতা। তারপর সে কালেমা পাঠ করে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।
৯.পথহারা এক মুসাফিরঃ ইউসুফ চেম্বারসের জন্ম ইংল্যান্ডের সারেতে। তিনি মুলত একজন খ্রিস্টান ছিলেন। তিনি খুব গভীরভাবে জীবন ও জীবনের উদ্দেশ্য, কেনো আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছেএসব নিয়ে অনেক ভাবতেন। বৌদ্ধ মতবাদ,গান্ধিবাদসহ আরো অনেক মতবাদ সম্পর্কে তিনি অনুসন্ধান করেছেন। প্রায় একযুগের মতো তিনি হন্য হয়ে খুঁযে বেড়িয়েছিলেন জীবনের মানে। একবার তার ইসলাম ধর্মাবলম্বী প্রেমিকা তাকে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে ছেড়ে দিতে চাইলে সে তার বাসায় গিয়ে তাকে খোঁজ করে। কিন্তু সেখানে তার ভাই তাকে বাধা দেন। এবং ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি করায় তাকে কিছু ইসলামিক বইপত্র ধরিয়ে দেন। সেগুলা পড়ার পর ইউসুফের মনের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে। ইসলামেই খুঁজে পান তার কাঙ্খিত সমাধান। অবশেষে মসজিদে গিয়ে কবুল করে নেন ইসলাম।
১০.কমিউনিজমের হাত ধরেঃ ডেনিস ব্রাডলি ফিলিপ্স জ্যামাইকাতে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাবা-মায়ের সাথে কানাডায় চলে আসেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেন,পড়ালেখা করেন। রক গানে ভক্ত ফিলিপস গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তরুন বয়সে জড়িয়ে পড়েন কমিউনিজমের আন্দোলনে যার দর্শন তাকে দারুনভাবে হতাশ করে ফেলে। ফিলিপস একসময় ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ইসলামের চিন্তাধারা ও দর্শন তার মনের উপর দারুন প্রভাব ফেলে।ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পালটে আবু আমিনা বিলাল ফিলিপস রাখেন। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলাম সম্পর্কিত ভালো কোনো বই নেই বলে তিনি নিজেই অসংখ্য বই লিখে ফেলেন ইসলাম সম্পর্কে।
১১.মক্কার পথেঃ মুহাম্মদ আসাদ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক,ভাষাবিদ,সাংবাদিক, গবেষক,রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০০ সালে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তাকে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত করা হয়।বড় হয়ে তিনি পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। পেশাগত কারণে তাকে আরব ভ্রমণ করতে হয়। আরবদের জীবন ও তাদের জীবনে ধর্মের প্রভাব,চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে তিনি মুগ্ধ হন ও ইসলাম গ্রহন করেন।
১২.এক পপস্টারের আত্মকাহিনীঃ ক্যাট স্টিভেনস ছিলেন একজন বিখ্যাত পপস্টার।তার প্রচন্ড নাম যশ-খ্যাতি থাকার পরও তিনি প্রচন্ড হতাশা ও অবসাদে ডুবে থাকতেন। শান্তির খোজে নানা ধর্ম ও মতবাদ নিয়ে পড়াশোনা করেন। কুরআন পড়ার পর সে উপলব্ধি করেন সে যে শান্তির খোঁজে এতোদিন দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো এটাই সেই ধর্ম। শেষে তিনিও কবুল করে নেন ইসলামকে।
