বিজ্ঞানীদের জীবনীর কথা শুনলেই মনে হয় খটোমটো কিছু একটা, চোখে মোটা চশমাওয়ালা খুব প্রচণ্ড পড়ুয়া কারও কাহিনি, সারা জীবন ধরে যে বইয়ে নাক গুঁজে কাটিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের জীবনটা আসলে মোটেও সে রকম নয়, বরং বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনে অসাধারণ, মজার, অভাবনীয় সব ঘটনা ঘটেছে। এই ব্যাপারটা লেখক শৈশবেই জানতে পারেন। এই ঘটনাগুলোর কথা লেখক ভুলতেই বসেছিলেন প্রায়, কিন্তু ভুলতে দিল না তার ছেলে যায়ান। যায়ানের বয়স মাত্র সাত, কিন্তু এখনই ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিজ্ঞানীদের গল্প শোনার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহ, প্রতিদিন অন্তত দুজন বিজ্ঞানীর ওপরে কোনো মজার গল্প না শুনলে ঘুমাতে চায় না সে। ওকে প্রতিদিন বিজ্ঞানীদের আর গণিতবিদদের গল্প বলতে গিয়ে লেখক স্মৃতির তথ্যভান্ডারের সিন্দুকটা খুলে আবার ফিরে যান সেই বিজ্ঞানীদের নানা গল্পের জগতে। লেখক যায়ানকে বলেন, আইনস্টাইন, নিউটন, আর্কিমিডিস, মারি কুরি, এডিসনের গল্প, লেখকের সেই ছোটবেলার এবং এখনকারও সব স্বপ্নের নায়কদের কথা, যাদের প্রতিভা, আবিষ্কারের নেশা আর জ্ঞানের পিপাসা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে চিরদিনের জন্য। এই গল্পগুলো বলতে বলতেই তার মনে হলো, আগামী প্রজন্মের জন্য এগুলো লিখে রাখা বড়ই দরকার। টিভি, ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আমাদের শিশুরা কাদের নিয়ে ভাববে, কাদের কাহিনি শুনে অনুপ্রাণিত হবে? বিজ্ঞান মজার, বিজ্ঞান আনন্দের, বিজ্ঞানীরাও মজার মানুষ...
স্কুলের বাচ্চাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটা বই। প্রতিটা স্কুলের লাইব্রেরীতে এই বইটা আবশ্যিক করে ফেলা উচিত। বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা ছাড়াও, সমাজবিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা, অর্থনীতিবিদদের কাণ্ডকারখানা এরকম নানা বই বের করা যেতে পারে, এবং করা উচিত এবং স্কুলের লাইব্রেরীতে রাখা উচিত। বইয়ে অনেক বিজ্ঞানীদের মহাত্ব নিয়ে অনেক কিছু বলা আছে। কোন কোন বিজ্ঞানী পেটেন্ট রাখে নাই, মানব কল্যাণের জন্য সব উন্মুক্ত করে দিছে, এসব পড়তে ভালো লাগে। কিন্তু লেখক ৯০ পৃষ্ঠার বই (যেটা আসলে ৫০ পৃষ্ঠায় লেখা যেতো) ২০০ টাকা (গায়ের মূল্য) নির্ধারণ করে দিছে। একেতো আমাদের দেশে স্কুল গুলোতে নাই লাইব্রেরী, থাকলেও খুব অল্প স্কুলেই আছে, তার উপর এতো দাম দিয়ে বই কেনার সামর্থ্য বেশিরভাগ স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীর নাই। আর এ দেশের খুব কম গার্ডিয়ানরা সন্তানদের এসব বই কিনে দেন , তারা মনে করেন স্কুলের বই ব্যতীত অন্য বই পড়া 'সময়ের অপচয়' অথবা 'ক্ষতিকর'। লেখক চাইলেই বই এর কপিরাইট ফ্রি করে দিতে পারতো, অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মতো 'মহান' হতে পারতো। বই এর দাম কমতো বাচ্চারা কিনে পড়তে পারতো।
মূলত কিশোর বা তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে লেখা হলেও সব বয়সী পাঠকের জন্যই সুখপাঠ্য বই বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা। এই বইটির রস আস্বাদন করার জন্য বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ারও দরকার নেই। বিশ্বের বেশ কয়েকজন সেরা বিজ্ঞানীর জীবনের কিছু মজার ঘটনা তুলে ধরেছেন এই বইটিতে তরুণ লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামার অধ্যাপক রাগিব হাসান। এই মজার ঘটনাগুলো প্রত্যেকটিই বিভিন্ন আবিষ্কারের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত, যেগুলো পড়ে নতুন প্রজন্ম বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি ও প্রথাগত পড়াশুনার বাইরেও চিন্তা করার প্রতি আগ্রহ বোধ করবে আশা করি।
'বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা' বইটিতে ১৮ জন বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনা স্থান পেয়েছে। উঠে এসেছে জগদ্বিখ্যাত কিছু আবিষ্কারের পেছনের কাহিনী। এটি স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চাদের জন্য দারুণ একটি বই। বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনাগুলো তাদেরকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। বইটির আরো তিনটি সিক্যুয়েল বের হয়েছে।
