তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১২ জুলাই, ১৯৭৮ নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে এম এ। পেশা শিক্ষকতা। মায়ের গলায় শোনা রবীন্দ্রনাথের গানই সমস্ত নন্দন চর্চার প্রেরণা। গল্প প্রকাশিত হয়েছে দেশ, আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা ছাড়াও অনেক উল্লেখযোগ্য পত্রিকায়। ২০০৭ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় 'প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পটি লিখে বৃহত্তর আত্মপ্রকাশ। ১৪১৮ শারদীয় দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত 'মায়াকাচ' উপন্যাসটি পাঠকদের মূল্যায়নে 'সেরা উপন্যাস' হিসেবে পেয়েছে 'বর্ণপরিচয় সাহিত্য সম্মান ২০১১'।
দু-তিন বছর আগে পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা খুলে পৃষ্ঠা উল্টে-পাল্টে দেখতে গিয়ে উপন্যাসের নামে চোখ আটকে যায়।
বেশ 'ক্যাচি' নাম বটে।
ক্রাইম থ্রিলার,হরর বা নিদেনপক্ষে হু-ডান-ইট হবে ভেবে একটু আলগোছেই শুরু করেছিলাম। এর আগে লেখকের শুধু একটিমাত্র ছোটগল্প চেখে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল,মন্দ লাগেনি খুব একটা! পুজোর ছুটিতে ল্যাদ খাওয়ার ক'দিন তখনো বাকি ছিল,ফালতু ফেবু না গুঁতিয়ে টাইম-পাস করতেই আর কি...
এখনো পর্যন্ত এই উপন্যাসটির(সমালোচকগণ যদিও 'উপন্যাসিকা'ই বলতে চাইবেন,আমি অত বুঝি না মাইরি!) Genre আমি বুঝে উঠতে পারিনি,কোনোদিনই হয়তো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারব না।
কি বলা যায় এই ঠান্ডা-কনকনে ইস্পাতের স্ক্যালপেলের মত লেখাটিকে? কিভাবে বোঝানো যায় এর ধারালো, ধীর-স্থির,সর্পিলগতিতে ক্রমশ মনের গহিনে ঢুকে যাওয়া'কে? অক্ষরগুলো সাপের মত হিমশীতল আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে,ক্রমশ দম বন্ধ হয়ে আসে! আলকাতরার মত চ্যাটচ্যাটে,আঠালো একটা অনুভূতি জাপটে ধরে,অবশ করে ফেলে ইন্দ্রিয়গুলোকে। আর লেখক একের পর এক,মানবমনের অতল খাদ থেকে তুলে নিয়ে আসেন অন্ধকার,স্যাঁতসেঁতে,ভয়াল কিছু ভাবনা। পাঠকমনে তাঁদের বপন করেন,সিঞ্চন করেন। শব্দরা আর শব্দ থাকে না,তারা আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে পাঠককে। গলা শুকিয়ে যায়, জিভ খসখসে হয়ে যায়,মাথা ভারী হতে খাজে,পাঠক তবুও পড়ে যায়,বিরামহীন!
না,ভূত-প্রেত নেই এতে! সিরিয়াল কিলারও নেই। নেই কোনো মার্ডার-মিস্ট্রি। এমনকি,তন্ত্র-মন্ত্র-যন্ত্র ও নেই! একফোঁটাও রক্ত নেই!
আছে এক আপাত-সাধারণ প্রৌঢ়ের দিনযাপন,তার ভাবনা-দুর্ভাবনা-দ্বিধাদদ্বন্দের আখ্যান,অসমবয়সী,কন্যাসম এক আত্মীয়ার প্রতি তার অধিকারবোধ,তার...
আর এখানেই, প্রতিবার এখানেই এসেই আটকে যাই,শব্দ হাতড়ে বেড়াই,তোলপাড় করি অভিধান! কিন্ত শব্দ পাই না। কি বলব উক্ত বৃদ্ধের এই বর্ণনাতীত অনুভুতিকে? ভালোবাসা? অধিকারবোধ? লালসা? কামনা? অপত্যস্নেহ? নাকি সবটাই Dilemma? পাঠকের,লেখকের,চরিত্রের...সবার!
সবার জন্য একদমই নয় এই লেখাটি। গোদা ভাষায় অত্যন্ত ডার্ক,অত্যন্ত সেরিব্রাল,অত্যন্ত জটিল-অস্বস্তিকর-ভয়াল!
বাংলায় এত দক্ষ হাতে মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস সূষ্টি হয়েছে কিনা জানি না,যা শুধু অবচেতনের অন্ধকারটুকুর হদিস দেয়,আর কিচ্ছু না। হাজার প্রলোভন ছিল লেখকের সামনে,কলমের মোচড়ে নাটুকেপনা আনার। সে পথে হাঁটেননি তিনি। পরিমিতি বোধ দেখিয়েছেন। শেষটুকু বড্ড সাধারণ,অথচ বড্ড তীক্ষ্ণ!
ওটুকুই পাঠক বাকিজীবন বহন করবেন।
ওই,কালচে-ঠান্ডা-চ্যাটচ্যাটে অস্বস্তিটুকু।
This entire review has been hidden because of spoilers.