১৩. MTV থেকে মক্কাঃ ক্রিস্টিন বেকার জার্মানির হামবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন।তরুন বয়সে বিখ্যাত মিউজিক চ্যানেল MTV-এর উপস্থাপিকা হিসেবে তার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো।পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খানের সাথে দেখা হওয়ার পর তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।তার সংস্পর্শে এসে তিনি ইসলামের সৌন্দর্য ও অন্যান্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারেন।এতে ধীরে ধীরে তার ইসলামের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।পাশ্চাত্যের জীবন ও দর্শনের সাথে ইসলামের আদর্শকে মিলাতে থাকেন।অবশেষে কবুল করে নেন ইসলাম।এই গল্পটি মুলত ক্রিস্টিন বেকারের বহুল আলোচিত বই "From MTV to mecca:How islam inspired my life" এর বাছাইকৃত অংশের সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রুপ।
★প্রতিক্রিয়াঃ বইটি পড়ার সময় মাঝে মাঝে আশ্চর্য হয়েছি,মুগ্ধ হয়েছি,চোখ হয়ে উঠেছিলো অশ্রুসজল।আল্লাহর অপার মহিমার সত্যিই কোনো তুলনা হয়না।আমাদের সুধু দাওয়াত দিতে পারার সক্ষমতা আছে,হেদায়াত তো একমাত্র আল্লাহরই পক্ষ থেকে আসে। তাইতো তিনি চরম অবিশ্বাসী,ইসলাম সম্পর্কে সম্পুর্ন অজ্ঞাত মানুষদেরকে তার রহমতের ছায়ার ঢেকে দিয়েছেন,করেছেন হেদায়াতের আলোয় আলোকিত।তিনি চাইলেই পারতেন তাদেরকে চিরকাল অমুসলিম,পথভ্রষ্ট রাখতে, কিন্তু না! তিনি তো আর রহমান।বইটা পড়ার সময় একটা জিনিস ভেবে খুবই আবেগাপ্লুত হয়েছি সেটা হচ্ছে বইতে উল্লিখিত প্রতিটি চরিত্র কতোটা গুরুত্ব সহকারে কুরআন পড়েছেন এবং তা অনুধাবন করার চেষ্টা চালিয়েছেন।আমরা তথাকথিত কিছু মুসলিম আদৌ এতোটা গুরুত্ব দিয়ে কুরআন অধ্যয়ন করি!?কুরআনে কি এমন রহস্যময়,আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে, যা পথভ্রষ্ট মানুষগুলোতে ইসলামের ছায়াতলে টেনে এনেছে?তা কি কখনো ভেবে দেখেছি আমরা? বইটির অনুবাদের মানের কথা না বললেই নয়,অত্যন্ত ঝরঝরে,সহজ-সাবলীল ভাষায় রুপান্তর করা হয়েছে বইটি।একটা বিষয় আমাকে আরো মুগ্ধ করেছে সেটা হচ্ছে গল্পগুলোর শেষে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো টিকা আকারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।এই বইটা আমি সবাইকে পড়ার জন্য সাজেস্ট করছি।বইটা পড়ার পর নিজের চিন্তাধারায় প্রভাব অবশ্যই পড়বে। (নতুন নতুন লিখছি,তাই ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)
This entire review has been hidden because of spoilers.
Revert দের কাহিনীগুলোর সংকলন। ভালোই লেগেছে বইটা। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আমার মনে হচ্ছিল যে শুধু কাহিনীগুলোর copy-paste সংকলন হয়তো সবার মনে দাগ নাও কাটতে পারে। আমার মতে revert story এর একটা মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম-অমুসলিম সবার মনের কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এবং আমাদের মতো অন্যরা কাদের উত্তর কিভাবে পেয়েছে সেই পথটা খুঁজে পাওয়া। একজন নাস্তিক যখন মুসলিম হয় তখন সে অনেক theological প্রশ্নের উত্তর পেয়ে, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। সেরকম কিছু উত্তর বা ব্যখ্যা থাকলে হয়তো আরো convincing লাগতো বইটাকে। আমি জানি এটা একটা সংকলন মাত্র, কিন্তু সংকলন গ্রন্থ দাওয়ার কাজও করলে তো আরও ভালো, তাই না?