ছোট কাল থেকে আমি জানতাম বিজ্ঞানী বলতে অনেক জ্ঞানী জ্ঞানী চশমা পড়া এক ব্যাক্তি।বিজ্ঞানী হতে হলে অনেক জ্ঞানী ও মেধাবী হতে হবে।বোকা একেবারেই হওয়া যাবে না।কিন্তু ধারনা ভুল।বিজ্ঞানী হতে জ্ঞান পিপাসা হতে হবে।জ্ঞান ও তথ্যের জন্য পিপাসা তৈরী করতে হবে।জানার আগ্রহ থাকতে হবে।কৌতুহল হতে হবে।সবচেয়ে বড় বিষয়টা প্রশ্ন করেত পারতে হবে।এই বইয়ে বড় বড় বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন কান্ডকারখানা তুলে ধরেছে।তাদের অনেক শ্রম করেই আমাদের জন্য অসংখ্য আবিষ্কার করে যায় অথচ আমরা তাদের স্বরন করি না।বিষয়টা অনেক খারাপ দেখায়।আমরা আইনস্টাইন ও নিউটন মত বিখ্যাত মত বিজ্ঞানীর নাম জানলেও মার্শাল ব্যারি ও জোনাস সাল্ক এর মত বিজ্ঞানীর কথা জানি না।যারা মানব জাতির সেবার করার জন্য নিজের জীবনের ঝুকি আছে জেনেও নিজেদের উপর এক্সপেরিমেন্ট করে।এক ভাবে বলা যায় তারা যদ্ধক্ষেত্রে সাহসী সৈনিক এর থেকে কম যায় না।ক্ষতি হবে যেনেও গোবেষনা করে যাওয়া। আমি মনে করি এই বইটা যারা সায়েন্স পড়ে ও সাথে যারা সায়েন্স ও পড়ে না সাথে যারা গনিত ও বিজ্ঞানে অ্যালার্জি আছে তাদেরও পড়া উচিত।:)
বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা বই টি আসলেই খুবই ভালো একটি বই । এখানে ১৮ জন বিজ্ঞানীদের তুলে ধরা হয়েছে ।যারা আবিষ্কারের নেশায় সবসময় ঘুরে বেড়ায় বা হতাশা হয়ে পরে তারা এই বইটি পরলে অনেক ভালো ভালো কিছু তথ্য পাবে ।ছোট বেলায় ঘটে যাওয়া বা বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই এই বইটি । বইটি আমার কাছে পড়তে ভালো লেগেছে এবং সহজ ভাষায় লেখার জন্য যে কেউ তা বুঝতে পারবে ।
বিজ্ঞানীদের কথা শুনলেই মনে হয় তারা মানুষের উর্ধে। সব সময় বই খাতা আর গবেষণাগারে গবেষণা করেন। আসলে এ কথা মিথ্যা। তারাও দিন শেষে মানুষ। তাদেরও আবেগ আছে। তাদেরও ভূল হয়। সে সব ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে বিজ্ঞানীদের কান্ডকারখানা। লেখক ভালো মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন এই বইয়ে। গল্পের ছলে বিজ্ঞানীদের গোপন জীবন প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞানীদের কাণ্ড কারখানা বইটি এক কথায় অসাধারণ। বইটিতে ১৭ জন বিজ্ঞানির নানা মজার ঘটনাকে রাগিব হাসান স্যার বেশ মজা করে উপস্থাপন করেছেন।
চন্দ্রশেখরের ঘটনাটি আমাকে সত্যিই অনুপ্রানিত করে।
সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ঘটনাটি পড়ে অনেকেই হয়ত অবাক হবে এবং কার্জন হল নিয়ে তার অন্যরকম এক ভালবাসা জন্মাবে। বইটিতে আমি যখন আইনস্টাইনকে লেখা সত্যেন বোসের চিঠির চিত্র দেখি তখন তা ছিল এক অসাধারণ মুহূর্ত।
আর্কিমিডিসের তাপরশ্মি নামের অংশটি আমাকে বিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে দেয়।
“গাছের প্রান আছে” এ কথাটি কে আবিষ্কার করেছে? কি মনে উত্তর যদি আসে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু , তাহলে আপনি ভুল। এই ভুল বিশ্বাসটি আমিও করেছি। কিন্তু বইটি পরে আমি জানতে পারি এটি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর আবিষ্কার নয় বরং এটি মানুষ অনেক আগে থেকেই জানত। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর আবিষ্কার হল “গাছের অনুভুতি আছে, সেটা প্রমান করা” ।
এরকম নানা ধরণের ঘটনা আমাকে সত্যিই এটি স্বীকার করতে বাধ্য করে, বিজ্ঞানের জগতে আমি হয়ত এমন অনেক কিছুই ভুল জেনে আসছি।
বইটি যে কেউ পড়েই আনন্দ পেতে পারে আর বিজ্ঞানপ্রেমী হলে তো কথাই নেই। তাই বইটি আপনিও কিনে দেখতে পারেন হয়ত আমার মত আপনিও নতুন কিছু জানবেন।
বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা। বিজ্ঞানী নামটা শুনলেই হয়ত খটোমটো বিষয়, জটিল বিষয় চোখের সামনে ভেসে উঠে। কিন্তু এই বইয়ে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন আবিষ্কারের নেপথ্য ঘটনা এবং তাঁদের জীবনে ঘটা মজার মজার ঘটনা আছে। ঝরঝরে আর সহজ ভাষায় লেখা।
ছোটবেলায় এমন বই পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতাম।
লেখকের কথা—"আশা করছি এই বইটিতে লেখা গল্পগুলো পড়ে অন্তত একটি শিশু, একটি কিশোর, কিশোরী অথবা তরুণ বয়সের মানুষ স্বপ্ন দেখবে বিজ্ঞানী হওয়ার। আমার যায়ান যেমনটা দেখছে। ভবিষ্যতের পৃথিবীটাতো ওদেরই।"