আর last এর কাহিনীটার জায়গায় অন্য কারো কাহিনী দিলে সেটা অরো ভালো হতো in my opinion। ক্রিস্টিন বেকারের কাহিনীতে অনেক extra কথাবার্তা এসেছে যেগুলো তার reversion এ খুব একটা contribute করে নাই।
মানুষের প্রকৃত সুখ কোথায়? আমাদের এ জীবনের উদ্দেশ্যই বা কি? আর কোথায়ই বা পাবো মনের প্রশান্তি? এসকল প্রশ্নের উত্তর কখনও কি গভীরভাবে আমরা ভেবে দেখেছি!
আমরা জন্মসূত্রে ইসলাম পাওয়ায় এর মর্ম বুঝতে পারি না। কিন্তু যারা অমুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠে প্রত্যাবর্তন করেছেন শান্তির ধর্মে তারা বুঝেন ইসলাম আল্লাহর কত বড় নেয়ামত। ইসলাম তাঁদের কাছে অনেক কষ্টে সাগর থেকে সেঁচে আনা মুক্তার দানার মতো। যার জ্বলজ্বল আলো আঁধারের মাঝেও জ্বলে আলোর রেখা। এমনই কিছু মর্মস্পর্শী এবং আধাঁর থেকে আলোর পথে ফিরে আসার গল্প নিয়ে লেখা দ্যা রিভার্টস বইটি।
২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ব্রিটিশ তরুণ সাংবাদিক ইভানা ছদ্মবেশে আফগানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে রিপোর্ট কাভার করতে এসে তালেবানদের হাতে ধরা পড়লেন! তারপর কি এমন হলো যা তাঁকে ইসলাম নিয়ে ভাবিয়ে তুলে, জানার আগ্রহ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে মিডিয়ায় মুসলিমদের বিভিন্ন আন্দোলনে সোচ্চার হন?
ইউসুফ এস্টেট খ্রিস্টান ধর্মযাজক থেকে কিভাবে ২০১২ সালে দাওয়াহ কার্যক্রমের জন্যে ডুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন পুরস্কার অনুষ্ঠানে বছরের সেরা ইসলামিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত হলো?
ব্রিটিশ সাংবাদিক লরেন বুথ পেশাগত কারনে ফিলিস্তিন গিয়ে কি এমন হলো যে কারনে হিজাব পরিহিত অবস্থায় মুসলিম হিসেবে আমাদের সামনে হাজির হলো?
খ্রিস্টান গ্রিন মানুষের প্রকৃত সুখ ও জীবনের মানে খুঁজতে গিয়ে কিভাবে ইসলামের সুশিতল ছায়াতলে আসলো?
আমেরিকার কনসাস ইউনিভার্সিটির গনিতের অধ্যাপক ড. ল্যাং আমাদের পরম যত্নে সেলফে তুলে রাখা পবিত্র কুরআন পড়ে আমূল বদলে যাওয়া আমাদের কি বার্তা দেয়?
বৌদ্ধ ধর্মালম্বি হুসাইন ইয়র স্বীয় ধর্ম নিয়ে অগাধ পড়াশোনা করে নিরুৎসাহিত হয়ে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহনের পর সে কোন গ্রন্থ পড়ে তাওহীদের চিত্র মুগ্ধ হয়ে সত্যের সন্ধ্যান পেলো?
১৯৯১ সালে বাবরি মসজিদের গম্বুজে কুঠার হাতে প্রথম আঘাত কারী বলবীর সিং।যা নিয়ে একসময় অনেক গর্ববোধ করতেন।কিন্তু পরবর্তীতে তার মনে কিসের এতো ব্যাথা? কেনই বা অনুতপ্ত হয়ে অাশ্রয় নিলো ইসলামের সুশিতল ছায়াতলে। বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হাত আজ কেন মসজিদ গড়ার হাতে ব্যস্ত?
হিন্দু ধর্মের শৈলেশ স্বীয় ধর্ম রীতিনীতি ও বিধিবিধান মানতে গিয়ে এবং ঈশ্বরের স্বরূপ বুঝতে গিয়ে মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন জাগে এবং স্বীয় ধর্ম সম্পর্কে অনেক পড়াশোনা করেও যখন তার সমাধান পেল না তখন ঈশ্বরের স্বরূপ কোথায় খুঁজে পেল?
খ্রিস্টান ধর্মে জন্ম নেওয়া ইউসুফ তরুণ বয়সে যখন কিনা ছেলেমেয়ে খেলতামাশা আর ক্যারিয়ারের চিন্তা বিভোর থাকে তখন তিনি গভীরভাবে জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এক যুগ হন্যে হয়ে জীবনের মানে খুঁজতে গিয়ে বইপোকা ইউসুফ পড়েছেন বৌদ্ধ মতবাদ, গান্ধীবাদ, কমিউনিস্ট সহ অনেক গ্রন্থ। কিন্তু কোথায় এসে খুঁজে পেয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত সমাধান?
রক গানে ভক্ত গায়ক ফিলিপস তরুণ বয়সে জড়িয়ে পড়েন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং এ নিয়ে পড়াশোনা করে ও জানতে গিয়ে তিনি হতাশ হন।এরপর বইপোকা ফিলিপস কোন ধর্মের চিন্তাধারাও দর্শন পড়ে তাঁর মনে প্রভাব বিস্তার করে এবং আলোর পথ দেখায়?
ইহুদী ধর্মে জন্ম নেওয়া ও স্বীয় ধর্মগ্রন্থের উপর দীক্ষা নেওয়া পেশায় সাংবাদিক পেশাগত জীবনে আসাদ মক্কায় আসার পর কি হলো?
বিখ্যাত পপস্টার ক্যাট স্টিভেন যার একাধিক গান সপ্তাহ জুড়ে শীর্ষ টপ চার্টে থাকতো। নাম-যশ-খ্যাতির শীর্ষে থাকার পরও তিনি কেন প্রচন্ড হতাশা আর অবসাদে ডুবে থাকতো? শান্তির খোঁজে নানান ধর্মমত ও মতবাদ নিয়ে পড়াশোনার পর তিনি কি পেয়েছিলেন শান্তির ধর্ম?
বিখ্যাত মিউজিক চ্যানেল MTV এর উপস্থাপিকা vj হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাত ক্রিস্টিন বেকন। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিকানায় এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে লন্ডনের এক পার্টিতে পরিচয় হয়।তারপর...?
জানতে হলে পড়ুন 'দ্যা রিভার্টস:ফিরে আসার গল্প'।প্রতিটি গল্পই মর্মস্পর্শী। প্রতিটি গল্পই আধাঁর থেকে আলোর পথে ফেরার আনন্দে উদ্বেল। প্রতিটি বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে আছো জীবনে সঠিক মানে খুঁজে পাওয়ার আকুতি,ইসলামের সংস্পর্শে এসে জীবন রাঙানোর পরিতৃপ্তি। এরকমই চিন্তা দর্শন ও জীবন পরিবর্তনের মোট ১৩ টি গল্প নিয়ে সাজানো এই বই।
বই :দ্যা রিভার্টস: ফিরে বসার গল্প রূপান্তর :সামছুর রহমান ওমর কানিজ শারমিন সিঁথি(দম্পতি) প্রকাশনী:গার্ডিয়ান পাবলিকেশন মূল্য :৩৫০ রেটিং :৯/১০
রিভিউ লেখক: আঃ কাহ্হার(সিয়াম)
This entire review has been hidden because of spoilers.
বইয়ের নামঃ দ্যা রিভার্টস:ফিরে আসার গল্প রূপান্তরঃ শামসুর রহমান ওমর কানিজ শারমিন সিঁথি পাবলিকেশনঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন প্রথম প্রকাশঃ ২০১৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০টাকা পৃষ্ঠা ঃ ২৪৩ ব্যক্তিগত রেটিংসঃ ৫/৫
যখন আর কল্পনার জগত ভালো লাগে না তখন বাস্তব কাহিনী করি। এই বইটি যতটুক আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক ভাল ছিল। এই বইয়ে ১৩ জন মানুষের জীবন কাহিনী বলা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে কিভাবে ইসলামে ফিরে এসেছে সেই গল্প তারা নিজেরা বলেছেন এই বইয়ে। এখানে উল্লেখিত১৩ জনের মধ্যে আমি ৩ জনের ভক্ত অনেক আগে থেকে। তিনারা হলেন ইউসুফ এস্টেস, আব্দুর রহিম গ্রীন, ডঃ আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস। তিনাদের লেকচার আমি অনেক আগেই থেকেই ইউটিউবে শুনেছি।কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার কাহিনি জানতাম না। এই বইটি পড়ে তাদের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী জানতে পেরেছি। প্রতিটা গল্প আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে, মাঝে মাঝে কাদিয়েছে।
বইয়ের ঘটনাগুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলে ভালো হতো। এই জনরার অন্যান্য বইগুলো যেভাবে মনে দাগ কাটে, এই বইটি সে তুলনায় ততটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেশিরভাগ ঘটনাই দ্রুত গতিতে উপস্থাপিত হয়েছে, যার ফলে বইয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ইসলাম গ্রহণের কারণগুলো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। সম্ভবত যাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তারা নিজেরা লেখাগুলো সরাসরি লেখেননি বলেই এমনটা অনুভূত হয়েছে।
তবে একটি লেখা বিশেষভাবে মনে দাগ কেটেছে—
"আপনারা এভাবে ভাববেন না, হিজাব না পরা কত বড় গুনাহ। বরং এভাবে ভাবুন, আল্লাহর হুকুম পালন করা কত বড় সওয়াবের কাজ। আমাদের আসলে এভাবেই চিন্তা করা উচিত। আমাদের ভাবা উচিত, আল্লাহর বিধান মান্য করা আমাদের জন্য কতটা কল্যাণকর।"
বই : দ্যা রিভার্টস জনরা : ইসলামি আদর্শ ও মতবাদ প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা: ২৫৬ মলাট মূল্য: ২৬০ রুপান্তরকারী : সামছুর রহমান ওমর ,কানিজ শারমিন সিঁথি । ~বইটি সম্পর্কে: প্রত্যেক মানুষের ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি) এমনই যে, সে যখন মানবশিশু হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করে, তখন সে স্বভাবতই মুসলিম হিসেবেই জন্ম নেয়। কিন্তু পরে, পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাবে, সে নিজের পিতা-মাতার ধর্ম বা বিশ্বাস অনুযায়ী বেড়ে ওঠে। রিভার্টস শব্দটির মূল অর্থ হলো "ফিরে যাওয়া" বা "পুনরায় পূর্ব অবস্থায় যাওয়া"। "রিভার্টস" বলতে বোঝায় সেই সব মানুষ যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ মানবশিশু হয়ে মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পরও যারা ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছেন সেই সকল মানুষদের ইসলামের ছায়াতলে পুনরায় ফিরে আসাকে বোঝায়।
তেমনি একদল মানুষের জীবনের মোড় ঘুরানো কাহিনী নিয়েই দ্য রিভার্টস বইটি ;যেখানে মোট ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়ার গল্প বলা হয়েছে।যাদের বেশিরভাগই বড় হয়েছেন পশ্চিমা বিশ্বের আধুনিকতার মধ্যে,মানুষগুলো এতসব দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠার পরেও একটু শান্তির আশায় হন্য হয়ে ঘুরেছে। যখন তারা জীবনের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে,জীবন নিয়ে চরম হতাশায় আচ্ছন্ন তখনই সেই হতাশার মুহূর্তে জীবনের নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একমাত্র ইসলামই তাদের কাছে জীবনমূখী ধর্ম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ইসলামের ছায়াতলে এসে তারা পেয়েছে শান্তির সুবাতাস ও জীবনের মানে। আর তাদেরই অমুসলিম জীবন থেকে ইসলামে ফিরে আসার কাহিনী নিয়েই রচিত বই হলো "দ্যা রিভার্টস"।
সার-সংক্ষেপ:- বইটিতে বিভিন্ন শিরোনামে ১৩ জন অমুসলিমের ইসলামে ফিরে আসার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ➡️ ইভন রিডলি : ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি আফগানিস্তানের তালিবানদের হাতে বন্দী থাকার অভিজ্ঞতার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ➡️ আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস: বর্তমান বিশ্বের বিখ্যাত দাঈ; ইন্টারন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা কমিউনিজমের হাত ধরেই যার ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসা সেই গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। ➡️ ইউসুফ এস্টেস : যিনি ছিলেন খ্রিস্টান চার্চের পাদ্রী , কিভাবে তিনি তার ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে পরিচিত মুসলিম সঙ্গীকে খ্রিস্টান ধর্মের আহ্বান করতে গিয়ে নিজেই ইসলামের সত্যতায় বিশ্বাসী হন রয়েছে সেই গল্প । ➡️ ক্রিসটিন বেকার :জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল MTV এর একজন উপস্থাপিকা – MTV চ্যানেলের উপস্থাপিকা থেকে একজন নিবেদিত মুসলিম নারী হয়ে ওঠার কাহিনী।
➡️ বলবির সিং: ভারতের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজে বাবরি মসজিদের মিনায় নিজ হাতে প্রথমে কুঠার আঘাতকারী সেই বলবির সিং কেনই বা মুসলিম হয়েছিলেন আর অঙ্গীকার করেছিলেন প্রায় একশ মসজিদ গড়ার ।
→বইটি কেন পড়বেনঃ-
বইতে যেসব মানুষের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে তারা প্রত্যেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত মানুষ ছিলেন। কেউই জন্মসূত্রে ইসলামকে পাননি। অর্থ-সম্পত্তি কোন কিছুর অভাব তাদের ছিল না। তারপরও তারা কিভাবে ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে আলোর পথে এসেছেন, কি এমন ছিল যা তাদের অতীত ভুলে নতুন ইসলামী জীবন গঠনে উৎসাহী করেছে তা জানতে হলে বইটি সকলের পড়া জরুরী।
> ব্যক্তিগত অনূভূতি "দ্য রিভার্টস" আমার পড়া প্রিয় বইগুলোর অন্যতম। প্রতিটি কাহিনির অনুবাদ এতটাই প্রাণবন্ত যে, মনে হয়েছে ইউসুফ এস্টেস, বিলাল ফিলিপস বা রিডলি যেন চোখের সামনে বসে তাদের জীবনের মর্মস্পর্শী সেই কাহিনী শোনাচ্ছেন। একাধিকবার চোখের কোণে জল এসেছে, হৃদয়ের গভীরে নাড়া দিয়েছে।
এটি এমন একটি বই যা শুধু পাঠকের জ্ঞান নয় বরং মন, মনন এবং আত্মাকেও আলোড়িত করে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই বইটি পাঠকের চিন্তা ও বিশ্বাসের নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
পশ্চিমের কিছু বিখ্যাত মানুষদের ভুল পথ থেকে ইসলামের আলোতে আলোকিত হওয়ার কিছু সত্য ঘটনা নিয়ে রচিত হয়েছে বইটি। কিভাবে এই বিখ্যাত লোকেরা ইসলামের হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে সেটা নিয়েই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। খুবই অসাধারণ একটি বই।
Read back in 2019, liked it so much. Based on true events & evidences as how a non muslim thinks about islam, how their thinking changed & they reverted to Islam 💚